ফিলিস্তিন পরিস্থিতিঃ মধ্যপ্রাচ্যের জিও পলিটিক্স এবং গণমানুষের ভবিষ্যত

এক
ইসরাইলি তিনজন কিশোর হেবরোনে অপহরণের শিকার হয়েছে ১২ জুন, এক মাস আগে। এর তিনদিন পর, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু অপহরণের দোষ হামাসের ঘাড়ে চাপিয়েছেন। হামাস এই অপহরণের দায় স্বিকার করে নাই। ফিলিস্তিনে অবস্থিত সালাফি জঙ্গীদেরকেও অনেকে সন্দেহ করেছেন। পরবর্তিতে আইসিসের ফিলিস্তিন(ওয়েস্ট ব্যাংক) শাখার নামে সালাফি জঙ্গীরা এই দায় স্বিকারও করেছে। এখানে আইসিসের পেছনে বিদেশী কোন শক্তির মদদ থাকার অভিযোগও আছে। হেবরোন বিদেশী পর্যবেক্ষক তথা গোয়েন্দাদের একটি চারণক্ষেত্র হিসাবে পরিচিত। তিন কিশোরের লাশ পাওয়া গেছে ৩০ জুন, কিন্তু তাদের হত্যা করা হয়েছে অপহরণের পরেই। ইসরাইলি মিডিয়াতে অপহরণের খবর নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে। ইসরাইল সরকার অনেক আগেই সবকিছু জানা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে জানতে দিচ্ছেনা এবং গাজায় হামলা করার জন্যে ছুতা হিসাবে ইস্যুটিকে ব্যবহার করছে এই অভিযোগ গত মাসেই উঠেছিল। ঘটেছেও তাই। কিশোর অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে ওয়েস্ট ব্যাংকে। এখন ইসরাইলি প্রতিশোধের নামে শিশু, নারী ও প্রতিবন্দী হত্য চলছে গাজায়।

দুই
গাজা হামাস অধ্যুষিত হলেও ওয়েস্ট ব্যাংকে তাদের শক্তি কম। গত এক মাসে ওয়েস্ট ব্যাংকে হামাস কর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করে ইসরায়েল তাদেরকে আরো দুর্বল করে দিয়েছে। এখন গাজায় হামাস নিধন ইসরাইলের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি তারা ফাতাহ(পিএলও) এবং হামাসের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যে ঐক্য প্রচেষ্টা চলছিল তাও শেষ করে দিতে চায়। ইসরাইল স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষনা দেয়ার পর মিশর এবং জর্ডান যথাক্রমে গাজা এবং ওয়েস্ট ব্যাংকের দখল নিয়ে নেয়। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরাইল মিশরের কাছ থেকে গাজা এবং জর্ডানের কাছ থেকে ওয়েস্ট ব্যাংকের দখল ছিনিয়ে নেয়। তারপর থেকে এই দুই অংশই ফিলিস্তিনি রিফিউজিদের আশ্রয়স্থল এবং প্রতিরোধের ভিত্তি হয়ে উঠেছিল। সেসময় ফিলিস্তিনের সেকুলার স্বাধীনতাকামী সংগঠন ও মুক্তিযোদ্ধাদের (যেমন-ফাতাহ) নির্মুল করলেও হামাসকে ইসরাইল একরকম পেলে পুসে বড় করেছিল। হামাস গড়ে উঠেছিল মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের ফিলিস্তিনের একটি শাখা হিসাবে। তারা নিয়মিত ফিলিস্তিনের সেকুলার ও বামধারার একটিভিস্টদের হামলা ও হত্যা করতো যাতে ইসরাইল দীর্ঘদিন নৈতিক সমর্থন দিয়ে এসেছে। ২০০৬ সালে নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে গাজায় হামাসের বিজয় হলেও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করেছে তারা ফাতাহর কর্মীদের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হত্যাকান্ডের মাধ্যমে। এতোকিছু পরেও সম্প্রতি ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে নতুন করে ঐক্য গড়ে উঠছিল। সেই সম্ভাবনা এবং হামাস, এই দুইকেই ইসরাইল এখন ঠান্ডা মাথায় হত্যা করছে।

তিন
গত শতকের শুরুর দিকে ফিলিস্তিনে সাময়িক শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। ইসরাইল সামরিক অপসারণ শুরু করেছিল এবং ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে ফিলিস্তিনে নতুন যুগের সুচনা হতে যাচ্ছে ভাবা হয়েছিল। কিন্তু ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বাধীন ফাতাহ সরকার ফিলিস্তিনের জনগণের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বদলে অপরিণত বুর্জোয়া স্খলন ও দূর্নীতি নিমজ্জিত হয়ে অল্পদিনেই অজণপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। ২০০৪ সালে আরাফতের মৃত্যু এবং ২০০৬ সালে হামাসের উত্থানের পর থেকে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি গড়ে তোলার সুযোগ ইসরাইল ও তার বন্ধু শক্তিগুলো পেয়েছে। ২০০৮ সালে ইসরাইল নতুন উদ্যোমে গাজায় হামলা চালায়। তবে এই যুদ্ধ শুরু করার মূল কারণ হিসাবে জ্বালানী সম্পদের নিয়ন্ত্রন প্রধান কারন বলে তখন অভিযোগ উঠেছিল। এক্ষেত্রে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তাক করা যায়। বর্তমান যুদ্ধও সেই জ্বালানী যুদ্ধের একটি ধারাবাহিকতা হতে পারে।

চার
ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের সমুদ্র অঞ্চলে লেভিয়াথন জ্বালানি ক্ষেত্র অবস্থিত। বিপূল পরিমান গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির সম্ভাবনা এখানে দীর্ঘদিনের। এরমধ্যে গাজার অঞ্চলের ব্লকগুলো গ্যাস উত্তোলনের জন্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। ২০১০ সালে এই অঞ্চলে প্রায় চল্লিশ টিসিএফ গ্যাসের মজুদ আবিস্কৃত হয়েছে। ফিলিস্তিন-ইসরাইল কোস্ট লাইনে ৬০ শতাংস গ্যাস ফিলিস্তিনের অধিকারে পরে। ফিলিস্তিনের বিশেষ করে জনগণ পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র এবং সুযোগ সুবিধাবঞ্চিতদের অন্যতম। এই জ্বালানী সম্পদ তাদের ভবিষ্যত গড়ে দিতে পারে। কিন্তু গ্যাসের মালিকানা তাদের হাতে নাই। ১৯৯৯ সালে তৎকালিন ফাতাহ সরকার ব্রিটিশ গ্যাস(বিজি গ্রুপ)এর সাথে ২৫ বছরের একটি চুক্তি করেছিল। চুক্তি অনুযায়ি ব্রিটিশ গ্যাস ৬০ শতাংস, কনসলিডেট কনস্ট্রাকটরস ৩০ শতাংশ এবং ফিলিস্তিন সরকার ১০ শতাংস গ্যাসের মালিকানা ভোগ করবে। এই চুক্তি যথেষ্ট পরিমান অন্যায্য চুক্তি হলেও ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক বাস্তবতা বিচারে ফিলিস্তিনের অর্থনীতির জন্যে ঈতিবাচক হতো। সেই সুযোগও তারা পাচ্ছে না। চুক্তি অনুযায়ী ব্রিটিশ গ্যাস গাজা মেরিন-১ এবং গাজা মেরিন-২ নামে ২০০০ সালে দুটি কুপও খনন করেছিল। চুক্তি অনুযায়ী ফিলিস্তিন থেকে তুর্কি পর্যন্ত একটি পাইপলাইনও তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু ইসরাইল এই গ্যাসের উপর ফিলিস্তিনের অধিকার মেনে নেয় নাই। ফিলিস্তিনের কাছ থেকে গ্যাস কেনার প্রশ্ন আসে না এই দাবিতে তারা ব্রিটিশ গ্যাসের সাথে সরাসরি চুক্তি করার চেষ্টা করেছে। গাজায় ২০০৬ সালে ফাতাহ তথা আন্তর্জাতিকভাবে অধিক স্বিকৃত ফিলিস্তিন সরকারের পতন এবং হামাসের উত্থানের পর এই গ্যাসের নিয়ন্ত্রন এখন একেবারেই ফিলিস্তিনিদের হাতের বাইরে চলে গেছে। হামাসের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের হাতে জ্বালানীর ডলার তুলে দেয়া যাবে না এই অযুহাতে ইসরাইল এই গ্যাসের মালিকানা দাবি করে। ২০০৮ সালের যুদ্ধ তারই ফলাফল, ২০০৯ সালে এর ধারাবাহিকতাতেই ইসরাইল গাজার কোস্টলাইনের গ্যাসক্ষেত্রগুলো ইসরাইল জবরদখল করে নেয়। তার পরের বছরই এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়। হামাস এবং ফাতাহর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে ফিলিস্তিনি সরকার যদি স্থিতিশীল হতে পারে তাহলে এই গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উপর ফিলিস্তিন নিজের মালিকানা দাবি করতে পারে। ইসরাইল তা হতে দেবে না।

পাঁচ
ইসরাইল রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা করতে প্রথম ধাত্রির ভুমিকা পালন করেছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পর মধ্যপ্রাচ্যের সাবেক তুর্কি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলো ইউরোপিয় শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এসব অঞ্চল একে একে স্বাধীনতা লাভ করলেও ভারতিয় উপমহাদশের মতোই এসব অঞ্চলে ইউরোপিয় ছুড়ি কাচির তলে পরে বিভিন্ন বিষম রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বিষম ও সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির তৈড়ি হয় ‘ব্রিটিশ ম্যান্ডেট অফ প্যালেস্টাইন’এ। জায়োনিস্টদের সারা পৃথিবী বিশেষ করে ইউরোপ থেকে ইহুদীদেরকে ফিলিস্তিনে এনে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা সরাসরি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রনের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এই অঞ্চলে একটি সাম্প্রদায়িক ও সামরিকভাবে শক্তিশালি রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। পরবর্তিতে এই অঞ্চলে খুবি বিষম মানচিত্রের একটি ইহুদী ও একটি মুসলিম রাষ্ট্র তৈড়ির চেষ্টা চালানো হয়। আরব রাষ্ট্রগুলোর বিরোধীতায় তা সম্ভব হয় নাই। মিশর, সিরিয়া, জর্ডান এসময় ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ করে শেষে পরাজিত হয়। এখন ফিলিস্তিনের অধিকাংশ জনগণ ১৯৬৭ সালের পূর্বে দুই দেশের জন্যে নির্ধারিত মানচিত্রে ফেরত যেতে চাইলেও ইসরাইল তাতে রাজি নয়, বরং দেশটির অধিকাংশ অঞ্চলই তারা দখল করে রেখেছে। ওয়েস্ট ব্যাংক এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের বসতি এবং নিয়ন্ত্রন কমতে কমতে ইতিহাসের সর্বনিন্ম অবস্থায় এসে পৌছেছে।

ছয়
এই মুহুর্তে ফিলিস্তিন সহ মধ্যপ্রাচ্যের ল্যাভেন্ট অঞ্চলের রাজনৈতিক ভবিষ্যত এবং বর্তমান যুদ্ধে জয়ী ও পরাজিত পক্ষ নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথায় যে কার স্বার্থ কে কিভাবে রক্ষা করছে তা নিশ্চিত করে চিহ্নিত করার সক্ষমতা আমাদের নাই। তবে গাজার জনগণ যে এককভাবে পরাজিত হচ্ছে তা নিশ্চিত করে বলা যায়। ২০০৮ সালের যুদ্ধে প্রায় দেড় হাজার ফিলিস্তিনি জনতা নিহত হয়েছিল। বিপরীতে ইসরাইলের ১০ জন নিহত হয়েছিল (৪ জন ফ্রেন্ডলি ফায়ার)। এবার নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে দেড়শ ছাড়িয়ে গেছে। দেড় হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আগে ইসরাইল থামবে সেই সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক চাপে ইসরাইল দমবেনা তা তারা ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপও তেমন কিছু না। ইউএসএ সামান্য বকে দিয়েছে, ইসরাইলও পালটা বকা দিয়েছে। ইউকে বলা যায় প্রায় পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলেছে, অবশ্যই ইসরাইলের নিজেকে ডিফেন্ড করার অধিকার আছে। ইউরোপের অন্যান্য শক্তির এই অঞ্চলে তেমন প্রভাব নাই। তুর্কি যদিও মিনমিন করে হত্যাকান্ডের সমালোচনা করছে কিন্তু পাইপলাইনে ইসরাইল থেকে গ্যাস তাদের দেশেই গিয়ে ঢুকবে। তুর্কি তাইল লিটারালি পাইপলাইনে গাজার শিশুদের রক্ত নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে চুপ করে যাবে বলা যায়। মিশর ইতিমধ্যে ইসরাইলের কাছ থেকে গ্যাস নিচ্ছে বং চুপ করে আছে। ইরান এই মুহুর্তে মধ্যপ্রাচ্যে অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে, কিন্তু ফিলিস্তিন নিয়া তারা কিছুই করবেনা। তারা সিরিয়া এবং ইরাকে আইসিস সামলাতে ব্যস্ত। যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে ইরানের বন্ধু, আবার সিরিয়ায় আসাদ সরকার ইস্যুতে ইরানের শত্রু। যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই মুহুর্তে ইরাকের নুরি আল মালিকী সরকারকে প্রায় ত্যাজ্য ঘোষনা করেছে বলা যায়। ল্যাভেন্ট অঞ্চলে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসাবে আইসিসের আবির্ভাব এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। মার্কিন নিয়ন্ত্রিত ইরাক সিরিয়ায় তারা পত্র পল্লবে হামাস, আল কায়েদা এবং তালেবান মডেলে বড় হয়ে উঠেছে। এখন তারা দুনিয়ার সবচেয়ে বড়লোক সন্ত্রাসী সংগঠন, একমাত্র ইসলামী খেলাফত, যাদের দখলে তেল ক্ষেত্র, রাসায়নিক অস্ত্র রয়েছে এমনকি সম্প্রতি ইউরেনিয়ামের মালিক হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। তাদের এই রহস্যজনক উত্থানে একটি পারমানবিক শক্তিধর খেলাফতের সম্ভাবনাও কেউ কেউ দেখতে পাচ্ছেন। ঠিক কার মদদে এবং কার স্বার্থে আইসিসের এই উত্থান হয়েছে তা এখনো পরিস্কার করে বলার উপায় নাই। তবে সিরিয়া, ইরাকের পর লেবানন ও জর্ডানে নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা নিয়ে এই অঞ্চলে ইসরাইল বনাম আইসিস সংঘর্ষ বৃহত আকাড় ধারণ করতে পারে সেই সম্ভবানা দেখা দিয়েছে। আইসিসের নামে ইসরাইলি কিশোর অপহরণ ও হত্যা এবং আইসিসিসের সদস্যদের সাম্প্রতিক ইসরাইলে রকেট হামলার ভিডিও চিত্র একটি বৃহত আইসবার্গের সামান্য মাথা হতে পারে। গাজায় ইসরাইল হামলা রাজনৈতিকভাবে আইসিসের লাভববান হওয়ার বিরাট সুযোগ তৈড়ি করে দিচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নাই। এই যুদ্ধ হয়তো সবেমাত্র শুরু। ভবিষ্যতে পুরো ল্যাভেন্ট অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশিলতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। রাষ্ট্রগুলো হয়ে উঠতে পারে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক ও জাতীয় গোষ্ঠির মধ্যকার যুদ্ধক্ষেত্র ও সরনার্থি শিবির। জর্ডানা ইতিমধ্যে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় সরনার্থি শিবির। ইউএসএর বন্ধু এই রাষ্ট্রটি ভবিষ্যতে পশ্চিমা শক্তিগুলোর একটি শান্তি প্রতিষ্ঠা ঘাটি তথা সামরিক ঘাটিতে পরিণত হলে অবাক হবো না। ফিলিস্তিনের শিশুদের জন্যে আপাতত কোন উজ্জ্বল ভবিষ্যত দেখা যাচ্ছে না, ইরাক-সিরিয়ার শিশুদের জন্যেও না।
?resize=620%2C350″ width=”400″ />

সাত
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক শক্তিগুলো ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মধ্যকার ভেদাভেদকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করায় এসব অঞ্চলের সংগ্রামী জনগোষ্ঠির মাঝে কোন জাতীয় চেতনা গড়ে উঠতে পারে নাই। যাও গড়ে উঠেছিল তাও এখন ধ্বংস হয়ে গেছে। বাংলাদেশে একিসাথে জ্বালানী সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রন এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বর্তমানে রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ মিয়ানমার এবং ইন্ডিয়ার সাথে সমুদের সীমা নিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে বিরোধ নিস্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এসব অঞ্চলের জ্বালানির উপর এখন পর্যন্ত জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করা যায় নাই। এই মালিকানা নিশ্চিত করতে জাতীয় চেতনার উপর ভর করে একটি শক্তিশালী বাংলাদশ গড়ে তুলতে হবে। সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে শক্তিশালী করে আমাদের জাতীয় চেতনা বিভক্ত করার কৌশল চলছে এবং চলবে। তাতে পরাজিত হওয়া যাবে না। বাংলাদেশকে লড়াই করতে হবে সাম্প্রদায়িকতা এবং সাম্রাজ্যবাদ এই দুইয়ের বিরুদ্ধেই। বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রাম বিদেশী কোন শক্তির রাজনৈতিক গুটি হিসাবে কাজে লাগাতে দেয়া যাবে না। বাংলাদেশের শিশুদের ভবিষ্যত কোনভাবেই ফিলিস্তিন অথবা সিরিয়ার শিশুদের মতো হতে দেয়া যাবে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “ফিলিস্তিন পরিস্থিতিঃ মধ্যপ্রাচ্যের জিও পলিটিক্স এবং গণমানুষের ভবিষ্যত

  1. চমৎকার বিশ্লেষণ। কাদের মোল্লা
    চমৎকার বিশ্লেষণ। কাদের মোল্লা ইস্যুতে বিশ্বের মানবতাবাদী এবং জাতিসংঘ যত তৎপর ছিল, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ঠিক ততটাই নীরব।

  2. ইসরাইল ইস্যু নিয়ে বেশ ক’দিন
    ইসরাইল ইস্যু নিয়ে বেশ ক’দিন একটু হাউকাউ হবে, অনেকে মানবতা বেচে মুড়ি খাবে, অনলাইনে বিপ্লব হবে, জাতিসংঘ সহ বিভিন্ন মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থাগুলোর মা বাপ দোচানো হবে… ব্যস ক’দিন পরেই সব ঠিকঠাক। প্রোফাইল পিক আগের রূপ ধারন করে সবাই নতুন ইস্যু নিয়ে মেতে উঠবে।

    * এনিওয়ে, তথ্যসমৃদ্ধ এবং বিশ্লেষণধর্মী পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ।

  3. পারভেজ ভাই, অসাধারণ বিশ্লেষন।
    পারভেজ ভাই, অসাধারণ বিশ্লেষন। ফিলিস্তিন-ইসরাইল সমস্যার অন্তরালের অনেক ঘটনা আপনার এই পোস্টে এসেছে। স্যালুট আপনাকে। শেয়ার দিলাম। সবাইকে শেয়ার দেওয়ার অনুরোধ জানাইলাম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 36 = 37