দেশপ্রেম এবং দারিদ্রতা বিক্রি করে রবি’র বাটপারি!

অনাথ দুই পথ শিশু। মাথা গোঁজার ঠাই নেই এই দুই শিশুর। তবু অবুঝ মন, শোকেজে সাজানো ঈদের পাঞ্জাবী তাদের চাই। বড় ভাইয়ের ভয়ঙ্কর সংগ্রাম। তিলে তিলে টাকা জমানো। আর প্রতিদিন একবার করে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁচের দেওয়ালের ওপারের স্বপ্নের পাঞ্জাবীর দিকে তাকিয়ে থাকা। যেমন করে আমাদের ছোঁয়া স্বপ্নগুলো কাচের দেওয়ালের ওপারেই থাকে। এ যেনো ‘সুবর্ন রেখা’। ধরতে গিয়েও ধরা যায় না। একদিন দোকানের সামনে গিয়ে বড় ভাইটি দেখতে পায় পাঞ্জাবীটি নেই। একজন কিনে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের স্বপ্নগুলো এভাবেই কোন না মালিক শ্রেণী, হাসিনা খালেদা তারেক রহমানরা এভাবেই নিয়ে যায়। ছেলেটি ছোটে ধাবমান গাড়ির পেছনে, আমরাও মাঝে মধ্যে ছুটি। দর্শকের ভেতর উত্তেজনা, পারবে কি ছেলেটা গাড়িটি ধরতে? সব আশা যেমন মানুষকে ডোবায় এই বিজ্ঞাপনের উত্তেজনাও মধ্যবিত্ত দর্শককে বেতনাকাতর করে তোলে। কারণ ছেলেটি গাড়িটি ধরতে গিয়ে পকেটে রাখা সব টাকাগুলো হারিয়ে ফেলে। বড় ভাইয়ের জামা কেনা আর হয় না। তখন ছোট ভাই নিজের পুরানো টি শার্ট উল্টে বড় ভাইকে বলে, ‘এটাই আমার নতুন জামা।’ বিজ্ঞাপন না বলে এটাকে অসাধারণ একটি শর্ট ফিল্ম হিসেবে নির্মাণ করলে তা ঠিক ছিলো। কিন্তু যেহেতু বিজ্ঞাপন, সে কারণে ঘটনা এখানে শেষ হওয়ার কথা না। আমরা যারা বিজ্ঞাপন থেকে টান টান উত্তেজনার মধ্যে ভেবেছিলাম আমাদেরও করার কিছু আছে। ঠিক তখন রবি আমাদের জানাচ্ছে যে, এই ঈদে টিভির এতোক্ষণ যেসব দর্শক বিজ্ঞাপন দেখে বিপ্লবী হয়ে উঠতে চেয়েছেন তারা চাইলে এরকম অনাথ শিশুদের জন্য কিছু করতে পারেন, রবিকে যদি আপনারা টাকা দেন তাহলে সেই টাকা দিয়ে তারা দরিদ্র অনার্থ ছেলে মেয়েদের ঈদে জামা কাপড় কিনে দিবে।

রবির এ কাজটি প্রশ্নাতিত মধ্যবিত্ত বাঙালীর কাছে মনে হবে, ভালোইতো! কিছু টাকা দিলে অন্তত একটা গরিব মানুষ জামা পাবে। কিন্তু বিষয়টি এতো সহজ না যখন কোম্পানিটির নাম রবি, তখন সব কিছু সন্দেহের চেয়ে প্রথম সন্দেহ করা দরকার এই টাকা কি আদৌ রবি সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে দিবে?

এই সন্দেহ করার হাজার হাজার কারণ রয়েছে। যে কোম্পানি ঈদের আগে ২ হাজার কর্মী ছাটাইয়ের তালিকা করে, যে কোম্পানি হাজার হাজার টাকা ভিওপি করে, যে কোম্পানি গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার ব্যবসা করে; সেই কোম্পানির কি ঠ্যাকা পড়েছে যে তারা দরিদ্র মানুষের জন্য ঈদের জামা দিবে?

এটা কি মধ্যবিত্ত রুগ্ন বাঙালী মুসলমানের মন? সারা সপ্তাহ ঘুষ দুর্নীতি করবো আর শুক্রবারে আতর সুরমা মেখে রাস্তা বন্ধ করে নামাজ পড়বো। নামাজ পড়ার আগে ও পরে যে শোডাউন করবো যাতে পাড়ার এন্তার মানুষ বুঝতে পারে আমি বিরাট ধর্মপ্রাণ মুসলমান। রবি আমাদেরকে ছিড়ে খেয়ে ফেলবে আমাদের গায়ে কাপড় নেই সে জন্য কিছু টাকা দান খয়রাত তুলে সেখান থেকে বড় অংশ মেরে দিয়ে বাকিটা দিয়ে নিজে হাজি মুহাম্মদ মুহসিন সাজবে। বেশ ভালোতো! পুটির তেলে পুটি ভাজা।

শ্রমিক নির্যাতনকারী রবি:
বিদেশীরা আমাদের সব সময় ওয়াজ নসিহত করে যে, তোমরা খারাপ। তোমরা ট্রেড ইউনিয়ন করতে দাও না, তোমাদের ডেমোক্রেসি নেই এইসব হ্যানা তেনা। তাদের জিজ্ঞেস করা দরকার, ভাই আপনারাতো ভালো লোক। গণতন্ত্রের অবতার। তো, আপনারা কি আপনাদের প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন করতে দেন? তখন একটাই উত্তর পাওয়া যাবে তাহলো ম্যা ম্যা ম্যা…….।

রবি মালেশিয়ান কোম্পানি। শুধু শ্রমিক সংগঠন করার অপরাধে ১৮৪ জন চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। অথচ বাংলাদেশের সংবিধানে ট্রেড ইউনিয়ন করার মৌলিক অধিকার আর সম্প্রতি এ সংক্রান্ত আইনে ২০ জন কর্মচারী থাকলেই সেখানে ইউনিয়ন করতে দিতে হবে।

চুট্টামির একটা শেষ থাকে:
বিটিআরসির কাছ থেকে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যাকবোন ব্যবহারের অনুমতি পাইছেন তা অন্যকে ভাড়া দেওয়ার জন্য না। কিন্তু কোম্পানির নাম যখন রবি তখন এই রবি বা সূর্যকে কোন শালা আটকে রাখে। রবি অন্যদের অপটিক্যাল ফাইবার ভাড়া দিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও নীতিমালাপরিপন্থী। এজন্য তারা কোনো লাইসেন্স পর্যন্ত নেয়নি। গোপনে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আন্ডারহ্যান্ড ডিলিং করে শুধু ই-ডটকো পরিচালনার অনুমতি নিয়েছে।‘রবি’তে চাকরি বহাল অবস্থায় এর কর্মীকে ৩য় পক্ষের নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হচ্ছে যা ‘রবি’র সঙ্গে তার কর্মীদের বিদ্যমান চুক্তির স্পষ্ট লংঘন।

রবি আজিয়াটা লি. ইনফ্রাকস্ট্রাচার ডিভিশন, কাস্টমার কেয়ার এক্সপেরিয়েন্স ডিপার্টমেন্ট (কল সেন্টার) এবং ক্রেডিট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তৃতীয় পক্ষ বিআইসিএল, জেনেক্স ইনফোসিস লি. এবং ইসিএল কোম্পানির কাছে অবৈধভাবে হস্তান্তর করে। এ প্রক্রিয়ায় কোম্পানির ২টি বিভাগের ১ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এদের সবার নিয়োগপত্র রবি আজিয়াটা লিমিটেডের হলে হস্তান্তরের পর ওই নিয়োগপত্র বাতিল করে তাদের সংশ্লিষ্ট তৃতীয় সংস্থার প্যাডে নিয়োগপত্র দেয়া হয়েছে।

কিছুদিন আগে উত্তরার রবির গ্রাহকসেবা কেন্দ্র বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন হেল্পলাইন কর্মীরা। দাবি আদায়ে গোটা ১ দিন তারা অফিস বর্জন করে রাস্তায় অবস্থান নেন।

রাজস্ব চোর রবি:
১০ম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদ সদস্য এ কেএম মাইদুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকি সংসদকে জানিয়েছিলেন, ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত রবি আজিয়াটা লিমিটেডের কাছে সরকারের পাওনা ২১৯ কোটি ১০ লাখ টাকা।

অথচ এই সময়ের মধ্যে অপারেটরটি বিদেশে পাঠিয়েছে ৫’শ কোটি টাকার ওপরে। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই সময়ে একমাত্র টেলিটক ছাড়া অন্য পাঁচটি মোবাইল অপারেটর দুই হাজার ৫৪৭ দশমিক ১৪ কোটি টাকা বিদেশে পাঠিয়েছে।

জানা গেছে, ১৫ বছর আগে মোবাইল ফোন অপারেটর একটেল পরবর্তীতে রবি আজিয়াটা নামে তাদের ব্যবসা শুরু করে। অভিযোগ, শুরুতে রবি ১৭ দশমিক ৮ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি (তরঙ্গ) নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও কোনো তরঙ্গ চার্জ দেয়নি। বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যানে মেজর জেনারেল জিয়া আহম্মেদ পরবর্তীতে এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গেলে চাপের মুখে ২০০৮ সালে মাত্র ৫ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি ক্রয় করে রবি। বিটিআরসির অভিযোগ এর আগে ১১ বছর রবি সর্বনিন্ম ১ হাজার কোটি টাকার এ সম্পদ বিনা পয়সায় ব্যবহার করেছে। একই সময় ভারত প্রতি মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি বিক্রি করে আয় করেছে ১১৩ মিয়িলন রুপি। এক পর্যায়ে সরকারের চাপের মুখে মাত্র ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ক্রয় করে রবি। এর ফলে সরকার মাত্র ৩ বছরে ২ হাজার ১৬০ কোটি টাকা আয় করে। বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী তারপরও রবিসহ অন্যান্য অপারেটরের নামে অবিক্রীত ফ্রিকোয়েন্সি থেকে যায় ৬৫ মেগাহার্টজ।

এদিকে তদন্ত রিপোর্টে ৬৪৭ কোটি টাকার কর ফাঁকির বিষয়টি স্পষ্ট করলেও রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুপুন বীরাসিংহে ১৪ জুন এক লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এ দাবি অনৈতিক এবং ভিত্তিহীন।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের জুন মাসে এনবিআর সিম রিপ্লেসমেন্ট বিষয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু রবিই ৬৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি সিম গ্রাহকের কাছে বিক্রি করার সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ সরকারকে পরিশোধ করার নিয়ম রয়েছে। এ কারণে রেজিস্ট্রেশন করতে হয় সিমের। কিন্তু সরকারের রাজস্ব আত্মস্মাৎ করার জন্য রবিসহ বহুজাতিক ফোন কোম্পানিগুলো সিম বাবদ সরকারকে রাজস্ব দেয় না। এ কারর্ণে সিমগুলোর কোন রেজিস্ট্রেশনও হয় না। এটা ধরার জন্য বিটিআরসির কারিগরি টিম দৈব চয়নের ভিত্তিতে প্রায় পাঁচ হাজার সিমের ওপর পরীক্ষা চালায়। এর মধ্যে রবির ১ হাজার ২০০সহ বাকি ৩টি অপারেটরের ৩৬৯৭টি সিম রয়েছে। দৈবচয়নের ভিত্তিতে এ পরীক্ষায় রবির প্রায় ৯৫ শতাংশ সিমের ক্ষেত্রে রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, রবির রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ ৬৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ২০০৭ সালের মার্চ থেকে ২০১১-এর জুন পর্যন্ত ৫২ লাখ ৬১ হাজার ৫৪১টি সিম রিপ্লেসমেন্টের নামে নতুন গ্রাহকের কাছে সিম বিক্রি করে এ অর্থ ফাঁকি দেয়া হয়েছে বলে এনবিআর দাবি করছে। রাজস্ব ফাঁকির এ ফাইলটি মন্ত্রণালয় থেকে আর নড়েনি। চলে গেছে হিমঘরে।

রবি ভিওআইপি করে:
গোপনে লাইসেন্সবিহীন বিদেশী কল সেন্টার ভাড়া নিয়ে প্রতি মাসে ৩শ’ কোটি টাকার বেশি অবৈধ ভিওআইপি বাণিজ্য করছে মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা। বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, উত্তরার মাসকট প্লাজায় অবস্থিত ওই কল সেন্টারটির মালিক ভারতের ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী যদি ভারতীয় হন তাহলে শুধু ভিওআইপি কেন বাংলাদেশের টাকা ছেপে যদি খোলা বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলেও হয়তো সরকার কিছু করবে না।

অথচ নিয়ম রয়েছে দেশে কোন কল সেন্টার চালাতে হলে বিটিআরসির লাইসেন্স নিতে হয়। অথচ জেনেক্স নামের ওই কল সেন্টারটির এসবের দরকার হয়নি। অভিযোগ উঠেছে সপ্তাহে ভারতীয় কল সেন্টারটি ১শ’ কোটি টাকার বেশি অবৈধ ভিওআইপি করে সংস্থাটি।

অবৈধ ভিওআইপি কল শনাক্ত করার জন্য বিটিআরসি সব অপারেটরের জন্য সিম ডিটেকশন বক্স বসানো বাধ্যতামূলক করে দেয়। কিন্তু গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, টেলিটক, সিটিসেল, এয়ারটেলসহ সব অপারেটর বক্সটি বসালেও একমাত্র রবি বক্সটি বসায়নি। আসুন এরপর খানিকটা হাসি। তারপর বিরতি নিয়ে আবার পড়া যাবে। কারণ নিচে আরো জিনিষপত্র রয়েছে।

বিটিআরসির ভেড়ারা কি করে তাহলে? কারণ তাদের একটা নিয়ম রয়েছে, তাহলো সিম ডিটেকশন বক্সের মাধ্যমে মিউসি সলিউশন থেকে পাওয়া তথ্য (ডাটা) প্রতিদিন বিটিআরসিকে জানানো বাধ্যতামূলক। এখান থেকেই ভিওআইপি হয়েছে কি হয়নি তা সনাক্ত করা যায়। জিপি, বাংলালিংক, টেলিটক, ইয়ারটেল, সিটিসেল এ সংক্রান্ত তথ্য দিলেও রবি এসবের ধার ধারে না। তারা এ সংক্রান্ত কোন তথ্য দেয় না বিটিআরসিকে। বর্তমানে রবি ভিওআইপিতে শীর্ষে।

বলতে পারেন, আন্দাজ গুন্দাজে বলছেন। তাহলে ছোট্ট একটি তথ্য নিন। বিটিআরসি ২০১৩ সালে বিদেশ থেকে দেশে ভিওআইপি করার কারণে ৭১ লাখ সিম ব্লক করেছে। এর মধ্যে রবির সিম ২২ লাখ। মাশল্লাহ, মারহাবা রবি বাবু! তবে এক্সপার্টদের মত, এই পরিসংখ্যান আরো কয়েক গুন। কারণ রবি ডিটেকশান বক্সের ডাটা দেয় না সরকারকে। একটি তথ্যমতে, প্রতিদিন দেশে ভিওআইপি হয়ে ১০ কোটি মিনিট টেলিফোন কল আসছে।

নিজেদের কোম্পানিতে শেয়ার ট্রান্সফার:
বর্তমানে রবি আজিয়াটাকে ৪টি কোম্পানিতে ভাগ করে অপারেশনের কার্যক্রম চালাতে যাচ্ছে। আর এগুলো যেসব কম্পানির নামে করা হবে তার মালিকানা হলো কম্পানির পরিচালকদের। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কোম্পানিটি হল ‘ই-ডটকো’। এর মালিকানা রবির মাদার কোম্পানি মালয়েশিয়ার বহুজাতিক আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদের শীর্ষ ব্যক্তিদের। বর্তমানে রবি এই খাত থেকে সবচেয়ে বেশি আয় করলেও সেই টাকা মূল কোম্পানি অ্যাকাউন্টে যোগ না করে প্রতি মাসে শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বলছে, ই-ডটকো’র মাধ্যমে যে আয় হচ্ছে সেটা রবির মূল আয়ের সঙ্গে যোগ হচ্ছে না। এর ফলে এনবিআর রাজস্ব হারাচ্ছে। আর টাকা পয়সা সব মালেশিয়াতে পাঠাতে পারছে তারা। ই-ডটকোর বেশিরভাগ শেয়ারহোল্ডারই বিদেশী।

একটেল থেকে নতুন ব্র্যান্ডে আসার পর মোবাইল শিল্পের উন্নয়নে ব্যাপক হারে বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল রবি। মালয়েশিয়াভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ (আজিয়াটা) রবির ৭০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিল। বাকি ৩০ শতাংশের মালিক ছিল জাপানের ডোকোমো। সম্প্রতি আজিয়াটা জাপানের কাছ থেকেও ২২ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে। বর্তমানে রবির পুরো মালিকানা মালয়েশিয়ার আজিয়াটার হাতে। এর আগে ১৯৯৭ সালে টেলিকম মালয়েশিয়া (টিএম) ইন্টারন্যাশনাল ও বাংলাদেশের এ কে খান অ্যান্ড কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে ‘একটেল’ নামে কোম্পানির যাত্রা শুরু হয়।

২০০৮ সালের শেষের দিকে জাপানের এনটিটি ডোকোমো টিএম গ্রুপের সঙ্গে যোগ দেয়। এ কে খান অ্যান্ড কোম্পানির মালিকানায় থাকা একটেলের ৩০ শতাংশ শেয়ার ৩৫ কোটি মার্কিন ডলারে কিনে নেয় ডোকোমো। টিএম গ্রুপের সঙ্গে ডোকোমো আরও ১০ কোটি ডলার ব্যয় করে। তবে মালিকানা হস্তান্তরের এ বিপুল পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থায় পরিশোধ না হওয়ার কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সম্প্রতি জাপানের কাছ থেকেও শেয়ার হস্তান্তরে বিপুল অংকের রাজস্ব বঞ্চিত হয় সরকার।
২০০৬ সাল থেকে ২০১২-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৬৭৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রবি কর্তৃপক্ষ। কোম্পানির দাবি, ২০১২ সালে রবি সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) হিসেবে ১ হাজার ৭৫৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা নিয়ে এসেছে। তবে বিনিয়োগ বোর্ডের হিসেবে রবির এসব অদ্ভুড়ে তথ্যগুলো পাওয়া যায়নি।

বিনিয়োগ বোর্ড বলছে, গত বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৬১ কোটি ৬০ লাখ টাকার এফডিআই এসেছে রবির মাধ্যমে। অথচ একই সময় এ খাতের অন্য কোম্পানিগুলো এর কয়েকগুন বেশি এনেছে এফডিআই। গ্রাহক স্বল্পতার কারণে ধুঁকতে থাকা সিটিসেল ওই সময়ে ২২৮ কোটি ২১ লাখ ৩২ হাজার টাকার এফডিআই নিয়ে এসেছে। বাংলালিংকের প্যারেন্ট কোম্পানি ওরাসকম টেলিকম পাঠিয়েছে ৭৮৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। গ্রাহক সংখ্যায় পিছিয়ে থাকা তৎকালীন ওয়ারিদ টেলিকম (এয়ারটেল) এফডিআই এনেছিল ৭ হাজার ৬২৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। বৈদেশিক বিনিয়োগে শীর্ষে ছিল গ্রামীণফোন। নরওয়ের টেলিনর ওই বছর ৯ হাজার ২৭৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার এফডিআই পাঠিয়েছে বাংলাদেশে।

রবির বিনিয়োগের একটা বড় অংশ এসেছে ঋণ থেকেও। ২০১০ সালের ১৫ জুন এক চুক্তির আওতায় রবি চীনের ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (সিডিবি) থেকে ১০ কোটি ডলার ঋণ নেয়। চুক্তির আওতায় চায়না প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে থেকে যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। এর বাইরে চীন থেকে আরও ৭ কোটি ডলার মূল্যমানের প্রযুক্তি কিনেছে রবি। এতে রবির পুরো বিনিয়োগই সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটের ধাঁচে করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিশেষ অনুসন্ধান চালিয়ে এ দুর্নীতির খোঁজ পায়। ফাঁকি দেয়া অর্থ জমা দিতে রবিকে কয়েক দফায় চিঠি দিয়ে তাগিদ দিয়েছে এনবিআর। তবে এর মধ্যে এক বছরের বেশি সময় চলে গেলেও ফাঁকি দেয়া টাকা জমা দেয়া হয়নি। রবি’র মাদার কোম্পানি আজিয়াটা গ্রুপের প্রতিবেদনে এনবিআরের চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু এই টাকা যাতে না দিতে হয় সেজন্য সরকারের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা দিয়েছে। সরকারের টাকা দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা চালাচ্ছে।

রবির বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবি আজিয়াটার আমদানি করা শত কোটি টাকার পণ্য চালান খালাস হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কর্মকর্তারা সম্প্রতি রবির আটক ৬টি চালান শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করেন।

আমদানিকারক ও বিটিআরসির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে যৌথ ইনভেন্ট্রিতে মিথ্যা ঘোষণা এবং আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তবে তড়িঘড়ি করে গোপন শুল্কায়নের মাধ্যমে অভিযুক্ত চালান খালাস দেয়া হয়।

থ্রিজি সেবায় ডিজিটাল প্রতারণা:
রবির থ্রিজি ইন্টারনেট মানে ১ যুগ আগে নীলক্ষেতের সাইবার ক্যাফের স্পিড। এটাকে আদর করে আপনি গরুর গাড়ির গতিও বলতে পারেন। আর ফোনের নেটওয়ার্কের সেইরাম পরিস্কারের গল্প হলো সত্যভুতের গপ্পো। ৩০ সেকেন্ড কলে তিন বার কল ড্রপ হচ্ছে। দাদা বললে ভুদাই শোনা যায়। আর এসব বিষয়গুলো গ্রাহকের ওপর বিরাট নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী এক মাসে রবির গ্রাহক কমেছে ১৬ লাখ ৭৫ হাজার। চলতি বছরের রবির গ্রাহকে ধ্বস নামে। সেই ধ্বস অব্যাহত রয়েছে।

কমছে গ্রাহক:
গ্রাহক সেবা না থাকায় রবি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে মোবাইল ব্যবহারকারিরা। গত ফেব্রুয়ারির শেষে সবগুলো অপারেটর মিলে মোট গ্রাহক ছিল ১১ কোটি ৫৮ লাখ। মার্চের শেষে তা ৬ লাখ কমে দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৫২ লাখে। আর এই এক মাসেই রবির গ্রাহক ২ কোটি ৫৬ লাখ থেকে নেমে এসেছে ২ কোটি ৩৯ লাখে। রবির গ্রাহক যখন কমছে তখন বাড়ছে গ্রামীন ফোনের গ্রাহক। গ্রামীণফোন নতুন চার লাখ ৭০ হাজার গ্রাহক যোগ করেছে। তাতে মার্চের শেষে তাদের অ্যাকটিভ গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৮৭ লাখ।

বাংলালিংক মার্চে ৩ লাখ ১৫ হাজার নতুন গ্রাহক যোগ করেছে। দেশের একমাত্র সরকারি অপারেটর টেলিটক এখন বেশ ভালো অবস্থায় আছে। মার্চের শেষে তারা ৩৪ লাখ ৩৪ হাজারে চলে এসেছে। অন্যদিকে সিটিসেল মার্চে নতুন ১৬ হাজার গ্রাহক পেয়েছে। আর তাতে মার্চের শেষে গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ১৪ হাজারে।

শেষ কথা:
আমরা পৃথিবীর তাবৎ মালিকশ্রেনীকে বিশ্বাস করি না। আমরা মনে করি মালিকশ্রেণী যখন আমাদের দিকে ফুল নিয়ে এসে আসে তখন তার ভেতরও ভয়ঙ্কর কোন ঘৃণার গ্রেনেড তারা লুকিয়ে রাখে। রবি যখন গরিব মানুষ বিক্রির করার অসাধারণ বিজ্ঞাপন তৈরী করে তখন আমাদের আরো বেশি সতর্ক থাকতে হয়। কারণ এই কোম্পানিটির কাছে অনিয়মই নিয়ম।
আমাদের টাকায় আমরা দরিদ্র মানুষকে জামা কিনে দিবো।

আমার বাড়ির পাশের দরিদ্র মানুষটি আমি চিনি। রবি এই টাকা দরিদ্র মানুষকে আদৌ দিবে কিনা তা আমাদের জানার সুযোগ নেই। কত টাকা উঠেছে আর কত টাকা খরচ হবে তা আমরা আম-জনতা কিভাবে বুঝবো। যে কোম্পানির সব কিছুতেই দুই নম্বরি সেই কোম্পানির কাছে ১’শ টাকা নয় ১ টাকাও নিরাপদ নয়। আমার টাকায় আমি কেন রবিকে হাজি মুহাম্মদ মুহসিন বানাবো?

তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতা: যুগান্তর, বিটিআরসি, বনিক বার্তা ও বিটিআরসির ভাই ব্রাদার।


[দেশের স্বার্থে রবিসহ সকল মোবাইল অপারেটর এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র প্রকাশ অব্যহত থাকবে।]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৪ thoughts on “দেশপ্রেম এবং দারিদ্রতা বিক্রি করে রবি’র বাটপারি!

  1. এই বাটপারদের ধরে এনে প্যাদানি
    এই বাটপারদের ধরে এনে প্যাদানি দেওয়া হোক। সরকারের এত পরিমান রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পরও এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না কেন? রবি’র এই দারিদ্রতা বাণিজ্যকে প্রত্যাখান করলাম।

  2. আমার জনৈক পরিচিত লোক
    আমার জনৈক পরিচিত লোক শুধুমাত্র রবি সিম দিয়ে ৩টা সেটআপে ভিওআইপি বাণিজ্য করে মাসে ৬লাখ টাকা নেট প্রফিট করতো। ভিওআইপি প্রোভাইডাররাই যদি এই প্রফিট করে, তাহলে যারা কুকর্ম লিংকটির চূড়ায় অবস্থান করে, তাদের প্রফিটের পরিমাণ কতো, চিন্তা করে দেখুন।

  3. [দেশের স্বার্থে রবিসহ সকল

    [দেশের স্বার্থে রবিসহ সকল মোবাইল অপারেটর এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র প্রকাশ অব্যহত থাকবে।]

    অব্যাহত থাকুক।

    গতকালকে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট যমুনা টিভির ৩৬০ ডিগ্রী ইনভেস্টিগেশন নামক অনুষ্ঠানে দেখেছি। এমনকি সেখানে দেখানো হয়েছে রবির এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্বীকার করেছে তারা অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার সাথে সংযুক্ত আছে। আবার রিপোর্টার তার একটি সমস্যা নিয়ে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছে আরেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে। ঐ কর্মকর্তা দু’বার আশ্বাস দিয়ে তৃতীয়বার কল রিসিভ করেনি।

  4. বাংলাদেশে যত মোবাইল ফোন
    বাংলাদেশে যত মোবাইল ফোন কোম্পানি আছে তাঁরা কোন না কোনভাবে দুর্নীতির সাথে জড়িত। কেউ হয়তো মানি লন্ডারিং এর সাথে জড়িত, কেউ ভি ও আই পি-র সাথে জড়িত আবার কেউ রাজস্ব ফাঁকির সাথে জড়িত।

    এদের দোষ কতটুকু? যারা এদেরকে এ রকম দুর্নীতি করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে তাদের দোষ কি এদের চেয়েও বেশি নয়? বিটিআরসি-র রাঘব বোয়ালরা এই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিলে এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়।

    ধন্যবাদ এরকম একটি তথ্যবহুল ব্লগ লিখবার জন্য। পাশাপাশি অন্য অপারেটরদের দুর্নীতি নিয়েও লিখবেন আশা রাখি।

  5. বিদেশী বেনিয়া কোম্পানি গুলো
    বিদেশী বেনিয়া কোম্পানি গুলো এদেশের মানুষের টাকা লুটে-পুটে খাচ্ছে কিছু দেশীয় দালালের সহায়তায়।
    টেলিটকের প্রসারই পারে একমাত্র এদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে।

  6. বাংলাদেশের দুই সেক্টরে বেশি
    বাংলাদেশের দুই সেক্টরে বেশি দুনীতি হয় একটি হলো বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাত অন্যটি টেলিকম সেক্টর। বিদ্যুতে ও জ্বালানিখাতের দুনীতির ওপর কিছু রিপোর্ট আসে কিন্তু টেলিকমখাতে কোন রিপোর্ট নাই। কারণ বিজ্ঞাপন ও নানান ধরনের ঘুষ। এখন নাগরিক সাংবাদিকতাই ভরসা।

  7. অসাধারণ তথ্যবহুল একটি পোস্ট।
    অসাধারণ তথ্যবহুল একটি পোস্ট। এই কারণেই ইষ্টিশন ব্লগটিকে এত পছন্দ করি। পোস্টদাতাকে আন্তরিক ধন্যবাদ এই পোস্টের জন্য।

  8. যে যেভাবে পারছে দেশটাকে
    যে যেভাবে পারছে দেশটাকে লুটেপুটে খাচ্ছে। আমরা আম জনতাও খাচ্ছি। তবে পু মারা খাচ্ছি প্রতিনিয়ত… অসাধারন অনুসন্ধানী পোস্টের জন্য তুহিন ভাইকে ধন্যবাদ।

  9. ‘দেশপ্রেম আর দারিদ্রতা’ নিয়ে
    ‘দেশপ্রেম আর দারিদ্রতা’ নিয়ে কোন মোবাইল অপারেটর ব্যবসা করে নাই? লেখক কি বলতে পারবেন? শুধু ‘রবি’ নিয়ে না হয়ে সব টেলিকম নিয়ে হলে লেখাটা পক্ষপাত দুষ্ট হতোনা।
    আমি যেহেতু বিজ্ঞাপনের মানুষ, কে কি করে টাকা মারছে, বানাচ্ছে সে নিয়ে কথা বলার সঠিক মানুষ আমি নই। আমি বরং এই উদ্যোগ এবং বিজ্ঞাপন নিয়ে বলি। আমার মনে হয়, ভালো কাজ যত বেশি হয় তত ভালো। আপনি স্বীকার করেছেন বিজ্ঞাপনটা একটা শর্ট ফিল্ম হলে ভালো হতো। এবং লোগোটা দেখানোর আগে পর্যন্ত ভালো বার্তাই দিচ্ছে। আমার কাছে রবির এই উদ্যোগটা ভালই মনে হয়েছে। ‘তুই খারাপ লোক, তুই ভালো কাজ করতে পারবি না’ এমন কথা তো আমরা কাউকে বলতে পারি না। বরং আশা করবো রবিকে চ্যালেঞ্জ করে হলেও কিছু মানুষ এগিয়ে আসবেন দরিদ্র এইসব শিশুদের ঈদকে আরও আনন্দময় করে তুলতে। যার আভাস আপনার লেখার শেষে পাই – ‘… আমাদের টাকায় আমরা দরিদ্র মানুষকে জামা কিনে দিবো। …’ সন্দেহ নেই খুবই ভালো উদ্যোগ। রবি’র এই বিজ্ঞপন না হলে হয়ত এই লেখাটা আমার মত অনেকের চোখে পরত না। আপনি নিশ্চয় আশা করেন আপনার এই লেখা পড়ে অনেকে রবি ব্যালেন্স রিচার্জ থেকে বিরত থাকবে। আশঙ্কা করি, তাতে করে কিছু শিশু বঞ্চিত হবে। অপেক্ষা করছি ঈদের পরে হয়ত জানতে পারবো কত জনকে কত জামা আপনার/ আপনাদের উদ্যোগে কিনে দিলেন।
    সেবা গ্রহীতার দিক থেকে এই অফার/বিজ্ঞাপনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোন সুযোগ আমি দেখছি না। কারন সেবা গ্রহীতা তার টাকার বিনিময়ে প্রাপ্য টক- টাইম তিনি পাবেন। প্রমোশনাল অফার গুলো দেয়া হয় ক্রেতা ঠকানোর জন্য নয় বরং কম্পিটিশন থেকে এগিয়ে থাকার জন্য।
    শেষ করার আগে এটুকু বলি – বিদেশী টেলিকমগুলোর রমরমা ব্যবসা এবং অনিয়ম আমি অস্বীকার করছি না। কিন্তু এর জন্য ঐ টেলিকমগুলো যেমন দায়ী তেমনি দায়ী প্রধানত বিটিআরসি, যার কিছু তথ্য আপনার লেখায় আছে এবং টেলিটক। টেলিটক তার সেবার মান উন্নত করলে (যা করার ক্ষমতা তাদের আছে) অন্য টেলিকম গুলো পাত্তাই পাওয়ার কথা নয়।
    বিজ্ঞাপনের মানুষ হিসাবে আমি আশা করি বিজ্ঞাপনও মানুষের কথা বলবে। জয় মানুষ।

    1. দরিদ্র মানুষের পাশে সীমিত
      দরিদ্র মানুষের পাশে সীমিত সামথ্য নিয়ে সব সময়ই থেকেছি। এবার রমজানের আগেই সেই কাজ করেছি। যতটা সাধ্য আছে।
      বিজ্ঞাপন যিনি নির্মান করছেন তার কাজটি প্রথমেই বলেছি অসাধারণ। ইশ! যদি স্বাধীনভাবে এরকম একটি শর্ট ফিল্ম কেউ বানাতেন তাহলে আরো বেশি শক্তিশালী হোত বার্তাটি।
      দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, রবির ভাবমূর্তী এবং ক্রমাগত দুনীতি। যিনি দুনীতিতে আকুণ্ঠ ডুবে থাকে তিনি দুনীতিমুক্তের স্লোগান দেন কিভাবে? ঈদের আগে যেসব রবির কর্মচারীদের চাকরি গেছে তাদের পরিবারের ঈদ কিভাবে হবে কি সেটা একবার ভেবে দেখেছেন?
      মূলধারার পত্রিকা বা মিডিয়াগুলো মোবাইল কম্পানির দুনীতি নিয়ে কিছু বলবে না কারণ বিজ্ঞাপন। আর অন্য মোবাইল ফোনের দুনীতি নিয়ে অবশ্যই লিখবো। সেটাতো লেখার শেষে বলেই দেয়া হয়েছে।
      এটা আমার একটা ব্যাক্তিগত মত যে, যত মেধা বিজ্ঞাপনে ব্যভহার করেন এখানকার নির্মাতারা তার যদি ৫০ ভাগ সিনেমা বানানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারতেন তাহলে দেশে বিশ্বমানের সিনেমা তৈরী হোত। আমরা কি মৌলিক কবিতা, গল্প উপন্যাস লেখা বাদ দিয়ে সারা জীবন সস্তা রিপোটিং করে যাবো? আমরা কি সিনেমা নির্মাণ বাদ দিয়ে সারা জীবন করপোরেট কম্পানির বিজ্ঞাপন বানাবো? যদি তাই করি তাহলে র্ঋত্বিক বা সত্যজিৎ এর জন্ম হবে না। আর সমাজের অবস্থা এরকমই থেকে যাবে। মানুষ এভাবেই ভাবতে শিখবে।
      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

      1. ধন্যবাদ।
        আমার কথা বলার বিষয়

        ধন্যবাদ।
        আমার কথা বলার বিষয় ছিল শুধু বিজ্ঞাপন। তবু আবারও যখন প্রশ্নটা তুলেছেন – ‘ঈদের আগে যেসব রবির কর্মচারীদের চাকরি গেছে তাদের পরিবারের ঈদ কিভাবে হবে কি সেটা একবার ভেবে দেখেছেন?’ তাই আমি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলছি – চাকরি গেছে, ভালো হয়েছে! অন্তত একটা খারাপ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে হলো না তাদের। চাকরি বহাল থাকলে উনারাই হয়ত ব্যবহৃত হতেন আপনার লেখার প্রতিবাদ করার জন্য অথবা বিভিন্ন ভাবে সাধারণের শোষণে। আপনি – আমি তাদেরকে শত্রুর কাতারে দাঁড় করিয়ে কথা বলতাম। আর এখন আপনি তাদের পক্ষে লিখছেন।
        আমি আশাবাদি তারা নিশ্চয় ঐ চাকরির চেয়ে অনেক ভালো কিছু করবেন।

        ‘কাঠই কাঠের শত্রু। হাতল ছাড়া কুঠার গাছ কাটতে পারে না।’ প্রবাদ
        জয় মানুষ।

    2. গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না,
      গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, আপনার এই পয়েন্টের সাথেও বিনয়ের সাথে দ্বিমত পোষন করছি। ধরুন, আপনার প্রয়োজন নাই কিন্তু বাজারে বিশেষ অফারে আপনাকে ১০ টাকা কেজিতে আম কিনতে বলা হলো। আপনি প্রয়োজন না থাকলেও সস্তার কারণে আম কিনে আনলেন এতে কিন্তু আপনার নিট আয় থেকে এ অর্থ বিয়োগ হবে। আর যারা এমনতিএ রিচার্জ করতেন তাদের কথা ভিন্ন। কিন্তু যারা এই বিজ্ঞাপন দেখেই রিচার্জ করবেন সেটা প্রয়োজন না থাকলেও ফা প্যাচালে বাতাসে উড়িয়ে যাবে অর্থ।
      যদিও আমি মনে করি, দেশ থেকে সব ফোন কম্পানিকে ঝেটিয়ে বিদায় করা দরকার। আমাদের টেলিটকই যথেষ্ট।

  10. মোবাইল কোম্পানিগুলোর
    মোবাইল কোম্পানিগুলোর দুর্নীতির পরিমান কল্পনাও করা যায় না। এরা এসব দুর্নীতি করে পার পেয়ে যাচ্ছে। মেইনস্ট্রীম মিডিয়াগুলো বিজ্ঞাপন পেয়ে এদের দুর্নীতির কোন ধরনের সংবাদ পরিবেশন করছেনা। ভরসা একমাত্র বিকল্প মিডিয়ার নাগরিক সাংবাদিকতা। রবিসহ দেশের সকল মোবাইল অপারেটর দেশপ্রেমের অন্তরালে চালাচ্ছে লুটের মহাউৎসব।

    রবিকে নিয়ে অসাধারণ এই পোস্টটির জন্য আরিফ ভাইকে ধন্যবাদ। আশাকরি ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতিপরায়ন এসব কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সকল অপকর্ম ফাঁস করার কাজ অব্যাহত রাখবেন।

    1. রবি এখন তাদের সাধু হিসাবে
      রবি এখন তাদের সাধু হিসাবে প্রকাশ করার জন্য এই ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন তথ্য সবাইকে জানাচ্ছে। যাক, পোস্টটাতে ভালই ঢলা খাইছে।

  11. এর আগেও রবি কয়েকবার বিটিআরসির
    এর আগেও রবি কয়েকবার বিটিআরসির জরিমানার শিকার হয়েছিলো অবৈধ রেজিষ্ট্রেশনের ফাঁদে পড়ে। কয়েকশো কোটি টাকা জরিমানা দিয়ে পরে সেসব থেকে মুক্তি পায়।
    রবি’র এসব ঘাপলা উন্মোচন করার জন্য ধন্যবাদ।

  12. ঘটনাগুলো জানা ছিল না। জানানোর
    ঘটনাগুলো জানা ছিল না। জানানোর জন্য ধন্যবাদ। তবে এরা কি সত্যই ধরা ছোঁয়ার বাইরে?

  13. এই রির্পোটের মাধ্যমে রবির
    এই রির্পোটের মাধ্যমে রবির বারোটা বাজায়া দিছেন। তারপরও কিচ্ছু হবেনা। বিটিআরসি আর সরকারের কমিশনভোগিরা রবির সাথে সমাঝোতা করে লুটপাট চালিয়ে যাবে। অন্য কর্পোরেট হাউজগুলো নিয়ে এই ধরনের রির্পোট আরো চাই।

    1. সরকার কিভাবে থামাবে? সরকারের
      সরকার কিভাবে থামাবে? সরকারের শীর্ষপদে যারা বসে আছেন তারাই মোবাইল অপারেটরদের চুরির কাজে পৃষ্টপোষকতা করছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 40 = 49