বিএনপি-সিপিবি-বাসদ’র নিবন্ধন বাতিল হচ্ছে!

বিএনপি, সিপিবি, বাসদসহ ২৮ রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যেতে পারে। কারণ এ রাজনৈতিক দলগুলো গত নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আইন অনুযায়ী কোন দল যদি পর পর দুইবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। সরকার যদি মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেয়ও তবে সেখানে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই-ই। কারণ শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাহী ক্ষমতার প্রধান থাকলে বিএনপি সহ এসব দলগুলোর কেউ-ই নির্বাচেন অংশ নিবে না। আর নির্বাচনে অংশ না নিলেই তার নিবন্ধন পদ বাতিল হবে। বৈধ দল হিসেবে বিএনপিসহ এসব দলগুলো কোন কর্মসূচী পালন করতে পারবে না। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ খুঁজে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-এর ৯০-‘জ’ এর ‘ঙ’ ধারা অনুসারে কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল পরপর দুইবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে নির্বাচন কমিশন সে দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। এর আগে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সে সময় নিবন্ধিত ৩৮টি দলের সবগুলোই অংশ নিয়েছিল। গত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলো মাত্র ১৩টি দল, বাকিরা অংশ নেয়নি। অংশ না নেওয়া ২৮টি দলের নিবন্ধন বাতিলের ঝুকির মধ্যে পড়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৪১টি। এর মধ্যে গত দশম জাতীয় নির্বাচনে ১৩টি দল অংশ নেয়। মূলত এই ১৩টি দলই সরকারের মহাজোটে ছিলো। এর বাইরে সদ্য গঠিত বিএনএফ ছাড়া আর কোন দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। বাকি ২৮ দল যদি আগামি নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে।

যাদের নিবন্ধন পদ বাতিল হতে পারেঃ
আগামি নির্বাচনে যে পদ্ধতিতেই হোক সেখানে অংশ নিতে হবে বিএনপি সহ ২৮টি দলের। নিবন্ধন বাচাতে হলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা বাধ্যতামূলক বলেও কমিশন সূত্রে জানা গেছে। নিবন্ধন বাতিলের ঝুকিতে থাকা ২৮টি দলের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -বিএনপি, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি, জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পাটি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি -এলডিপি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট)।

শেখ হাসিনার অধিনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোন সম্ভাবনা বিএনপির নেই। আর এক্ষেত্রে যদি আগাম নির্বাচন দেয়ও আ.লীগ সেখানে অংশ নিবে না বিএনপি। আর অংশ না নিলেই বাতিল হয়ে যাবে তাদের বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন করার অধিকার।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “বিএনপি-সিপিবি-বাসদ’র নিবন্ধন বাতিল হচ্ছে!

  1. আওয়ামিলিগ এবার সুদর প্রসারী
    আওয়ামিলিগ এবার সুদর প্রসারী জাল পেতেছে। নিস্তার নাই। তবে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একটা ফালতু ব্যবস্থা। দীর্ঘ সময়ের জন্য এই ব্যবস্থা গনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে দেয়। বিএনপি একই ভুল দ্বিতীয়বার করবেনা বলে মনে হচ্ছে।

  2. নির্বাচনে আসবা না! না আইসা
    নির্বাচনে আসবা না! না আইসা যাবা কই! ওদিকে লীগ কইতেছে, নির্বাচনে তো আনতে চাইনা, কিন্তু এইসব নিয়ম কানুন শুধু ওদের নির্বাচনের দিকে ঠেলে দেয়।

    1. সংসদে ৯০ দিনের যে একখান
      সংসদে ৯০ দিনের যে একখান ব্যাপার আছে পুরাই সেই মাইনকার চিপা। না এসে যাবে কই? কানে টান পড়লে মাথা আসেই।

  3. সেই সাথে অগা মগা চগা মার্কা
    সেই সাথে অগা মগা চগা মার্কা বাম দলগুলোর নিবন্ধনও বাতিল করা উচিত। সাংগঠনিক দক্ষতার কথা বাদ দিলাম। ৪/৫ জনের এসব দল রাজনৈতিক দূষণ ঘটাচ্ছে। হাজার দশেক সমর্থক না থাকলে দল গঠন করতে পারবেনা- শর্ত দেয়া উচিত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

22 + = 32