কৈফিয়তনামাঃ ১০০ টিসিএফ গ্যাস তালপট্টিতে নয়, পিনাকী’দের পেটে আছে!

কয়েক দিন আগে ইস্টিশন ব্লগে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম, যার মূলকথা ছিলো তালপট্টিতে ১০০ টিসিএফ গ্যাসের কোন খবর ভারতের কোন গণমাধ্যম দেয়নি। এর সাথে এটাও বলেছিলাম, ১০০ টিসিএফ আবিষ্কার হলে দেশটিতে হৈচৈ পড়ে যেতো। তাদের গণমাধ্যম সেটা প্রচার করতো ফলাও করে। জনাব পিনাকি চক্রবর্তীর স্টাটাসে সূত্র ধরেই এটা বলেছিলাম। লেখাটির নানান ধরনের প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। আওয়ামী লীগ বিরোধী পিকিংপন্থি হিসেবে এই পোস্টটি আওয়ামী লীগের লোকজন পছন্দ করবে স্বাভাবিক। যা সত্য তাই বলেছি, তা যদি আওয়ামী লীগের পক্ষে যায় তাতে কিছুই করার নেই। আমিসহ বাংলার তাবৎ লোকজনও যদি লেখা শুরু করে যে তালপট্টিতে ১০০ টিসিএফ গ্যাস আছে, যদি সেখানে এই পরিমান গ্যাস না থাকে তাহলে শত লেখার পরও তা পয়দা হবে না। মাটির নিচে হাইডোকার্বন জ্বীন ভূতে এনে দেয় না। এটা শফি হুজুরের ঝাড়ফুক তত্ত্বের বিষয় না। এর একটা নির্দিষ্ট ফরমেশন আছে। যাই হোক, জনাব পিনাকি ভট্টাচার্য স্টাটাসে কিছু লিংক দিয়ে ১০০ টিসিএফ গ্যাস রয়েছে বলে প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তার সর্বশেষ পোস্টে বিভিন্ন পত্রিকার লিংক দিয়ে তিনি চরম আত্মতৃপ্তিতে আছেন তালপট্টিতে গ্যাসের মওজুদ প্রমাণ করতে পেরেছেন মনে করে।

এর আগের লেখায় সেই বহুল আলোচিত ফাস্টপোস্টের সংবাদটিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলাম, এ সংবাদটি গায়েবি। এরপর জনাব পিনাকি ভট্টাচার্য গোস্যা করেছেন। তিনি আমার উদ্দেশ্যেই একগাদা লিংক দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, ফাস্টপোস্ট ছাড়াও অনেক লোকাল পত্রিকা দাবি করছে যে তালপট্টিতে ১০০ টিসিএফ গ্যাস আছে। এর মধ্যে আমাদের দেশের পত্রিকারও লিংক রয়েছে। বোঝা যাচ্ছে, মামার ‌উপর দিয়ে বিরাট হ্যাপা গেছে। হারার মধ্যে কোন অসম্মান নেই। সত্যিই যদি আমি এই বিতর্কে হেরে যেতাম তাহলে বিনয়ের সাথে হার স্বীকার করার মত সহনশীলতা আমার আছে। আমি শিখতে চাই প্রতিমূহুতে। কিন্তু দুঃখের সাথে জানাচ্ছি, জনাব ভট্টাচারিয়ার দেওয়া সব লিংকগুলো ধরে ধরে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে তালপট্টিতে ১০০ টিসিএফ গ্যাস নেই। তালপট্টি থেকে ১২’শ কিলোমিটার দুরে আরেকটি জায়গায়, যে জায়গা নিয়ে ভারতের সাথে আমাদের বিরোধ নেই; সেখানে ১০০ টিসিএফ গ্যাস প্রাপ্তির একটা পুরানো খবর ছিলো। গ্যাসের রিজার্ভ বেশি দেখানোর পেছনে রাজনীতি আছে, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু তালপট্টি থেকে ১২’শ কিলোমিটার দুরের একটি বেসিনের মজুদকে তালপট্টি হিসেবে চালিয়ে দেওয়াটা কোনভাবেই ঠিক না। প্রিয় পাঠক, একটু ধৈর্য্য নিয়ে পড়লে বুঝতে পারবেন, জামাত, বিএনপি, হেফাজত, পিনাকিরা কোথাকার মাল কোথায় এনে জুড়ে দিয়েছে। এ যেনো বাশের কেল্লার ফটোশপ। জয়তু বাশেরকেল্লা!
আর আমরাও এমন সাম্বাদিক বোলগার ইছি। তালপট্টির নিচে গ্যাস খুজতেছি গুগুল দিয়ে!!

ফাস্টপোস্ট ও পিনাকী ভট্টাচারিয়ার লিংকগুলোর রিভিউ:
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পর ১০০ টিসিএফ গ্যাসের প্রথম খবর দেয় ফাস্টপোস্ট । এ লেখাটিকে খুব কি বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আছে? লেখাটি তাদের রিপোর্ট নয়, সেখানে তাদের একজন অতিথি লেখক রাজীব শর্মা এটা লিখেছে, যা উপসম্পাদকীয় হিসেবে অনলাইনটি প্রকাশ করেছে। এখন ফাস্টপোস্টের এই লেখক ১০০ টিসিএফ গ্যাসের খোঁজ কই পেলেন? আর এই ১০০ টিসিএফ গ্যাস আসলে কোথা থেকে এসেছে সেই অনুসন্ধান আমরা এই লেখায় করবো। পাঠক একটু ধৈর্য্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন। এসবের আগে ডাক্তার সাহেব যেসব লিংক দিয়েছেন তার রিভিউ করা দরকার। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পর ১০০ টিসিএফ গ্যাসের প্রথম খবর দেয় ফাস্টপোস্টের অতিথি কলামে রাজীব শর্মার যে মতামত কলামটি ছাপা হয়েছে (সংবাদপত্রের ভাষায় এটা ওই নিউজ এজেন্সি বা পত্রিকার নিজস্ব মত নয়। কিন্তু একটি প্রতিবেদন যদি ছাপানো হোত তাহলে ভুল হলেও পত্রিকা তাকে ওন করতে হোত। মতামত কলামের ক্ষেত্রে তার দরকার নেই) তার সূত্র ধরেই বাংলাদেশের পত্রিকাগুলো বড় বড় প্রতিবেদন করেছে। এই প্রতিবেদনগুলো তারা কেন করেছে, কতখানি বুঝে করেছেন একমাত্র তারাই বলতে পারেন। ফাস্টপোর্টে যে তথ্য যেভাবে কোন কোট ছাড়াই পরিবেশ করেছিলেন মতামত কলামে, বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোও একই রকম করেছেন। জনাব পিনাকী সেয়ানা মানুষ, এ কারণে জামাতের পত্রিকাগুলোর লিংক দিলেন না। দিয়েছেন আমি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করি সেই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি সহযোগি প্রতিষ্ঠানের লিংক সহ অনলাইন পত্রিকাগুলোর লিংক। কিন্তু নিউজগুলো এনালাইসিস করে দেখুন, সেখানে ফাস্টপোর্টের মতামত কলামের বাইরে কিছু আছে কিনা? একদম নেই। যে কারণে ফাস্টপোর্টের নিউজটিতে সন্দেহ করে এর আগের লেখায় খারিজ করেছি, সেই একই কারণে বাংলাদেশের নয়াদিগন্ত, সংগ্রাম, ডেইলি ওভজারভারের লেখাগুলো খারিজ করছি।

আর ভারতীয় পত্রিকা ‘নিউজ কারেন্ট এফিয়ার্স’ ফাস্টপোস্টকে কোট করে নিউজ
করেছে ফলে এটা ফাস্টপোর্টের বক্তব্য ছাড়া নতুন কিছু না। দ্য টেলিগ্রাফ ফাস্টপোর্টকে কোড করেনি কিন্তু ফাস্টপোস্টের নিউজটি হুবহু কপিপেস্ট করেছে; শব্দ ̧লোগোও হুবহু এক। সেখানেও সরকারি কোন কর্মকর্তা, মন্ত্রী, সচিবের বক্তব্য নেই এমন কী কোন বিশেষজ্ঞেরও কোন কোট নাই। ফলে এটাও ফাস্টপোর্টকে নকল করা নিউজ, এর সম্পর্কেও নতুন কোন বক্তব্য দিবো না। ভারতের কিছু মিডিয়ার এই প্রচারণাকে আমি চলমান মিডিয়া ওয়ারফেয়ারের অংশ হিসেবেই দেখছি।

এখন বাকি থাকলো নিউএজ ও ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনগুলো যেখানে ১০০ টিসিএফের ঘটনাটি রয়েছে। আর এই প্রতিবেদনগুলোও বহু পুরানো। সো, এই দুইটা নিউজের ক্রেডিবিলিটি থাকতেও পারে। এই ভাবনায় নিউজগুলোকে একটু তল্লাশি চালিয়ে দেখলাম। বিডিনিউজের ক্রেডিট দিয়ে নিউজটি নিউএজ ছেপেছে। এটা নিউ এজের নিউজ না। সেখানে কোনরকম সূত্রের উল্লেখ নেই। নিউএজে ছাপানো বিডিনিউজের নিউজে ১০০ টিসিএফ গ্যাস হাড়িয়াভাঙ্গার মোহনায় আছে এটা বলছে। কিন্তু বিডিনিউজ এ তথ্য কিভাবে পেলো, কোথায় পেলো সে সম্পর্কে সংবাদে কোন সুত্র নেই।

এবার আসি ডেইলিস্টারের জ্বালানি প্রতিবেদক শ্রদ্ধেয় শাহরিয়ার খান’র প্রতিবেদন বিষয়ে। তিনি তাঁর প্রতিবেদনের শুরুতে লিখেছেন ১৫ টিসিএফ গ্যাস প্রাপ্তি আসতে পারে দেশের জন্য। এরপর রিপোর্টের পেটের ভেতর তিনি তথ্য হিসেবে দিয়েছেন, ‘However, the also promises chances of hitting more than 15 tcf gas, as the neighbouring India has discovered at least 100 tcf gas and Myanmar 7 tcf there in recent years.’ শাহরিয়ার ভাই বললেন, যে বঙ্গোপসগারে ১০০ টিসিএফ গ্যাস ভারত পেয়েছে, মিয়ানমার ৭টিসিএফ। কিন্তু এই বক্তব্য কি শাহরিয়ার ভাই লিখলেন, যে এই গ্যাস হাড়িয়াভাঙ্গার মুখের ভেতর পাওয়া গেছে? তিনি তা লিখেন নাই। ডেইলিস্টারের রিপোর্ট পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ডেইলিস্টারের রিপোর্টে কোথাও দাবি করা হয়নি এই ১০০ টিসিএফ গ্যাস তালপট্টিতে আছে। তালপট্টিতে ১০০ টিসিএফ গ্যাস না থাকলেও ভারতে ১০০ টিসিএফের একটা গল্প আছে। কোথা থেকে ১০০ টিসিএফের গল্পটি এসেছে, সেই আলোচনায় পরে আসছি। তার আগে বলি, ১০০ টিসিএফ গ্যাসের শুরুটা যেখান থেকে সেই প্রতিবেদনে যে বক্তব্য আছে এর পরবর্তী যারা এই নিউজ করেছেন, কোন সোর্স ব্যবহার না করে; তারা শব্দগুলো হুবহু একই রেখেছেন। সেই লিংকগুলো নিয়ে পরে আলোচনা করছি।

নিউএজ বিডি নিউজের বরাতে কি লিখেছেন দেখুন

এখানে নীচে কোড করা লাইনগুলো মনে রাখুন, পরে মিলিয়ে নিয়েন। খুব মজা পাবেন,

Indiadiscovered 100 trillion cubic feet of natural gas in a creek about 50km to the south of the mouth of the Hariabhanga in 2006.

এরপর ১০০ টিসিএফের তথ্য যারা দিয়েছেন তারা এই শব্দগুলোই রেখেছেন। তার পর দেখুন হাড়িয়াভাঙ্গার মুখে যে ১০০ টিসিএফ গ্যাস পাওয়া গেছে, তা নাকি কৃষ্ণা গোধাবেরির দ্বিগুন। সে সম্পর্কে লিখেছে,

The natural reserve in this offshore structure is said to be almost twice that of the entire Krishna-Godavari basin which is believed to be India’s biggest offshore gas find after the Bombay High.

এ বক্তব্য ফাস্টপোস্টের মতামত কলামেও ঠিক এভাবেই আছে। অর্থাৎ কৃষ্ণাগোধাবেরির দ্বিগুন। কিন্তু পাঠক,
কৃষ্ণাগোধাবেরি বেসিন (এটা মূলত হবে কৃষ্ণা গোধাবেরি মহানন্দা বেসিন) এর দ্বিগুন হয় তাহলে কিন্তু হাড়িয়াভাঙ্গাতে গ্যাস ১০০ টিসিএফ না ২০০ টিসিএফ হতে হবে। কারণ সেখানে একটি ব্লকের একখানেই পাওয়া গেছে ১০.৩ টিসিএফ। ওই বেসিনে ২০০৬ সালে ১০০ টিসিএফ গ্যাস আবিস্কারের বিস্তর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই তাহলে ঘটনা? পুরোটা জানার জন্য আরো অপেক্ষা করুন।
ভারতের সরকারি দলিলে, মার্কিন দলিলে এবং দেশটির সব পত্রিকা কৃষ্ণাগোধাবেরির রিজার্ভ কৃষ্ণাগোধাবেরি মহানন্দা বেসিনের সম্ভাব্য মজুদ ১০০ টিসিএফ । এই বাক্যগুলোর ওপর একটু মন দিয়ে পড়েন। তাহলে ফাকিটা ধরতে পারবেন। কারণ এ বিষয়ে নিচে আরো তথ্য দেওয়া হবে। বাংলানিউজ২৪.কম নিয়ে বক্তব্য নেই এই কারণে সেই রিপোর্টেও কোন সোর্স নেই। সেই পুরানো রেকর্ড ১০০ টিসিএফ গ্যাস আছে তা আবার হাড়িয়া ভাঙ্গাতে। পড়তে ক্লিক করুন এখানে

আর ডেইলি ওভজারভার তাদের রিপোর্ট শুরু করেছে এনডিটিভির সূত্র দিয়ে। কিন্তু রিপোর্টের মধ্যে যখন ১০০ টিসিএফ গ্যাসের তথ্য দিয়েছে তখন কিন্তু তারা এনডিটিভির সূত্র ব্যবহার করেনি, তারা ফাস্টপোর্টের সেই অতিথি কলামের সূত্র ব্যবহার করেছে। এনডিটিভি কিন্তু তাদের ওই রিপোর্টে বলেনি যে ১০০ টিসিএফ গ্যাস আছে। দেখুন এদের ওয়েব লিংক

কিন্তু ডেইলি ওভজারভারে সংবাদটির শিরোনাম দিয়েছে- Talpatti has 100 trillion cubic feet of natural gas, say Indian media যে সংবাদের শিরোনামই বলে দেয় সংবাদটি তাদের মতামত না। ফাস্টপোর্টের ঐ একই কলামের মতামতকে ওবজারভার আমাদের খাওয়াচ্ছে।

প্রথম প্রশ্ন হলো, ডেইলি ওভজারভার ফাস্টপোর্টের একটি মতামত কলামকে বিশ্লেষন হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তথ্যগুলো আমাদেরকে খাওয়ালেন। কিন্তু এই বিশ্লেষণটি ফাস্টপোর্টের কোন রিপোর্টার করেনি, তিনি ফাস্টপোর্টের একজন পরামর্শক প্রদায়ক লেখক, যা মতামত কলামে ছাপা হচ্ছে। এখন ধরুন, আবদুল গাফফার চৌধুরী দৈনিক কালের কণ্ঠে বদরউদ্দিন উমর ভাইকে নিয়ে একটি কলাম লিখেছেন, যার শুরু হয়েছিলো ‘আল বদরউদ্দিন’। পাকিস্তানের সহযোগী বদর বাহিনীর নামের সঙ্গে যুক্ত করতে গিয়ে তিনি এটা করলেন। এরপর সেখানে উমর ভাইয়ের চৌদ্দগুষ্টি ধুইয়ে দিলেন। এই লেখার মধ্যে যে রাজনীতি আছে তা কী কালের কণ্ঠ ওন করে? যাদের উপসম্পাদকীয় বিভাগ সম্পর্কে ধারণা আছে তারা জানেন, এটা কোন পত্রিকাই করবে না। এ কারণে পত্রিকার এ পাতাটি বহুমতের ধারক হিসেবে বহু মতের মানুষের লেখা ছাপা হয়। কিন্তু ডেইলি ওভজারভারের এ লেখা থেকে মানুষ সেটা বুঝতে পারবে না আদৌ ১০০ টিসিএফের যে তথ্যটা তারা আমাদের পড়ালেন তা আসলে নির্ভরযোগ্য কোন সোর্স থেকে নাকি একজন লেখকের সূত্রবিহীন একটি নিজস্ব মত। পাঠকের কনসেপ্ট তৈরী হয়ে গেলো যে তালপট্টিতে ১০০ টিসিএফ গ্যাস আছে এবং এটা ভারতের মিডিয়াই বলেছে। দারুন যন্তরমন্তর কারখানা। এই পত্রিকাটি কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা শ্রদ্ধেয় ইকবাল সোবহান ভাইয়ের। সংবাদপত্র ছেলেখেলা নয়, এ কারণে একটি শব্দ ছাপা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের বহু কিছু মাথায় রাখতে হয়। ডেইলি ওবজার্ভারেরও উচিত ছিলো তা করা। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলোতে সংবাদপত্র শিল্পে পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে। আমার নিজের রিপোর্ট খুজলেও হয়তো এরকম ভুল বের করা যাবে। তবে পেশাদারী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এ ধরনের সাংবাদিকতা আদৌ কাম্য নয়।

ডেইলি স্টারের নিউজটি তাদের না। ভারতের গণমাধ্যমের সুত্র উল্লেখকরে এটি প্রকাশ করেছে। সংবাদের শিরোনাম দেখলেই এটা স্পষ্ট হয়ে যায়। আর ডেইলি স্টারের এই রিপোর্টের কোথাও বলা হয়নি যে ভারতে ১০০ টিসিএফের গ্যাসক্ষেত্রটি পাওয়া গেছে তালপট্টিতে।

কিন্তু ডেইলিস্টার ভারতের বিজেনস স্টাডান্ড পত্রিকার সোর্স ব্যবহার করে তাদের বরাতে জানাচ্ছেন যে, ভারতের কৃষ্ণা গোধাবেরির বেসিনে ১০০ টিসিএফ গ্যাস পাওয়া গেছে। এখন কৃষ্ণা গোধাবেরির রির্জাভ কত সেটা এর আগের লেখা ও এই লেখায় ওপরে বলা হয়েছে। অর্থাৎ কৃষ্ণাগোধাবেরির রির্জাভ ফটোশপ স্টাইলে চালান করে দেওয়া হলো তালপট্টির ভেতর ।

আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলে রাখি, হাড়িয়াভাঙ্গা থেকে কৃষ্ণাগোধাবেরি ও মহানন্দার দুরত্ব ভাইজান ১২’শ কিলোমিটারের কম হওয়ার সুযোগ নেই। দূরত্ব নিয়ে যারা কাজ করতে পারেন তারা আরো নিখুত বলতে পারবেন। ভারতের এই কৃষ্ণাগোধাবেরি মহানন্দা বেসিন নিয়ে আমাদের বিরোধ ছিলো না। তাই, সেখানে যদি ১০০ টিসিএফ গ্যাস পাওয়াও যায় তাহলে তা হারিয়ে গেছে এটা বলার অর্থ হলো, ‘দয়াল বাবা কলা খাবা, গাছ লাগায়া খাও, পরের গাছের কলা দেখে মিট মিটায়া চাও কেন’? নিশ্চয় যতবড় বাঙালী জাতীয়বাদী ও নব্য বাঙালী চেতনার হোন আপনি, নিশ্চয় দক্ষিণ ভারতের মালিকানা দাবি করে বসবেন না।

১০০ টিসিএফের কথা যারা বলেন:
ভারতে ১০০ টিসিএফের গ্যাসের মার্কিন নথীপত্রেও পাওয়া যাচ্ছে। তবে মার্কিন নথীপত্র আমাদের এটা জানাচ্ছে না এই গ্যাস হাড়িয়াভাঙ্গার তালপট্টিতে। তারা এ বিষয়ে কোন তথ্য না দিয়ে শুধু এক লাইনে বলছেন, ১০০ টিসিএফ গ্যাস পাওয়ার কথা ভারত জানিয়েছে। কিন্তু কোথায় সেই গ্যাস? এ বিষয়ে শুধু বিজনেস স্টান্ডার্ড সবার আগে সরকারি কোড দিয়ে বলেছেন এই গ্যাস কৃষ্ণাগোধাবেরী-মহানন্দা বেসিনে।

মার্কিন নথিতে বাংলাদেশের ওপর বলতে গিয়ে এক লাইনে ভারতের গ্যাসের হিসেবে দেওয়া হয়েছে। দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ নথিতে ১০০ টিসিএফ গ্যাসের কথা বলা হচ্ছে কিন্তু সেটা তালপট্টিতে না । নথিটিতে কোন এলাকায় গ্যাস পাওয়া গেছে নাম না বললেও তারা কন্টিনেন্টাল শেলফের কথা বলছে। এবার আবার ব্যাখ্যা করুন যে কন্টিনেন্টাল শেলফ তালপট্টির মধ্যে পড়েছে, তাইলে কিন্তু আরেক বিপদ ডেকে আনবেন। নাকি এখন কন্টিনেন্টাল শেলফও বোঝাতে হবে।

আপনাদের একজন মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। তার নাম সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী। তিনি সর্বমহলে ইজরায়েল এজেন্ট হিসাবে পরিচিত। ইতিমধ্যে একটা প্যাদানি খেয়ে ৬ বছরের জেল নিয়ে কারাগারে আছেন। তিনি একটা আর্টিকেল লিখেছেন, যেখানে ১০০ টিসিএফ গ্যাস ভারত পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু কোথায় পেয়েছে তা তিনি বলেননি সেই আর্টিকেলে।

আপনাদের মনে রাখা দরকার যে, মিয়ানমার সেন্টমার্টিন পর্যন্ত তাদের তেল-গ্যাস উত্তোলনের জন্য জাহাজ পাঠিয়ে দিয়েছিলো। তখন এ ধরনের নানান লেখালেখি হয় বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোতে। জনাব ডাক্তার পিনাকি’র দেওয়া লিংকগুলো সেই সময়ের।

তবে জনাব পিনাকি ভট্টাচার্য্যের মত হাড়িয়াভাঙ্গার নদীর বুকের ভেতর তালপট্টিতে ১০০ টিসিএফ গ্যাস রয়েছে এরকম নিশ্চিত হয়ে আর কেউ বলেনি।

১০০ টিসিএফের পেছনের গল্প:
ভারতের পত্রিকাগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের পত্রিকাগুলো ১০০ টিসিএফের গল্পই বেশি করেছে। এই গল্প করতে গিয়ে তারা যে ভুলটি করেছে (ভুল ইচ্ছেকৃতও হতে পারে। কারণ তালপট্টি নিয়ে আমাদের বিরোধ রয়েছে। বিরোধের মধ্যে ১০০ টিসিএফ ঢুকাই দিতে পারলে রাজনীতিতে সুবিধা হয়) তাহলো ১০০ টিসিএফ গ্যাস কৃষ্ণাগোধাবের মহানন্দা বেসিন থেকে সোজা ১২’শ কিলোমিটার দুরে তালপট্টিতে চালান করে দিয়েছে। অর্থাৎ এধারকা মাল ওধারকে পাঠিয়ে দিয়েছে। এর জন্য অবশ্য বাংলাদেশের সাংবাদিক ও কলামিষ্টদের কোন পাইপ লাইন স্থাপন করতে হয়নি। শুধু কিছু শব্দ বসিয়ে দিয়েছে।

অবশেষে পাওয়া গেলো ১০০ টিসিএফ:
ভারতের স্টান্ডার্ড পত্রিকা একটি কমপ্লিট স্টোরি করেছে এ ব্যাপারে। দেখুন আমরা যে বার বার সোর্স চাচ্ছি তারা সেটা রিভিল করেছে। এটা হলো আসল রিপোর্ট, বাকিগুলো হলো ওপিনিয়ন। স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার রির্পোটটি পড়লেই বুঝতে পারবেন ১০০ টিসিএফ গ্যাস আসলে কোথায় পাওয়া গেছে!

সেনাশাষিত দেশ মিয়ানমারে কাছে নিউজ করা আমাদের শিখতে হবে। দেখুন তারা কিভাবে সঠিক সুত্র উল্লেখ করে বলছে ভারতের কোন অঞ্চলে ১০০ টিসিএফ গ্যাস পাওয়া গিয়েছে। পড়ুন মিয়ানমার পত্রিকার সংবাদটি

এবার পড়ুন ডেইলি স্টারে ১০০ টিসিএফ গ্যাস ভারতের কৃষ্ণাগোধাবেরি মহানন্দা বেসিনে পাওয়া গেছে।

এই গ্যাস বাংলার দিকে পাইপ লাইনে আসছে পিনাকি বাবু। তবে ওপার বাংলার দিকে। কৃষ্ণাগোধাবেরি মহানন্দা বেসিনের গ্যাস আসছে তবে তা তালপট্টি পর্যন্ত পৌছাবে না। কৃষ্ণার গ্যাস পাইপ লাইনের খোজ খবর নিন এখান থেকে।

আপনারা আর কত ফটোশপ স্টাইল নিউজ কপিপেস্ট করবেন। জনাব পিনাকি গং, একটু সৎ হোন লড়াইয়ে। প্রয়োজনে আমার ভুল ধরে নিন। আর কত শত লিংক চান যে কৃষ্ণাগোধাবেরি মহানন্দ বেসিনে ১০০ টিসিএফ গ্যাসের খবরের? পড়ুন রেডিফের East coast is now world’s latest hydrocarbon capital শীর্ষক এই খবরটিও।

টাইম অব ইন্ডিয়াতে ভারতের বিশেষজ্ঞরা কৃষ্ণাগোধাবেরি মহানন্দা বেসিন সম্পর্কে কি বলছেন জানতে এখানে ক্লিক করুন

এবার দেখুন আইবিএন নিউজে কি বলেছে- RIL finds two gas blocks in east coast. প্রয়োজনে দেখুন গুজরাটের সরকারি সাইটে। ভারতের জ্বালানি বিষয়ক ম্যাগাজিন Offshore-এ কি লিখেছে পড়ুন। ভারতের আরো সরকারি তথ্য পড়তে এখানে দেখুন।

কৃষ্ণাগোধাবেরির ১০০ টিসিএফ কিভাবে যে তালপট্টির মধ্যে ঢুকে গেলো একথা জানতে আমাদের বাংলা সাহিত্যের সেরা উপন্যাসিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘খোয়াবানামা’ মন দিয়ে পড়তে হবে। সেখানে কাৎলাহারের বিল আর বিলের সিথানে থাকা পাকুড় গাছ কেমনে মিলিয়ে যায়। আমি এই উপন্যাস কতবার পড়েছি বিশ্বাস করেন মনে নেই। তবে এটা মনে আছে যে এই উপন্যাস আমি চারবার কিনেছি। দাগিয়ে দাগিয়ে পড়ার কারণে বই ছিড়ে গেছে। আবার কিনতে হয়েছে। অথবা মার্কেজের ‘নিশ্চয়তার শত বছর’ পড়েও দেখতে পারেন। মাকোন্দোর কলা কোম্পানির গুলিতে নিহত শ্রমিকের কথা কেমনে এক সময় মাকোন্দোতে নাই হয়ে যায়। এটা ছিলো ইতিহাসের নাই হয়ে যাওয়া ঘটনার দারুন ব্যাখ্যা। আর পিনাকিদেরটা তার উল্টো, একজায়গার গ্যাস আরেক জায়গা চালান করে দেওয়া। মানুষ পারেও বটে।

এখন আমাদের বিতর্কটা একটা জায়গায় নিয়ে আসতে হচ্ছে। তাহলো, ভারতে
১০০ টিসিএফ গ্যাস পাওয়ার খবর জানা যাচ্ছে। কিন্তু সেটার স্থান তালপট্টি না, তার স্থান কৃষ্ণাগোধাবেরি মহানন্দা বেসিনে। তালপট্টি থেকে এর দূরত্ব ১২’শ কিলোমিটারের বেশি হওয়ার কথা। ভারতের এই অংশ নিয়ে আমাদের কোন বিরোধ ছিলো না। এ অংশটি ভারতের দক্ষিণে। এটা তাদেরই ভূমি। এখন এই কৃষ্ণাগোধাকেরির রিজার্ভ কিভাবে তালপট্টির ভেতর ঢুকে গেলো তা কেবল জনাব পিনাকি ভট্টাচার্য ও জামায়াত-বিএনপি-হেফাজত ইসলাম বলতে পারেন। আমার মাথায় ঢুকছে না।

কৃষ্ণাগোধাবেরি মহানন্দা বেসিনের গ্যাস কিভাবে তালপট্টিতে এলো? এই রহস্যের কিনারা করার জন্য টাকলা রাহাত খান যদি মাসুদ রানাকে মস্কো থেকে সোহানাকে আলিঙ্গনরত অবস্থা থেকে তুলে আনতে পারেন তাইলে কেবল এই রহস্যের উদঘাটন সম্ভব।

এখন কৃষ্ণাগোধাবেরি মহানন্দা বেসিনের ১০০ টিসিএফ-এও ঘাপলা আছে বলে মনে হয়। এখন ১০০ টিসিএফ গ্যাস কৃষ্ণাগোধাবেরি মহানন্দা বেসিনে আছে কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে। কোন খনিজ সম্পদ বিশেত তেল গ্যাস পাওয়া যাবে কিনা তার তিন ধরনের প্রেডিকশান হয়। এক প্রুভেন, দুই প্রভাল তিন প্রসেবেলিটি।

এবার আসুন এ সংক্রান্ত বাংলাদেশের একটি নগদ রিপোর্টের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।

প্রথম তেল খনি আবিষ্কার করলো আ.লীগ : সংবাদ শুনেতো মাথা নস্ট হবার যোগাড়। কারণ আমরা জানি স্বৈরাচার এরশাদের সময় সিলেটের হরিপুরে প্রথম তেল খনি আবিষ্কার হয়েছে। সিমিটার নামের একটি কম্পানিকে তখন কাজও দেওয়া হয়েছিলো। তারা কিছুদিন তেল তুলে চলে যায়। আর সেই পুরানো খনিটিকেই পেট্টোবাংলা আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে না দিয়ে বা তাকে প্রাপ্যস্বীকৃতি না দিয়ে একটি নতুন খনি হিসেবে (পেট্টোবাংলা এটা প্রায় করে। সর্বশেষ করেছে পূর্বাচলের একটি গ্যাসক্ষেত্রে। এই স্থান থেকে এর আগে ৯১ পর্যন্ত গ্যাস তোলা হয়েছিলো। এটা হলো সাফল্য, বেশি ফুলিয়ে ফাপিয়ে দেখাতে গেলে এরকম হয়) পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। তাহলে প্রথম তেল খনি কেমনে আবিষ্কার হয়? প্রথম আলোর রিপোর্টটি অনলাইনে খুঁজে পেলাম না, তারা এটি নিয়ে লিড আইটেম করেছিলো। প্রথম আলোর রিপোর্টটি পেলে বুঝতেন বিষয়টির সাথে কেমন পার্থক্য আছে। প্রথম আলোরটি না পেয়ে সমকালের রিপোর্টটির লিংক দিলাম এখানে। বিডিনিউজেরটা দেখতে পারেন এখানে

এদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই বছরের ডিসেম্বরেই কুপ খনন করে তেল উঠানোর কথা। ওখানে নাকি আমাদের ৪৫ হাজার কোটি টাকার তেল আছে। সেই তেল কিন্তু এখনো উপরে আসেনি। ফলে ’প্রভাবল’ রিজার্ভ হলো এই। বোঝা গেলো? নাকি আবার সূনেত্রের ৪ টিসিএফের রিপোর্টগুলো টেনে দেখাবো। যেখানে পেট্টোবাংলা বলেছিলো ৪ টিসিএফ পাওয়া যাবে সেখানে ১ মিটার ঘনফুট গ্যাস ও পাওয়া যায়নি। বাপেক্স ড্রিলিং করে এফোড় ওপোড় করে ফেলেছে, কিন্তু মাগার গ্যাস মেলেনি। এর মানে এই নয় যে সূনেত্রতো গ্যাস পাওয়ার সব আশা শেষ। প্রভাবল রিজার্ভ এর মানে এই হল এই। আর প্রুভেন রিজার্ভ হলো সুনির্দিষ্ট। যা একমাত্র ড্রিলিং করার পরই বোঝা যায়।

এই একই রিপোর্টটি আমরা যারা খোঁজ খবর করেছিলাম তারা কিভাবে করেছিলাম
সেটা দেখতে এই লিংকে যেতে পারেন। রিপোর্টটি আমি কালের কণ্ঠে, বণিক বার্তার মহিউদ্দিন নিলয়, নিউএজের মঞ্জুরুল আহসান, জনকণ্ঠের মামুন রশীদ, যুগান্তরের হাসান আজাদও করেছিলো। তবে প্রথম আলোর মত নয়। অন্য পত্রিকাগুলোর লিংক পাচ্ছি না। তাই নিজের রিপোর্টের লিংকটা দিলাম।

আপনাদের কাছে অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে, কিন্তু এসব কথা তোলার কারণ হচ্ছে,
দেখুন একটি প্রভাবল রিজার্ভের তেলের খনি কিন্তু বাংলাদেশে নাই হয়ে গেলো। তার
আর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষ্ণাগোধাবেরির ১০০ টিসিএফই যখন ১০.৩
টিসিএফ হয়ে গেছে সেখানে বাংলাদেশের সামান্য ছোট রিজার্ভের একটি তেল খনি
নাই হয়ে গেলে তা অপরাধ না। আর বিদেশী বহুজাতিক কম্পানি তেল-গ্যাসের মওজুদ বেশি করে বলে। কারণ কি জানেন? পিএসসি (প্রডাকশান শেয়ারিং কন্ট্যাক্ট) যখন হয় তখন তাতে নানান কিসিমের শর্ত থাকে যা বিদেশী কোম্পানির পক্ষেই বেশিরভাগ যায়। এর মধ্যে একটি হলো , যতক্ষণ কোম্পানির বিনিয়োগকৃত খরচ না উঠে আসবে ততক্ষণ কোম্পানি একটি নির্দিষ্ট পরিমানের গ্যাস বা তেল (সেটা মোট উত্তোলিত তেল গ্যাসের অর্ধেক) সে বিনিয়োগ বাবদ পাবে যাকে কিতাবী ভাষায় কস্ট রিকভারি বলা হয়ে থাকে। এই কস্ট রিকভারির গ্যাস বাদে বাকি গ্যাসের অর্ধেক অর্ধেক বা তার কম বেশি দুই পক্ষের মধ্যে ভাগাভাগি হবে। যখন কোম্পানির বিনিয়োগকৃত অর্থ উঠে আসবে তখন মোট গ্যাস চুক্তি মোতাবেক দুই পক্ষের মধ্যে ভাগাভাগি হবে। এখন, কোম্পানি এই কারণে বেশি মজুদ দেখিয়ে অধিক গ্যাস তুলে ফেলে। যার ফলে কস্ট রিকভারি শেষ হওয়ার আগেই যদি তাদের গ্যাস শেষ হয়ে যায় তবে তাকে আর সরকারকে প্রফিট গ্যাস দেওয়া লাগে না। প্রতিদিনই কোম্পানির বিনিয়োগ বাড়ে, বাড়তে থাকে কস্ট রিকাভারির মেয়াদ। যেমন শেভরন একটি ৫০০ মিলি লিটারের মাম পানির বোতল কেনে ৩০ টাকা দিয়ে, নিজেরাই প্লেন কিনে সিলেটে যায়, সাংবাদিকদের সিলেটে নিয়ে যায়, স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষাতে ব্যাপক টাকা দেয় ফ্রিতে। আর দিন শেষে এইসব দান খয়রাতের টাকা বিনিয়োগ হিসেবে দেখানো হয় যা গ্যাস বেঁচে বাংলাদেশের কাছ থেকে তুলে নেয়। এইসব করপোরেট ধান্ধাবাজি কেমনে হয় এ সংক্রান্ত নিউজ পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

ভারতেও কস্টরিকভারি নিয়ে দেখুন কত জল গড়ায়। জানতে এখানে ক্লিক করুন।

এ কারণে দ্রুত বিনিয়োগ তুলে সটকে পড়ার জন্য গ্যাসের মজুদ বেশি করে দেখানো
একটি রেওয়াজ। বেশি গ্যাস দেখিয়ে সাগরবক্ষের একমাত্র ক্ষেত্র সাঙ্গু থেকে গ্যাস তুলে সটকে পড়েছে স্যান্টোস। এটা হলো নগদ উদাহরণ।

খামোশ জামাত বিএনপি:
ভাইসাবরা একটু আস্তে চাপা পিটান। এতো আপনাদের ভারত বিরোধীতা সেই আপনারাই বাংলাদেশে ভারতীয় কোম্পানি টাটাকে ডেকে এনেছিলেন জলের দরে গ্যাস দিয়ে কারখানা বসাতে। তারপর আপনারা পাইপ লাইনে ভারতে গ্যাস দিতে
চেয়েছিলেন। আপনারা এতো জাতীয়তাবাদী যাকে বলে, জানে মানে টাইপের সেই
আপনারা এশিয়া এনার্জিকে এ দেশে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছিলেন। আপনাদের বীর সিপাওসালার আমার দেশের সম্পাদক, হেফাজতের তাত্বিক নায়েবি আমির মাহমুদুর রহমান তখন জ্বালানি উপদেষ্টা ছিলেন, তিনি ৯৪ ভাগ কয়লা এশিয়া এনার্জিকে দিয়ে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছিলো।

জাতীয় কমিটির নেতৃত্বে রক্তাত্ব সংগ্রামে দেশ ধ্বংসের সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়। এর জন্য তিনজনের জীবন দিতে হয়েছিলো। গুলিতে আহত হয়েছিলেন ২’শ মানুষ। সেই রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। আপনারা কতটা চুল (পড়ুন হিন্দি শব্দে) ছিঁড়তে পারেন তা আমাদের জানা আছে।

এই সরকার যখন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কোম্পানি কনকো-ফিলিপসের হাতে ১০ ও
১১ নম্বর ব্লক ছেড়ে দিলো তখন আপনারা ঘরের মধ্যে বসে চুল (পড়ুন হিন্দি শব্দে)
ছিড়েছেন? তখনো সেই লড়াই করতে হয়েছে জাতীয় কমিটিকে। যখন সুন্দরবন ধ্বংসের চক্রান্ত চলে আপনারা তখন কি করেন? ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কুত্তার মত কামড়াকামড়ি করেন। আর জাতীয় কমিটির নেতৃত্বে বামপন্থিরা শত শত মাইল হাটেন, মানুষের মতামত তৈরী করেন।
তালপট্টি হারাইনছি কি হারাইনি সেট ভিন্ন বিতর্ক। কিন্তু তালপট্টিতে গ্যাস ছিলো এরকম দাবি করে আলোচনা শুরুর একটি রাজনীতি আছে।
ধরুন, যশোর কোন গ্যাস নাই। এখন যশোর যদি আমরা হারাই তার প্রতিবাদ করবো না? ফলে দৃস্টিভঙ্গিটা আগে দেখতে হবে।
আর এই যে এতো মায়াকান্না তালপট্টিকে নিয়ে হচ্ছে এর ৫০ ভাগ ১০ ও ১১ নম্বর ব্লক নিয়ে একটু করুক না। ওই ব্লকে ৭ টিসিএফ ‌গ্যাসের খবর পাওয়া গেছে। এখন এই গ্যাস বেশি দামে কেনার জন্য হুমকি দিচ্ছে কনকো। যদি বেশি দামে মানে ১ হাজার ঘনফুট প্রায় ৭ ডলার করে না কিনি তাইলে গ্যাস তারা বিদেশী রপ্তানী করবে।
অথচ তাদের সাথে চুক্তি করার সময় এই গ্যাস ৪.২ ডলারে কেনার কথা ছিলো। আমরা যে বিশাল জলরাশী পেয়েছি সেইখান থেকে গ্যাস তুলে বিদেশে পাচার করে দিতে যাচ্ছে কনকো ফিলিপস তার কোন খোজ নাই আইছি তালপট্টি নিয়ে মরাকান্না কাদতে।

এই দেশের মানুষ আপনাদের চেনে। ক্ষমতায় থাকলে আপোষ আর বাইরে গেলে আপনাদের দেশপ্রেম উপচায়া পড়ে; দেশপ্রেম রাখার জায়গা পাওয়া যায় না। কিন্তু যেখানে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সেখানে আপনাদের মুখ সেলাই করা থাকে। আপনারা তখন বাকপ্রতিবন্ধি হয়ে যান। আপনাদের আমরা চিনি। রঙ পরিবর্তনকারী গিরগিটি আপনারা। দেশের খনিজ সম্পদ অকাতরে বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়া ছাড়া আপনাদের আর কোন কন্ট্রিবিউশন নাই এদেশে!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২০ thoughts on “কৈফিয়তনামাঃ ১০০ টিসিএফ গ্যাস তালপট্টিতে নয়, পিনাকী’দের পেটে আছে!

  1. পিনাকিদের নাচন দেখার জন্য
    পিনাকিদের নাচন দেখার জন্য পপকর্ন নিয়ে গ্যালারীতে বসলাম। তুহিন ভাই, এভাবে চুবানি দিলেন দাদাকে। দাদা অনলাইন ছেড়ে দেবে বলে মনে হচ্ছে আপনার এই পোস্ট পড়ার পর।

  2. চমৎকার তথ্য সম্মৃদ্ধ
    চমৎকার তথ্য সম্মৃদ্ধ পোষ্ট।
    জামাত-বিএনপি-হেফাজত ও পিনাকি গং’রা এখোনো ভাও খুইজা বেরাইতেছে। কিন্তু ওরা জানে না সক্কলেরে ভাও দেওন এত সোজা না। জামাত-বিএনপি-হেফাজত ও পিনাকি ভবিষ্যৎ নাস্তিকদের জন্য অবশ্যই পথ প্রদর্শক হইয়া থাকবো। ওগো মতোন আস্তিকগো লাইগাই ইন্টারনেট আর বলোগ, নাস্তিকগো লাইগা না। ওরা আসলে :টাল: :টাল: :টাল: :টাল: :টাল: হইয়া গেছে।

  3. হে হে খেলাতো জব্বর জমছে দেখা
    হে হে খেলাতো জব্বর জমছে দেখা যাইতাছে। প্নিক বাবুরে জিজ্ঞাসা করেছিলাম প্যাডের মইধ্যে এতো গ্যাস লুকাইয়া রাইখ্যা তিনি দক্ষিণ তালপট্টির পিছে লাগলেন ক্যান? প্নিক বাবু পিনিকেই উত্তর দিলেন জয়তু আওয়ামীলীগ, মুজিবীয় অভিনন্দন!!! শ্লার একটা জিনিস বুইঝ্যা পাইনা কল্পকাহিনী মাসুদ রানা সিরিজরেও হার মানাইবো প্নিক সাব।

    তুহিন ভাইরে ধইন্যা। এই জন্যেই ধইন্যা প্নিক সাব যতগুলা লিংকো দিয়া নিজেরে সহীহ প্রমাণ করতে চাইছে তার দ্বিগুন লিংক দিয়া আপনি তারে ঠাইস্যা ধরছেন। এমুন যাতা দিয়া উত্তর দিলেন যে প্নিক সাবরে এক বোতল ভদকা; কোন কিছু মিক্স না কইরাই মারতে হইবো এইসবের প্রতিউত্তর দিতে। অপেক্ষায় রইলাম প্নিক সাবের পিনিক ভরা এসঠেইঠাসের। :-B :-B :-B

    1. ভাই, আমার বহু কাজ জমে আছে।
      ভাই, আমার বহু কাজ জমে আছে। আমারতো কোন কম্পানি নাই। পরের কম্পানিতে শ্রম দাস হিসেবে কাজ করি। সো, আমি হাত ধুয়ে ফেললাম। এরপর তারস্বরে চেচাতে থাকুক। কিছু যায় আসে না। আমি ভারত সরকারের প্রতিনিধীত্ব করে এমন সাইটগুলো দিয়ে ১০০ টিসিএফ এর হিসেব দিয়েছে। ওরা ভারতের সাথে যোগাযোগ করে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রীর মুখ দিয়েইতো বলাতে পারে। কারণ এখন তো মোদি মানে ওদের পছন্দের বা লাইনের সরকার ক্ষমতায়। আমি গেলাম, আমার সব কাজ পড়ে আছে।

  4. অহিদুজ্জামানের দুস্ত পিনাকিকে
    অহিদুজ্জামানের দুস্ত পিনাকিকে এইভাবে কাপড় খুলে না বেতালেও চলতো । বেচারা পিনিক ছুইটা যাবে 😀

  5. কোথাকার কোন পিনাকি, হাম্বারা
    কোথাকার কোন পিনাকি, হাম্বারা আর আপনারা তারে নিয়ে নাচানাচি করে একটা হনু বানায়া দিতাছেন! বাংলাদেশের কোন কিছুতে সে কোন ফ্যাক্টরই না। তার কওয়া কথার কোন মুল্য আছে বলে মনে করি না। তবে ভারত ও মায়ানমারের সাথে সমুদ্রসিমার বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে মিমাংসায় বাংলাদেশের লাভের পরিমান অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি।

  6. কিছু লোক ভাল কাজ করে আলোচনার
    কিছু লোক ভাল কাজ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চাই। আবার কিছু লোক অযথা বিতর্ক করে নিজেকে মিডিয়ার লাইম লাইটে নিয়ে আসতে চাই।

  7. এত বিশাল বিশাল সংখ্যা দেখে
    এত বিশাল বিশাল সংখ্যা দেখে হাসি পায়। হচ্ছে তো সেই পর্বতের মূষিক প্রসব। MBA (মহানদী বেঙ্গল আন্দামান) বেসিনে এখনও অব্দি কি এমন hydrocarbon পেয়েছি আমরা ! এই নিয়ে কত ঝগড়া !……KG তে অবশ্য কিছু পাওয়া যেতে পারে , তবে সেও deepwater drilling –তারও হ্যাপা অনেক, অনেক খরচ। তারসঙ্গে আছে বঙ্গোপসাগরের বাজে ওয়েদার –drill করবো কি, সাইক্লোন সামলাতে প্রাণ যায়। সেই old is gold বম্বে হাই -ই তবু যা কিছু production দিচ্ছে। ….এই তল্লাটে তেমন ভালো hydrocarbon reserve কোথাওই সেরকম নেই তা এতদিনে বুঝে গেছি।

    1. ঠিক কথা। বাজে ওয়েদার। ঝড়
      ঠিক কথা। বাজে ওয়েদার। ঝড় সামাল দেয়া অনেক কঠিন সেখানে। পানির এতো গভীর গ্যাসে ট্রেসগুলো পাওয়া যাচ্ছে যে, তা তুলতে ব্যায় অনেক বেড়ে যাবে। এসব সামলিয়ে ওএনজিসি চমৎকার কাজ করছে। অথচ রাষ্ট্রায়ত্ব এ প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ১৭ বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিলো। অথচ আমাদের বাপেক্সকে সাগরে নামাতেই সরকারের যত ভয়।
      আর একটা বিষয় ১০০ টিসিএফ নট এ ফানি ডিজিট ম‌্যান। ১০০ টিসিফএফ গ্যাস মানে ভারতের মত দেশের ৪৫ বছর আর বাংলাদেশের ১২৫ বছর চলে যাবে।
      কৃষ্ণা গোধাবেরি মহানন্দা বেসিনে ব্লক ৬ সব থেকে বেশি পটেনশিয়াল । তাদের সমগ্র বেসিনে ১০০ টিসিএফের খবর পাওয়া গেলেও এই গ্যাস তোলা আদৌ ইকোমিক্যালি ভায়াবল হবে কিনা তাও দেখতে হবে।
      আবার অনেক স্থানে গ্যাস পাওয়া গেলেও গ্যাস তোলা যাবে না। কারণ গ্যাস বড় আকারে জমতে সেখানে গ্যাস ট্রাপ (গ্যাস ক্ষেত্রের ভেতর তাকে আটকে রাখার শক্ত আধার) থাকতে হয়। সেটা না থাকলে সেই গ্যাস তোলা যাবে না। সো, বিষয়টি এরকম না যে গুগুল দিয়ে সাগরের তলে গ্যাস খুজলে গ্যাস পাওয়া যাবে।

  8. তালপট্টি বিহনে দগ্ধ এই সময়ে
    তালপট্টি বিহনে দগ্ধ এই সময়ে জনাব লুৎফর জামান বাবর সাহেব যদি কাশিমপুরের বাইরে থাকতেন তাহলে হয়ত বলে উঠতেন,

    “Who told you, যে দক্ষিণ তালপট্টি সমুদ্রে ডুবে গেছে।Those are অপপ্রচারস, of so called ব্লগারস। মিস্টার পিনাকী is our তালপট্টি। He carries 100 TCF gas and তেলস।”

    1. পিনাকীরা নাকি এখন গ্যাস থুয়ে
      পিনাকীরা নাকি এখন গ্যাস থুয়ে সেখানে মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের সন্ধানে আছে! স্বাভাবিকভাবেই জলে থাকে মাছ আর শুধু মাছ কেন সবাই জায়গা পেলে প্রজননে লিপ্ত হয়। সুতরাং তারা এই ব্যাপারটাকে ডাইভার্ট করতে মাছের প্রজননে নামছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 4 =