মহা ইসরায়েলে’র স্বপ্ন ও অনন্ত যুদ্ধের স্বপ্নদোষ

এক
উনবিংশ শতকে জার্মানিতে দুনিয়ার অনেক বড় বড় দার্শনিক, বুদ্ধিজীবীর জন্ম হয়েছে। জার্মানি ছিল সেই সময়কার দুনিয়ায় বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার অন্যতম ক্ষেত্র। পাশাপাশি এই সময়ে জার্মানিতে কট্টর, মৌলবাদী ও জাত্যাভিমানি নানা মতাদর্শের উদ্ভব ঘটে। মজার বিষয় হচ্ছে, নাজিবাদ এবং জায়নবাদ এই দুইয়ের জন্মই হয়েছে জার্মানিতে। জায়নবাদের জন্মদাতা হিসাবে পরিচিত থিওডর হার্জলের মতানুসারে ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ হলো মিশরের নীল নদ থেকে শুরু করে ফোরাত নদীর তীর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল”। ১৯৪৭ সালের ৯ জুলাই ‘ফিলিস্তিনের ইহুদী এজেন্সি’র প্রতিনিধী রাব্বি ফিশ্চমান জাতিসঙ্ঘেও একিরকম দাবি তুলেছিলেন যে আল্লাহর প্রতিশ্রুত ইহুদীদের দেশ মিশরের নদী থেকে ফোরাত নদী পর্যন্ত পুরো অঞ্চল, যার মধ্যে সিরিয়া এবং লেবাননের জমিও রয়েছে’। বর্তমান দুনিয়ার জায়োনবাদীরাও এইরকমই বিশ্বাস করে এবং তাদের বর্তমান রাজনৈতিক প্রকল্পগুলোও এই বিশ্বাসের চারপাশেই ঘুরপাক খায়।

দুই
আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার জন্য ইসরায়েল ১৯৮২ সালে ইনোন প্রকল্প (Yinon Plan) নামে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা করে। ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ওদেদ ইনোন (Oded Yinon) এই প্রকল্প তৈরি করেন।ইসরায়েল এই প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে কখনোই সরে আসেনাই। এই কৌশল অনুসারে ইসরায়েলকে টিকে থাকতে হলে তার আশেপাশের আরব দেশগুলোকে বিচ্ছিন্ন, ছোট ও দূর্বল রাষ্ট্রে পরিণত করতে(বলকানাইজেশন) হবে।ইসরায়েলি স্ট্রাজেজিস্টরা ইরাককে আরব দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দী গণ্য করতো। মধ্যপ্রাচ্য এবং আরব দুনিয়ার বলকানাইজেশনের জন্যে ইরাককে তাই আলাদা ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ইনোন প্রকল্প অনুসারে ইসরায়েলি স্ট্রাটেজিস্টরা ইরাক ভেঙে কুর্দিশ, শিয়া, সুন্নি অধ্যুসিত তিনটি রাষ্ট্র তৈরি করার পরিকল্পনা করে। এই প্রকল্পের প্রথম পদক্ষেপ ছিল ইরাক এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়া। পশ্চিমাদের লাগিয়ে দেয়া এই ইরাক-ইরান যুদ্ধ চলেছে আট বছর যাবৎ। এই যুদ্ধের দ্বিতীয় বছরে ইনোন এই পরিকল্পনাটি তৈরি করেন। এই যুদ্ধ এর পর আরো ছয় বছর স্থায়ি হয়েছিল। এই সময়ে ইরাক এবং ইরান দুইটি দেশই বড় ধরণের মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। দুই পক্ষেই বহু মানুষ আহত, নিহত হয়েছেন, বিধবা ও এতিম হয়েছেন। এই যুদ্ধে যে পরিমান মানুষ নিহত হয়েছে তা ইউরোপের প্রথম মহাযুদ্ধের সমান। অথচ এই যুদ্ধ ইরাক লড়েছে আমেরিকার ঘুটি হিসাবে, তাও আবার ইসলামের নাম নিয়ে। ইরান সেই ইসলামকে ভুল ইসলাম আখ্যা দিয়ে নিজেরা আরেক ইসলামের নামে লড়েছে।

ইরাক কুয়েত আক্রমন করেছিল মার্কিন সমর্থন নিয়েই। তেল চুরি আর দিনারের অস্থিতিশিলতা তৈরির অভিযোগে কুয়েত হামলা করার নৈতিক ভিত্তি কম থাকলেও সাদ্দাম হোসেইন তৎকালিন মার্কিন রাষ্ট্রদূত এপ্রিল গ্লাস্পির গ্রিন সিগনালের উপর ভরশা করেছিলেন। মার্কিন পলিসির ঘুটি হিসাবে ইরাকের এই দ্বিতীয় ভুল পুরো রাষ্ট্রটিকে অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে ফেলে দেয়। তারপর ৯/১১এর সুযোগ নিয়ে ২০০৩ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাক হামলা করে। এখন বিগত কয়েক দশকের পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন হচ্ছে। ইরাক রাষ্ট্রটি ভেঙে তিন টুকরো হয়ে গেছে। আরো বহু টুকরো হতে পারে। পাশাপাশি সিরিয়াও ভেঙেছে।

তিন
মহা ইসরায়েলের (Greater Israel) স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্যে বৃহত আরব রাষ্ট্রগুলোকে ভেঙে টুকরো করে আরব বিশ্ব, উত্তর আফ্রিকা এবং ইসরায়েলের মানচিত্র নতুন করে তৈরি করার ইউএস-ইসরায়েল মিশন ইতিমধ্যে অনেকটাই সফল হয়েছে। নীল নদ থেকে ফোরাত নদী পর্যন্ত মহা ইসরায়লের স্বপ্ন সফল করার চেষ্টাও থেমে থাকবেনা। যুক্তরাষ্ট্রের লেফটেনেন্ট কর্নেল ‘রালফ পিটার’স ১৯৯০ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বহু রাষ্ট্রের ধ্বংসের স্বপ্ন দেখে আসছেন। তার অন্তন্ত যুদ্ধের স্বপ্ন অনন্ত স্বপ্নদোষে পরিণত হয়েছে। তার মতে, – “আমাদের বাকি জীবনে আর কোন শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না। একের পর সংঘাত হবে……সারা পৃথিবী জুরে। সংঘাত সংঘর্ষের খবরই পত্রিকার শিরনাম হবে, তবে সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক সংগ্রাম আরো সুস্থির এবং অর্থবোধক হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনবাহিনী আমাদের অর্থনীতির সুরক্ষা এবং সাংস্কৃতি আগ্রাসন চালানোর জন্যে সারা পৃথিবীতে শান্তি বজায় রাখবে। এর জন্যে আমাদের যথেষ্ট পরিমান খুন খারাবি করতে হবে”।

পিটারের তুলনায় পৃথিবীর ইতিহাসের বহু বড় যুদ্ধলিপ্সু দখলবাজকেও শান্তিপ্রিয় মনে হবে। ২০০৮ সালে আর্মড ফোর্সেস জার্নালে ‘মধ্যপ্রাচ্যের নতুন মানচিত্র প্রকল্প’ নামে পৃথিবীর অনেক দেশের মানচিত্রে বড় ধরণের পরিবর্তনের পরিকল্পনা তিনি হাজির করেছিলেন , যেসব দেশের ভালো মন্দে তার কিছু যায় আসে না।

চার
২০০৬ সালে ইউএস সিনেট কমিটির বৈদেশিক সম্পর্ক বিভাগের দীর্ঘদিনের সদস্য জো বাইডেন, (বর্তমানে ইউএস ভাইস প্রেসিডেন্ট) এবং প্রেসিডেন্ট এমিরেট লেসলি গেব নিউ ইয়র্ক টাইমসএ ইথনিক লাইন অনুসারে ইরাক ভাঙার পরিকল্পনা নিয়ে লিখেছিলেন। সেই পরিকল্পনাতেই শিয়া, সুন্নি ও কুর্দিশ অধ্যুষিত অঞ্চল নিয়ে আলাদা তিনটি রাষ্ট্র গঠনের পরামর্শ ছিল। সাম্প্রদায়িক লাইন অনুসারে কল্পিত দাগ টেনে এক টানে ব্রিটিশরা বাঙলা ভাগ করে দিয়ে গিয়েছিল। ইরাকের ক্ষেত্রেও সাম্প্রদায়িক এবং জাতিগত লাইন অনুসারে এইরকম অবৈধ দাগাদাগি চলছে। বাইডেনের পরিকল্পনা হলো কুর্দিশ, সুন্নি এবং শিয়া অঞ্চলগুলো নিজ নিজ আইন, প্রশাসন এবং প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পাঁচ দফা পরিকল্পনায় যুক্তরাজ্যও তাদের সাথে একজোট হয়েছে। যুক্তরাজ্য এখনো সেদিনের স্বপ্ন দেখে যখন ফ্রান্সের সাথে তারা মধ্যপ্রাচ্যের ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ইত্যাদি রাষ্ট্রের মানচিত্র নিয়ে নিজেদের সুবিধা অনুযায়ি কাটাকাটি খেলেছে।

এই পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে অবৈধ, নির্লজ্জ এবং প্রাচ্যের জাতিগোষ্ঠি সম্বন্ধে ঔপনিবেশিক শাসকদের অজ্ঞতার ফলাফল। ইরাকে শিয়া, সুন্নি এবং কুর্দিসরা ছাড়াও আরো বহু সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠি আছে। খ্রিষ্ঠান, মান্দিয়ান, ইয়াজিদি, তুর্কম্যান, ইহুদি, জোরাষ্ট্রিয়ান, বাহাই, কাকাই, সাবাক এমনকি নির্ধর্মীরা আছেন। এইসব জাতি ও জনগোষ্ঠি শত বছর যাবৎ এই অঞ্চলে একসাথে বসবসাস করে আসছে। অথচ ২০০৭ সালের অক্টোবর মাসে জো বাইডেন ইউএস সিনেটে ইরাককে তিন ভাগ করার নন বাইন্ডিং রিসোলুশন তুলে ধরেন। এই রেসুলেশন ৭৫-২৩ ভোটে জয়ি হয়। ওয়াশিংটন পোস্টের ভাষায় এই বিজয় একটি মাইলস্টোন। বর্তমান ইরাকের সংবিধানের মধ্যেই এই তিন রাষ্ট্রের বিজ বোনা হয়েছে। বাইডেন আঞ্চলিক রাজনীতির মাধ্যমে তার দ্রুত বাস্তবায়ন করছেন মাত্র। ইউএস নিযুক্ত ভাইসরয় পল ব্রেমারের অধিনে ইরাকের এই সংবিধান রচনা করা হয়েছে। এই সংবিধান নিঃসন্দেহে অবৈধ, কোন রাষ্ট্র দখল করে তার সংবিধান পরিবর্তন করা একটি সম্পুর্ণ অবৈধ কাজ। শুধুমাত্র কুর্দিশরাই এই পরিকল্পনা সমর্থন করে, কারন তারা স্বাধীন রাষ্ট্র চায়।

পাঁচ
জো বাইডেন একজন স্বঘোষিত জায়োনবাদী। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত বার্ষিক জে স্ট্রিট কনফারেন্সে তিনি বলেছেন, “যদি ইসরায়েল নাও থাকতো তাহলেও আমাদের একটা ইসরায়েল আবিস্কার করতে হতো”, তেল, গ্যাস, কৌশলগত লক্ষ্য ইত্যাদির প্রয়োজনে। বাইডেন উপস্থিত শ্রোতাদের এও নিশ্চিত করেছেন যে ইসরায়েলের জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিরঙ্কুশ। প্রেসিডেন্ট ওবামা কতোবার ইসরায়লের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন তা তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী প্রথমবার সিনেট হওয়ার পরেই তিনি ইসরায়েলের তৎকালিন প্রধামন্ত্রী গোল্ডামেয়ার এবং পরবর্তিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটিয়েছেন। এই বছরের জানুয়ারি মাসেই তাদের সর্বশেষ বৈঠক হয় যখন বাইডেন মরহুম এরিয়েল শ্যারনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ইসরায়েল যান। এসময় তারা একান্তে দুই ঘন্টা বৈঠক করেন।

গত জুন মসেই নেতানিয়াহু তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের INSSএর উদ্দেশ্যে বলেন, “ আমাদের উচিত কুর্দিশ স্বাধীনতাকে সমর্থন জানানো”, এরপর তিনি ইরাক এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্যআ অঞ্চলের রাজনৈতিক পতন সম্বন্ধে ধারণা তুলে ধরেন। ইরাকের অন্তর্গত রাজনৈতিক বিষয় একান্তই ইরাকের, ইসরায়েলের এইক্ষেত্রে নাক গলানোর কোন অধিকার নাই। অথচ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য জাতির তুলনায় নতুন হলেও ইসরায়েল তার ‘মহা ইসরায়েল’ কায়েমের জন্যে এই নাক গলানো জরুরি মনে করে। ফিলিস্তিনের জনগণের কাছ থেকে নুন্যতম মানবাধিকার ও সহায় সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে ইসরায়েল গত গত ৬৬ বছর ধরে সারা পৃথিবীকে রণহুঙ্কার শুনিয়ে যাচ্ছে।

ছয়
কুর্দিস্তান এখন কিরকুকের অধিকার দাবি করছে, কিরকুকের বিরাট তেলের খনির মালিকানা সহ। উত্তর ইরাক-হাইফা পাইপ লাইন নামক যে পাইপ লাইনের স্বপ্ন ইসরায়েল তার জন্মের পর থেকেই দেখে আসছে সেই স্বপ্ন পুরণ করার আশাও নিশ্চয় এখন নেতানিয়াহু দেখছেন। মূলত ইরাক রাষ্ট্রের ভেতরে ১৯৯২ সাল থেকেই কুর্দিস্তান একরকম স্বাধীনতা ভোগ করে আসছে। এরপর থেকেই কুর্দিস্তান ইসরায়েল এবং সিআইএকে গ্রহণ করে ইরাক ধ্বংসের পথ প্রশস্ত করেছে।


সাত
দুঃখের কথা হলো, ফিলিস্তিন এবং ইরাককে টুকরো টুকরো করে বস্তি আর সরণার্থী শিবিরে পরিণত করার পরিকল্পনাটা প্রথম মাথায় এসেছিল বিশিষ্ট নাজিবাদী যুদ্ধাপরাধী এডলফ আইকম্যানের। এডলফ আইকম্যান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদিদেরকে বন্দী শিবিরে আটকে রেখে নির্যাতন ও ইহুদি নিধনের পরিকল্পনাকারিদের একজন। অনেকেই তাকে গণহত্যার প্রৌকশলি নামে ডাকেন। মানুষকে জোর করে তার নিজ মাটি, ভিটা বাড়ি থেকে উৎখাত করায় তিনি বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০ সালে আর্জেন্টিনায় মোসাদ এবং শিন বেট আইকম্যানকে গ্রেফতার করে। পরে ১৯৬২ সালে ইসরায়েলে তার বিচার করা হয় এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। লক্ষ্যনিয় বিষয় হচ্ছে যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে আইকম্যান ছিলেন তেল ব্যাবসার সাথে যুক্ত।

ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক সমাজ আইকম্যানের কায়দাতেই জাতিগত নিপিড়ন, নিধন অব্যাহত রাখবে? ইতিহাস থেকে কি তাদের শেখার কিছুই নাই?

(গ্লোবাল রিসার্চে প্রকাশিত “The Israeli Dream”: The Criminal Roadmap Towards “Greater Israel”? অনুসারে লেখা হয়েছে। সর্বশেষ ছবিটি নাজি যুদ্ধাপরাধী এডলফ আইকম্যানের)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৬ thoughts on “মহা ইসরায়েলে’র স্বপ্ন ও অনন্ত যুদ্ধের স্বপ্নদোষ

  1. ইসরাইল বিরাট মাস্টার প্লান
    ইসরাইল বিরাট মাস্টার প্লান নিয়ে মাঠে নেমেছে। এদের টার্গেট মধ্যপ্রাচ্যে ধীরে ধীরে তাদের আবাস গড়ে তোলা। মধ্যপ্রাচ্যের আবালগুলা এক সময় সব হারিয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করবে।

    সময়োপযোগী পোস্টের জন্য পারভেজ ভাইকে ধন্যবাদ।

  2. ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক সমাজ

    ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক সমাজ আইকম্যানের কায়দাতেই জাতিগত নিপিড়ন, নিধন অব্যাহত রাখবে? ইতিহাস থেকে কি তাদের শেখার কিছুই নাই?

    এটাই এখন সবচেয়ে বড় সত্য।

  3. পোষ্ট ভালো হইছে। তবে
    পোষ্ট ভালো হইছে। তবে ইনফরমেশনে একটা ভুল আছে। থিওডর হার্জলের মতে গ্রেটার ইজরায়েল মিশরের নীল নদ হইতে ফোরাত নদী পর্যন্ত বিস্তৃতি। এইটা আসলে তাদের ধর্মগ্রন্থে বলা হইছে এবং এই স্বপ্নটা প্রতিটা ইহুদী গত তিন হাজার বছর ধইরা বুকে লালন করছে এবং এখনো করে। ঠিক এই বাক্যটা ইজরায়েলের পার্লামেন্টের সামনে খোদাই করে রাখা আছে। সেইখানে কোন সুরার কত নাম্বার আয়াত (তাগো গ্রন্থ অনুসাবে) সেইটাও লেখা আছে।

    1. ইসলামের উত্থানের পূর্বে
      ইসলামের উত্থানের পূর্বে উল্লেখিত অঞ্চলে কাদের আধিপত্য ছিল ? এই অঞ্চল যে তখন আরবিদের দখলে ছিল তার কি কোনো প্রমাণ আছে ? মুসলমানরা ধর্ম প্রচারের সাথে সাথে বিশ্বের অনেক নতুন নতুন জায়গা যে দখল করে নিয়েছে এটা তো মিথ্যা নয় । সেই অর্থে আমার ধারণা, ইসরায়েলিদের দাবি শত ভাগ অযৌক্তিক নয় ।

  4. ইসরাইল জ্ঞান বিজ্ঞানে এগিয়ে,
    ইসরাইল জ্ঞান বিজ্ঞানে এগিয়ে, তাদের সব কিছুই প্লানিং করা। তারা হয়ত পরবর্তী পৃথিবীতে প্রভাব বিস্তার করতে যাচ্ছে….

    1. ইসরাইলিরা শুধুমাত্র ধর্ম নিয়ে
      ইসরাইলিরা শুধুমাত্র ধর্ম নিয়ে বসে থাকে নাই। ধর্মটা হচ্ছে তাদের কাছে সাম্রাজ্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসাবে। তারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জ্ঞান বিজ্ঞানে যোগ্যভাবে তৈরি করে নিয়েছে।

  5. থিওডর
    হার্জলের মতে গ্রেটার

    থিওডর
    হার্জলের মতে গ্রেটার ইজরায়েল মিশরের
    নীল নদ হইতে ফোরাত নদী পর্যন্ত বিস্তৃতি। এইটা আসলে তাদের
    ধর্মগ্রন্থে বলা হইছে এবং এই স্বপ্নটা প্রতিটা ইহুদী গত তিন
    হাজার বছর ধইরা বুকে লালন করছে এবং এখনো করে। ঠিক এই
    বাক্যটা ইজরায়েলের পার্লামেন্টের সামনে খোদাই
    করে রাখা আছে। সেইখানে কোন সুরার কত নাম্বার আয়াত
    (তাগো গ্রন্থ অনুসাবে) সেইটাও লেখা আছে।

  6. গরু আকারে বড় হলেও গরু মানুষকে
    গরু আকারে বড় হলেও গরু মানুষকে চড়াতে পারে না । মানুষই গরু চড়ায় । কারণ, গরুর চেয়ে মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি অনেক বেশি । আরবিরা এত বড় সম্প্রদায় হওয়ার পরও ছোট এক ইসরায়েলের সাথে পারছে না । কারণ, উটের সাথে থাকতে থাকতে আরবিরা উট হয়ে গেছে, এই জন্য মানুষের সাথে বুদ্ধিতে পারছে না । যেদিন এই উট আরবিরা মানুষ হবে সেদিন এই ইসরায়েল আরবিদের দিকে তাকানোরও সাহস পাবে না ।

  7. আসলে ইজরাইল জাতি হিসেবে খুব
    আসলে ইজরাইল জাতি হিসেবে খুব ঐক্যবদ্ধ। আর জ্ঞন ও বুদ্ধিবৃত্তি চর্চায় অত্যন্ত দক্ষ। তাই আজ সংখ্যায় এত কম হয়েও এত তান্ডব সৃষ্টি করতে পারছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 54 = 58