অতঃপর চট্টগ্রামের আন্দোলন স্থগিত

বেশ কিছুদিন আগে ইস্টিশনে পোস্ট দিয়েছিলাম শুভ বোধের উদয় হোক। যেই পোস্টটিতে চেষ্টা করেছি নিজের চোখে দেখা এবং জানা সকল কিছু তুলে ধরতে যা কিনা ভেতরের কাহিনী আজ আবারো এসেছি সেই কাহিনী নিয়ে। ঐ পোস্টটি দেওয়ার পরপরই রীতিমতো আমি তাদের চক্ষুশূল হয়ে পড়েছিলাম, আগে যেখানে দেখলে গালভরা হাসি দিতো পোস্ট দেওয়ার পর দেখলে পড়ে উপরে তাকায়। সে যাই হোক মোটেও সেসব নিয়ে ভাবার সময় নাই। গণজাগরনের এই যে আন্দোলন এইটা শুরু করেছিল ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্টরাই পরবর্তীতে যা জনতার আন্দোলনে রুপ পায় কিন্তু তারপরেও কিছু কিছু লোক যশ,খ্যাতির জন্য এই আন্দোলন নিয়ে বাণিজ্যে নেমে পড়েছে বিভিন্নভাবে। দারুন লোভনীয় এই জিনিস যশ,খ্যাতি আর নাম যা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি এই আন্দোলনে এসে। এখনো পর্যন্ত ব্যক্তিপর্যায়ে নিজে দাবী করি নাই এই আন্দোলন শুরুর দিকের একজন হিসেবে নিজেকে কিন্তু বহুজনকেই দেখছি এই আন্দোলনের জনক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে কেউবা ১০ দিন পরে এসেও দাবী করছে তারা প্রথম দিন থেকেই এই আন্দোলনের আন্দোলনকারী। যাই হোক এসব নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নই কিন্তু যখন একেবারেই অস্তিত্ব অস্বীকার করে ফেলে দেওয়া হয় তখন কি করার থাকে?

একটু পেছনে ফিরে যাই…..
চট্টগ্রামে যদিও অনেকজন ব্লগার,অনলাইন এক্টিভিস্টরা আছেন কিন্তু তেমন একটা কানেক্টেড না। যার ফলে ঢাকার মতো এখানে জমে উঠেনি ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্টদের আড্ডা। অনলাইন এক্টিভিস্টদের প্রথম আন্দোলন আমার জানা মতে রাজাকার ত্রিদিব রায়ের লাশের দাফন নিয়ে সেই সাতজন নিয়ে শুরু করা আন্দোলন পরবর্তীতে শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে ক্রিকেট এবং ধর্ষণ বিরোধী সমাবেশে আর যা হয়েছিলো চট্টগ্রাম অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরামের ব্যানারে। প্রয়োজন অনুভব থেকেই কিন্তু চট্টগ্রাম অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম জন্ম নেয়,কিন্তু কালের প্রবাহে এসে ক্ষমতার দখলদারিত্বের কারণে গজে উঠে আরো কয়েকটি সংগঠন। বেশ মজা লেগেছিলো যখন ফেসবুক চালিয়ে কিছু তরুণ পেছনে ব্যানার ঝুলালো আমরা ব্লগার(!!) এতোগুলো সংগঠন অথচ কর্মী বা সদস্য হিসেবে হাতেগোনা কয়েকজন। তার মানেটা কি? মানেটা আর কিছুই না ব্লগার বা অনলাইন এক্টিভিস্টরা মূলত মারদাঙ্গা প্রকৃতির না,যতই হম্বিতম্বি করুক না কেন অনলাইনে। তাই ঐ দখলদারিত্বের কাজ-কারবার থেকে নিজেদের দূরেই রেখেছেন চট্টগ্রামের অধিকাংশই প্রকৃত ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্টগণ, যেমনঃ- নুর নবী দূলাল,শওকত খান,মাহফুজুর রহমান,স্টিভেন ডি চন্দন,সৈকত,মাসুদ,সামসেদ স্বপন সহ বেশ কয়েকজন। যেখানে ঢাকাতে সিদ্ধান্ত নিতে জানাশুনা প্রত্যেক অবিতর্কিত ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্টদের রাখা হচ্ছে সেখানে চট্টগ্রামে ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্টদের নাবালক আখ্যায়িত করে একদিকে ফেলে রাখা হচ্ছে কিনবা মাইনাস ফর্মূলায় ফেলা হচ্ছে। অথচ এই ব্লগার বা অনলাইন এক্টিভিস্টরাই এই আন্দোলন শুরু করেছিল।

এবার ফিরে আসি বর্তমানে….
পরিচালনা পরিষদের যখন ভীষণ মতানৈক্য বিরাজ করছে তখন সেই পরিচালনা পরিষদ বিলুপ্ত করে দেয়া হয় সকলের সম্মতিক্রমে কিন্তু রীতিমতো মানত করে পাওয়া পদবী যারা ছাড়তে পারেন নাই তারাই সেদিন সে সভা থেকে চলে গিয়েছেন কিনবা হ্যাঁ হ্যাঁ বলে পরে সেই পদ আঁকড়ে ধরে এখনো “মুই কোন হনুরে” বলে দাপিয়ে চলছেন। এরাই মিলে “আমি তুমি ভাই ভাই” পরিষদ গঠন করে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আর সেগুলোকেই সহীহ বলে চাপিয়ে দিচ্ছে আর বকচোদ জনতা কিনবা কর্মী তাই মেনে নিচ্ছে।

এই যখন অবস্থা তখন তারা সেই পরিষদকে জায়েজ করতে ইতোমধ্যেই দুই তিনটা প্রেস কনফারেন্স ডেকে নিজেরা নিজেরা সমন্বয়ক,আহবায়ক,সচিব সেজে বসে গেছে। ঢাকার শাহবাগ থেকে যখন ডাক এলো চট্টগ্রামে তারা আসবে তখন তাদের মাথা ঘুরে গেলো। কারণ ঢাকা থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয় নাই, আর কেনইবা ঢাকা করবে এই “ভাই ভাই” পরিষদের সাথে? এরই মধ্যে “ভাই ভাই” পরিষদ রেগে আগুন কিন্তু মিডিয়াগুলো খুব দুষ্টু তারা দিনরাত ছাপতেই থাকলো ১৩ তারিখ শাহবাগের একটি দল চট্টগ্রাম আসবে। উপায়ন্ত না দেখে তারাও রাজী হয়ে গেলো। কিন্তু তাদের জন্য শাপে বর হয়ে গেলো “হেফাজতে ইসলাম”।
এই হেফাজতে ইসলাম ধর্মের দোহাই দিয়ে ব্লগারদের নাস্তিক আখ্যা দিয়ে নাস্তিকদের প্রতিহত করবা ঘোষণা দিলো ঐ রাতেই যেদিন ঢাকা থেকে ঘোষণা হলো কিন্তু জনতার চাপে পড়ে হোক কিনবা নিজেদের হিরো সাজাতেই হোক “ভাই ভাই” পরিষদ থেকে জানানো হলো সমাবেশ হবেই হবে,কোন বাঁধা মানা হবেই না। তারপর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো গতকাল। বিকালে বের হয়ে প্রেসক্লাব যাওয়ার জন্য রাস্তায় বের হয়ে দেখি আলেমরা আন্দরকিল্লা দখল করে সেখানে নাস্তিক এবং এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়ে যাচ্ছে। হেঁটে হেঁটে দেখছিলাম আর পার করে আসছিলাম কয়েকজন সাংবাদিক আমাকে দেখে একগাল হেসে ইশারা করলেন দ্রুত যেন এলাকা পার করে ফেলি,অল্পদুর এগুতেই দেখি পুলিশের বিশাল মহড়া আর যিনি নেতৃত্বে ছিলেন পরিচিত হওয়াতে আমাকে ঐ অবস্থায় দেখে একটু বিব্রত বোধ করলেন এগিয়ে এসে বললেন এদিকে এভাবে একা হাঁটছেন কেনো? আমি কিছু না বলে একগাল হাসি দিয়ে চলে যাই প্রেস ক্লাবেই।

প্রেস ক্লাবে গিয়ে দেখি সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে কয়েকজন এসে জিজ্ঞেস করলো ভাই আজকে কি বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন হবে, উত্তরে বললাম জানিনা ভাই। এরপর দেখি ডাকাডাকি, কয়েকজনের হাতের ইশারাতে গেলাম ভিতরে কিন্তু ভিতরে গিয়ে উঁকি দিতেই দেখি “ভাই ভাই পরিষদের” নেতারা বসে গেছেন আয়েশি ভঙ্গিমায়, তাই হুড়হুড়িয়ে বেরিয়ে পড়লাম তারপর সেই হাঁটাহাঁটি আর ফাও আলাপ। এভাবে সন্ধ্যা হয়ে রাত এলো কিন্তু আমরা কয়েকজন ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম আজকের ১৪৪ ভাঙবো। তো কিছু জিনিস আনতে টেরীবাজারে যাই,কথা ছিলো জিনিস কিনে বাসায় চলে যাবো কিন্তু কেন জানি মন মানলো না তাই ফেরত গেলাম প্রেস ক্লাবেই। ফেরার সময় দেখি মোমিন রোডের অর্ধেক থেকেই অন্ধকার আর বেশ থমথমে ভাবলাম ছেলেপেলেরা মিছিল করছে প্রতিদিনের মতই। রিক্সাওয়ালাকে বললাম “মামা আগাইয়া যাও,ভয় নাই”, জামালখান পৌছাতে পারলাম না বেশ ভালোই হইহই আওয়াজ পেয়ে রিক্সা থেকে নেমেই দৌড় দিলাম। ভিতরে ঢুকে ঘটনার এক লাইন শুনে রীতিমতো স্তব্ধ। তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে এই প্রেসক্লাব চত্বরেই। ছেলেপুলে বলতে এলাকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্রলীগ ও অন্যান্য সংগঠনের ছেলে পেলে। কতক্ষন শ্লোগান মিছিল শেষে ফোন পেয়ে প্রেস কনফারেন্স রুমে যাই সেখানে মঞ্চের দিকে ডাকলেও যাবো না বলে হাত দিয়ে ইশারা করলাম,কেননা চেয়ারে উপবিষ্ট “ভাই ভাই পরিষদের” নেতৃবৃন্দ। তাদের পিছনে দাঁড়ানো মানে তাদের চ্যালা হউয়া। তাই বাইরে এসে চেয়ারে বসে সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য শুনতে লাগলাম এবং যখন শেষ হলো তখন এক গাল হো হো করে হাসতে হাসতে বেরিয়ে আসলাম। তারপর তামশা দেখার প্রস্তুতি নিলাম,মনে মনে কিছু পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে কি হতে পারে সেসব ভাবলাম। এরপর যা হবার তাই হলো,নেতারা ভিতর বসে স্থগিত করলেন বোমা পড়ার পরে আর কর্মীরা ক্ষেপে উঠলেন তাতে। হুঙ্কার তেড়ে এলো সারারাত থাকবে বলে,১৪৪ ধারা ভাঙ্গা হবে বলে। এই যখন অবস্থা তাতে মাথা দিলো ছাত্রলীগের কিছু নেতা, সেই মুহুর্তেও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখছিলাম গেইটের ভেতর থেকে। “ভাই ভাই পরিষদের” নেতৃবৃন্দ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের বোঝালেন তারা কেন স্থগিত করেছেন এই সেই বলে আর অনুরোধ করলেন যেন তারা গিয়ে জনতাকে বোঝায় এবং জনতা যেন সরে বাসায় চলে যায়, ব্যস ছাত্রলীগের পোলাপাইন এক্টিভ হয়ে গেলেন। যেখানে আমরা সকলেই জানি ছাত্রলীগের পোলাপাইনদের ধরে আনতে বললে তারা বাইন্ধ্যা আনে সেখানে এইরকম অবস্থায় বলাতে তারা মাঠে নেমে পরিচিত যাদের দেখছে তারেই বলা ধরলো “ঐ দাঁড়াই দাঁড়াই কি করস? যা ব্যাডা বাসায় যা” আর তাতেই ফেঁপে উঠলো প্রগতিশীল বাম কর্মীরা। হায়রে কি স্পিরিট তাদের মাঝে,খুন হয়ে যেতে চাইতেসে একেকজন। এই যখন দশা তখন বের হয়ে আসলাম গেইট থেকে। নিজেই যোগ দিলাম ঐ বাম কর্মীদের সাথে,হুশিয়ার করতে থাকলাম সকলকেই কারো যদি বাড়ি ফিরে যাবার উদ্দেশ্য থাকে তাহলে সে যেন নিজে চলে যায় অন্যকে যেন জোর না করে বাড়ি ফিরে যেতে,এখানে সকলেই স্বতঃস্ফুর্ত ভাবেই এসেছে সুতরাং কারো উপরে খবরদারি করতে চেষ্টা করবেন না। কিন্তু তাতে খুব একটা কাজ দিলো না,এবার জনে জনে আলাদা করে করে বোঝানো শুরু হলো, কিছুবাদে সেখানেও ঝাঁপিয়ে পড়লাম সেই একই ডায়ালগ মেরে মেরে প্রত্যেকটি গ্রুপ ভেঙ্গে দিলাম। অবস্থা যখন এই তখন প্রগতিশীল ভাইয়েরা আস্তে আস্তে কেটে পড়ছেন, কেননা তাদের পরিকল্পনা যে মাঠে মারা যাচ্ছে। ছাত্রলীগ নেতাদের বুঝিয়ে দিলাম প্লীজ নিজের কাধে বন্দুক নিয়ে অন্যরে ফায়ার করবার সুযোগ দিয়েন না আর তারাও আমার সাথে উচ্চবাচ্যে গেলো না তাদের বললাম কোনায় দাঁড়িয়ে চা-সিগারেট টানেন আর খেলা দেখেন। তারা চা-সিগারেট শেষ করতে পারলো না,ফেঁপে উঠা জনতা কই যে যাওয়া ধরল। প্রতিবাদী বিপ্লবীরাও এদিক সেদিক করে ঘুরতে লাগলেন আর এভাবেই অবশেষে দেখলাম ২০-৩০ জনের বিক্ষিপ্ত ছন্নছাড়া দল। এই দশা দেখে যখন মিডিয়া কর্মীরাও চলে গেলেন বিপ্লবী ভাইয়েরাও ম্যাজিক হয়ে গেলেন।

অবশেষে চট্টগ্রামের আন্দোলন যে পথে গিয়ে দাঁড়ালো তা হলো, সমাবেশের দিন আর কেউ সমাবেশ ডাকলে তারে দুই তিনবার চাপা/ফাপর মেরে দেখবে যদি এসবে কাজ না দেয় তাইলে সমাবেশ স্থগিত। সমাবেশে কেউ হামলা চালাইলে ন্যাঞ্জা গুটিয়ে দৌড় দিতে হবে। আর এসব ঘোষণা তারাও করবে আবার তাদের কর্মীরাই প্রতিবাদ করবে,তারপর সেগুলো বানচালে ছাত্রলীগের ছেলেপুলে নিয়োগ এবং পরবর্তীতে বিপ্লবীদের গলাবাজি “আমরা চাইসিলাম কিন্তু ঐ ছাত্রলীগের পোলাপাইন থাকতে দিলো না” আর তাদের নেতারা বলবে “আমরা চাইসিলাম কিন্তু আওয়ামীলীগ প্রটেকশন দিতে পারবে না বলাতে আমরা আগাইলাম না”।
হামলা কিনবা আঘাতে মরবে অনলাইন এক্টিভিস্ট এবং ব্লগারেরা,এইসব সর্বদা বেহুদা চিল্লাবেও এরা,আন্দোলন ডাকবেও এরা কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার বেলায় আসবে “ভাই ভাই পরিষদ”।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২০ thoughts on “অতঃপর চট্টগ্রামের আন্দোলন স্থগিত

  1. দুঃখের মাঝেও হাসি
    দুঃখের মাঝেও হাসি পায়!!
    সিলেটে ভাই ভাই সংস্কৃতির এক অভিনব রূপ দেখে চমকে গিয়েছিলাম।সুসজ্জিত তোরণে লেখা “অমুক ভাইয়ের বিয়েতে শুভেচ্ছা/তমুক ভাই,….নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ।”

    সকল প্রকার ভাই ভাই অপসংস্কৃতির অবসান হোক।

  2. এনজিও করা সুদি ব্যবসায়ী যদি
    এনজিও করা সুদি ব্যবসায়ী যদি হয় অনলাইন এক্টিভিস্ট ও ব্লগারদের আন্দোলনের আহবায়ক, সেই আন্দোলনের দশা কি হবে সেটা জানা কথা। ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্টদের আন্দোলন ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্টরা চালিয়ে নেবে। এখানে অন্য দালাল শ্রেণীর স্বার্থন্বেসীমহলের প্রবেশ কেন হবে? চট্টগ্রামে অনেক জাদরেল ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট আছে। যাদেরকে আমি প্রথম দিন থেকে প্রতিদিন প্রেসক্লাব চত্বরে দেখেছি। তারা নিঃস্বার্থভাবে আন্দোলনে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করেছে। সুমিত এই আন্দোলনের জন্য তার চাকুরীটি হারিয়েছে। প্রতিদিন খালি পকেটে পায়ে হেঁটে বাসায় গিয়েছে। সৈকত, নির্ঝরসহ আরো অনেক অনলাইন এক্টিভিস্টকে দেখেছি রাতদিন আন্দোলন নিয়ে পড়ে থাকতে। তারা আজ কেউ না। ক্ষুদ্রঋণ ব্যবসায়ীকে বানানো হল গণজাগরণ মঞ্চের আহবায়ক। চট্টগ্রামের এই আন্দোলন নষ্ট করার হোতাদের অনলাইনেই উচিত জবাব দেওয়া হবে। সবার চরিত্র ধারাবাহিকভাবে উন্মোচন করা হবে।

    এই আন্দোলনের আগে চট্টগ্রামে অনলাইন এক্টিভিস্টদের একমাত্র সংগঠন ছিল ‘চট্টগ্রাম অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম’। এই ফোরামের কোন প্রতিনিধিত্ব নাই কেন? এখন যদি কোন সংগঠন হয়ে থাকে সেটা হয়েছে আন্দোলন শুরু হওয়ার পরে। এসব সংগঠন গঠিত হয়েছে স্বার্থকে লক্ষ্য করে। আমাদের জবাব আমরা অনলাইনেই দেব।

    1. তবে আমার মতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট
      তবে আমার মতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেছে নিলয় বড়ুয়া, যে দিন-রাত খেটে যাচ্ছে। কত বকা ঝকা,গালিগালাজ করি তাকে কিন্তু তার মাঝে কোন রাগ নেই।
      সবচেয়ে বড় কথা তার ১ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা, কিন্তু তার সেসবে মাথা ব্যাথা নাই। জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দেয় “দেশ স্বাধীন না হলে পরীক্ষা দিয়ে কি করব?”

      সে এইবারের এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী।

      1. নিলয়কে আমিও অনেক বকাঝকা
        নিলয়কে আমিও অনেক বকাঝকা করেছি। তার একটাই কথা, দেশ স্বাধীন হোক, তারপর পরীক্ষা। নিলয়ের মত আরো অনেক নিবেদিতপ্রাণ কর্মী আছে যারা নেতা হতে চায়নি, চেয়েছে দেশটাকে জামায়াত-শিবিরমুক্ত করতে। তাদের হৃদয়টা ভেঙ্গে দিয়েছে রাতারাতি ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট বনে যাওয়া নেতারা।

  3. অনেকেই এই মুহুর্তে এই ধরনের
    অনেকেই এই মুহুর্তে এই ধরনের পোস্ট দেখলে ভ্রু কুঁচকে তাকায়। তাদের মনোভাব- “আন্দোলনের মধ্যে এইসবের কি দরকার? এতে আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্থ হবে ইত্যাদি ইত্যাদি”। কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছেন যে সর্ষের ভেতরে ভুত থাকলে সমস্যা। আগে ভুত তাড়ানো দরকার।

    1. আন্দোলনের বারোটা বাজা কি এখনো
      আন্দোলনের বারোটা বাজা কি এখনো বাকি আছে? এটা অনেক আগেই বেজে গেছে। জামায়াতের কয়েকটা দালাল মোল্লার ভয়ে আমরা আমাদের জায়গা ছেড়ে দিছি। এর চেয়ে নৈতিক পরাজয় আর কি হতে পারে?

  4. সেটাই নুর ভাই, সুমিত ভাই!!!
    সেটাই নুর ভাই, সুমিত ভাই!!! এটা অনেক বড় নৈতিক পরাজয়!! আজকে এই নিউস টা দেখার পর ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস ও দিছিলাম যে তাহলে কে জিতলো, হেফাজতে ইসলাম না আমরা!?! এরপর এনটিভির নিউজে দেখলাম রাশেদ হাঁসান(দৃষ্টি) সংবাদ সম্মেলনে বসে আছে বক্তার ঠিক পাশেই। হিসাব মিলতেছিলো না!!!বুঝতেছিলাম না কারা চট্টগ্রামের আন্দোলন চালাইতেছে?!! এখন আপনাদের কথা বারতা শুনে কিছুটা বুঝতে পারতেছি আসলে কি চলতেছে!!

      1. ইয়েস!! মাই মিস্টেক!! প্রমা!
        ইয়েস!! মাই মিস্টেক!! প্রমা! ভুলে গেছিলাম!! তবে সুমিত ভাই আপনারা সাহস হারাবেন না,হতাশ হবেন না!! আপনারা যদি হতাশ হন তাহলে কিন্তু শেষ! সাথে আছি!!!

  5. মুক্তিযুদ্ধ একাত্তরে না হইয়া
    মুক্তিযুদ্ধ একাত্তরে না হইয়া যদি ২০১৩ তে হইতো তাইলে শহিদ ৩০ লক্ষ না, হইতো ৩০ কোটি।
    আফসুস এইখানে, গনজাগরনের মালিকানা ভাগাভাগিতে ব্যাস্ত যারা জামাত শিবিরে তাদের কোনো ক্ষতি নেই। অথচ যারা নিজেদের জীবনের নিরাপত্বা পায়ে ঠেলে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়লো তারাই যেন কোনো কিছুতে নেই।
    বাংলার ইতিহাসে আমরাই মনে হয় সবচেয়ে অভাগা জেনারেশন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 12 = 19