সাবধান! উন্মুক্ত খনির প্রস্তুতি চলছে!

কয়লা উত্তোলনে উন্মুক্ত খনি না করার অঙ্গীকার থাকলেও গোপনে উন্মুক্ত খননের সব প্রস্তুতি চলছে। দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ীতে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট উন্মুক্ত খনির বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল। বিএনপির নেতৃত্বাধীন তৎকালীন জোট সরকার সেই অভ্যুত্থান দমন করতে গিয়ে তিনজনকে হত্যা করে। ব্যাপক দমন নিপীড়ন চালিয়েও অবশেষে আন্দোলনের মুখে জোট সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়। সম্পন্ন হয় ঐতিহাসিক ফুলবাড়ী চুক্তি। কয়লা উত্তোলনে দেশের কোথাও উন্মুক্ত খনি না করার একটি ধারা রয়েছে ওই চুক্তিতে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় গিয়ে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু সেই চুক্তি আজও উপেক্ষিত। অঙ্গীকার ভুলে গেছে সরকার। উন্মুক্ত খনির বিরুদ্ধে জনমত তীব্র হওয়ায় সরকার গোপনেই চালিয়ে যাচ্ছে উন্মুক্ত খননের প্রস্তুতি।

উন্মুক্ত খননের জন্য সরকার কৌশলী পথ বেছে নিয়েছে। অগ্নিগর্ভ ফুলবাড়ীকে পাশ কাটিয়ে টার্গেট করা হয়েছে পার্শ্বস্থ বড়পুকুরিয়াকে। যেকোনো একটি খনিতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনন শুরু করে দিতে পারলে উন্মুক্ত পদ্ধতির পক্ষে একটি বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হবে। এর পরে বাকি খনিগুলো সহজেই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনন করা যাবে। এরকম একটি বিশ্বাস থেকে সরকার এখন বড়পুকুরিয়াকে কেন্দ্র করেই সব পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। এর পাশাপাশি ফুলবাড়ী নিয়েও অব্যাহত আছে প্রচার প্রচারণা। বড়পুকুরিয়ায় উন্মুক্ত খনি করা গেলে ফুলবাড়ীতে তাদের কপাল খুলবে এই আশাই করছে এশিয়া এনার্জি। তাই বড়পুকুরিয়া এলাকায় ও জাতীয় পরিসরে নানা পদ্ধতিতে তারা উন্মুক্ত খনির পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা অর্থের বিনিময়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় কিছু বুদ্ধিজীবীকে ব্যবহার করছে। সরকার তার কাজ দিয়েই প্রমাণ করেছে যে, তারা এশিয়া এনার্জির পক্ষে আছে।

সরকার যা করছে
কয়লা উত্তোলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা দখল করেছে। গত মেয়াদে ক্ষমতায় আসার আগে আওয়ামী লীগ তাদের দিন বদলের ইস্তেহারেও কয়লা উত্তোলন করে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু কয়লা উত্তোলনের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক চলে আসছিল অনেক আগে থেকেই। দেখা গেছে, সরকার ও তার সংশ্লিষ্ট বুদ্ধিজীবী এবং বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির কনসালটেন্সির সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা নানা সময় উন্মুক্ত খনির পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। এর মূল কারণটা হচ্ছে, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে গেলে অন্য পদ্ধতির চেয়ে তুলনামূলক বেশি কয়লা তোলা যায় এবং এ পদ্ধতিটি সরল। কয়লা উত্তোলনে যে বিদেশি কোম্পানিগুলো আগ্রহী, উন্মুক্ত পদ্ধতি হলেই তাদের ঝামেলা কম ও লাভ বেশি। অন্যদিকে একদল বিশেষজ্ঞ বলছেন, দৃশ্যমান এ লাভের বেশিরভাগই যাবে বিদেশি কোম্পানির পকেটে। আর আমাদের জন্য রয়ে যাবে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতি। ধ্বংস হবে কৃষিজমি ও ভূগর্ভস্থ মিষ্টি পানির আধার। ক্ষয়ক্ষতি হবে আরও অসংখ্য ধরনের।

এই বিবাদে সরকারপক্ষ সব সময়ই উন্মুক্ত খননের পক্ষে অটল ছিল। সরকারের গত মেয়াদে এ নিয়ে অনেক কিছু ঘটে। তখন বড়পুকুরিয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খননের সম্ভাবনার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই প্রথম জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন। ১১ এপ্রিল, ২০১০ ‘ডেইলি স্টারে’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ওই বছরের ২৯ মে বলেন, বড়পুকুরিয়ায় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে উন্মুক্ত খনি করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। এই আয়োজনের অংশ হিসেবে জনসচেতনতা সৃষ্টি, খনি অঞ্চলের বাসিন্দাদের বিকল্প জীবন ও জীবিকার ব্যবস্থা, আর্থিক ও কারিগরি সংশ্লিষ্টতা, উত্তোলিত কয়লার ব্যবহার প্রভৃতি বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করা হয়। এরপর জ্বালানিবিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান সুবিদ আলী ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি দল জার্মানির কোলনের উন্মুক্ত কয়লাখনি পরিদর্শন করে। তারা ফিরে এসে বলেন, কোলনের মাটি, কয়লার ধরন ও ভূগর্ভস্থ জলের সঙ্গে ফুলবাড়ী ও বড়পুকুরিয়ার মিল আছে, তাই এখানেও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনন করা যাবে। এসব থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, সরকার উন্মুক্ত খননের পথেই যেতে চাইছে। কিন্তু এর বিপরীতে চলমান থাকে গণআন্দোলন। সরকারের নিয়োজিত বিশেষজ্ঞরাও অনেক প্রতিবেদনে উন্মুক্ত খনন প্রশ্নে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। এর মধ্যেই নির্বাচন এগিয়ে আসতে থাকে।

একপর্যায়ে গত মেয়াদের মাঝামাঝি দিকে সরকার কয়লা উত্তোলন থেকে পিছু হটে। ১৫ জানুয়ারি, ২০১২ আইইবি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, ‘কয়লা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মজুদ থাকুক। ভবিষ্যতে হয়ত এমন প্রযুক্তি আসবে, যখন কয়লা উত্তোলন না করেই সেখান থেকে শক্তি ব্যবহার করা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কয়লা আমদানি করা যায়। বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা তখন আন্দোলনরত জনগণ, সংগঠন, বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদদের আশ্বস্ত করে। জনস্বার্থ হানিকর উন্মুক্ত খনন পদ্ধতির দিকে না যাওয়ার প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণায় তারা সাধুবাদ জানান।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার পরেও এর মধ্যে এই প্রতিশ্রুতির বিপরীত কিছু ঘটনা ঘটেছে। সরকারের অনেকে উন্মুক্ত খননের সপক্ষে বক্তব্য রেখেছেন। ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত খনি করতে চাওয়া জনতা কর্তৃক বহিষ্কৃত বিদেশি কোম্পানি এমিয়া এনার্জির পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে পুলিশ নামিয়েছে। এশিয়া এনার্জির সঙ্গে সরকার সম্পর্ক ছিন্ন করেনি। তারা এখনও নিজেদের ফুলবাড়ীর কয়লা খনির মালিক ঘোষণা দিয়ে এই খনি নিয়ে লন্ডনের শেয়ারবাজারে ব্যবসা করছে। এসব ক্ষেত্রে সরকারের কোনো নড়াচড়া দেখা যায়নি। যার ফলে সংশয় জেগেছে, প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা শুধু ‘ভালো ভালো কথা’, কাজের কথা নয়।

যদিও প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেও আগের অবস্থান পরিবর্তন করেননি। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে এ মেয়াদের প্রথম দিনে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে অফিস করতে গিয়ে তখনও তিনি একই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সেদিন ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আগে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে, কৃষিজমি রক্ষা করতে হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নেব কয়লা উত্তোলন করব কি না? তিনি বলেন, কয়লা উত্তোলন ভবিষ্যতের ওপর ছেড়ে দিতে চাই। কয়লা উত্তোলনের জন্য নতুন প্রযুক্তির অপেক্ষায় থাকব।’

এই হচ্ছে সরকারপ্রধানের কয়লা উত্তোলন বিষয়ক ঘোষণা। খুবই পরিষ্কার কথা। কিন্তু এর মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই পাশা উল্টে যাওয়ার দশা হলো। খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষিজমির শঙ্কা দূর হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। এখনও কোনো প্রজন্মও পার হয়ে যায়নি। আধুনিক কোনো প্রযুক্তিও আসেনি। কিন্তু এর মধ্যেই উন্মুক্ত খনির লক্ষ্যে তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। অনেক দূর এগিয়েও গেছে সরকার। দিন-ক্ষণ প্রায় ঠিক করে দিয়ে ঘোষণা এসেছে জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর তাতে বাদ সাধেনি।

গত ১০ জুলাই, ২০১৪ বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উত্তরাংশ থেকে অক্টোবর থেকেই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের কাজ শুরু হবে। তিনি জানান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) ‘হাইড্রোলজিক্যাল স্টাডি এন্ড গ্রাউন্ডওয়াটার মডেলিং ফর নর্দান পার্ট অব বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং’ শীর্ষক এক সমীক্ষা প্রকল্প চালাচ্ছে, যা শেষ হবে সেপ্টেম্বরে। সেই প্রতিবেদন হাতে এলেই কয়লা উত্তোলনের কাজ শুরু হবে। তিনি আরও জানান, বড়পুকুরিয়া থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে উৎপাদিত কয়লা দিয়ে সেখানে ১৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনাও হাতে নেয়া হয়েছে।

মন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে, আইডব্লিউএমের প্রতিবেদনে যা-ই থাক না কেন, উন্মুক্ত খনির সিদ্ধান্ত তারা আগেই নিয়ে রেখেছেন। নইলে কীভাবে তিনি বলেন যে, ‘অক্টোবর থেকেই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের কাজ শুরু হবে’? শুধু তা-ই নয়, প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগেই ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনাও’ করা হয়ে গেছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, প্রধানমন্ত্রী ফেব্রুয়ারিতে যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তা ছিল শুধু লোক দেখানো ঘোষণা। বিপরীতে কয়লা নিয়ে তার মূল মনোভাব কী, তা প্রমাণ হচ্ছে কাজের মধ্য দিয়ে। অক্টোবরেই উন্মুক্ত খনির কাজ শুরু করছে সরকার।

এটা কে না জানে যে, আইডব্লিউএম একটি সরকারপুষ্ট সংস্থা। বছর বছর সরকারি আনুকূল্যে সরকার প্রস্তাবিত প্রকল্পে বিনা টেন্ডারে কাজ নিয়ে তারা সমীক্ষা ও পরামর্শ দিয়ে থাকে। যে কোনো প্রকল্পে সরকারকে ইয়েস রিপোর্ট দেয়ার প্রতিষ্ঠান অনেক আছে। আর এটা তো দেখাই যাচ্ছে, রামপালের মতো এখানেও রিপোর্টের আগে সরকার জমি অধিগ্রহণের পথে হাঁটছে। এসব রিপোর্ট লোক দেখানো, এটা তারাই প্রমাণ করছেন। সরকারপুষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ৭০০ ঘনমিটার পানি তোলার দরকার হলে তাকে ৩০০ ঘনমিটার দেখিয়ে দেয়া সম্ভব। পানি ওঠানোর সময় তো গিয়ে আর কেউ পানি মেপে দেখতে পারবে না। দেশের মানুষের টাকায় গড়ে ওঠা প্রকৌশল সামর্থ্যকে এখন দেশের বিরুদ্ধে লাগানো হচ্ছে।

জাতীয় পরিসরে প্রচারণা
উন্মুক্ত খনির সপক্ষে জোর প্রচারণা চালাচ্ছে সরকার ও এশিয়া এনার্জি। বড়পুকুরিয়ায় খননের ক্ষেত্রে তারা বলছেন, ‘পরীক্ষামূলকভাবে’, ‘একাংশে’, ‘সীমিত পরিসরে’ উন্মুক্ত খনি করা হবে। এরকম নানা প্রচারণার মাধ্যমে তারা এটা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন যে, ছোট পরিসরে করা হচ্ছে বিধায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই। এরপর এটা করতে পারলেই তারা ঘোষণা দিবেন যে, পরীক্ষামূলকভাবে করে দেখা গেছে সমস্যা হচ্ছে না, সুতরাং যে কোনো জায়গায় করা যাবে। উন্মুক্ত খনির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জনমতকে দুর্বল করতে এই কৌশল নিয়েছেন তারা।

এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নানা গণমাধ্যম, টিভি চ্যানেল, পত্রিকা, সাময়িকী। বেতনভুক প্রকৌশলীদের দিয়ে লেখানো হচ্ছে উন্মুক্ত খনির সপক্ষে। এসব লেখায় সঠিক তথ্যের চেয়ে বেশি থাকছে প্রোপাগান্ডা। উন্মুক্ত খনি ভালো, এটা করলে সমস্যা হবে না- এমন সব সিদ্ধান্ত প্রমাণ করার লক্ষ্যে ভুলভাল তথ্যেরও জোগান দেয়া হচ্ছে। বিজ্ঞাপনী, অনুষ্ঠান আয়োজন ও গণসংযোগ পরিচালন প্রতিষ্ঠান ‘এশিয়াটিক’ তো আগে থেকেই চুক্তিবদ্ধ হয়ে আছে এশিয়া এনার্জির সঙ্গে। তারা তাদের বিশাল প্রভাবকে কাজে লাগাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় পরিসরে উন্মুক্ত খনির সপক্ষে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেখানে উন্মুক্ত খনির বিরুদ্ধে থাকা যুক্তি, তথ্য ও তত্ত্বকে আমলে নেয়া হচ্ছে না।

স্থানীয় তৎপরতা
জাতীয় পরিসরে প্রচারণার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও নানা ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। ফুলবাড়ী এলাকায় এশিয়া এনার্জি দুর্নীতি ও অর্থের বিনিময়ে তার পক্ষে যে লোকবল গড়ে তুলেছিল স্থানীয় জনগণের তোপের মুখে টিকতে না পেরে তাদের ঘাঁটি হয়েছে এখন বড়পুকুরিয়া। তারা বড়পুকুরিয়ায় অর্থ, অস্ত্র ও মাদকের মাধ্যমে স্থানীয় বেকারদের একাংশকে দলে টেনেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করে আসছেন। এদের মাধ্যমে উন্মুক্ত খনির বিপক্ষে থাকা সাধারণ গরিব কৃষকদের হুমকি দেয়া হয়। উন্মুক্ত খনির বিপক্ষে আন্দোলনরত তেল গ্যাসখনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সঙ্গে কোনো কর্মসূচিতে যেতে বাধা দেয়া ও ভয়-ভীতি দেখানো হয়। স্বল্পশিক্ষিত সাধারণ মানুষের মধ্যে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়। তাদের উন্মুক্ত খনির পক্ষে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। মাঝে মাঝেই লিফলেট বিতরণ করা হয়।

উন্মুক্ত খননের লাভ-ক্ষতি
কয়লাখনি থেকে আহরণের জন্য দুটি প্রধান বিকল্প পদ্ধতি আছে। একটি হচ্ছে ভূগর্ভস্থ খনন পদ্ধতি। অপরটি উন্মুক্ত খনন পদ্ধতি। সাধারণ প্রচারণা হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে মজুদের ১০ থেকে ৩৫ ভাগ পর্যন্ত কয়লা তোলা সম্ভব। আর উন্মুক্ত পদ্ধতিতে মজুদের ৯০ ভাগ পর্যন্ত কয়লা তোলা সম্ভব। উন্মুক্ত খননে বেশি কয়লা পাওয়া যাবে তাই এর পক্ষ নিচ্ছে সরকার। কিন্তু ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে এত কম কয়লা পাওয়ার এ তথ্যটি সঠিক নয় বলছেন বিশেষজ্ঞরা। উন্মুক্ত খনির যুক্তি জোরদার করতেই এ প্রচারণা চালানো হয় বলে তাদের দাবি।

পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত সরকারি কমিটির প্রতিবেদনেই এমনটি বলা হয়েছে। মোশাররফ কমিটির প্রতিবেদনের ৪৩ পাতায় আছে, ‘অতীতে একটা ভুল প্রচারণা চলানো হয়েছে যে ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে মাত্র ১০ শতাংশ কয়লা উত্তোলন করা যায়, বাকি ৯০ শতাংশ কয়লা তোলাই যায় না। এটা মারাত্মক ভুল বক্তব্য (দিস ইজ অ্যা গ্রস মিস-স্টেটমেন্ট)। ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে কী পরিমাণ কয়লা তোলা যাবে তা নির্ভর করে ঠিক কী উপায়ে কয়লা তোলা হচ্ছে এবং পিলারের ডিজাইন কেমন তার ওপর। রুম এন্ড পিলার পদ্ধতিতে ৫০ শতাংশ কয়লা তোলা যায় এবং মেকানাইজড লং ওয়াল মাইনিং-এর মাধ্যমে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কয়লা তোলা যায়।’

সরকারি কমিটির এ প্রতিবেদন অনুযায়ী ভূগর্ভস্থ ও উন্মুক্ত পদ্ধতির মধ্যে ২০ ভাগ কয়লা পাওয়া-না পাওয়ার তারতম্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ২০ ভাগ কয়লা বেশি পেতে উন্মুক্ত খনন করা হলে এর চেয়ে অনেকগুণ বেশি ক্ষতি বহন করতে হবে। উন্মুক্ত পদ্ধতি করতে গেলে খনি সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষিজমি চিরতরে ধ্বংস করে খনন চালাতে হবে। এতে ভূউপরিস্থ জলাশয় দূষিত হবে। ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক জলাধার নষ্ট হবে। বিস্তীর্ণ এলাকা মরুকরণের শিকার হবে। কৃষি উৎপাদনশীলতা ধ্বংস হবে। লাখ লাখ মানুষ উচ্ছেদ হবে। কৃষি খাতে কর্মসংস্থান হারিয়ে নতুন কোনো কর্মসংস্থান না হওয়ায় তারা ভাসমান জনগোষ্ঠীতে পরিণত হবে। উত্তোলিত কয়লা থেকে বিষাক্ত পানি চুইয়ে দূষিত হবে পরিবেশ।

জানা গেছে, ১৯৮৭ থেকে ১৯৯১ সময়কালে যুক্তরাজ্যের খনিজ অনুসন্ধান ও কনসালট্যান্সি ফার্ম হিসেবে খ্যাত মেসার্স ওয়ার্ডেল আর্মস্ট্রং বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ওপর আর্থ-প্রাযুক্তিক একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল। সেই সমীক্ষা শেষে তারা বড়পুকুরিয়ায় উন্মুক্ত খনন পদ্ধতি কারিগরি কারণেই সম্ভব নয় বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। তাদের হিসাব অনুযায়ী ৩০ বছরের খনি জীবনে প্রতি সেকেন্ডে সেখানে ৮ থেকে ১০ হাজার লিটার পানি প্রত্যাহার করতে হবে। এত দীর্ঘসময় ধরে এভাবে ভূগর্ভস্থ পানি প্রত্যাহারের যে ফলাফল তা যে ভয়াবহ বিপর্যয় তৈরি করতে পারে সেটা খনির জন্যও অনুকূল নয়।

?oh=121e1f0a32bfcef443006b6bd0314b2b&oe=546B0345″ width=”400″ />

উল্লেখ্য, বর্তমানে উত্তরাঞ্চলে কৃষি আবাদের জন্য বছরে এর এক শতাংশেরও কম পানি তোলা হয়, এটিকে কৃষি ও ভূবিজ্ঞানীরা সেই অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানি স্তর রক্ষার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেন। এর ফলে এখনই এই অঞ্চলের শতকরা ৩০ ভাগ টিউবওয়েল অচল হয়ে পড়েছে। সেখানে দিনপ্রতি ৮০ কোটি লিটার পানি উঠালে তার প্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ। পানি ব্যবস্থাপনা এভাবে বিপর্যস্ত হলে এই পুরো অঞ্চলই মানুষের বসবাস ও আবাদের অযোগ্য হয়ে যাবে।

এছাড়া রয়েছে বিপুল জনবসতির চাপ। দেশের গড় জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০৭৯ যেখানে এটা অস্ট্রেলিয়ায় ৩, যুক্তরাষ্ট্রে ৩২, ইন্দোনেশিয়ায় ১২০, চীনে ১৩৯, জার্মানিতে ২৩৭ এবং ভারতে ৩৬৩। সারাদেশে জনঘনত্ব এত বেশি হওয়ায় এক অঞ্চল থেকে বসতি এবং সমাজজীবন সরিয়ে তা অন্য অঞ্চলে প্রতিস্থাপন একেবারেই অসম্ভব।

সব মিলিয়ে এটা স্পষ্ট হচ্ছে যে, স্বল্প লাভের নিমিত্তেই ডেকে আনা হচ্ছে বড় বিপদ। মুখে যা-ই বলা হোক না কেন, সরকার উন্মুক্ত খনির প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এর ফলে কী ঘটতে পারে তার তোয়াক্কা করছে না। প্রধানমন্ত্রী যখন উন্মুক্ত খনি থেকে সরে এসেছিলেন, তখন অনেকেই তাকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সেটা ছিল নির্বাচনী কৌশল। নির্বাচন শেষ হয়ে আবার ক্ষমতায় এসে উন্মুক্ত খননের পথেই এগুচ্ছে সরকার। যা কিনা কিছু বিদেশি কোম্পানি ও সরকারে থাকা ব্যক্তির লাভ এনে দিবে। আর বিপরীতে নিঃস্ব করবে গরিব জনগোষ্ঠীকে। ধ্বংস হবে পরিবেশ ও প্রতিবেশ।

তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি থেকে এটা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, আমাদের দেশের ভূস্তরের যে গঠন ও আমাদের আবাদি ও আবাসিক জমির যে অভাব, তাতে করে এদেশে কোথাও উন্মুক্ত খনি করা সম্ভব না। এখন কয়লা আমদানি করা হোক। এগুলো এখনই তুলে শেষ করে ফেলার দরকার নেই। পরে আরও ভালো প্রযুক্তি আসবে এবং এই সম্পদটা তখন বেশি ভালো করে কাজে লাগানো যাবে। এখন বেশিরভাগটাই যাবে বিদেশি কোম্পানি ও কমিশনভোগীদের পকেটে। সরকার যদি অর্থমূল্যের বাইরে মানুষ ও পরিবেশের মূল্য না বুঝতে পারে তাহলে সেটা তার জন্য কতটা বুমেরাং হতে পারে, ফুলবাড়ীর গণঅভ্যুত্থান সেই বার্তাই স্মরণ করিয়ে দেয়। তারা এ থেকে যে শিক্ষা নেয়নি, তা দেখাই যাচ্ছে। এখন আমরা যারা উন্মুক্ত খনির বিরোধিতা করি, আমাদের সাবধান হতে হবে এবং দ্রুত এই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৯ thoughts on “সাবধান! উন্মুক্ত খনির প্রস্তুতি চলছে!

  1. বিশ্বের কোন দেশে উন্মুক্ত খনন
    বিশ্বের কোন দেশে উন্মুক্ত খনন পদ্ধতি আর কোন দেশে ভূগর্ভস্থ খনন পদ্ধতিতে খনি খনন করা হয় তার একটা ডাটা দিলে বুঝতে সুবিধা হতো যে আসলে কোন পদ্ধতি সারা পৃথিবীতে অধিকহারে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

    খনন কাজে বিনিয়োগ এবং লভ্যাংশের পরিমান কোনটায় বেশি আর কোনটায় কম সেটাও তুলনামুলক বিশ্লেষণ করা দরকার।

    1. ২০১১ সালের জুনে সাপ্তাহিকে
      ২০১১ সালের জুনে সাপ্তাহিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে হুবহু তুলে দিচ্ছি।

      ভারতের কয়লাখনির অভিজ্ঞতা
      ২০০৭ এর ডিসেম্বরে পূর্ব ভারতের কয়লাখনি পরির্দশনে যায় বাংলাদেশের একটি দল। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যের মোট ৪টি কয়লাখনি পরিদর্শন করেন তারা। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার শোনপুর গজারিয়া খনি অঞ্চলে গিয়ে তারা দেখেন এর জমি অনাবাদি, খটখটে শুকনা ও পাথরময়। ১১৭ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন করার পরও ওই খনিটিতে তেমন একটা পানির দেখা নেই। এই গভীরতায় পৌঁছে দেখা গেল কেবলমাত্র হালকা পানি চোয়াচ্ছে। পানি নিষ্কাশনে কোনো সমস্যা নেই। শুধু বার্ষিক ১৪০০ মি.মি. বৃষ্টিপাতের পানিই নিষ্কাশন করতে হয়। খনন পরবর্তী ভরাট কাজও পরিদর্শন করেন তারা। প্রায় খাড়া ঢালের বুক দিয়ে ২০০ টন ওজনের ডাম্পার বা কয়লা ও অ-কয়লা মাটি পাথর টানা হচ্ছে। এই খনি এলাকায় ৪টি গ্রামে ৯৭টি পরিবারের মোট ৪৩২ জন মানুষ উচ্ছেদের প্রয়োজন হয়েছে। এরা প্রায়ই আদিবাসী। এত সামান্য লোক হলেও কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ এড়াতে পারেনি।

      ঝাড়খণ্ড রাজ্যের খুদিয়া কয়লার অবস্থাও শোনপুর বাজারির মতো একই স্তরে। ২০০ মিটার গভীরতায় খনন পৌঁছেছে। চুয়ানো পানি অত্যন্ত সীমিত। প্রতি মিনিটে ৪ হাজার গ্যালন মাত্র। ১১টি পাম্পের সাহায্যে এ পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। গভীরতম স্তরে তারা সুড়ঙ্গ পদ্ধতিতে যাবে। এখানেও জমি অনাবাদি ও জনবসতি অতি লঘু। যেহেতু এটা বহু পূর্বে বেসরকারি পর্যায়ে শুরু হয়েছিল তাই কত লোক উচ্ছেদ হয়েছে তার বিবরণ পাওয়া গেল না।

      ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে পরিদর্শক দল সিদ্ধান্তে আসেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের অবস্থা উন্মুক্ত খননের ক্ষেত্রে একেবারেই বিপরীত। বাংলাদেশের খনিগুলোতে যে পরিমাণ পানি উঠবে তা যদি ভারতেও হতো তাহলে ওই প্রযুক্তি দিয়ে ওভাবে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনন একেবারেই সম্ভব হতো না।

      জার্মানির সঙ্গে তুলনা
      বড়পুকুরিয়া এবং ফুলাবাড়ী অঞ্চলের কয়লার গভীরতা এবং হাইড্রোলজিক্যাল বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে জার্মানির করা উন্মুক্ত খনির মিল রয়েছে বলে দাবি করা হয়। গভীরতার মিলের কথা বলা হলেও জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক ও হাইড্রোলজিক্যাল বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যের কথা আমলে নেয়া হয় না বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। ঢাবির অধ্যাপক ও ভ‚তত্ত্ব বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমামের মতে, জার্মানিতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ২৩২ এবং বাংলাদেশে ১০৬৩। জনসংখ্যার এই গড় ঘনত্ব বিবেচনায় নিলে জার্মানিতে উন্মুক্ত খনি করলে যত সংখ্যক মানুষ উচ্ছেদ হয়, বাংলাদেশে উচ্ছেদ হবে তার পাঁচ গুণেরও বেশি। আরডব্লিউই কর্তৃক পরিচালিত যে হামবাক উন্মুক্ত কয়লাখনিটিকে মডেল হিসেবে ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গকে ঘুরিয়ে এনে উন্মুক্ত খনির পক্ষে মতামত গঠনের চেষ্টা করা হচ্ছে সেই হামবাক খনিটিতে মাটির ৪৫০ মিটার পর্যন্ত গভীরতায় ২.৩ বিলিয়ন টন লিগনাইট কয়লা সঞ্চিত আছে। এই উন্মুক্ত খনির ফলে মোট ৮৫ বর্গ কি.মি. এলাকা খনন করা হবে যার ফলে মোট ৫ হাজার ২০০ স্থানীয় অধিবাসীকে উচ্ছেদ করতে হবে।

      অন্যদিকে ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত খনি করা হলে ৬০ বর্গ কি.মি. এলাকা থেকে এশিয়া এনার্জির হিসেবেই ৪৯ হাজার ৪৮৭ জনকে উচ্ছেদ করতে হবে। যদিও বাংলাদেশ সরকার গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে এভাবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৪১৭ জন এবং পরোক্ষভাবে পরিবেশ বিপর্যয়কে আমলে নিলে মোট ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ২০ হাজার।
      ভূতাত্ত্বিক এবং হাইড্রোলজিক্যাল বৈশিষ্ট্যের দিক থেকেও ফুলবাড়ী-বড়পুকুরিয়ার সঙ্গে জার্মানির হামবাক খয়লাখনি অঞ্চলের রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। ফুলবাড়ী-বড়পুকুরিয়ার কয়লা স্তরের উপরের পানি ধারণকারী স্তরের নাম হলো আপার ডুপিটিলা একুইফার। এই একুইফারের সঙ্গে জার্মানির হামবাক কয়লাখনির একুইফারের পার্থক্য হলো এটি জার্মানিরটির মতো আবদ্ধ বা কনফাইন্ড নয়, এটি আনকনফাইন্ড অর্থাৎ এর উপরে ওয়াটার টেবিল বা পানির স্তর আছে। আমরা জানি, উন্মুক্ত খনি খননের একটি অত্যাবশ্যকীয় শর্ত হলো পাম্পের মাধ্যমে পানি সরিয়ে ওয়াটার টেবিল বা পানির স্তরকে নিচে নামানো যেন খনির কয়লা পানিবিহীন অবস্থায় উত্তোলন করা যায়। ফলে একুইফার ভিন্ন ধরনের হওয়ার কারণে জার্মান অভিজ্ঞতার সঙ্গে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা মেলানোর কোনো যুক্তি নেই। আবার হামবাক কয়লাখনি অঞ্চলের ভূতাত্তিক কাঠামোয় ফাটলের পরিমাণ কম এবং বিচ্যুতিগুলো ১৫ মিটারের বেশি নয় কিন্তু ফুলবাড়ী-বড়পুকুরিয়া অঞ্চলের ফাটলের পরিমাণ বেশি এবং বিচ্যুতি খাড়াভাবে ১৫০ মিটারেরও বেশি। অর্থাৎ জনসংখ্যার ঘনত্ব ছাড়াও ভূতাত্তি¡ক এবং হাইড্রোলজিক্যাল দিক থেকেও জার্মানির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো তুলনা চলে না।

      গ্রিন লিগ নামের পরিবেশবাদী সংগঠনের হিসেবে দেখা যায়, জার্মানির এসব উন্মুক্ত খনি ব্যাপকভাবে পরিবেশ বিপর্যয়েরও কারণ। জার্মানিতে প্রতি একটন কয়লা বা ওভার বার্ডেন উত্তোলনের জন্য মাটির নিচ থেকে এক ঘন মিটার পানি সরিয়ে ফেলতে হয়। এভাবে উন্মুক্ত খনির মাধ্যমে প্রতিবছর ৬৫০ মিলিয়ন ঘন মিটার পানি মাটির নিচ থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ফলাফল হয়েছে মারাত্মক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিরেক্টিভ ৯২/৪৩/ইইসি অনুসারে সংরক্ষিত জার্মান-নেদারল্যান্ডস জলাভূমি Maas-Schwalm-Nette এর প্রাকৃতিক পানিচক্র ইতোমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে। চাষাবাদ পুরোটাই কৃত্রিম জলসেচের উপর নির্ভরশীল। এলাকার বাস্তুসংস্থান এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাণী ও গাছপালার অস্তিত্ব হুমকির মুখে। ভূগর্ভস্থ পানির অভাবে অনেক ঝর্না শুকিয়ে গেছে, অনেক আর্দ্র অঞ্চল শুকনো হয়ে গেছে। শত বছরেও এ অবস্থার অবসান হবে কিনা সন্দেহ আছে। জার্মানির উন্মুক্ত খনির পরিত্যক্ত খাতকে কৃত্রিম লেক এ পরিণত করার জন্য প্রয়োজনীয় পানির ৮৫ ভাগই সংগ্রহ করা হয় সিপ্র নদী থেকে পানি টেনে নিয়ে। পরিত্যক্ত খনির দিকে ক্রমাগত পানি টেনে নেয়ার প্রতিক্রিয়ায় ২০০৩ সালের গ্রীষ্মে দেখা গেল সেই সিপ্র নদী উল্টো পথে লিগনাইট উন্মুক্ত খনির দিকে যাত্রা করে বসেছে! এই সিপ্র নদীর হাইড্রোলজিক্যাল ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আগামী দশ বছরে ব্র্যান্ডেনবার্গ রাজ্যকে ৩০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতে হবে। তাই জার্মানিতে উন্মুক্ত পদ্ধতি এক প্রকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন তারা।

      জার্মানির রাইনল্যান্ডে আরডব্লিউই পরিচালিত ইনডেন উন্মুক্ত কয়লা খনি পরিদর্শন করে আসা ফুলবাড়ীর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবলু জানান, জার্মানির জমি পাথুরে। মাটি, আবহাওয়া, কৃষিজমি ও কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীলতা ইত্যাদি বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশের সঙ্গে জার্মানির তুলনাই চলে না। তাছাড়া সেখানেও উন্মুক্ত খননের প্রতিক্রিয়ায় আশপাশের ৬ কি.মি. এলাকায় কোনো জনবসতি নেই, কাছে-পিঠে কোনো কৃষিজমিও দেখা যায় না। তাই বাংলাদেশে এ অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করা যায় না।

      কেন ফুলবাড়ী ঘিরে এত আগ্রহ
      উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনির গভীরতা ১০০ থেকে ১২০ মিটারের বেশি হলে সাধারণত তা লাভজনক হয় না। এর সঙ্গে আরো কিছু বিষয় যুক্ত আছে- পানির চাপ, পানির পরিমাণ ইত্যাদি। গভীরতার দিক থেকে বাংলাদেশের খনিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বড়পুকুরিয়া। এর গভীরতা ১৩০ মিটার থেকে ৫০৬ মিটার। তবে এর প্রমাণিত মজুদের পরিমাণ দেশের অন্য সব খনির চেয়ে কম- মাত্র ৩৯০ মিলিয়ন টন। তাই উন্মুক্ত খননের সুযোগ থাকলেও কম মজুদ, বেশি পানি এবং পানির অত্যধিক চাপের কারণে এই খনির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম। তা সত্তেও ইতোমধ্যে এ খনিতে উন্মুক্ত খননের প্রস্তাব এসেছে।

      অন্যদিকে ফুলবাড়ী কয়লাখনির গভীরতা বড়পুকুরিয়া থেকে একটু বেশি হলেও এর প্রায় কাছাকাছি। এর গভীরতা ১৫০ মিটার থেকে ২৫০ মিটার। অন্যদিকে এর মজুদও অনেক। প্রায় ৫৭২ মিলিয়ন টন। সুতরাং তুলনামূলক কম খননেই এখান থেকে আসবে বড়পুকুরিয়ার প্রায় দ্বিগুণ কয়লা। যদিও পানি, প্রতিবেশ, পরিবেশ ও মানবসম্পদের দিক থেকে এক্ষেত্রে উন্মুক্ত পদ্ধতি কোনোক্রমেই অনুকূল নয়। কিন্তু এগুলোকে বিবেচনায় না রেখেও কাজ করার সম্ভাবনা থেকে যায় বলেই লাভের আশায় বহুজাতিকদের চোখ এখন বিশেষ করে ফুলবাড়ীর দিকেই।

      রপ্তানি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ!
      প্রস্তাবিত কয়লা নীতিতে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্রে কয়লার চাহিদা কতটুকু এবং পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান, শিল্পে বিদ্যুতের চাহিদা ও সম্ভাব্য গ্যাস সরবরাহ ইত্যাদি বিবেচনা করে ভবিষ্যতে কয়লা চাহিদা কেমন হবে তার কোনো হিসেব করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন অধ্যাপক নূরুল ইসলাম। তার মতে, রপ্তানি করা হবে কি হবে না তা কয়লানীতিতে স্পষ্ট করা হয়নি। এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করা হয়েছে একে ঘিরে। প্রস্তাবিত কয়লানীতির ৬নং ধারায় বলা হয়েছে, ‘দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ক্রমবর্ধমান ব্যাবহার ও কয়লার দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে জনস্বার্থে প্রয়োজন না হলে কয়লা রপ্তানি করা যাবে না।’ এখানে জনস্বার্থ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়নি। যা কিনা এ নীতির ওপর ভিত্তি করে কোনো চুক্তি করতে গেলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করবে।

      এমনকি এর ফাঁক গলেই রপ্তানির বিধান বেরিয়ে আসতে পারে বলেও আশঙ্কা অনেকের। তাদের মতে, জনস্বার্থের কথা যখন বিবেচনা করা হচ্ছেই তাহলে কয়লানীতিতে সরাসরি কয়লা রপ্তানি নিষিদ্ধ করতে সমস্যা কোথায়? কেন জনস্বার্থে প্রয়োজনের অজুহাতে কয়লা রপ্তানির সুযোগ রেখে দেয়া হচ্ছে? প্রস্তাবিত কয়লা নীতির কোথাও জাতীয় সক্ষমতা অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘কয়লা উত্তোলন’-এর সক্ষমতা কীভাবে, কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, কত দিনে অর্জিত হবে তার কোনো উল্লেখ নেই। বরং প্রস্তাবিত কয়লানীতির ১ম পৃষ্ঠার ৪র্থ প্যারায় ১.২ নং ধারায় (বাস্তবায়ন কৌশল) প্রথমেই বলা হয়েছে, ‘কয়লা ক্ষেত্রে আবিষ্কার ও উন্নয়নের নিমিত্তে স্ট্রাটেজিক পার্টনার/যৌথ বিনিয়োগকারী নিয়োগ করা’। অর্থাৎ নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির চেয়ে বিদেশি বিনিয়োগের প্রতিই সরকারের আগ্রহ বেশি।

      ভূতত্তবিদ অধ্যাপক আফতাবুল আলম মনে করেন, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হলে এত বেশি কয়লা উঠবে যে তা রাখার মতো জায়গা আমাদের নেই। অর্থাৎ ওই পরিমাণ কয়লা রাখতে গেলে সরকারকে আরো জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। উত্তোলনের পর কয়লা থেকে যে বিষাক্ত পানি চোয়ায় তাতে কয়লা যেখানে রাখা হবে সেই জমি উর্বরতা হারাবে এবং সেখানকার ভ‚গর্ভস্থ পানিও বিষাক্ত হয়ে পড়বে। চাহিদার অতিরিক্ত এই উত্তোলিত কয়লা তখন স্বাভাবিকভাবেই রপ্তানি না করে আর কোনো উপায় থাকবে না। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে না গিয়েও যদি কোনো খনি থেকে এভাবে বেশি পরিমাণ কয়লা উত্তোলন করা হয় তখনও রপ্তানি ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। তাই চাহিদা অনুযায়ী কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি কয়লানীতিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকার প্রয়োজন।

      প্রস্তাবিত কয়লানীতিতে খনিতে রাষ্ট্রের মালিকানা ও দেশের স্বার্থ নিয়ে রসিকতা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার প্রমাণ মিলেছে প্রস্তাবিত খসড়ার ১৬নং ধারায়। এখানে বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করার জন্য ট্যাক্স-ভ্যাট মওকুফসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি খনিমুখে আন্তর্জাতিক মূল্যের ৭০ ভাগ হারে বিক্রির নিশ্চয়তা এবং যে কোনো হারে জনগণের মতামত বা কারো কাছে জবাবদিহিতা ছাড়াই রয়্যালটি নির্ধারণের সুযোগ রেখে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ১৭নং ধারায় (কয়লার রয়্যালটি) বলা হয়েছে, ‘সরকার সময়ে সময়ে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে দেশে উত্তোলিত কয়লার রয়্যালটি নির্ধারণ করবে। প্রতিটি কয়লাখনি মাইনিং লিজ প্রদানের পূর্বে সরকার প্রয়োজনবোধে রয়্যালটির নতুন হার নির্ধারণ করতে পারবে।’

      বড়পুকুরিয়া ও অন্যান্য খনি
      বাংলাদেশে জয়পুর হাট, দিনাজপুর অঞ্চলে এ যাবৎ ৫টি কয়লা খনি আবিষ্কৃত হয়েছে। কয়লার মান অত্যন্ত ভালো। তবে Coaking coal বা যে মানের কয়লা থেকে হাইড্রোজেন আর্দ্রতা (ময়েশ্চার) বর্জিত যা স্টিল মিলের ব্লাস্ট ফার্নেসে সরাসরি ব্যবহার করা যায়, এর পরিমাণ ২০ ভাগের কম। আমাদের দেশের কয়লা উৎপত্তির বয়স প্রায় ২০ থেকে ২৮ কোটি বছর। ১৯৬২ সালে জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে আবিষ্কৃত ৬৪০ থেকে ১১৫৮ মিটার গভীরে ৭টি কয়লা স্তরে মোট ৬৮ মিটার পুরু ১৬ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত এলাকায় ১০৫০ মিলিয়ন টন কয়লা আছে। এই কয়লা খনি বর্তমানে সব ধরনের হিসাবের বাইরে আছে। কারণ এই গভীরতা থেকে কয়লা উত্তোলন এত ব্যয়সাপেক্ষ যে তা আমাদের পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব।

      ১৯৮৫ সালে আবিষ্কৃত দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়াতে ১৩০ থেকে ৫০৬ মিটার গভীরতায় অবস্থিত ৬টি কয়লা স্তরে মোট ৫১ মিটার পুরু ৬.৬৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩৯০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদ আছে। ১৯৮৯ সালে আবিষ্কৃত দিনাজপুর জেলার দীঘিপাড়ায় ৩২৮ থেকে ৪০৭ মিটার গভীরে ৭টি স্তরে মোট ৬১ মিটার পুরু ৫০০ মিলিয়ন টন কয়লা আছে। তবে এই খনির বিস্তৃতি জানা যায়নি। ১৯৯৭ সালে আবিষ্কৃত দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী কয়লা খনিতে ১৫০ থেকে ২৪০ মিটার গভীরতায় ৬.৩ বর্গকিলোমিটারজুড়ে ৫৭২ মিলিয়ন টন কয়লার মজুদ পাওয়া গেছে। বড়পুকুরিয়াতে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীনে উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান এবং এটি কয়লা উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুড়ঙ্গ পদ্ধতি বোর্ড ও পিলার সিস্টেমে কাজ চলছে। অধুনা টাটার এই কয়লার খনিতে আংশিক বা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে কয়লা আহরণের জন্য প্রস্তাব দিয়েছে।

      রংপুর জেলার খালাসপীরে হোসাফ কনসোর্টিয়াম অর্থনৈতিক ও কারিগরি জরিপ শেষ করে সুড়ঙ্গ পদ্ধতিতে কয়লা আহরণের প্রস্তাব করেছে। দিনাজপুর জেলার দীঘিপাড়াতে কয়লা আহরণ নিয়ে কোনো উদ্যোগ শুরু হয়নি। দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ীতে এশিয়া এনার্জি কারিগরি ও অর্থনৈতিক জরিপ শেষ করে উন্নয়ন পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। কিন্তু সরকারের কাছে আর্থিক প্রস্তাব দেয়ার ব্যাপারে কাজ তেমন একটা এগোয়নি।

      সব খনির মধ্যে এখন শুধু বড়পুকুরিয়া থেকে কয়লা উত্তোলন চলছে। এখানে বর্তমানে ছয় মিটার ব্যাসের ৩২৬ ও ৩২০ মিটার গভীর দুটি ধাতুর ক‚য়া পুঁতে পাতাল থেকে প্রলম্বিত আনুভূমিক সুড়ঙ্গ পদ্ধতিতে কয়লা তোলা চলছে। China Machinery Export and Import Company (CMC) নামের চীনা কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত এই উত্তোলন চুক্তির মধ্যে একটি বড় ধরনের ত্রুটি আছে। আর এই ত্রুটির ফলে উত্তোলিত কয়লার ভূগর্ভস্থ ফাঁকা জায়গাটি বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে না। এর ফলে ওপরের মাটির চাপে এলাকাটি দুই থেকে তিন মিটার বসে অনাবাদি হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের একটি বিশাল এলাকা দেবে গিয়ে জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। আবার চীনা প্রতিষ্ঠানটির অদক্ষতার কারণে কয়লা উত্তোলনও হচ্ছে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। এ বছরের ৩১ আগস্ট চীনা কোম্পানির সঙ্গে বড়পুকুরিয়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।

      এদিকে চীনাদের সঙ্গে মেয়াদের সূত্র ধরে এশিয়া এনার্জি বড়পুকুরিয়ায় নতুন করে উন্মুক্ত কয়লাখনি করার প্রস্তাব দিয়েছে। সরকারও বড়পুকুরিয়ায় একটি উন্মুক্ত খনি করার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৬২৮ একর ভূমি অধিগ্রহণের তৎপরতা শুরু করেছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) নামে জমি অধিগ্রহণের জন্য একরপ্রতি ২০ লাখ টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার নিজেই। যদিও বড়পুকুরিয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি করা সম্ভব কিনা তা এখনো যাচাই করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বড় কোনো বাধা না আসলে সরকার এ বছরই বড়পুকুরিয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খননের পথে হাঁটতে পারে।

  2. আনিস রায়হান ভাই এই সম্পর্কে
    আনিস রায়হান ভাই এই সম্পর্কে সেই কবে থেকে সুনে আসছি । দুই দলেরই যুক্তি আছে।আমরা সাধারণ মানুষ চাই সঠিক ও কম ক্ষতি

    1. দুই দলের যুক্তি নেই ভাই।
      দুই দলের যুক্তি নেই ভাই। একদলের আছে নিজেদের লাভালাভের স্বার্থে দেয়া কুযুক্তি। ওপরে করা সুদীর্ঘ মন্তব্যটি পড়লে সব বুঝতে পারবেন।

  3. বাংলাদেশের মতো পানি নির্ভর
    বাংলাদেশের মতো পানি নির্ভর কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ অর্থনীতির দেশে এবং জনবহুল এলাকায় উন্মুক্ত খনন যে নিজের মরন ডেকে আনার সামিল তা একটা পাগলেও বুঝে। বুঝে না শুধু লোভী কোম্পানি এবং এদেশীয় দালালেরা, আর পা চাটা জ্ঞ্যানপাপীর দল। উন্মুক্ত খননের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে একদিন এরা এই যুগের মীরজাফর হিসেবে ইতিহাসে ঠাই পাবে।

  4. দেশের স্বার্থের কথা সরকার
    দেশের স্বার্থের কথা সরকার চিন্তা করবেনা। যত আন্দোলনই হোক শেষ পর্যন্ত সরকার যা চায় তাই হবে। তারপরও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করতে হবে।

  5. ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে
    ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন সরকার কোনভাবেই করতে পারবেনা। ফুলবাড়িবাসিসহ আমরা সমগ্র দেশবাসি যে কোন মুল্যে প্রতিহত করব।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

65 − = 64