মধ্যবিত্ত কোন শ্রেনী নয়, একটা মানুষিকতা…

রক্ষনশীল আর আধুনিক এই দুই শ্রেনীর মানুষিকতার টানাপেড়নে বস্তুত আমরা মধ্যবিত্ত দশায় আটকা পড়ে গেছি । মধ্যবিত্ত কোন শ্রেনী নয়,একটা মানুষিকতা।

আমরা একই মানুষ কখনও চিন্তা করি লিভ-টুগেদার এর মত পাশ্চিমা সংস্কৃতির কথা,আবার সেই মানুষটাই চ্যাচামেচি করে বলে ফেলব দেশটা রসাতলে গেল..!!!!!

মিডিয়ার বদৌলতে তথাকথিত আধুনিক আমরা যথেষ্টই হয়েছি । রাস্তাঘাটে বের হলেই তা বোঝা যায়। লজ্জায় মাঝে মাঝে নিজের চোখই বন্ধ করে ফেলতে হয় । করনটা সহজ । আমি বঙালী,আমি রক্ষনশীল !!

এবার একটুখানি আধুনিকতার ঊর্দি চাপানো যাক ।
ছেলে কিংবা মেয়ে উভয়েই মেচিউরড হওয়ার সাথে সাথে শারিরীক চাহিদাটাও অনুভব করা শুরু করে। এটা একটা নেচারাল ব্যাপার । আমরা আধুনিক হয়েছি বা হচ্ছি। তাই বিয়ে করাটা তুলনামূলক ভাবে ১০\২০ বছর পিছিয়েছে ঠিকই, কিন্তু আয়ুস্কাল আগেরটাই বহাল আছে । সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রীয় অনুশাষন দিয়ে এটা থামানোর চেষ্টা করা যাবে না । কারন আমরা আধুনিক । মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে তাতে।

তাহলে ধরে নেয়া যেতে পারে আমরা বস্তুত আধুনিকও নই,সনাতনও নই । আমরা মধ্যম শেনীর | ফলশ্রূতিতে যা হচ্ছে, আমরা ছেলেমেয়েদের শারিরীক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কার্যকর কোন বাধাও দিচ্ছি না আবার সে ব্যাপার গুলো সম্পর্কে তাদের পর্যাপ্ত শিক্ষাও দিচ্ছি না । না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয়, না বাসায়। যে পাশ্চাত্য দেশগুলোর অনুকরনে আমরা আধুনিকতার ধূয়ো তুলছি সে সব দেশের পাঠ্যসূচীতে ছেলে-মেয়েদের কৈশরেই পর্যাপ্ত পরিমানে যৌন বিষয়ে সঠিক জ্ঞান দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। যেটা আমাদের দেশের নীতি নির্ধারকদের উর্বর চিন্তা-ভাবনায় কখনো আসেনি। হয় অজ্ঞানতা নতুবা সংকোচ বোধের কারনে।

ফলশ্রুতিতে এদেশের টিন-এজারদের সেক্সুয়াল ধারনাটা আসে একমাত্র পর্ণ দেখে ,কিংবা বন্ধুদের চাপাবাজি শুনে শুনে । যাতে শুধু ফ্যান্টাসীই থাকে,শিক্ষা না ।
মেয়েদের ক্ষেত্রে হয়ত তাদের মায়েরা পিরিয়ড সম্পর্কে নূন্যতম যে জ্ঞানটূকু না দিলেই নয় তা দেয় ঠিকই,কিন্তু কোন সময়টা সেক্স এর জন্য নিরাপদ, কোন সময়টা সতর্ক থাকতে হয়, কোন সময়টাতে গর্ভধারন করে ফেলার ঝুকি সব থেকে বেশি থাকে এসব ব্যাপারে বলার দরকার মনে করে না, কিংবা বলতে সংকোচ বোধ করে । ফলে অনাকাঙ্খিত গর্ভপাতের মত অনৈতিক এবং ঝুকিপূর্ন ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। আর মানুষিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের মুখে পরে গিয়ে অকালেই ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে কতগুলো সম্ভাবনাময় জীবন। ওদের নিজেদের ভুলেই হয় এটা ঠিক, কিন্তু প্রবীনদের ভুলটাও অস্বীকার করা যায় কি…??!!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “মধ্যবিত্ত কোন শ্রেনী নয়, একটা মানুষিকতা…

  1. গুরুত্বপূর্ণ একটা পয়েন্ট তুলে
    গুরুত্বপূর্ণ একটা পয়েন্ট তুলে ধরছেন। সেক্স এডুকেশনের ব্যাপারে আমাদের দেশে কেমন একটা রাখঢাক মনোভাব পোষণ করা হয়। এই ব্যাপারে নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবী।

  2. মধ্যবিত্ত অবশ্যই একটি
    মধ্যবিত্ত অবশ্যই একটি শ্রেণী।এবং এই শ্রেণীর উপর নির্ভর করেই মানসিকতা গড়ে ওঠে।এটা আলাদা কোন সত্ত্বা বা মানসিকতা নয়।এবং এই মানসিকতার সাথে আর্থিক ব্যাপারটা পুরোপুরি সম্পৃক্ত।আর রাস্তাঘাটে চলতে গেলেও লজ্জা লাগে না,মাথা নিচু করার তাই প্রশ্নই আসে না।তবে সেক্স এডুকেশনের প্রতি আমাদের আরো আন্তরিক হওয়া উচিত,দরকারও।এইটা একটা ভাল পয়েন্ট।

    আরেকটা কথা।কোন সময়ে সেক্স করলে ঝুকি কম মেয়েদের এইসব চিন্তা মাথা থেকে বের করেন।সেফ পিরিয়ড বলতে যেই টার্মটা আছে তাতে শতকরা ১৫-২০ ভাগ ক্ষেত্রে প্রেগন্যান্সি রোধ করা যায়।তাই এইদিকে খেয়াল না করে অন্যদিকগুলোর দিকে নজর দেয়াই নিরাপদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

22 + = 26