ভারতের সেফ হোমে থাকা ২২ নারী ফিরছে বাংলাদেশে

বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সময় ভারতে পাচার ২২ নারীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। ভারতের সেফ হোমে বর্তমানে এসব নারীরা রয়েছেন। স্বরাষ্টমন্ত্রণালয় ২২ নারীকে ফিরিয়ে আনার উদ্যেগ নিয়েছেন। ভারতের সেফ হোম থেকে একটি তালিকা সম্প্রতি বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকা ধরে ২২ নারীর ঠিকানা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এরপরই তাদের ফিরিয়ে আনা হবে দেশে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মানবপাচার রোধে সমঝোতা স্মারক সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। সেই চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করতে গত ৫ এপ্রিল ভারত সফরে গিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। সফরের এক ফাঁকে তাঁরা মুম্বাইয়ের সেই সেফ হোম পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তারা অর্ধশত’র মতো নারীকে দেখতে পান। এর মধ্যে ২২ জন বাংলাদেশি বলে তাদের কাছে পরিচয় দেন। এরপরই তাদের ফিরিয়ে আনার উদ্যেগ নেয় সরকার।

ভারতের ওই সফরে থাকা এক কর্মকর্তা বলেন, এসব নারীদের ভারতে বেশি বেতনের মাইনের কথা বলে একটি চক্র তাদেরকে পাচার করে। এরপর বিভিন্ন সময় ভারতের পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে দেশটির সেফ হোমে রেখেছে। এখন তারা বাংলাদেশে ফিরতে চায়। ২২ নারীর মধ্যে একজনের নাম আকলিমা আঙ্গুর। তিনি জানিয়েছেন তার গ্রামের বাড়ি যশোরের বেনাপোলের কদম তলা গ্রামে। আকলিমা প্রতিনিধি দলকে জানান, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে বছর কয়েক আগে ঢাকায় এসেছিলেন। চাকরি নিয়েছিলেন একটি গার্মেন্টে। চাকরি করা অবস্থায়ই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় এক যুবকের। সে তাঁকে স্বপ্ন দেখায়, ভারতে গেলে আরো ভালো মজুরির চাকরি পাওয়া যাবে। এপর সেই যুবক তাকে ভারতের মুম্বাইয়ে বিক্রি করে দেন। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁর ঠাঁই হয় মুম্বাইয়ে সরকার পরিচালিত একটি সেফ হোমে।

সেফ হোমের নারীরা:
ভারতের মুম্বাই সেফ হোমে থাকা অন্যান্য বাংলাদেশী নারীরা হলেন, যশোরের বেনাপোলের দৌলতপুর গ্রামের রেশমা হেলাল কাজী, মণিরামপুরের পোড়াডাঙ্গা গ্রামের মমতাজ, জয়নগর গ্রামের আনিত ওরফে নেতা মালদার, পটি গ্রামের মালা সরদার ওরফে রোকেয়া, অভয়নগরের মুশরিহাতি গ্রামের শিবালী মণ্ডল, খাদিজা, সীমা আক্তার, শার্শার সম্মন্ধকাঠি গ্রামের বিলকিস, বকুলা গ্রামের খালিদা ওমর, চায়না খাতুন, কোতোয়ালি থানার কেফায়েতনগর গ্রামের নাজমা সোফিয়া, ঝিকরগাছার ভাবানালী বালিখোলা গ্রামের মনীষা ওরফে আফরোজা গাজী, নড়াইলের লোহাগড়া থানার মাটিকুমরা গ্রামের সোনিয়া, সাতক্ষীরার কলারোয়ার চাঁদপুর গ্রামের শাহীনা গাফফার, খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বুজবুনিয়া গ্রামের হেলেনা, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কানর গ্রামের মরিয়ম, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরটিকি গ্রামের তানিয়া খান, পিরোজপুরের সদরের সুমী ও শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার খলিবাকান্দি গ্রামের রুমা। এ ছাড়া পারুল ও দিয়া খানের ঠিকানা জানা যায়নি।

সক্রিয় পাচারকারীরা:
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের নারীরা পাচার হওয়ার উচ্চ ঝুকিতে রয়েছেন। এসব নারীদের মোটা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু তাদেরকে পাচার করা হয় ভারতের মুম্বাইতে। এখানকার যৌনপল্লী অথবা হোটেলের যৌন ব্যবসায় বাংলাদেশের নারীদেরকে বাধ্য করা হয় দেহ ব্যবসায় নামতে।
বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার মতে, পাচারের অন্যতম রুট হলো বেনাবল স্থলবন্দর। পাচারকারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিকট আত্মিয়দেরকে কাজে লাগান এজেন্ট হিসেবে। বিয়ের ্আশ্বাস দিয়েও অনেক মেয়েকে বিক্রি করে দেয় পাচারকারীরা।

গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে আরো জানা গেছে, একজন নারীকে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে থাকে পাচারকারীরা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “ভারতের সেফ হোমে থাকা ২২ নারী ফিরছে বাংলাদেশে

  1. এসব পাচারকারিদের সরকার ইচ্ছে
    এসব পাচারকারিদের সরকার ইচ্ছে করলেই নিয়ন্ত্রন করতে পারে। ট্রান্জিট পয়েন্টগুলোতে শক্ত চেকপোস্টের ব্যবস্থা করা, স্থানিয় প্রসাশন ও গনমাধ্যমের সাহায্যে মহিলাদের মধ্যে সচেতনতা সৃস্টির উদ্যোগ নিয়ে মানব পাচার বন্ধ করা যেতে পারে। সচেতনতা তৈরি করার কাজে এনজিও ব্যবসায়িদের বাধ্যতামুলক করা হলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা আসবে। তাছাড়া অভাবের কারনে অনেকে সবকিছু জেনেই যাচ্ছে। স্বেচ্ছায় কেউ যদি পেশা হিসাবে যায়, সমস্যা দেখি না।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

  2. সেদিন দেখলাম মধ্যপ্রাচ্যে
    সেদিন দেখলাম মধ্যপ্রাচ্যে চাকরীর নামে নারীদের দেহব্যবসায় নামানো হচ্ছে। আর ভারতের এই কাহিনী অনেক আগে থেকেই চলছে প্রসাশনের নাকের ডগায়। এগুলোর পেছনে রুই কাতলাদের স্বার্থ জড়িয়ে আছে, তাই তারা এসব থামাতে কিছুই করবে না। সচেতনতা ছাড়া কোন উপায় নাই।

  3. মানব পাচার রোধে বাংলাদেশে
    মানব পাচার রোধে বাংলাদেশে এনজিওদের জন্য অনেক বাজেট বরাদ্ধ আছে বলে জানি। তারা কাজ না করে সব লুটেপুটে খাচ্ছে। পাচার বন্ধ হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

  4. যাক, ভারতবিদ্বেষীরা এবার
    যাক, ভারতবিদ্বেষীরা এবার শান্ত হবে আশা করি। ভারত থেকে জিনিসপাতি আসে চোরা পথে, আমরাও চোরা পথে তাদের ওখানে মানব রপ্তানি করি! বাহ… প্রশাসন তালিয়া বাজাও।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

65 − 62 =