খিলাফত, উম্মাহ ও মুসলিম দুনিয়ার রাজনৈতিক ক্ষমতা

বাংলাদেশের মানুষ যখন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা যুদ্ধ নিয়া ব্যস্ত, সেই সময়ে ইরাক ও সিরিয়ার বিরাট অংশ জুরে একটি খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলো। Islamic state of Iraq and lavent অথবা ISIL/ISIS নামে পরিচিত একটি সুন্নি ইসলামিস্ট জঙ্গি সংগঠন (বর্তমানে Islamic state) ইরাক ও সিরিয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলিতে খেলাফত এবং তাদের নেতা আবু বকর আল বাগদাদীকে মুসলিম উম্মাহর খলিফা ঘোষনা করেছে। এই খেলাফতকে এখন পর্যন্ত কোন ইসলামী দেশ অথবা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র স্বিকার করে নাই, অচিরেই করবে সেই সম্ভাবনাও নাই। কিন্তু আপাতত এই ‘ইসলামিক স্টেট’ একটি বাস্তবতা। একে নিশ্চিহ্ন করা দূরে থাকুক, এর বিস্তার রোধ করতেও এর শত্রুরা ব্যর্থ হচ্ছে। ইরাক সরকার, সিরিয়া সরকারের পাশাপাশি এই দুই দেশের বহু জঙ্গি সংগঠনের সাথেই তাদের শত্রুতা। যে আল কায়েদের প্রতি তারা কয়েক মাস আগেও অনুগত ছিল সেই আল কায়েদা এখন তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দী। সিরিয়ায় হিজবুল্লাহর সাথে লড়াই করে তারা এতোদুর এসেছে। ইরাকের মাটিতে শিয়াদের রক্ষায় ইরান এখন সবচেয়ে অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে। এমনকি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এক কাতারে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটির বিস্তার রোধ করে শিয়া প্রভাবিত ইরাকী সরকারকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যে। এতো শত্রু পরিবেষ্টিত হয়ে এই খেলাফতটি খুব বেশিদিন টিকবে বলে মনে হয় না। তবে এখানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিতর্কের ঊর্ধে নয়। পশ্চিম দুনিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ আইসিসের উত্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভুমিকার অভিযোগ এনেছে। দুনিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে একিসাথে সাঁপ এবং ওঝার ভুমিকায় অবতির্ণ হওয়ার ইতিহাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নয়। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রনের মাঝে আইসিস বড় হয়ে উঠেছে, সাধারণ জঙ্গী থেকে পুরোদোস্তুর একটি অত্যাধুনিক সেনাবাহিনীতে পরিণত হয়েছে। এই সংগঠনের অধিকাংশ যোদ্ধার হাতের অস্ত্র থেকে শুরু করে গায়ের ইউনিফর্ম সবকিছুই অত্যাধুনিক এবং মার্কিনি। অবশ্য এইসব কিছু তারা যুদ্ধের মাধ্যমে দখল করেছে বলে প্রচারিত হয়। পাশাপাশি এই মুহুর্তে আইসিস দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী জিহাদী সংগঠন, যাদের মোট সম্পত্তির পরিমাণ দুই বিলিয়ন ডলার। এই টাকায় গোটা মুসলিম জাহানকে এক খেলাফতের অধিনে আনা যাবে না সত্য, কিন্তু বিপুল পরিমান অস্ত্র, মুজাহিদ ও জিহাদ খরিদ করা যাবে তাতে কোন সন্দেহ নাই।

মুসলিম উম্মাহ ও খেলাফতের ধারণা নিয়ে সারা দুনিয়ার মুসলমানের মাঝে এক ধরণের রোমান্টিসিজম আছে। বাংলাদেশের মুসলমানদের মধ্যেও আছে। এই মুহুর্তে ফুটবল বিশ্বকাপ জ্বরে না ভুগলে হয়তো অনেক বাঙালি মুসলমান এই সদ্য নতুন খেলাফত জ্বরে আক্রান্ত হতেন। ইতিহাসে একক কোন মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন। অথচ অধিকাংশ সাধারণ মুসলমানই মুসলিম আত্মপরিচয় ও মুসলিম ভাতৃত্বের টানে এক ধরণের ঐক্য অনুভব করেন। কিন্তু বাস্তবে সারা দুনিয়ার মুসলমানদের মধ্যে কোন রাজনৈতিক ঐক্য নাই। তারা বহু ভাষা ও জাতিতে যেমন বিভক্ত, তেমনি ইসলাম সম্পর্কেও সবার মতামত এক নয়। শিয়া এবং সুন্নি এই প্রধান দুই ভাগ ছাড়াও নানারকম মজহাব ও মতাদর্শের সম্প্রদায়ে বিভক্ত। এইসব বিভেদের মাঝে গোটা দুনিয়ার মুসলমানদের মধ্যে নূন্যতম কোন রাজনৈতিক ঐক্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের আলোচ্চ খেলাফতের কারিগর আইসিস একটি সুন্নি সংগঠন। শিয়াদেরকে তারা প্রধান শত্রু গণ্য করে। ইরাক থেকে শিয়া বিতারণ ও শিয়া নিধন তাদের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য। মুসলিম উম্মাহ বলতে তারা যা বোঝে তার মধ্যে শিয়া মুসলমানদের স্থান নাই। তবে তাদের মুসলিম উম্মাহ শুধুমাত্র সুন্নি মুসলমানের উম্মাহ তা বলারও উপায় নাই। আইসিসের মতাদর্শ কট্টর সালাফি জিহাদী মতাদর্শ। মুসলিম জাহানে সবচেয়ে কট্টর অক্ষরবাদী, প্রতিক্রিয়াশীল এবং আধুনিকতা বিরোধী আন্দোলন হচ্ছে সালাফি আন্দোলন। বাংলাদশের মডারেট মুসলমান এবং যারা ফেসবুকে নিজেদের প্রোফাইলে সুন্নি ইসলাম ধর্ম পরিচয় দেন তাদেরকে সালাফিরা মুসলমান বলে মানবেন বলে মনে হয় না। সালাফিদের ভাষায় তারা বহুবিধ বিদআতে উপনিত হয়ে ইসলামের ধারে কাছেও আর নাই। তবে সালাফি জিহাদীরা আরেক কাঠি সরেস। তারা খোদ সালাফিদেরকেই এখন আর সালাফি মনে করেন না। জিহাদী সালাফিরা জিহাদ থেকে দূরে থাকা সংখ্যাগরিষ্ট সালাফিদেরকে বর্তমানে ‘শেখের দালাল’ জাতীয় উপাধি দিয়েছে আরবের তেলের খনির মালিখ শেখদের অনুগত থাকার অভিযোগ এনে। এই সুন্নি জিহাদী সালাফিরা একটি একক মুসলিম উম্মাহ তৈড়ি করতে পারবে যদি দুনিয়ার সকল মুসলমান সুন্নি, সালাফি এবং জিহাদী হয়ে যায় তাহলে। তার আগে নয়।

দুনিয়ায় সর্বশেষ খেলাফত ছিল তুর্কি ওসমানি(Ottoman) সাম্রাজ্য। ওসমানি খেলাফতের পতন হয়েছে প্রায় একশ বছর হয়ে গেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পক্ষে থাকায় ব্রিটেন ও ফ্রান্সের হাতে তারা মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের বিশাল সাম্রাজ্য হাড়ায়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর উপর নিয়ন্ত্রনের অভাব, দেশগুলোর আমিরদের বিদ্রোহ ওসমানি সাম্রাজ্যের পতনের কারন। আর খেলাফতের সমাপ্তি হয় খোদ তুর্কিদের হাতে, কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় আধুনিক রিপাবলিক অব তুর্কি। ১৫ শতকে মুসলিম দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠার সুবাদে ওসমানি সুলতানরা এই খলিফার টাইটেল গ্রহন করেছিল। সর্বশেষ আব্বাসিয় খলিফাকে তারা মিশর থেকে আটক করে কনস্টান্টিনোপলে নিয়ে গিয়েছিল। তার আগের আড়াইশ বছর আব্বাসিয় খলিফারা মিশরের মামলুক সুলতানদের আশ্রিত ছিলেন। তারও আগে আব্বাসিয় রাজবংশ বাগদাদ থেকে প্রায় তিনশ বছর সমগ্র মুসলিম উম্মাহর নেতা হিসাবে শাসন করেছে। অবশ্য ৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের পর আব্বাসিয়দের রাজনৈতিক ক্ষমতা সিমিত হয়ে গিয়েছিল। আব্বাসিয় রাজবংশ নামে মাত্র মুসলিম উম্মাহর নেতা ছিল, রাজনৈতিক ক্ষমতা সাচুক (Seljuk) তুর্কিশ এবং মামলুকদের হাতে চলে যায়। তবে আব্বাসিয় খেলাফতের অধিন দুনিয়াকেই গোটা মুসলিম উম্মাহ বলার উপায় নাই। আব্বাসিয় খেলাফতের দুর্বলতার সময়ে পৃথিবীতে একিসাথে দুইটি এমনকি তিনটি খেলাফতের উপস্থিতিও ছিল। মিশর এবং উত্তর আফ্রিকায় প্রতিষ্ঠিত হয় শিয়া ফাতিমি খেলাফত। ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ)এর কন্যা ফাতিমার বংশধরদের হাতে এই খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে এই নাম। স্পেনে উমাইয়া রাজবংশের বংশধরদের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় কর্ডোবার খেলাফত। আব্বাসিয়দের হাতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে প্রথম রাজবংশ হিশাবে খলিফা টাইটেলের দাবিদার ছিল উমাইয়ারা। উমাইয়ারা ছিলেন আবু সুফিয়ানের বংশধর। আবু সুফিয়ানের পুত্র মুয়াবিয়ার হাতে এই খেলাফতের পত্তন ঘটে। মুহাম্মদের ভাতিজা ও মেয়ের জামাই আলীর পতন এবং মুয়াবিয়ার উত্থানের রাজনৈতিক ঘটনাবলির মধ্যেই শিয়া বনাম সুন্নি সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক বিভাজন এবং বিরোধিতার সূত্রপাত ঘটেছিল।

শিয়া সম্প্রদায়ের দাবি, এই বিভাজনের সুত্রপাত আরো আগেই ঘটেছে। তাদের দাবি অনুসারে মুসলিম উম্মাহর নেতা হতে হলে মুহাম্মদের বংশধর এবং আল্লাহর নির্বাচিত হতে হবে। তাদের হিসাবে আলীই প্রথম বৈধ খলিফা, আগের তিনজন জোর জবরদস্তি ক্ষমতার দখলদার। পরবর্তি যুগে বিভিন্ন রাজবংশের খলিফাদের বদলে মুহাম্মদের বংশধরদের মধ্য থেকেই তারা মুসলিম উম্মাহর নেতা বেছে নিয়েছে। ইসলাম প্রতিষ্ঠার সময়ে মদিনা বনাম মক্কার মধ্যে যখন ক্ষমতার লড়াই হয়েছে তখন মুহাম্মদের প্রধান শত্রু ছিলেন আবু সুফিয়ান। মুহাম্মদ ও সুফিয়ান পরিবার এইসময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। মক্কা বিজয়ের পর সুফিয়ান পরিবার ইসলাম গ্রহণ করে। পরবর্তিতে সুফিয়ান পুত্র মুয়াবিয়ার সাথে আলীর যুদ্ধ হয় এবং মুহাম্মদের নাতি হাসান ও হুসাইন খলিফার দাবিদার ছিলেন এবং মুয়াবিয়ার সাথে রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। মুহাম্মদের নাতনি জয়নব এসময় মুসলমানদের মাঝে উমাইয়া শাসনের বিরুদ্ধে এবং আলী-ফাতিমা পরিবারের প্রতি সহানুভুতি জাগিয়ে তুলতে প্রচার প্রচারণা চালাতে থাকেন। মূলত জয়নবের আবেগী বক্তৃতার সুবাদেই মুসলিম দুনিয়ায় শিয়া সহানুভুতিশিলদের উত্থান ঘটে। আইসিসের আক্রমনের মুখে আজকে যখন ইরাকের শিয়া ইসলামিস্টরা ‘জয়নবের ডাকে সারা দাও’ বলে স্লোগান দেয় তখন তার ঐতিহাসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বাংলাদেশে বসে সহজে বুঝা যাবে না।

উমাইয়া, আব্বাসিয়, ফাতেমিয় এবং ওসমানীদের বাইরেও দুনিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অনেক ব্যক্তি, রাজবংশ এবং গোষ্ঠি খেলাফতের দাবিদার ছিলেন। মধ্যযুগীয় বাঙলা দেশের সুলতান জলালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ ‘খলিফতুল আল্লাহ’ তথা আল্লাহর খলিফা টাইটেল গ্রহণ করেন। তিনি হিন্দু রাজা গনেশের সন্তান ছিলেন। জৈনপুরের সুলতান ইব্রাহিম শর্কির হামলার মুখে এবং মুসলমান পৌরহিত্যের রাজনৈতিক চাপে পরে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং ক্ষমতায় আরোহণ করেন। পরবর্তিতে সত্য সত্যই ইসলাম ধর্মের প্রেমে পড়েন এবং একজন যোগ্য নৃপতি হিসাবে বাঙলা শাসন করেন। ইব্রাহিম শর্কির উপর নিজের রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে তিনি ‘আল্লাহর খলিফা’ টাইটেল ব্যাবহার করতেন। ইব্রহিম শর্কির টাইটেল ছিল ‘খলিফার সহায়ক’। ইরাক ও সিরিয়ায় আইসিসের খেলাফতের দাবিও এই ধরণের ভু রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার একটি রাজনৈতিক উসিলার বেশি কিছু বলে মনে হয় না। আইসিস কিছুদিন আগেও আল কায়েদার অনুগত ছিল, কয়েক বছর আগে ইরাকের আল কায়েদা নামেই তাদের পরিচিতি ছিল। এখন সেই দিন নাই। আল কায়েদার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য দুনিয়ায় খেলাফতের পুনপ্রতিষ্ঠা করা। আইসিস খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবি করে শুধু আল কায়েদার অধিনতা থেকে নিজেদের মুক্তই করে নাই, বরং আল কায়েদার উপর নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্ব দাবি করছে। আল কায়েদা তাদের মানুক না মানুক, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জিহাদী গ্রুপ তাদের দাবির প্রতি আনুগত্য জানাবে এইটুকুই আপাতত তাদের রাজনৈতিক উচ্চাশা বলে মনে হয়। তবে মার্কিন মদদ পেলে এবং মার্কিন পলিসি বাস্তবায়নের হাতিয়ার হয়ে উঠলে তাদের রাজনৈতিক উচ্চাশা কতোদূর বৃদ্ধি পেতে পারে তা বলা কঠিন। তাতে মুসলিম উম্মাহর আরো বহু সাধারণ মুসলমানের রক্ত ঝড়বে তা নিশ্চিত। সেইসাথে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর উপর পশ্চিমা আধিপত্ব আরো জোরদার হবে। আইসিসের খেলাফতে তাই মুসলিম দুনিয়ায় আল্লাহর শাসন নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের শাসন আরো পাকাপোক্ত হবে তা বলা যায়। অবশ্য মার্কিনিদের দাবি অনুযায়ি তাদেরকে ‘আল্লাহর কুদরতি দেহের নিচে অবস্থিত জাতি’ (nation under god) মেনে নিলে মার্কিন সাম্রাজ্যকেই আল্লাহর খেলাফত বলা যেতে পারে। এবং বারাক ওবামাকে আল্লাহর খলিফা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৪ thoughts on “খিলাফত, উম্মাহ ও মুসলিম দুনিয়ার রাজনৈতিক ক্ষমতা

  1. এই তথাকথিত জিহাদীরা কতদিন
    এই তথাকথিত জিহাদীরা কতদিন টিকে থাকে তা দেখার বিষয়। আর আমাদের জিহাদীরা হয়তো জুমার নামাজ পড়ে রাস্তায় মিছিল করে তাদের অবস্থান জানাবে।

  2. এই শিয়া-সুন্নীর ব্যাপারটা ঠিক
    এই শিয়া-সুন্নীর ব্যাপারটা ঠিক বুঝি না। এতদিন যা জানতাম, এখন দেখি ইতিহাস পুরো উলটো!

    এক বন্ধুকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলাম। ওর কথা হল এখানে শুধু রাজনীতি নিয়ে কথা হয়েছে, ধর্মীয় দিক থেকে জিনিসটা নাকি ভিন্ন। তার কথা মুয়াবিয়া নাকি দুজন, একজন নয়। আর এখানে যেই ইতিহাস লেখা হয়েছে, তার সোর্স নাকি শিয়াদের, আসল ইতিহাস এমন ছিল না। আবার “বিষাদ সিন্ধু” উপন্যাসে দেখলাম ভিন্ন রকম কাহিনী।

    বুঝতে পারছি না কোনটা ঠিক। তবে আমার দৃষ্টিতে শিয়ারা বেশিরভাগ সময়ই দেখি নির্যাতিত হয়ে এসেছে।

    1. উলটো ইতিহাস কি জানতেন? ধর্মীয়
      উলটো ইতিহাস কি জানতেন? ধর্মীয় দিক বলতে আপনার বন্ধু কি ব্যাখ্যা দিছেন? শিয়াদের সোর্স তো সব না, শিয়ারা কি মনে করে তাতো স্পষ্টই উল্লেখ করে দিসি। তবে শিয়ারা যাই মনে করুক না কেন, এই ইতিহাস শিয়া এবং সুন্নি দুই সম্প্রদায়ই স্বিকার করে। ইতিহাসের ব্যাখ্যা ভিন্নভাবে দেই, এই পার্থক্য।

  3. মোহাম্মদের কথা মানে হাদীস
    মোহাম্মদের কথা মানে হাদীস মোতাবেক তার মৃত্যুর ত্রিশ বছর পর্যন্ত খেলাফত থাকবে।এরপর আর থাকবে না।সুতরাং যারা খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা নাবালক।

  4. ভাই লেখাটা পড়ে খুব ভাল লাগলো।
    ভাই লেখাটা পড়ে খুব ভাল লাগলো। এই নিয়ে আপনার জানার উৎসগুলো দিবেন কী? আমারও আগ্রহ আছে কিছু।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + = 16