অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার খুনীর রিমান্ড চায়নি পুলিশ!

খুনী অস্ত্রসহ জনতার হাতে ধরা পড়ে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সে বাকি খুনীদের নামও প্রকাশ করে। কিন্তু খুনীর রিমান্ড চায়নি পুলিশ। বাকি খুনীদের গ্রেপ্তারের নাম গন্ধও নেই। ঘটনার পরে সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও পুলিশের এখনো কোনো নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে না।

গত ১৩ জুন, ২০১৪ শবে বরাতের রাতে আনুমানিক ৮.০০ ঘটিকার দিকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা শাহ গোলাম মোর্শেদ মিঠুকে খুন করা হয়। তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

ঘটনার দিন তাকে বাড়ী থেকে আলাপ করার ছলে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। জাহানুর, বায়েজিদ, আমজাদ, জাদু মিয়া, কাসেম, জিয়া ও আযমের সহযোগীতায় রুবেল শাহ এই হত্যাভিযান পরিচালনা করে।

জানা যায়, রুবেল একজন ভাঁড়াটে খুনি। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী খুনী রুবেল মিঠুর প্রতিবেশী আমজাদের বাড়ীতে ২ দিন ধরে অবস্থান করে এবং সুযোগ বুঝে শবেবরাত রাতে এ হত্যাকান্ড ঘটায়। এই ঘটনায় আরো কয়েকজন আশঙ্কজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।

উল্লেখ্য, স্থানীয় জনগণ রুবেলকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে ধরে ফেলে। সেই অস্ত্র বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। রুবেল ধরা পড়ার পর ঘটনার সত্যতা পুলিশ ও জনগণের সম্মুখে স্বীকার করে। হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যাদের নামও প্রকাশ করে। যার অডিও ফাইল নিহতের পরিবারের কাছে সংরক্ষিত আছে। আমরা তা সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছি। হাতে পাওয়া মাত্রই আপলোড করা হবে।

এতসব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ এতদিন পরেও খুনীদের ধরতে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। অস্ত্রসহ ধরা পড়ার পরেও পুলিশের পক্ষ থেকে রুবেলের রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি। অন্য আসামীরা মুক্তভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বাদী পক্ষকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করছে। একটি সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ যে চার্জশিটের পরিকল্পনা করছে, তাতে মূল অভিযুক্তদের আড়াল করা হচ্ছে।

পুলিশের এই আচরণ ও খুনের ঘটনায় আওয়ামী রাজনীতির স্থানীয় উঁচু মহলের যোগসাজশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে আকুল আবেদন, খুনীরা যাতে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পার পেয়ে যেতে না পারে, তার জন্য সবাই সোচ্চার হবেন। ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতার হত্যাকান্ডের পর খুনী গ্রেপ্তার হলেও যদি মামলা ঝিমিয়ে পড়ে, তাহলে দেশের বাদবাকি মানুষের ন্যায়বিচারের অধিকার কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, এই প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট সকলের!

[নোট : খুব পরিচিত এক ছোট ভাইয়ের আপন মামা হন নিহত এই মিঠু। যদ্দূর জানতে পেরেছি তিনি একজন ভালো লোক ছিলেন। সবার কাছে অনুরোধ, খুনীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। ]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার খুনীর রিমান্ড চায়নি পুলিশ!

  1. পুলিশের এই আচরণ ও খুনের ঘটনায়

    পুলিশের এই আচরণ ও খুনের ঘটনায় আওয়ামী রাজনীতির স্থানীয় উঁচু মহলের যোগসাজশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে আকুল আবেদন, খুনীরা যাতে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পার পেয়ে যেতে না পারে, তার জন্য সবাই সোচ্চার হবেন। ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতার হত্যাকান্ডের পর খুনী গ্রেপ্তার হলেও যদি মামলা ঝিমিয়ে পড়ে, তাহলে দেশের বাদবাকি মানুষের ন্যায়বিচারের অধিকার কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, এই প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট সকলের!

    নিহত ব্যক্তি আওয়ামী লীগের নেতা জেনেও এই অবস্থা দেখে প্রথমেই এই কথাগুলা মাথায় আসছিলো। উত্তরও মিলে গেছে। নিজেরা নিজেরা কামড়া কামড়ি করে মরাই এখন এদের নিয়তি। যদি না দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৎপর হন। খুনিদের ফাঁসি চাই।

  2. এসব পোস্ট দিয়ে যুদ্ধাপরাধিদের
    এসব পোস্ট দিয়ে যুদ্ধাপরাধিদের বিচার প্রক্রিয়া বানচাল করার চেষ্টা করবেন না। মুলা ঝুলতেই থাকুক।

  3. সব জায়গায় ধর্ম লইয়া টানাটানি
    সব জায়গায় ধর্ম লইয়া টানাটানি কইরো না বাছা। বিপদে পড়বা পরিবারসহ। তখন তোমাগো কোন সহযোদ্ধা তোমাগো লইয়া আর স্ট্যাটাস দিব না।তোমাগো বাঁচানোর জন্য আর কোন ইভেন্ট খুলবো না।
    এই বছর ধর্ম লইয়া যত চুলকানি আসে তা সারাইয়া ফেলো।নাহলে খবর আছে।

  4. বাহ মনে কেমন শান্তির সু বাস
    বাহ মনে কেমন শান্তির সু বাস পাচ্ছি। ছি ছি পুলিশের এমন নিলিপ্তায় নয়. লিগের অভ্যন্তরীণ কামড়া কামড়িতে। 🙂

  5. বাংলাদেশ টা তো এখন চিহ্নিত
    বাংলাদেশ টা তো এখন চিহ্নিত একটি গোষ্ঠীর অবাধ বিচরন ক্ষেত্র!!
    যখন যা ইচ্ছা তা তারা করে বেড়াবে আর প্রতিবাদ করলেই উল্টো রিমান্ড!! আর তার সাথে আছে কিছু তাদের পা চাটা কু*র!!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

68 + = 72