নীতিমালার নামে সব চ্যানেল হবে বিটিভি

দেশের টিভিগুলোর কোন বিষ নেই (পত্রিকাগুলোরও নেই)। সবগুলো ঢোড়াসাপ। এই বিষহীন ঢোড়াসাপগুলোকে নিজেরদের ঝাপিতে পুরতে সরকার একটি সম্প্রচার নীতিমালা করেছে। যার মুখভরা নাম ‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা’। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে সরকার ৫ জানুয়ারি একতরফা হাস্যকর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসে সব বিরোধী মতকে শায়েস্তা করে ফেলেছে। তাহলে নতুন করে কেন নির্বীষ বেসরকারি টিভিগুলোকে নিজের ঝাপিতে পুরে বিটিভি বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে? কারণ সরকারের পায়ের তলে মাটি নেই। যখন পায়ের তলায় মাটি থাকে না-তখন সব কিছুতেই তার ভয় হয়। হাটু পানিকে মনে হয় গহীন সাগর। সারারাত সাতরেও একবার সাহস হয় না মাটি স্পর্শ করার। ফলে সকালে দেখা যায় হাটুপানিতেই ডুবে মারা গেছে বেচারা। সরকারের অবস্থা হয়েছে এরকম।

যেহেতু সরকার জানে যে, তারা একটি ভয়ঙ্কর নোংরা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে, ফলে যে কোন মূহুর্তে গণমাধ্যমগুলো তাদের এইসব নোংরামি প্রকাশ করা শুরু করে দিতে পারে (যা করার কোন লক্ষণই ছিলো না)। যদি এটা শুরু হয় তাহলে মাটির নিচে যে শুধুই শূণ্যতা তা ধরা পড়ে যাবে। এই ভয়ে তারা সব মতের মুখ সেলাই করে বন্ধ করতে চায়। এই জনসমর্থনহীন সরকার নির্বাচনের আগে থেকেই বিরুদ্ধ মত নির্বিচারে বন্ধ করার জন্য কুখ্যাত আইসিটি আইনটি পরিমার্জিত করে পাস করেছে। ফলে অনলাইন পত্রিকা, ব্লগ ফেসবুকের বিপ্লবীদের দিন শেষ। এরপর নির্বাচনের পর পত্রিকাগুলোকে সাইজ করতে নতুন আইনের সংস্কার করা হচ্ছে। আর বাকি থাকলো টিভি ও রেডিও। সর্বশেষ তার জন্যও প্রনয়ণ করেছে সম্প্রচার নীতিমালা। সরকারের ভাবটা এরকম, এবার আয়, দেখি মাঠে কিভাবে খেলবি। সব কিছু আমার হাতে।’

ইতিহাস সাক্ষি কেজিবি দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন টিকতে পারেনি। র‍্যাব তৈরী করে, নির্বিচারে কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের নিধন করেও আমেরিকাকে খুশি করে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি জামাত বিএনপি। তারেকের পিঠের চার নম্বর হাড় পর্যন্ত ভেঙ্গে গেছে প্যাদানির কারণে। আ.লীগ যদি এরকম একটি টোটালেটেরিয়ান ডিকটেরশিপের দিকে এগিয়ে যাবার সব আয়োজন করে তাহলে কি তারা টিকতে পারবে?

ইতিহাসের দিকে তাকালে-পস্ট জবাব, ‘এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এ হলো নিজের কবর খোড়ার প্রস্তুতি হিসেবে বাজার থেকে মুর্দার সব কিছুর সদাই করে বাসায় রাখার মত মুর্খামি।’ আর সরকার যদি এসব করে পারই পেয়ে যায় তাহলে এই প্রতিযোগিতার যুগে একটি বিটিভি থাকতে সাধারণ মানুষ কেন অনেকগুলো বিটিভি দেখবে। সেক্ষেত্রে বেসরকারি টিভির মালিকেরা বিটিভির আঞ্চলিক সত্ব কিনে নিয়ে তাদের টিভিতে চালাতে পারেন। তা না হলে বিরাট লসে পড়তে হবে।

ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়া আ.লীগের অভ্যাস:
টিভি ও বেতার নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা মন্ত্রীসভায় পাস করেছে। আর এটা করতে গিয়ে সরকার ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দিয়েছে। ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়া আ.লীগের পুরানো খাসলত, সেটা পরে আসছি। সরকার নীতিমালায় বলেছে, টিভি ও বেতারে কি সম্প্রচার হচ্ছে তা দেখভালের জন্য একটি কমিশন গঠন করবে। এ ছাড়া নীতিমালার আওতায় প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা তৈরী করবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এসব না হচ্ছে ততক্ষণ টিভি ও বেতারের সম্প্রচারের বিষয়গুলো তথ্যমন্ত্রণালয় তদারক করবে। এখন তথ্য মন্ত্রণালয় মনে করলো, কোন টিভি ও রেডিও এ খবরটি রাষ্ট্র বিরোধী বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী হয়েছে, তা হলে সেই কর্তৃপক্ষের সম্প্রচার তারা সুইচ টিপে বন্ধ করে দিলেন। কিন্তু কমিশন থাকলে সেটা করতে গেলে অন্তত কিছুদিন সময় পাওয়া যাবে। এ কারণে এ ধরনের নীতির মূল উদ্দেশ্য দেশের বেতার ও টিভিকে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে জবাবদিহীতার আওতায় আনা নয়, বরং সরকার তার কণ্ঠ চেপে ধরার সুবিশাল আয়োজন।

এই সরকার সংবিধানকে ধর্মগ্রন্থের চেয়ে বেশি মান্য করে। এটা ভালো। আধুনিক যুগের রাষ্ট্র পরিচালনা হবে মানুষের তৈরী সংবিধান দিয়ে। তুকতাক ঝাড়ফুকের ঐশি গ্রন্থ দিয়ে নয়। যদিও সরকার বলছেন, দেশ চলবে মদিনা সনদ অনুযায়ী। তো শেখ হাসিনা বোঝদার মানুষ, তিনি জানেন মদিনা সনদে দেশ চালালে ভারত তার সমর্থন তুলে নিবে। এ কারণে তিনি সংবিধানের খোলনোচল পাল্টে ফেলে দিয়ে মদিনা সনদের বদলে সংবিধান দিয়েই দেশ চালাচ্ছেন। আর সেই সংবিধান রক্ষার জন্য জন্য প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর এন্তার দলীয় নেতা কর্মীরা রীতিমত জেহাদে নেমেছে। ভালো। আমরাও চাই মানুষের তৈরী সংবিধানেই দেশ চলুক। সাংবিধানিক সরকার চলমান রাখার জন্য আ.লীগ একা নির্বাচন করেছে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার দোহাই দিয়ে। অর্থ্যাৎ তারা সংবিধানকে আর যে কোন বিষয় থেকে বেশি ভালোবাসে। কিন্তু কথাটি কতখানি সত্য?

দেশে কোথাও অনির্বাচিত প্রতিনিধি থাকবে না। এটাই গণতন্ত্রের মূল স্পিরিট। কিন্তু ঢাকা সিটি করপোরেশন ভেঙ্গে দুই টুকরা করে গত তিন বছরে তার নির্বাচন দেয়নি আ.লীগ। উল্টো এই দুই সিটি করপোরেশনে আ.লীগ অনির্বাচিত প্রশাসক বসিয়েছেন। একদিকে সরকার তত্বাবধায়ক সরকারের হাতে দেশ পরিচালনার ভার দিতে নারাজ অন্যদিকে ঢাকার শাসন ব্যবস্থা অনির্বাচিত প্রশাসক বসিয়ে রেখেছেন বছরের পর বছর। এই হলো আ.লীগের দু’মুখো নীতি।

নিয়ন্ত্রীত হবে সংবাদ:
প্রথমত দেশে যে সরকার থাকে তাকে তোয়াজ করেই সংবাদ দিতে হয় টিভিগুলোতে। ইচ্ছে করলেই সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করা যায় না। একদম দলীয় আনুগত্যশীল দিগন্ত টিভি ছাড়া (সেটি এখন বন্ধ) এ বক্তব্য মোটামুটি প্রায় সব টিভির ক্ষেত্রেই সত্য। এর মধ্যে সরকার সম্প্রচার নীতিমালায় যেভাবে সংবাদ পরিবেশনের ওপর বিধি নিষেধ আরোপ করেছে তাতে কোনভাবেই টিভিগুলো সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাইরে কোন নিউজ করতে পারবে না।
কারণ রিপোর্টে যদি সরকারি কোন গোপন তথ্য ফাঁস হয়, সরকারি কর্মকর্তা যদি তাতে হেয় প্রতিপন্ন হন তাতে আপনি ফেসে যাবেন।

এখন আপনি হাসবেন না কাদবেন? সরকারি কর্মকর্তারা চুরি করবেন, তাতে তারা হেয় প্রতিপন্ন হলে সমস্যা আর আপনি তা জনসম্মুখে প্রকাশ করে দিবেন তাতেই আপনি দোষী। তালি বাজাও জনগন। দারুন মত প্রকাশের অধিকার।

টক শো প্রধানমন্ত্রী প্রছন্দ করেন না, টক শো বন্ধ:
টিভিগুলো দেখলো রিপোর্ট করলে বহু গ্যাঞ্জাম; কাউকে ধরে এনে সরকারের খানিকট সমালোচনা করা যায়, কিন্তু রিপোর্ট করা যায় না। শুরু হলো টক শো। ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলো টক শো। কিন্তু সরকারের ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলো। প্রধানমন্ত্রী বললেন, টক শো ‘টক’ হয়ে গেছে।’ তিনি এ বিষয়ে বানী অব্যাহত রাখলেন। তিনি আবার বললেন, ‘মধ্যরাতে এরা সিধকাটা চোরের মত।’ প্রধানমন্ত্রী ও আ.লীগ সভানেত্রী টক শো পছন্দ না করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটা- মধ্যরাতে মাত্র একটি সরকারপন্থি চ্যানেল বাদে আর সবাই তারস্বরে চেচাতে থাকে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন একটা ভুয়া নির্বাচন হয়েছে। দেশের গনতন্ত্র বিপন্ন।

যারা সম্প্রচার নীতিমালা বানিয়েছেন তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দিক নির্দেশনা পেয়েই করেছেন। প্রধানমন্ত্রী যা যা পছন্দ করেন না, নীতিমালা সেভাবে করা হয়েছে যাতে টিভিগুলো প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের বিষয়গুলো বাদে অপছন্দের বিষয়গুলো নাই হয়ে যায়।

নীতিমালায় বলা হচ্ছে কোন অনুষ্ঠানে সরাসরি বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোন রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বা মতামত প্রচার করা যাবে না, কোন আলোচনা অনুষ্ঠানে অসঙ্গতিপূর্ণ বিভ্রান্তিমূলক অসত্য তথ্য বা উপাত্ত দেয়া পরিহার করা যাবে না, সরকারের বেধে দেওয়া জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো বাধ্যতামূলক প্রচার করতে হবে। উপরের বিধি নিষেধগুলো ভালো করে পড়ে দেখুন। ধরুন, তথ্যমন্ত্রী সাবেক সমাজতন্ত্রী বিপ্লবী হাসানুল ইক ইনু মনে করলেন বা সরকারের কেউ মনে করলো কোন একটি অনুষ্ঠানে (সেটা টিভি টকশো হতে পারে বা হতে পারে কোন জাতীয় নেতার মৃত্যু অথবা জন্মদিন) জিয়াউর রহমার, মওলানা ভাসানির রাজনৈতিক জীবন নিয়ে বিস্তারিত প্রচার করা হলো। এখন সেই অনুষ্ঠানে অবধারিতভাবে ন্যাপের রাজনীতি ও বিএনপির রাজনীতি চলে আসবে। আর আসলেইতো তা সেই দলের পক্ষে বক্তব্য (এ ধরনের অনুষ্ঠান সারা পৃথিবীতেই ওই দলেরই পক্ষে যায়) প্রচার হয়ে গেলো। আর যদি তা হয়ে যায় তাহলে আপনি নীতিমালা ভাঙলেন। সঙ্গতিপূর্ণ বা অসঙ্গতিপূর্ণ মাপার মাপকাঠি কি? সারা পৃথিবীতে কোথাও তথ্যমন্ত্রণালয় নেই। কারণ সেখানে গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরার দরকারও নেই। আর সেই যুগে আমরা বাস করে সঙ্গতিপূর্ণ ও অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্যের নামে একটি মন্ত্রণালয় দিয়ে টিভিগুলোর মুখ সেলাই করে বন্ধ করার ব্যবস্থা করছি।

আপনি অন্য দলের কেন প্রচার করেবন? আপনি জয়বাংলা বলে আগে বাড়বেন। দেখবেন সব মুসকিল আসান হয়ে গেছে।

ধর্মীয় অনুভুতি একটি আপেক্ষিক ব্যাপার:
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানলে আপনি নীতিমালা ভঙ্গকারী হিসেবে অভিযুক্ত হবেন। এখন ধর্মীয় অনুভূতিতে কিভাবে আঘাত আসবে? সেটা নির্ধারিত করবে কে? সরকারের তথ্যমন্ত্রণালয়? বাংলাদেশের মুসলমানরা যেখানে লাউ কদু আলু পেপে মাছের গায়ে আল্লাহু লেখা দেখে ফেসবুকে তা ছড়িয়ে দিয়ে লাইক কামায় আর সুবহানল্লাহ করে মাতম করে সেই দেশে ধর্মীয় অনুভূতি এতো বেশি জাগ্রত যে, টিভিগুলোতে কথায় কথায় ধর্মানুভূতিতে আঘাত দিয়ে ফেলবে। এ দেশে হেফাজত ইসলাম কোরআন পোড়ালে ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানে না, এ দেশে কোন এক হিন্দু বা বৌদ্ধ যুবককে কাবা শরিফ অবমাননা করে ফেসবুকে অন্য কেউ ছবি ট্যাগ করলেই দেশে দাঙ্গা বেঁধে যায়। যে দেশে শষ্যের চেয়ে টুপি বেশি আর ধর্মের চেয়ে আগাছা বেশি সে দেশে ধর্মানূভূতিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েইতো মানুষ ২৪ ঘন্টা দিন গুজরান করছেন।

আ.লীগের বিদেশী বন্ধু সবারই হবে এটা কাম্য নয়:
আ.লীগের বিদেশী বন্ধু আর সাধারণ মানুষের বিদেশী বন্ধু কখনোই এক নয়। আ.লীগ তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য ভারতকে যতখানি তেল মবিল দিবে বাংলাদেশের মানুষ কেন সেই তেল মবিলের সাথে একমত হতে যাবে? একটি বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক সমাজে এই যে বিরুদ্ধ মত সেটাই বুর্জোয়া গণতন্ত্রের সব থেকে বড় সৌন্দর্য্য। এখন আ.লীগকে ভারত টিকিয়ে রেখেছে এ কারণে আপনি ভারতের বিরুদ্ধে মানে আ.লীগের ভাষায় বন্ধু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নেতিবাঁচক বক্তব্য দিতে পারবেন না-এটা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। কারণ তাতে ভারতের সঙ্গে আ.লীগের মতবিরোধ তৈরী হবে। এ কারণেই আ.লীগ সম্প্রচার নীতিমালায় চতুর্থ অধ্যায় বলছে, বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে মতবিরোধ সৃষ্টি করতে পারে, এমন কিছু প্রচার করা যাবে না।

এখন বন্ধু রাষ্ট্র টিপাইমুখে বাধ দিবে, সীমান্তে পাখির মত গুলি করে মারবে,সুন্দরবন উজাড় করে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাবে, তিস্তায় পানি আটকে রাখবে, ফারাক্কায় বাধ দিবে-আপনার দেশ নাই হয়ে যাবে কিন্তু তবুও আপনাকে বন্ধুত্বের দায় মেটাতে হবে। আপনি এসবের বিরুদ্ধে বললেই সম্প্রচার নীতিমালায় আটকে যাবেন।

শ্রেণীসংগ্রাম নিয়ে কথা বলা নিষিদ্ধ:

কমিউনিস্টদের রাজনীতির প্রধান ভিত্তি সমাজের অসাম্য বা শ্রেণী শোষণ। এখন সমাজে শ্রেণীসংগ্রাম রয়েছে তা আপনি প্রচার করতে পারবেন না। কারণটা হলো, এই শ্রেণীসংগ্রাম যদি আপনি প্রচার করেন তাইলে সমাজে শ্রেণীসংগ্রাম তীব্রতর হলে খোদ মালিকশ্রেণী পড়ে যাবে। এই ভয়ে সরকার এই অংশটুকু রেখেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো বর্তমান দুনিয়ায় অকমিউনিস্ট পুজিবাদী টিভিগুলোর মালিক যদি সমাজের ভেতরকার মানুষের কস্ট দুখের প্রতিবেদন না করে তাহলে ওই টিভি মানুষ কেন দেখবে? শুধু হুমায়ূন আহমদের মধ্যবিত্তের কেলাসনেস দেখার জন্য টিভি খুলবে? এর চেয়ে স্টার জলসা খারাপ কি বাপু? ফলে শ্রেণী বিভক্ত সমাজে শ্রেণীসংগ্রাম শুধু কমিউনিস্টদের আন্দোলন সংগ্রামেরই বিষয় নয়, একই সঙ্গে এটা একটি বিক্রিযোগ্য পণ্যও বটে।

রাষ্ট্র রক্ষা নাকি আ.লীগের দুর্নীতি রক্ষা:
সম্প্রচার নীতিমালায় রাষ্ট্র বিপদে পড়ে মানে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন কোন সামরিক বা সরকারি গোপন তথ্য ফাঁশ করা যাবে না। বাংলাদেশের কোন মিডিয়াই দেশের সেনাবাহিনীর দুনীতি নিয়ে প্রতিবেদন করার সাহস নেই। এটা বিবিসি না যে ফৌজি বানিজ্য নিয়ে সিরিজ প্রতিবেদন হবে। অর্থ্যাৎ নীতিমালা তৈরীর আগেই টিভির মালিকেরা একটা বন্দোবস্ত রেখেছে যে, কোনভাবেই সেনাবাহিনীর কোন ব্যাপারে তারা কিছু বলবে না। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারি গোপন তথ্য ফাঁস করা যাবে না। বাংলাদেশের ৯৯ শতাংশ দুর্নীতি করে সরকারি দপ্তরগুলো। এখন কোন একজন ক্ষমতাবান মন্ত্রী ও সচিবের বিরুদ্ধে আমি একটি বস্তুনিস্ট প্রতিবেদন করলাম, আমার কাছে প্রয়োজনীয় সরকারি ডকুমেন্টও থাকলো-কিন্তু সরকার মনে করলেন যে এটা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যহত হতে পারে। ভাবতেই পারেন। কারণ সরকারের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে রিপোর্ট যাওয়া মানে সরকারের ইমেজ শেষ। এবার কিন্তু রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষার নামে আপনার ওপর খঁড়গ নেমে আসবে। সরকার আর রাষ্ট্র এক জিনিষ না। সরকার হলো ৫ বছরের জন্য তৈরী হয়, আবার ৫ বছর পর তাকে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমেই ক্ষমতায় আসতে (হোক সেটা একতরফা নির্বাচন) হবে বা বিদায় নিতে হবে (বাংলাদেশে অবশ্য এর ব্যাতিক্রম)। আর রাষ্ট্র হলো একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষার জন্য ওই শ্রেণী যতদিন থাকবে ততদিন রাষ্ট্র টিকে থাকবে। এখন আ.লীগ যারা করেন এর বাইরেও রাষ্ট্রের স্টেক হোল্ডার আছেন। সো, আ.লীগ সরকারের বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করা কোনভাবেই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জেহাদ নয়।

বিদ্রোহ ন্যায় সঙ্গত, তবে আ.লীগের জমানায় নয়:
অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত কিন্তু এই সরকারের করা সম্প্রচার নীতিমালায় তা করা যাবে না। অর্থ্যাৎ কোথাও যদি বিদ্রোহ করে কেউ তবে তা প্রচার করা যাবে না। কেন করা যাবে না, যদি তা হয় রাজনৈতিক। লাইনগুলো এরকম ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোন বিদ্রোহ, নৈরাজ্য এবং হিংসাত্মক ঘটনা প্রদর্শনা করা যাবে না।’ পৃথিবীর সব কর্মকাণ্ডই রাজনৈতিক। আর অন্যায় কোন কাজ আরো বেশি রাজনৈতিক। তো, আপনি রাজনীতির বিরুদ্ধে রাজনীতি মানে হলো বিদ্রোহ করা। আর এই বিদ্রোহের কোন দৃশ্য আপনি প্রচার করতে পারবেন না। অর্থ্যাৎ আপনাকে সরকারের সঙ্গেই থাকতে হবে।

বহুল আলোচিত এই ছবিটি প্রচার করা যাবে না:
দৈনিক কালের কন্ঠসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছবিটি ছাপা হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে বিজিএমই ঘেরাওকালে পুলিশ একজন প্রতিবাদকারীকে গলা চেপে ধরেছে। যে কোনভাবে হোক ওখানে আলোচিত্রী সাংবাদিকেরা থাকায় ছবিটি তোলা গেছে। কিন্তু প্রতিনিয়তই পুলিশ ও সরকারি দলের লোকজন এভাবেই মানুষের গলাচিপে ধরে। এখন এই ছবিটি কিন্তু টিভিতে প্রচার করা যাবে না। কারণ যিনি গলাচিপে ধরেছেন তিনি একজন সরকারি লোক। নীতিমালার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিজিএমই ঘেরাওকালে ওই গলাচিপে ধরা পুলিশটি তার দায়িত্ব পালন করছিলো। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনকালে (বিজিএমইকে রক্ষা করা এই শ্রেণী বৈষম্যের শাসকশ্রেণীর রাষ্ট্রের প্রধান কাজ। আর শ্রমিককে পেটানো তাদের জন্য ফরজ) কোন কাজকে প্রচার করা যাবে না যাতে তিনি হেয় প্রতিপন্ন হন।

?oh=4f0fed49f8dd162113f94a99d75bc399&oe=5440F75D” width=”400″ />

এখন পাঠক আপনি বলেন, এই ছবি সম্প্রচারের পর পুলিশ সদস্যের পরিচিতদের মধ্যে কি তার শয়তানি চরিত্র বা খাসলত ফাঁস হয়ে যায়নি? তাতে তিনি অবশ্যই যথেষ্ট হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন। এবার বোঝ ঠ্যালা। সম্প্রচার নীতিমালায় আটকে যাবে এই গলা চেপে ধরার দৃশ্য।

পাঠক, এই সম্প্রচার নীতিমালা দিয়ে আপনার গলা চিপে ধরবে, আপনি কিছু বলতে পারবেন না, এমন কী দম বন্ধ হয়ে গেলেও না।

সভ্য দেশে কি হয়:
বাংলাদেশ কাগজ কলমে একটি ‘বুর্জোয় গণতান্ত্রিক’ দেশ। এরকম বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক দেশের সরকারি তথ্য ফাঁস করতে কোথাও মানা নেই। স্নোডেনের কথা, উইকিলিকসের কথা নিশ্চয় ভুলে যাননি। এই দুই বীর মার্কিন যুক্তেরাষ্ট্রের এন্তার সব জারি জুরি এমন কী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে। এ জন্য ওই দুই ব্যাক্তিকে সরকার খুজছে। কিন্তু যেসব গণমাধ্যম এই জারী প্রকাশ করেছে তাদের গণমাধ্যমগুলো আমেরিকা কিন্তু বন্ধ করেনি। আর এটা আজকের যুগে সম্ভবও না। এরকম বহু উদাহরণ দেয়া যেতো। একটা নগদ উদাহরণ দিলাম মাত্র। এটা পাকিস্তানে সম্ভব। পাকিস্তানের জিও টিভি দেশটির সেনা গোয়েন্দা আইএসআই এর উপর একটা প্রতিবেদন করেছিলো, জিও টিভির প্রধানকে এরপর গুলি করা হয়। তারপর টিভিটাই বন্ধ করে দেয়া হয়। তাহলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একমাত্র সোল এজেন্ট আ.লীগের উৎসাহদানকারী দেশ কি পাকিস্তান?

আমরা যারা রিপোটিংয়ের সাথে যুক্ত আছি তারা স্বীকার করবেন যে বাংলাদেশে তথ্য পাওয়া সব থেকে কষ্টের এবং ঝুকিপূর্ন। অনেক ক্ষেত্রেই আমাদেরকে সরকারি তথ্য ভান্ডারে বেআইনি পথেই ঢু মারতে হয়। সরকারি তথ্যভাণ্ডারে বেআইনিভাবে ঢু মেরে আমরা জাতীয় নিরাপত্তা ভাঙ্গিনা। গণমাধ্যম রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভেঙ্গেছে এরকম কয়টা রিপোর্ট দেখানো যাবে?

আমরা যেটা করি তা হলো সরকারের গৃহিত নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে দুনীতি, দুর্বলতা খুঁজে বের করি এবং সেটা প্রকাশ করি। সরকারের ভয় কি এখানে? যে গণহারে লুটপাট হচ্ছে তার খবর কোনভাবেই যেনো মানুষের কাছে না যায়?

সরকার ০৫ আগস্ট ২০১৪/২১ শ্রাবণ ১৪২১ তারিখে ‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪’ অনুমোদন করেছে। নীতিমালাটি পড়ে বিনোদন নিতে পারেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২০ thoughts on “নীতিমালার নামে সব চ্যানেল হবে বিটিভি

    1. আল্লার দুনিয়ায় সবই মউলার
      আল্লার দুনিয়ায় সবই মউলার ইচ্ছে। যখন মউলার ইচ্ছে কর্ম হয় তখন সব কিছুই ভালো। শোকর আলহামদুল্লাহ বলে তা গ্রহণ করা ঈমানী দায়িত্ব।
      সম্প্রচার নীতিমালা গ্রহণ করে আ.লীগ সরকারকে ধন্য করেন। আমীন।

  1. টক শো প্রধানমন্ত্রী প্রছন্দ

    টক শো প্রধানমন্ত্রী প্রছন্দ করেন না, টক শো বন্ধ:

    এরকম প্রধানমন্ত্রী আমাদের কোন দরকার নাই।

    আওয়ামী লীগ দেশটাকে হবুচন্দ্র রাজার দেশে পরিণত করতে চাইছে। এই কালো আইনের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে রুখে দাড়াতে হবে।

  2. ইস্টিশন কতৃপক্ষের কাছে এই
    ইস্টিশন কতৃপক্ষের কাছে এই প্রতিবাদী লেখাটিকে স্টিকি করার আবেদন জানিয়ে রাখলাম!

    #Proud to be a Bangladeshi!Ashamed of our shameless government!

  3. সেই বাকশাল গঠনের সময়
    সেই বাকশাল গঠনের সময় আওয়ামীলীগ যে ধরনের একনায়কতন্ত্র চালানোর আয়োজন করছিল, চারটি স্বগোত্রীয় সংবাদপত্র রেখে বাকিগুলো ব্যান করে দিয়েছিল, সকল রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করেছিল, বর্তমানেও একই পথে হাটছে। এই পোস্ট পড়ে সম্প্রচার নীতিমালা নামের কণ্ঠ স্তব্দ করে দেওয়ার সব আয়োজন সম্পর্কে জানলাম।

    বর্তমানে বিশ্বের কোথাও এভাবে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কালো আইন জারি নাই। পরণতি যে খুব একটা ভাল হবেনা এই বোধদয় আওয়ামীলীগের হবেনা বলেই মনে হচ্ছে। বন্ধুকের নল নয়, জনগনই ক্ষমতার উৎস।

  4. এখন বন্ধু রাষ্ট্র টিপাইমুখে

    এখন বন্ধু রাষ্ট্র টিপাইমুখে বাধ দিবে, সীমান্তে পাখির মত গুলি করে মারবে,সুন্দরবন উজাড় করে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাবে, তিস্তায় পানি আটকে রাখবে, ফারাক্কায় বাধ দিবে-আপনার দেশ নাই হয়ে যাবে কিন্তু তবুও আপনাকে বন্ধুত্বের দায় মেটাতে হবে। আপনি এসবের বিরুদ্ধে বললেই সম্প্রচার নীতিমালায় আটকে যাবেন।

    শহীদ নূর হোসেন আর ডঃ মিলনের আত্মার উপর তো আমলীগ আগেই কাপড় খুলে প্রাকৃতিক কাজ সেরে দিয়েছে। এখন গণতন্ত্রের কবর রচনা করার জন্য তারা আর কি কি করে দেখার অপেক্ষায় আছি!

    #Proud to be a Bangladeshi!Ashamed of our shameless government!

  5. প্রতিটা পয়েন্ট ধরে ধরে আপনি
    প্রতিটা পয়েন্ট ধরে ধরে আপনি চমৎকারভাবে তথাকথিত সম্প্রচার নীতিমালার বিশ্লেষন করেছেন। এই নীতিমালার উদ্দেশ্য একটাই, কণ্ঠরোধ করা। একজন মিডিয়া কর্মী হিসাবে এই নীতিমালা মেনে নিতে পারিনা। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কথা বলা উচিত আমাদের সবার।

  6. বাকশাল নিয়ে দু কথায় আলোচনা বা
    বাকশাল নিয়ে দু কথায় আলোচনা বা সমালোচনা, কোনটাই করা সহজ নয়। বাকশাল একটি সুদরপ্রসারী সরকার ব্যবস্থা যা ইমপ্লিমেন্টেশনের পূর্বেই মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়েছিল অপরিণামদর্শী কিছু রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দের স্বেচ্ছাচারিতার কারনে। তার সুফল এবং বাস্তবিক ভাবে তার মারাত্মক কুফল কোনটাই আমরা সঠিকভাবে অনুধাবন করার সুযোগ পাই নি। “হতে পারতো” বলে যা হয়নি তা নিয়ে অযথা কল্পনাপ্রসূত বক্তব্য দেওয়া জ্ঞানবানের লক্ষন নয়। সেটা যে তিমিরে ডুবে গেছে সেখানেই শান্তিতে থাকুক, আমরা আগামীর কথা ভাববো।

    আজ সরকার ‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা’ নীতিমালা নামে যে আইন করছে সেটার সমালোচনা হতে পারে, এটার গঠনগত ত্রুটি বিচ্যুতি ধরা পড়লে সেটা পরিমার্জন করে একটা যুগোপযোগী আইন তৈরি করা যেতে পারে কিন্তু সম্প্রচার নীতিমালা করলে সেটা সরকারের হাতিয়ার হয়ে উঠবেই বিধায় এই আইন-ই করা চলবে না বলে যারা অভিমত ব্যক্ত করছেন আমি স্পষ্ট ভাবেই তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করতে চাই।

    স্মরন রাখা প্রয়োজন, এ সরকারের আমলে এখন পর্যন্ত আমরা সবাই কিছু না কিছু তথ্য স্বাধীনতা ভোগ করছি। হতে পারে, এটা প্রয়োজনের চাইতে অপ্রতুল কিম্বা যে টুকু আছে সেটাও হরণ করার চেষ্টা চলতে পারে তাই বলে একমাত্র আইন করলেই সেটা রহিত হয়ে যাবে, এটা এতোখানি সহজ নয়। আবার অবাধ তথ্য স্বাধীনতার নামে অবাধ মিথ্যাচারকেও নিশ্চয় চলতে দেওয়া যায় না, প্রশ্ন হল, এই অবাধ মিথ্যাচারকে বন্ধ করতে গিয়ে অবাধ মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে হরণ করা হবে কি না। যদি সেটা হয় তবে এটা হবে দুর্ভাগ্যের, কলঙ্কের।

    আওয়ামীলীগ এই ধরনের কোন কালাকানুন করলে অবশেষে সেটার আল্টিমেট ফলাফল তাদেরকেই ভোগ করতে হবে।
    সুতরাং ………… ভাবিয়া করিও কাজ!

    1. আওয়ামীলীগ এই ধরনের কোন

      আওয়ামীলীগ এই ধরনের কোন কালাকানুন করলে অবশেষে সেটার আল্টিমেট ফলাফল তাদেরকেই ভোগ করতে হবে।

      যে নীতিমালা মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে পাশ হয়ে গেছে সেটা করা হয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। এ পর্যন্ত মন্ত্রী পরিষদ বৈঠকে যতগুলো নীতিমালা অনুমোদন করা হয়েছে কোনটা কি অবাস্তবায়িত হয়েছে? এটা একটা পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে সরকার চরম আকারের খেসারত দেবে। আপনি শিওর থাকেন।

      1. এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে

        এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে সরকার চরম আকারের খেসারত দেবে।

        কিন্তু খেসারত কিভাবে দেবে? অনেকেই বলে থাকেন, শেখ মুজিব আর আওয়ামী লীগ ৭৫-এর আগে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য খেসারত দিয়ে গেছে সপরিবারে নিহত হয়ে। অনেকেই আবার বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ঘটনা থেকে অনুপ্রেরণা নিতে চান; বলতে চান এবার আওয়ামী লীগকেও সেইরকম পরিণতি বরণ করে নিতে হবে। কিন্তু, আওয়ামী লীগ এবার অনেক সতর্ক আর কুটিল কৌশলের জাল সব জায়গায় ছড়িয়ে রেখেছে। তাই, ৭৫-এর মত কিছুর যারা প্রত্যাশা করছেন, তারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। আর আওয়ামী লীগের একজন কট্টর সমালোচক হয়েও আমি চাইনা আওয়ামী লীগকে ৭৫-এর মত নির্মম পরিণতি বরন করতে হোক।
        কিন্তু, কথা হচ্ছে যে, খেসারতটা হাম্বালীগকে কিভাবে দেওয়াবে দেশের জনগণ? এর কোন উত্তর কি আপনার জানা আছে?

        1. শেখ মুজিব আর আওয়ামী লীগ ৭৫-এর

          শেখ মুজিব আর আওয়ামী লীগ ৭৫-এর আগে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য খেসারত দিয়ে গেছে সপরিবারে নিহত হয়ে।

          কোন ‘বিশেষ’ কর্মকান্ডের কারনে শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হয়েছিলেন- আপনার কাছ থেকে জানতে চাইছি।

      2. এ পর্যন্ত মন্ত্রী পরিষদ বৈঠকে

        এ পর্যন্ত মন্ত্রী পরিষদ বৈঠকে যতগুলো নীতিমালা অনুমোদন করা হয়েছে কোনটা কি অবাস্তবায়িত হয়েছে?

        আইন তৈরি, অনুমোদন, বাস্তবায়ন এবং ব্যবহারিকভাবে তার ইমপ্লিমেন্টেশন সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। যৌতুক ও নারী নির্যাতন আইন, ধূমপান প্রতিরোধে আইন, ভেহিকেল অ্যাক্ট ইত্যাদি আইন গুলো বজ্র আঁটুনি ফস্কাগেরো-র মতো হয়ে যায় নি? আইন তৈরির দুর্বলতা এবং তার কারনে ইমপ্লিমেন্টেশন কোনটাই সফল হতে পারেনি কিন্তু এই সকল আইনের জুজু দেখিয়ে হয়তো সাময়িকভাবে অবদমিত করে রাখা সম্ভব হয়েছে বা হচ্ছে। ‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা’ আইনটিও এ রকম হয়তো একটা জুজু হয়ে থাকবে, ” এমনটি করা যাবে না, করলে খপ করে ধরে ফেলবে” বলে হয়তো ভয় দেখাবে কিন্তু করলেই ধরে ফেলবে সেটা সম্ভবপর হয়ে উঠবে না।অতিতেও এটাই হয়েছে, ভবিষ্যতেও তাই হবে।

  7. পয়েন্ট টু পয়েন্ট বিশ্লেষন।
    পয়েন্ট টু পয়েন্ট বিশ্লেষন। চমৎকার লিখেছেন। কমিশন গঠন করার আগে আইনের প্রয়োগ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করার চিন্তা দেখেই বুঝা যাচ্ছে সরকারের উদ্দেশ্য ভাল নয়। মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করার চিন্তা করছে সরকার। নীতিমালার প্রয়োজন আছে। আগে সম্প্রচার কমিশন গঠন করা হোক। সেই কমিশন বিশ্বের উন্নত দেশের সম্প্রচার নীতিমালা বিশ্লেষন করে সরকারে কাছে সুপারিশ পেশ করবে। সেটা মন্ত্রী পরিষদের মাধ্যমে সংসদে উপস্থাপন হবে। তারপর কমিশনই আইন অনুযায়ি নীতিমালা বাস্তবায়ন করবে। এটাই হচ্ছে নিয়ম।

  8. আওয়ামীলীগ ধীরে ধীরে
    আওয়ামীলীগ ধীরে ধীরে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে এগুচ্ছে। ৭৫ এর সেনাবিদ্রোহ থেকে দলটি শিক্ষা নিতে পারেনি। সাংবাদিক ও মিডিয়াগুলো সরকারের এই সিদ্ধান্ত কোনভাবেই মেনে নেবে না।

    1. ৭৫-এ ইসলামি ব্যাংক ছিল না।
      ৭৫-এ ইসলামি ব্যাংক ছিল না। এখন ইসলামি ব্যাংক আছে। তাই কোন ভয় নাই। মোস্তাকদের ইসলামি ব্যাংকের হালাল ঋণ দিয়ে খুশি রাখা হইছে।

  9. টিভিতে( ৭১)টকে যেন সরকারি
    টিভিতে( ৭১)টকে যেন সরকারি সচিব কে এই আইন নিয়ে বিশ্লেষন করতে দেখলাম তিনি তো সব গুলি ধারা পজেটিভ ভাবে সুন্দর করে উপ স্থাপন করলেন।

  10. কোপাকুপি শুরু হয়ে গেছে। আজকে
    কোপাকুপি শুরু হয়ে গেছে। আজকে সমাজকল্যানমন্ত্রি এর শুভ সূচনা করিয়াছেন। লেজুড় বৃত্তি, হিট খাওয়া খাওয়ি, আর ধান্দাবাজি বাদ দিয়ে প্রকৃত সাংবাদিকতার দিকে মনোযোগ না দিলে অবস্থা আরও খারাপ হবে (সব সাংবাদিককে জেনারালাইজ করে বলি নাই। তবে মেজর একটা অংশের খাসলত এইরকমই হয়ে গেছে)।

    গনমাধ্যম একটি জাতির কণ্ঠ। কণ্ঠ চেপে ধরার এই অপচেষ্টা রুখে না দাঁড়ালে ফল ভালো হবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

97 − = 90