বিশ্বাস একটি অনর্থক অনুভূতি

এই ব্লগের ই কেউ একজন আস্তিকতা নাস্তিকতা নিয়ে লিখল, নাস্তিকদের প্রতি তীব্র ক্ষোভের বহিপ্রকাশের দেখলাম তার। উনি নাস্তিক দের কয়েকটা মহা সস্তা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য দায় এড়ানোর জন্য বলেছিলেন এটা তার নিতান্তই ব্যাক্তিগত মতামত ; কেউ যাতে তার কথায় কষ্ট না পায়। তবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস সবসময় ই প্রশ্নবিদ্ধ।

1। নাস্তিকতা কোন ফ্যাশন না। কেউ যদি এটা নিয়ে ফ্যাশন করে সে অবিশ্বাস নিয়ে ই ফ্যাশন টা করে। আস্তিক থাকা অবস্থায় কেউ ফ্যাশন করে না। শখের বয়সে কেউ নাস্তিক হয় না, নাস্তিক হয় প্রশ্ন করে। নাস্তিকতা আসে সন্দেহে। বিশ্বাস যদি মানুষের সহজাত তাড়না হয় তাহলে সন্দেহ ও সহজাত তাড়না। আমাদের দেশে নাস্তিকতা কে অপরাধ বলে ধরা হয়, কেউ কি আমাকে যথাযথ জবাব দিতে পারবে কেন এটা অপরাধ হবে? কৌতুহল জ্ঞানের উত্স, আর সংস্করনের ধাপ হল সন্দেহ। মুহম্মদ সা: তার পুর্ববর্তী নিয়মে সন্দেহ করেছিল বলে নতুন জীবনবিধান দিতে পেরেছেন। ইব্রাহিম ওনার সময়ে প্রচলিত বহুশ্বর এ বিশ্বাস করতে পারেননি বলেই একেশ্বর ধর্ম আনতে পেরেছিলেন। যে কোন সামাজিক সংস্করনের জন্যে আমরা দেখব পুর্ববর্তী নিয়মের প্রতি সংশয়।

আমরা নাস্তিকদের কটাক্ষ করতে পারি, তাদের বানর কার্টুন করে মজা করতে পারি কিন্তু যেই না তারা আমাদের নিয়মের কটাক্ষ করবে তাহলে লেগে গেল আমাদের বিশ্বাস এ আঘাত! কি চমত্কার ভন্ডামী! কি চমত্কার আস্তিকাধিপত্য! একটা আস্তিক যদি নিজের বিশ্বাস ছড়াতে পারে তাহলে একটা নাস্তিক কেন তার অবিশ্বাস মানুষ কে শুনাতে পারবে না? নাস্তিকরা কি সমাজের অংশ নয়? তারা কি চায় না পরবর্তী প্রজন্ম সুখে থাকুক?
লেখকের পোস্টে একটা জায়গায় লিখা হয়েছে নাস্তিকরা অবচেতন ভাবে ঈশ্বর বিশ্বাস করে। এটা আংশিক ভুল কথা। ধর্ম বিশ্বাস সুদীর্ঘ ইতিহাস, আমাদের মনে নির্ভরতাই এটির আসল কারন। আর এর একটা কারন সামাজিক। লেখক অবচেতন কারন আর সামাজিক কারনের পার্থক্য করতে পারে নি। আমি বিপরীত ভাবে আরেকটি কথা বলি, সত্যিকার অর্থে আস্তিকরা ই সৃস্টিকর্তার আর পরকাল বিশ্বাস করে না অবচেতনভাবেই। আস্তিকরা নিজের বাবার সামনে অপরাধ করতে ভয় পায় কিন্তু সুবিচারক ঈশ্বরের সামনে ঠিক ই অপরাধ করে। কারন টা কি ভেবে দেখবেন? ঈশ্বর বিশ্বাস গভীরে প্রথিত থাকলে এটা সম্ভব হত?
আমরা মৃত্যু ভয় পাই, কেন ভাই? আস্তিকদের আমি সত উত্তর চাই, এটা কি দোযখের ভয়ে না শুন্যতার ভয়ে? আমরা কেন অনেক কষ্ট পেলে আত্মহত্যা করতে চাই? ধর্মে তো আত্মহত্যা মহাপাপ। আমরা ধরেই নিয়েছি মৃত্যু হলে আসবে শুন্যতা যা আমাকে নির্লিপ্ত করে দিবে? একটু ভেবে দেখবেন, এর কারন অবচেতনায় ঈশ্বরের তিরোধানের কারনে।

2। communism আর atheism এর মিল তিনি খুজে পাননি। communism এর দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠেছে দ্বন্দ্বমুলক বস্তুবাদ কে কেন্দ্র করে। আর এটা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তু ছাড়া কিছু স্বীকার করে না। communism এর দর্শন ভাববাদ কে অস্বীকার করে। আর মার্ক্স, লেনিন, ফিদেল ক্যাস্ত্রো, হুগো শ্যাভেজে, চে গুয়েভারা নাস্তিক ই ছিলেন এবং নাস্তিক ছিলেন। কেউ তাদের ব্যাক্তিগত জীবনদর্শন দেখে থাকতে পারেন।

বি দ্রঃ আমি সন্দেহ করতে জানি কারন আমি জ্ঞানকে ভালবাসি।
লিখা টা কেউ কে ব্যাক্তিগতভাবে আঘাত করে লিখা নয়। একটা সমালোচনা বলতে পারেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “বিশ্বাস একটি অনর্থক অনুভূতি

  1. আস্তিকরা শস্তা প্রশ্ন করবে,
    আস্তিকরা শস্তা প্রশ্ন করবে, এটাই স্বাভাবিক। এরা যুক্তির বিরুদ্ধে বিশ্বাসকে দাঁড় করায়। এদের আমরা যে উপায়ে মোকাবেলা করছি, অর্থাৎ লেখালেখি দিয়ে, এতে কাজ হবে না। অন্য উপায় খুঁজে বের করতে হবে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 12 = 16