ঢাকায় আসছেন জামায়াতী লবিষ্ট নির্লজ্জ মার্কিন ব্যবসায়ী র‌্যাপ

জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধের পক্ষে সাফাই গাইতে আবারও ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিফেন জে র‍্যাপ। আগামী আগস্ট ৫ তারিখে ঢাকা সফরের পরিকল্পনা রয়েছে তার। মার্কিন অ্যাম্বেসি সূত্রে এটা জানা গেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্যালেস্টাইনে যখন মার্কিনীদের মদদে গণহত্যা করছে ইসরায়েল; কোন ধরনের মানাবিধকারের প্রশ্ন সেখানে নেই। শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের লাশের সংখ্যা প্রতিদিনই যেখানে বাড়ছে, সেইরকম সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিফেন জে র‍্যাপের ঢাকা আসাটা হাস্যকর। কারণ, এই মার্কিনী এর আগে ঢাকায় এসে যুদ্ধাপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত করার ব্যাপারে নানান বক্তব্য দিয়েছেন।

এবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোজ নিয়ে জানা গেছে, স্টিফেন জে র‍্যাপ আগেও যে ক’বার বাংলাদেশ সফর করেছেন তখন যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন এবং জামায়াতের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের আইনজীবীদের সাথে আলোচনা করেছেন। তিনি তাঁর আসন্ন সফরেও এমনটি করবেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন অ্যাম্বেসির দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

মার্কিনীরা যা করে:

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারকে সমর্থন করার কথা বলে আসছে। তবে ওই দেশটিও এও বলে, এ বিচার হতে হবে স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। মানবতাবিরোধী অপরাধে আদালতের রায়ে মৃত্যুদন্ড পাওয়া জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার রায় কার্যকর না করতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা তাঁকে বলেছিলেন, ওই রায় আদালতের ও আইনি বিষয়।

বাংলাদেশ মনে করে, মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে দায়মুক্তি পেয়ে আসা ওই অপরাধীদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তবে ওই অপরাধে বিচারের মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে বিচার বানচালে ও তাদের মানবাধিকারের কথা বলে ব্যাপক তদবির চালাচ্ছেন ও অর্থ ব্যয় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের ব্যাপক তৎপরতায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকারবিষয়ক দূতরা বিচারের মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলছেন ও বিবৃতি দিচ্ছেন।

যুদ্ধাপরাধবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত যখন বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছেন তখন ইসরায়েল সব আন্তর্জাতিক আইন-কানুন উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনের গাজায় অভিযান চালিয়ে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র জোরালো ভাষায় এর নিন্দা জানাচ্ছেনা। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মানবাধিকার ইস্যুতে সোচ্চার যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর দেশওয়ারি মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অথচ গাজা ইসরায়েলের দানবীয় অপতৎপরতার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের অধিকারকে সমর্থন দিয়ে দৃশ্যত ওই দেশটির কর্মকান্ডে উৎসাহ যোগাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, স্টিফেন জে র‍্যাপ সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কায় যুদ্ধাপরাধ ইস্যুও নিয়ে বেশ আগ্রহী হয়ে ওঠেন। গত জানুয়ারি মাসে তাঁর শ্রীলঙ্কা সফরের আগে দেশটির একজন মানবাধিকার কর্মী এক খোলা চিঠিতে তাঁকে শ্রীলঙ্কা সফরে স্বাগত জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিত্য নতুন কায়দায় যুদ্ধাপরাধের দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরেন। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন পশ্চিম পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা এদেশে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করছিল তখন যুক্তরাষ্ট্র ছিল নিরব। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল তখন তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষে। পশ্চিম পাকিস্তানের সাহায্যে যুক্তরাষ্ট্র সপ্তম নৌবহর পাঠানোর উদ্যোগও নিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে ভূমিকা রাখা বিদেশি বন্ধু যুক্তরাজ্যের পল কেনেট গত অক্টোবর মাসে ঢাকা সফরকালে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, পশ্চিমা বিশ্ব নিরবতা পালন করে বাংলাদেশে এত গণগত্যা হতে দিয়েছে।

মার্কিনীরা নির্লজ্ব:

সারা পৃথিবীতেই মার্কিনীরা হয় নিজে না হয় তাদের মদদে গণহত্যা হয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্যারালে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হিসেবে মার্কিনীদের উত্থান ঘটে। আর এর পর থেকে ইউরোপ থেকে সাম্রাজ্যবাদীদের নেতৃত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যায়। এরপর থেকেই আমেরিকা একাধিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। তার মধ্যে কোরিয় যুদ্ধ ও ভিয়েতনাম যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। এসব যুদ্ধে মার্কিনীদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ, ইরাক ও আফগানস্তানে তারা হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। প্রতিনিয়ত পাকিস্তানের উপজাতি অধ্যাষিত এলাকায় ড্রোন বিমান দিয়ে হামলা চালিয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে।
প্যালেস্টাইনে ইতিমধ্যে হাজার ছাড়িয়ে গেছে নিহতের সংখ্যা। তবে বরাবরই মতই আগ্রাসনকারী ইসরায়েলের পক্ষ নিয়েছে আমেরিকা। সেই যুদ্ধাপরাধী আমেরিকার বিশেষ দূত র‌্যাপ ঢাকায় আসছেন, বাংলাদেশের আদালতে চলমান যুদ্ধাপরাধের বিচারের ব্যাপারে তাদের নেতিবাচক অবস্থানকে জানানোর জন্য। এক্ষেত্রে আমেরিকার বক্তব্য আর্ন্তজাতিক মানের বিচার হচ্ছে না জামাত নেতাদের। তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘণ করা হচ্ছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “ঢাকায় আসছেন জামায়াতী লবিষ্ট নির্লজ্জ মার্কিন ব্যবসায়ী র‌্যাপ

  1. মার্কিনিরা শেষ মুহুর্ত
    মার্কিনিরা শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত জামায়াতি শুয়োরদের বাঁচাতে ষড়যন্ত্র করে যাবে। আমাদের উচিত এই মার্কিনি জামায়াতি এজেন্ট বাংলাদেশে আসার আগে তীব্র প্রতিবাদ করা। প্রয়োজনে এম্বেসির সামনে দাঁড়িয়ে কালো পতাকা নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানো।

    Go Rab go…….!

  2. বর্তমান বিশ্বে সমস্ত
    বর্তমান বিশ্বে সমস্ত সন্ত্রাসবাদিতার পৃষ্ঠপোষকই হলো আমেরিকা। তাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য একটাই বিশ্বের প্রতিটি দেশেই লেগে থাকুক গোলোযোগ, অন্তত এতে করে তাদের কালো মূখ ঢাকা থাকবে।

  3. আম্রিকান ধান্দাবাজরা
    আম্রিকান ধান্দাবাজরা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। এদের কাজ হলো লবিং করে পয়সা কামানো। যেখানে যতো গন্ডগোল, সেখানেই তাদের পাওয়া যাবে মাছির মতো। সবখানে তারা মানবাধিকারের লিফলেট বেচে বেড়ায়। শুয়োরের বাচ্চাগুলোরে তোয়াজ করার মানুষেরও অভাব নাই। এইসব মানবাধিকার দোচানো ব্যবসায়ীগুলারে ভিসা দেয়া বন্ধ করে দেয়া উচিৎ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

80 + = 83