আহমদ ছফার বাংলাদেশ

আজ ৩০ জুন। ১৯৪৩ সালের এই দিনে মহাত্মা আহমদ ছফা জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জন্মেছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশ ভারতে। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন ২০০১ সালের ২৮ জুলাই, স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত সর্বমোট ২৩ বছর তিনি পাকিস্তানের নাগরিক ছিলেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে, মুক্তিযুদ্ধ করে যারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মে ভুমিকা রেখেছেন আহমদ ছফা তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও মুক্তিকামী লেখকদের নিয়ে ‘লেখক শিবির’ গঠন করে পশ্চিম পাকিস্তানের আধিপত্বের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের লেখক-বুদ্ধিজীবীদের সংগঠিত করেন। ৭ মার্চ প্রকাশ করেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা ‘প্রতিরোধ’। ২৩ মার্চ, ১৯৭১ বাংলা একাডেমীতে আয়োজন করেন ‘ভবিষ্যতের বাংলা’ নামে একটি সেমিনার। এই সেমিনারে ছফার নেতৃত্বে তরুন লেখকরা দাবি করেন যে বাংলাদেশে একটি মুক্তিযুদ্ধ আসন্ন এবং এইক্ষেত্রে লেখক বুদ্ধিজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে হবে। এই সেমিনারে তৎকালিন বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য লেখক বুদ্ধিজীবীদের প্রায় সবাই উপস্থিত থাকলেও সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলার সাহস অধিকাংশেরই ছিল না। এখানে উল্লেখ্য যে এর মাত্র দুই দিন পরেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশের মানুষের উপর নৃশংসভাবে ঝাপিয়ে পড়লেও তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতৃত্বের কোন প্রস্তুতি অথবা পরিকল্পনা ছিল না একটি মুক্তিযুদ্ধ করার জন্যে। তার ফল বাংলাদেশকে ভুগতে হয়েছে, এখনো হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে আহমদ ছফা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে ‘দাবানল’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি লেখেন ‘জাগ্রত বাংলাদেশ’ যার রুপান্তর ঘটিয়ে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’। একে একে প্রকাশ করেন ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা’, ‘বাঙালি মুসলমানের মনে’র মতো সময়োপযোগী প্রবন্ধ/বই। তবে মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই আহমদ ছফা বাংলাদেশের লেখকদের অনেকের কাছে এবং খোদ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরাগভাজন হন। এর জন্যে আহমদ ছফাকে ভুগতে হয়েছে। অথচ ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ নামে বহুল ব্যবহৃত রাজনৈতিক বূলিটির দার্শনিক ব্যাখ্যা বাংলাদেশে যে হাতে গোনা কয়েকজনের লেখায় পাওয়া যায় আহমদ ছফা তাদের মধ্যে অন্যতম। এমনকি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুঝতে আহমদ ছফা পাঠের বিকল্প নাই, এই কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। বাংলাদেশের গণমানুষের জাতীয়তা ও আত্মপরিচয়ের সংকট মোকাবেলা করার ক্ষেত্রেও আহমদ ছফার বিকল্প আমাদের কাছে নাই। বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষায় যে তথাকথিত ‘বাঙালি’ ও ‘বাংলাদেশী’ জাতীয়তাবাদের প্রচার করা হয় এবং দেশের ইসলামিস্ট ও জাতীয়তাবাদী দুই পক্ষের স্বার্থেই ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক পরিচয়কে সামনে এনে যে সাম্প্রদায়িকতার চর্চা করা হয় তার মোকাবেলা করতে আহমদ ছফা’র রাষ্ট্র চিন্তা আমাদের প্রধান অবলম্বন হতে পারে। মূলত ঔপন্যাসিক হিসাবে অধিক বিখ্যাত হলেও রাষ্ট্র দার্শনিক হিসাবে আহমদ ছফা তাই দিন দিন আমাদের কাছে আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন। বাংলাদেশে বর্তমানে ধর্ম ও জাতিগত সাম্প্রদায়িক রাজনীতি যেভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত করে তুলেছে তাতে রাষ্ট্র দার্শনিক আহমদ ছফার গুরুত্ব ভবিষ্যতে আরো বাড়বে।

আহমদ ছফা যেই সময়ে জন্মগ্রহণ করেন সেই সময়ে গোটা ভারতিয় উপমহাদেশে একজাতিতত্ত্ব বনাম দ্বিজাতিতত্ত্বের লড়াই চলছে হিন্দু ও মুসলমানের সাম্প্রদায়িক বিভাজনের উপরে ভিত্তি করে। ভারত এবং পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম এই সাম্প্রদায়িক ভেদের রাজনীতির সুবাদেই। একজাতি তত্ত্বের উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ ভারতের মানচিত্র টিকিয়ে রাখা। দ্বিজাতী তত্ত্বের উদ্দেশ্য ছিল এই মানচিত্র ভেঙে পাকিস্তানের জন্ম দেয়া। বাংলাদেশের জন্মের মধ্যে দিয়ে দ্বিজাতি তত্ত্ব ভুল প্রমানিত হয়েছে এই কথা প্রায় সবাই মেনে নেবেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এবং পরে ভারত ও বাংলাদেশের বহু বুদ্ধিজীবী বাংলাদেশের জন্মকে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভ্রম সংশোধন বলে প্রচার করেছেন। কিন্তু আহমদ ছফা মনে করতেন যে বাংলাদেশের জন্ম শুধু দ্বিজাতিতত্ত্বের ভ্রম সংশোধনই নয়, একজাতি তত্ত্বের অসারতা প্রচার করাও বটে। একজাতিতত্ত্ব প্রচার করে গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ একটি জাতি। দ্বিজাতিতত্ত্ব প্রচার করে ভারতিয় উপমহাদেশে জাতি মূলত দুইটা, হিন্দু এবং মুসলমান। আহমদ ছফার মতে, বাংলাদেশের জন্মে প্রমানিত হয় ভারতীয় উপমহাদেশে জাতি একটা অথবা দুইটা না, প্রকৃতপক্ষে বহু জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষের বসবাস এই ভুখন্ডে। আহমদ ছফা বলেন নাই যে উপমহাদেশে জাতি তিনটা – হিন্দু, মুসলমান ও বাঙালি। তিনি বহু জাতির কথা বলেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রামের প্রেরণা, এই দুই বুঝতে গেলে তাই আহমদ ছফা ছাড়া আমাদের গতি নাই। অন্যথা বাঙালি জাতীয়তাবাদের সংকির্ণতা ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের সাম্প্রদায়িকতারা মধ্যেই আমাদের আটকে থাকতে হবে এবং দিনের পর দিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যেতে হবে। ধর্ম পরিচয়ের বদলে ভাষা জাতিসত্ত্বাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে বলে আহমদ ছফা বাংলাদেশক ভারত অথবা পাকিস্তানের চাইতে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত রাষ্ট্র হিসাবে দাবি করেছেন। তার মানে এই নয় যে আহমদ ছফা বাংলাদেশে বসবাসকারী অন্য ভাষাভাষিদের উপর বাঙলা ভাষা চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন। বরং তিনি আজীবন এধরণের ভাষা ও সংস্কৃতির আগ্রাসনের বিরোধিতা করেছেন। বাংলাদেশের মুসলমান জনসংখ্যা যখন মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংস ছিল, তখন আহমদ ছফা দাবি করেছিলেন মুসলমানরা ১০০ শতাংস হলেও বাংলাদেশকে একটি সেকুলার বাংলাদেশ বানাতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশ নামে যা থাকবে তা মূলত পাকিস্তান। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রবল সমর্থক হলেও তিনি বাঙালি মুসলমান ও বাঙালি হিন্দু এবং ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালিকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে চান নাই। বরং সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘বাঙালি মুসলমানে’র হাজার বছরের সংগ্রামকে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের আলোকে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন।

আহমদ ছফার একটি লেখা থেকে কিছু অংশ তুলে দিয়ে তার বাংলাদেশ ভাবনা সম্বন্ধে এই লেখাটি শেষ করছি-

“ভারত উপমহাদেশ ইউরোপের মত একটি বিশাল ভূখণ্ড। এখানে অনেকগুলো জাতিসত্তা রয়েছে। একেকটি জাতিসত্তার পরিচয় অন্যটার চাইতে আলাদা। প্রথমে মোগল শাসন তারপর ব্রিটিশ শাসনের সময়ে একটি একলগ্ন শাসিত এলাকা হিসেবে দীর্ঘকাল একসঙ্গে অবস্থান করার কারণে এই অঞ্চলে যে আধুনিক ভারতীয় রাষ্ট্রসত্তাটি বিবর্তনের মাধ্যমে বিকশিত হয়ে উঠেছে সেটাকে জাতিরাষ্ট্র বলা ঠিক হবে না, অধিরাষ্ট্র বলাই সঙ্গত। ভারতীয় ইতিহাসের মূলদ্বন্দ্ব যেটা সেটা অধিরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে জাতিসত্তাসমূহের সর্বাঙ্গীন মুক্তির মাধ্যমে জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। অবশ্যই বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের বিজয় সেই সম্ভাবনাটিকে ভারতীয় জাতিগোষ্ঠীগুলোর সামনে মূর্ত করে তুলেছে। কেউ বলতে পারে না আগামী ইতিহাসে কি পরিমাণ পালাবদল, রূপান্তর ঘটবে, কি ধরনের ভাংচুর সংঘটিত হবে। কম্পাসের কাঁটার মত ভাষাভিত্তিক জাতীয় রাষ্ট্রের দিকে যদি জাতির সকলের দৃষ্টি হেলে না থাকে তাহলে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শক্তি বাংলাদেশ অর্জন করতে পারবে না।

ওপরে যে কথাগুলো বলা হল, সেগুলো রাষ্ট্রের গন্তব্য বা ডেস্টিনির সঙ্গে সম্পর্কিত। রাষ্ট্র এবং জাতিকে অধিকাংশ সময়ে এক করে দেখা সঙ্গত নয়। রাষ্ট্রের টিকে থাকার যেমন কতগুলো চ্যালেঞ্জ থাকে [তেমন] কোন জাতির সুগঠিতভাবে বিকশিত হওয়ারও [পথেও] কতিপয় চ্যালেঞ্জ বর্তমান থাকে। আমার ধারণা বাংলাদেশি জাতির সুষ্ঠুভাবে বিকশিত হয়ে ওঠার মুখে প্রধান বাধাটি হল ধর্ম এবং সংস্কৃতির মধ্যে একটি সুষম সমন্বয়ের অভাব। বাংলাদেশি জাতি গঠনের ক্ষেত্রে যদি ধর্মচিন্তাটি মুখ্য এবং প্রবল হয়ে দাঁড়ায়, [তবে] এই অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, আদিবাসী উপজাতিসমূহ, সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান — এই সকল সম্প্রদায় জাতির মূল ধারাস্রোতের মধ্যে নিজেদের অস্তিত্ব এবং পরিচিতি সন্ধান করতে ব্যর্থ হবে। আর যদি একমাত্র সংস্কৃতির চিন্তাটিকে প্রধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে সংখ্যাগুরু মুসলমান সম্প্রদায়ের একটা বিরাট অংশ বেঁকে বসে উদ্ধত স্বাতন্ত্র্যের বশে নিজেদের আকাক্সক্ষাটি অন্য সম্প্রদায়গুলোর ওপর চাপিয়ে দিতে তৎপর হয়ে উঠবে। ধর্ম এবং সংস্কৃতির মধ্যে যথাযথ মেলবন্ধনটি যদি ঘটে যায় [তবে] জাতি সম্পর্কিত যে খণ্ডিত চিন্তাগুলো আমাদের জনগোষ্ঠীর নানা অংশে নানাভাবে ক্রিয়াশীল থাকে সেগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত সক্রিয় থাকলেও এক সময় অবসিত হতে বাধ্য।

আমার ধারণা, এই সময়ের প্রধান কর্তব্য হল আমাদের জাতির অন্তর্গত প্রতিটি ধর্ম এবং সম্প্রদায়, প্রতিটি জনগোষ্ঠীকে সকলকে স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে একটি নতুন ইতিহাস প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে তার অংশীদার করে তোলা। এই জিনিসটি সভা-সমিতিতে বক্তৃতা দিয়ে কিংবা পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখে অথবা মিষ্টিমধুর গালভরা বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়। প্রয়াস আন্তরিক এবং গভীর হতে হবে। আমাদের নিজেদের মধ্যে অনেকদূর খনন করার পর সে মানসিক স্তরটি আবিষ্কার করতে হবে যেখানে আমরা আমাদের জাতির [অন্তর্গত] অন্য সম্প্রদায়, অন্য ধর্ম, অন্য জনগোষ্ঠীর মানুষদের সঙ্গে বিনাবাধায় মিশতে পারি, মিলতে পারি। অর্থাৎ আমরা কোথায় এক, সর্বপ্রথমে প্রয়োজন সেটা আবিষ্কার করা।

বাংলাদেশের জাতি গঠনের প্রয়াসটি এই খাতে প্রবাহিত হচ্ছে সেটা বোধ করি বলা সম্ভব নয়। কতগুলো বিব্রতকর প্রশ্ন কণ্টকের মত বাংলাদেশের সব মানুষ মিলে এক হওয়ার পথে অন্তরায় হিসেবে থেকে যাচ্ছে। অধিক বাক্যবিস্তার না করে আমি সরাসরি বলতে চাই, বাংলাদেশের মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকেরা বাঙ্গালি না মুসলমান, [এই প্রশ্নের দুই পক্ষের মধ্যে] আমি তো কোন বিরোধ দেখি না। এই ব্যবধানটা মনগড়া, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। বাংলাদেশি পরিচয় যেমন আমাদের বাঙ্গালিত্বের পরিচয় খারিজ করে না। তেমনি আবার বাংলাদেশি পরিচয় অস্বীকার করেও বাঙ্গালিত্ব দাঁড়াতে পারে না। এগুলো একটা আরেকটার পরিপূরক বিষয়। দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হল এই গৌণ দিকসমূহকে মুখ্য করে দেখানো হচ্ছে। আমাদের জ্ঞানীগুণী মানুষের বিরাট অংশ ঐক্যের পথ সন্ধান করার বদলে বিভেদের পথই সন্ধান করছেন। বিভেদের চিন্তা থেকে বিভেদই জন্ম নিতে বাধ্য।

যে শ্রেণীগুলো বাংলাদেশ শাসন করছে এবং ভবিষ্যতে শাসন করার সংকল্প ঘোষণা করছে তাদের চিন্তাভাবনার মধ্যে ঐক্যের কোন সূত্র খুঁজে পাওয়া যাবে সেটা অনেকটা দুরাশার শামিল। তারা গোটা জাতির ওপর নিজেদের ভার চাপিয়ে দিয়েছে। জাতির আত্মত্যাগ এবং স্বার্থত্যাগের ফসল আত্মসাৎ করে তারা নিজেদের আসন পাকাপোক্ত করেছে। জাতির অধিকাংশ মানুষ অসহায় মাসুম বাচ্চার মত ঘুরে বেড়াচ্ছে। আরো একটি জাগরণ প্রয়োজন, প্রয়োজন আরো একটি যুদ্ধের যার মাধ্যমে গোটা জাতিকে তার আসল কক্ষপথটিতে স্থাপন করা সম্ভব হবে”। – (বাংলাদেশ, রাষ্ট্র্রের চ্যালেঞ্জ এবং গন্তব্য — আহমদ ছফা, ১৯৯৮)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১২ thoughts on “আহমদ ছফার বাংলাদেশ

  1. … অথচ ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’
    … অথচ ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ নামে বহুল ব্যবহৃত রাজনৈতিক বূলিটির দার্শনিক ব্যাখ্যা বাংলাদেশে যে হাতে গোনা কয়েকজনের লেখায় পাওয়া যায় আহমদ ছফা তাদের মধ্যে অন্যতম। এমনকি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুঝতে আহমদ ছফা পাঠের বিকল্প নাই, এই কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

    ধন্যবাদ পারভেজ ভাই লেখাটার জন্য ।

  2. যতটুকু জানি আহমেদ ছফা একজন
    যতটুকু জানি আহমেদ ছফা একজন নাস্তিক ছিলেন। নাস্তিকদের দর্শন নিয়ে এত মাতামাতি করা ঠিক না। এই দেশ ইসলামের পুণ্যভুমি। এখানে নাস্তিকদের কোন দর্শন প্রচার করা ঠিক হবেনা।

  3. আহমদ ছফা একটা জিনিস ছিলো!
    আহমদ ছফা একটা জিনিস ছিলো! অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ে এসে জ্বালাতন করতো অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাককে। একই পেইন্টিং/বই.. ইত্যাদি উনার কাছে কয়েকবার করে জোর করে বিক্রি করতেন বলে শুনেছি। হুমায়ুন আহমেদকে লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেনও এই আহমদ ছফা।

  4. এই প্রজন্মের কাছে আহমেদ ছফা’র
    এই প্রজন্মের কাছে আহমেদ ছফা’র লেখা বেশী বেশী প্রচার হওয়া দরকার। আপনার লেখাটা সেই কাজে ভালো ভূমিকা রাখবে। শুধু জন্মদিন বা মৃত্যুদিন না অন্য সময়েও আরও লেখালেখি দরকার। ধন্যবাদ পারভেজ ভাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

81 − = 77