জামাত-আ.লীগ ঐক্যঃ সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেলো না

?oh=d813b89bf9dc2341d7a878fbcd7d20af&oe=5488264B&__gda__=1422738206_fb2a3b83e72fc527a0c9c9984df5a635″ width=”450″ />

আওয়ামী লীগের সাথে জামাতের ঐক্য হয়েছে এ ব্যাপারে যাদের সংশয় ছিলো তারা সংশয়মুক্ত হয়েছেন সাঈদীর রায়ের মধ্য দিয়ে। আর এরপরও যারা মনে করেন জামাত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন আঁতাত হয়নি-তাদের সম্পর্কে কিছু বলার নাই। কারণ এরা দলান্ধ বা দলকানা। এদের মধ্যে অনেকেই আবার আ.লীগের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা দাগে মাসোহারাও পান। জামাত আওয়ামী লীগের মধ্যেকার আঁতাত ও তার ফল নিয়ে কিছু বিশ্লেষণ করতে চাই। আশা করি এই বিশ্লেষণের ঘাটতিগুলো অনলাইন পরিবারের সবাই মিলে পূরণ করা যাবে।

আ.লীগ জামাত আঁতাতঃ আওয়ামী লীগের সাথে জামাতের ঐক্যের ঘটনা শুধু এবারই নয়। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই জামাতের ঘনিষ্ট হতে শুরু করে আ.লীগ। সে সময় গোলাম আজম নিজামীর সঙ্গে এক টেবিলে বসে বহু আলোচনা করেছেন শেখ হাসিনা ও তাঁর পারিষদ বর্গ। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ৮৬’র নির্বাচনেও জামাত ও আ.লীগ এরশাদের অধীনে নির্বাচন করেছে। ৯৬’তে যখন বিএনপির কাছে তত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে আন্দোলন হচ্ছিলো তখনো জামাত আ.লীগের ঐক্য অটুট ছিলো। রাজপথ তখন কাঁপছিলো শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গড়ে উঠা রাজাকারের বিচারের দাবীতে। এই গণ দাবীর ওপর ভর করে মধ্যবিত্তের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসে আ.লীগ। কিন্তু ক্ষমতায় এসে বেমালুম চেপে যান রাজাকারের বিচারের দাবীর কথা। জামাতের সঙ্গে আ.লীগের শ্রেণীগত কোন বিরোধ নেই। উভয় দলই মালিকশ্রেণীর দল। এ কারণেই আ.লীগ ৯৬’ সালে ক্ষমতায় এসে জামাতের বিচার করেনি। তাহলে কি এমন ঘটলো যে ২০০৯ সালের ‘বিশেষ’ একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসার পর জামাতের বিচারের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ালো?

জামাতের বিচারের তিনটি কারণকেই আমি প্রধান মনে করি। ক. আর্ন্তজাতিক প্রেক্ষাপট, বিশেষভাবে ভারতের সাউথ ব্লক ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়ার পর থেকে জামাত ইসলাম ও তারেক জিয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত নাখোশ হয়। এ কারণে তারা চেয়েছে জামাত ইসলাম ও তাদের নেতারা যুদ্ধাপরাধের দায়ে ঝুলে যাক। তারেক জিয়া দেশে না ফিরতে পারুক। খ. জামাতকে বিএনপি থেকে নিউট্রাল করা। আ.লীগের ধারণা জামাত বিএনপির সাথে না থাকলে বিএনপিকে যেমন প্রতিরোধ করা সহজ হবে তেমনি নির্বাচনের মাধ্যমেও বিএনপিকে পরাজিত করা সম্ভব হবে। গ. দেশের অভ্যন্তরে তরুন প্রজন্ম যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবীতে সোচ্চার ছিলো। এটা মধ্যবিত্তের ভেতর একটি জনপ্রিয় দাবীতে পরিণত হয়। দেশের অভ্যন্তরে শক্তিশালী সেক্যুলার গ্রুপ যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবীতে সোচ্চার ছিলেন।

আ.লীগ ও যুদ্ধাপরাধের বিচারঃ উপরের ব্যাখ্যা থেকে এটাই বোঝা যাচ্ছে যে আ.লীগ যে আর্দশিক বুলি কপচায় সে কারণে যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জামায়াত ইসলামের বিচার করতে চায়নি। এর পেছেন আর্ন্তজাতিক রাজনীতি, ঘরের ভেতর চাপ ও ভোটের রাজনীতির হিসেব নিকেশ বড় ভূমিকা পালন করেছে। একথা বিএনপির নেতারা প্রায়ই বলে থাকেন যদি জামাত তাদের সাথে না থাকতো তাইলে জামাতের নেতাদের বিচার করতো না আ.লীগ।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে শুরুতেই তাইরে নাইরেঃ আ.লীগ ক্ষমতায় আসে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে। আর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে। কি বুঝলেন? মানে হলো ধীরে চলো। এই ধীরে চলার অনেক যোগসূত্র আছে। আছে আন্তর্জাতিকভাবে দরকষাকষি, আছে ঘরের মধ্যে জামাতের সাথে দরকষাকষি আছে বিএনপিকে সাইজ করে ক্ষমতার এতো দূরে ছুড়ে ফেলা যেখান থেকে তার আগামি ১০ বছরের মধ্যে আর ফিরে না আসতে পারে। আ.লীগের এই সবগুলো উদ্দেশ্যই এখন পর্যন্ত সফল হয়েছে। এসবের ফলশ্রুতিতে কাদের মোল্লা শ তিনেক মানুষকে হত্যার পর ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট বা সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি। তবে এই মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ায় কি হতে পারে তার কোন হিসেবে নিকেশ ছিলো না আ.লীগ ও গোয়েন্দা সংস্থার হাতে। এ কারণে বামপন্থিদের নেতৃত্বে ফাঁসির দাবিতে গড়ে উঠা গণজাগরণ মঞ্চ দ্রুতই গণবিস্ফোরণে পরিণত হয়। তবে সেই আন্দোলন দ্রুতই আ.লীগ দখল করে আর মঞ্চ ভেঙ্গেও দেওয়া হয়। তবে দেরীতে বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করার কারণে সরকার শুরুতেই যুদ্ধাপরাধ বিচারের বিষয়ে তাদের অবস্থান একটি ধোয়াশার মধ্য দিয়ে ফেলে দেয় জনগণকে। এই ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারপতি এখতিয়ার বর্হিভূতভাবে স্কাইপে বিচার নিয়ে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। সেই স্কাইপগেট ফাঁসও হয়ে যায়। এরপর বিচারপতি পদত্যাগ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা অভিযুক্ত বা আসামিদের পক্ষে দাড়িয়ে সরকারকে একাধিকবার বেইজ্জতি করেছেন। সব থেকে বড় বেইজ্জতি করেছেন সুখরঞ্জন বালি। সেটাও সাঈদীর মামলার। সুখরঞ্জনকে সরকার জোর করে ভারতে পাঠিয়ে দেন। তিনি এখনো ভারতের কারাগারে। এরপর যখন কাদের মোল্লার ফাঁসি না হয়ে যাবজ্জীবন ঘোষণা হয় তাজ্জব বনে যায় বাংলাদেশের মানুষ। তিনি ভি চিহ্ন দেখিয়ে বেরিয়ে আসেন কারাগার থেকে। তখন আরেক যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরী বলেছিলেন, এতোবড় রাজাকার সে মাপ পাইলো তাইলে আমার কিছু হবে না।’

ভারতের কেন জামাত ঘৃণাঃ ভারতের অখণ্ডতা টিকিয়ে রাখাই ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ। আগামি ৪০ বছরের মধ্যে ভারত অনেকগুলো টুকরা হবে এটা অনেকেই বলে থাকেন। ভারতের মধ্যে কাশ্মির ও ভারতের সাত কন্যা রাজ্যে স্বাধীনতা আন্দোলন চলছে দীর্ঘদিন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের অভিযোগ এখানকার ভূমি ব্যবহার করে ভারতের ভেতর নাশকতা চালায় ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’রা। ভারত এ অভিযোগ হাতে নাতে প্রমান পায় ১০ ট্রাক অস্ত্র খালাশের সময়। এই মামলায় নিজামীর কিন্তু ফাঁসির হুকুমও হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। হাইপ্রফাইলের এ মামলার আসামী স্বয়ং তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ফোনে তদারকির মাধ্যমে অস্ত্র খালাস করছিলেন। এ সময় তৎকালিন ভারতীয় হাই কমিশন ফোন করে অস্ত্রের চালান ধরার জন্য স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন। তবে লুৎফুজ্জামান বাবর ভারতীয় হাই কমিশনের কথা পাত্তা দেয়নি। অস্ত্রের চালান এরপর ধরার জন্য ভারতীয় হাই কমিশন নিজেই তৎপর হন। এই চালানের সঙ্গে তারেক রহমানের সম্পৃক্ততা রয়েছে এমনটি মনে করে ভারতের সাউথ ব্লক হিসেবে তাদের থিংট্যাংক আমলাতন্ত্র। এই ঘটনার পর যখন ওয়ান ইলেভেনের সামরিক সিভিল ক্যু হয় সব থেকে নিগৃহের স্বীকার কিন্তু বাবর ও তারেক হয়েছেন। এবং বিএনপির রাজনীতি থেকে তারেক রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ফাঁকে বলে রাখি তারেক রহমান ভারতের কাছে নিজেকে নির্দোষ ও বিশ্বস্ত মনে না করাতে পারলে দেশের ক্ষমতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির আসার সুযোগ খুবই কম।

সন্ত্রাসবাদী সংগঠন সিমির সাথে শিবিরের দোস্তির খবর সবাই জানে। এরপর যখন দশ ট্রাক অস্ত্র হাতে নাতে জামাত কানেকশনে ধরে ফেলে ভারত তখন এই ধারণা আরো গাঢ় হতে থাকে। এ কারণে ভারত জামাতকে নির্মূল করতে চায়। অন্যদিকে বাংলাদেশের সেক্যুলার ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ বহুকাল থেকেই জামাতকে নিষিদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবী জানিয়ে এসেছে। এখন দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে গেছে। সে কারণেই ভারত জামাত নেতাদের বিচারের দাবিতে বলা যায় বড় ধরনের সমর্থনই নয় শুধু একইসঙ্গে বিচারের দাবীও জানিয়েছে।

বিএনপি থেকে জামাতকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় আ.লীগঃ আ.লীগের ধারণা জামাত ছাড়া যদি বিএনপি আ.লীগের সাথে নির্বাচনে যায় তাহলে জয় হবে আ.লীগের। জাতীয় নির্বাচনের সর্বশেষ হিসেব নিকেশ করে তারা এটি মনে করেন। এ কারণে জামাত ইসলামের বিচার করেনি ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আ.লীগ। মূলত গাত্রদাহ হয় ২০০১ সালে জোট নির্বাচনে জয়ের পর। এ সময় জামাত ইসলাম বিরাট বড় ধরনের নাশকতা চালিয়ে সারা দেশে হাজার হাজার আ.লীগ নেতাদের বাড়ি ছাড়া করে। অসংখ্যা নেতা কর্মীদের হত্যা করে যা স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব রেখেছে। তবে এসব প্রভাবের চেয়ে আ.লীগের কেন্দ্রে কাজ করেছে জামাত বিএনপির ঐক্য। বিএনপির সাথে জামাতের ঐক্যই বিএনপিকে যেমন ডুবিয়েছে, অন্যদিকে আ.লীগ তাদের বিচার করতে উদ্যোগী হয়েছে। উপরের বক্তব্যে পাঠককে আমি শুধু এটাই বলতে চেয়েছি আ.লীগ কোন আর্দশিক কারণে, ১৯৭১ সালের মহান শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করতে এই বিচার করেনি। এই বিচার করতে গিয়ে বরং আ.লীগ ৭১ এর প্রসঙ্গ টেনে এনে রক্তঋণ ও আর্দশিক বুলি ককটেল আকারে আমাদেরকে পান করতে বাধ্য করছে।

দাগ থেকে যায় চেনাঃ এবার যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর ফাঁসির রায় আপিলে পাল্টে গেলো। এর আগে যতবার রায় ঘোষণার দিন এসেছে ততবারই জামাত রায় ঘোষণার দিন থেকেই টানা হরতাল ঘোষণা করেছে। কিন্তু যখন রাজাকার শিরোমণি গোলাম আজমের রায় ঘোষণার দিন ঠিক করা হয় সেইদিনও হরতাল হয়নি। ফলাফল আমৃত্যু জেল। সাঈদীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা দেখা গেলো। জামাত বললো, রায় পর্যবেক্ষন করে তারা কর্মসূচী দিবে। এর ফলে অনেকেই আগেভাগে আঁচ করতে পেরেছিলেন ফাঁসির রায় হবে না। আদৌ ফাঁসি হয়নি।

আ.লীগের নির্দেশে জামাত হরতাল করছেঃ এই রায় প্রত্যাখান করে রাজধানীর মিরপুরে জামাত ইসলাম মিছিল করেছে। সেখান থেকে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। জামাত ইসলাম বৃহস্পতিবার ও রবিবারে হরতাল ডেকেছে। অন্য রায়গুলোর দিন থেকে টানা হরতাল অবরোধ থাকতো। এবারে তা হয়নি। কারণ জামাতের সাথে সরকারের আঁতাত হয়েছে যে, সাঈদীর ফাসি হবে না। সরকার তাদের কথা রেখেছে। এ পরিস্থিতিতে জামাত হার্ডলাইনে কোন কর্মসূচী দিতে পারে না। আবার নিশ্চুপও বসে থাকতে পারে না। নিশ্চুপ বসে থাকলে সাধারণ মানুষের ভেতর প্রশ্ন উঠতে পারে যে, জামাতের সাথে সরকার আঁতাত করেছে। এ কারণে উভয়কূল রক্ষা করতে একটি নামকাওয়াস্তে কমূসূচী দিয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার ও রবিবার হরতাল হতে পারে। এ কারণে যে জামাত একটি লোক দেখানো নাশকতা করে এই রায় যে আঁতাতের না সেটা প্রমান করার চেষ্টা করবে। আর আ.লীগ মিডিয়া কভারেজ সাথে নিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করবে যে, জামাতের ব্যাপারে তারা হার্ড লাইনে।

কিন্তু এতো কিছুর পরও কথা থেকে যায়। যে জামাতের ইউনিয়ন নেতাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ সেই জামাত রাজপথে প্রকাশ্য মিছিল করে নিরাপদে কেমনে বাড়ি ফিরে গেল? এটা কোনভাবেই কি বোঝা সম্ভব?

বিপদে আছে বিএনপিঃ বিএনপি আসলেই বিপদে আছে। আ.লীগ চায় জামাত ও আ.লীগ থাকুক। বিএনপির নাম নিশানা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক। এ কারণে তারা জামায়াতের সাথে আঁতাত করবে। আর বিএনপিকে সাইজ করবে। অন্যদিকে বিএনপি তাদের জোট থেকে জামাতকে বের না করে দিয়ে তাদের সাথে রাখবে। জামাত এখন সরকারের সাথে আঁতাতকারী দল। এই দল সাথে নিয়ে কোনভাবেই সরকার বিরোধী আন্দোলন করা সম্ভব নয়। কারণ জামাত তার ফোর্স মাঠে নামাবে না। আবার বিএনপি ভরসা করে থাকবে যে জামাত মাঠে নামবে। ফলে আন্দোলনের হিসেব নিকেশ সব সরকার আগে ভাগেই বুঝে ফেলছে। বিএনপি যদি তার জোট থেকে জামাতকে বের না করে দেয় তাহলে তার কোন ভবিষ্যত নেই রাজনৈতিক দল হিসেবে। এটা শুধু ধর্মীয় রাজনীতির অজুহাতেই নয় এটা এখন রনকৌশলেরও ব্যাপার।

আ.লীগ একটি ষ্বৈরাচারী ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছেঃ গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন হেফাজতের উত্থান ঘটায় আ.লীগ। এর প্রধান কারণ দুই বিপরীতমুখি শক্তি যদি মাঠে নামে তাহলে বিএনপির রাজনীতি নাই হয়ে যাবে। বাস্তবে তাই-ই হয়েছে। যদি লক্ষ্য করেন ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই বছরের আগস্ট সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিএনপি তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। উল্টো তারা আ.লীগের পাতানো ফাঁদে হেফাজত ইসলামের পক্ষালম্বন করেছে। ফলে সারা দেশ তখন নাস্তিক ইস্যুতে গরম। কিন্তু কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে তা নিয়ে কোন কথা নেই। এটাই চেয়েছিলো আ.লীগ। আর বিএনপি ভেবেছিলো যে, সেনা বাহিনী নেমে আসবে তাদের সমর্থনে। এমন কী বিএনপির নেতা শমসের মবিন চৌধুরী তখন আমেরিকান অ্যাম্বেসেডর ড্যান মজিনাকে লিখিত রুপরেখা দিয়েছিলেন যে, সেনাবাহিনী রাস্তায় নেমে আসবে। ড্যান মজিনা ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছিলো শেখ হাসিনা টিকবে না। কিন্তু বাস্তবে সেনা ক্যু হয়নি। এ কারণে এখনো মজিনা হোম স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে বিশাল চাপে রয়েছে। আর এ ফাঁকে আ.লীগ ভোটার বিহীন ম্যান্ডেট বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে বিচারপতিদের অভিশংসন নিজের হাতে নিয়েছে। সম্প্রচার নীতিমালা করেছে। সব কিছু তাদের হাতের মুঠোয় নিয়েছে। এর মধ্যে যদি সাঈদীর ফাঁসি দিয়ে দেয় তাহলে সারা দেশে জামাতের সাথে আর্দশের সংঘাতে আ.লীগ ভীষণ মার খাবে। কি দরকার? তার চেয়ে এই ভালো আছি। জামাত পাশে থাকলো। বিএনপি নিঃসঙ্গতায় ভুগলো।

হেফাজতে ইসলামের সাথে আ.লীগের ঘনিস্ট সম্পর্ক নিয়ে তেমন কিছু বলতে চাই না। রেলের জমি থেকে শুরু করে সরকারের কত কমিটিতে যে শফি হুজুরের চেলা চামুন্ডরা আছেন। আর যেদিন হেফাজত ঢাকা ঢুকেছিলো সেইদিন তৎকালিন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হাসান মাহমুদ পুলিশকে নিশ্চয়তা দিয়েছিলো যে হেফাজত কিছু করবে না। তাদের ঢুকতে দিন। পুলিশ আসলে জানতো না সরকারের পরিকল্পনা কি? আর বেকুব বিএনপি না বুঝেই সেই ফাঁদে পা দিয়ে স্রেফ নাই হয়ে গেছে।

সাঈদীর রায় একটি প্রতীকী বিষয় হিসেবে ধরুন সাধারণ আমরা জনতা। যদি সাঈদী সাহেব চান্দের ভেতর নিজের সুরত এঁকে দিতেন তাহলে চান্দের বুড়ি আতঙ্কগ্রস্ত হোত কি হোত না সেটা আলোচ্য বিষয় না। আলোচ্য বিষয় জামাতের সাথে আ.লীগের ঐক্যের কারণে এবার আর সাঈদী সাহেব চান্দে আরোহন করতে পারলেন না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৩ thoughts on “জামাত-আ.লীগ ঐক্যঃ সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেলো না

  1. ক্ষমতার গদি আর টাকার কাছে
    ক্ষমতার গদি আর টাকার কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পোঙা মারা খাইছে। আওয়ামিলিগ হচ্ছে বিষাক্ত কালসাপ। আমরা খুব অল্প সময়ে ভুলে যাব আওয়ামিলিগের এসব বেঈমানির কথা। বাঙালির হচ্ছে গোল্ডফিস মেমোরি জাতের প্রানি।

    1. এই সত্য যাদের বোঝার, তারা
      এই সত্য যাদের বোঝার, তারা দুই-তিন বছর আগেই বুঝে গেছে। সায়েদীর ফাসির রায় না দেয়ায় যারা এতা বুঝতে শুরু করেছে, তারা আদতেই অকালকুষ্মাণ্ড!

      বস্তুত, আওয়ামী লীগের মত পতিতা রাজনৈতিক দল পারেনা, এমন কোন কাজ নাই!

  2. কিচ্ছু বলার নাই।কি বলবো আমি
    কিচ্ছু বলার নাই।কি বলবো আমি জানিতাম যে রায়টা কি হবে? গত ৬ মাসে জামাতের বিরুদ্ধে আওয়ামিলীগ নেতা কিছু কন নাই। আতাত যে আছে সেটা সবাই বুঝে। যারা না বুঝে তারা কুলাংগার ছাড়া আর কিছুনা।

    1. কিছু বলার নেই বলে ওয়াকওভার
      কিছু বলার নেই বলে ওয়াকওভার পেতে পেতে আ.লীগের চাহিদাপত্রে তালিকা আরো দীর্ঘ হচ্ছে। এখন বলতে হবে অনেক কিছু বলার আছে তবে সবার আগে বলবো, এবার থামেন।

  3. বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে,
    বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে, প্রসিকিউশন নিয়ে, তদন্ত নিয়ে আমরা যখন অনলাইনে কথা বলতাম তখন অনেকে তেড়ে আসত, বলত এসব কথা বলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজে বাঁধা দিচ্ছি। কিন্তু গতকাল রায়ের পর এবং রাতে একাত্তরের জার্নালে খোদ এটর্নী জেনারেল তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটেরদের যোগ্যতা এবং দায়িত্বের প্রতি অবহেলার কারণে উচ্চ আদালতের রায় সাঈদীকে ঝুলাতে পারে নাই বলে মনে করছেন। সেই সব দলকানা ও স্বার্থবাজদের মুখে এখন থুথু ছিটাইলাম।

    সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে সরকার এই বিচার কাজে কখনই আন্তরিক ছিলেন না। এটিকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে আমাদের সাথে প্রতারণা করেছেন। এখন পানির মত স্পষ্ট, জামায়াতের সাথে সরকারের একটা ভাল বোঝাপড়া হয়ে গেছে।

    ছিঃ আওয়ামীলীগ, ছিঃ!

    1. ‘৮৬ বেঈমান, চশমাপরা বুবুজান’
      ‘৮৬ বেঈমান, চশমাপরা বুবুজান’ এরকম একটা স্লোগান ৯১ নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সময় শুনতাম, তখন বুঝিনি স্লোগানের মাজেজা

  4. ..আমৃত্যু কারাদন্ডের রায়
    ..আমৃত্যু কারাদন্ডের রায় আপাতত দল হিসেবে আ.লীগের জন্য ওয়াইজ সিদ্ধান্ত হইছে!

    তবে এই রায় ভবিয্যতে বুমেরংও হইতে পারে।

    প্রমাণ হইলো পলিটিশিয়ানদের কছে পলিটিক্সই আগে…

    আর এটর্নি জেনারেল,আইনমন্ত্রী উনার প্রসিকিউশানের উপর দোষ চাপায়া,ব্যাক স্পেস নেওয়া চেষ্টা করছে। ব্যাপারটা হাস্যকর!

    আরে সাইদির বিরুদ্ধে তো প্রমাণ হইছে যে, সে ধর্ষণ এবং হত্যা করছে।

    এইটা প্রমাণ হইছে দেখেই তো তারে আজীবন আরামদণ্ড দেওয়া হইলো!

    প্রসিকিউশান প্রমাণ করছে,যে সে ধর্ষণ এবং হত্যা করেছে,এখন ধর্ষণ ও হত্যার জন্য আপনে ফাঁসি দেবেন কি আরামদণ্ড দেবেন সেটা আপনের বিবেচনা…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

56 − 53 =