অভিজিৎ রায় কেনো সালাফি সেকুলার হইলেন?

আজ থেকে এক দশক আগে অভিজিৎ রায় আমাদের কাছে একজন প্রেরণার নাম ছিলেন। এখনো অনেকে তরুণ মুক্তমনার প্রেরণার উৎস তিনি। বাংলা অনলাইনের সেই অন্ধকার যুগে তিনি মুক্তমনার মতো একটি উজ্জ্বল প্রদিপ দিয়া দশদিক আলোকিত করেছেন। বিজ্ঞানমনস্ক ও মুক্তমনা হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে আমাদের প্রজন্মের বহু তরুনকে তিনি তার লেখার মাধ্যমে উজ্জিবিত করেছেন। বিজ্ঞানমনস্ক ও মুক্তমনা হওয়া মানে ‘মডার্ন’ তথা আধুনিক হয়ে ওঠা। বাংলাদেশের মানুষ পোষাকে আধুনিক হলেও মনমানসিকতায় এখনো আধুনিক হয়ে উঠতে পেরেছে তা বলার উপায় নাই। আধুনিক হতে পারে নাই বলেই বাংলাদেশে এখনো গণততন্ত্র দুর্বল, বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ, ধর্মনিরপেক্ষতা আক্রান্ত এবং এখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নাই। গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা আধুনিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খা অনুযায়ী ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক আধুনিক রাষ্ট্র গঠন করতে গেলে জনগণের মধ্যে মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও বিজ্ঞানমনস্কতার বিকাশ ঘটানো জরুরি। অভিজিৎ রায় এবং মুক্তমনা সেই জরুরি কাজটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন অনেক দিন যাবৎ। আমি নিজেকে একজন শতভাগ সেকুলার ব্যক্তি মনে করি। সেকুলারিজমের প্রতি এই ভালোবাসায় মুক্তমনার অবদান জীবনেও অস্বিকার করবো না। অভিজিৎ রায়েরও না। কিন্তু আজকে আমি তার কিছু কঠিন সমালোচনা করতে চাই। আমার সমালোচনাকে কেউ নিন্দা আন্দাজ না করলে খুশি হবো।

অভিজিৎ রায় সম্প্রতি মুক্তমনা ব্লগে ‘From Farabi to ISIS: The Virus of Faith is Indeed Real!’ অর্থাৎ ‘ফারাবি থেকে আইসিসঃ বিশ্বাসের ভাইরাস আসলেই সত্য’ নামে একটি লেখা লিখেছেন। লেখাটি যথেষ্ট বড়। পুরো লেখাটি আমার আলোচনার বিষয়বস্তুও না। লেখাটিতে ফারাবির ফতোয়াবাজি, বাংলাদেশের নাস্তিক ব্লগারদের উপর মৌলবাদীদের হামলা, সরকারি নির্যাতন, বাক স্বাধীনতা প্রসঙ্গ, অভিজিৎ রায়ের বই ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ ও রকমারিডটকম প্রসঙ্গসহ বিভিন্ন বিষয় এসেছে যা নিয়ে আমার এই লেখায় কিছু বলার নাই। আগ্রহী পাঠকরা মূল লেখাটি পড়ে নেবেন। আমি শুধু অভিজিৎ রায় তার এই লেখায় ধর্ম ও টেরোরিজম বিষয়ে যে তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং টেরোরিজম সমস্যা সমাধানের যেধরনের আভাস দিয়েছেন তা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। লেখাটি পড়ে আমি যা বুঝেছি তার সারমর্ম নিচে স্বিদ্ধান্ত আকাড়ে তুলে ধরছি। অভিজিৎ রায় বলতে চাচ্ছেন যে –

১। ধর্ম সংক্রান্ত ‘মিম’ সমাজে জৈবিক ভাইরাসের মতো আচরণ করতে পারে। অর্থাৎ, ধর্ম, ধর্মীয় বিশ্বাস অথবা ধর্মীয় মতবাদগুলো সমাজদেহে ঠিক সেইরকম আচরণ করে যেইরকম আচরণ ভাইরাস ও অন্যান্য পরজীবিরা মানবদেহে করে থাকে।

২। টেরোরিজম হলো ভাইরাস আক্রান্ত মানসিকতার প্রকাশ। অর্থাৎ টেরোরিস্টরা ধর্মীয় বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে এবং এই ভাইরাস ছড়িয়ে গিয়ে তা মানব সমাজে মহামারি আকাড় ধারণ করতে পারে। যেমনটা বর্তমান পৃথিবীতে হয়েছে।

৩। মস্তিস্কে পরজীবি আক্রান্ত হয়ে যেমন একটি ঘাস ফরিং আত্মহত্যা করতে পারে, তেমনি মনজগতে ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে একজন মানুষ এরোপ্লেন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারের উপরে পরে আত্মহত্যা করতে পারে।

৪। ইরাক ও সিরিয়ার টেরোরিস্ট সংগঠন আইসিস হলো বিশ্বাসের ভাইরাসের সামাজিক প্রকাশ।

৫। আইসিসের ইসলামই প্রকৃত ইসলাম। দুনিয়ার অধিকাংশ মুসলমান ইসলাম বলতে যা বুঝে বা বুঝায় তা সঠিক ইসলাম নয়। আইসিস ইসলাম বলতে যা বুঝে এবং বুঝায় তাই সঠিক ইসলাম।

৬। টেরোরিজম মহামারির সমাধানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিরা আন্তরিক নয়।

অভিজিৎ রায়ের টেরোরিজম সংক্রান্ত এই বিশ্বাসের ভাইরাস তত্ত্ব প্রধানত মিমেটিক্সের উপর নির্ভরশীল। তিনি তার লেখায় তা উল্লেখও করেছেন। জৈবিক বিবর্তনে জিন যেই ভুমিকা পালন করে, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক বিবর্তনে সেই ভুমিকা পালন করে ‘মিম’, এই হলো মিমতত্ত্বের সার কথা। অর্থাৎ, কালচারাল ইভোলুশনও ডারউইনিয় ‘সিলেকশন’ পদ্ধতি অনুসরণ করে। সমসাময়িক কগনেটিভ সায়েন্সের দুনিয়ায় মিমেটিক্স বা মিমতত্ত্ব কেন্দ্র করে অনেক আগ্রহ উদ্দিপক কিছু আলোচনা ও প্রস্তাবনা বিভিন পন্ডিত ব্যক্তি করেছেন। তবে মিম তত্ত্ব জনপ্রিয় হয়েছে মূলত রিচার্ড ডকিন্সের বই ‘দা সেলফিশ জিন’এর সুবাদে। মিমতত্ত্ব আমারও একটি অত্যন্ত আগ্রহের বিষয়। তবে আগ্রহের বিষয় হলেও, মিমতত্ত্বের উপর অভিজিৎ রায়ের যেই পরিমান ভরশা ও ‘বিশ্বাস’ দেখা যাচ্ছে আমার তার ধারে কাছেও নাই। কারন দিনশেষে মিমতত্ত্ব এখন পর্যন্ত অবশ্যই একটি তত্ত্ব। কোন প্রমানিত বৈজ্ঞানিক সত্য না। মিম বিষয়টাকে বৈজ্ঞানিকভাবে ও সামাজিকভাবে ব্যাখ্যা করাও সহজ কাজ না। জিনের যেমন ডিএনএর মতো কোড স্ক্রিপ্ট আছে, মিমএর ক্ষেত্রে তেমন কিছু কিছুর অস্তিত্ব আমরা জানি না। সাংস্কৃতিক বিবর্তনের যে বহুমাত্রিকতা তা ব্যাখ্যায় এই তত্ত্ব এখন পর্যন্ত খুব সফল তা বলার উপায় নাই। এর চাইতে সফল তত্ত্ব আছে। তবে রিচার্ড ডকিন্সস মিমতত্ত্বের মধ্যমে ধর্মকে ব্যাখ্যা করতে গেছেন, তারপর আরো কয়েকজন এই কাজে অনেকদুর এগিয়ে গেছেন। অভিজিৎ রায় তার লেখায় এসব কথা উল্লেখ করেছেন। অভিজিৎ রায় এবং উল্লেখ্য লেখকরা প্রস্তাব করছেন যে ধর্ম সংক্রান্ত ‘মিম’গুলোকে ভাইরাসের সাথে তুলনা করা উচিত। আমি যেহেতু এই লেখকদের লেখা পড়ি নাই, তাই তারা কোন ব্যাখ্যা দিয়েছেন কি না জানি না। তবে বুকে বোমা বেধে আত্মহত্যা ধর্মের নামেও হয়, জাতীয়তাবাদের নামেও হয়। ধর্মযুদ্ধ ও ধর্মের নামে আগ্রাসনের যেমন বহু ইতিহাস আছে, তেমনি গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সাম্যের নামে যুদ্ধ ও আগ্রাসনের ইতিহাস কম নাই। তাহলে, ধর্মীয় মিমের মতো জাতীয়তাবাদের মিমকেও কি ‘ভাইরাস’ বলা যেতে পারে? এই যে আধুনিক দুনিয়ায় জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্দুদ্ধ হয়ে বহু মানুষ নিজে খুন হয়ে গেলো, অন্যকে খুন করলো এবং এইভাবে বিশ্বব্যাপি বহু জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়ে গেলো, এই ঘটনাকে কি জাতীয়তাবাদী ভাইরাসের মহামারি বলা যায়। ধর্মীয় মিম ছাড়া আর কি কি মিম মানব সমাজের ভাইরাস বলে আলোচ্য লেখকরা মনে করেন আমার জানার ইচ্ছা। আমি আপাতত শুধু অভিজিৎ রায়ের কাছে প্রশ্ন রাখলাম।

অভিজিৎ রায়ের লেখা থেকে আরেকটা জিনিস আমার কাছে পরিস্কার হয় নাই। তিনি কি ‘বিশ্বাস’ জিনিসটাকেই ভাইরাস বলছেন, না কি শুধু ‘ধর্মীয় বিশ্বাস’কে ভাইরাস বলছেন, না কি ধর্মীয় টেক্সটকে ভাইরাস বলছেন। তবে এটা পরিস্কার হয়েছে যে তিনি টেরোরিজমের উৎস মনে করেন ধর্মগ্রন্থ তথা ধর্মীয় টেক্সটকে। এইক্ষেত্রে, যারা ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসাবে প্রচার করতে চায়, তাদের সাথে অভিজিৎ রায় একমত নন। তিনি কুরানের বিভিন্ন আয়াত উল্লেখ করে বলতে চেয়েছেন যে, টেরোরিজমের উৎসাহ কুরান শরিফেই দেয়া আছে। ইসলাম ধর্ম এবং কুরান শরিফের উপর যারা বিশ্বাস রাখে এইসব আয়াত পড়ে তাদের মগজ ‘ভাইরাসে’ আক্রান্ত হয় এবং তা কার্যক্ষেত্রে টেরোরিজমের জন্ম দেয়। কিন্তু দুনিয়ার সকল মুসলমানই কেনো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে না অথবা আক্রান্ত হলেও কার্যক্ষেত্রে তার কোন প্রকাশ ঘটাচ্ছে না সেই প্রশ্নটি আসে। অভিজিৎ রায় অবশ্য একটা জবাব অবশ্য দিয়েছেন। কেনো পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলমান শান্তিপ্রিয় এবং টেরোরিস্ট নয়, সেই প্রশ্নের জবাব হিসাবে তিনি লিখেছেন

“Of course I know, most of the Muslims are not terrorists, they are peaceful. The reason behind is, they do not follow Quran literally.”

আমি এইক্ষেত্রে অভিজিৎ রায়ের সাথে একমত। একমত না হয়ে উপায় নাই। বর্তমান দুনিয়ায় ইসলামিক টেরোরিজম সংক্রান্ত বাস্তব অভিজ্ঞতাও তাই বলে। টেরোরিজম সম্বন্ধে অধিকাংশ মুসলিম পন্ডিতরাও একি ধরণের মতামত ব্যক্ত করে থাকেন। মুসলমানদের মধ্যে বিশেষ কিছু মতাদর্শিক ধারা আছে, যারা কুরানের শতভাগ লিটারাল ইন্টারপ্রিটেশনে বিশ্বাস করে। কুরানের এই কট্টর অক্ষরবাদী ব্যাখ্যা যারা করে তারা মুসলিম দুনিয়ায় ‘সালাফি’ নামে পরিচিত। জিহাদ সংক্রান্ত ফতোয়াবাজিতে সালাফিদের ইতিহাস বহুত পুরোনো, সেই ইবনে তাইমিয়ার সময় থেকে। ‘আল কায়েদা’ এবং ‘আইসিস’ এই দুইটি সংগঠনই ‘সালাফি জিহাদী’ সংগঠন। বর্তমান বিশ্বের যতোগুলো বড় ইসলামী সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আছে তার অধিকাংশই সালাফি জিহাদী সংগঠন। তবে কুরানকে যারা লিটারালি অনুসরণ করেন তারা সবাই যে জিহাদী তা সত্য না। সকল সালাফিই জিহাদী নয়। সালাফিদের মধ্যে জিহাদী ও জিহাদ বিরোধী ভাগ আছে। জিহাদ বিরোধীরা জিহাদী সালাফিদের বিরুদ্ধে ফতোয়াও দিয়ে থাকেন। যেমন সৌদী আরবের একজন নামকড়া সালাফি আলেম ‘আবদুল্লাহ আল নাজমি’ সম্প্রতি আইসিসের সমালোচনা করে তাদেরকে ‘তাকফিরি’ বলে ঘোষনা করেছেন। দুনিয়ার অধিকাংশ মুসলমান পন্ডিতদের কাছে ‘তাকফিরি’ একটি নেতিবাচক বিশেষন। ইসলামী পরিভাষায়, তাকফিরি বলতে তাদেরকে বুঝায় যারা কথায় কথায় অন্যদেরকে কাফির বলে ফতোয়া দেয় এবং কাফির ফতোয়া দিয়ে কতল করা জায়েজ বলে মনে করে। ইসলামের ইতিহাসে প্রথম তাকফিরি গোষ্ঠি হিসাবে চিহ্নিত করা হয় ‘খারেজি’দেরকে। খারেজিরা নিজেদেরকে বাদে বাকিসব মুসলমানকেই কাফির ঘোষনা করতো এবং তাদের কতল করা জায়েজ মনে করতো। আধুনিক সালাফি জিহাদী সংগঠনগুলোও একি কাজ করে থাকে। খারেজিদের থেকে শুরু করে আধুনিক সালাফি জিহাদীদেরকে তাকফিরি গন্য করে সমালোচনা হাজার বছর ধরে হয়ে আসছে। এই সমালোচনা মুসলমানরাই করছে।

কুরানের কট্টর অক্ষরবাদী ব্যাখ্যা ও তাকফিরের সমালোচনার ইতিহাস প্রাচিন। চতুর্থ খলিফা আলী এবং মুয়াবিয়ার মধ্যে সিফফিনের যুদ্ধের সময় প্রথম তাকফিরি গোষ্ঠি ‘খারেজি’দের আবির্ভাবের সময় থেকেই মূলধারার মুসলমানরা কট্টর তাকফিরিদের বিরুদ্ধে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরতে বাধ্য হয়। সিফফিনের যুদ্ধের সময় খারেজিরা যখন ‘আল্লাহ ছাড়া কোন শাসক নাই’ এবং ‘কুরান ছাড়া কোন বিচারক নাই’ এই জাতীয় স্লোগান দিয়ে আলীর বিরোধীতা শুরু করেছিল তখন তাদের সাথে আলীর একটি বিতর্কের কাহিনী পাওয়া যায়। আলী একটি কুরান শরিফকে জনসমাজের সামনে রেখে সেই কুরানকে বলেছিলেন আল্লাহর আইন জনগণকে বুঝিয়ে দেয়ার জন্যে। কুরান তো কথা বলতে পারে না, সে আলীর প্রশ্নের জবাব কিভাবে দেবে? জনগণ এই প্রশ্ন তোলার পর আলী সায় দিয়ে বলেছিলেন, কুরান হলো কাগজ আর কালি, কুরান নিজে থেকে কিছু বলতে পারে না। কুরান থেকে আইনের ব্যাখ্যা দিতে পারে খালি মানুষ, তার নিজের বুঝ বুদ্ধির আওতা অনুযায়ী। এখন পর্যন্ত সারা দুনিয়ায় সালাফিরা ছাড়া মুসলমানদের অন্য কোন মতাদর্শিক ধারা কুরানের শতভাগ লিটারাল ইন্টারপ্রিটেশন অনুসরণ করে না। কুরনের যেসব আয়াত মুহাম্মদের সমসাময়িক কালে বিভিন্ন যুদ্ধের সময় নাজিল হয়েছিল সেইসব আয়াতকে বর্তমান দুনিয়ার অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্যে ব্যবহার করা যাবে, এই প্রসঙ্গেও দুনিয়ার অধিকাংশ মুসলমান আলেম একমত হবেন না। আধুনিক সালাফিদের আবির্ভাব হয়েছে মূলত আবদুল ওয়াহাবের ওয়াহাবী আন্দোলন থেকে। আধুনিক সালাফিদের আবির্ভাব কালে সিরিয়ার বিখ্যাত হানাফি উলামা ইবনে আবেদিন তাদেরকে তাকফিরি বলে অভিহিত করেছিলেন। বর্তমানেও আইসিসকে সালাফি এবং তাকফিরি বলে সমালোচনা করে সারা দুনিয়াতেই মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি সম্প্রতি নিজেদের বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। যেমন ভারতের সুন্নি সংগঠন ‘রাজা একাডেমি’ কিছুদিন আগে ভারতিয় মিডিয়াগুলোতে প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছিল এই বলে যে, আইসিস একটি ওয়াহাবি সালাফি সংগঠন, মিডিয়ায় যেনো তাদেরকে সুন্নি হিসাবে প্রচার না করা হয়। তুর্কির সর্বোচ্চ ইসলামী আলেমের পদাধিকারী ‘মেহমেত গোরমেজ’ কিছুদিন আগে আইসিসের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং তাদের খেলাফত কি কি কারনে অবৈধ এবং অযৌক্তিক তার ইসলামী এবং সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, ইরাক-সিরিয়ায় বর্তমানে যা হচ্ছে তার পেছনকার কারন অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক বলে গোরমেজ উল্লেখ করেছেন। গোরমেজের ব্যাখ্যা হলো, দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন এবং বিদেশী শাসনের ফলে যে সামাজিক অস্তিরতা ও রাগ পুঞ্জিভুত হয়েছে ধর্মীয় চেহারা নিয়ে তা প্রকাশ পেয়েছে মাত্র। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে যারা গবেষনা করেন, তারা অনেকেই গোরমেজের সাথে একমত হবেন। ইরাকে সাদ্দাম হোসেইনের আমলে স্বৈরতন্ত্র ছিল বটে, কিন্তু আইসিসের মতো সালাফি জিহাদীদের কর্তৃত্ব ছিল না। নব্বই দশকের আগেও সালাফিরা ছিল, কিন্তু তখনো তারা এতোটা জিহাদী হয়ে উঠে নাই। ইরাকে মার্কিন দখলদারিত্বের মধ্যেই আইসিসের জন্ম হয়েছে। তার আগে ইরাকে কুরানের লিটারাল ব্যাখ্যাকারি সালাফিরা ছিল বটে, কিন্তু তারা জিহাদী আইসিস ছিল না। রাশিয়ার সালাফি জিহাদী সংগঠন ‘ককেশাস আমিরাত’এর উদাহরণও এইক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে। নব্বই দশকে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পরিচিত নাম ছিলেন চেচনিয়ান জাতীয়তাবাদী নেতা ‘জওহর দুদায়েভ’। চেচনিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল সুফিবাদী মুসলমানদের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন। দুদায়েভসহ অধিকাংশ জাতীয়তাবাদী নেতা রাশিয়ার হাতে নিহত হওয়ার পর চেচনিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলন এখন সালাফি জিহাদী ককেশাস আমিরাতের টেরোরিজমে পরিণত হয়েছে। প্রাচ্যের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে কখনো ইউরোপের মতো এনলাইটেনমেন্ট নির্ভর বুর্জোয়া বিপ্লব সংগঠিত হয় নাই। এই দেশগুলো গণতান্ত্রিক আধুনিক রাষ্ট্রের ধারণা পেয়েছে ইউরোপিয় কলোনিয়াল শাসক শ্রেণীর কাছে। সমাজ বিপ্লব না হওয়ায় সমাজের ক্ষুদ্র শিক্ষিত শ্রেণীই কেবল আধুনিক ও সেকুলার হতে পেরেছে। গণতন্ত্রের নামে এসব অধিকাংশ রাষ্ট্রেই স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক কারনে এসব রাষ্ট্র কখনোই পশ্চিমের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রনমুক্ত ছিল না, এখনো নাই। বুর্জোয়া সমাজ বিপ্লব না হওয়ায় আর পশ্চিমা হস্তক্ষেপে এসব দেশে আধুনিক গণতন্ত্রের নামে যা ছিল, তাও এখন ধ্বসে পরেছে। এই রাজনৈতিক শূণ্যতার মধ্যেই আইসিসের জন্ম হয়েছে। এইসব ঐতিহসিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো বাদ রেখে অভিজিৎ রায়ের মতো একজন বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তি কেনো কেবলি ধর্মগ্রন্থে টেরোরিজমের উৎস খুঁজছেন তা আমার বোধগম্য হয় না, তাও আবার ব্যাখ্যা করছেন ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ নামক এমন একটি তত্ত্বের মাধ্যমে যা আবার নির্ভর করে ‘মিমতত্ত্বে’র মতো এমন একটি তত্ত্বের উপর যা ভবিষ্যতে ভুল অথবা সিউডো সায়েন্টিফিক হিসাবে লিস্টেড হবে না তা নিশ্চিত করে বলার উপায় নাই। কেনো কুরানের লিটারাল ব্যাখ্যা করেও কিছু সালাফি শান্তিপ্রিয় থেকে যাচ্ছে, কিন্তু বাকিরা কেনো যুদ্ধ করছে এর ব্যাখ্যা ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ তত্ত্ব দিয়ে অভিজিৎ রায় কিভাবে দেবেন তা জানার আগ্রহবোধ করি।

অবশ্য মিমতত্ত্বের সঠিকতা নিয়া বিতর্ক আমার এই লেখার প্রধান উদ্দেশ্য নয়। আমার এই লেখার প্রধান উদ্দেশ্য একটি প্রশ্ন করা। কিছুদিন আগে আসিফ মহিউদ্দীন বাংলাদেশে আসার পর এক সন্ধ্যায় আসিফের সাথেও এই বিষয়ে তর্ক হয়েছিল এবং তাকেও কাছাকাছি ধরণের প্রশ্ন করেছিলাম। সারা দুনিয়ার ৬০ ভাগের বেশি মুসলিম বসবাস করে দক্ষিন ও দক্ষিন পূর্ব এশিয়ায়। দুনিয়ার মাত্র মাত্র ২০ শতাংস বসবাস করে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে। দুনিয়ার অধিকাংশ সালাফিরা বসবাস করে এই আরব দেশগুলোতেই। তবে এই আরব দেশগুলোতেও সালাফিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। যেমন সৌদি আরবে সালাফিরা ক্ষমতায় প্রধান হলেও তারা মোট জনসংখ্যার ২২ শতাংস মাত্র। সারা দুনিয়ার মুসলমানদের মধ্যে সালাফিরা কতো শতাংস হবে আমি জানি না, তবে তারা মোট মুসলিম জনসংখ্যার ছোট্ট একটা অংশ তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। আর সালাফি জিহাদীরা তার চেয়েও ক্ষুদ্র একটা অংশ। দুনিয়ার অধিকাংশ মুসলমানরা সালাফি জিহাদী ইসলামকে সঠিক ইসলাম মনে করে না, সারা পৃথিবীর বহু মুসলমান আলেম তাদেরকে তাকফিরি ও অনৈসলামিক বলে সমালোচনা করে থাকে। কোন এক অদ্ভুত কারনে অভিজিৎ রায় মনে করেন যে দুনিয়ার অধিকাংশ মুসলমানের ইসলাম সঠিক ইসলাম নয়, বরং সালাফি জিহাদী আইসিসের ইসলামই সঠিক ইসলাম। সালাফিরা কুরানের কট্টর লিটারাল ইন্টারপ্রিটেশনে বিশ্বাস করে, আইনের ক্ষেত্রে তারা মূলত হাম্বলি মাজহাবপন্থী হওয়ায় দুনিয়ার অন্য মুসলমানদের চেয়ে অনেক বেশি পরিমান হাদিসকে তারা সহিহ বলে গন্য করে (প্রায় ৫০ হাজার)। এবং তারা কুরান হাদিসের বাইরে অন্যকিছুকে আইনের উৎস হিসাবে স্বিকার করে না। দুনিয়ার অধিকাংশ মুসলমানই ইসলাম সম্বন্ধে সালাফিদের সাথে একমত না। কিন্তু অভিজিৎ রায়ের মতো একজন সেকুলার ব্যক্তি ইসলাম বিষয়ে সালাফিদের সাথে পুরাপুরি একমত। অভিজিৎ রায় কেনো ইসলাম বিষয়ে একজন সালাফি সেকুলার হইলেন তা আমার প্রধান প্রশ্ন।

পাশাপাশি একটি অপ্রধান প্রশ্ন আছে। টেরোরিজম মহামারির চিকিৎসায় অভিজিৎ রায় ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ আশা করছেন তার লেখা থেকে তাই বুঝলাম। যেই রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ফলে ইরাক ও সিরিয়ায় আইসিসের জন্ম হলো সেই রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে কিভাবে টেরোরিজম সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি মনে করেন? কুরানের যেসব আয়াতকে তিনি টেরোরিজমের একমাত্র উৎস বলে দাবি করছেন সেসব আয়াতের বিরুদ্ধে বারাক ওবামার কি ধরণের পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩৮ thoughts on “অভিজিৎ রায় কেনো সালাফি সেকুলার হইলেন?

  1. আম্রিকা থেকে অভিজিৎ দাদা কিছু
    আম্রিকা থেকে অভিজিৎ দাদা কিছু উপরি পাইছেন বলে মনে হচ্ছে। এজন্য সাম্রাজ্যবাদিদের পক্ষাবলম্বন করছেন। এটা নিয়ে হুদাই টেনশন নিয়ে লাভ কি?

    1. আমি আপনার উল্লেখ করা কোন
      আমি আপনার উল্লেখ করা কোন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে করছিনা। বাংলাদেশের মুক্তমনাদের একটা অংশ ইসলাম প্রশ্নে সালাফি জিহাদী মুসলমানদের ইসলামকেই কেনো প্রকৃত ইসলাম বলে প্রচার করছে তা আমার অনেকদিনের প্রশ্ন। ওনার লেখাটা পড়ে সেই প্রশ্ন করা জরুরি মনে করলাম।

  2. পুরা বিশ্বে এখন জঙ্গিবাদ মানে
    পুরা বিশ্বে এখন জঙ্গিবাদ মানে ইসলাম ধর্মালম্বিদেরকেই বুঝায়। সমগ্র বিশ্বে অস্থিতিশীল করে রাখছে কোন ধর্ম? এখন সালাফিদের কাজ বলে উড়িয়ে কিভাবে দেবেন? যারা সালাফি না তাদের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কি কোন ভুমিকা আছে? ইসলাম ধর্মালম্বিরাই পৃথিবীতে জঙ্গিবাদের লালন-পালন করছে, এটা এখন প্রতিষ্ঠিত।

    মুসলিম দেশগুলো যদি স্পষ্টভাবে এই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে না দাঁড়ায়, তাহলে অদুর ভবিষ্যতে এ ধর্ম টিকিয়ে রাখা যাবে কিনা সন্দেহ আছে।

    1. আমার পোস্টে আমি কোন কিছুকেই
      আমার পোস্টে আমি কোন কিছুকেই উড়িয়ে দেই নাই। কাউকে অভিযুক্ত করা অথবা দোষমুক্ত করা কোনটাই আমার পোস্টের উদ্দেশ্য না। আপনার প্রশ্নগুলো তাই ঠিক প্রাসঙ্গিক না। অভিজিত রায়ের লেখার প্রেক্ষিতে আমি কিছু প্রশ্ন করেছি। কিছু তথ্য উপাত্ত এবং যুক্তি তুলে ধরেছি। আপনি চাইলে সেসবের খুত বের করতে পারেন, আমি উপকৃত হবো। আলোচনাও ফলপ্রসু হবে। আর মুসলমানদের মধ্যে যারা সালফি না তাদের টেরোরিজমের বিরুদ্ধে কোন ভুমিকা নাই এটা কিভাবে বললেন? আমার পোস্টেই আমি মুসলিম কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তির উদাহরণ দিয়েছি। আর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশগুলোর বড় অংশইতো জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশ তার একটি উদাহরণ। এই মুহুর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিলে আইসিসের উপর যে হামলা শুরু হয়েছে তাতেও মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অংশ নিচ্ছে।

    1. অভিজিত মহাশয় থাকেন কোথায়?
      অভিজিত মহাশয় থাকেন কোথায়? সেদেশের জীবনযাত্রা কেমন? চাকুরি করেন কোন সাম্যবাদি কোম্পানিতে? বলতে পারবেন?

      আজকের আইএস, লাদেন, তালেবান কাদের সৃষ্টি? সিরিয়ায় আইএস’র ঘাটিতে হামলা চালানোর অভিযানে সিরিয়াকে নেওয়া হলো না কেন? ভাম ভাড় তারাই, যারা পুঁজিবাদি ব্যবস্থার মধ্যে থেকে পুঁজিবাদের সকল সুবিধা ভোগ করে সাম্যবাদের কথা বলে।

  3. @পারভেজ আলম, কেন শুধু ইসলাম
    @পারভেজ আলম, কেন শুধু ইসলাম আর মুসলমান সারা দুনিয়াতে জিহাদী হচ্ছে? লেখার মূল সুর “ইহা সহি ইসলাম নহে”!নবী জীবনী, হাদিস আপনার বক্তব্যকে নয়, বরং অভিজিৎ রায়কেই সমর্থন করছে। যাই হোক, একদল লোক (সেক্যুলার!) ইসলামকে ডিফেন্স করতেই আসবেই যে জিহাদ আসলে উগ্রপন্থি যারা নবীর তরিকা বিরোধী একটা শাখা…।

    1. নবীওতো জিহাদ জিহাদ করে করে
      নবীওতো জিহাদ জিহাদ করে করে ইসলামি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছে। ধর্মের নামে উগ্র মুসলমানরা যা শুরু করেছে কিছু দিন পর দেখবেন মুসলমানদের অবস্থা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ও পুর্ববর্তী সময়ে ইহুদিদের যে অবস্থা হয়েছিল সেই রকম হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ মুসলমানদের ধরে ধরে পেটাবে।

    2. আমি কোথাও বলি নাই কোনটা সহি
      আমি কোথাও বলি নাই কোনটা সহি এবং কোনটা সহি না। আমি খালি একটা বস্তব চিত্র তুলে ধরেছি মাত্র। সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানরা ইসলাম বলতে যা বুঝাইতে চায় সেটা না মেনে আমরা সেকুলাররা সংখ্যালঘু কিছু জিহাদীদের ইসলামকেই কেনো সহি ইসলাম বলে প্রচার করবো সেটা ছিল আমার প্রশ্ন।

      নবী জীবনী ও হাদিস আমার কোন বক্তব্যকে নয় এবং অভিজিত রায়ের কোন বক্তব্যকে সমর্থন করে একটু বুঝিয়ে বলবেন কি? আমি বুঝতে পারি নাই।

      1. সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানরা ইসলাম

        সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানরা ইসলাম বলতে যা বুঝাইতে চায় সেটা না মেনে আমরা সেকুলাররা সংখ্যালঘু কিছু জিহাদীদের ইসলামকেই কেনো সহি ইসলাম বলে প্রচার করবো সেটা ছিল আমার প্রশ্ন।

        আপনার এই বক্তব্য বিভ্রান্তকর। সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমান ইসলাম বলতে কি বুঝায়? তারা যা-ই বুঝাক, ইসলাম আসলে কি সেটা বললে সমস্যা কোথায়? আপনি সাধারণ মুসলমানকে জিজ্ঞেস করে দেখবেন, তারা নবী মুহাম্মদ সর্বমোট কয়টি বিয়ে করেছেন বলতে পারবে না। আয়েশার বয়স কত ছিল বিয়ের সময় বলতে পারবে না। কুরাইশ বাণিজ্য কাফেলায় হামলা ও মদিনায় বাণিজ্য কাফেলায় হামলা করাই ছিল মুসলিমদের জীবিকা, ইহুদী বস্তিতে নবীর নেতৃত্বে হামলা, গণিমতের মাল, যুদ্ধবন্দীদের ধর্ষণ- এসব তাদের কাছে সম্পূর্ণ অজানা। তো এই অজানা থেকে ইসলাম ও নবী সম্পর্কে জ্ঞানকেই আমাদের “সেক্যুলারদের” সহি বলে প্রচার করতে হবে? মানে রাখবেন, আপনি যাদের সংখ্যালঘু জঙ্গি-জিহাদী বলছেন তারা এখন মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। তাদের সঙ্গে লড়তেই বেরিয়ে পরছে প্রকৃত ইসলাম। শাক দিয়ে তো আর মাছ ঢাকা যাবে না। অভিজিৎদার মুক্তমনা ব্লগ সাইটে খোদ আমাকেই ইসলামের এই দুষিত দিক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে একদল “মডারেট নাস্তিকদের” রোষাণলে পরতে হয়েছিল। আমাদের এক গোদের উপর বিষয় ফোড়া হয়ে দাড়িয়েছে এইসব “মডারেট সেক্যুলার”, :মডারেটর নাস্তিক” নিয়ে! আগে শুধু “মডারেট মুসলিম” ছিল, এখন যোগ হয়েছে এই আপদগুলো। তাদের সবার কাছেই ইসলামের সমালোচনাকারী মাত্র- “ইসলাম বিদ্বেষী”! যখন এই কমেন্ট লিখছি তখন জানতে পারলাম আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের কয়েকজন সদস্য গ্রেফতার হয়েছে যারা সিরিয়ায় যাচ্ছিল জিহাদ করতে! ভাই, সামনে খুব খারাপ সময় অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। অন্ধ হলেই প্রলয় বন্ধ হয় না। ইসলামকে সবার কাছে প্রকৃত স্‌রূপে প্রকাশ না করলে এর প্রভাব থেকে মানুষের মুক্তি নেই। কারণ আপনার ভাষায় সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম যারা উদারবাদী- (আসলে তারা ধর্মের বিষয়ে অন্ধ) এরাই ধর্মের প্রতি দুর্বল বলে দিন শেষে সেই জিহাদীদের প্রতি টানটা দেখায়। ফলশ্রুতিতে জঙ্গিবাদ প্রশ্রয় পেতে থাকে সমাজ থেকেই।… আশা করছি কি বলতে চাইছি বুঝতে পেরেছেন..খ

        1. আপনার এই বক্তব্য বিভ্রান্তকর।

          আপনার এই বক্তব্য বিভ্রান্তকর। সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমান ইসলাম বলতে কি বুঝায়? তারা যা-ই বুঝাক, ইসলাম আসলে কি সেটা বললে সমস্যা কোথায়?

          বক্তব্য কোথায় পেলেন? আমিতো প্রশ্ন করেছি।

          আপনার কথা শুনে যা বুঝতে পারছি তা হলো যে ‘সহিহ ইসলাম’ কি জিনিস তা আপনি জানেন, এবং আপনি মানেন যে আইসিসের ইসলামই সহিহ ইসলাম।

          বাস্তব সত্য হচ্ছে, জগতে যতো গ্লোবাল ধর্ম আছে তার কোনটারই কোন একক মনোলিথিক রূপ নাই। আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে ইসলাম ধর্ম আকাশ থেকে নাজিল হয়েছে, তাইলে ভিন্ন কথা। তাইলে, আপনি ভাবতে পারেন যে ইসলাম ধর্মের একটা একক, মনোলিথিক অর্থাৎ ‘সহিহ’ চেহারা আছে। অথচ বাস্তবে এমন কোন একক ‘সহিহ’ ইসলামের অস্তিত্ব নাই। বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন মজহাবের মানুষ সহিহ ইসলাম বলতে বিভিন্ন রকম ধারণা রাখে। কারণ ধর্ম তৈরি হয়, বিকোশিত হয় সমাজের মাঝে, তা আকাশ থেকে নাজিল হয় না। স্থান এবং কালের সাথে এডপ্ট করে ধর্মের বিস্তার হয়। এসব আমার কথা না। ধর্মের এন্থ্রোপোলজিকাল ব্যাখ্যা।

          এখন আপনি যদি মুসলমান হইতেন, যদি আল্লাহ ও রাসুলে বিশ্বাস করতেন, যদি কুরান হাদিসকে আইন হিসাবে অনুসরণ করতেন তাইলে ‘সহিহ ইসলাম’ সম্বন্ধে আপনার একটা বক্তব্য থাকা স্বাভাবিক ছিল। যেখানে আপনি এসবের কিছুতেই বিশ্বাস করেন না বা সেই অনুযায়ি জীবন যাপনও করেন না, সেখানে আপনি সহিহ ইসলাম বলতে একটা কিছুর প্রচার করেন কিভাবে? সেই প্রচারেও আপনি জিহাদীদের ইসলামকে প্রচার করেন, মডারেট বা শান্তিপ্রিয়দের না।

          ঠিক কি উদ্দেশ্যে করেন আমি জানি না। আইসিসের ইসলামই সহিহ ইসলাম বলে আপনি বা অন্যরা যারা আপনার মতো করেন আপনারা আসলে কি হাসিল করতে চান? সব মুসলমানের কি এখন আইসিস এবং আপনাদের ঘোষনা অনুযায়ি সহিহ ইসলাম মেনে ‘টেরোরিস্ট’ হয়ে যেতে হবে? তারা মডারেট অথবা শান্তিপ্রিয় থাকলে কি সমস্যা?

          আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে মডারেট মুসলমান হওয়া দোষের বিষয়। ইউরোপে একসময় ক্যাথলিক চার্চ অত্যন্ত ক্ষমতাবান ছিল, মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞান সবকিছুর সাথেই ছিল তার শত্রুতা। প্রোটেস্টেন্টসহ বিভিন্ন সংস্কারবাদী ও পরবর্তি সময়ের শিক্ষিত মডারেট খ্রিষ্টানদের প্রভাবে খ্রিষ্টান ধর্ম এখন আর মধ্যযুগে আটকে নাই, আধুনিক হয়ে গেছে। এখন মুসলমানরা যদি তাদের ধর্মের আধুনিক ব্যাখ্যা দাঁড় করাইতে চায়, তাতে আপনার আমার তো কোন সমস্যা হওয়ার কথা না।

  4. মাথায় নষ্ট। এদের খালি কাজ
    মাথায় নষ্ট। এদের খালি কাজ নেই, কেম্নে ইসলাম আর মুসলিম দের সন্ত্রাসী বলা ও বানানো জাবে। আর দুই চার জনের কাজ দিয়ে এরা ইসলাম আর মুস্লিম দে মেপে দেখে। আফসুস তো এখানেই।

    ।।।

  5. কুরনের যেসব আয়াত মুহাম্মদের

    কুরনের যেসব আয়াত মুহাম্মদের সমসাময়িক কালে বিভিন্ন যুদ্ধের সময় নাজিল হয়েছিল সেইসব আয়াতকে বর্তমান দুনিয়ার অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্যে ব্যবহার করা যাবে, এই প্রসঙ্গেও দুনিয়ার অধিকাংশ মুসলমান আলেম একমত হবেন না।

    এখানে প্রশ্নটা মুসলমান্ দের এক মত হবার বিষয়ে নয় । প্রশ্নটা হল স্বয়ং আল্লাহ কি করে এই ধরনের যুদ্ধংদেহী আয়াত নাযিল করে যা পৃথিবীর শান্তি বিনষ্ট করতে পারে। আল্লাহর সীমাহীন জ্ঞান কি এই সত্যটুকু অনুমান করতে পারেনি যে তারই অনুসারীরা তারই নাযিল কৃত আয়াতের বিকৃত অর্থ করে এই সমাজের ধ্বংস টেনে আনতে পারে। এই ধরনের আয়াত কি আল্লাহর অস্তিত্ব কে সন্দেহের মুখে ফেলে দেয় না ? আর ঐ আয়াত যে শুধু ঐ যুগের ঐ সময়ের জন্য প্রযোজ্য ছিল এরকম কোন রেফারেনস কি আছে ?

    নব্বই দশকের আগেও সালাফিরা ছিল, কিন্তু তখনো তারা এতোটা জিহাদী হয়ে উঠে নাই। ইরাকে মার্কিন দখলদারিত্বের মধ্যেই আইসিসের জন্ম হয়েছে। তার আগে ইরাকে কুরানের লিটারাল ব্যাখ্যাকারি সালাফিরা ছিল বটে, কিন্তু তারা জিহাদী আইসিস ছিল না।

    আই এস নিয়ে মন্তব্য করেতে গেলে সবার আগে আইএস এ যোগদান কারীদের মনস্তত্ব , খুব শৈশব থেকে গড়ে উঠা তাদের আদর্শকে বিশ্লেষন করা প্রয়োজন । একটা শিশুকে যদি খুব ছোটবেলা থেকে ধর্মীয় বাণীর রেফারেনস দিয়ে অন্য ধর্মের প্রুতি ঘৃণা শেখানো হয় তাহলে আপনি কি করে তার কাছ থেকে শান্তিবাদী মনোভাব আশা করতে পারেন। আইএস একটি সুন্নিপন্থী সংগঠন যাদের আক্রোশের প্রধান টার্গেট মূলত শিয়া ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। তারা আমেরিকাকে যতটা ঘৃণা করে শিয়াদেরকে তার চেয়ে কম করে না। শিয়া আর সুন্নির বিরোধও নুতুন কিছু নয় ।কাজেই নব্বই দশকের আগেও সালাফিরা ছিল, কিন্তু তখনো তারা এতোটা জিহাদী হয়ে উঠে নাই,এই তথ্য সত্য নয়।১৫২৪ সালে ওটোমান সুলতানের নির্দেশে ৪০০০০ শিয়া কে হত্যা করা হয়।হ্যা এটা সত্য যে আই এস সহ জঙ্গীবাদ এর উত্থানের পিছনে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কিন্তু ধর্ম আর ধর্মীয় বাণীর ভূমিকাকে কোনভাবেই অস্বীকার করা যাবে না।

    1. আল্লাহর বিষয়টা আসল প্রশ্ন
      আল্লাহর বিষয়টা আসল প্রশ্ন কিভাবে হলো আমি বুঝতে পারলাম না ভাই। আমি কইতাছি বাস্তব দুনিয়ার মানুষের কথা, আপনি কোথা থেকে ‘আল্লাহ’কে ধরে আনলেন আমি বুঝতে পারলাম না। আমার এই পোস্ট নিঃসন্দেহে আস্তিকতা নাস্তিকতা অথবা আল্লাহর গুনাবলি বিষয়ক কোন পোস্ট না।
      আর রেফারেনন্সের কথা যদি বলেন, পোস্টের মধ্যেই বেশকিছু উদাহরণ দিয়েছি। একেবারে সমসাময়িক একটা খবর হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ার উলামা কাউন্সিল আইসিসের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছে। ভারতের দেওবন্দ এর আগে একবার টেরোরিজমের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছিল। জিহাদের বিপক্ষে যে আলেমরা কথা বলে তারা তো কুরানের আয়াত জেনেই বলে, তাই না? তাদের এই বিষয়ে নিজেদের কোন ব্যাখ্যা নাই তা কিভাবে ভাবছেন? সেই ব্যাখ্যা আপনার আমার অনেকক্ষেত্রে মনঃপুত নাও হইতে পারে। কিন্তু সে যদি টেরোরিস্ট না হয় এবং টেরোরিজমের বিরুদ্ধে হয় আপনের আমার তো তার ব্যাখ্যা নিয়া মাথা হওয়ার কথা না। আমাদের তো মাথা ব্যাথা হওয়া উচিত আইসিসের ব্যাখ্যা নিয়া। আমরা সেকুলাররা এই এন্টি টেরোরিস্ট মুসলমানদের বিরুদ্ধে গিয়ে জিহাদীদের পক্ষে কেনো দাঁড়াবো?

      অটোমান সুলতানরা কি সালাফি জিহাদী ছিল না কি? এই উদাহরণের সাথে নব্বই দশকের আগে সালাফিদের কম জিহাদী থাকার কি সম্পর্ক? নব্বই দশকের পর থেকেই টেরোরিজমের দুনিয়ায় সালাফি জিহাদীদের উত্থান হয়েছে এটা একটা ঐতিহাসিক ফ্যাক্ট। আপনি সালাফি জিহাদিজম নিয়ে অনলাইনে ঘাটলেই পাবেন। সালাফিদের কট্টর ভাবধারা ইবনে তাইমিয়ার সময় থেকেই আছে, আবদুল ওয়াহাবের সময় আরো বৃদ্ধি পেয়েছে, আর সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের বেশকিছু খাতাকলমে সেকুলার রাষ্ট্র ভেঙে পরায় সেই ভেকুয়ামের মধ্যে সালাফিদের কট্টরপন্থা জঙ্গিরূপ ধারণ করেছে।

      1. আল্লাহর বিষয়টা আসল প্রশ্ন

        আল্লাহর বিষয়টা আসল প্রশ্ন কিভাবে হলো আমি বুঝতে পারলাম না ভাই। আমি কইতাছি বাস্তব দুনিয়ার মানুষের কথা, আপনি কোথা থেকে ‘আল্লাহ’কে ধরে আনলেন আমি বুঝতে পারলাম না।

        আপনি ধর্মীয় কট্টর পন্থা ব্যাখ্যা কর ছেন ,ধর্মীয় মতবাদীদের শ্রেণি বিভাগ করছেন, আকার ইঙ্গীতে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে কিছু যুদ্ধংদেহী আয়াত শুধু বিশেষ কিছু সময়ের জন্য প্রযোজ্য অথচ এই আয়াত গুলোর নাযিল কর্তা ,ধর্মের মূল ভিত্তি কে খুজে পাচ্ছেন না , হাসালেন ভাই

        আর রেফারেনন্সের কথা যদি বলেন, পোস্টের মধ্যেই বেশকিছু উদাহরণ দিয়েছি। একেবারে সমসাময়িক একটা খবর হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ার উলামা কাউন্সিল আইসিসের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছে।

        রেফারেনস বল তে আমি কোর আন হাদীসের রেফারেনস বুঝিয়েছি।কোরান হাদীস থেকে দেখান যে ঐ যুদ্ধংদেহী আয়াত গুলো শুধু ঐ সময়ের জন্য প্রযোজ্য। ১৪০০ বছর পর কোন উলামা কাউন্সিল কি বলল না বলল তাতে আই এস, আল কায়েদাদের কিছু যায় আসে না

        1. আপনি আবারো ভুল করছেন। কুরানের
          আপনি আবারো ভুল করছেন। কুরানের আয়াত বিশেষ সময়ের জন্যে প্রযোজ্য না কি সবসময়ের জন্যে প্রযোজ্য সেই বিষয়ে আমি কোন মতামত দেই নাই। এসব বিষয়ে আইসিস এবং অন্যান্য মুসলমানদের চিন্তায় ও ব্যাখ্যায় যে পার্থক্য আছে তা উল্লেখ করেছি মাত্র। কুরানের বানী বিশ্বাসী মুসলমানরা কিভাবে ব্যাখ্যা ও অনুসরণ করবে সেটা তাদের বিষয়। আপনার আগ্রহ থাকলে আপনি তাদের ব্যাখ্যা বিশ্লেষ পড়ে দেখতে পারেন। আমার লেখায় যেসব সংগঠন ও ব্যক্তির কথা আছে তারা কিভাবে কুরান হাদিস ব্যাখ্যা করে খোঁজ নিয়েও দেখতে পারেন। কুরানের আয়াত ঠিক কোন কোন সময়ে কি কারনে প্রযোজ্য সেই বিষয়ে যেহেতু আমি নিজের কোন মতামত দেই নাই, তাই এই বিষয়ে আমার কোন কিছু প্রমান করারও দায় নাই। আপনি একেবারেই ভুল দাবি নিয়ে এসেছেন। আমার প্রধান প্রশ্ন হলো বাংলাদেশের কোন কোন সেকুলার ব্যক্তি ইসলাম বিষয়ে মডারেট এবং এন্টি টেরোরিস্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ব্যাখ্যার চেয়ে আইসিসের মতো টেরোরিস্ট সংগঠনের ব্যাখ্যাকেই কেনো সাপোর্ট করছে?

          আল্লাহ সম্পর্কে আমার আগের অবস্থানই জারি থাকলো। আপনি হয়তো এমন কোন আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন যিনি সাত আসমানের উপর থেকে লাওহে মাহফুজে কুরান সংরক্ষিত রেখেছিলেন যা পরে সহস্ত্র ডানাওয়ালা জিবরাইলের মাধ্যমে নবী মুহাম্মদের কাছে নাজিল হয়েছে। এখন সেই আল্লাহ ভালো না মন্দ তা নিয়া আপনের মাথা ব্যাথা থাকলেও আমার একেবারেই নাই। আমি একেবারেই বাস্তবতা নিয়া কথা বলতে আগ্রহি। মেটাফিজিক্স অথবা ফিলোসোফি নিয়া আলাপ করতে চাইলে অন্য পোস্ট দিতাম, সমসাময়িক রাজনীতি নিয়া আমি কখনো মেটাফিজিকাল আলাপ করি না। ধন্যবাদ।

          1. আমার প্রধান প্রশ্ন হলো

            আমার প্রধান প্রশ্ন হলো বাংলাদেশের কোন কোন সেকুলার ব্যক্তি ইসলাম বিষয়ে মডারেট এবং এন্টি টেরোরিস্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ব্যাখ্যার চেয়ে আইসিসের মতো টেরোরিস্ট সংগঠনের ব্যাখ্যাকেই কেনো সাপোর্ট করছে?

            এক্ষেত্রে আমারো একই জিজ্ঞাসা।

  6. পারভেজ আপনার আগ্রহ উদ্দীপক
    পারভেজ আপনার আগ্রহ উদ্দীপক লেখাটি পড়লাম। একটি প্রশ্ন এবং দুইটি পরামর্শ আপনার জন্যে। যদি পজিটিভলি নেন তাহলে বলবো,পরামর্শ দুটি হোল –

    ১ – অনুগ্রহ করে “ভাইরাস” নিয়ে খুব সাধারন মানের একটা মেডিক্যাল বা বায়োলজিক্যাল আর্টিকেল পড়ুন, অর্থাৎ ভাইরাস মানব দেহে কি করে, এবং ভাইরাস এর চিকিতসা কি ইত্যাদি নিয়ে।

    ২- ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এই প্রভাবকগুলো থাকার কারনে আইসিস এর সন্ত্রাস গুলোকে শুধু ধর্মীয় উৎস থেকে ব্যাক্ষ্যা করাটা ঠিক নয়, ভালো কথা। সারা পৃথিবীতে শিয়া এবং সুন্নি দের পরস্পরের হত্যাকাণ্ড কে একটু “ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক” প্রভাবকগুলো দিয়ে কিভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, তা একটু বললে উপকৃত হতাম।

    এবারে প্রশ্ন টি করি –
    ৩ – পৃথিবীতে কে আসলে প্রকৃত মুসলমান, তা কে নিশ্চিত করবেন? আপনি? ব্যক্তিগত ভাবে নেবেন না, আমি জানতে চাচ্ছি, যদি সেটা আপনি হন, তাহলে আপনার এই লেখাটি আমি সত্যিই বাধাই করে রাখবো, এবং আমার সকল ভাবনা এই লেখাটিকে ভিত্তি করে গড়ে তোলার চেষ্টা করবো। যদি আপনি না হোন, তাহলে কে? ভারতে? ইন্দনেশিয়ার? পাকিস্তানের? মিশরের? সৌদি আরবের? কিম্বা বাংলাদেশের কোনও পন্ডিত? মানে সালাফি – বা আরও অসংখ্য “ফি” দের মধ্যে কাকে আসলে রেফারেন্স ধরে ইসলামী ধর্ম নিয়ে আলোচনা করা যাবে? এবং সেটাই যে সঠিক তা কে নিশ্চিত করবেন?

    আমি খুবই অশিক্ষিত ধরনের পাঠক, দুঃখিত এই ধরনের হালাকা এবং “সিলি” প্রশ্ন করার জন্যে, কিন্তু খুবই উপকৃত হবো, যদি আপনার সময় হয় আমার কমেন্ট টির দিকে নজর দেয়ার।

    ধন্যবাদ।
    ভালো থাকবেন। লেখার জন্যে আবারো অভিনন্দন।

    1. ১। জ্বি আচ্ছা পড়বো। কিন্তু
      ১। জ্বি আচ্ছা পড়বো। কিন্তু তাতে কি আমি ‘টেরোরিজমে’র ভাইরাসের চিকিৎসা সম্বন্ধে অবগত হতে পারবো?
      ২। শিয়া বনাম সুন্নিদের সংঘাতের অর্থনৈতি, ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারন নিয়ে এই ব্লগে আমার সাম্প্রতিক কিছু ধারাবাহিক লেখায় আমি লিখেছি। যেমন ‘খলিফার কালো পতাকা ও মাওয়ালী মুসলমানের গল্প’ লেখাটিতে আব্বাসিয় বিদ্রোহে শিয়াদের সমর্থনের অর্থনৈতিক কারন এবং অনারবদের মধ্যে শিয়া মতাদর্শের জনপ্রিয়তা এবং সুন্নি আরবদের রেসিজম ইত্যাদি বিষয় সম্বন্ধে লিখেছি। গেম অফ ইসলামিক থ্রোন সিরিজটি যেটি এখনো শেষ হয় নাই, সেখানে শিয়া বনাম সুন্নি মেরুকরণের একেবারে শুরুর দিকের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে লিখেছি। পড়ে দেখতে পারেন। এই সিরিজটা শেষ করে, আলাদাভাবে শিয়া থিওলোজি ও তার রাজনীতি নিয়ে একটা লেখা লিখবো। তাতেও বিস্তারিত বলার চেষ্টা করবো। পড়ে দেখলে খুশি হবো।
      ৩। পৃথিবীতে কে আসলে প্রকৃত মুসলমান তা নির্নয় করা আমার কাজ নয়। এই লেখায় আমি তা করিও নাই। এটা মুসলমানদের কাজ, অনেক মুসলমানের মতেই এটা আসলে আল্লাহর কাজ। আসল ব্যাপার হচ্ছে, কোনটা সহিহ ইসলাম তা নিয়া আপনার আমার মতো ব্যক্তিদেরতো ফাইট করার কথা নয়। আর এই তর্কে যদি কাউকে সাপোর্ট দিতেই হয় তাইলে এন্টি টেরোরিস্ট ও শান্তিপ্রিয় মুসলমানদেরকেই সাপোর্ট দেয়া উচিত, তাই না?। না কি টেরোরিস্টদের?

      1. কিন্তু আপনি “সংখ্যা গরিষ্ঠ
        কিন্তু আপনি “সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলমান” বিষয়টির অবতারনা করছেন, সেটা দিয়ে আসলে কি অর্থ করছেন? মুসলমান তো মুসলমানই তাই না? … টেররিস্ট কাজের বিপরীতে সমর্থন দেয়া আর কারা সেসব করছে সেটা সরাসরি বলার মধ্যে কি কোনও বিরোধ আছে? অর্থাৎ আমি যদি বলি ধর্মীয় সন্ত্রাসী কাজ গুলোর বেশিরভাগ করছে মুসলমান রা এবং তাদের ধর্মে এর উৎস আছে, তাঁর মানে কি এইযে কোনও মুসলমান যদি ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ এর বিরোধিতা করেন, আমি তাঁর সাথে একমত হবনা?

        মুশকিল টা হচ্ছে ধরমীয় সন্ত্রাসবাদ কারা করছে, সেই বিষয়ে বলার জন্যে নাস্তিক হতে হয়না,জুক্তিবাদী নির্মোহ মানুষ হতে হয়। সেটারই বড়ো অভাব।

        1. আপনে প্রথম তিন লাইনে কি
          আপনে প্রথম তিন লাইনে কি বলেছেন আমি বুঝতে পারি নাই। যেহেতু তারপরে অর্থাৎ হিসাবে বাকিটা লিখেছেন তাই প্রথম তিন লাইন না বুঝলেও মনে হচ্ছে ক্ষতি নাই, অর্থ তো পরে বলেই দিসেন।

          কোন মুসলমান যদি বলে যে যারা সন্ত্রাস করছে তারা মুসলমান না অথবা বিপথগামী মুসলমান এবং জোর গলায় বলে যে তার ধর্মে সন্ত্রাসের উৎস নাই, আর আপনে যদি তার বিপরীত বলেন তাইলে আপনি তার সাথে একমত কিভাবে হবেন?

          সন্ত্রাস মুসলমানরা করছেনা, এমন কিছু কি আমি কোথাও লিখেছি? অভিজিৎ রায়ের লেখা ধরেই যা বলার বলেছি। অভিজিত রায় যেমন মুসলমানদের মধ্যে ক্লাসিফিকেশন করেছেন ‘লিটারাল ব্যাখ্যাকারি’ এবং ‘লোকাল মুসলিম’ আমি তার সেই ক্লাসিফিকেশনের সাথে একমত হয়ে মুসলমানরা কিভাবে এই ক্লাসিফিকেশনটা করে তা দেখিয়েছি।

  7. ছোট দুটি প্রশ্ন পারভেজ,
    ১ –

    ছোট দুটি প্রশ্ন পারভেজ,

    ১ – পবিত্র কুরআনে কি মুসলমানদের মধ্যে কতটি গ্রুপ এবং কে সঠিক, কে সঙ্খ্যালঘু আর কে সংখ্যাগুরু এমন কোনও ব্যাখ্যা আছে? একটু বলে দেবেন কোথায় আছে? আমার ধারণা কুরআন বিষয়ে আপনার পাঠ আমার চাইতে অনেক ভালো, তাই জানতে চাচ্ছি।

    ২ – আল কায়েদা এবং আইসিস ছাড়া পৃথিবীতে কি মুসলমানদের দ্বারা আর কোনও সন্ত্রাসবাদ এর ঘটনা ঘটেছে? ৫০ কিম্বা ৬০ বা ৭০ এর দশকে?

    আবারও বলছি, খানিকটা “সিলি” প্রশ্ন করছি, আমার অজ্ঞানতার কারনেই। বিনয় করছি সেজন্যে।

    1. ১। জ্বি না, পবিত্র কুরানে এই
      ১। জ্বি না, পবিত্র কুরানে এই বিষয়ে কিছু নাই। থাকার কথাও না। কিন্তু এই প্রশ্নের প্রাশঙ্গিকতা কি?

      ২। জ্বি ঘটেছে। পঞ্চাশের দশকের আগেও ঘটেছে। কিন্তু তা কিভাবে প্রাশঙ্গিক?

      1. তাহলে আপনি কেনও আজকে মুসলমান
        তাহলে আপনি কেনও আজকে মুসলমান কে “সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলমান” বলে সেগমেন্ট করছেন? বলবেন? সালাফিরা কি মুসলমান? যদি তারা মুসলমান না হন, কে বা কারা সেটা নিশ্চিত করবে? কুরআনে তো এ বিষয়ে কিছু নেই?

        1. অনেকদিন পর এই পোস্টটাতে
          অনেকদিন পর এই পোস্টটাতে প্রকৃত ব্লগিং এর মজা পাচ্ছি। মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যে যুক্তির মাধ্যমে প্রকৃত ব্লগিং এর মজা পাওয়া যায়।

          1. চমৎকার একটা বিষয় নিয়ে লেখার
            চমৎকার একটা বিষয় নিয়ে লেখার জন্য পারভেজ ভাইকে ধন্যবাদ। আলোচনার মাধ্যমে প্রকৃত বক্তব্যটা উঠে আসুক। ধর্মান্ধ এবং মুক্ত জ্ঞান চর্চাকারীদের মধ্যে পার্থক্য এখানেই। ধর্মান্ধরা তলোয়ারের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে আসে, প্রগতিশীলরা যুক্তির মাধ্যমে।

        2. বিলিভ মি ভাই, আপনার এই প্রশ্ন
          বিলিভ মি ভাই, আপনার এই প্রশ্ন পড়ে আমি তব্দা খেয়ে গেছি। আপনি বর্তমান দুনিয়ার একটী বাস্তব সমস্যার উত্তর আমাকে কুরান থেকে খুঁজতে বলছেন।

          ভাই, আপনার প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ। এসব নিয়ে তর্ক চালাতে ভালো লাগছে। কিন্তু আমার মনে হয় আমার পোস্টের কোন অংশের কোন বক্তব্যে ঠিক কি ভুল বা সমস্যা আছে সেই বিষয়গুলো নিয়ে যদি আলোচনা করতেন তাহলে ভালো হতো। অথবা অভিজিত রায়কে যে প্রশ্নগুলো করেছি তার কোন উত্তর যদি আপনার নিজের দেয়ারা ইচ্ছা থাকে তাও দিতে পারেন। ধন্যবাদ।

          1. অভিজিত রায় কে করা প্রশ্ন
            অভিজিত রায় কে করা প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেবার দায় এবং জ্ঞান কোনটাই আমার নেই পারভেজ। কিন্তু একটি বিষয় খুব ই পরিষ্কার, তা হচ্ছে, আপনি অভিজিতের নামে যা লিখেছেন এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে লড়ছেন, সেখানে বেশ ভালো অসচ্ছতা আছে। আমি অসচ্ছতা আছে বলেছি, অসততা বলিনি। সেকারনেও আরও এই লেখাটি তাঁর গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে, দুর্ভাগ্য জনক ভাবে। এটা অনেকটা হাওয়ায় ছুরি মারার মত অবস্থা। ভালো থাকবেন।

          2. যদি আপনার সময় হয়, অভিজিতের
            যদি আপনার সময় হয়, অভিজিতের পুরো লেখাটিকে সামারাইজ করেন, যে লিস্টি টা আপনি আপনার মতো করে লিখেছেন, সেখানে “কোট – আন কোট” ব্যবহার করে অভিজিত কে উল্লেখ করুন, তারপরে অভিজিত কে সমালোচনা করুন, প্রশ্ন করুন, যা খুশি করুন, সেটাই সঠিক পথ। আর একটা বিষয়, অভিজিত এর লেখাটি টি দেখুন, তিনি তাঁর প্রায় সকল পয়েন্ট এর শেষে একটি করে ব্র্যাকেট ব্যবহার করেছেন, মানে রেফারেন্স, সম্ভব হলে আপনার লেখাতেও তা করুন, সেটা অধিক মান সম্মত। ভালো থাকবেন।

      2. “কোন এক অদ্ভুত কারনে অভিজিৎ
        “কোন এক অদ্ভুত কারনে অভিজিৎ রায় মনে করেন যে দুনিয়ার অধিকাংশ মুসলমানের ইসলাম সঠিক ইসলাম নয়, বরং সালাফি জিহাদী আইসিসের ইসলামই সঠিক ইসলাম।” এটা অভিজিত ঠিক কোথায় বললেন পারভেজ? বলবেন?

  8. ভারতবর্ষে মুসলমানরা কি
    ভারতবর্ষে মুসলমানরা কি করেছিল? বিভিন্ন মুসলমান শাসকদের সময় খুলি দিয়ে তৈরি দেয়াল/স্তম্ভের মৃত মানুষরা কোন ধর্মের ছিল। হারেমের নারীরা কোন ধর্মের ছিল? জানি এসব ইসলামবিদ্বেষী প্রশ্নের উত্তর দেয়া ঠিক নয়।
    তারপরও বলি, কে সাচ্চা মুসলমান, কোনটি সাচ্চা ইসলাম তা জানার জন্য মুসলমানদের দিকে তাকাবো কেন? কোরান কি জন্য আছে? আমার জানা মতে ইসলামে nothing personal, আপনার ব্যক্তিগত ভাবনার কোন মূল্য নেই। টেক্সটে কি আছে, সেটাই বিবেচ্য বিষয়। আপনার কি ধারণা, যারা টেক্সটের বাইরে এক পা এগিয়েছে, তাদের মুসলমানত্ব অক্ষুন্ন আছে?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 1 =