রোযা গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য দুঃখ!

রমজান মাস শুরু হতে আর বাকি নেই। পুরো একমাস জুড়ে সারা মুসলিম বিশ্বে চলবে সিয়াম সাধনা। ধর্মীয় দিক থেকে মহান তাৎপর্যপূর্ণ এই দিনগুলোকে কাজে লাগিয়ে মুসলিমরা আল্লাহর নৈকট্য চাইবেন। কিন্তু আর সব কিছুর মতোই গরীবেরা তা থেকেও বঞ্চিত হবে। ধর্ম কর্ম পালনের সুযোগ খুব কমই মিলবে তাদের। রোযায় ও এর শেষে ঈদ উপলক্ষ্যে যে বাড়তি ব্যয়ের চাপ যোগ হবে তার সঙ্কুলান তারা আদৌ করতে পারবেন কিনা জানেন না। কিন্তু শ্রম তাদের দিতে হবে প্রাণপণে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোযায় গার্মেন্ট শ্রমিকদের শ্রমের পরিমাণ সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যাবে। কিন্তু অন্যবারের তুলনায় শ্রমিকরা এবার টাকা পাবেন অনেক কম।

রাজধানীর বেশ কিছু গার্মেন্টের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোযা উপলক্ষ্যে প্রতিবারই বিজিএমইএর নির্দেশে একটা ওয়ার্কিং শিডিউল তৈরী হয়। এবারও তা করা হয়েছে। শিডিউল অনুযায়ী একজন গার্মেন্ট শ্রমিককে রোযার দিনগুলোতে প্রতিদিন ভোর সাতটায় কাজে যোগ দিতে হবে। অর্থাৎ এজন্য তাকে সেহরীর সময় ওঠার পর আর ঘুমোলে চলবে না। সাতটার মধ্যে অফিসে হাজির হতে হলে তখন থেকেই যোগাড় জন্তর করতে হবে। সাতটা থেকে শুরু হয়ে কাজ চলবে বেলা সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত। একটানা ১০ ঘন্টা। এর মধ্যে বেলা ১.০০টা থেকে ১.২০ পর্যন্ত মাত্র ২০ মিনিটের বিরতি থাকবে নামাজের জন্য। যদি কেউ রোযা না থাকে তাহলে তাকে এই সময়ের মধ্যেই খেয়ে নিতে হবে।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোযার সময় এমনিতেই শরীরের সহ্য ক্ষমতা কমে যায়। তার ভেতরে এই নিয়মের ফলে আরো কষ্ট বেড়ে যাবে তাদের। আগে যেখানে দুপুরের খাওয়ার জন্য এক ঘণ্টা সময় বরাদ্দ ছিল। এখন সেখানে মাত্র ২০ মিনিট। অর্থাৎ দুপুরের বিশ্রাম ও খাওয়ার সময় ২০ মিনিট করায় নীট শ্রমের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে ৪০ মিনিট। অন্যদিকে টানা ১০ ঘণ্টার শ্রম এখন হয়ে যাবে ১২ ঘণ্টা। ভোর সাতটায় কাজে যোগ দিতে হলে সেহরীর পর থেকেই দৌড় শুরু করতে হবে। সব দিক থেকেই শ্রমিকের শ্রমের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।

জানা গেছে, অধিকাংশ গার্মেন্টেই ইফতারির ব্যবস্থা থাকে না। ইফতারির খরচ এড়াতেই মালিকরা ভোর থেকে কাজ শুরু করে আগেভাগে শেষ করে দিতে চান। যেসব গার্মেন্টে ওভারটাইমের চাপ আছে সেখানেও সর্বত্র ইফতারির ব্যবস্থা থাকে না। দু-এক জায়গায় কোম্পানি আয়োজন করে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের নিজেদের উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় ইফতারি হয়। মালিকপক্ষের কোনো সহযোগীতা তাতে থাকে না। তবে মালিকরা ইফতারিতে ব্যয় না করলেও অন্য কোথাও ব্যয় করতে চান। অধিকাংশ গার্মেন্টেই জানানো হয়েছে যে, ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসের সকালে সময়মতো কাজে যোগ দিলে ৫০০ টাকা বোনাস দেয়া হবে। এ থেকে ঈদ পরবর্তী শিল্প ঝিমুনি নিয়ে তাদের উদ্বেগটা টের পাওয়া যায়। আর এও পরিষ্কার হয়ে যায় যে, গার্মেন্ট মালিকরা শ্রমিকদের প্রতি তাদের আচরণ বদলাতে রাজী নন।

আর সবার মতোই অধিক শ্রমে শ্রমিকেরও কষ্ট হয়। সেটা দেখার মতো সভ্য এখনো মানুষ হয়নি, তাই সে আলাপে শ্রমিকরা যান না। আশুলিয়ার নরসিংহপুরের নিউ এইজ গার্মেন্টের শ্রমিক আলতাফ বলেন, ‘কষ্ট তো আমরার করনই লাগব। হেইডায় তো মাফ নাই। কিন্তু এত কষ্ট কইরাও তো ট্যাকা পয়সার দেখা নাই। এইবার ধরেন যে, ১৫ দিনের বেতন দিব। বাকি ১৫ দিনেরটা আটকায়া রাখব, যেন বেবাকটি ঈদের পর চাকরিতে থাকে। গার্মেন্টসের আমরা অনেকেই ধরেন যে, ঈদের পর লম্বা ছুটি কাটাই। এরপর নতুন কোনোখানে কাজ লই। এইটা ঠেকাইতে এই ফন্দি। এবার ঈদে খুব কষ্ট হইব। পোলাপাইনের জন্য কিছু কেনা যাইব না।‌‌’’

বেতনের অর্ধাংশ আটকে রাখা হলেও শ্রমিকরা বোনাস ঠিকই পাচ্ছেন, এমনটা ভেবে অনেকেই হয়তো স্বস্তি পাচ্ছেন। কিন্তু অধিকাংশ গার্মেন্ট শ্রমিকেরই বোনাস বলে কিছু নেই। কারণ গার্মেন্টে বোনাস সুবিধা যোগ হয় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির মেয়াদ টানা এক বছর পার হলে। অধিকাংশ গার্মেন্ট শ্রমিকই নানা সমস্যার দরুণ এবং মালিকদের সূক্ষ্ম চক্রান্তে কোথাও বছরখানেক কাজ করে উঠতে পারেন না। মালিকের পছন্দের সুপারভাইজর এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত পুরনো কিছু লোকই কেবল এই সুবিধা পায়।

স্বাভাবিক ভাবনায় রোযায় শ্রমিকদের সুবিধা বাড়ানোর কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা কমেছে। রাজধানীর সৈনিক ক্লাবের নিকটবর্তী “ম্যাডোনা ফ্যাশন লিমিটেডের” শ্রমিক আবুল হাসান বলেন, ‘আমাগো গার্মেন্টে মোটামুটি কিছু সুযোগ সুবিধা আছে। যেমন, আমরা সকালে কাজে যোগ দেয়ার জন্য কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় একটা লোকাল বাসের মতো পাই। তাও ভালো। কিন্তু রোযায় কষ্ট বেশি হইলেও রোযার সময় এই বাসটাও থাকব না। কাজ অনেক ভোর থেইকা শুরু হইব। কোম্পানি জানাইয়া দিছে ফজরের নামাজ পইড়া হাঁটা শুরু করতে।’

মাহে রমযান, মুসলিমদের কাছে ইহকালে আনন্দের আর পরকালে চিরসুখী হওয়ার পথ। রোযায় বড় পোলার খাওয়া থেকে শুরু করে বাহারী অনেক আয়োজন হবে। সারা রোযার মাস জুড়ে চলবে কেনাকাটা। লাখ টাকার পোশাক, কোটি টাকার উপহার, বিনিময় হবে অনেক কিছুই। কিন্তু রোযায় শ্রমিকের জন্য কোনো সুখবর নেই। তাকে আরো বেশি শ্রম দিতে হবে। সবাই কেনাকাটা করবে, তাকে চেয়ে দেখতে হবে। নিজের শিশু সন্তানটির মুখের দিকে তাকিয়ে শ্রমিক মা গোপন কাঁদবে। আর মুনাফা ঠিকঠাক নিশ্চিত করার জন্য মালিকেরা আটকে রাখবে তার বেতন। তার দুঃখ বাড়বে অনেক গুন। এ কি তবে অভিশাপ নয়?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৬ thoughts on “রোযা গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য দুঃখ!

  1. দেশের উন্নয়নে প্রধান ভুমিকা
    দেশের উন্নয়নে প্রধান ভুমিকা রাখে শ্রমিকরাই। মেই শ্রমিকরা থাকে অবহেলিত। বাংলাদেশে রপ্তানী আয়ের সিংহভাগ আসে গার্মেন্ট থেকে। গার্মেন্ট শ্রমিকদের মত এই মুহুর্তে অবহেলার স্বীকার অন্য কোন পেশার শ্রমিকরা নাই। বিজিএমই মালিকদের সংগঠন, তারা মালিকদের স্বার্থ দেখবেই। শ্রমিকদের স্বার্থ দেখার দায়িত্ব সরকারের। সরকারের এখন টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে ধনিক শ্রেণী তথা মালিক গোষ্টি। রাজনৈতিক কারণেই সরকার এখন মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করতে বাধ্য।

    1. সরকার এখন দেশের ধনীদের বাপ-মা
      সরকার এখন দেশের ধনীদের বাপ-মা হয়েছে। গরিব মানুষগুলোর পক্ষে কেউ নেই। এভাবে শ্রমিকবিরোধী নিয়ম করা হচ্ছে, তবু থামানোর কেউ নেই।

  2. গরীবদের জন্য ইহকাল আর পরকাল
    গরীবদের জন্য ইহকাল আর পরকাল দুইটাই সমান। একদিকে সংযমের নামে চলবে খাওয়া-দাওয়ার মহাউৎসব, অন্যদিকে যারা সব সময় সংযম করতে বাধ্য হয় তাদের সংযমের মাত্রা যাবে আরো বেড়ে।

  3. এসব বলে শ্রমিক অসন্তোষ শুরু
    এসব বলে শ্রমিক অসন্তোষ শুরু করছেন কেন? এখন আম্বারা এই কথা বলবে। শোষন হোক, কিন্তু অসন্তোষ সহ্য করবে না সরকার ও সরকার সমর্থিত দলকানারা। যদিও শ্রমিকরা ব্লগ কি এটাও জানেনা।

    শ্রমিকদের জন্য আমার একটুও মায়া নেই। এরা পাছা মারা খেতে পছন্দ করে।

    1. শ্রমিকদের জন্য আমার একটুও

      শ্রমিকদের জন্য আমার একটুও মায়া নেই। এরা পাছা মারা খেতে পছন্দ করে।

      গার্মেন্টস মালিকদের জন্য মায়া দেখাতে পারেন, তারা খুব আদর করে পাছা মারতে পারে। লাইনে দাঁড়ান।

      1. গার্মেন্টস মালিকদের জন্য মায়া

        গার্মেন্টস মালিকদের জন্য মায়া দেখাতে পারেন, তারা খুব আদর করে পাছা মারতে পারে। লাইনে দাঁড়ান।

        :মাথাঠুকি: :হাহাপগে: :মাথাঠুকি: :হাহাপগে: :মাথাঠুকি: :হাহাপগে:

        1. পাছা গার্মেন্টস মালিকরা মারতে
          পাছা গার্মেন্টস মালিকরা মারতে হয় না, পাছা মারার জন্য শ্রমিকরাই পেতে দিয়ে বসে থাকে। আর শ্রমিক মেহনতি জনতার লিডাররাও পাছা মারা খায় দরজা বন্ধ করে নিয়মিত। :bum:

  4. রমজান আল্লাহ্‌ তায়ালার সেরা
    রমজান আল্লাহ্‌ তায়ালার সেরা নেয়ামত। কর্মঘন্টা যতই বাড়ুক আল্লাহ্‌ এহ্‌সান দিবেন। শ্রমিকরা যদি খাস নিয়তে রোজা রাখেন তাহলে কোন সমস্যা হবেনা। আপনিও নিয়মিত ফরজ রোজা রাখবেন। আর শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে এই পোস্ট দেওয়াতে আল্লাহ সুবহান তায়ালা আপনার প্রতিও রহমত বর্ষন করবেন।

    আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।

  5. দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ
    দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে গার্মেন্টস থেকে । যারা তিলে তিলে নিস্বেস হয়েও মালিক আর সরকারের থলে বড় করছে তাদের এ অবস্থা দেখলে লজ্জায় মুখ লুকবার যায়গা থাকে না । শ্রমিকদের এমন বেহাল অবস্থা বোধ হয় পুরো পৃথিবীতে আর নেই ।

  6. ইসলামে শ্রমিকের মর্যাদা ও
    ইসলামে শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার :
    শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ধর্ম ইসলামে শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকারের কথা বিধৃত হয়েছে। শ্রমিকদের প্রতি সুবিচারের নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। ইসলাম শ্রমের প্রতি যেমন মানুষকে উৎসাহিত করেছে (জুম‘আহ ১০), তেমনি শ্রমিকের সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পূর্ণ প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষকে অত্যন্ত সম্মানের দৃষ্টিতে দেখতেন। কারণ যারা মানুষের সুখের জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে নিজেদেরকে তিলে তিলে নিঃশেষ করে দেয়, তারাতো মহান আল্লাহর কাছেও মর্যাদার অধিকারী।
    শ্রমের মর্যাদা বুঝাতে গিয়ে রাসূলুল্ল­াহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, مَا أَكَلَ أَحَدٌ طَعَامًا قَطُّ خَيْرًا مِنْ أَنْ يَّأْكُلَ مِنْ عَمَلِ يَدَيْهِ وَإِنَّ نَبِىَّ اللهِ دَاؤُوْدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ كَانَ يَأْكُلُ مِنْ عَمَلِ يَدَيْهِ- ‘কারো জন্য স্বহস্তের উপার্জন অপেক্ষা উত্তম আহার্য আর নেই। আর আল্লাহর নবী দাঊদ (আঃ) স্বহস্তে জীবিকা নির্বাহ করতেন’।১
    শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম বদ্ধপরিকর। আর একজন শ্রমিকের সবচেয়ে বড় অধিকার বা দাবী হ’ল, তার শ্রমের যথোপযুক্ত পারিশ্রমিক লাভ করা। এজন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, أُعْطُوا الْأََجِيْرَ أَجْرَهُ قَبْلَ أَنْ يَّجِفَّ عَرقُهُ- ‘তোমরা শ্রমিককে তার শরীরের ঘাম শুকানোর পূর্বেই পারিশ্রমিক দিয়ে দাও’।২
    ইসলামে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক :
    ইসলামে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক হবে পিতা-সন্তানের ন্যায়। নিজের পরম আত্মীয়ের মতোই শ্রমিকের সাথে আন্তরিকতাপূর্ণ আচরণ করা, পরিবারের সদস্যদের মতই তাদের আপ্যায়ন করা, শ্রমিকের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার প্রতিটি মুহূর্তের প্রতি মালিকের খেয়াল রাখা এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা বিবেচনা করা মালিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। শ্রমিককে তার প্রাপ্য পূর্ণভাবে যথাসময়ে প্রদান করাও মালিকের একটি প্রধান দায়িত্ব। অনেক সময় শ্রমিকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মালিকগণ উপযুক্ত মজুরী না দিয়ে যৎ সামান্য মজুরী দিয়ে শ্রমিকদের অধিকার বঞ্চিত করে। এ ধরনের মালিকদের সম্পর্কে রাসূলুল্ল­াহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘মহান আল্লাহ বলেন, ক্বিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে। তাদের মধ্যে একজন হ’ল- وَ رَجُلٌ أسْتَأْجَرَ أَجِيْرًا فَاسْتَوْفَى مِنْهُ وَلَمْ يُعْطِهِ أَجْرَهُ- ‘যে শ্রমিকের নিকট থেকে পূর্ণ শ্রম গ্রহণ করে অথচ তার পূর্ণ মজুরী প্রদান করে না’।৩
    অপরদিকে একজন শ্রমিকের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হ’ল- চুক্তি মোতাবেক মালিকের প্রদত্ত কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার সাথে সম্পাদন করা। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, إِنَّ اللهَ تَعَالَى يُحِبُّ مِنَ الْعَامِلِ إِذَا عَمِلَ أَنْ يُّحْسِنَ- ‘আল্লাহ ঐ শ্রমিককে ভালবাসেন যে সুন্দরভাবে কার্য সমাধা করে’।৪ কিন্তু কোন কোন শ্রমিক মালিকের কাজে ফাঁকি দিয়ে নিয়মিত হাযিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতন উত্তোলন করে থাকে, যা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এজন্য তাকে ক্বিয়ামতের মাঠে অবশ্যই বিচারের সম্মুখীন হ’তে হবে। আর যদি শ্রমিক তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করে, তাহ’লে তার জন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দ্বিগুণ পুরস্কারের কথা ঘোষণা করে বলেন, ‘তিন শ্রেণীর লোকের দ্বিগুণ ছওয়াব প্রদান করা হবে। তাদের মধ্যে এক শ্রেণী হ’ল- وَالْعَبْدُ الْمَمْلُوْكُ إِذَا أَدَّى حَقَّ اللهِ وَ حَقَّ مَوَالِيْهِ ‘ঐ শ্রমিক যে নিজের মালিকের হক্ব আদায় করে এবং আল্লাহর হক্বও আদায় করে’।৫ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরো বলেন, لِلْعَبْدِ الْمَمْلُوْكِ الصَّالِحِ أَجْرَانِ- ‘সৎ শ্রমিকের জন্য দু’টি প্রতিদান রয়েছে’। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, وَالَّذِىْ نَفْسُ أَبِيْ هُرَيْرَةَ بِيَدِهِ لَوْلاَ الْجِهَادُ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ وَالْحَجُّ وَبِرُّ أُمِّىْ لَأَحْبَبْتُ أَنْ أَمُوْتَ وَأَنَا مَمْلُوْكٌ- ‘যেই সত্তার হাতে আবূ হুরায়রার প্রাণ তার কসম! যদি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ, হজ্জ ও আমার মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহারের ব্যাপারগুলো না থাকত, তাহ’লে আমি শ্রমিক হিসাবে মৃত্যুবরণ করতে পসন্দ করতাম’।৬
    শ্রমিকদের যে বিষয়টি মনে রাখা যরূরী তা হ’ল- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তি স্বাধীনতা রয়েছে। সুতরাং মে দিবসে যেকোন ব্যক্তির যানবাহন চালানোর বা শিল্প প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট খোলা রাখারও অধিকার আছে। তাতে বাধাদানের অধিকার কারো নেই। কিন্তু আমাদের দেশে মে দিবসে যদি কেউ যানবাহন চালায় বা দোকানপাট খোলা রাখে তাহ’লে উচ্ছৃংখল কিছু শ্রমিককে গাড়ি ভাংচুর করতে এবং দোকানপাট জোর করে বন্ধ করে দিতে দেখা যায়। যা আদৌ সমর্থনযোগ্য নয়। অনুরূপভাবে হরতাল-ধর্মঘটও বর্জন করা আবশ্যক।
    পরিশেষে বলা যায়, এ সুন্দর পৃথিবীর রূপ-লাবণ্যতায় শ্রমিকদের কৃতিত্বই অগ্রগণ্য। কিন্তু শত আক্ষেপ! সভ্যতার কারিগর এ শ্রেণীটি সর্বদাই উপেক্ষিত, অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত। উদয়াস্ত উষ্ণ ঘামের স্যাঁতসেঁতে গন্ধ নিয়ে খেটে যে শ্রমিক তার মালিকের অর্থযন্ত্রটি সচল রাখে, সেই মালিকেরই অবিচারে শ্রমিকদের অচল জীবনটি আরো দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এটাকে সেই মৌমাছির সাথে তুলনা করা যায়, যারা দীর্ঘ পরিশ্রমের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে চাকে সঞ্চয় করে, কিন্তু তার ভাগ্যে একফোঁটা মধুও জোটে না। সুতরাং সমাজতন্ত্র ও পুঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থায় মালিক-শ্রমিকের বৈরিতাপূর্ণ সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে ইসলামী অর্থ ব্যবস্থা ও শ্রমনীতি বাস্তবায়ন করে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। আর এজন্য সর্বাগ্রে উচিত ইসলাম প্রদর্শিত মালিক-শ্রমিক নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ ও বাস্তবায়ন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হৌন-আমীন!

    1. ভাই, মাশাল্লাহ। আপনার
      ভাই, মাশাল্লাহ। আপনার কমেন্টসের পর আর কোনো বলার কিছুই নাই। জাযাকাল্লাহ খায়রান।

    2. রমজান আসার সাথে সাথে নতুন
      রমজান আসার সাথে সাথে নতুন আবালের আগমন হইছে ব্লগে। এই একমাস গোটা দেশে চলবে চরম আবলামি।

    3. রোযায় একটানা দশ ঘন্টা শ্রম
      রোযায় একটানা দশ ঘন্টা শ্রম দিতে হবে তাদের। শ্রমের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে দেয়া হবে না বেতনের পাওনা টাকাটাও। এখানে মালিকদের বিরুদ্ধে আল্লহ কিছু বলেছেন কিনা দেখান। আমি জানি, ধর্মে উল্টো বলা হয়েছে, তোমরা ধনীদের দিকে না তাকিয়ে আরো গরিবদের দিকে তাকাও। আমার প্রশ্ন হচ্ছে আপনার ধর্মে অনেক কিছুই আছে, কিন্তু এখানে হচ্ছেটা কি? যা হচ্ছে তা নিয়ে আপনার মত কি?

    4. মাটির ছেলে ভাই, কিছু হইলেই তো
      মাটির ছেলে ভাই, কিছু হইলেই তো কোরান হাদিসের বানী কপচান। তো, ইসলামে যে গরীব মজলুমের হক’এর কথা বলা হয়েছে এখানে সেটা কে মানে না বলেছে?
      শুধু কোরান হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে কিন্তু গরীবের পেট চলে না, শ্রমের বিনিময়ে তাঁরা বড়লোকের ঈদ উদযাপনকে আলোকময় করে তুলবে আর তাদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য রাস্তায় নামতে হবে, তখন কোথায় থাকেন আপনারা? গরীবের অধিকার আদায়ে কেউ তাদের সহযোগিতা করেছে এরকম দেখেছেন কখনও? তাই, সবকিছুতে ইসলামকে টেনে না এনে বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা করুন।

      ইসলামের বানী শুনিয়ে এ বেচারাদের কষ্ট কে আরো কয়েকগুন বাড়িয়ে তোলার কোনও মানে হয়না।

  7. রোযার মাসই হোক আর না হোক,
    রোযার মাসই হোক আর না হোক, ইদানিং শ্রমিকদেরকে এমনিতেই অতিরিক্ত কয়েক ঘন্টা খাটতে হয়। এক ঘন্টা সহজ ইংরেজী বর্ণমালা শিক্ষা, এক ঘন্টা ইংরেজী বানান শিক্ষা, এক ঘন্টা গ্রামার শিক্ষা, এক ঘন্টা ট্যাগের উপ্রে অভিযোগ লিখন শিক্ষা, এক ঘন্টা সেগুলো সুন্দর করে সেলাই শিক্ষা এবং সবশেষে সেগুলো নিরাপদে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ইন্সপেকশন ছাড়া রপ্তানীর উদ্দেশ্যে কার্টনে ভরার সহীহ পদ্ধতি শিক্ষণের জন্য কয়েক ঘন্টা তো এমনিতেই লাগবে। কি আর করা, শ্রমিক দরদী ‘স্যার’দের কথা তো আর ফেলা যায় না। আশা করি ‘স্যার’রা এই অতিরিক্ত কাজের জন্য বেতন বোনাস দিতে ভুলবে না। মালিকপক্ষ নিমকহারাম হতে পারে, স্যাররা তো সেরকম না।

      1. অবশ্যই আলাদা ভায়া। কারন, কোনো
        অবশ্যই আলাদা ভায়া। কারন, কোনো মালিক নিজের পুটুতে সানস্টার ব্র্যান্ডের মেশিন সান্ধাইতে চাইবে বলে মনে হয় না। স্যাররা চায় মালিক পুটু মারা খাক, আর মালিকরা চাইবে নিজ নিজ পুটু বাঁচাইতে। মালিকরা নিশ্চয়ই পুটু মারা খাওয়ার মতো কাজ (উচ্চমার্গীয় ভাষায় ইংরেজিতে কষ্টের কথা ইউরোপ আম্রিকারে ট্যাগানো) করবে না। তাই না?

  8. শ্রমিকরা শুধু রোজার মাসেই না,
    শ্রমিকরা শুধু রোজার মাসেই না, সব মাসেই শোষিত হয়। শ্রমিকদের শোষণ করে মালিকরা নিত্য নতুন ব্যবসা করেন।কেউ টিভি চ্যানেল আবার কেউবা পত্রিকা চালু করেন। কিন্তু টিভি চ্যানেল বা পত্রিকায় কর্মরত কোন বিবেকবান মানবতাবাদী ব্যক্তি কখনো শ্রমিকদের শোষণের ব্যাপারে তার মালিককে কোন প্রশ্ন করেন না।

    1. রোযায় সমস্যাটা বাড়ছে। এই
      রোযায় সমস্যাটা বাড়ছে। এই লোকগুলো শেষ পর্যন্ত রোযা রেখেই টানা ১০ ঘন্টা রোযা রাখবে। তারপর খাওয়ার কিছু থাকবে না, পানি দিয়ে রোযা শেষ করবে। এটা রোযার ফলে যোগ হয়েছে।

  9. আমার সুযোগ হয়েছিলো ইপিজেড এ
    আমার সুযোগ হয়েছিলো ইপিজেড এ একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কিছুদিন কাজ করার এবং একটি ঈদ কাটাবার। এ কথা সত্যি ওখানকার অবস্থা দেশের বেশীরভাগ কারখানা থেকে উন্নত কাজের পরিবেশের মান, আর্থিক সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদির দিক থেকে। তবুও সেখানে ঈদের আগে শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধ করা হয় না। আর বিভিন্ন অজুহাতে টাকা কেটে রাখার প্রক্রিয়া তো আছেই। উৎপাদন ঠিক রাখতে শ্রমিকদের দিয়ে আইনের বাইরে অনেক বেশী ওভারটাইম করান হয় আর দরিদ্র শ্রমিকও কিছু বাড়তি আয়ের আশায় নিজেদের সামর্থ্যের অতিরিক্ত সময় কাজ করে। কিন্তু এই ওভারটাইমের পুরো টাকাটাও তাদের ঈদের আগে পরিশোধ করা হয় না। প্রায় আড়াইশ শ্রমিকের ইন্টারভিউ করেছি আমি সেখানে। দেখেছি কত ছোট ছোট তাদের চাহিদা কিন্তু সেই চাহিদা পূরণে তাদের বিরাট অক্ষমতা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 23 = 25