আবেগ রাজনীতির পরিবর্তনের কোনো নিয়ামক হতে পারে না

বাংলাদেশের সংঘাতময় রাজনীতির ইতিহাস অনেক পুরনো। অতীতেও ছিল এখনও আছে। সামনে সংঘাত আরও বাড়বে। গত দুই দশক ধরে এই সংঘতের চিত্র বেশ প্রত্যক্ষ করা গেছে। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এখন শুধু গণতন্ত্র নয়, অতিসম্প্রতি ধর্ম, সাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা প্রশ্নগুলো এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ কারণেই বর্তমান রাজনীতি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতি আমাদের সকলের জন্যই খুব উদ্বেগজনক।

এই পরিস্থিতিতে সরকারের দৃঢ় নেতৃত্বমূলক মনোভাব প্রয়োজন। এর জন্য প্রথমত সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে, কোনো ধরনের বেআইনি কাজ এবং উচ্ছৃঙ্খলতা যেন না ঘটে। অন্যদিকে সরকারকে মনে রাখতে হবে, গণতান্ত্রিক যে কাঠামো আছে তার যেন কোনো ক্ষতি সাধিত না হয়। মানবাধিকার, আইনের শাসনের মতো বিষয়গুগুলো সুস্পষ্টতা নিশ্চিত করতে হবে।
এই অবস্থায় সরকারের উচিত হবে সকল সিদ্ধান্ত একা গ্রহণ না করা। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা এবং তাদের সঙ্গে নিয়েই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যা সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

রাজনৈতিকভাবে সমাধানের কথা অনেকেই বার বার বলে আসছেন। সরকার বা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো তাগিদ নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার রাজনৈতিক সমঝোতায় আসবে কি আসবে না সেটা তার ব্যাপার।এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার দায়িত্বও সরকারের। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে কী করলে ভালো হবে সে ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া। সরকার শুনবে কি শুনবে না সেটা তাদের এখতিয়ার।

অনেকেই অনেক ষড়যন্ত্রের কথা বলবেন। আমরাও দেখছি, যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে। ধর্মীয় ইস্যুটি এখন গুরুত্ব পাচ্ছে এই বিচার কাজকে নতুন করে বিতর্কিত করার জন্য। আমরা মনে করি, যুদ্ধাপরাধের বিচার হওয়া জরুরি। এই দাবি জনগণের। আওয়ামী লীগ বিচারের ওয়াদা করে ক্ষমতায় এসেছে। সুতরাং যুদ্ধাপরাধের বিচার করা আওয়ামী লীগের নৈতিক দায়িত্ব। সরকার প্রথম থেকেই বলে আসছে বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে। সুতরাং এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ করার চেষ্টা চলবেই। সরকারের দায়িত্ব হবে সব রকমের সমালোচনা এবং চাপের ঊর্ধ্বে থেকে বিচারের স্বচ্ছতা বজায় রাখা। সরকার অনেক ক্ষেত্রেই সনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

তার ফলশ্রুতিতেই আন্দোলন। বাংলাদেশে বা পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় এরকম আন্দোলন হয়েছে সেখানে বিপ্লবী এবং অতিবিপ্লবীর চেতনা প্রকাশ পেয়েছে। আপনি যদি ফরাসিদের ইতিহাস পর্যালোচনা করেন তাহলে দেখতে পাবেন, ১৭৮৯, ১৮১৯ এবং ১৮৪৮ সালে বিপ্লব হয়েছে। আঠার শতকের সত্তরের দশকে এবং ঊনিশ শতকের ষাটের দশকেও বিপ্লব হয়েছে। এই বিপ্লবগুলো চেতনার মধ্য দিয়েই হয়েছে। শাহবাগ আন্দোলন তরুণদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পাশাপাশি আবেগও রয়েছে। এখানে আবেগটা একটু বেশিই বলে মনে হচ্ছে। চেতনা জিইয়ে না রেখে শুধু আবেগ দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয়নি।

এই আন্দোলন বিচারকার্যে প্রভাব ফেলছে কিনা এটার গুরুত্ব আমি দেই না। তবু আমি সামগ্রিক বিবেচনায় বলছি, কোনো ধরনের চাপের কারণে যদি বিচার কার্য তার নিরপেক্ষতা হারায় তাহলে বিচার বিভাগ দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিচার বিভাগ তার নিজস্ব দায়িত্ব পালন করবে। আইনের বাইরে কোনো ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিচার কার্য পরিচালনা করা ঠিক নয়।

আমি মনে করি, তরুণরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে মাঠে নেমেছে। কিন্তু আবেগ রাজনীতির পরিবর্তনের কোনো নিয়ামক হতে পারে না। আবেগ কোনো সঠিক সমাধানও দিতে পারে না। তরুণদের এই আন্দোলন কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে কিনা এমন ভবিষ্যদ্বাণী আমি করতে চাই না। যারা এই আন্দোলন করছেন তাদের আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনিও না। আন্দোলন নিয়ে এর বাইরে এর চেয়ে বেশি কিছু ভাবাও তাই আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

তরুণদের এই আন্দোলনের বিপরীতে বেশ শক্তভাবেই ধর্মীয় দলগুলো মাঠে নেমেছে। এটা স্বাভাবিক। বৈপ্লবিক চেতনা এবং এর বিপরীত স্রোতের সঙ্গে নিরন্তর সংঘর্ষ একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়েছে সেখানেই এমন প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশে যেহেতু অনেক আগে থেকেই সংঘাতের রাজনীতি চলে এসেছে এবং এই বিচার অনেক পরে শুরু হয়েছে সুতরাং এই ইস্যুতে সঙ্কট সৃষ্টি হবে এটি স্বাভাবিকই বটে।

সব মিলিয়ে এখন আমরা এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছি। যত দিন যাচ্ছে উদ্বেগ তত বাড়ছে। রাজনৈতিকভাবেই সঙ্কট বাড়ানো হচ্ছে। আমি মনে করি, রাষ্ট্রের সমৃদ্ধি এবং উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র অপরিহার্য। এই ধরনের সংঘাতের জন্য গণতন্ত্রের যাত্রা যদি ব্যাহত হয় তাহলে সঙ্কট দীর্ঘায়িত হবে।

উত্তরণের কথা আমরা বার বার বলেছি। হাজার বার বলেছি। সমঝোতা ছাড়া কোনো উপায় নেই। প্রধান দুই দল ইচ্ছা করলে যে কোনো সময় যে কোনোভাবে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। তারা যদি ইচ্ছা না করে তাহলে আমরা যতই বলি সমস্যা সমাধান হবে না। সব কিছুই দুই দলের ওপর নির্ভর করছে।

এমন পরিস্থিতিতে অন্য কোনো শক্তি বা বলয় সামনে চলে আসবে কিনা তা আমি এই মুহূর্তে বলতে পারব না। অপেক্ষা করতে হবে। পরিস্থিতি এবং সময়ই বলে দেবে। তবে আমাদের উচিত সতর্ক থাকা। মানুষের উচিত গণতন্ত্র যেন ধুলিষ্মাত না হয় সেই দিকটা আগে দেখা।

————————————————————————

লেখকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ

ডঃ আকবর আলি খান বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ এবং শিক্ষাবিদ। ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের অধীনে কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৯৬৪ সালে কৃতিত্বের সাথে প্রথম স্থান নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্স এবং ‘৬৫ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তিনি হবিগঞ্জের সাব ডিভিশনাল অফিসার পদে নিয়োজিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি যুদ্ধে অংশ নেন এবং মুজিবনগর সরকারের অধীনে কর্মরত ছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ সরকারের অধীনে চাকরীতে যোগদান করেন এবং প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি হিসেবে অবসর গ্রহন করেন। ২০০৬ সালে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। তাঁর রচিত পুস্তকের মধ্যে “History of Bangladesh” এবং “পরার্থপরতার অর্থনীতি” উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে তিনি ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁরই স্থাপিত “Center for Government studies” বিভাগে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কর্মরত আছেন।

অনুলিখনঃ সায়েম সাবু

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “আবেগ রাজনীতির পরিবর্তনের কোনো নিয়ামক হতে পারে না

  1. এই পরিস্থিতিতে সরকারের দৃঢ়

    এই পরিস্থিতিতে সরকারের দৃঢ় নেতৃত্বমূলক মনোভাব প্রয়োজন। এর জন্য প্রথমত সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে, কোনো ধরনের বেআইনি কাজ এবং উচ্ছৃঙ্খলতা যেন না ঘটে। অন্যদিকে সরকারকে মনে রাখতে হবে, গণতান্ত্রিক যে কাঠামো আছে তার যেন কোনো ক্ষতি সাধিত না হয়। মানবাধিকার, আইনের শাসনের মতো বিষয়গুগুলো সুস্পষ্টতা নিশ্চিত করতে হবে।
    এই অবস্থায় সরকারের উচিত হবে সকল সিদ্ধান্ত একা গ্রহণ না করা। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা এবং তাদের সঙ্গে নিয়েই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যা সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

    রাজনৈতিকভাবে সমাধানের কথা অনেকেই বার বার বলে আসছেন। সরকার বা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো তাগিদ নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার রাজনৈতিক সমঝোতায় আসবে কি আসবে না সেটা তার ব্যাপার।এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার দায়িত্বও সরকারের। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে কী করলে ভালো হবে সে ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া। সরকার শুনবে কি শুনবে না সেটা তাদের এখতিয়ার।

    সেই উদ্যোগ সরকারের মধ্যে আদৌ কি আছে? তবে বিরোধী দল বলতে আপনি যাদের বুঝিয়েছেন, তাদের মিশন এখন আর গণমুখী না। তাহলে সরকার কাদের সাথে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আলোচনা করবে? তথাকথিত বিরোধী দল বিএনপি’র আলোচনার বিষয় এখন একটাই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে সব যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। এই বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসা কি সম্ভব? গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় দেশের সংকটময় মহুর্তগুলোতে সরকারের উচিত সকল দলের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। বিএনপি ও জামায়াত এখন একই জিনিস। এদের সাথে বসে কি আদৌ কোন লাভ হবে? যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বনকারী দলগুলোকে বাদ দিয়ে এরশাদের জাতীয় পার্টিসহ সকল ছোট বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সরকারের এই মহুর্তেই আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসা উচিত। পাশাপাশি দেশের বুদ্ধিজীবি, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠন, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়িক সংগঠন এবং দেশের সবগুলো চেম্বার হাউজের সাথে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংকট নিয়ে আলোচনা করা উচিত। পাশাপাশি বর্তমানের রাজনৈতিক সংকট নিয়ে বর্হিবিশ্বের সাথে কুটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো উচিত। প্রয়োজনে এই মহুর্তে দেশের কুটনীতি ও পররাষ্ট্র বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশিষ্টজনদের নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রালয়ের অধীনে একটা বিশেষ কুটনৈতিক শেল তৈরী করে বিশ্বের প্রভাবশালী ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সাথে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপট নিয়ে কাজ করা সরকারের জন্য এই মহুর্তে অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জামায়াত-বিএনপি’র প্রোপাগান্ডার জবাব দিতে হবে কুটনৈতিকভাবে। আশাকরি সরকার এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিবেন।

  2. দেশের প্রধান বিরোধী দল আজ
    দেশের প্রধান বিরোধী দল আজ বিলুপ্ত হয়ে একটি জঙ্গি দলের অঙ্গসংগঠনে পরিণত হয়েছে। বিএনপির নেতাদের কথাবার্তা সেরকমই শোনায়। বিএনপির সবচে বড় ব্যর্থতা দেশের তরুন সমাজের ভাষা বুঝতে তারা অক্ষম কিংবা স্বার্থের কারনে বুঝেও না বুঝার ভান করছে। এটা যে তাদের জন্য আত্মঘাতী সেটা বুঝতেই চাইছে না। সবসময় দেখলাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের রাজনীতি করে। এবার দেখলাম বিএনপি ভোটের রাজনীতিও বোঝে না।

    সরকারও দেখছি শাহবাগের তরুণদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে ভালোই শিকার চালিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। অচিরেই সরকারকে জামাত-শিবিরকে নিষিদ্ধের ব্যাপারে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে দেখাতে হবে। বিরোধী দলকে জোর জবরদস্তি নয়, বরং কৌশলে কাবু করতে না পারলে সংঘাত বেড়েই যাবে। দেশ আজ ক্রান্তিকাল পার করছে। এসময় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দেশের স্বার্থের কথা চিন্তা করে কথা বলতে হবে ও কাজ করতে হবে।

  3. আকবর আলি খানকে আমি বলি
    আকবর আলি খানকে আমি বলি রাষ্ট্ররক্ষী। তার আলাপ আলোচনায় মানুষের সুযোগ সুবিধার চেয়েও রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখার বিষয়টা বেশি গুরুত্ব পায়। তিনি চান আমেরিকার মতো একটা দেশ, যেখানে শাসকদের কামড়াকামড়ি থাকবে কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশ্নে দলগুলো থাকবে একমত।
    এই লেখাতেও তিনি একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। বিএনপি-জামাত-লীগের ঐক্য চেয়েছেন।

    1. বিএনপি-জামায়াত-লীগের ঐক্যের
      বিএনপি-জামায়াত-লীগের ঐক্যের বিনিময়ে আমরা কোন ধরণের রাষ্ট্র পাব? আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের মত রাষ্ট্র? এই রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা কি আছে? ঐ রকম অকার্যকর রাষ্ট্রে আকবর আলী খানদের মত মানুষের প্রয়োজন আছে। আমাদের জন্য ঐ ধরনের রাষ্ট্র দোজখের সমতুল্য।

  4. নীতির অর্থে আপোষ কেন। প্রধান
    নীতির অর্থে আপোষ কেন। প্রধান দুই দল কোন ইস্যুতে আজ পর্যন্ত এক হতে পারেনি। এক হলে যে ক্ষমতার রাজনীতিতে “মসনদ ” ছাড়া হয়ে যাবার পরোক্ষ ভয় থাকে ! দুই দলের জনগনের স্বার্থের অর্থে সমঝোতা আর উলোবনে মুক্ত ছড়ানো একই কথা। প্রয়োজনে তৃতীয় শক্তি বা বিকল্প শক্তির আবির্ভাব হোক। স্বৈরাচার বা দেশবিরোধী কোন শক্তি জনগনের শক্তির সামনে দাঁড়াতে সাহস করে না বেশিদিন। চড়াই উতড়াই গনতন্ত্রের অন্যতম শর্ত। ত্যাগ করার ইতিহাস চিরকাল জনগণের। গন মানুষ ই বারবার ত্যাগ স্বীকার করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। সব প্রজন্মই তাই করে থাকে। এটা যেমন দায়িত্ব তেমনি দায়বোধের বিষয়

  5. ডক্টর খান, প্রথমেই আপনাকে
    ডক্টর খান, প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি তরুন প্রজন্মের কাছে রিচ আউট করার এই সিনসিয়ার প্রচেষ্টার জন্য। যে কোন বিবেকবান বুদ্ধিমান মানুষই আজকের পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন না হয় পারবেন না।

    আমি আপনার সাথে একমত যে, সংঘাত, পোলারাইজেশন, পারস্পরিক অবিশ্বাস ঘৃনা আর নাস্তিক রাজাকারের উইচ হান্টিং যে পর্য্যায়ে গেছে, তাতে পুরো সমোঝতা না হোক, অন্তত ব্রিঙ্ক থেকে পূল ব্যাক করে মাথা ঠান্ডা করে ভাববার সুযোগ না পেলে আমরা এক মারাত্মক রক্তাত গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হব।

    তবে আমি আপনার “প্রধান দুই দল ইচ্ছা করলে যে কোনো সময় যে কোনোভাবে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।“ এই মতের সাথে একমত হতে পারছি না।

    প্রথমত, বাংলাদেশের রাজনিতিতে প্রধান দুই দল বলে কিছু নেই, আছে শুধু দুই প্রধান নেত্রি। তাদের মুখ্য চিন্তায় ফোকাসে আছে শুধু অন্য নেত্রি, দেশ আর দেশের ভবিষ্যত কখোনোই মুখ্য নয়। আপনি তরুনদের আবেগ নির্ভরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন, কিন্তু আমদের নেত্রিরা তো সম্পূর্ন স্থুল ব্যাক্তিগত আক্রোশ আর আবেগ নির্ভরতায়ই গত ২০ বছর ধরে দেশের রাজনিতির গতি প্রকৃতি নির্ধারন করছে। তরুনদের আবেগের সাথে অন্তত কিছু মুল্যবোধ কিছু আদর্শবাদিতা আছে, কিছু পজিটিভ আছে। নেত্রিদের আবেগে তো শুধু ব্যাক্তিগত আক্রোশ পারস্পরিক অবিশ্বাস ঘৃনা। তাদের বন্দুক থেকে গুলি বেড়িয়ে গেছে, তারা যেই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন পারস্পরিক অবিশ্বাসে আক্রোশে আর ঘৃনায়, তার উপর তাদের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে যাচ্ছে, বা গেছে। একজন মৃত্যুপন করে আছেন ক্ষমতা ধরে রাখতেই হবে, আরেকজন মৃত্যুপন করে আছেন এবার ক্ষমতা পেতেই হবে। তাদেরকে এই পোলারাইসড পরিস্থিতিতে একত্রে বসিয়ে সমাধান বের করার আশা না করাই ভাল, তারাতো ওই এক ইস্যু নিয়ে বসবেন না, দরাদরিতে ক্ষমতা আর তাদের ইগোই মুখ্য হয়ে উঠবে আবার।

    দ্বিত্বিয়ত, যেকোনোভাবে নয় ছয় করে এই জটিল ইমোশোনালি চার্জ হয়ে যাওয়া সমস্যার সমাধান করা এখন আর বোধহয় সম্ভব হবে না। এর স্থায়ি এবং সর্বজনগ্রাহ্য সমধান বের করতে হবে রাজনিতিক আর রাষ্ট্রনায়োকিচিত প্রজ্ঞার সাথে। তা না হলে তা তুষের আগুনের মত জ্বলতেই থাকবে, সামান্য প্রভোকেশনে আবার বিস্ফোরিত হওয়ার অপেক্ষায়।

    দুই দল যদি পরিস্থিতির চাপে দুই নেত্রিকে অবসরে পাঠিয়ে সত্যিকারের গন্তান্ত্রিক দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে তবে হয়তো সমাধান পাওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হবে এবং সময় পাওয়া যাবে।

    আরেকটা সম্ভবনা, সারাদেশে পরিস্থিতি আরো বেশি সহিংস হয়ে উঠলে, শিবগঞ্জ কনসাট এর মত দেয়ালে পিঠ ঠেকে সাধারন মানুষ নিজেরাই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রন নিয়ে রাজনিতিক দলগুলিকে কাঠগড়ায় দ্বার করিয়ে দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাবে বিভিন্ন এলাকার সমাধান আঞ্চলিক জনমতের ভিত্তিতে বিভিন্ন হওয়ার সম্ভবনাই বেশি।

    আর আমাদের ট্রাডিশনাল তৃতিয় শক্তি চলে আসলে গনতন্ত্রের চেয়েও বেশি হুমকিতে পড়তে পারে রাষ্ট্রের অখন্ডতা। এই পোলারাইসড পরিস্থিতিতে তারাও যদি বিভক্ত হয়ে পড়েন তবে সহিংস সংঘর্ষের মাত্রা কোথায় যেতে পারে চিন্তা করতে পারেন?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

64 − 63 =