তালপট্টিতে ১০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং একটি জামাত-বিএনপি-পিনাকীয় প্রোপ্যাগান্ডা

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নিবেদিত সংগঠক আরিফ বুলবুল একটি স্টাটাস দিয়েছেন তার ফেসবুকে। সেটা হলো ‘দক্ষিণ তালপট্টি তো পানিতে তলিয়ে গেছে, ওটা নাই বলে যারা আনন্দ করছেন, তাঁদের একটা সুসংবাদ দেই। ওই জায়গায় ভারত ২০০৬ সালে ১০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত পেয়েছে।’ স্টাটাসটি তিনি ব্লগার পিনাকি ভট্টাচার্য্য’র ফেসবুক স্টাটাস থেকে কপি মেরেছেন। ১০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দুই গাড়ি বা দুই লাখ গাড়ি খিরসাপাতি আম না যে, আপনি বিষয়টি ওভারলুক করবেন। ১’শ ট্রিলিয়ন গ্যাস মানে বাংলাদেশের ১২৫ বছরের জ্বালানি। সো, পরিস্থিতি যদি এরকম স্থানে যায় তাহলে সেটা ভিষন ব্যাপার। কিন্তু যারাই হাইডো কার্বন নিয়ে আমপারা লেভেলের পড়াশুনা আছে তারাই মানবেন যে, দেড় বর্গ কিলোমিটারের একটি হারিয়ে যাওয়া তালপট্টি বা নিউমুর নামক স্থানে ১০০ টিসিএফ কেন ১ টিসিএফ গ্যাস পাওয়াই বিরাট ব্যাপার। কিন্তু এ বিষয়টি নিয়ে জামাত, বিএনপি এবং কিছু না-বুঝ প্রগতিশীল বন্ধুরাও হাউকাউ করছেন। এ কারণে মনে হলো বিষয়টি নিয়ে কিছু কথা বলা দরকার।

ভূমিকার পরিবর্তে নিজের অবস্থান ঘোষণা দেই। তাহলো, বাংলাদেশে হাসিনা অথবা খালেদা যিনিই ক্ষমতায় থাকেন তাতে দেশের স্থলভাগ ও জলভাগে যে সম্পদ পাওয়া যাবে তার মালিকানা কিন্তু আমাদের হবে না। ফলে এই গ্যাস পাওয়ার মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি না। বরং এরকম গ্যাস পেলে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনকো-ফিলিপসই শুধু নয় তাবত সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর কোম্পানি ছুটে আসবে। এমন সব শর্তে তাদেরকে এসব ব্লকগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে তাতে বাংলাদেশের গ্যাস বিদেশীদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক বাজার দরে কিনতে হবে। এবার বলেন, গ্যাস পেলেই বা আমাদের লাভ কি? সে আলোচনা অন্য সময় করা যাবে।

বিলম্বিত বোধের উদয় ভারতীয় মিডিয়ারঃ

রায়ে কিন্তু স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, ভারতের যে বিচারপতি শ্রী নিবাস রাও এই বিচার প্রক্রিয়ায় ছিলেন, তিনি এই রায়ের ব্যাপারে আপত্তি দিয়েছেন। তার বক্তব্য ভারতের হার হয়েছে এ কারণে তিনি নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে রেখেছেন। ভারতের মিডিয়াগুলোর দিকে চোখ রাখুন। প্রথম তিন চারদিনের মধ্যে তারা চুপ। যেনো হজম করতে সময় লেগেছে বাংলাদেশের কাছে হারটা। এ সময় তাদের টেলিগ্রাফ পত্রিকাতো লিখেছে, বাংলাদেশের কাছে ভারতের বিশাল হার। পশ্চিমবঙ্গের সমান জলরাশি পেয়েছে বাংলাদেশ।’ টেলিগ্রাফের লিংক দেখুন।

এরপর মিডিয়া আস্তে আস্তে ঘুরি দাঁড়িয়ে ব্যাটল শুরু করেছে। রায়ে বাংলাদেশের হার না জয় সে আলোচনায় আমি যাচ্ছি না। আমার পয়েন্ট বা ফোকাস লাইন হলো তালপট্টিতে ১০০ টিসিএফ গ্যাসের খবরকে নানান এঙ্গেলে বিশ্লেষণ করে দেখানো।

রায়ের ৮দিন আজ। এখন পর্যন্ত ভারতীয় সরকার কিন্তু কোন মতামত দেয়নি। তারা বলছে যে, তারা পর্যালোচনা করে প্রতিক্রিয়া দেখাবে। ওরে বাবা, ভারতের এতোবড় জয় হলো, ১০০ টিসিএফ গ্যাস পেয়ে গেলো কিন্তু তারা খুশি না? ব্যাপারটি মাথার ওপর দিয়ে গেলো আর কি।

ভারতে গ্যাসের রিজার্ভ কতঃ

পিনাকি ভট্টাচার্য দাবি করছেন তালপট্রিতে ১০০ টিসিএফ গ্যাসের মজুদ আছে। এই মজুদ হলো দেশটির সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র কৃষ্ণা গোধাবেরী মজুদের দ্বিগুন। এখন অংকটা কিন্তু তিনি সোজা করে দিলেন। তাহলো তার দেওয়া লিংক বলছে, ভারতের সর্ববৃহ গ্যাসক্ষেত্র কৃষ্ণা গোধাবেরীর মজুদ তাহলে ৫০ টিসিএফ, তো হিসেবে সহজ দ্বিগুন করে দিন তালপট্টির রিজার্ভ হিসেব মিলে যাবে, এটা ১০০ টিসিএফ হয়ে যাবে। এসব তথ্য তিনি পেয়েছেন ফাস্টপোর্ট নামের একটি ভারতীয় পোর্টাল থেকে

ফাস্ট পোর্ট কেন এ নিউজ করেছে সেই অনুসন্ধানে যাবার আগে আমরা অনুসন্ধান করে দেখবো কৃষ্ণা গোধাবেরির মজুদ কত, তাহলে সেই মজুদকে আমরা দুই দিয়ে গুন করে দেখলেইতো নিউমুর দ্বীপ আমাদের ভাষায় তালপট্টিতে কত গ্যাস আছে সেই মজুদ বের করা যাবে (আদৌ যদি সেখানে গ্যাস থেকে থাকে)।

ভারত সরকার ২০ বছর আগে গ্যাসের সর্বশেষ মজুদ নির্ধারণ করেছিলো। ফলে ২০০৬ সালে গ্যাস পেয়েছে কিন্তু তা রির্জাভের মধ্যে যায়নি তা হতে পারে না। সর্বশেষ গত জুনে ভারতের জ্বালানি মন্ত্রী গ্যাসের রির্জাভ কত পরিমান আছে তা ঠিক করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পড়তে ক্লিক করুন

তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, দেশটির মোট মজুদ ৪৭ টিসিএফ এবং দেশটির সব থেকে বড় গ্যাসক্ষেত্র কৃষ্ণা গোধাবেরির মজুদ সম্পর্কে বলা হয়েছে ১০.৩০ টিসিএফ। এখন যদি আমরা কৃষ্ণা গোধাবেরির ১০.৩০ টিসিএফকে দুই দিয়ে গুন করি তাহলে তা দাড়াবে ২০.৬০ টিসিএফ। ফাস্টপোর্টের বক্তব্য অনুযায়ী যদি তালপট্টিতে গ্যাস কৃষ্ণা গোধাবেরির (১০.৩০ টিসিএফ) দ্বিগুন হয় তাহলে তার পরিমান দাড়াবে ২০.৬০ টিসিএফ।

আরো সুনির্দিষ্ট করে বললে এটা বলা যায় যে, নিউমুর বা তালপট্টিতে আদৌ গ্যাস আছে কিনা এ সংক্রান্ত কোন তথ্য উপাত্ত এ পর্যন্ত দেয়নি ভারত সরকার ও দেশটির গণমাধ্যম। যখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেকার বিরোধ মিমাংসা হয়েছে তার অন্তত চার দিন পর তাদের একটি পোর্টাল দাবি করছে যে, ভারত সেখানে ১০০ টিসিএফ গ্যাস পেয়েছে। ফাস্টপোর্টের খবরটি এনডিটিভিও প্রকাশ করেছে। কিন্তু এনডিটিভি গ্যাসের রিজার্ভের অংকটি বলেনি। এনডিটিভি বলেছে, কৃষ্ণাগোধাবেরির দ্বিগুন। আর কথিত ভারতীয় ডিফেন্স ফোরাম (এটা ভারত থেকে চালানো হয় না) ফাস্টপোর্টের নিউজটি হুবহু কপি এন্ড পেস্ট করেছে। আর এসব লিংকই জামাত বিনএনপি অনলাইনে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

সারা এশিয়াতে প্রমাণিত মজুদ ও সম্ভাব্য মজুদ মিলিয়ে গ্যাস থাকতে পারে ১৩৪.৬ টিসিএফ। এর মধ্যে বাংলাদেশের ৩২.১ টিসিএফ, ভারতে আছে ৪৭ টিসিএফ, বাকিটা শ্রীলংকা, পাকিস্তান ও মিয়ানমারে; এটা বলছে আমিরকা

ভারতীয় গণমাধ্যম অবশ্য বলছে তাদের রির্জাভ আছে ৩৮ টিসিএফ। পড়তে ক্লিক করুন
একটা সাধারণ জ্ঞান জানাই মগজবাজারের ভক্তদের। কৃষ্ণাগোধাবেরির বেসিনের আয়তন হলো ৫০ হাজার বর্গ কিলোমিটার। আর সেখানে রিজার্ভ ১০.৩ টিসিএফ। আর আমাদের সাথে ভারতের বিরোধ ছিলো ২৫ হাজার ৬০২ বর্গ কিলোমিটার নিয়ে। আর যে অঞ্চলটুকু ভারত পেয়েছে ৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার। এই ৬ হাজারের মধ্যে তালপট্টির আশে পাশের ৫০ কিলোমিটারের ভেতরই নাকি ১০০ টিসিএফ পাওয়া গেছে।এই সাধারণ জ্ঞানটুকুই খাটালেই হয়। ভারত স্রেফ আমাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া ওয়ারফেয়ার শুরু করেছে। আর সেই তালে হাওয়া লাগাচ্ছে নয়াদিগন্ত, সংগ্রাম। এমন কি বিএনপিপন্তি জাবির শিক্ষক বুদ্ধিজীবী তারেক শামসুর রেহমান এ নিয়ে যুগান্তরে কলামও লিখে ফেলেছে। কি আর করা। জন্ম যেহেতু বঙ্গতে।

খনিজ সম্পদকে মিডিয়া কিভাবে দেখেঃ

ভারত ১০০ টিসিএফের একটি মজুদ ২০০৬ সালে আবিস্কার করেছে আর এই ব্যাপারটি দেশটির গণমাধ্যম চেপে রেখেছে এটা শুধু পাগল ও শিশুরাই বিশ্বাস করবে। খনিজ সম্পদ বিশেষত হাইডো কার্বন জাতীয় কোন আবিস্কারকে গণমাধ্যম অনেক বড় সংবাদ হিসেবে গণ্য করে থাকে। যে কোন প্রতিবেদন থেকে একটি গ্যাসক্ষেত্র বা তেলক্ষেত্রের আবিস্কারকে অনেক গুরুত্ব দিয়ে তারা ছাপায়। ভারতের প্রতি বছর গ্যাস প্রয়োজন হয় ২.১ টিসিএফ। এ হিসেবে ভারত যদি তালপট্টিতে ১০০টিসিএফ পেতো নিশ্চিত থাকেন ভারত সারা পৃথিবীতে ঢাকঢোল পিটিয়ে তা ফলাও করে প্রকাশ করতো। কারণ এ পরিমান মজুদ দিয়ে ভারতের অনায়সে ৪৫ বছর চলে যেতে পারবে। যাদের জ্বালানি অর্থনীতির ব্যাপারে সামান্যতম ধারণা আছে তারা মানবেন যে, যদি কোন দেশের হাতে ৫০ বছরের জ্বালানি মজুদ থাকে সে কাউকে পরোয়া করবে না। অথচ এ ব্যাপারে ভারত সরকারের কোন কথাবার্তাই নেই। আফসুস।
ভারতের ‘বিজনেস স্টান্ডার্ড’ পত্রিকা আমাদের জানাচ্ছে দেশটির কাশ্মির সীমান্তের হিমালয়ে তেল পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এটা পত্রিকাটিকে বলেছে দেশটির তেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি। তারা মনে করছে, যেহেতু কাশ্মিরের পাকিস্তান অংশে তেল পাওয়া গেছে তাতে ভারতের অংশেও পাওয়া যাবে। পড়তে ক্লিক করুন।

উপরের শব্দগুলো একটু মন দিয়ে দয়া করে আবার পড়ুন। তেল পাওয়ার কোন নিশ্চিত খবর ওএনজিসি ভারতকে দিতে পারেনি। কিন্তু যেহেতু পাকিস্তান পেয়েছে সীমান্তের ওপারে এ কারণে ভারত অংশেও তেল পাওয়া যাবে। একবার ভাবুন, ১০০ টিসিএফ গ্যাস পাওয়ার খবর তাহলে কতভাবে, কি কি পদ্ধতিতে তারা বলতো। ২০০৬ সালের আবিস্কার। কিন্তু দেশটির কোন সরকারি কর্মকর্তা বা মন্ত্রীর কোন ভাষ্য নেই।

বাংলাদেশের গণমাধ্যম খনিজ সম্পদ প্রাপ্তির খবরকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে থাকে। গত ২৫ জুন সচিবালয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে আমরা চারজন রিপোর্টার (ডেইলি সানের শামীম জাহাঙ্গীর, বাংলানিউজ২৪.কমের সিরাজুল ইসলাম, দৈনিক আমাদের সময়ের লুৎফর রহমান কাকন ও আমি) আটকে ধরি। তার কারণ হচ্ছে এর আগে কনকো-ফিলিপসের প্রতিনিধি দল প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে গেছেন। আমরা প্রতিমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করি, কনকো-ফিলিপস কি বলে গেলো। প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আমাদের জানান, যে কনকো-ফিলিপস ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে ৭ টিসিএফ গ্যাস পেয়েছে এটা আমাদের জানিয়েছে। তবে কিছু শর্ত নিয়ে তারা আলাপ করতে চায়। (বিস্তারিত পড়তে নিচের লিংকে যেতে পারেন)।

এ প্রতিবেদনটি পরের দিন কালের কণ্ঠ সহ অন্যান্য পত্রিকা লিড আইটেম করে। প্রথম আলো যেহেতু ওখানে উপস্থিত ছিলো না সে কারণে নিউজটি ধরতে পারেনি, তারা দুইদিন পরে ভিন্ন অ্যাঙ্গেলে রিপোর্টটি করে। কিন্তু প্রত্যেকের রিপোর্টে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি, হয় প্রতিমন্ত্রী নতুবা পেট্টোবাংলার চেয়ারম্যানের বক্তব্য ছিলো। কিন্তু ফাস্টপোর্টের রিপোর্টটি দেখলে গণমাধ্যমের কর্মী হিসেবে এটি স্রেফ একটি গায়েবি নিউজ হিসেবেই ধরে নিবো। এতো বড় গ্যাসক্ষেত্র ভারতে পাওয়া গেলো কিন্তু দেশটির কোন কর্মকর্তা বা মন্ত্রীর বক্তব্য নেই বা যারা আবিস্কার করলো তাদের কারোরই বক্তব্য নেই। এমন কী এই বিশাল গ্যাস কারা কিভাবে আবিস্কার করলো তার কথাও সেই প্রতিবেদনে নেই। অথবা যৌথ কোন স্টাডি কি হয়েছে কোন দেশের সাথে? আমি বলতে চাচ্ছি তারা এসব বললো কিভাবে বললো। বলার ভিত্তি কি?

ফলে এই নিউজটিকে আমি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের মিডিয়া কূটনীতির একটি চাপ হিসেবেই দেখবো। যতক্ষণ না পর্যন্ত ভারত সরকার বলছে ১০০ টিসিএফ গ্যাসের কথা।

আর একটা তথ্য শেয়ার করে এই বক্তব্যটি শেষ করবো। কোথাও তেল গ্যাস আছে এটা জানার পদ্ধতি হলো টুডি বা থ্রি ডি সার্ভে করা। এটা করতে আকাশ থেকে বিমান ও জলপথে জাহাজ লাগে। এক দুইদিনের ব্যাপার না। দিনের পর দিন এটা করতে হয়। এখন প্রশ্ন হলো টুডি বা থ্রিডি কারা করবে? হয় আপনি বিদেশী কম্পানির কাছে ব্লক আকারে ছেড়ে দিবেন তারা করবে না হয় দেশের রাষ্ট্রায়ত্ব কোম্পানি করবে। যেই করুক আপনাকে পিএসসি করতে হবে। এখন পাশের একটি দেশ পিএসসি করলো আপনারা কেউ জানলেন না, গোপনে করে ফেললো? আসুন সবাই একটি হাসি।

আমাদের দেশে যখন পিএসসি হয় তার পরেরদিন পত্রিকাগুলো খুলে দেখেন এটা প্রধান খবর হিসেবে আসে। ডকুমেন্ট থেকে যায়। আর ওরা করলো কেউ জানলো না। করে থাকলে ওখানে কার সাথে পিএসসি করা হয়েছে তা যদি একটু খুলে বলেন জামাত বিএনপির লোকজন তাহলে আমাদের বুঝতে সুবিধা হয়।

আর তা না হলে রাতের আঁধারে এলিয়েনরা এসে সেখানে টুডি ও থ্রি ডি করে যেসব তথ্য উপাত্ত পেয়েছে তা ভারতকে দিয়েছে। সেই গায়েবি তথ্য দেখে তারা বলতে পারছে যে সেখানে ১০০ টিসিএফ গ্যাস ছিলো।

প্রধানমন্ত্রী ঠিক বলেননিঃ

ভারতের সঙ্গে সমুদ্রজয়ের পেছনে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সরকার গঠন প্রভাব রেখেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যদি জয়ী হতে না পারতাম, তাহলে ভারতের কাছ থেকে সমুদ্রসীমা আনতে পারতাম কি না সন্দেহ। কারণ অতীতের কোনো সরকার এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’ অথচ প্রধানমন্ত্রীর এ তথ্য ভুল। এ কারণে যে নেদারল্যান্ডসের হেগে স্থায়ী সালিসি আদালতের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বিরোধ মামলার শুনানি শেষ হয়েছিল ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর। এরপর সেটি ছিল রায়ের অপেক্ষায়। ফলে ৫ জানুয়ারি নির্বাচিত সরকারের কিছুই করার ছিল না এই রায়ের বিষয়ে। একই সঙ্গে অতীতের কোনো সরকার ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণে উদ্যোগ নেয়নি- এমন বক্তব্যও যথার্থ নয়। কারণ এ বিষয়ে বেশ আগে থেকেই কাজ করছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২০০৩ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে কারিগরি পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছিল। এরপর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলেও তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে বিষয়টিতে বিশেষ গতি আসে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা মহাজোট সরকারের আমলে। সাগরে তেল-গ্যাস ব্লক নিয়ে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় বাংলাদেশ উপলব্ধি করে দেশ দুটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় আর কাজ হচ্ছে না, প্রয়োজন আইনি লড়াই। ফলে এককভাবে এরকম কৃতিত্ব নেওয়াটা ঠিক না।

আ.লীগের উৎসাহ না দেখানোর কারণ কিঃ

গেলবার মিয়ানমারের সাথে বিরোধের সমাধান হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকার যে উৎসাহ দেখিয়েছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সেই উৎসাহ কেন দেখাচ্ছে না নাগরিক হিসেবে এ প্রশ্নটি থাকতেই পারে। সরকার ও আওয়ামী লীগ চুপ থাকার কারণেই বিএনপি জামাত খানিটকা ধন্ধের মধ্যে থেকেছে প্রথম দিকে, এরপর তারা তারস্বরে চেচানো শুরু করেছে যে বাংলাদেশ হেরেছে ভারতের সাথে। কিন্তু আমার মতটা ভিন্ন।

আওয়ামী লীগ বান্ধব ভারতের কংগ্রেস সরকার এখন আর নেই। মোদি যে খুব পছন্দ করেন হাসিনাকে, এটা ভাবারও কারণ নেই। এর মধ্যে যদি বাংলাদেশ বিশাল সাফল্য বলে চিল্লানো শুরু করেন তাহলে তার ফল ভারত সরকারের জন্য ভালো হবে না। অপ্রস্তুত হবে মোদি সরকার। মোদিকে চটাতে চায়নি হাসিনা। এ কারণেই চুপ আছে। এটা এমন হয়েছে, ‘ঝিনুক নিরবে সহ’।

কেন মার্কিন তথ্যের ওপর আস্থা রাখবোঃ

মার্কিনীদের আমি খুব পছন্দ করি এ কারণে তাদের দেওয়া তথ্যে আমি খুব আস্থাশীল এমন করে কেউ আশাকরি ভাববেন না। তেল-গ্যাস বা হাইডো কার্বন নিয়ে সারা দুনিয়ায় মার্কিনীদের কাছে সব তথ্যই আছে বলে আমি মনে করি। তাদের দেওয়া তথ্যগুলো বেশ খানিকটা নির্ভূল। তাদের দেওয়া তথ্যগুলো বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হুবহু মিলে গেছে, এ কারণে তাদের দেওয়া তথ্যের ওপর আস্থা রাখছি।

সারা পৃথিবীতে কতখানি তেলগ্যাস আছে তার হিসেব রাখার জন্য আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠান আছে নাম ‘us geological survey’, তারা ২০০১ সালে একবার বলেছিলেন বাংলাদেশে ৩২.১ টিসিএফ গ্যাস আছে। এর মধ্যে স্থলভাগে আছে ২৩.৩ টিসিএফ আর সাগরভাগের ২০০ কিলোমিটারর মধ্যে আছে ৮.৮ টিসিএফ। এতো গ্যাস আছে এই অজুহাতে তখন বাংলাদেশ থেকে ভারতে গ্যাস বিক্রির কথা আসে। তখনই একপ্রকার টাউট বুদ্ধিজীবী দেশে ছড়াতে থাকেন বাংলাদেশ গ্যাসের ওপর ভাসছে। মাটির নিচে রেখে লাভ কি বেচে দেওয়াই ভাল।

জাতীয় কমিটির বিরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে কিন্তু ভারতে গাস পাচার হয়নি। সে আরেক কথা
কিন্তু আমেরিকার ‘us geological survey’র করা জরিপে (এই জরিপ পেট্টোবাংলা ও তারা মিলে করেছে) ও হিসেবে যেখানে যেখানে যে পরিমান গ্যাসের কথা বলা হচ্ছে সেখানে সেই পরিমান গ্যাসের আধার/ট্রেস পাওয়া যাচ্ছে।

১০ ও ১১ নম্বর ব্লকটি দেওয়া হয়েছিলো মার্কিন কোম্পানি কনকো-ফিলিপসকে। ২০০’শ কিলোমিটার সাগরের মধ্যে এখান থেকে us geological survey অনুযায়ী গ্যাস থাকার কথা ৮.৮ টিসিএফ। সম্প্রতি কোম্পানি জানিয়েছে যে, সেখানে ৭ টিসিএফ গ্যাস টু ডি’র মাধ্যমে চিহ্নিত করা গেছে। পড়ুন আমার নিজেরই করা এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন কলের কণ্ঠে

তার মানে আমেরিকা বলেছিলো যে ওখানে ৮.৮ টিসিএফ গ্যাস আছে সেখানে ইতিমধ্যে ৭ টিসিএফের খবর পেয়েছে কনকো-ফিলিপস। এ কথার অর্থ হলো আমিরকার কাছে সারা পৃথিবীর তেল গ্যাসের হিসেব আছে। দেখুন মার্কিনীরা আমাদের তেল গ্যাস সম্পর্কে কি বলছে

ঠিক এ কারণে ভারতের তেল গ্যাস নিয়ে ভারত সরকারের পরেই আমি আমেরিকার তথ্যকে গুরুত্ব দিবো। আমেরিকা তাদের অনুসন্ধানে তালপট্টিতে ১০০ টিসিএফ গ্যাস আছে তা কিন্তু বলছে না। ভারত সরকার কোথাও বলেনি যে নিউমুর বা তালপট্টিতে তাদের ১০০ টিসিএফ গ্যাস আছে। ভারতের কোন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী কি প্রেসকে এরকম তথ্য দিয়েছে যে আমাদের এখানে ১০০ টিসিএফ গ্যাস আছে? আমি অন্তত জানি না। কিন্তু আমার দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আমাকে সহ আরো দুটি প্রেসকে সচিবালয়ে বলেছে যে সাগরের ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে ৭ টিসিএফ গ্যাস কনকো-ফিলিপস পেয়েছে। যদি সত্যিই ১০০ টিসিএফ তারা পায় তাহলে তারপাশে আমাদের এসএস১ ব্লক আছে, একদম কোলঘেষে, আমরা অন্তত ৫০ টিসিএফ পাবো মনে রাখবেন। নিশ্চিত করেই মনে রাখেন আমরা সেখানে পাবোই।

শেষ বক্তব্য, আমরা আমাদের যে অংশ পেয়েছি সেখানে যতই তেল গ্যাস পাই তাতে কি লাভ আছে? লাভ নেই যদি মালিকানা থাকে আমিরকার হাতে।

তালপট্টি নিয়ে হারানো সুর না গেয়ে বরঞ্চ যা পেলাম সেখান থেকে তেল গ্যাস যা পাবো তা আমাদের থাকবে কিনা তাই নিয়ে লড়াইটা প্রয়োজন। পিকিংপন্থি মুক্তিযোদ্ধা, ইপিসিপিএমএল এর গুরুত্বপূর্ন নেতা এবং সমুদ্র বিষয়ক প্রথম লড়াকু যোদ্ধা ও বিশেষজ্ঞ নূর মুহাম্মদের ফেলোম্যান হিসেবে তিনি আমাদের এটাই শিখিয়েছেন, এই সাগরের ওপর যে অধিকার আমরা পেলাম তাকে কাজে না লাগোতে পারলে কোন বিজয় অর্থবহ হবে না।

ভারত দুটি ব্লক হারিয়েছেঃ

ভারতের ৩২ টি ব্লকের মধ্যে এই বিরোধ নিস্পত্তির পর ভারত ২০ ও ২১ নম্বর ব্লকটি হারিয়েছে সম্পূর্ণভাবে। ব্লক দুটি এখন বাংলাদেশের মধ্যে পড়েছে। শুনে আশ্চর্য্য হচ্ছেন? এ বিষয়ে সকালের খবর পত্রিকার প্রতিবেদনটি পড়ুন। আর নিচের ম্যাপটি মিলিয়ে দেখুন।

ছাগলে কাঠালপাতাই খায় না, গ্যাস ও খায় : আমি জানি ছাগলে যা পায় তাই খায়। কিন্তু ঢাকায় এসে জানলাম সে শুধু কাঠাল পাতা খায়। এ কারণে নাকি মগবাজার এলাকাতে কোন কাঠাল গাছ নাই সেই ৭১ এর আগে থেকে। যা হোক, আমি আমার পরিচিতদের বলি ছাগলে যা পায় তাই খায়। এমন কী যদি ফ্রিতে গ্যাসও পায়। দেশে ছাগলের সংখ্যা সংখ্যাগতভাবে বাড়ছে। তালপট্টির গ্যাস যদি তারা খেয়ে ফেলে তাতে আশ্চায্য হবার কিছু নেই। ছাগলগুলোকে অপারেশন করলে পেট চিরেই হয়তো কেবল ১০০ টিসিএফ গ্যাস বের করা সম্ভব। তা না হলে দেড় বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ১০০ টিসিএফ গ্যাস পৃথিবীর আর কোন ধরাধাম রাখতে পারবে না। সম্ভবও না। এটা একমাত্র ব্লাক বেঙ্গল গোট দ্বারাই সম্ভব।

ওহে আদম ও ইভ জাতি, ন্যায় সংগ্রামের জন্য মিথ্যা কথা বলার দরকার নেই। ফটোশপে ছবি কাটাকুটি করার দরকার নেই। ন্যায় সংগ্রামের জন্য একটি শব্দই যথেষ্ট। পৃথিবীর কোন ন্যায় সংগ্রাম মিথ্যা দিয়ে পরিচালিত হয়নি, সম্ভবও না। বরং তোমাদের মত চারপায়ে জীবেরা এইসব ঝাড়ফুক তুকতাক তথ্যের কারণে ন্যায় সংগ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের সক্ষমতায় তেল গ্যাস আমরাই তুলবো। বিদেশীদের দিবো না এই চেতনার জন্য মিথ্যা, ভন্ডামির আশ্রয় নেওয়ার দররকার নাই। বোঝা গেলো?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২২ thoughts on “তালপট্টিতে ১০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং একটি জামাত-বিএনপি-পিনাকীয় প্রোপ্যাগান্ডা

  1. সমদ্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠা
    সমদ্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশের মধ্যে প্রায়ই যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারত এবং মিয়ানমারের সাথে যেভাবে এই ইস্যুটি মিটিয়ে নিয়েছে তা প্রশংসার দাবী রাখে নিঃসন্দেহে। যারা ত্যানা প্যাচানোর তারা প্যাচাবেই। ওইসব নেড়ি কুত্তার ঘেউ ঘেউ শুনে কাজ নাই।

    চমৎকার তথ্যবহুল লেখার জন্য তুহিন ভাইকে ধন্যবাদ।

    1. ধন্যবাদ দিয়ে আর কি হবে? দেশে
      ধন্যবাদ দিয়ে আর কি হবে? দেশে যে হারে ছাগলের সংখ্যা বাড়ছে তাতেতো খাবারের অকাল পড়বে। সেটা নিয়ে চিন্তাই আছি

      1. দেশে যে হারে ছাগলের সংখ্যা

        দেশে যে হারে ছাগলের সংখ্যা বাড়ছে তাতেতো খাবারের অকাল পড়বে। সেটা নিয়ে চিন্তাই আছি

        তুহিন ভাই এইটা কি কইলেন? :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

        1. এটার অর্থ হলো ছাগলতো শুধু
          এটার অর্থ হলো ছাগলতো শুধু কাঠালপাতা খায় না, সামনে যা পায় তাই খায়। এই যেমন তালপট্টির ১০০টিসিএফ গ্যাস তারা যদি না খেতো তাহলে ভারত বা বাংলাতেদশ কেউ না কেউতো পেতো?
          এই হারে যদি মানুষের খাবার খাওয়া শুরু করে তাহলেতো বিপদ। দেশে খাদ্য সংকট হয়ে যাবে

          1. এই যেমন তালপট্টির ১০০টিসিএফ

            এই যেমন তালপট্টির ১০০টিসিএফ গ্যাস তারা যদি না খেতো তাহলে ভারত বা বাংলাতেদশ কেউ না কেউতো পেতো?
            এই হারে যদি মানুষের খাবার খাওয়া শুরু করে তাহলেতো বিপদ। দেশে খাদ্য সংকট হয়ে যাবে

            এইভাবে আপনি ছাগুকুলকে অপমান করতে পারেন না। শুনেছি আপনার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে ঈদের পরে তারা আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছে :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

  2. পিনাকিদের কাজ হচ্ছে
    পিনাকিদের কাজ হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পিনিক সৃষ্টি করা। জামায়াত-বিএনপি-পিনাকি গংদের গালে বিশাল এক থাপ্পড় মারলেন এই পোস্ট দিয়ে। সাথে ভারতের ঐ নিউজপোর্টালের সম্পাদকের পাছায় কষে একটা লাত্থিও মারছেন বলে মনে হচ্ছে। সম্পাদক ব্যাটা এই পোস্টের সন্ধান পাইলে ভোদকার বোতল নিয়ে বসবে।

    আবারও স্যালুট আপনাকে তুহিন ভাই।

  3. তালপট্টিতে ১০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট

    তালপট্টিতে ১০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং একটি জামাত-বিএনপি-পিনাকীয় প্রোপ্যাগান্ডা

    ছাগলদের প্রোপাগান্ডা শিরোনামেই অর্ধেক পরিস্কার!

    দেড় বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ১০০ টিসিএফ গ্যাস পৃথিবীর আর কোন ধরাধাম রাখতে পারবে না। সম্ভবও না। এটা একমাত্র ব্লাক বেঙ্গল গোট দ্বারাই সম্ভব।

    হা হা হা । ওরা সম্ভবত সারা দেশের তাদের স্বজাতির সবার চেনাকেও(প্রস্রাব) গ্যাস মনে করে হিসাবে ধরে নিয়েছে ।

    চমৎকার তথ্যবহুল পোষ্ট । ওদের প্রোপাগান্ডা রোধে আপনার লিখাটি যতেষ্ট ভূমিকা রাখবে । পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ ।

  4. একটা পুরোনো ঘটনা বলি, কয়েক
    একটা পুরোনো ঘটনা বলি, কয়েক বছর আগে একবার নৌ-বিহারে গিয়েছিলাম। যাত্রা শুরু হয়েছিল চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকে, উদ্দেশ্য মহেশখালী চ্যানেল হয়ে ঘুরে আসা। তো বিশাল জলরাশির মাঝে নিয়ে ইয়ে গাইড বলে উঠলো “ঐ যে ঐ.. ঐটা হলো কুতুবদিয়া..”, সকলের ন্যায় আমিও তাকালাম। দূরে কিছুটা দ্বীপের মতো দেখলাম, এরপর আমিও কইলাম “ঐ যে ঐ..একটা তালগাছ”। গাইড জিগাইলো কৈ, তালগাছ কৈ দেখলেন। আমি উত্তর দিলাম আপনের কথা ধইরা যদি ঐডারে কুতুবদিয়া মানি তাইলে আপনি কেন মানবেন না ঐডা তালগাছ!!!”

    এইরকম ঘটনা প্রায়শই ঘটে আমাদের দেশে, এতোদিন এই বিষয় নিয়ে কিছুই জানতাম না তেমন। তাই মুখ খোলা বাদ দিয়া দ্যাখতেই আছিলাম। আর আইজক্যা তুহিনা ভাইয়ের পোস্ট পইড়া মুখের লাগাম খোলার সিদ্ধান্ত লইলাম। ধন্যবাদ তুহিন ভাই অনেক তথ্যবহুল লেখার পাশাপাশি এইটা উল্ল্যেখ কইরা দেওয়ার জন্য যে ঐদিন মতির কোন চ্যালা ছিলো না বইলাই তারা ভগিযগি নিউজ দিছে।

    তুহিন ভাইরে ঠাডাইয়া স্যালুট :salute: :salute: :salute:

  5. ব্যাপক তথ্য বহুল পোষ্ট।বিএনপি
    ব্যাপক তথ্য বহুল পোষ্ট।বিএনপি জামায়াত পন্থিরা দেশে কিছু অসুবিধা হইতে দেখলেই বইল থাকে বাংলাদেশ ভারতের দালালি করতাছে। আবার ভারতের সাথে কোন ব্যাপারে আপোষ হইলে বা জয় পাইলে মনে করে এটাতে ভারতের কোন চাল। তাদের মধ্যেই ক্ষুতক্ষুতানি বেশী।

  6. ফাটাফাটি পোস্ট তুহিন ভাই।
    ফাটাফাটি পোস্ট তুহিন ভাই। গতকাল রাতে আপনার এই পোস্টের লিংক পিনাকির তালপট্টিতে গ্যাসের মওজুদ নিয়ে যে স্ট্যাটাস দিয়েছিল সেখানে শেয়ার করেছিলাম। ব্যাটা দেখি তব্দা খেয়ে গেছে। ঐ পোস্টে সে আর কোন মন্তব্যই করে নাই। পিনাকি কল্পনাও করে নাই তার রূপকথার গ্যাসের মওজুদের কাহিনীকে কেউ এত দ্রুত নস্যাত করে দিতে পারে!

    তেল-গ্যাস বা প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে জানা না থাকলে আউল-ফাউল কথা বলা উচিত না। মাটির নীচের সম্পদ নিয়ে পিনাকির জ্ঞানের বহর দেখে অবাক হয়ে গেলাম। এরা নাকি আবার সুশীল বা বুদ্ধিজীবি। এই ব্যাটার যদি আক্কেল থাকে তবে আর ভবিষ্যতে তেল-গ্যাস নিয়ে কোন জ্ঞান বিতরণ করতে আসবেনা।

    1. আমি ব্যাক্তিগতভাবে বিশ্বাস
      আমি ব্যাক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, ন্যায় লড়াইয়ের জন্য কোন মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার দরকার পড়ে না। কারণ ন্যায় লড়াই এতো বেশি কঠিন সত্যের ওপর তার ন্যায্যতা তৈরী করে সেখানে অপরপক্ষই বরঞ্চ মিথ্যার নানান গল্প তৈরী করে। ভারত আমাদের মিত্র শক্তি নয়, কিন্তু তাকে মোকাবেলার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেবার কোন দরকার নেই।

      1. ভারত আমাদের মিত্র শক্তি নয়,

        ভারত আমাদের মিত্র শক্তি নয়, কিন্তু তাকে মোকাবেলার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেবার কোন দরকার নেই।

        :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  7. Total 6100 sq kilometre area
    Total 6100 sq kilometre area including South talpotia dip, every single sq kilometer is a more valuable then a gas field. from single kilometer area of sea you can catch huge ton of fish,which price value is more and more from gas. South talpotia island was our own territory, you have to claim to the International Tribunal but reality is that our gov first of all find out that ,this island is no more.this 6100 sq kilometer is gift to India by dog son Hasina. Similarly a few years ago,she had given huge hector of land to India by the name of boundary problem solving, similarly S K Mojib also given distant territory(chit mohol) Dhho gram.

  8. পিনাকির মাথা ও পেটের ভিতর ১০০
    পিনাকির মাথা ও পেটের ভিতর ১০০ টিসিএফ গ্যাস আছে। ওর পাছার সাথে হোস পাইপ ফিট করে গ্যাসের জাতীয় গ্রিডের সাথে সংযোগ করে দেওয়া হোক।

  9. উইকিতে সার্চ দিলাম “লিস্ট অব
    উইকিতে সার্চ দিলাম “লিস্ট অব ন্যাচারাল গ্যাস ফিল্ড” লিখে আর দেখতে পেলাম “ওয়ার্ল্ড লার্জেস্ট নন-এসোসিয়েটেড গ্যাস ফিল্ড“-এর মধ্যে ৬(ছয়) নাম্বারে আছে পিনাকী সাব!!! বিশ্বাস হয়? পেটের মধ্যে এতো গ্যাস লুকাইয়া রাইখ্যা সে পড়ছে দক্ষিণ তালপট্টির পিছে!!!

    অবিশ্বাসীদের জন্য লিংক- লিস্ট অব ন্যাচারাল গ্যাস ফিল্ড

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 2 =