বৈদেশিক মুদ্রার উল্টোপিঠ : বন্দিশালা সবুজ আরব

বাস্তব অবস্থা বলতে গেলে ‘ক্রীতদাস’ বলতে হবে তাদের। আমরা বলি, অভিবাসী শ্রমিক, প্রবাসী শ্রমিক কিংবা বিদেশে রপ্তানী হওয়া শ্রমশক্তি। ইউরোপ-আমেরিকায় যারা যান, তাদের প্রসঙ্গটা ভিন্ন। কিন্তু আরবের বিভিন্ন দেশে যারা যান, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান- ‘ক্রীতদাস’ ছাড়া আর কোনো শব্দে তাদের অবস্থা ব্যাখ্যা করা যাবে না। তাদের শ্রমে, ঘামে মরুর দেশগুলো সবুজ হয়েছে। সেখানে ফুটছে গুলবাগিচা- ফুলের বাগান, গুলমোহর- কৃষ্ণচূড়া, সুদীর্ঘ পথের দু’পাশে দাঁড়িয়ে সম্ভাষণ জানাচ্ছে সারি সারি নারিকেল গাছ। মরুর দেশগুলোকে যারা সবুজ করে তুলেছেন, বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে দেশকে গড়ে দিচ্ছেন শক্ত ভিত্তি- যা দিয়ে ধনীরা ব্যবসা করছেন, বিদেশ গিয়ে ফূর্তি করছেন- সেই সভ্যতার কারিগরেরা যে, যাপন করছেন বন্দি ক্রীতদাসের জীবন তার খোঁজ ক’জন রাখে!

সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আসা দেশ সৌদি আরবের কথাই ধরি। সেখানে বাংলাদেশি আছেন ৩০ লাখেরও বেশি। গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, বৈধভাবে সৌদি আরবে ২৪ লাখ ২৯ হাজার ৮২৫ জন বাংলাদেশি আছেন। মন্ত্রীর উল্লেখিত এই সংখ্যার বাইরে রয়েছেন অবৈধ শ্রমিকেরা। মোট সংখ্যাটা কোনোক্রমেই ৩০ লাখের কম নয়। এই ৩০ লাখ মানুষের নানা পদের সমস্যা। তা দেখার জন্য বাংলাদেশ সরকারের মাত্র দুটো কার্যালয় সেখানে- একটা রিয়াদে, অন্যটা জেদ্দায়। অথচ বিশাল দেশ সৌদি আরব।

বাংলাদেশি শ্রমিকরা কাজ করেন সৌদির শহর, গ্রামসহ প্রত্যন্ত সব অঞ্চলে। ৩০ লাখ মানুষের জন্য এত বড় দেশে মাত্র দুটো কার্যালয়! বাংলাদেশের আয়তন ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার। আর সৌদির আয়তন ২২ লাখ ৫০ হাজার বর্গকিলোমিটার। অর্থাৎ আয়তনে সৌদি আরব আমাদের চেয়ে ১৫ গুণেরও বেশি বড়। এত বড় একটি দেশের জনসংখ্যা মাত্র ২ কোটি ৭০ লাখ। এর মধ্যে সৌদিদের নিজস্ব জনসংখ্যা ১ কোটি ৬০ লাখ। আর প্রবাসীর সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ। যার মধ্যে বৈধ-অবৈধ সব মিলিয়ে বাংলাদেশিদের সংখ্যা কোনোক্রমেই ৩০ লাখের কম নয়। এদের প্রায় শতভাগই সক্ষম নারী-পুরুষ, অর্থাৎ সকলেই কাজ করে খান। অথচ এদের সমস্যা-সুবিধা দেখার জন্য মাত্র দুটো কার্যালয়? কত দূর-দুরান্ত থেকে এই দুটো কার্যালয়ে শ্রমিকদের আসতে হয়! লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় কখন ডাক আসে!

খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ব্রিটেনে বাস করেন ৫ লাখের মতো বাংলাদেশি। ২০০১ সালের আদমশুমারিতে সে দেশের সরকার তথ্য প্রকাশ করেছিল যে, ২ লাখ ৯৩ হাজার বাংলাদেশি সেখানে বসবাস করছেন। এরপর থেকে কিছুটা কড়াকড়ি চলছে ব্রিটেনে অভিবাসনের ক্ষেত্রে। ফলে সংখ্যাটা ৫ লাখের মধ্যেই বলে মনে করেন সবাই। কিন্তু এই জনসংখ্যার মধ্যে গৃহিণী, শিশু ও বৃদ্ধ রয়েছেন। কর্মজীবী অংশটা ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি না। অথচ সেখানকার প্রবাসীদের দেখভালের জন্য বাংলাদেশ সরকারের তিনটি কার্যালয় আছে। যদিও সৌদিপ্রবাসীরা আয়ের পুরোটাই দেশে পাঠান, আর ইউরোপ প্রবাসীরা অনেকেই টাকা নিয়ে যান দেশ থেকে। বিগত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সৌদি আরব প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩১১ কোটি ডলার। অন্যদিকে ব্রিটেন থেকে এসেছে মাত্র ৯০ কোটি ডলার। শুধু ব্রিটেন নয়, পুরো ইউরোপ থেকে বাংলাদেশ যে রেমিটেন্স পায় তার চেয়ে সৌদি থেকে আসা রেমিটেন্সের পরিমাণ বেশি। কিন্তু তারপরও সেবার ক্ষেত্রে দেখা যায় বিদেশে থেকে যাওয়া অংশটাই সুবিধাভোগী।

সৌদিতে বাংলাদেশ সরকারের মদিনা শহরে আরেকটি কার্যালয় আছে। এটি সারা বছর বন্ধ থাকে। কেবল হজের মৌসুমে এখানে হজ সংক্রান্ত কাজগুলো সম্পন্ন করা হয়। রেমিটেন্স আনা মানুষগুলোর জন্য কার্যালয়ের ঘাটতি থাকলেও সৌদি সরকারকে টাকা দিতে যাওয়া স্বল্প হজযাত্রীদের জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র একটি কার্যালয়! মাঝে মাঝে কোনো কোনো মাসে দূতাবাসের কর্মকর্তারা মদিনা এলাকার শ্রমিকদের মধ্যে খবর পাঠিয়ে একদিনের জন্য ক্যাম্প করেন। কিন্তু এসব ক্যাম্প শ্রমিকদের খুব একটা কাজে লাগে না। সাধারণত অধিকাংশ শ্রমিকের পাসপোর্ট জমা থাকে তার কফিলের কাছে- যার মধ্যস্থতায় একজন শ্রমিক সেখানে যান। তারা পাসপোর্ট দিতে চান না।

ভয়ানক ও অমানুষিক পরিশ্রম করানো, নির্যাতন চালানোর অভিযোগটা হরদম। ফলে শ্রমিকরা পালিয়ে যেতে পারেন, কাজ বদলাতে পারেন- এরকম নানা আশঙ্কায় কফিলরা শ্রমিকদের পাসপোর্ট দেন না। মরুর দেশ সবুজ করা আর নিজের দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে অর্থনীতিকে শক্তি যোগানো বীর শ্রমিকরা সেখানে থাকেন বন্দি হয়ে। পাসপোর্ট পেলেও তারা কর্মদিবসে সাধারণত ছুটি পান না। ছুটি নিলে ওই দিনের কাজের টাকা কাটা যায়। আশঙ্কাও থাকে অনেক। সব মেনে নিলেও, দূতাবাসের কার্যালয়ে দূরবর্তী কোনো এলাকা থেকে এসে পৌঁছাতে সময় লাগে অনেক। ভিড় থাকলে কতক্ষণ বসে থাকতে হবে, কখন ডাক আসবে, তার ঠিক নেই। আসা-যাওয়ার ব্যয়সহ নানা ধরনের সমস্যা।

দূতাবাসের কার্যালয়ে এসে রাত হয়ে গেলে শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েন। যে দুটো শহরে বাংলাদেশ সরকারের কার্যালয় আছে, তার কোনোটিতে রাতে হোটেল ভাড়া করে থাকার সামর্থ্য বাংলাদেশি শ্রমিকদের নেই। ফলে তারা পরিচিতদের বাসা খোঁজেন। সেসব বাসাও সব সময় লোকে ঠাসাঠাসি থাকে। গিয়ে জায়গা হয় বারান্দায় বা সেই বাড়ির সামনের রাস্তায়। রাস্তায় থাকলে পুলিশের বিপদ, জেল-জরিমানার আশঙ্কা।

এতসব ঝামেলার মধ্যেও প্রবাসী শ্রমিকেরা ওখানেই ছুটে যান। গিয়ে কোনো সেবা পান না। দূতাবাসের কার্যালয় থেকে সঠিক তথ্য না পাওয়ার অভিযোগটা তারা সব সময়ই করেন। সম্প্রতি সৌদি সরকার ঘোষণা করেছে, আগামী বছরের নভেম্বরের মধ্যে সবাইকে যন্ত্রপাঠ্য (মেশিন রিডেবল) পাসপোর্ট নিতে হবে। কোনো কোনো শ্রমিক এমন অভিযোগ তুলেছেন যে, তিনি আগে থেকে দূতাবাসের কার্যালয়ে পাসপোর্টের জন্য যোগাযোগ করছিলেন। যাওয়ার পর ২০০ রিয়াল নিয়ে তাকে হাতে লেখা পাসপোর্টই দেয়া হয়। পরে তিনি জানতে পারেন যে, কিছু দিনের ভেতর আবার তাকে যন্ত্রপাঠ্য পাসপোর্ট নিতে হবে।

প্রবাসীরা অনেক অভিযোগ করলেও তারা খুব বেশি কিছু চান না। তারা চান সরকারি সেবাটা একটু বাড়ুক। সরকারি লোকেরা তাদের সঙ্গে একটু ভালো ব্যবহার করুক। তাদেরকে শুধু শুধু বসিয়ে না রেখে ঠিকঠাক সময় দিক। ভুলভাল তথ্য দিয়ে টাকার জন্য জিম্মি না করুক। সৌদি ফেরত শ্রমিকরা বলেছেন, জেদ্দায় বাংলাদেশ সরকারের দূতাবাসের কার্যালয়ের আশপাশে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু দোকানপাট। সংখ্যায় ২০টিরও বেশি হবে। এগুলোকে বলা হচ্ছে লাইব্রেরি। আসলে সবগুলো কম্পিউটারের দোকান। তিন ফুট বাই ছয় ফুট আকারের ছোট ছোট একেকটি ঘর। এসব দোকান থেকে কাগজপত্র পূরণ করতে হয়। দূতাবাসের ভেতরে কাগজ নিয়ে গেলে জিজ্ঞেস করা হয়, কোন দোকান থেকে করেছেন। ওই কর্তার মনোনীত দোকান না হলে বেরিয়ে পড়ে নানা ধরনের ভুল। এরপর তাকে পাঠানো হয় সিন্ডিকেটের মনোনীত দোকানে। এভাবে কনস্যুলেটের ভেতরে-বাইরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কারণে প্রবাসী শ্রমিকরা বিপদে পড়ছেন। টাকা যাচ্ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে। আগেই বলেছি, সময়টা প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদি আরবের প্রবাসী শ্রমিকদের বিষয়ে সরকার প্রচার করে যে, এখানে তারা বিরাট সফলতা অর্জন করেছে। অনেক অবৈধ শ্রমিক বৈধ হয়েছে। আগের জটিলতাগুলো এখন আর নেই। শ্রমিকরা ফেরত আসছে না, এটাকেই সরকার তার সফলতা হিসেবে প্রচার করে। এর ফলে শ্রমিকরা চেষ্টা করলে তানাজুল (মালিক) পরির্বতন করতে পারছেন। এজন্য খরচ হয় তিন থেকে চার লাখ টাকা। কিন্তু কাজটা মোটেও সহজ নয়। বেশির ভাগ শ্রমিককে দালালের মাধ্যমে এই কাজ করতে হয়। অনেক সময় টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় দালালরা।

বর্তমানে সৌদি আরবে দুই ধরনের বাংলাদেশি শ্রমিক বেশি সমস্যায় আছেন। তারা হলেন, গৃহকর্মী (খাদ্দামা) ও পৌরসংস্থার কর্মী (বদলদিয়া আমেল)। পৌরকর্মীদের দিয়ে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ করানো হয়। তাদের বেতন খুবই কম। ৩০০ থেকে ৬০০ রিয়ালের মধ্যে। অথচ তাদের একজনের খাওয়াতেই খরচ হয় কমপক্ষে ২৫০ রিয়াল। তাছাড়া অনেক টাকা খরচ করে আসতে হয় দেশ থেকে। বাধ্য হয়ে কাজ বদলাতে হয় তাদের। বা ওই কাজের পাশাপাশি অন্য কোনো কাজ করে বাড়তি রোজগারের চেষ্টা করেন। এটা করতে গিয়ে পুলিশের কাছে ধরা পড়তে হয়। নারী শ্রমিক যারা যান, তারা সবাই খাদ্দামা হিসেবে নিয়োগ পান। মালিকদের ঘৃণ্য বর্বর-বিকৃত মানসিকতার মুখোমুখি হতে হয় তাদের। পালানো ব্যতিত অনেকেরই আর কোনো উপায়ই থাকে না।

মালিক পাল্টানোর সময় অনেকেই টাকা-পয়সা কিছু পান না। এ নিয়ে আইন, আদালত করার সামর্থ্য তো শ্রমিকদের থাকেই না, উল্টো আছে চোরের অপবাদে হাত কাটা যাওয়ার আশঙ্কা। ফলে টাকাটা তারা নেন দেশ থেকে। আত্মীয়-পরিজনকে ফোন দিয়ে তারা টাকা চান। কিন্তু দেশ থেকে টাকা পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে টাকা হুন্ডির মাধ্যমেই যায়। সেজন্য শ্রমিকদের আরও বাড়তি ব্যয় গুনতে হয়। অথচ টাকা পাঠানোর সুযোগ থাকলে শ্রমিকের এই সঙ্কট বাড়ে না। আবার রাষ্ট্রেরও আয় হতো এ থেকে।

প্রবাসী শ্রমিকদের সমস্যার শেষ নেই। দেখা গেল একজন শ্রমিক মারা গেছেন। মালিকের বেঁধে দেয়া এলাকা থেকে তিনি হয়তো কোনোদিনই বেরুতে পারেননি, হয়তো ১০ বছরে কখনোই দূতাবাসে আসেননি। হয়তো তার পাসপোর্ট, কাগজপত্র এতদিনে নাই হয়ে গেছে। সৌদি নিয়মে মৃত ব্যক্তি প্রবাসী হলে তাকে দাফন করতে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের শনাক্তকরণপত্র ও অনাপত্তিপত্র লাগে। কিন্তু এরকম লাশের অনুমোদনের জন্য দূতাবাসকে তো কিছু কাগজপত্র দেখাতে হবে। লোকটা কোন দেশের, তারা তো জানেন না। ফলে দূতাবাসের সামনে প্রায়ই এরকম অনেক মানুষকে দেখা যায়, যারা মৃত বন্ধু বা স্বজনের দাফনের অনুমতির জন্য এর ওর হাতে-পায়ে ধরছেন।

পাসপোর্ট নবায়নের বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি সৌদি প্রবাসীরা পড়েছেন বিরাট ঝামেলায়। তাদের বড় অভিযোগ হচ্ছে, কোনো একটা কাজে দূতাবাসে আসার পরই কেবল এ বিষয়টা জানতে পারছেন। এর বাইরে সরকারের তেমন কোনো প্রচার প্রচারণা নেই। এমনকি সৌদির পাশাপাশি দেশে প্রচার চালালেও পরিবার-স্বজন মারফত প্রবাসীদের কানে খবরটা চলে যায়। কিন্তু পাসপোর্ট নবায়ন যে বাধ্যতামূলক, এই খবরটা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা পর্যন্ত সরকার করছে না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সৌদিতে অবস্থিত বাংলাদেশ সরকারের অফিসগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দুর্নীতি। স্থানীয় দূতাবাসকেন্দ্রিক দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে শ্রমিকদের পকেট কাটা যাচ্ছে, ভোগান্তি তো আছেই। এদিকে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে ১৫ লাখ পাসপোর্ট নবায়নের। আগে থেকে কিছু মানুষের কাছে যন্ত্রপাঠ্য পাসপোর্ট থাকলেও এতে ৩০ লাখের মধ্যে বিশাল সংখ্যক মানুষই নতুন পাসপোর্ট পাবেন না। কিন্তু সৌদি সরকার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, আগামী বছরের নভেম্বরের পর যন্ত্রপাঠ্য পাসপোর্ট না হলে প্রবাসীদের গ্রেপ্তার করা হবে।

বিভিন্ন মহল থেকে সরকারকে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, সৌদিতে বসবাসরত বাংলাদেশি ছাত্রসহ অন্য পেশাজীবীদের ডেকে তাদের মাধ্যমে যৌথ দল গড়ে সে দেশের জেলায় জেলায় ক্যাম্পেইন করে কাজটা দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। কিন্তু দূতাবাসের বক্তব্য হচ্ছে, যাদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে, তারা পরবর্তীতে এসব নিয়ে ব্যবসা ফেঁদে বসতে পারে। প্রবাসীদের অভিযোগ, নিজেদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই তারা এই জটিলতা তৈরি করছেন। যাতে শ্রমিকদের ফাঁদে ফেলে পকেট কাটা যায়।

সৌদি প্রবাসী শ্রমিকরা দূতাবাসে গিয়ে যথেচ্ছ দুর্ব্যবহারের মুখোমুখি হন। টাকা ছাড়া তাদের দিয়ে কোনো কাজই করানো যায় না। দেশে ফিরে বিমানবন্দরেও তাদের যা-তা শুনতে হয়, নাকাল হতে হয়। পশ্চিম ফেরত বা পশ্চিমাপন্থী আমাদের যেসব বুদ্ধিজীবীরা দুনিয়া অনেক এগিয়ে গেছে বা এখন আর শ্রেণীর বালাই নেই বলে ফতোয়া দেন, তাদের জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয়- বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের সঙ্গে বিমানবন্দরের সরকারী কর্তারা কী আচরণ করে, তা কি দেখতে পান? ইউরোপ প্রবাসী ও আরব প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যেকার বৈষম্যের নমুনা কি আপনাদের চোখে পড়ে? বিদেশে ‘ক্রীতদাস’ হিসেবে মানুষ রপ্তানিটা কি আপনাদের দাসযুগের বর্বরতার কথা মনে করিয়ে দেয় না? জানি, উত্তরে তারা কথার তুবড়ি ছোটাবেন। তবু স্বীকার করবে না, দুনিয়াটা একদল অমানুষ দখল করে আছে। তারা কেবল তাদের স্বার্থটাই দেখছে। তাই মানুষ আজো বন্দি-ক্রীতদাস। আর অমানুষের বাচ্চারা সেই ক্রীতদাসের অর্থ দিয়েই ভোগ-বিলাসে ও বিদেশী প্রভুদের পা চাটায় মত্ত!

আজ আমাদের এই রেমিটেন্সের পেছনের দুঃখগাঁথা সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত। জোর গলায় বলা উচিত- আমরা আমাদেরই দেশবাসীকে ক্রীতদাস বানানোর পক্ষে নই। আমরা চাই না, কোনো শ্রমিকভাই জাহাজের খোলে চড়ে বিদেশ যাওয়ার পথে সাগরে ডুবে মরুক নিদারুণ কষ্টে। আমরা চাই না, আরব মরু সবুজ করে আমাদের ভাই কাটাক বন্দি জীবন। আরবের বিকৃত-বর্বরদের ঘরে কাজ করতে গিয়ে বোবা হয়ে ফিরুক আমাদের বোনেরা। মানুষ বিক্রি করে, জীবন বিক্রি করে, নিজের ভাই-বোনদের বিক্রি করে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার দরকার নেই। এই সুজলা-সুফলা দেষ চষে আমরা আমাদের ব্যবস্থাটা করে নিতে পারব। সেজন্য দরকার দালালদের উৎখাত করা। যারা আমাদের মাথায় চাপিয়ে দিয়েছে বিদেশী চুক্তির অসংখ্য বোঝা। যারা হাতে-পায়ে শেকল পরিয়ে, কোনো রকমে বেঁচে থাকার এক পাশবিক জীবনে আমাদের সকলকে করেছে বন্দি। মুক্তির এই ফরমানটা আজ ছড়িয়ে দিতেই হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৭ thoughts on “বৈদেশিক মুদ্রার উল্টোপিঠ : বন্দিশালা সবুজ আরব

  1. ইশ্বর সবসময় ভদ্রপল্লীর
    ইশ্বর সবসময় ভদ্রপল্লীর ভদ্রদের জন্যই থাকেন। আরও একবার প্রমান হোল এই লেখাটার মাধ্যমে। বিদেশী শ্রমিকদের রেমিটেন্স নিয়ে গালভরা বুলি ছাড়তে সবাই ওস্তাদ। কিন্তু তাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নাই। লেখাটার জন্য ধন্যবাদ আনিস ভাই।

    1. আতিক ভাই, আপনাকেও অনেক
      আতিক ভাই, আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। যখন এই মানুষগুলোর সঙ্গে আমার কথা হচ্ছিল, তাদের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। সেই দুঃখবোধটা এখনও গেঁথে আছে মনে। কী ভয়ানক জীবন তারা যাপন করে,তার বর্ণনা দিয়ে পারা যাবে না। তার পর যদি কনস্যুলেটে এসে তাদের ‘ফকন্নির পুত’ গালি শুনতে হয়, বিমানবন্দরে এসে যদি তুই-তুকারির মুখে পড়তে হয়, তাহলে সেই মানুষটার যেই দুঃখ হয়, তা সে নিজেও বলতে পারে না। এই গরীব মানুষেরা তো আরবে গিয়ে ক্রীতদাস হয়েছেই, তার ওপরে যোগ হয়েছে এখানকার সামন্তবাদী নিপীড়ন। তাদের পাশে আসলেই কেউ নেই।

  2. বৈদেশিক মুদ্রার দরকার আছে বটে
    বৈদেশিক মুদ্রার দরকার আছে বটে বাট তার জন্য সরকারি দায়ও আছে শ্রমিকদের প্রতি। এইটা অস্বীকার করার উপায় নাই যে শিক্ষিত জনগোষ্টি না বরং এই শ্রমিকদের পাঠানো রেমিটেন্সের উপরেই আমরা ভরসা করে আছি, শিক্ষিত লোকজন বাইরে গিয়ে নিজের সুখ শান্তি ভেবে সেইখানে সেলেটের চিন্তায় থাকে। মাসে ২০০-৪০০ ডলার দেশে পাঠিয়ে দায়িত্ব পালন করে দায়সারা ভাবে। ভালো লিখা ভাইয়া। দরকার ছিলো।

    1. ধন্যবাদ রাকা। আমরা যে যেখানে
      ধন্যবাদ রাকা। আমরা যে যেখানে আছি, নিজ দেশের মানুষদের এই ক্রীতদাস বানানোর বিরুদ্ধে কথা বলা দরকার।

  3. খুবই দুঃখজনক পরিস্থিতি। আরও
    খুবই দুঃখজনক পরিস্থিতি। আরও দুঃখজনক এই পরিস্থিতির উন্নয়নে কোন সরকারের সদিচ্ছা আছে বলে মনে হয় না।

    1. সরকারের একটা শ্রেণীচরিত্র
      সরকারের একটা শ্রেণীচরিত্র আছে। গার্মেন্ট মালিকরা কেন কাজ করিয়ে শ্রমিকদের বেতন দেয় না, সরকারের আইন-পুলিশ-আদালত তাদের এ নিয়ে কিছু বলে না। আর শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে আন্দোলনে গেলে সরকারের পুলিশ সেখানে টিয়ার-বুলেট-প্রিপার স্প্রে নিয়ে হামলে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী শ্রমিক আর ইউরোপের প্রবাসীদের ক্ষেত্রে সরকারি বৈষম্যটা একই শ্রেণী চরিত্রের উদাহরণ। তাই সরকার খুব বেশি কিছু করবে না।

      1. সহমত,যে শ্রেণী কাঠামোর উপর
        সহমত,যে শ্রেণী কাঠামোর উপর আমরা দাড়িয়ে আছি সেখান থেকে আসলে শ্রমিক শ্রেণীর জন্য সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা বোকামি।এই শ্রেণী কাঠামোর ভাঙ্গন না হলে আসলে এই মানুষ গুলোর সঠিক মূল্যায়ন কোন দিনই হবে না।

  4. এইতো একটা দিক, দেশে জনসংখ্যা
    এইতো একটা দিক, দেশে জনসংখ্যা বিষ্পরন হচ্ছে সেই তুলনায় কোন খবর নেই সরকারের! গত ৫/৬ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্চের দেশ গুলোতে জনশক্তি রপ্তানিতে যে অবস্থা! দেশে লক্ষ লক্ষ ছেলে বেকার সরকারের ভুল আলসে নীতির জন্য

      1. ক্রীতদাস এই বিষটার সাথে একমত
        ক্রীতদাস এই বিষটার সাথে একমত কিন্তু মানুষ কষ্ট করতে রাজি কারণ জনসংখ্যার তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই! তো কি করবে কষ্ট করে হলেও থাকতে হবে তাছাড়া মধ্যপাচ্চের ৭০ /৮০ % ই অশিক্ষিত কোন কারিগরি জ্ঞান নেই! তাদেরকে স্বদেশি এম্বাসি লোকেরা দাম দেয়না কুকুরের মত আচরণ করে! ওইদেশের লোকেরা আর কি দাম দিবে! আগে নিজেদের পাল্টাতে হবে! দেশকে ভালোবাসতে হবে তখন এমনিতেই পাল্টে যাবে! ভারতের পররাষ্ট্র নীতির কথা চিন্তা করুন

        1. প্রথম কথা হচ্ছে, আমরা আমাদের
          প্রথম কথা হচ্ছে, আমরা আমাদের দেশের মানুষকে ভিন দেশে ক্রীতদাস বানিয়ে পাঠাব যে, এটা অন্যায় কিনা!

          মানুষ কষ্ট করতে রাজি- এর মানে কি? সে পশুর মতো জীবন মেনে নেয় কি স্বেচ্ছায় নাকি বাধ্য হয়ে? দেশে কর্মসংস্থান না থাকাটা, লুটপাট চলাটার দায় কি এই গরীব জনতার, নাকি রাষ্ট্রযন্ত্রের দখলদারদের? এদের দ্বারা পরিচালিত প্রশাসনের লোকেরাই তো শ্রমিকদের সঙ্গে এই আচরণ করে, তাই নয় কি?

          দেশকে আপনি-আমি ভালোবাসি বলেই তো কথা বলি। কিন্তু সরকারে-প্রশাসনে যারা থাকে, তারা তো দেশকে ভালোবাসে না। সেই দরকারও তাদের পড়ে না। তারা দেশের বারোটা বাজিয়েই ট্যাকা কামায়, লুট করে, পাচার করে, ভোগ করে। এই চোরদের তো আমি আমার অংশ মনে করি না। এরা জনতার ওপর চেপে বসে থাকা পরজীবী একটা অংশ। এরা বদলাবে না, না বদলালেই তাদের লাভ। এমনিতে কিছু পালটায় না- ক্রিয়ার প্রয়োজন অবশ্যম্ভাবী।

  5. শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তির পথের
    শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তির পথের একমাত্র অন্তরায় হচ্ছে দালাল শ্রেণী। আগে এদেরই উৎখাত করতে হবে। :কেউরেকইসনা:

  6. এখন বের হয়ে আসছে ——- কোন
    এখন বের হয়ে আসছে ——- কোন সরককার ই এই শ্রমিকদের দিকে ফেরে টাকায় নি, সবার নজ র শুধু তাদের পাথানো রেমিটেন্স এর দিকে। কে মরল কে কি বিপদে পড়ল সে দিকে আমাদের বিদেশ মন্ত্রনালয় বা এম্বাসি গুলির কোন নজর নেই। এটি খুব নজর কেড়েছে ইরাক অ লিবিয়ার ঘটনায়

  7. মধ্যপ্রাচ্যে আমার যাওয়ার
    মধ্যপ্রাচ্যে আমার যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে বেশ কয়েকটি দেশে। আপনার পোস্টে উল্লেখিত প্রতিটা সমস্যা বাস্তব। আমাদের শ্রমিকদের জীবন-যাপন যদি তাদের পরিবারের কেউ নিজ চোখে দেখে, বলবে ফিরে আসতে। আর এম্বেসিগুলোর কথা আপনি যা বলেছেন তার চেয়েও করুন। আরবদের কাছে আমাদের শ্রমিকরা যে রকম দাস হিসাবে ব্যবহার পায়, ঠিক একই রকম আচরণ করে এম্বেসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। অথচ, ভারতের চিত্র সম্পূর্ন উল্টো।

    এম্বেসির কথা বাদ দিলাম। বাংলাদেশ বিমানে প্রবাসী যাত্রীদের সাথে কি আমানবিক আচরণ করে সেটা চোখে না দেখলে অনুভব করতে পারবেন না।

    একবার দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকের উপদেশ উপেক্ষা করে বাংলাদেশ বিমানে চড়ে মাস্কাট গিয়েছিলাম। বিমানের ক্রুসহ সকলের ধারনা বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যারা যায় সবাই শ্রমিক। তারা যাত্রীদের সাথে ব্যবহার করে দাসের মত। নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। আমি জানি, মধ্যপ্রাচ্য ছাড়া অন্য রুটগুলোতে বাংলাদেশ বিমানের ক্রুদের ব্যবহার অনেক ভাল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যাত্রীদের সাথে তারা চরম দুর্বব্যবহার করে। সেদিন তওবা করেছিলাম, আর ইহ জনমেও অন্তত মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিমানে যাবো না। ফিরতি ফ্লাইট ক্যানসেল করে ওমান এয়ারে এসেছিলাম। আর দুতাবাসে কেমন ব্যবহার করে সেটাও নিজের চোখে দেখার সোভাগ্য হয়েছিল।

    যেখানে আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের সাথে আমাদের দেশের মানুষ এত খারাপ ব্যবহার করে, সেখানে আরবদের থেকে ভাল আচরণ আমরা কিভাবে আশা করি?

    1. আমরা ভালো ব্যবহার আশা করা বাদ
      আমরা ভালো ব্যবহার আশা করা বাদ দিতে পারি। আমাদের ভাইদের ক্রীতদাস বানানোর বিরুদ্ধে একজোট হয়ে গলা খুলে আওয়াজ তুলতে পারি। এটাই আজকের কাজ।

  8. আমার এক বন্ধু সৌদি প্রবাসি,
    আমার এক বন্ধু সৌদি প্রবাসি, দেখি সে কি বলে এই লিখা পড়ে। তার পরেও তার মন্তব্য। দেখি কি বলে। https://m.facebook.com/feroz.rana2?refid=7&_ft_=qid.6047329050143717016%3Amf_story_key.3767581232876516758&__tn__=C। তাকে প্রশ্ন করা জেতে পারে

  9. মনটাই খারাপ হয়ে গেল। সরকার
    মনটাই খারাপ হয়ে গেল। সরকার রেমিটেন্স বাড়ছে বলে বগল বাজাচ্ছে অথচ যাদের অবদানে রেমিটেন্স বাড়ছে তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে কিছুই করছে না। দুঃখজনক। চমৎকার লেখার জন্য ধন্যবাদ।

    1. জীবনমানের প্রশ্নটা পেছনে
      জীবনমানের প্রশ্নটা পেছনে রাখলাম। কিভাবে রেমিটেন্স আসে, সেটাই তো আমরা জানি না। রেমিটেন্স আসছেই তো এই শ্রমিকদের রক্ত পানি করে- ভয়ানক অমানবিকভাবে।

  10. যাদের পাঠানো টাকা দিয়ে জিডিপি
    যাদের পাঠানো টাকা দিয়ে জিডিপি বেড়েছে বলে সরকার তৃপ্তি পায় তাদেরকে করে চরম অবহেলা। একটা ঝাঝা পোস্ট দিছেন।

  11. আমার মনে হয় না মধ্যপ্রাচ্যের
    আমার মনে হয় না মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমিক পরিস্থিতির রাতারাতি কোন উন্নতি হবে । এখানে আমাদের বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি আরব সরকার ও আমাদের শ্রমিকদের অদক্ষতাও দায়ী ।
    বাংলাদেশ সরকার :
    ১. বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তাদের সর্ম্পকে সবচেয়ে বড় অভিযোগ এরা নিজেদের ভাইদের কুলি-মজুর মনে করে লজ্জা পায়,যেনো বাংলাদেশ এম্বাসিতে আসলে এদের মান-সম্মান চলে যাবে ।যেমন নুরু ভাই তার বাংলাদেশ বিমানের চমৎকার অভিজ্ঞতা বর্ননা করেছেন ।আমরা নিজেরাই নিজেদের ভালবাসি না ,আরবরা কেনো আমাদের ভালবাসবে ।শ্রমিক ভাইয়েরা ধরতে গেলে কোন সাহায্যই এম্বাসির কাছ থেকে পায় না। আর এরজন্য তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই ।
    ২.আরবরা সেচ্ছাচারী ও অমানবিক ।শ্রমিক অধিকারের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আইনকানুন এখন পযর্ন্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পায়নি ।উল্টো সরকারের অনেক আইনই শ্রমিকের বিপক্ষে ।কোন গরীবদেশের সরকারই আরবদের বিপক্ষে কোন কথা বলার সাহস পায় না ।ইন্দোনেশিয়ার এক নারী শ্রমিকের মৃত্যেুদ্ড দেবার পর ইন্দোনেশিয়ান সরকার সেদেশে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ রাখে । কিন্তু তাতে আরবদের কোন সমস্যা হয়নি কারন গরীব মানুষের সংখ্যা অনেক বেশী ।একজন না গেলে দশজন যাবে । তাছাড়া আরবরা চরম বর্ণবাদী,আমার বন্ধুবান্ধব যারা স্কুল পাশ করার পর শ্রমিক ভিসায় গিয়েছিল তাদের কাছে শোনা । সাদা চামড়ার আমেরিকান,ইওরোপিয়ান হলে সাত খুন মাফ ,কিন্তু উপমহাদেশের কেউ হলে আর রক্ষা নাই ।আর তাদের বিরুদ্ধে শ্রমিক অধিকার নিয়ে বেশী কথা বলতে গেলে ঐ দেশ থেকে শ্রমিক নেয়াই বন্ধ করে দিবে ।ওদের শ্রমিক না নিলে সমস্যা নেই কিন্তু আমাদের অর্থনীতি টালমাটাল হয়ে যাবে ।
    ৩.আমাদের শ্রমিকরা অদক্ষ ।কোন দেশে গিয়ে কাজ করতে চাইলে সে দেশের ভাষা জানার কোন বিকল্প নেই । কিন্তু আমাদের শ্রমিকরা আরবি পারে না বললেই চলে ।এদেরকে যদি বাধ্যতামূলকভাবে তিন মাসের আরবি ভাষার প্রশিক্ষন দেয়া যেতো তাহলে তাদের হয়রানি অনেকাংশে কমতো ।
    আরও বলার ছিলো কিন্তু কমেন্ট আরও বড়ো হয়ে যাবে ।

  12. অনলাইনের আলোচিত প্রবাসীরা
    অনলাইনের আলোচিত প্রবাসীরা অধিকাংশই ইউরোপ-আমেরিকাবাসী অর্থাৎ আপনার ভাষায় সুবিধাভোগী। বুঝতেই পারছেন, কেন তারা নিশ্চুপ! 😀

  13. মধ্যপ্রাচ্যে বাঙলাদেশ ছাড়া
    মধ্যপ্রাচ্যে বাঙলাদেশ ছাড়া ফাকস্থানী, ভারতীয়দের সিংহভাগই যায় শ্রমিক হিসেবে। তবে ফাকস্থানী এবং ভারতীয়দের জীবনযাত্রার মান বাঙলাদেশিদের চেয়েও এগিয়ে। যদিও কায়িক শ্রমের দিকে দক্ষ এবং আন্তরিক বাঙলাদেশিরাই। আমাদের দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র নীতিই আমাদের শ্রমিকদের মানোন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায়। একশ্রেণীর মাথামোটা লোক দিয়ে দূতাবাস ভর্তি, এরা নিজেদেরকে মনে করে আরবের শেখ। তারা কোনোভাবেই ভালো সেবা দিতে পারে না কিংবা চায় না। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে রেমিটেন্সের ওপর, অথচ সেই শ্রমিকরাই মূল্যায়ন পায় না।

    এখানে একটা বিষয় আছে, অবৈধ শ্রমিকদের কারনেই মূলত বিভিন্ন সমস্যা ইচ্ছে থাকা স্বত্ত্বেও সমাধান করতে পারে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কারন, অবৈধ শ্রমিকরাও দেশে একটা বিশাল অংকের রেমিটেন্স পাঠায়। পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা, চাকরির মেয়াদ এবং শ্রমমূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে দরকষাকষি করতে গেলে অবৈধ শ্রমিকদের ওপরেও একটা এফেক্ট পড়ার সম্ভাবনা তৈরী হয়। সরকার সেই ঝুঁকি নিতে চায় না বলেই এসব সমস্যা বছরের পর বছর ঝুলতেই থাকে। তবে জাল ভিসা বন্ধের উদ্যোগ নিলে অবৈধ শ্রমিক পাঠানো বন্ধ হয়ে যাবে। তখন পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 9 = 1