শেখ হাসিনার রাজত্বে

ঈদের পরে বিএনপির আন্দোলন করার শক্তি-সাহস নাই বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী সামন্ত প্রভু মোফাজ্জল হোসেইন চৌধুরী মায়া। পাশাপাশি দুর্বল বিএনপিকে ঈদের পরে বিলুপ্ত করে দেয়ার হুমকিও তিনি দিয়েছেন। বিএনপির শক্তি এখন কম থাকলেও মায়া সাহেব যে শক্তিশালী তাতে কোন সন্দেহ নাই। তার পরিবারও একটি শক্তিশালী পরিবার। তার পুত্র দীপু চৌধুরী ও জামাতা তারেক সাঈদ ইতিমধ্যে বিভিন্ন সময়ে পারিবারিক শক্তির প্রমাণ রেখেছেন। তবে এই চৌধুরী পরিবারের শক্তি সিমিত। তাই মায়া সাহেব শক্তি দিয়া, বিবৃতি দিয়া জামাতার সাত খুন মাফ করাতে পারেন নাই। নারায়নগঞ্জের ওসমান পরিবারের ন্যায় শেখ পরিবারের ঐতিহ্যবাহী বন্ধু হওয়ার সৌভাগ্য তার পরিবারের হয় নাই।

চৌধুরী পরিবারের সাত খুন মাফ না হলেও ওসমান পরিবারের সব খুন শেখ হাসিনা মাফ করে দিয়েছেন। এই দয়ায় কৃতজ্ঞ নারায়ানগঞ্জের প্রধান সামন্ত শামীম ওসমান সংসদে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনাকে কিছুদিন আগে আল্লাহর ওলির সমপর্যায়ের বলে ঘোষনা দিয়েছেন। শেখ হাসিনার গুণের এমনিতেই সীমা পরিসীমা নাই। শক্তিমত্তায় তার ধারে কাছেও বাংলাদেশে কেউ নাই। ডিগ্রির হিসাবে জ্ঞান গরিমায়ও তার সমকক্ষ বাংলাদেশে কেউ নাই, কোনদিন ছিলও না। সম্প্রতি বাঙলার সংসদের অন্যতম রত্ন কিংবদন্তি কন্ঠশিল্পী মমতাজ শেখ হাসিনাকে নিয়া একটি গান বানিয়েছেন। গানের একটি লাইন ‘শেখ হাসিনার জন্য আছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা/ তা না হলে ওসব কথা বলা যেত না’। সব মিলিয়ে শেখ হাসিনা বর্তমান বাংলাদেশে একিসাথে আল্লাহর ওলি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রক্ষাকর্তা হয়ে উঠেছেন। তবে এতো এতো শক্তি, গুনাবলি ও মাহত্বের প্রধান উৎস তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। শেখ মুজিবের কন্যা হিসাবে বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী পরিবার শেখ পরিবারের মাথা না হলে একিসাথে ইসলামের সেবক, বাঙালি জাতীয়তাবাদের রক্ষক এবং গণতন্ত্রের মানস কন্যা তিনি হইতে পারতেন কি?

বাংলাদেশের শহুরে মধ্যবিত্ত্ব অপরিণত বুর্জোয়া ও গ্রামিন জারজ সামন্ত (bastard feudalism) সমাজে পারিবারিক জমিদারী, ইসলামী ঐতিহ্যের জায়গিরদারী ও মুক্তিযুদ্ধের নায়ক টাইটেলের দাবিদার পরিবার সমূহের রাজতন্ত্রই আজ অবধি গণতান্ত্রিক রাজনীতির দিশা হয়ে আছে। শেখ, রহমান, চৌধুরী, ভুইয়া এইরকম নানান ঐতিহ্যবাহী পরিবারের পাশাপাশি বাহুবল ও অস্ত্র ব্যবহারে সক্ষম বরকন্দাজদের কিছু পরিবার মিলে মিশে একটি সুখি সমৃদ্ধ উন্নয়নশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছে। এইসব পরিবার মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দুই নামের রাজনৈতিক দলের অনুগত হিসাবে একে অপরের বিরুদ্ধে সদা যুদ্ধ জারি রেখে জাতি হিসাবে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠিকে বিভাজিত রাখলেও ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে এদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও আত্মিয়তার উদাহরণ ভুরিভুরি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে না হলেও বৈবাহিক সম্পর্কের বেলায় এদের মধ্যে দল মত এর ঊর্ধে উঠে আত্মিয়তা রক্ষার ভুরি ভুরি উদাহরণ পাওয়া যায়। কারণ বাঙলার মসনদে পরিবর্তনের ঘটনাপ্রবাহ প্রায়ই রক্তক্ষয়ী হয়ে ওঠে। এমনকি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আগে পরে বিভিন্ন সময়ে এক দল আরেক দলের উপর মধ্যযুগীয় বর্বরতায়্য ঝাপিয়া পড়ে। এসময় জনগণের জীবনের সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয় লাশের সংখ্যায়। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবারগুলার গায়ের চামড়া রক্ষার দরকার পড়ে। সামন্ত সমাজে বিভিন্ন সামন্ত পরিবারের এইরকম রাজনৈতিক চরিত্র বুঝার জন্যে সমাজ বিজ্ঞানের মোটা মোটা বই পড়ার দরকার নাই। যারা জর্জ আর আর মার্টিনের উপন্যাস ‘আ সং অফ আইস এন্ড ফায়ার’ অবলম্বনে নির্মিত এইচবিওর ফ্যান্টাসি সিরিয়াল ‘গেম অফ থ্রোনস’এর নিয়মিত দর্শক তাদের বুঝতে বিশেষ সুবিধা হবে।

বাংলাশের প্রধান দুই রাজনৈতিক ‘রাজ পরিবার’ হলো শেখ এবং জিয়া পরিবার। শেখ পরিবারের এখন দোর্দন্ড প্রতাপ। অন্যদিকে জিয়া পরিবারের অবস্থা খুবি খারাপ। খালেদা জিয়ার বয়স হয়েছে। নেতৃত্ব দিতে পারেন না। এদিকে তারেক রহমান দিনে দিনে বাঙলার দিনেরিশ টারগারিয়ানে পরিণত হলেন। সেই যে দেশান্তরী হলেন আর দেশে আসার খবর নাই। পিতা ও মাতার সিংহাসনের উপর নিজের জন্মগত অধিকারের দাবি নিয়া লন্ডনে বসে আছেন। আর সেই দাবির প্রতি আনুগত্ব প্রকাশ করাকে জিয়া লয়ালিস্টরা বিএনপির প্রধানতম রাজনীতি বানিয়ে রেখেছে। দলটিতে এককালে অনেক শক্তিশালী ভুইয়া, চৌধুরীরা ছিলেন যারা এখন নাই। মির্জা পরিবারের প্রধান মির্জা ফখরুল এখনো ভারপ্রাপ্তই থেকে গেলেন। তারেক জিয়া খুব তাড়াতাড়ি বাংলাদেশে আসবেন বলে মনে হয় না। শেখ হাসিনার বাঙলায় মায়া পরিবারের তারেক সাঈদ জেলের বাইরে থাকতে পারে নাই, জিয়া পরিবারের তারেক রহমান থাকতে পারবেন সেই আশা করা কঠিন। ভাগ্যগুণে দিনেরিশ টারগারিয়ান তিনটি ড্রাগনের আন্ডা পেয়েছিলেন। তিনটি আন্ডা থেকে তিনটি ড্রাগনের জন্ম হয়েছে। তারেক রহমানের কাছে ড্রাগনের আন্ডা নাই। তার পিতা সামরিক শক্তি ব্যাবহার করে, মুক্তিযুদ্ধের পিঠে চেপে, এবং স্বাধীনতার ঘোষক টাইটেল গ্রহণ করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। তারেক জিয়ার সামরিক শক্তি নাই, ড্রাগনের আন্ডাও নাই। তিনি তাই কিছুদিন পর পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ক কিছু দুর্বল ডিসকার্সিভ আন্ডা নিজেই পাড়েন। তা থেকে তার পিতার নতুন টাইটেলের জন্মও দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো যে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হলে তারেক জিয়াকে কি কেউ আর তারেক চোরা নামে ডাকবে না? সবাই কি তারেক সাধু নামে ডাকবে? মহান শেখ হাসিনার রাজত্বে ইনুতে শফিতে এক ঘাটে পানি খায়। খালি বাপের টাইটেলে বাড়ায়া তারেক রহমান কিভাবে ক্ষমতা দখল করবেন?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “শেখ হাসিনার রাজত্বে

  1. মহান শেখ হাসিনার
    রাজত্বে

    মহান শেখ হাসিনার
    রাজত্বে ইনুতে শফিতে এক ঘাটে পানি খায়।-++-++–+– হি হি হি 🙂
    তারেক জে ফাকাঁ বুলি আওড়ায়

  2. দেশে আজ গণতন্র নেই! এই দায়
    দেশে আজ গণতন্র নেই! এই দায় শেখের বেটিকেই নিতে হবে। নূর হোসেন আর মিলনের আত্মা শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করবেনা!

      1. শেষ কবে দেশে ঘনতন্ত্র

        শেষ কবে দেশে ঘনতন্ত্র দেখসিলেন, মনে পড়ে?

        আপনার মনে নাই?
        টেন পারসেন্ট এর জমানা তো খুব দুরের পথ নয়!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =