কে দিবে আশা কে দিবে ভরসা?

আসলেই এই মুহুর্তে কে দিবে আশা,কে দিবে ভরসা? যেই ইমরান এইচ সরকারের হুঙ্কারে কেঁপেছিল শাহবাগ,যেই ইমরান এইচ সরকার শপথ পাঠ করিয়েছিলো লাখো জনতাকে শেষ পর্যন্ত সেই ইমরান এইচ সরকার যখন পিছে হটতে বাধ্য হলো তখন কে দিবে আশা? কে দিবে ভরসা এই তরুণ সমাজকে?

এতোদিন যারা ইমরান এইচ সরকারের কাছের লোক,পাশের লোক বলে অনেক হম্বিতম্বি করেছে তাদেরই বা কি হবে? কি হবে তাদের যারা ইমরান এইচ সরকারের নাম বিক্রি করে হালুয়া-রুটির ভাগ মেরেছে? তারা কি পারবে এই মুহুর্তে আর কোন হুঙ্কার দিতে? গর্জে উঠতে?

ভীষণ রকমের আফসোস হচ্ছে এই মুহুর্তে এতোসব চিন্তা করে। এদিকে সংবাদ মাধ্যমগুলোও ভীষণ পাঁজি। দেরী করলো না কিছুতেই,হুড়হুড়িয়ে ছাপিয়ে দিলো খবর। সেখানে উঠে আসলো ইমরান এইচ সরকার এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে বক্তব্য। ইমরান এইচ সরকারের ভাষ্য মতে যেহেতু চট্টগ্রামে ১৪৪ ধারা চলছে সেহেতু প্রশাসন তাকে ফেরত পাঠিয়েছেন। আবার প্রশাসন বলছে এরকম কিছুই তারা করে নাই। তাহলে এই মুহুর্তে কাকে বিশ্বাস করবো। তাছাড়াও আমরা যতদূর জানি ফেনী জেলাটি আওয়ামীলীগের গডফাদার খ্যাত জয়নাল হাজারীর এলাকা সেইখানে যদি এমন হয় সেটি কিন্তু দারুণ দুঃশ্চিন্তার বিষয়।

যদি ইমরান এইচ সরকার নিজে পিছু হটে তাহলে কি ধরে নিতে পারি আমরা এই মুহুর্তে? আর যদি প্রশাসন বাঁধা দেয় তাহলে কি প্রমাণ হয় যে এই আন্দোলনের সাথে সরকারের মদদ নেই যার কারণে গিয়ে সরকার প্রশাসনিকভাবে বাঁধা দিচ্ছে?

সে যাই হোক ফিরতে চাই সেইসকল লোকদের মাঝে যারা ইমরান এইচ সরকারের খুব কাছে এবং পাশের মানুষ বলে খুব হম্বিতম্বি করতো। কত কিছুই না তারা মানত করে রেখেছিল এইরকম একটি দিনের জন্য,কত কিই না তারা করেছিল এইরকম একটি দিনের জন্য। আফসোস সব এখন ভেস্তে গেলো। হলো না সেই ঐতিহাসিক লালদিঘীর মঞ্চে দাঁড়িয়ে হিরো হওয়া, হতে পারলো না তারা গণজাগরণের হিরো কেননা আজ তাদের নেতাই যে পিছে হটে গেলো।

ইস না জানি কত আয়োজনই না তারা করেছিলো, হয়তো অনেক গজে উঠা নেতাদের কাছ থেকেও বড় অঙ্কের কিছু নিয়েছিল আয়োজনের জন্য এখন কি হবে সেসবের? সবই যে ভেস্তে গেলো!!! এখন যদি সেই নেতারা টাকা ফেরত চেয়ে বসে কি হবে ভেবে দেখুন একবার! ইসস কি বিশ্রী কান্ডটাই না ঘটে যেতে পারে। সে না হয় বাদ দিলাম কিন্তু ১৫অ জনের জন্য যে আয়োজন নিশ্চয়ই সেখানে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানী গরুর মাংস আইটেমটা থাকবেই,কি হবে এখন সেই মাংসগুলোর? নাহ ভাবতে পারছি না এসব আর।

পুরাই ফ্যাসাদে পড়ে গেলো সকলে,তবে শেষে একটা কথা বলতে চাই জামাতীরা মোটেও এই সুযোগ হাত ছাড়া করবে না,তারা ঢাকার বাইরে এখন প্রত্যেক স্থানেই হয়তো বাঁধা তৈরী করবে। পারুক বা না পারুক একবার হলেও সুযোগ নিতে চাইবে আর যে জাগরণ সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে তখন এর দায়টা কে নিবে?

তাই এখনই ইমরান এইচ সরকারকে ভেবে চিন্তে এগুতে হবে,সবকিছু নিয়েই ভাবতে হবে। সহিংস,অহিংস,আস্তিক,নাস্তিক সবকিছু নিয়েই কাজ করতে হবে তাকে। নচেৎ ভেস্তে যাবে জনতার আশা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “কে দিবে আশা কে দিবে ভরসা?

  1. ইমরান এইচ সরকারের হুঙ্কারে

    ইমরান এইচ সরকারের হুঙ্কারে কেঁপেছিল শাহবাগ

    :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: এইটা আবার কবে হইছিল?
    আমি তো এতদিন দেখলাম সে কুঁতে কুঁতে কথা কয়…

    1. হক কথা। শাহবাগ যখন বেলুন
      হক কথা। শাহবাগ যখন বেলুন উড়িয়েছে, খুলনা শিববাড়িতে দেখেছি ওরা তখন এক ঘন্টার জন্য শহর অচল করে দিয়েছিল, রাস্তার পথচারীরাও স্বেচ্ছায় থমকে দাঁড়িয়ে স্লোগান তুলেছিল ‘ক-তে কাদের মোল্লা…’ এত সুন্দর আন্দোলন গড়ার পরও এই ছেলে-মেয়েগুলো হতাশ হয়ে পড়ে যখন আল্টিমেটাম শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ইমরান সরকার কুঁতাইতে কুঁতাইতে কয় আসেন লাঠি মিছিল করি। যদিও শাহবাগের দেখাদেখি নয়, বরং একি সময়ে শিববাড়ির আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তারপরো শাহবাগ কুঁতাইলে শিববাড়ির গর্জন তখন পাবলিকের কাছে সাউন্ড পলিউশন ছাড়া কিছুইনা। তারউপর মঞ্চের উপরে ইমরানের পাশে হাম্বাগণের উপস্থিত এই পুরো আন্দোলনের উপর থেকে মানুষের বিশ্বাস তুলে দিয়েছে।

  2. শাহবাগের মত জাগরণ মঞ্চে আপনি
    শাহবাগের মত জাগরণ মঞ্চে আপনি গেলেও নিজেকে হিরো মনে হবে। এক ইমরান এইচ সরকারই সব নয়, আপনিও হতে পারেন একজন…. নেতৃত্বের জন্য চাই সময়, সুযোগ ও সাহস তিনটা এক হলেই বাজিমাত……….

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

75 + = 82