লীগ-ভারত সমর্থন প্রশ্নে শাহরিয়ার কবিরের সঙ্গে বিতর্ক

[ পাঠ প্রবেশ : শাহরিয়ার কবিরের সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গটি এর আগে অনেকবার এই ব্লগে আলোচনা হয়ে গেছে। কিন্তু সেই সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আলোচনায় আসেনি। বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ এজন্য যে, আমাদের দেশে আওয়ামী লীগকে সমর্থন প্রশ্নে গত কয়েক যুগ ধরে বেশ কিছু যুক্তি দেয়া হচ্ছে। যেগুলো প্রায় হুবহু শাহরিয়ার কবির তুলে ধরেছেন। এবং সেখানে পাল্টা মত নিয়ে আমি তার সঙ্গে বিতর্ক করেছি। দলকানা লীগার না হলে বিএনপি-জামাতের জুজু দেখিয়ে আওয়ামী লীগকে বৈধতা দেয়ার এই রেয়াজ ভাঙার যুক্তি এখানে পাওয়া যাবে। শাহরিয়ার কবির দাবি করেছেন, তিনি ভারতের মিত্র নন। যদিও ৫০ বারের ওপর তিনি ভারত সফর করেছেন। ভারতের সামরিক বাহিনীর লোকেরা সে দেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে যেসব বিষয়ে কথা বলেন না, অনায়াসে শাহরিয়ার কবিরকে তারা সাক্ষাৎকার দেন। তিনি মার্কিনের লোক নন বলেও দাবি করেছেন। কিন্তু মার্কিন সরকারের পরামর্শে সোভিয়েতের পতনের পর পোল্যান্ডের প্রথম রাষ্ট্রনেতা ওয়ালেসা, অন্য কাউকে নয়, তাকেই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন যে, কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানোর রাজনীতি করেন না, কিন্তু আওয়ামী লীগ বাদে অন্যরা ক্ষমতায় থাকলে তার আপত্তি। চীনপন্থীদের বাতিল করে দিতে তার জুড়ি নেই, আওয়ামী বুদ্ধিজীবী হিসেবে মস্কোপন্থীদেরও দলে টেনেছেন, কিন্তু তার দেয়া তথ্য থেকেই দেখা যায়, অধিকাংশ চীনপন্থীরাই মুক্তিযুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশ নিয়েছিল। আশা করি, রাজনীতি সচেতনরা বিতর্কটা উপভোগ করবেন। যদিও ধারাবাহিকতা রক্ষার নিমিত্তে এখানে সামগ্রিক আলোচনাটা আসেনি, তবুও অধিকাংশটাই এসেছে।]

আনিস রায়হান : মুক্তিযুদ্ধে চীনপন্থিদের ভূমিকা সম্পর্কে যা বলা হয় তা কি গড়পড়তা অভিযোগ নয়? তারা তো অনেকগুলো ভাগে বিভক্ত ছিলেন?
শাহরিয়ার কবির : হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, এভাবে গড়পড়তা বলা যায় না। তাদের অনেকেই যুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু বেশিরভাগই করেননি। ’৬৯ সালে যে চীনপন্থিরা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, একাত্তরে তাদের ভূমিকা কী ছিল? স্বাধীনতাযুদ্ধে তারা অংশ নেননি। ’৬৯-এ স্বাধীনতা ঘোষণা করায় মাহবুব উল্লাহর এক বছর কারাদণ্ড হয়েছিল। কিন্তু তিনি একাত্তরে কী করেছেন?

আনিস রায়হান : তারা কেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ভারতের অধীনে যুদ্ধ করবেন? এই যুক্তিটা তো গোড়া থেকেই আসছে। তারা নিজেদের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কোনো কোনো অংশ তো যুদ্ধে নিজেদের নেতৃত্বেই অংশ নিয়েছিলেন।
শাহরিয়ার কবির : হ্যাঁ, এই যুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নিজেদের নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষার অর্থ কী? আবদুল হক তো বলেই দিলেন, দুই কুকুরের কামড়াকামড়ি। তারপর তিনি পাকিস্তানিদের সঙ্গে হাত মেলালেন। আমাদের কাছে আলাউদ্দিন ভাই গল্প করেছেন, পাবনার কোন চরে তিনি পাকিস্তানের কোন কর্নেলের সঙ্গে হেলিকপ্টারে চড়ে নেমেছিলেন। এটা ছিল তার কাছে বলার মতো একটা বিরাট গল্প যে, একজন কর্নেল তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। চীনপন্থিদের রাজনীতির দেউলিয়াপনা আমি দেখেছি। মস্কোপন্থিদের অনেক দুর্বলতা আছে। কিন্তু আমার পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, মস্কোপন্থিরা তাত্ত্বিকভাবে এদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ও সহনশীল।

আনিস রায়হান : সিরাজ সিকদাররা তো যুদ্ধ করেছিলেন। আবার অনেকে এই দেশে ভারতের প্রবেশকে মেনে নেননি, তারও তো একটা তাত্ত্বিক ভিত্তি আছে।
শাহরিয়ার কবির : সিরাজ সিকদার যুদ্ধ করেছেন, এটা আমার বলতে হবে না। সারা জাতি জানে। তোয়াহারা সীমিতভাবে কিছু ক্ষেত্রে নোয়াখালী অঞ্চলে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। বিএম কলিমুল্লাহ, মান্নান ভূঁইয়ারা কুমিল্লা এলাকায় যুদ্ধ করেছেন। মান্নান ভূঁইয়া তখন ন্যাপ ভাসানিতে যুক্ত ছিলেন। চট্টগ্রামে দেবেন, বাশাররা যুদ্ধ করেছেন। তাদের বাহিনী ছিল। আবদুল হকদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ খানরা যুদ্ধ করেছেন। তাদেরও একটা বাহিনী ছিল। যশোরের আমজাদ হোসেনরা যুদ্ধ করেছেন। সেগুলো নিয়ে তার লেখা বইও আছে। আত্রাইয়ে মতিন-আলাউদ্দিনদের মধ্যে অহিদুর রহমানরা যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধ চীনপন্থিরা করেননি, তা নয়, তাদের অনেকেই শহীদ হয়েছেন যুদ্ধে। কিন্তু চীনপন্থি নেতৃত্বের বড় অংশটাই যুদ্ধে পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছিল। আবদুল হক, মতিন, আলাউদ্দিন, টিপু বিশ্বাস- এরা সবাই। কর্মীরা নেতাদের অগ্রাহ্য করেই যুদ্ধে গিয়েছিলেন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যখন কিছু ঝামেলা হলো, এই নেতারা সবাই গিয়ে আত্রাইয়ে উঠলেন। সেখানে তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পরিকল্পনা করে মানুষের মধ্যে প্রচার চালাচ্ছিলেন। দেশ মাত্র স্বাধীন হলো। মানুষ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছে। দেশ পুরোটা ধ্বংসস্তূপ। এই সময় সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ চালানোটা দেশের বিরুদ্ধেই যাওয়া। মোটকথা হচ্ছে, কিছু চীনপন্থি এখানে ওখানে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেও বড় অংশটাই পাকিস্তানের দালালি করেছেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছেন।

আনিস রায়হান : আমরা তো এতদিন উলটো জেনেছি যে, বরং ভারত থকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে চীনপন্থিদেরই হত্যা করা হয়েছিল। সাভারের উপকণ্ঠে সিরাজ সিকদারের লোকদের সাদা পতাকা বৈঠকে ডেকে হত্যা করেছিল ভারত থকে আগত মুক্তিবাহিনীর একটা অংশ। চীনপন্থিদের এভাবে দেশব্যাপী হত্যা করা হয়েছিল। যেহেতু এখানে তাদের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ জিতেছে, তাই সেই ইতিহাসটা নিঃসন্দেহে চাপা পড়ে গেছে। কিন্তু আপনি উলটো তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনীকে হত্যার অভিযোগ আনছেন।
শাহরিয়ার কবির : এফএফ ও মুজিব বাহিনীর সঙ্গে অনেক জায়গাতেই চীনপন্থিদের সঙ্গে যুদ্ধ হয়েছে। যশোরে আমজাদরা তো পাকিস্তানি ও মুক্তি, দুই বাহিনীর বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেছিলেন। অহিদুর রহমানরা এফএফদের সঙ্গে মিলে রাজশাহীতে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন।

আনিস রায়হান : এখানে তো তাদের কাছে দুটো পক্ষই শত্রু ছিল। মুক্তিবাহিনী ভারত থেকে তাদের আশীর্বাদ নিয়ে এসেছে। আর চীনপন্থিরা পাকিস্তান ও ভারত উভয়কেই দেশের শত্রু মনে করছে। তারা কেন তাদের অধিকৃত এলাকায় ভারতের মদদপুষ্ট একটা রাজনৈতিক বাহিনীকে ঢুকতে দেবে?
শাহরিয়ার কবির : তারা তো মাও সেতুং কে অনুসরণ করেন। কিন্তু মাও সেতুং তো জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় তার শত্রু বাহিনী চিয়াং কাইশেকের সঙ্গে যুক্তফ্রন্ট করেছিলেন। এটাই ছিল তার রণকৌশল। এখানে আওয়ামী লীগের যে নেতৃত্ব, তারা তো চিয়াং কাইশেকের মতো পশ্চিমাপন্থি বা অত বড় এন্টি কমিউনিস্ট, কিছুই না। তাহলে তাদের সঙ্গে ঐক্যের লাইন গ্রহণ না করাটাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন? কমিউনিস্টদের বিরাট একটা অংশ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিল। এদেরকে যদি পাকিস্তান আর্মির সঙ্গে এক করে দেখা হয়, তা অবশ্যই ভুল হবে। সেই ভুলের গাড্ডাতেই চীনপন্থিরা ডুবে গেছেন। তাদের তাত্ত্বিক দুর্বলতাটা ছিল চোখে পড়ার মতো। যেহেতু ভারত চীনের শত্রু, সেহেতু সে আমাদের শত্রু। সেই একই কারণে পাকিস্তান আমাদের মিত্র। এটা ভয়াবহ দেউলিয়াপনা।

আনিস রায়হান : রাষ্ট্র হিসেবে ভারত কি বাংলাদেশের বন্ধু?
শাহরিয়ার কবির : রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের বন্ধুত্বটা কূটনৈতিক এবং তা কখনও এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভারতীয়দের কাছেই এ ধরনের কথা শুনেছি। এস কে ব্যানার্জী তখন ভারত সরকারের পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধের পর আমার বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা হতো, তারা প্রশ্ন তুলেছিলেন, এই যে বাংলাদেশের জন্য আমরা এত কিছু করলাম, তারা কতদিন আমাদের বন্ধু থাকবে? ব্যানার্জী তখন বলেছিলেন, বড়জোর চার বছর! তারপর তো আমরা দেখলাম, তিন বছরের আগেই মুজিব ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বকে তোয়াক্কা না করেই পিঠটা ফিরিয়ে দিলেন ওআইসিতে যোগ দিয়ে।

আনিস রায়হান : আমি অবাক হচ্ছি যে, এটা কেন আপনার কাছে একটা খোঁড়া যুক্তি মনে হলো না? আমরা তো দেখছি, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ নিজেদের স্বার্থের আগেই ভারতের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়।
শাহরিয়ার কবির : এটা একতরফা বলছেন। বাংলাদেশ ভারতের পররাষ্ট্রনীতির জন্য তেমন কিছুই না। তারা সারাক্ষণ বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, এটা কোনো কাজের কথা নয়। আমি মোটামুটি সব ধরনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই গেছি। এখন এই বয়সে এসে অভিজ্ঞতাগুলোকে গুছিয়ে সহজেই সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারছি। যা নিয়ে অধিকাংশ মানুষই বিভ্রান্তিতে থাকেন।

আনিস রায়হান : আপনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই প্রশ্নটা করছি, অভিযোগ আছে যে, আপনি ভারতের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করেন। এখানে যা বললেন, তাও কিন্তু ভারতের পক্ষেই গেল।
শাহরিয়ার কবির : এটা আমার বিরুদ্ধে একটা ঢালাও অভিযোগ। বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক অনেক বিষয় আছে বিরোধপূর্ণ। এগুলো নিয়ে তো বটেই, এর বাইরেও ভারতের যতগুলো ভ্রান্তনীতি আছে, প্রত্যেকটা বিষয়ে আমার সুস্পষ্ট অবস্থানসম্বলিত লেখা রয়েছে। ভারতের সফলতাগুলো নিয়েও আমার লেখা আছে। আমাকে যারা ভারতের লোক বলে তারা জানেই না যে, ভারত আমাকে দীর্ঘদিন ভিসা দেয়নি। ‘বিচিত্রা’য় একবার আমরা প্রচ্ছদ করেছিলাম- ‘বিচ্ছিন্নতার পথে পূর্ব ভারত’। এই লেখা প্রকাশের পর ভারতের হাইকমিশন পাঁচ বছর আমাকে ভিসা দেয়নি। ২০১১ সাল থেকে তারা আমাকে ভিসা দিচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান নিয়ে যখন সিনেমা বানাচ্ছি, তখন ভারতে যাই সার্ক ভিসা নিয়ে। নতুন কমিশনার রাজীব মিত্র যখন এলেন, তিনি বললেন, কালো তালিকা থেকে আপনার নাম কাটা হয়েছে। আপনাকে এখন আমরা ভারতে স্বাগতম জানাচ্ছি। আমি বললাম, দুঃখিত। যেভাবে আপনারা আমাকে অপমান করেছেন। আমি আর এর মধ্যে ঢুকতে চাচ্ছি না। ভারতের সঙ্গে আমাকে সম্পর্ক রাখতে হবে অনেক কারণেই। তারা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। ভারত মানে ভারতের মানুষ, সেখানকার নাগরিক সমাজ, ভারত সরকার না। তবে আপনার মধ্যে যা দেখলাম এবং এটা আমি ছোটবেলায় আমার ঘর থেকেই দেখা শুরু করেছি, কর্মক্ষেত্রেও দেখেছি- কট্টর ভারত বিরোধিতা। এটা কোনো সমাধান আনবে না। বরং আমাদের পাকিস্তানের কোলে ঠেলে দেবে। আওয়ামী লীগ বিরোধিতা করতে গেলে আমাদের জামায়াতের কোলে গিয়ে বসতে হবে।

আনিস রায়হান : আমার কাছে মনে হচ্ছে, আপনি বিদ্যমান বাস্তবতাকেই সব মনে করছেন। যার ফলে বিদ্যমান বাস্তবতা ভেঙে যে নতুন বাস্তবতা আসতে পারে, তা আপনার চোখে পড়ছে না। আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে, আওয়ামী লীগই আমাদের একমাত্র ভবিতব্য। তাকে বিরোধিতা করলেই গন্তব্য হয়ে যাবে জামায়াত। সেক্ষেত্রে তো এই পরিস্থিতি আর কখনওই পাল্টানোর সুযোগ থাকছে না। যারা এই বলয়ের মধ্যে সমাধান পাচ্ছে না, তারা অবশ্যই আপনাকে প্রত্যাখ্যান করবে। কারণ আওয়ামী লীগ ও ভারতকে সমর্থন দেয়া ছাড়া সমাধানের কোনো পথ দেখাতে পারছেন না।
শাহরিয়ার কবির : দেখুন, আওয়ামী লীগ বা ভারতের বিরোধিতা করছি না, এটা ঠিক না। কিছুদিন আগে আইনমন্ত্রী বললেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা ট্রাইব্যুনালের পক্ষে সম্ভব না। প্রধানমন্ত্রীও একই কথা বললেন। এখানে আমরা ছাড়া কোন সংগঠন আছে, যারা এর বিরোধিতা করেছে? আমি সরাসরি বলেছি, প্রধানমন্ত্রী আইন বোঝেন না। আইনমন্ত্রী ভুল বলেছেন। সেই ভুলটা তাকে ঠিক বলে বুঝিয়েছেন। তিনি তাই বুঝেছেন। সরকারের ভুল থাকলে তার সমালোচনা অবশ্যই করি। কিন্তু অন্ধ আওয়ামী বিদ্বেষ আমি সমর্থন করি না।

আনিস রায়হান : আপনি বিষয়টা এভাবে দেখছেন যে, আইনমন্ত্রী ভুল বলেছেন এবং ভুল বোঝানো হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীও একই ভুল করেছেন। আমরা তো বিষয়টাকে এভাবেও দেখতে পারি যে, শেখ হাসিনা নিজেই আইনমন্ত্রীকে এগুলো বলতে বলেছেন। আইনমন্ত্রী চাপে পড়ার পর তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আসলে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা সরকার করছে না। তাহলে বিষয়টা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
শাহরিয়ার কবির : তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াচ্ছে। এভাবে দেখলে আমাকে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হচ্ছে। গণজাগরণ মঞ্চের ইমরান এইচ সরকার যা বলেছিল, টেনেহিঁচড়ে এই সরকারকে গদি থেকে নামাতে হবে, আমাকেও সেটাই বলতে হবে তাহলে। কিন্তু তা দ্বারা কী হবে? টেনেহিঁচড়ে হয়তো সরকারকে নামালাম, কিন্তু ক্ষমতায় আসবে জামায়াত-বিএনপি, অন্য কেউ নয়। এই কথাগুলো আমি ইমরানকেও বলেছি। এর দ্বারা তো আমাদের কেউ বা কোনো বন্ধু ক্ষমতায় আসছে না। তাহলে লাভবান কে হচ্ছে?

আনিস রায়হান : এভাবে যদি আমরা যুক্তি দিতেই থাকি, তাহলে তো আওয়ামী লীগের আর কোনো বিকল্প কোনোদিনই তৈরি হবে না। আওয়ামী লীগ যে শাসন জারি রেখেছে, তা যত অন্যায়ই হোক, তার অধীনেই আমাদের থাকতে হবে।
শাহরিয়ার কবির : আমি কেবল যুদ্ধাপরাধের বিচারের ক্ষেত্রেই এই কথাগুলো বলছি। সরকারের অন্য কোনো নীতির বিষয়ে তো আমি বলছি না।

আনিস রায়হান : যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য তো আপনি আওয়ামী লীগের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বলছেন। ক্ষমতায় গেলে তো অন্য সবই তা করে। যেটা করে না, ঝুলিয়ে রাখে সেটাই হচ্ছে যুদ্ধাপরাধের বিচার। আপনি যদি মনে করেন যে, বিচারের জন্য আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে, তাহলে তার অন্য কোনো অন্যায়ের জন্য তো আপনি তাকে ক্ষমতা থেকে নামাতে পারবেন না। এর মধ্য দিয়েই তো তাকে অন্যায় করার বৈধতা দিচ্ছেন।
শাহরিয়ার কবির : বৈধতা দেয়া না দেয়ার কিছু নেই। তারা ক্ষমতায় আছে, এটাই বৈধতা। বামরা যতক্ষণ পর্যন্ত বিকল্প শক্তি হিসেবে না দাঁড়াচ্ছে, ততক্ষণ তো কিছু করার নেই। আমি জামায়াত-বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চাই না। তারা তো ক্ষমতায় এসে আমাদের পিটিয়েছিল। জেলে ঢুকিয়েছিল। নির্মূল কমিটির ৫০০’র ওপর নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।

আনিস রায়হান : বামরা যদি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখে নিজেরা বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত হওয়ার চেষ্টা করে, আওয়ামী লীগ তাদের ধ্বংস করে দেবে না? এটাই তো সাধারণ রাজনৈতিক হিসাব।
শাহরিয়ার কবির : না, আমি তা মনে করি না। বরং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই আমি অন্তত এইটুকু নিরাপত্তা বোধ করি যে, আমাকে পুলিশ ধরে নিয়ে পেটাবে না বা জেলে ঢোকাবে না।

আনিস রায়হান : কিন্তু অন্যদের পুলিশ ঠিকই পেটায়। আপনাকে তাদের লোক মনে করে বলেই হয়তো পেটায় না।
শাহরিয়ার কবির : না, ওই জায়গাটা সবার জন্যই আছে। আপনাকে কেন পেটাচ্ছে না? কেন বদরুদ্দীন উমরকে পেটাচ্ছে না, কেন আনু মুহাম্মদকে পেটাচ্ছে না? তারা তো সরকারের গুষ্টি উদ্ধার করছেন।

আনিস রায়হান : আনু মুহাম্মদ, বদরুদ্দীন উমররা বা তাদের অনুসারী সংগঠনের লোকেরা কিন্তু নিয়মিতই মার খান। আমার ধারণা, তাদের রাজনীতি এখন অতটা চাঙা না বলেই তারা মার খাচ্ছেন না। চাঙা হলে র‌্যাব সেই রক্ষিবাহিনী হয়ে যাবে, এতে আমার কোনো সন্দেহ নেই।
শাহরিয়ার কবির : আপনি যদি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেকার চরিত্রগত পার্থক্যগুলোকে চিহ্নিত না করতে পারেন, তখন এই সমস্যাটায় পড়বেন। তবে এদের মধ্যে পার্থক্য অবশ্যই আছে। মার্ক্সবাদীরা বলে যে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত- সবই বুর্জোয়াদের দল এবং এরা সবাই সাম্রাজ্যবাদের দোসর। আমি এই মত সমর্থন করি না। আমার ইস্যু ভিন্ন। আমি চাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। এটা করতে গেলে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার দরকার। তারা পার্থক্য খুঁজে না পেলেও আমি পাই। কীভাবে পাই, তা আগেই ব্যাখ্যা করেছি। আমি তো ক্ষমতায় যেতে চাই না যে, আওয়ামী লীগকে ফেলতে হবে! আমি তো ক্ষমতার রাজনীতি করি না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৬ thoughts on “লীগ-ভারত সমর্থন প্রশ্নে শাহরিয়ার কবিরের সঙ্গে বিতর্ক

  1. সব রসুনের কোয়া আলাদা, কিন্তু
    সব রসুনের কোয়া আলাদা, কিন্তু পাছা এক।

    আপনি যদি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেকার চরিত্রগত পার্থক্যগুলোকে চিহ্নিত না করতে পারেন, তখন এই সমস্যাটায় পড়বেন। তবে এদের মধ্যে পার্থক্য অবশ্যই আছে।

    পার্থক্যটা কি? আমি অনেক খুঁজেও কোন পার্থক্য পেলাম না।

  2. শাহরিয়ার কবির একটা
    শাহরিয়ার কবির একটা আওয়ামীপন্থি সুশীল! তিনি কানা এবং অন্ধ!
    উনি ৭১ দেখেন ঠিকই, কিন্তু বর্তমান দেখেন্না। বর্তমান বাংলাদেশ ফ্যাসিস্ট আর লজ্জাহীন সরকারের হাতে পরে ধর্ষিত হলেও তার কোন যায় আসেনা।

  3. শাহরিয়ার কবির, যুদ্ধাপরাধীদের
    শাহরিয়ার কবির, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে এক নিরলস প্রতিষ্ঠানের নাম। সাম্প্রতিক কালে তাঁঁর বিলেত ভ্রমনের কালে আমি একই ধারার প্রশ্ন করেছিলাম। দেখা যাচ্ছে আনিস রায়হান ও জানতে চেয়েছেন বর্তমান আওয়ামী ফ্যালাসীগুলির উত্তর তাঁর কাছে। শাহরিয়ার কবির ব্যক্তিগত পরিমন্ডল থেকে প্রশ্নগুলির উত্তর দিয়েছেন, কিন্তু ফ্যালাসিগুলির উত্তরে তিনি এক ধরনের মধ্যপন্থা নিয়েছেন। হয়তো সত্যই বলেছেন।

    কিন্তু “যুদ্ধাপরাধের বিচারে আওয়ামী লীগের বিকল্প নাই বিধায় আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে, কারন নইলে বিনপিজামাত ক্ষমতায় আসবে” এই ফ্যালাসির দু্টি অদ্ভুত কু প্রভাব রয়েছে।

    ১. আওয়ামী লীগের বিকল্প মোটেও বিনপি নয়। কারন জামাতের মতোই আওয়ামী লীগ ও বিনপি সকলেই সউদি তাঁবেদার। সউদি রাজ শুধুমাত্র তার দাক্ষিন্য এতোদিন বিনপিকে দিয়েছিলেন, এখন আম্লীগকে দিচ্ছেন। এখানে আম্লীগ বিনপি একই কম্পানির দুটি শ্যাম্পু প্রতিযোগিতা করছে রূপকের সমার্থক।

    ২. যুদ্ধাপরাধের বিচার আম্লীগ করার কন্ট্রাক্ট নিয়েছে বটে, কিন্তু তার কোন দায় বদ্ধতা না থাকায়, বিচার নিয়ে টালবাহানা করায় আম্লীগকেই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবার কেউ না থাকায় যুদ্ধাপরাধীদের সাথে পরকীয়ায় মত্ত এই দলটির প্রতি আমাদের বিশ্বাস শুণ্যের কোঠায়।

    এই বিষয়গুলির উত্তর আমাদের আওয়ামী বুদ্ধিজীবি মহলের হাতে নাই। বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার যেকোন প্রচেষ্টা আ্ম্লীগ এবং তাঁর অসংখ্য লেঠেল বাহিনী প্রাণপনে নস্যাৎ করার চেষ্টা করে, করে এসেছে।

    আমরা এ থেকে কি শিখবো? আম্লীগ সত্যিই বিচার চায়? নাকি বিচার নিয়ে ধুনফুন করে দেশটাকে অনৈতিক এক গহ্বরে টেনে নামাচ্ছে?

    দেশের মালিক কি আমরা জনগন, নাকি আম্লীগ নামক বিশ্বাসঘাতক সউদি পাকি জামাতী চোষা?

  4. মার্ক্সবাদীরা বলে যে, আওয়ামী

    মার্ক্সবাদীরা বলে যে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত- সবই বুর্জোয়াদের দল এবং এরা সবাই সাম্রাজ্যবাদের দোসর। আমি এই মত সমর্থন করি না। আমার ইস্যু ভিন্ন। আমি চাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। এটা করতে গেলে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার দরকার।


    আসল কথা এটাই। আমিও স্যারের সাথে একমত। আমার কাছে ইস্যু এই একটাই।

    আনিস ভাইকে ধন্যবাদ চমৎকার এই সাক্ষাৎকারের জন্য। সাক্ষাৎকার এমনই হওয়া উচিত। তবে সাক্ষাৎকারের শুরুতে যে মুখবন্ধ দিয়েছেন, তাতে সাক্ষাৎকার উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বেশ কিছু ‘বিষয়’ বের করে আনার প্রচেষ্টার ইঙ্গিতই বহন করে।

  5. পোষ্টখানার মুখবন্ধে এমনভাবে
    পোষ্টখানার মুখবন্ধে এমনভাবে বলা হয়েছে যেন, তর্কযুদ্ধে হেরে শাহরিয়ার কবির চিংকুদের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বকারী দল হিসাবে ঘোষণা দিয়া দিছেন!

    চিংকুরা আজ যেমন ৭১ এ তেমন ছিল । ভাল এবং প্রকৃত স্বাধীনতাকামী যে ক’জন বাম ছিল তারা সবাই ই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল । আর বাকী যে স্বার্থানেষীরা ছিল তারা মুখে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধীতা করলেও তলে তলে ওদের সাথেই হাত মিলিয়েছিল । যারা দেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে পারে তারা রাজাকারের থেকে কম কিছু নয় । শাহরিয়ার কবিরদের উচিৎ ছিল রাজাকারদের আগে ওদের বিচারের দাবী তোলা ।

    যুদ্ধাপরাধের বিচার বঙ্গবন্ধু শুরু করেছিলেন । বঙ্গবন্ধু নিহত হবার পর সবকিছু ভেস্তে যায় । তখন ভয়ে বাম চাম যা ছিলো সব মুখে কস্টেপ মেরে বিপ্লব বাক্সবন্দি রেখেছিল । আজ যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পুনরায় বিচার শুরু হয়েছে তখন ঐ সুবিধাপন্থীরাই নানা জুজু নিয়ে হাজির হয়েছে । তাদের কথাবার্তা শুনলে মনে হয় ক্ষমতায় গেলে তারা সব *** একেবারে ধোয়া করে দেবে! আসলে কিন্তু তা নয় । পিঠে ছুরি মেরে এরাই এদেশে সাম্রাজ্যবাদীদের আগমন ঘটাতে চায় ।

    রাজাকারের বিচার এদেশের মাটিতেই সম্পন্ন হবে । হয়তো পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় দিন একটু বেশি লাগতে পারে তবে বিচার হবেই । যত জুজুই দেখানো হোক না কেন বিচার হবে ।

    1. মুখবন্ধটা বেশি পঁচা হয়ে গেছে
      মুখবন্ধটা বেশি পঁচা হয়ে গেছে শাহিন ভাই? নিজেদের পক্ষে যেটা গেছে ঐটা নিয়েই ডুগডুগি বাজাতে থাকেন। খেয়াল রাখবেন, এই শাহরিয়ার কবির সাহেব কিন্তু অন্য একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, নাফিসা কবির হচ্ছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মূল এবং প্রথম পরিকল্পনাকারী। সেই পোস্টে আপনারা নাফিসা কবিরের গোষ্টি উদ্ধার করেছিলেন। চিংকু বলে কত ধরনের অপমানজনক মন্তব্য করেছেন, মনে আছে? এটাই হল আওয়ামী চরিত্র। আপনাদের রক্তের মধ্যে অন্ধত্বের বীজ বপন করা।

      1. আপনি হয়তো জানেন না দুলাল ভাই,
        আপনি হয়তো জানেন না দুলাল ভাই, আমি কট্রর লীগ সমর্থক হলেও লীগের সব ব্যাপারে ডুগডুগি বাজাইনা । যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রশ্নে লীগকে যেমন এক ও একমাত্র ত্রাতা মনে করি তেমনি সন্দেহও করি । যুদ্ধাপরাধ বিচার বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই কঠিন একটা ব্যাপার । এই ইস্যুতে লীগ সব করে দেবে কিংবা লীগকেই করতে হবে এমন ভাবাটা বোকামি । তাছাড়া শেখ হাসিনা যে একাই সব করে ফেলবেন তাও সম্ভব না ।
        বামপন্থিরা প্রথমে যেভাবে লীগের সাথে জড়িত ছিল আজ পর্যন্ত সেভাবে থাকলে হয়তো সম্ভাবনাটা একটু বেশি থাকতো । কিন্তু তাদের একটা বিরাট অংশ যেভাবে “শেখ হাসিনা তুমি এগিয়ে চল আমরা আছি তোমার সনে” এই স্লোগান তুলে পেছন থেকে নাই হয়ে গেল তাতে সরকার পরিচালনাকারী দল হিসেবে লীগকে কিছুটা কৌশলী তো হতেই হয় ।
        আর আপনারা এই কৌশলকেই বলে বসছেন আঁতাত!
        সময়ে অনেক কিছুই বদলায়, বদলাচ্ছে । দেখবেন হঠাৎ করে কোন এক সময় সব আঁতাতও বদলে আঘাতে পরিণত হয়ে গেছে ।

        নাফিসা কবির প্রসঙ্গে যে পোষ্টের কথা বলছেন সেই পোস্টটাই গোষ্টি উদ্ধারের মত পোষ্ট ছিল তাই উদ্ধার করা হয়েছে । আপনি একজনের ভূমিকাকে ছোট করে আরেকজনেরটা বড় করলে আরেকজন আপনার গোষ্টি উদ্ধার করতে পারবে না এটা কেমন কথা? তাছাড়া ঐ পোস্টে আমার পক্ষ থেকে নেগেটিভ যে মন্তব্যগুলো এসেছে তা ছিল মূলত ইকারাস ও অন্যদের মন্তব্যের প্রতিমন্তব্য । আমি প্রথম মন্তব্যে নাফিসা কবিরকে স্যালুট জানিয়েছি ।

        1. নাফিজা কবির যে সময় চিংকু ছিল,
          নাফিজা কবির যে সময় চিংকু ছিল, সেই সময় শাহরিয়ার কবিরও কিন্তু চিংকু ছিল। শাহরিয়ার কবির এখন আওয়ামিলিগের জিগড়ি দোস্ত হয়ে গেছে! রাজনীতির তেলেসমাতি আর কাকে বলে!

  6. শাহরিয়ার কবির আওয়ামী ঘরানোর
    শাহরিয়ার কবির আওয়ামী ঘরানোর কোন ধরনের রাখঢাক ছাড়া বুদ্ধিজীবি। তার কাজই হচ্ছে আওয়ামী পারপাস সার্ভ করা। সাক্ষাৎকারের ধরণটা ভাল লাগল। নতুনত্ব আছে।

  7. আমরা তো দেখছি, এখন পর্যন্ত

    আমরা তো দেখছি, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ নিজেদের স্বার্থের আগেই ভারতের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়।

    অভিযোগ আছে যে, আপনি ভারতের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করেন। এখানে যা বললেন, তাও কিন্তু ভারতের পক্ষেই গেল।

    সাংবাদিক এবং একজন তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিজেকে নিরপেক্ষ রাখাটা জরুরী কিন্তু আপনার এই প্রশ্ন গুলোর মাধ্যমেই আপনার অবস্থান পরিষ্কার হয়ে যায়।
    প্রশ্নকর্তা এবং জবাবদাতা পক্ষপাত মুলক প্রশ্ন এবং উত্তর দিলে সত্যিকার তথ্য না’ও বেরিয়ে আসতে পারে। উত্তরদাতার মুখ থেকে “কাস্টমাইজ” উত্তর পাবার ক্ষেত্ত্রে সাধারনত এ ধরনের প্রশ্ন করা হয়ে থাকে, যেটাকে সাধারন ভাষায় আমরা দুরভিসন্ধি বলে থাকি।

    শাহরিয়ার কবির এ প্রশ্নে মোটামুটি উৎরে গেছেন আর আপনার পক্ষপাতিত্ব পরিষ্কার হয়ে গেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

12 − 7 =