বিশ্বব্যাংকে বাড়তি ১৩৬৪ শেয়ার কিনছে বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের অংশিদার বাড়ানোর জন্য সরকার ব্যাংকটির শেয়ার কেনার উদ্যেগ নিয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক এই সংস্থাটিতে বর্তমানে বাংলাদেশের চার হাজার ৮৫৪টি শেয়ার রয়েছে। এটি মোট শেয়ারের শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশের মতো। সরকার নতুন করে আরও এক হাজার ৩৬৪টি শেয়ার কিনতে যাচ্ছে। এতে করে মোট শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়াবে ছয় হাজার ২১৮টিতে। বাংলাদেশের শেয়ার কেনার প্রস্তাব ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের শেয়ার কেনার এ প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এর জন্য পাঠিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্বব্যাংকের শেয়ার কিনতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তা যোগান দিতে অর্থমন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে ইআরডি।

জানা গেছে, বাংলাদেশের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডাসহ উদীয়মান দেশগুলোও বিশ্বব্যাংকে তাদের শেয়ার বাড়াচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক এই সংস্থাটি ২০১০ সালে তাদের অভ্যন্তরীণ যেসব সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল, তারই অংশ হিসাবে অর্থনৈতিকভাবে উদীয়মান দেশগুলোকে বাড়তি শেয়ার দেওয়া হচ্ছে। ইআরডির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাড়তি শেয়ার কেনা বাংলাদেশের জন্য সুযোগ। বাংলাদেশ যদি এই শেয়ার না কেনে, তাহলে অন্য দেশ তা নিয়ে যাবে। তাই এই শেয়ার রেখে দেওয়া দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে। কেননা, ভবিষ্যতে বিভিন্ন দাবি পূরণের ক্ষেত্রে এটি কাজে আসতে পারে।

?itok=3stVUwz1″ width=”500″ />

জানা যায়, গত ১১ থেকে ১৩ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসিতে তিন দিনব্যাপী বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওইসব বৈঠকেও বাড়তি শেয়ার কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়।

জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ধরা হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে এক হাজার ৩৬৪টি শেয়ারের মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। তবে ইআরডি কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশকে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। ১৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের বিপরীতে ৬ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হবে এক কোটি ডলারের মতো। আগামী ২০১৬ সাল নাগাদ ধাপে ধাপে বাংলাদেশ এই টাকা পরিশোধ করতে পারবে।

জানা গেছে, ২০১০ সালে বিশ্বব্যাংক ঘোষণা দিয়েছিল, সংস্থাটি তাদের অভ্যন্তরীণ খাতে বেশ কিছু সংস্কার আনবে। সেই সংস্কারের অংশ হিসাবে উদীয়মান দেশগুলোর কাছে কিছু শেয়ার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সে আলোকে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও বাড়তি শেয়ার কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বেড়েছে। মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। এছাড়া ২০০৯ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার পর বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়েনি। এতে প্রমাণিত হয় যে, দেশের অর্থনীতি মজবুত অবস্থানে রয়েছে। এসব দিক বিবেচনা করে সরকার বিশ্বব্যাংকে শেয়ার সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্বব্যাংকে শেয়ার বাড়ানো গেলে বিভিন্ন দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তাদের কণ্ঠস্বর আরও উঁচু করতে পারবে বলেও মনে করেন কর্মকর্তারা।

এদিকে বাংলাদেশের শেয়ার বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বব্যাংকে কর্মরত বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, বিশ্বব্যাংকে যার অর্থের অংশীদারিত্ব বেশি, তারাই প্রভাব বিস্তার করে থাকে। সেক্ষেত্রে অন্যদের তেমন কিছু করার থাকে না।
জানা যায়, ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক একটি সমবায়ের মতো। সদস্যরাই এর হিস্যাদার বা শেয়ার হোল্ডার। দেশের অর্থনীতির আকারের ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট দেশ তার হিস্যা বা শেয়ার পায়। যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় একক হিস্যাদার। বিশ্বব্যাংকে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার আছে প্রায় ১৬ শতাংশ। পাঁচ বৃহত্তম হিস্যাদারের মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি যোগ হওয়া আফ্রিকাসহ বিশ্বব্যাংকে ২৫ জন নির্বাহী পরিচালক রয়েছেন। এসব নির্বাহী পরিচালকদের সমন্বয়ে গঠিত হয় বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা বোর্ড অব গর্ভনরস। এই বোর্ড ব্যাংকের নীতি নির্ধারণ ও কর্ম পরিচালনা তদারকি করে থাকে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “বিশ্বব্যাংকে বাড়তি ১৩৬৪ শেয়ার কিনছে বাংলাদেশ

  1. এসব ছোটখাট শেয়ার কিনে
    এসব ছোটখাট শেয়ার কিনে বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশ তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারবেনা। তারপরও সরকারের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য বিশ্বব্যাংকের শেয়ার ক্রয় করার উদ্যোগকে স্বাগতম জানাই।

    1. সমগ্র পৃথিবীর সকল অর্থনীতি
      সমগ্র পৃথিবীর সকল অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্বব্যাংক তথা আই এম এফ । আই এম এফের দুনিয়ায় পৃথিবীর কোন দেশ স্বাধীন নয়। তবুও দেশের মাথামোটা বুদ্ধিজীবীরা দেশকে স্বাধীন বলে । যা রূপকথার গল্প নয়কি?

  2. অর্থের অংশীদারিত্ব আজকে কম
    অর্থের অংশীদারিত্ব আজকে কম বলে ভবিষ্যতে কি বাড়বে না? আস্তে আস্তে করে শেয়ারের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে একসময় আমরাও পরিচালকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদ পাব। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত যৌক্তিক।

  3. ভালো লাগলো। অভিনন্দন সরকারকে।
    ভালো লাগলো। অভিনন্দন সরকারকে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 6