হস্তমৈথুন

ভ্রান্ত ধারনা ও অশ্লীলতার ভয়ে আমরা অনেক সময় যৌন বিষয়ক নানান বিষয়কে এড়িয়ে চলি বা চলার চেষ্টা করে থাকি। কিন্তু একথা অনস্বীকার্য যে, যৌনতা আমাদের দৈহিক এবং প্রাত্যাহিক জীবনকে কোন না কোনভাবে প্রভাবিত করে থাকে ।বয়ঃস্বন্ধির পর থেকে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি একধরনের প্রবল আকর্ষনের সৃষ্টি হয়ে থাকে। কারো কারো বেলায় সমলিঙ্গের প্রতিও আকর্ষন সৃষ্টি হয় ।মাদকাশক্ততা, হতাশা, মানষিক বিকারগ্রস্ততা ইত্যাদি কারনে অনেকের আবার যৌন বিষয়ে কোন ধরনের আকর্ষনই থাকে না বা স্বাভাবিকের চাইতে অনেক কমে যায়। সর্বোপরি প্রানী বলতেই যৌন চাহিদা কম বেশ একটা থাকবেই। মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে সাধারনত আইনি, ধর্মীয় বা সামাজিকভাবে বিয়ের মাধ্যমে বিপরীত লিঙ্গের সহিত সঙ্গমের বৈধতা দেয়া হয়। অমুসলিম বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক কালে বিপরীত এবং সম উভয়লিঙ্গের সহিত সঙ্গমের আইনি বৈধতা দেয়া হয়েছে ।

ওপরের সহিত সঙ্গম ছাড়াও নিজে নিজে একটি পদ্ধতিতে বীর্য পতন করা যায় ।আর সেটার নাম হল হস্তমৈতুন ।শুনে অবাক হবেন যে,সাম্প্রতিককালে মুসলিম প্রধান দেশ আফগানিস্তানে জেলে বন্দি থাকা প্রায় ৫০ জন পুরুষ হস্তমৈতুনের মাধ্যমে এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় বীর্য সংরক্ষন করে তা তাদের স্ত্রীদের কাছে পাঠিয়ে সঙ্গম ছাড়াও সন্তান জন্মদানে সফল হন ।

সঙ্গাঃ হস্তমৈতুন হল এমন এক বিশেষ পদ্ধতি যার মাধ্যমে বিপরিত লিঙ্গ বা সমলিঙ্গের সহিত যৌন সঙ্গম না করেও বীর্য পতন করা যায় ।

হস্তমৈথুনের ইতিহাসঃঅতি প্রাচীনকাল থেকেই হস্তমৈথুন মানব সমাজের একটি অঙ্গ হয়ে আছে । প্রথম পুরুষের হস্তমৈথুনের পাথরে আঁকা ছবি অনেক পাওয়া গেছে । চতুর্থ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মাল্টার একটি মন্দিরে হস্তমৈথুন রত একজন নারীর একটি পোড়ামাটির মূর্তি পাওয়া যায় ।প্রাচীন সুমেরীয়রা হস্তমৈথুন কে যৌন ক্ষমতা বাড়ানোর একটি উপায় হিসাবে চর্চা করত ।পুং হস্তমৈথুন প্রাচীন মিশরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল । মনে করা হত, দেবতা আতুম, হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বিশ্ব সৃষ্টি করেছিলেন ।তখনকার ফারাওদের নীলনদে বছরের একটি বিশেষ সময়ে হস্তমৈথুন করাটা বাধ্যতামূলক ছিল ।প্রাচীন হিন্দু গ্রন্থ কামাসুত্রা তে বলা হয়েছে, “Churn your instrument with a lion’s pounce: sit with legs stretched out at right angles to one another, propping yourself up with two hands planted on the ground between in them, and it between your arms”প্রাচীন গ্রীকরা হস্তমৈথুনকে যৌন হতাশা থেকে মুক্তির সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় বলে মনে করত । তাদের বিভিন্ন লেখা এবং ছবিতে বারবার নারী হস্তমৈথুনের কথা উঠে এসেছে ।দার্শনিক ডায়াজোনাস লিখেছেন, দেবতা হারমিস তার পুত্র প্যান এর জন্যে হস্তমৈথুন আবিষ্কার করেন ।প্যান পরবর্তীতে তরুন মেষপালকদের এটা শিক্ষা দেন ।প্রাচীন গ্রীসে মেয়েদের হিস্টিরিয়ার চিকিৎসা হস্তমৈথুন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হত ।১৭শ শতাব্দীতে ছোটদের ঘুম পাড়ানোর জন্যে নানী দাদীরা এই পদ্ধতির আশ্রয় নিতেন । পরে ১৭১৬ সালে এটাকে ভয়াবহ পাপ হিসেবে আখ্যায়িত করে লিফলেট প্রচার করা হয় । এবং বলা হয় এটা করলে যৌনশক্তি লোপ , গনোরিয়া এবং মৃগী রোগ দেখা দেয় ।১৭৬০ সালে Samuel-Auguste Tissot. নামের গবেষক একে মানবদেহের প্রতি ভয়াবহ ক্ষতিকর এবং অসংখ্য রোগ সৃষ্টিকারী হিসাবে বর্ণনা করেন এবং L’Onanisme, নামে বই লেখেন ।এসব ভ্রান্ত ধারনার অবসান ঘটতে শুরু করে যখন ১৮৯৭ সালে H. Havelock Ellis, তার বিখ্যাত বই Studies in the Psychology of Sex, নামক বই লেখেন ।আর এখন তো এ সম্বন্ধে মানুষ অনেক সচেতন ।

উপকারিতাঃ হস্তমৈতুনকে বৈজ্ঞানিকভাবে একরকম স্বীকৃতিই দেয়া হয়েছে ।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন,অল্প ক্ষেত্রে ইহা শারিরিক বা মানসিক কোন ক্ষতিসাধন করে না ।তবে মনে রাখতে হবে Excess is everything bad. হস্তমৈতুন সাধারনত তাৎক্ষনিকভাবে উত্তেজনা প্রশমন করে ।অনেক সময় নেগেটিভ কল্পনা বা অশ্লিল ছবি এবং ভিডিও দর্শনের ফলে যৌন উত্তজনা সৃষ্টি হয় ।এধরনের উত্তেজনা সামাজিক অপরাধে উৎসাহিত করে ।তাই পরিত্রানের উপায় হিসেবে তখনি হৈস্তমৈতুন করা যেতে পারে ।বিশেষভাবে স্বপ্নদোষ পুর্নাঙ্গ রুপ নেয়ার আগে যদি ঘুম ভেঙে যায় এবং উদ্ভট কল্পনার ফলে যদি অতিরিক্ত যৌন উত্তেজনা দেখা দেয় তবে তাৎক্ষনিক হস্তমৈতুন করাই শ্রেয় ।নয়তো সাময়িক তলপেটে ব্যাথা সহ শারিরিক বা মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে ।

অপকারিতাঃ যার উপকারিতা থাকবে তার অপকারিতাও থাকবে ।হস্তমৈতুনের ক্ষেত্রে উপকারিতার চাইতে অপকারিতাই বেশি ।প্রথমত এই কাজটি সব ধর্মেই নিষেধ করা হয়েছে ।অপচয় করা প্রায় সব ধর্মেই নিষিদ্ধ ।ইসলাম ধর্মে অপচয়কারিকে শয়তানের ভাই বলে উল্লেখ করা হয়েছে ।বীর্য আল্লাহর একটি নিয়ামত,আর হস্তমৈতুনের মাধ্যমে এই নিয়ামতের অপচয়ই হয়ে থাকে ।
অতিরিক্ত হস্তমৈতুনের ফলে লিঙ্গ বা যোনীপথে ঘা এর সৃষ্টি হতে পারে,এমনকি রক্তক্ষরন ও হতে পারে ।বিশেষ করে মেয়েদের যোনীতে বিভিন্ন বস্তু প্রবেশের কারনে জীবানু সংক্রমন ঘটতে পারে ।উভয়ের বেলায় প্রশ্রাবে জালাপোড়া সহ জীবানু সংক্রমনে সিফিলিস, গনোরিয়া ইত্যাদি রোগের সৃষ্টি হতে পারে ।নিয়মিত ও অতিরিক্ত হস্তমৈতুনে যৌনশক্তি কমে যাওয়া ও শারিরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে ।ইহা অভ্যাসে পরিনত হতে পারে এবং দীর্ঘদিন এই অভ্যাসের ফলে যৌন আকাঙ্খা কমে যেতে পারে, তাছাড়া বিবাহিত জীবনে যৌন অনীহার সৃষ্টি হতে পারে যা দাম্পত্বেও প্রভাব ফেলবে ।

করনীয়ঃ যথা সম্ভব এই পদ্ধতিটি এড়িয়ে চলাই উত্তম ।ধর্মীয় বিষয়গুলিতে মনযোগী হলে এই অভ্যাসটা সহজেই ত্যাগ করা যায় ।অশ্লিল কল্পনা ও অশ্লিল ছবি বা ভিডিও দেখা থেকে বিরত থাকতে হবে ।পুরুষদের বেলায় কোন কারনবশত লিঙ্গ উথিত হলে হাত লাগানো থেকে বিরত থাকতে হবে ।লিঙ্গউথ্যান বেশিক্ষন স্থায়ী হলে লিঙ্গের আগায় আস্তে করে আঘাত করা যেতে পারে,যাতে হালকা ব্যথা অনুভূত হয় ।মেয়েরা শালীনতা বজায় ও বিপরীত লিঙ্গের সহিত রসালাপ ত্যাগ করতে হবে ।নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে ।অবসর সময়ে ধর্মীয় বই পড়ার অভ্যাস করতে হবে ।সর্বোপরি নিজেকে আত্মনিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলেই এই অভ্যাস ত্যাগ বা ইহা থেকে বিরত থাকা সম্ভব ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৬ thoughts on “হস্তমৈথুন

  1. রেয়ার একটা বিষয়। এই বিষয়
    রেয়ার একটা বিষয়। এই বিষয় নিয়েও যে ব্লগ পোস্ট লেখা যেতে পারে ভাবিনি। অনেক কিছুই জানলাম, বিশেষ করে ইতিহাস। তবে একটা জায়গায় একটু তথ্যগত ভুল আছে। শুধুমাত্র হস্তমৈথুনের কারনে গনোরিয়া, সিফিলিস হওয়ার কোন চান্স নেই।

    1. হস্তমৈতুনের ফলে পুরুষাঙ্গে ঘা
      হস্তমৈতুনের ফলে পুরুষাঙ্গে ঘা বা রক্তক্ষরন হয় ।অনেক সময় মুত্রনালীতে রক্ত জমাট বেধে পুঁজের সৃষ্টি হতে পারে, যা থেকে জীবানু সংক্রমন ঘটলে সিফিলিস বা গনোরিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।

  2. বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হস্তমৈথুন
    বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হস্তমৈথুন শব্দটাকে “হস্তমৈতুন” লেখা হয়েছে।
    এডিট করে সঠিক শব্দটা লিখে দিন।

    তথ্যবহুল পোস্ট। ভাল লেগেছে।

  3. চমৎকার ব্যতিক্রম ধর্মী একটা
    চমৎকার ব্যতিক্রম ধর্মী একটা পোস্টের জন্য এস জি শাহিন ভাইকে ধন্যবাদ। মূলত এইসকল বাস্তব, অথচ অহেতুক কিছু দোহাইয়ের শৃংখলে আবদ্ধ তথাকথিত “নিষিদ্ধ” বিষয়াদি নিয়ে লেখার সাহস অনেকেরই নেই। সেখানে আপনি যেই সাহস দেখিয়েছেন তাতে আপনাকে স্যালুট। সেই সাথে তথ্যসমৃদ্ধ করে লেখার জন্য আবারো :salute: :salute: :salute:

  4. যদিও ব্লগের বিষয়টি সাহসী
    যদিও ব্লগের বিষয়টি সাহসী কিন্তু আপনার লেখাটি সেই সাহস ধারন করতে পারেনি। বরং আপনি বাকিদের দেখানো পথেই হাঁটলেন।মাস্টারবেশন নিয়ে আমাদের সমাজে প্রচলিত যে মিথ্যা ধারনাগুলো আছে সেগুলো হচ্ছে…
    • এতে যৌনাংগ বেঁকে যায়
    • যৌনাংগ ছোট হয়ে যায়
    • যৌনক্ষমতা হ্রাস পায়
    • বিভিন্ন যৌনরোগ হয়।
    • মানুষ মাথা খারাপ হয় (অবসেশড হয়)
    • পুরুষত্ব চলে যায়
    • মুখে ব্রন হয়
    • স্বাস্থ্য দূর্বল হয়
    • এছাড়া চুল পড়া,ইনফ্যাকশন এবং চুলপরা সহ নানাবিধ রোগের কথা বলা হয়।
    আপনি বলেছেন…

    “হস্তমৈতুনের ক্ষেত্রে উপকারিতার চাইতে অপকারিতাই বেশি ।”

    কি কি অপকারিতা?
    আপনার লেখা থেকেই পয়েন্ট করলাম

    অতিরিক্ত হস্তমৈতুনের ফলে লিঙ্গ বা যোনীপথে ঘা এর সৃষ্টি হতে পারে
    • মেয়েদের যোনীতে বিভিন্ন বস্তু প্রবেশের কারনে জীবানু সংক্রমন ঘটতে পারে ।
    • প্রশ্রাবে জালাপোড়া সহ জীবানু সংক্রমনে সিফিলিস, গনোরিয়া ইত্যাদি রোগের সৃষ্টি হতে পারে
    • অতিরিক্ত হস্তমৈতুনে যৌনশক্তি কমে যাওয়া ও শারিরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে
    • অভ্যাসে পরিনত হতে পারে এবং দীর্ঘদিন এই অভ্যাসের ফলে যৌন আকাঙ্খা কমে যেতে পারে, তাছাড়া বিবাহিত জীবনে যৌন অনীহার সৃষ্টি হতে পারে যা দাম্পত্বেও প্রভাব ফেলবে ।
    • বীর্য আল্লাহর একটি নিয়ামত,আর হস্তমৈতুনের মাধ্যমে এই নিয়ামতের অপচয়ই হয়ে থাকে ।

    উত্তরঃ
    • প্রথম সমস্যাটি যে কারনে হতে পারে তা হলো মাস্টারবেশনের সময় যদি কোনো লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করেন যেমন সাবান,শ্যাম্পু এগুলো না । অতিরিক্ত মাত্রায় করলে সেগুলো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
    • মেয়েরা মাস্টারবেশন মূলত হাত দিয়েই করে থাকে।উন্নত বিশ্বে সেক্স আইটেম কিনতে পাওয়া যায় এবং জেনেশুনে কেউ নিশ্চয়ই ড্রেন থেকে কলা তুলে মাস্টারবেট করবেনা। তাই আপনার ঐ যুক্তিও ধোপে টিকেনা।

    • তিন নাম্বারটা আজব যুক্তি। হুজুরদের কথা। রেফারেন্স আছে কোনো?

    • অতিরিক্ত মাস্টারবেশনের ব্যাপারে এক্সপার্টদের মত হলো এটি “অতিরিক্ত যৌন আকাঙ্ক্ষার” একটি সিম্পটম। এটি কখনই রোগ না।(উইকি) যার মাঝে অতিরিক্ত মাস্টারবেশনের চাহিদা আছে বুঝতে হবে যে তার মাঝে অতি যৌনাকাংখা আছে…যেমন সৌদিয়ারবের বাদশাহ আর তাদের সুপুত্রেরা।কাজেই এটিকে রোগ হিসাবে মাস্টারবেশনের দোষ দেয়াটা অন্যায়।

    আপনার বর্ননাতে দেয়া প্রতিটি ক্ষতিকর দিকের আগে একটা করে “যদি/কিন্তু” আছে। আর আল্লাহর নিয়ামত নিয়ে আলোচনা করতে আমি আগ্রহী না কারন আলোচনা হতে হবে হয় ধার্মিক অথবা বৈজ্ঞানিক দিক থেকে। একসাথে দুইদিক থেকে আলোচনা হতে পারেনা।

    মাস্টারবেশন একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ব্যাপার।মাস্টারবেশ যে শুধু পুরুষ আর নারী এককভাবে করে তা নয় । পুরুষ নারী একসাথেও করে থাকে। সমকামীদের মাঝে ত অবশ্যই/পুরুষ-নারী একসাথে মাস্টারবেশনের উদাহরনও অনেক সমাজে বিদ্যমান। সব শিশুর যৌনতার সাথে প্রথম পরিচয় হয় এই মাস্টারবেশনের মাধ্যমে। একটি জাতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ৯৫শতাংশ পুরুষ এবং ৮৯ শতাংশ নারী মাস্টারবেশন করেন। ২০০৭ সনের বৃটিশ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ১৬ থেকে ৪৪ বছরের ৯৫শতাংশ পুরুষ এবং ৭১ শতাংশ নারী মাস্টারবেশন করেন (সূত্রঃউইকি)। অনুমান করি এই সংখ্যাটা সব দেশেই কমবেশি কাছাকাছি হবে। এখন তাহলে আমাকে বলুন এই মাস্টারবেশনের জন্য আপনার উল্লেখিত (আল্লাহর নিয়ামত ব্যাতিত) রোগগুলোর কয়টি রোগ রিপোর্টেড হয়েছে? আমরা না হয় অনুন্নত জাতি।বরং উল্টো অস্ট্রেলিয়ার ক্যান্সার কাউন্সিলের এক সমীক্ষায় যে সকল পুরুষেরা সপ্তাহে ৫ বা তার অতিরিক্ত মাস্টারবেশন করে (২০ এর আগে)তাদের প্রোস্টেড ক্যান্সারের সম্ভাবনা কম থাকে (এখনও পরীক্ষা চলমান সূত্রঃউইকি) কিন্তু উন্নত বিশ্বে যদি কোনো রোগের পিছনের কারন এই মাস্টারবেশন হতো তাহলে নিশ্চয়ই এতদিন সেটি গোপন থাকতোনা। মাস্টারবেশন খুবই প্রাকৃতিক একটি ব্যাপার। তাই এতে শারিরীক কোনো ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই প্রায়। বরং এতে যে উপকারিতা আছে তা হলো শারিরীক প্রশান্তি, আপনার পার্টনার যদি অনিচ্ছুক হন সেক্ষেত্রে নিজেকে সংযত, শুধুমাত্র নিজের শারিরীক প্রশান্তি, স্ট্রেস থেকে মুক্তি, ঘুমানোর আগে একধরনের মানসিক আরাম… এরকম অনেক সুবিধাই আছে।

    আপনি সূক্ষভাবে উপকারীতাগুলো বলে অপকারীতাগুলোকে হাইলাইট করলেন যেগুলো মূলত অপকারই না বলতে পারেন। “অতিরিক্ত করলে” কি হয় সেটা মূল ঘটনার বিরুদ্ধে আলোচনার উপাদান হতে পারেনা। অতিরিক্ত পানি পান করলেও মানুষ মারা যেতে পারে তাই বলে পানির দোষ না। আপনার লেখাটা মাস্টারবেশনকে অনুৎসাহিত করতেই লিখা হয়েছে। ধর্মীয় আলোচনা করতে চাচ্ছিনা। তাহলে আলোচনা বড় হয়ে যাবে। তবে মূলত আব্রাহামিক ধর্ম ( ইসলাম,খ্রীষ্টান)গুলোই মাস্টারবেশনের বিরুদ্ধে সোচ্চার। কারন নিয়া ত্যানা পেচাইতে ইচ্ছা করছেনা। বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে বিস্তর গবেষনা আছে। কেউ হা করে কেউ না করে। হিন্দু ধর্মে মাস্টারবেশন একসময় ধর্মেরই উপাদান ছিলো।

    যাক, লেখার টপিকটার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।

    এই বিষয় নিয়ে যারা আরো পড়তে চান…
    উইকি
    ওয়েবমেডি
    বিবিসি এডভাইস

    1. প্রথম সমস্যাটি যে কারনে হতে

      প্রথম সমস্যাটি যে কারনে হতে পারে তা হলো মাস্টারবেশনের সময় যদি কোনো লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করেন যেমন সাবান,শ্যাম্পু এগুলো না ।

      সাবান, শ্যাম্পু, তেল বা থুথু ছাড়া হস্তমৈথুন সম্ভব? আপনি যখন উত্তেজিত অবস্থায় পৌছুবেন তখন আপনার লিঙ্গ কতটুকু চাপে থাকে তা পরিমাপ করে দেখেছেন?

      মেয়েরা মাস্টারবেশন মূলত হাত দিয়েই করে থাকে।উন্নত বিশ্বে সেক্স আইটেম কিনতে পাওয়া যায় এবং জেনেশুনে কেউ নিশ্চয়ই ড্রেন থেকে কলা তুলে মাস্টারবেট করবেনা।

      হাত কি সবসময় জীবানুমুক্ত থাকে? মানলাম সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে কাজ শুরু করে, কিন্তু এমন কোন সাবানের নাম বলতে পারেন যে সাবান জীবাণুর বিরুদ্ধে শতভাগ কার্যকরী?

      বীর্য আল্লাহর একটি নিয়ামত,আর হস্তমৈতুনের মাধ্যমে এই নিয়ামতের অপচয়ই হয়ে থাকে ।

      বিশ্বাসীদের কাছে অবশ্যই নিয়ামত । আপনি না মানতে পারেন, না মানার আছে অধিকার!

      মাস্টারবেশন খুবই প্রাকৃতিক একটি ব্যাপার। তাই এতে শারিরীক কোনো ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই প্রায়। বরং এতে যে উপকারিতা আছে তা হলো শারিরীক প্রশান্তি

      ধুমপানের পক্ষে বলার মত একটি হাস্যকর কথা । জগতে যার উপকারীতা আছে তার অপকারীতা থাকবেই ।

      অনেক বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও তত্ত্বপূর্ণ চমৎকার একটি মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

  5. সাবান, শ্যাম্পু, তেল বা থুথু

    সাবান, শ্যাম্পু, তেল বা থুথু ছাড়া হস্তমৈথুন সম্ভব

    সাবান,শ্যাম্পু ব্যবহার করলে সমস্যা হতে পারে…আবারো বলছি হতে পারে। কিন্তু কতজন রিপোর্টেড হয়েছেন? থুথু বা তেলে কোনো সমস্যা নাই। ফোর ইউর ইনফোরমেশন, কনডমেও লুব্রিকেন্ট ইউজ করা হয় এবং তা কোনো ক্ষতি করেছে বলে শোনা যায়নি।

    হাত কি সবসময় জীবানুমুক্ত থাকে?

    তা মশাই এই পর্যন্ত কতজন জীবানুযুক্ত হাত দিয়ে মাস্টারবেট করে রোগগ্রস্ত হয়েছেন? আর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিলেও সমস্যা? :হয়রান: ? মানুষের শারিরীক একটা সক্ষমতা থাকে রোগের বিরুদ্ধে ফাইট করতে,জানেন না?এত নিয়ম মানতে হলে ত আমাদের সবার নভোচারীদের ড্রেস পরে ঘুরতে হবে। আর মেয়েদের মাস্টারবেশনের পদ্ধতিটা বোধহয় আপনার পুরু জানা নেই। সর্বদাই যে ভিতরে কিছু প্রবিষ্ট করতে হয় সেটা বাধ্যতামূলক না।

    আপনার বিশ্বাস নিয়ে ত আমি কোনো কথা বলছিনা। আপনার কাছে এইটা নিয়ামত আর এইটার অপচয় করা নিষেধ আবার প্রাচীন ধর্মে এইটা ধর্মীয় আচার। বিশ্বাস ত বিজ্ঞান না। আপনে আলোচনা করতে চাচ্ছেন কিসের ভিত্তিতে? বিজ্ঞান না বিশ্বাস? বিশ্বাস হইলে ত আর অত কথার দরকার নাই। আল্লাহ করছে… ব্যাস ফয়ছালা হয়ে গেছে।

    ধুমপান কি প্রাকৃতিক ব্যাপার নাকি? মাথা ঠান্ডা করে কমেন্ট করেন। ব্লগে উত্তেজিত হতে নাই। বি কুল। আর পারলে আমার দেয়া লিংকগুলো পড়বেন। আবার যদি বলে বসেন এইগুলা সব, ইহুদি নেসারদের কাজ তাহলে আমি বুঝে যামু আপনার লগে আলাপ করার চাইতে গান শোনা উচিৎ কর্ম

    হ্যাপি ব্লগিং
    :গোলাপ:

    1. কিন্তু কতজন রিপোর্টেড

      কিন্তু কতজন রিপোর্টেড হয়েছেন?

      সবকিছু যে রিপোর্টেড হতে হবে কিংবা গুগলে সার্চ দিলে পেতে হবে এমন কোন কথা নেই ।

      বিশ্বাস ত বিজ্ঞান না। আপনে আলোচনা করতে চাচ্ছেন কিসের ভিত্তিতে? বিজ্ঞান না বিশ্বাস?

      দুটো নিয়েই তো মানুষের জীবন(কিছু ব্যাতিক্রমি ছাড়া)। আপনি দুটোতে পরস্পর বিরুধীতা না দেখে সামঞ্জস্য খুজুন । বিপুলা এ পৃথিবীর আর কতটুকুই বা জানি? মানুষের সীমিত জ্ঞান নিয়ে সবকিছু ব্যাখা বা প্রমাণ করা আদৌ সম্ভব? বিজ্ঞান যেমন শিখরে আরোহন করেনি তেমনি ধর্মীয় ব্যাখ্যাও এখনো পূর্ণতা পায়নি । সেদিন একদিন আসবেই যেদিন বিজ্ঞান এবং ধর্ম দুটোই একে অপরের পরিপুরক হয়ে দাড়াবে ।

      ধুমপান কি প্রাকৃতিক ব্যাপার নাকি?

      আমি কি বলেছি ধুমপান প্রাকৃতিক? আমি উদাহরণ টেনেছি উপকারের অবশ্যই অপকার আছে এই বিষয়টি বুঝাতে ।
      হস্তমৈথুন কি প্রাকৃতিক? কিভাবে? হস্তমৈথুন প্রাকৃতিক হলে স্বপ্নদোষটা কি?

  6. তারমানে আপনি স্বীকার করছেন যে
    তারমানে আপনি স্বীকার করছেন যে গুগলে এ সম্পৃক্ত কোনো রিপোর্ট নেই। বা অন্যভাবে বললে রিপোর্ট হবার মতো এ্যালার্মিং কোনো ব্যাপার এটি না। যেহেতু গড়ে ৮০ শতাংশ নর-নারী-ই মাস্টারবেশন করেন এবং এদের মাঝে আপনার উল্লেখিত রোগসমূহের কোনো রিপোর্ট নেই তার মানে এই ধরনের ঘটনাও ঘটছেনা। আবার রাস্তার ধারে ষন্ডার তেল বিক্রেতাদের মতো বলে বইসেন না যে বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যহীনতার পিছনে এই “হাতমাড়া” দায়ী।

    “বিশ্বাস আর বিজ্ঞান” একসাথে বাস করেনা। মুসলমানের কাছে শুকর/কচ্ছপ খাওয়া হারাম আবার হিন্দুর কাছে গরু খাওয়া হারাম, আবার হিন্দু মুসমিল দুই জাতিই কুকুর খায় না,সাপ খায়না। কিন্তু জাপানিরা খায়। আর বিজ্ঞান বলে কোনটাই শরীরে জন্য ক্ষতিকর না। তারমানে বিশ্বাস আর বিজ্ঞান এক না।

    আপনি যুক্তি খন্ডন করতে গিয়ে বলেছেন যে ধুমপানের মতো যুক্তি। ধুমপান কোনো প্রাকৃতিক ব্যাপার না। প্রাকৃতিক ব্যাপার তাই যা প্রকৃতিগতভাবে ঘটে। স্বপ্নদোষ প্রকৃতিগতভাবেই ঘটে। এর সাথে অন্যকিছুর সম্পর্ক নাই। মাস্টারবেশন শরীরের একটি অংশের সাথে করে মানুষ আর শরীর প্রকৃতির অংশ। তাই মাস্টারবেশন প্রাকৃতিক ব্যাপার।

    যাক ভাই ম্যালা আলোচনা হইছে। আসলে তর্কে কেউ হার মানেনা। আর এইখানে ত বিশ্বাস ভাইজান চলে আসছে তাইলে তর্ক করাই আজাইরা।

    গুড নাইট

    1. হস্তমৈথুনের সময় সাবান/শেম্পু
      হস্তমৈথুনের সময় সাবান/শেম্পু জাতীয় এসিডিক তরল অনেক সময় লিঙ্গের ভিতরে প্রবেশ করতে পারে। সাবান দিয়ে হস্তমৈথুনের কারনে চামড়া সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং খুব সহজে ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে ফরনিয়ার্স গ্যাংরিন (Fournier’s Gangrene) নামক একপ্রকার রোগ দেখা দেয়। ফরনিয়ার্স গ্যাংরিন (Fournier’s Gangrene) রোগটি নানা রকম ব্যাকটেরিয়ার মিশ্র ইনফেকশান থেকে হয় যা প্রাণঘাতী একটি রোগ।
      http://www.hindawi.com/journals/criem/2012/154025/

  7. সিফিলিস , গনোরিয়া মাস্টারবেট
    সিফিলিস , গনোরিয়া মাস্টারবেট করলে হয়! ক্যমনে কি!!! মাস্টারবেট করে যৌন চাহিদা মেটালে সে মানুষ বরং গণিকালয়ে না যেয়ে এই ধরনের রোগ থেকে বেচে যায়। রক্ত নালি ছিড়ে রোগ হতে পারে তবে তা সিফিলিস , গনোরিয়া না। ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন বা মূত্রবহনতন্ত্রের প্রদাহ হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত মাস্টারবেট করলে শরীরে অসমোলারিটি বেড়ে যেতে পারে যার ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। পোস্টটি অসম্পূর্ণ ও ক্যানভাসার দের কথার মতই মনে হল। হ্যাপি হস্তমৈথুন .

  8. ১৭শ শতাব্দীতে ছোটদের ঘুম

    ১৭শ শতাব্দীতে ছোটদের ঘুম পাড়ানোর জন্যে নানী দাদীরা এই পদ্ধতির আশ্রয় নিতেন

    এইটা আবার কেমুন?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 3