শ্রমিকের রক্ত হোক মধ্যম আয়ের অর্থনীতির ফাঁপা ভীত


এই নারীটির বাবা যদি ঘুষখোর আমলা হোত, তারেক চোরের বন্ধুর মেয়ে বা বোন বোন হোত, শেখ হাসিনার বিয়াইয়ের মেয়ে হোত বা জয়ের পছন্দের কেউ হতেন নিদেনপক্ষে মিডিয়ার কেউ হতেন তাহলে এই রক্তমাখা মুখ দেখে ঝলসে উঠতো বাংলাদেশ।

কিন্তু আফসোস বোন আমার, তুমি তাদের কেউ না। তুমি অসাধারণ দেশের অতি নগন্ন শ্রমিক। তুমি আমাদের সেলাই দিদিমনি। তোমার মাথা ফেটে রক্ত বেরুলে জাতিসংঘ মামলা করবে না হাসিনার বিরুদ্ধে, তুমি ধর্ষিতা হলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ছুটে যাবে না হাইকোর্টে। তোমার রক্তের রঙ বেহুদাই লাল। তুমি মরে গেলে কেউ জানবে না এই পৃথিবীতে কেউ একজন এসেছিলো, কেউ একজন খুব নিরবে চলে গেলো। এরকম বেহুদা জীবন নিয়ে তোমার মত ৪০ লাখ মানুষ পৃথিবীর মানুষকে বস্ত্র পরাচ্ছে। বাহা! সভ্যতা, বাহ্‌! এই না হলে মানবজন্ম?

সত্যিই সুনীল বাবু, এই শ্রমিকের সাথে কৃষক জীবন পরিবর্তন করে কোন লাভ হয়নি। উল্টো উদয় অস্ত খেটে প্রাপ্য চাইতে গেলে শাসক বেজন্মা রাষ্ট্র তোমার দিকে ধেয়ে আসে, বুট, টিয়ারসেল আর পুরুষগুলোর লোভাতুর চোখ।

আমরা যারা অসাম্প্রদায়িক, আমরা যারা গণতন্ত্র ভালোবাসি তারা এই ছবি দেখে ফেসবুকের নিউজ ফিড থেকে আনফলো করে দিবো। কারণ আমাদের গণতন্ত্রের সোনার দেশের প্রধানমন্ত্রীর কত কাজ বাকি। এসব দুই চারজনের মাথা ফেটে না গেলে গণতন্ত্র কিভাবে শক্ত ভিত পাবে।

আর ক্রমাগত টিভি টকশোর সুশিল চুতিয়া বামপন্থিরা কী নিদারুন বিপ্লব বিপ্লব খেলা মারে। যখনই কিছুই করতে পারছি না তখন সালা, মাঝে মধ্যে মনে হয় নিজের পুটুর ভেতরই ঢুকিয়ে দেই পুরো শহর। এই অসভ্য দেশে খুব বেশি কি সুশিল হওয়ার দরকার আছে?

গত বুধবার রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় তাজরিন ফ্যাশনের তুবা গার্মেন্টস্‌ কারখানার শ্রমিকরা ৬ মাস ধরে বেতন পান না। বেতন না দেওয়ার কারণে তাজরিন ফ্যাশনে আগুনে মানুষ মারা যাবার পর ওই গার্মেন্ট মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ জন্য খুনি মালিক দেলোয়ার জেলে আছেন, এই অজুহাতে সেই মালিকের অধিনে থাকা শ্রমিকেরা বেতন পান না। কি দারুন যুক্তি! এই ৬ মাসে গার্মেন্টসটি শত শত কোটি টাকার তৈরী পোশাক বিদেশে পাঠিয়ে ঠিকই মাল কড়ি কামিয়েছে। মালকড়ি কামিয়ে টাকা পকেট ভরতে তাদের কোন সমস্যা হয়নি, সমস্যা হলো শ্রমিকের বেতন দিতে গেলে। এ কারণে গত বুধবার শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে এসেছেন। আর পুলিশ বাবাজিরাতো মালিকের কেনা লাঠিয়াল। ইচ্ছেমত মনের জ্বালা মিটিয়ে পিটিয়েছে শ্রমিকদের।

যে সংবিধানের দোহাই দিয়ে শেখ হাসিনা অন্যায্যভাবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছেন, সেই ত্যানাতূল্য সংবিধানেও কিন্তু শ্রমিকের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার, শ্রম অধিকার নানান ধরনের ইতংবিতং বিষয়গুলো কিন্তু আছে। সংবিধানের নামের ত্যানার জোরে যদি আপনারা ক্ষমতায় আসেন তাহলে সেই সংবিধানের মৌলিক অধিকার অংশ দেখলে আপনাদের গায়ে কেন কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে?

শোক শুধু বড়লোকেরঃ

বড়লোকে শুধু শোক করবে। আর গরিবের কোন মায়া মহব্বত, প্রেম ভালোবাসা শ্রদ্ধা কিছু নেই। যেহেতু গরিব মানুষ মানুষের জাতই না সে কারণে সে মরে গেলে তাকে দেখতে যেতে হবে কেন? যেহেতু সে বেঁচে থাকতেই তার কোন মূল্য ছিলোনা সে কারণে মরে গেলেতো প্রশ্নই আসে না মূল্য থাকার। এ কারণে সাভারের আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় ‘সাউদার্ন ডিজাইন লিমিটেডে’ শ্রমিক আব্বাস আলী (৩০) গতকাল রাতে নিজ বাসায় মারা গেলে তার সহকর্মী শ্রমিকদের দেখতে যেতে কেন অনুমতি দেওয় হবে?! এ ঘটনায় শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হলে যথারিতিতে শিল্প পুলিশ হাজির। আহত দশ।

মনে রাখতে হবে দেশটা হাসিনা খালেদা নিজামী এরশাদগো। তাদের আত্মিয়স্বজনেরা মারা গেলে রাষ্ট্রীয় শোক, পতাকা ছ্যাড় ছ্যাড় করে অর্ধেক নামায় রাখতে হবে। বাপু, তোমারে কে শ্রমিক হতে কইছিলো? পেটের খিদার জন্য তুমি কেন বিপ্লবী হইলানা? তারপর তোমার মৃত্যুতে রাষ্ট্র তোমাকে গার্ড অব অনার দিলো কি দিলো না তাতে কে পোছে? অন্তত মেরুদন্ডহীন বামপন্থিরা তোমার মৃত্যুতে শহীদ মিনারে একটা শোকের প্রোগ্রাম হাতে নিতে পারতো। তুমিতো মরে গিয়ে মরে গেলে বাপ।

আগুন কিন্তু থেমে নেইঃ

আগুনে গার্মেন্ট শ্রমিকেরা মৃত্যুর মিছিল ততদিন পর্যন্ত থামবে না যতদিন পর্যন্ত শ্রমিকেরা দুই চারটা মালিককে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারে। প্রাক পুঁজিবাদ যুগে ইংল্যান্ডে মেশিনভাঙ্গার আন্দোলন হয়েছিলো। এ দেশেও এরকম কিছু একটা দরকার তাহলে আগুনে পুড়ে শ্রমিক মারা যাবার হার কমে যাবে। তা না হলে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কামরাঙ্গীর চরের সুলতালগঞ্জ এলাকায় মায়ের দোয়া নামের একটি পোশাক কারখানায় এক অগ্নিকান্ডে কবির হোসেন (৩০) নামে যে শ্রমিক সারা গেছে এরকম সংখ্যা আরো বাড়তেই থাকবে। এ ঘটনায় ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন শ্রমিক শাহীন (৩২), রুবেল (৩০) ও সোহাগ (৩০)। এরা সবাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

গরিব মানুষের কোন মূল্য নেইঃ

টিভির বিজ্ঞাপনগুলো সব সময়ই রঙ্গিন। বিজ্ঞাপনের রান্নাঘরগুলো বাস্তবের সাধারণ মানুষের শোবার ঘর থেকেও কয়েক হাজার গুন সুন্দর। সেখানে অ্যাপ্রোন পড়ে ‘সুন্দরী নারী’ ঠোটে লিপস্টিক নিয়ে রান্না করে। আর আমাদের ৪০ লাখ গার্মেন্ট শ্রমিকের একটি বড় অংশই তখন অনাহার, অর্ধাহারে কোনমতে বেঁচে থাকে, যেনো ‘শেয়াল ও শকুনের খাদ্য।’ এই রমজানে কত পদের খাবার নিয়ে কতরকম বিজ্ঞাপন, কতরকম ইফতারি। অথচ গার্মেন্ট শ্রমিকদের দেওয়া হয় সামান্য অর্থ। এ অর্থের পরিমান তারা বাড়াতে বলেছিলো এ কারণে আজ বৃহস্পতিবার গাজিপুরে একটি গার্মেন্ট কারখানার শ্রমিকদের বেধড়ক পিটিয়েছে পুলিশ। শিল্প পুলিশ নামের মালিকপক্ষের নতুন ভাড়াটিয়া মাস্তানদের কাজ হলো উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখা। এ জন্য শ্রমিকের হাড় মাংস পিশে ফেলো। প্রয়োজনে চাবুক দিয়ে চাবকে উৎপাদন অব্যহত রাখো।

তালিকা হচ্ছে ৫’শ শতাধিক মালিকেরঃ

ঈদের আগে বেতন ও বোনাসের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠতে পারে তৈরী পোশাক শিল্পখাতের শ্রমিকেরা। সময় মত বেতন ও বোনাস না পেলে এখাতের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক অসন্তোষ হলে বেকায়দায় পড়বে সরকার। এ কারণে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যেসব মালিকেরা ঈদের আগে বেতন ও বোনাস না দিতে পারে এমন মালিকদের তালিকা করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের হাতে গোয়েন্দাদের এ তালিকাটি পৌছে গেছে। সরকারের নীতিনির্ধারনী পর্যায় তালিকা পাঠানো হবে দুই একদিনের মধ্যে। দেশে ৩ হাজার সাত শ’র মতো গার্মেন্টস রয়েছে। ওই গার্মেন্টস গুলোর মধ্যে কোন কোন গার্মেন্টসে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে তা জানার চেষ্টা করছে শিল্প পুলিশের গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দাদের করা এ তালিকা ধরে সরকার গার্মেন্ট মালিকদের চাপ দিবে বেতন বোনাস পরিশোধ করার জন্য। সরকারের কথা না শুনলে কঠোর ব্যবস্থারও পরিকল্পনা রয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এমন কি তৈরী পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমই থেকে তাদের সদস্য পদ বাতিলেরও ব্যবস্থা করার জন্য সংগঠনের নেতাদের সাথে ইতিমধ্যে বৈঠক হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে।

এসব সূত্র জানাচ্ছে, ঈদের আগে শ্রমিক অসন্তোষের কারনে যাতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে সে জন্য রোজা শুরুর ২৫ দিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ৫ জুন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, র‌্যাবের মহা-পরিচালক মোখলেছুর রহমান, ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ, শিল্প পুলিশের প্রধান আবদুস সালাম, বিজিএমইএ সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম, বিকেএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাতেমসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বাহিনীর তরফ থেকে রোজা ও ঈদের আগে গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন বোনাস নিয়ে আন্দোলনের ফলে যে সমস্যার সৃষ্টি হয় সে ব্যাপারে আলোচনা হয়। তখন গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে সঠিক সময়ে বেতন বোনাস দিয়ে দেওয়া হবে বলে সভাকে জানানো হয়েছিল। তবে বাস্তবে বহু পোশাক কারখানার মালিকই ঈদের আগে বেতন বোনাস দিবে না তৈরী পোশাকখাতের শ্রমিকদের। এ কারণে যেসব অস্থিরতা তৈরী হবে তাতে রাস্তায় শ্রমিক নেমে বিক্ষোভ থেকে শুরু করে গাড়ি ভাঙ্গচুরও হতে পারে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সরকার যখন ব্যবসায়ীদের এমন চাপ দিতে প্রস্তুত তখন ব্যবসায়ীরা জোট বেধে চেপে বসেছে সরকারের ঘাড়ের ওপর। তাদের দাবি প্রণোদনা পেলে ঈদের আগে বেতন বোনাস দিতে সমস্যা হবে। বাংলাদেশ রপ্তানীকারক সমিতি (ইএবি) আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে প্রনোদনার অর্থ ছাড় করার জন্য গত বুধবার অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে।

তবে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন নিয়ে একটা বিষয় মনে রাখা দরকার, দেশের সব কিছুর ওপরই গোয়েন্দাদের নজরদারি আছে। যেমন ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮০ ভাগ অঞ্চল কিন্তু সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত। কিন্তু যখন সাগর রুনি মারা যায় তখন ম্যা ম্যা ম্যা ছাড়া আর কিছুই গলা থেকে বের হয় না।

ফলে এই গোয়েন্দা প্রতিবেদন হলো মালিক ও পুলিশদেরকে জানিয়ে দেওয়া, বাবা এইসব গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করতে পারে তোমরা প্যাঁদানির জন্য লাঠি সোটা জল কামান সহ এলাকার যত পাতি উঠতি নেতারা আছে তাদেরকেও নিয়ে এসো। কতবড় সাহস বড়লোকের রাস্তা বন্ধ করে বেতন চায়? বেতনের দরকার হলে শহীদ মিনারে যাও, পেসক্লাবের সামনে যাও। শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর। তারপর টিভির সামনে দাত মুখ খিচিয়ে বল, এই ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে আমরা বেতন পাচ্ছি না।’ টিভি রিপোর্টার খুশি আবার সরকারও খুশি। কেন রাস্তায় নেমে সহিষ্ণু শ্রেণীসংগ্রাম করতে রাস্তায় নামো? শ্রেণীসংগ্রামকে ভয় পাবেই রাষ্ট্র। ওই একটা ব্যাপারকেই ভয় তার। তোমার ঘাম আর রক্তের ভীতের উপর তৈরি হোক মধ্যম আয়ের অর্থনীতির ফাঁপা গৌরব।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “শ্রমিকের রক্ত হোক মধ্যম আয়ের অর্থনীতির ফাঁপা ভীত

  1. কাজ করেও বেতন পায়না শ্রমিক।
    কাজ করেও বেতন পায়না শ্রমিক। কিভাবে স্বজনদের নিয়ে ঈদ করবে, অন্তত ফুটপাথ থেকে সস্তার কিছু রঙিন জামা কিনে বাড়ি ফিরবে সেই দাবীতে রাস্তায় নামলে তাদের পিটিয়ে তক্তা করে দেয় রাষ্ট্রীয় পুলিশ। অথচ এদের বানানো বাহারি পোশাক গায়ে চড়িয়ে ঈদের আনন্দে মাতবো আমরা। বিদেশ থেকে কাড়ি কাড়ি ডলার এসে রিজার্ভ মজবুত করবে। রাষ্ট্র দাঁত কেলিয়ে হিসাব দেবে আমরা মধ্যম আয়ের দেশের পথে এগুচ্ছি। প্রথমালু এদের বিজ্ঞাপনের মডেল বানিয়ে ব্যবসা করবে। মিথ্যে আশ্বাস দেবে- যতদিন তোমার হাতে দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ। হায়রে আমার অর্থনীতির চাকা…

  2. শ্রমিক পেটানো হচ্ছে
    শ্রমিক পেটানো হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা!চেতনার বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার একমাত্র ছেকাসিনার আছে।

  3. শ্রমিকদের চাহিদাটা কি এত
    শ্রমিকদের চাহিদাটা কি এত বেশি? তারা সারাদিন ঘাম ঝরিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি বিনিয়োগ করে ডালভাত খেয়ে ক্ষুধা নিবারন করে। যখন শ্রম বিনিয়োগ করার পরও তাদের শ্রমের মুল্য পায় না, ক্ষুধা তখন তাদের প্রতিবাদ করতে বাধ্য করায়। সেই প্রতিবাদ করার কি অধিকার তাদের নেই? মালিক যখন শ্রমিকের শ্রমের মুল্য দেয় না, তখন রাষ্ট্রের দেওয়া উচিত। তাহলে শ্রমিকদের মধ্যে অস্তোষ তৈরী হবেনা। মালিক শ্রমের মুল্য দেবেনা, সেই মুল্য চাইতে গেলে রাষ্ট্র তেড়ে আসবে; তাহলে ওরা যাবে কার কাছে?

    এই রমজান মাসে রাষ্ট্রের পৃষ্টপোষকতায় শ্রমিকদের উপর যে নির্মমতা চালানো হয়েছে, এটাকে আমি বলব অত্যান্ত ঘৃন্যতম একটা কাজ। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ভেবে দেখা উচিত ছিল, তাদের চাকুরীর বিনিময়ে যদি বেতন না পেত, টাকার অভাবে উপোষ থাকতে হত, তারা কি করত?

    1. বেতন না দিয়ে মলিকরা বাঁচতে
      বেতন না দিয়ে মলিকরা বাঁচতে পারলেও এদের অভাব শেষ হত না। দেখা যেত তখন এরা শ্রমিকদের থেকে ঈদ বোনাস খুঁজতো। এদেরকে মালিক না বলে হায়েনা বলা উচিত। এই হায়েনাদের পক্ষাবলম্বন করে সরকার শোষকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকারের উচিত এসব ফকিরা মালিকদের মাঝে ঈদের আগে সরকারি কর্মচারিদের জাকাত-ফেতরা সংগ্রহ করে বিলি বন্টনের ব্যবস্থা করা।

      শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার ক্ষমতা নাই, ব্যাংকের ঋণ শোধ করার সামর্থ্য নাই, কিন্তু ব্র্যান্ডেড গাড়ি, পোষাক, কসমেটিক ও বিলাসী জীবনযাপনে কোন ধরনের ঘাটতি নাই।

  4. মালিকরা মনে করে ঈদের বেতন
    মালিকরা মনে করে ঈদের বেতন বোনাস নিয়ে সেই শ্রমিকরা আর ফিরবে না ছুটি থেকে। না দিলে বরং ছুটির পরেই তাড়াতাড়ি এসে জয়েন করবে। কতোটা আবালীয় চিন্তা ভাবনা! যে যাওয়ার, তাকে কি বেঁধে রাখতে পারবে মালিকপক্ষ? মালিক যখন শোষকের ভূমিকায় নামে, সেই প্রতিষ্ঠানে কখনোই উন্নতি হতে পারে না। শ্রমিকদেরকে ভাবতে হবে প্রতিষ্ঠানের চাকা, জ্বালানি নয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

51 + = 56