অভিজিৎ রায়ের কাছে যা চাইলাম, আর যা পাইলাম

আমি অনলাইনে কোন তর্ক বিতর্ক অথবা ক্যাচালে জড়ানো থেকে বিরত আছি অনেকদিন যাবৎ। তর্ক এবং ক্যাচালে অনেক সময় ও শ্রম দিতে হয়। আমার সময় এবং শক্তিতে কিছু লিমিটেশনের কারনে তাই ক্যাচাল এড়িয়ে চলি। তারপরও আমি অভিজিৎ রায়ের মতো একজন বড় মাপের লেখক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বের একটি লেখার সমালোচনা করেছি। সমালোচনাকে যাতে কেউ নিন্দা জ্ঞান না করেন সেই অনুরোধ রেখেছি। কিন্তু সমালোচনায় কঠোর হওয়া যাবে না, এমন কোন নিয়ম নাই। যতোক্ষন পর্যন্ত আমি তার লেখা ও বক্তব্যের বাইরে গিয়ে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমন করছিনা ততক্ষন পর্যন্ত আমি সমালোচক হিসাবে নিজের সততার দাবি করতে পারি। এতে তর্ক বিতর্ক হবে, জানতাম। কিঞ্চিত ক্যাচালও হইতে পারে, সেই আন্দাজ ছিল। মুক্তমনায় আরজ আলী মাতুব্বর পাঠাগারের সম্মেলনের সময় চাঁদাবাজি পোস্ট দিয়েছিলাম। অভিজিৎ রায় তখন যে আমাদের পাঠাগারে চাঁদা দিয়েছেন এই ঘটনাটি ইতিমধ্যে নিশ্চয় আপনারা সবাই অভিজিৎ রায়ের মাধ্যমে একাধিকবার অবগত হয়েছেন। অভিজিৎ রায়ের সাথে আমার কারণে পাঠাগারের সম্পর্ক খারাপ হলে পাঠাগারের অন্যান্য কার্যনির্বাহী সদস্যরা আমার উপরে ক্ষুন্ন হইতে পারে সেই আশংকাও ছিল। তারপরেও আমি কিছুটা সময় ও শক্তি ব্যবহার করে লেখাটি লিখে ফেললাম। এতো ঝুকি নিয়েও লেখাটি যে লিখলাম, তার নিশ্চয় কোন উদ্দেশ্য আছে। আমি কি উদ্দেশ্যে লিখেছিলাম তা পরে বলি। আপাতত অভিজিৎ রায়ের একটি লেখা থেকে আমি আমার সম্পুর্ণ ভিন্ন একটি উদ্দেশ্যের কথা জানতে পারলাম।

অভিজিৎ রায়ের লেখা থেকে জানতে পারলাম, ফারাবি আমাকে হত্যার ফতোয়া জারি করার পর থেকে আমি ভয় পেয়ে গিয়ে ফারাবীর বিরুদ্ধে আর কিছু লেখি না। শুধু তাই নয়, তারপর থেকে নাকি ফারাবীর বিরুদ্ধে কেউ কিছু লিখলেই আমি তার বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পারি। আমি আরো জানতে পারলাম, তার লেখাটিতে ফারাবীর কথা আছে বলেই নাকি আমি এর সমালোচনা করেছি। শুধু তাই নয়, কেবল খুন হওয়ার ভয়েই আমি এসব কাজ করছি কি না তাতেও সন্দেহ আছে। কারন ফারাবীর সাথে নাকি আমার আত্মিয়তার সম্পর্কও থাকতে পারে। অভিজিৎ রায়ের মতো লেখকের আঙুল দিয়ে এই ধরণের ব্যক্তি আক্রমন বের হতে দেখবো সেই ধারণা আগে থাকলে অবশ্য এই লেখাটি লিখতাম কি না সন্দেহ আছে। অনলাইনের হাজার হাজার মানুষের মাঝে খুব কম মানুষই আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনে। অনেকেই এই ধরণের মিথ্যাকে সত্য ভেবে বসে থাকতে পারেন, তাই বাধ্য হয়ে এই ধরণের ছেলে মানুষি আক্রমনের জবাব লিখতে হচ্ছে। প্রথমত, ফারাবি আমাকে হত্যার ফতোয়া দেয়ার আগেও আমি ফারাবীকে নিয়ে তেমন কিছু লিখেছি বলে মনে পরে না। ফারাবী একটি জীবন্ত কার্টুন চরিত্র হিসাবে বাঙলার অনলাইন নাস্তিক কূলের কাছে এককালে খুব জনপ্রিয় ছিল। তাকে নিয়ে হাসাহাসি, মাতামাতি করে এবং বহুক্ষেত্রে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে এখন তাকে বাঙলার অনলাইনের অপেক্ষাকৃত মধ্যযুগীয় চিন্তাধারার তরুণদের একজন ধর্মীয় নেতায় পরিণত করা হয়েছে। আমি ভেবেছিলাম, ফারাবী নেহাত একটি ভোদাই। পরে যখন সে রাজীবের জানাজা পড়ানো ইমামের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিলো তখন বুঝেছি সে একজন খারাপ ভোদাই। আরো পরে বুঝেছি, সে নেহত ভোদাই নয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সে যথেষ্ট চালাক। এইসব কিছুই আন্দাজ করেছি অনলাইনে ফারাবী ফেনোমেনা দেখে। ব্যক্তিগতভাবে আমি ফারাবির কোন পোস্টে অথবা ফারাবির কোন লেখা নিয়ে কখনো কিছু লেখি নাই। সে আমার ফ্রেন্ডলিস্টে নাই। আমি তাকে ইগনোর করার স্বিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু গত বছর বাংলাদেশের নাস্তিক ব্লগারদের যখন জেলে ঢুকানো হলো তার কিছুদিন পরে আমি ফারাবীকে আমার একটি স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছিলাম। সময়টা ছিল বাঙলার মুক্তমনা ও নাস্তিক ঘড়ানার ব্লগারদের জন্যে মহা দূর্যোগের। একটা বড় সংখ্যক ব্লগার সেই সময় লেখা বন্ধ করে দিসেন। ভয়ে অনেকের আঙুল দিয়ে তাদের স্বাভাবিক লেখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যেই ধরণের লেখার কারনে গ্রেফতার হওয়ার আশংকা আছে সেই ধরণের লেখা অনেকেই ধুম ধাম ড্রাফট করে ফেললেন। আমিও সামু ব্লগে আমার একটা লেখা ড্রাফট করলাম। যদিও নিখাদ স্যাটায়ার ছিল লেখাটা, কিন্তু বাংলাদেশে সেই সময় রসিকতার জায়গা ছিল না। সেই সময় অনেকে এমনকি অনলাইনে আসাই বন্ধ করে দিলেন। লিস্টে আমারো নাম ছিল, গ্রেফতার আমিও হইতে পারতাম। তবুও সেই সময় একটিভিজম এক চুল কমাইলাম না। আমরা তখন নিয়মিত ব্লগারদের মুক্তির দাবিতে ফেসবুকে, শাহবাগে, প্রেসক্লাবে, কোর্ট কাচারিতে আন্দোলন করে যাচ্ছিলাম। এইসব ইভেন্ট, ইভেন্টের আপডেট ইত্যাদিতে অনেকে কমেন্ট করতো আমি নাস্তিক ব্লগারদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করছি, কিন্তু ফারাবীর মুক্তির দাবি কেনো জানাচ্ছি না। ফারাবী মানুষ হত্যার ফতোয়া দিয়েছে, নাস্তিক ব্লগাররা সেইরকম কিছু করে নাই। সুতরাং এক পাল্লায় মাপার কোন উপায় নাই। কিন্তু তাদের পালটা যুক্তি ছিল যে ফারাবি কোন জামিন অযোগ্য অপরাধ করে নাই, সুতরাং তাকে অন্যায় ভাবে আটকে রাখা হয়েছে। শাহবাগ মুভমেন্টের সময় ‘রাষ্ট্রের কাছে ন্যায় বিচার’ চাওয়ার বিষয়টা মাথায় আছড় করেছিল। তাই একদিন একটি স্ট্যাটাসে নাস্তিক ব্লগারদের মুক্তি দাবির পাশাপাশি ফারাবীর নামও উল্লেখ করেছিলাম। এই ঘটনাটিকে ফারাবীকে বাঁচানোর চেষ্টা বলা যায় কি না জানি না। কিন্তু তখনো ফারাবী আমাকে হত্যার ফতোয়া দেয় নাই। এবং ফতোয়া দেয়ার পরে আমি কখনো তারে কোন কিছুতে বাঁচাইতে গেছি অথবা কেউ ফারাবীরে নিয়া কিছু লিখলে তার বিরুদ্ধে ঝাপায়া পরেছি এইটা ডাহা মিথ্যা অভিযোগ। অভিজিৎ রায় কার কাছে এই কথা শুনে লিখেছেন আমি জানি না। যার কাছেই শুনে থাকেন, এইরকম কিছু প্রমান করতে পারবেন না।

ফারাবী যেই সময় আমাকে হত্যার হুমকি দিল সেই সময়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবি বিষন্ন সময় পার করছিলাম। যারা আমার কাছের মানুষ তারা জানেন। যেমন আমার বন্ধু আসিফ মহিউদ্দীন জানেন। নিজের কাছে নিজের জীবন সেই সময় খুব মূল্যবান কিছু মনে হতো না। ফারাবীর হত্যার হুমকি আমি তাই যথেষ্ট নির্বিকার ভাবে গ্রহণ করেছিলাম। দূর্যোগের মুহুর্তে আমি ভয় পাই না কি মাথা গরম করি না কি ঠান্ডা মাথায় থাকি তাও আসিফ মহিউদ্দীন ভালো জানেন। রাজীব হায়দার খুন হওয়ার রাতের কথা মনে পরে গেলো। খুন হওয়ার একটু পরেই মোবাইলে ম্যাসেজ পেয়ে খবরটা জানতে পারলাম। খবরটা পেয়ে যথেষ্ট আতংকিত হয়েছিলাম। আমার সাথে ছিল তখন আসিফ মহিউদ্দীন আর অনন্য আজাদ। আসিফ খবর শুনেই মাথা খারাপ আচরণ করা শুরু করলো, সে তখন রাজীবের লাশের কাছে যাবেই যাবে। আসিফ তার কিছুদিন আগে হাসপাতালের বিছানা থেকে উঠেছে। ছুড়ির ঘা তখনো ঠিক মতো শুকায় নাই, ব্যান্ডেজ পরে ঘুড়ে বেরায়। এই পরিস্থিতি দেখে আমি দ্রুত মাথা ঠান্ডা করলাম। আসিফরে বুঝায়া মাথা ঠান্ডা কইরা অনন্যরে সহ একটা সিএনজিতে বাসায় পাঠায়া দিলাম। আমি তারপর আরো দুইজনরে সাথে নিয়ে বাসায় ফিরেছি। সেই সময় নিজের জীবনের ভয় যথেষ্ট ছিল। নানান রকম লিস্টে নাম দেখে বেশ কিছুদিন আতংক এবং সাথে লোকজন নিয়ে ঘুড়াফেরা করতাম। তারপর আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে গেলাম। যেহেতু বাংলাদেশেই থাকি এবং যেহেতু সরকারি প্রোটোকল পাই নাই, তাই এডপ্ট করে নিতে হয়েছে। ফারাবীর হত্যার হুমকি যখন পাইলাম তখন নিজের নির্লিপ্ততায় নিজেই অবাক হয়েছি। আজকে এইরকম একটি ব্যক্তিগত আক্রমন ও মিথ্যাচার সমৃদ্ধ একটি পোস্ট আমার বিরুদ্ধে দেয়া হলো এবং আসিফ মহিউদ্দীন সেই পোস্টটি শেয়ার দিলেন, এতে আমি আরো বেশি অবাক হয়েছি। আমি কোথায় থাকি, আমার আত্মিয় স্বজন কারা এবং আমি কার ভয়ে কি করতে এবং কি করা থেকে বিরত থাকতে পারি, সেটা আসিফের খুব ভালো জানার কথা। আসিফকে যখন গ্রেফতার করা হয়েছে, আক্রমন করা হয়েছে, কখনো ভয় পেয়ে তার পক্ষে দাঁড়ানো বন্ধ করেছিলাম কি না এটা তিনি ভালো জানেন।

যাই হউক, ফারাবী আমাকে হত্যার ফতোয়া দেয়ার কয়েক মাস পরে একটা ঘটনা ঘটেছিল। সে ফেসবুকে ম্যাসেজ করে আমার কাছে মাফ চাইলো, বললো সে ভুল করেছে। আমি তারে বললাম ভুল তো পাবলিকলি করছেন, ভুল স্বিকারও পাবলিকলি করা উচিৎ। সে করবে বলে চলে গেলো। এই কাজ করার মতো সততা তার আছে বলে আমার মনে হয় নাই। সে করেও নাই। আমিও বলা যায় তাকে প্রায় ভুলেই গেছিলাম। এই ঘটনাটি যে সত্য তার প্রমানসাপেক্ষে এই চ্যাটের স্ক্রিনশটটি দিচ্ছি। সাধারণত সুন্দরী মেয়েরা ফারাবীর সাথে চ্যাটের স্ক্রিনশট দিয়ে থাকেন। আমাকেও দিতে হতে পারে জানলে আমি অভিজিৎ রায়ের লেখার সমালোচনা করতাম কি না এখন ভাবছি।


আমাকে ভিন্ন কিছু লিখতে হবে বলে আশা করেছিলাম। অভিজিৎ রায়ের সাথে আমার এর আগেও দুইবার তর্ক হয়েছে। দুইটি তর্কই আমি উপভোগ করেছি। তখন এই ধরণের ব্যক্তিগত আক্রমন এবং মিথ্যাচারের মোকাবেলা করতে হয় নাই। এবার হবে তাও ভাবি নাই। অভিজিৎ রায় মিমতত্ত্বের উপর ভিত্তি করে টেরোরিজমের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। মিমতত্ত্বের মতো একটি কগনিটিভ সায়েন্সের থিওরি, যেটি এখনো সর্বজনের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় তার মাধ্যমে টেরোরিজমের মতো একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ফেনোমেনার ব্যাখ্যা দেয়া উচিত কি না সেই বিষয়ে আমার নৈতিক প্রশ্ন আছে। অতীতে বিজ্ঞানের নামে ইউজেনিক্সের মতো তত্ত্ব মানব সমাজের উন্নয়নে ব্যবহার করতে গিয়ে নাজি জার্মানি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবতার বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অপরাধ সংগঠিত করেছে। অভিজিৎ রায় মিমতত্ত্বের ব্যবহার করে টেরোরিস্টদেরকে ভাইরাস আক্রান্ত রোগী হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। শুধু সেখানে থামলেও চলতো। তিনি এই রোগীদের তুলনা করেছেন পরজীবী আক্রান্ত জোম্বিসম পিপড়াদের সাথে। জোম্বি পিপড়া তো খালি নিজেই মরে, অন্যদের মারে না। মুসলমানরা কুরান পড়ে ভাইরাস আক্রান্ত হলে এমন জোম্বি হয় যে আরো হাজার হাজার মানুষ মেরে ফেলে। এখন এই মুসলমান জোম্বিদের ব্যাপারে কি করা যায়। যারা দি ওয়াকিং ডেড দেখেন অথবা অন্যান্য জোম্বি মুভি দেখেছেন, তারা জানেন যে জোম্বিদেরকে কোন দয়া মায়া দেখাইতে নাই, এদেরকে শ্রেফ মাথায় গুলি করে মেরে ফেলতে হয়। জোম্বিদেরকে দয়া মায়া দেখাইতে গেলে আপনাকেই মরতে হবে। অভিজিৎ রায় এই মুসলিম জোম্বিদের দমন করার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নায়ক হিসাবে আশা করছেন। বারাক ওবামা ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলার কারনে তিনি মনঃক্ষুন্ন হয়েছেন। তিনি জোর গলায় দাবি করেছেন যে, আইসিস সহিহ ইসলামের পথেই আছে। যদিও উনি মেনে নিয়েছেন যে, দুনিয়ার অধিকাংশ মুসলমানরা শান্তিপ্রিয় এবং তারা আইসিসের মতো কুরানের লিটারাল ব্যাখ্যা করে না, কিন্তু তিনি পাশাপাশি এও দাবি করে গেছেন যে আইসিসের ইসলাম সহিহ ইসলাম। এইক্ষেত্রে দুনিয়ার অধিকাংশ মুসলমানরা যাই বলুক না কেনো, তিনি তা ধর্তব্য মনে করেন না। তিনি বরং সালাফি জিহাদীদের মতো কুরানের লিটারাল ব্যাখ্যাকে সঠিক ইসলাম বলে মনে করেন।

আমি এর সমালোচনা করে লিখেছিলাম। টেরোরিজমের মতো একটি সমস্যা যার কারনে প্রতিদিন নিরপরাধ মানুষ নিহত হচ্ছে তাকে শুধু ভাইরাসের বহিঃপ্রকাশ বললেও কথা ছিল। অভিজিৎ রায় এই রোগের চিকিৎসায় কোন মেডিসিনের কথা বলেন নাই। তিনি বরং ওবামার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আশা করেছেন। সমস্যাটি রাজনৈতিক, সমাধানটিও রাজনৈতিক হবে তাতে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু তিনি টেরোরিস্টদের বানিয়েছেন রোগী, এক্ষেত্রে তার কাছে কুরানই যথেষ্ট, রাজনীতির হিসাব করেন নাই। কিন্তু চিকিৎসা আশা করেন রাজনৈতিক। অথচ ইরাকে আইসিসের টেরোরিজমের উৎপত্তির পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পলিসি একটি প্রত্যক্ষ ভুমিকা পালন করেছে সেই ইতিহাসটি উনি ধর্তব্য মনে করেন না। আমি অভিজিৎ রায়ের মতো গুছিয়ে রেফারেন্স দিয়ে লেখি না বলে আমার লেখার মান কম হয় বলে আজকে মুহাম্মদ গোলাম সারওয়ার ভাই বলেছেন। মান কমার ভয়ে নয়, তবে বেহুদা তর্ক এড়ানোর জন্যে আমি সাম্প্রতিক সময়ের দুইটি টেরোরিজম সংক্রন্ত গবেষনার উল্লেখ করছি। একটি হলো অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সুইসায়েড টেরোরিজম ডাটবেজ’ প্রজেক্ট। অপরটি হচ্ছে ‘ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো’স প্রজেক্ট অন সিকিউরিটি অন টেরোরিজম’। দুইটি গবেষনাতেই আশির দশক থেকে এখন পর্যন্ত সংগঠিত আত্মঘাতি বোমা হামলাগুলার ডকুমেন্টেশন করা হয়েছে। প্রথম গবেষনার স্বিদ্ধান্ত হলো ধর্মীয় মৌলবাদের চেয়ে রাজনীতিই টেরোরিজমের উত্থানে প্রধান ভুমিকা পালন করেছে। দ্বিতীয় গবেষনার স্বিদ্ধান্ত হলো নব্বই শতাংস আত্মঘাতি বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে কোন না কোন ‘অকুপায়িং ফোর্স’এর উপস্থিতিতে। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে যারা খবর রাখেন তারা ভালোমতোই জানেন যে আইসিসের জন্ম হয়েছে একটি রাজনৈতিক ভ্যাকুয়ামের মাঝে এবং মার্কিন অকুপেশনের মাঝখানে। সাদ্দাম হোসেইনকে ক্ষমতাচ্যুত করার পাশাপাশি সেকুলার ইরাক রাষ্ট্রটিকেও শেষ করে দেয়া হয়েছে। সুন্নিরা পরিণত হয়েছে ইরাকের সমাজের একটি চাকড়ি বাকড়ি সামাজিক নিরাপত্তা বঞ্চিত দরিদ্র সম্প্রদায়ে। টেরোরিজমের সব সামাজিক এবং রাজনৈতিক ফ্যাক্টরগুলো উপস্থিত হওয়ার পরই ইসলামের পতাকা উড়িয়ে আইসিসের আবির্ভাব হয়েছে। কুর্দিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামও ইসলামের পতাকা উড়িয়ে শুরু হয়েছিল। এখন তারা একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের দিকে আগাচ্ছে। আইসিসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে মুখোমুখি লড়াইটি চালাচ্ছে নারী পুরুষের সম্মিলিত কুর্দি পেশমেগরা বাহিনী।

ইসলামী কুর্দিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রাম কিভাবে জাতীয়তাবাদী হয়ে গেলো এবং জাতীয়তাবাদী ইরাক কিভাবে টেরোরিস্ট খেলাফতে পরিণত হলো সেই প্রশ্ন আর নতুন করে অভিজিৎ রায়কে করতে চাই না। আমার আগের পোস্টেই অনেকগুলা প্রশ্ন ছিল যেগুলার উত্তর পাই নাই। আমি ভাবছিলাম মিমতত্ত্ব নিয়ে কিছু তর্ক করা হবে, ইসলাম প্রশ্নে এবং বর্তমান সংঘাতের দুনিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় একজন সেকুলারের ভুমিকা কি হবে তা নিয়া হয়তো আলোচনা করা হবে। কিন্তু অভিজিৎ রায় আমার সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে আমার ব্যাপারে কিছু মিথ্যা তথ্য প্রচার করলেন। তারপর তিনি, ইসলামের একেবারে প্রাথমিক যুগের ইতিহাস থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইতিহাসের বহু ঘটনা তুলে ধরে আগের সুরেই দাবি করে গেছেন যে আইসিসের সাথে সহিহ ইসলামের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। বুঝা যাচ্ছে যে, এইক্ষেত্রে আইসিস বিরোধী মুসলমানদের দাবি, অর্থাৎ যারা দাবি করেন যে আইসিসের ইসলাম সহিহ ইসলাম নয় তাদের দাবি তিনি কোন অবস্থাতেই মেনে নেবেন না। তিনি টেরোরিস্টদের দাবির সাথেই একমত থাকবেন। সবকিছু মিলিয়ে ক্যাচালটা যেইরকম হলো তাতে আমি নতুন করে ভিন্ন কিছু আশাও করছি না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩১ thoughts on “অভিজিৎ রায়ের কাছে যা চাইলাম, আর যা পাইলাম

  1. ভালো লিখেছো। বিতর্কটা অনুসরণ
    ভালো লিখেছো। বিতর্কটা অনুসরণ করছি। অভিজিৎ রায়ের কাছ থেকে এই বালসুলভ কর্মকান্ড আশা করিনি। তবে আমার পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সালাফি নাস্তিক্যবাদই প্রবাসী নাস্তিক গুরুদের গন্তব্য। কারণ লেখার মধ্যে একটু মিলিট্যান্সি ছাড়া তারা আর কী দিবেন? মাঠে নেমে যেহেতু কিছু করার নেই। এর মধ্য দিয়ে একটা অনলাইন গ্রুপ/ব্লক মেইন্টেইন করা।

    1. ধন্যবাদ আনিস। আমিও আশা করি
      ধন্যবাদ আনিস। আমিও আশা করি নাই। বিষয়টা শুধু মিলিটেন্সিতে সিমাবদ্ধ থাকলে বড় সমস্যা হতো না। সমস্যা হলো সাম্রাজ্যবাদের রাজনৈতিক ডিসকোর্সের মধ্যে ঢুকে পরাটা।

      1. চিন্তা কোনো মৌলিক বিষয় নয়।
        চিন্তা কোনো মৌলিক বিষয় নয়। এটা বস্তুর প্রতিফলিত রূপ। কিন্তু এই চিন্তাবিদেরা কেন পুঁজিবাদী আগ্রাসন ও সাম্রাজ্যবাদকে শনাক্ত করতে পারেন না? কেন তারা সমস্যার কেন্দ্রে বস্তুভিত্তিকে টেনে না এনে বরং ধর্মীয় চিন্তাকে বসিয়ে দেন? কারণ নিজেদের বস্তুবাদী দাবি করিলেও আদতে তারা বস্তুবাদী নন। অভিজিৎ রায় বলেন যে, সংশয় থেকে জ্ঞান আসে। অথচ আমি বুঝি যে, জ্ঞান আসে বস্তু থেকে, সংশয় একটা বিচারপদ্ধতি মাত্র। চিন্তার এই ভুল পদ্ধতি তথা ভুল মতাদর্শের জন্যই তারা বিশ্বব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতির গভীরে গিয়ে অনুসন্ধানে না নেমে সংশয় দিয়ে সিদ্ধান্ত খোঁজেন। এটাই তাদেরকে সাম্রাজ্যবাদের রাজনৈতিক ডিসকোর্সের মধ্যে নিয়ে ফেলেছে। মূল সমস্যাটা দর্শনে ও আরো স্পষ্ট করে বললে, চিন্তার পদ্ধতি তথা মতাদর্শে!

  2. পারভেজ আলম ভাই, আমি আপনারে
    পারভেজ আলম ভাই, আমি আপনারে কোন ধরণের ব্যক্তিগত আক্রমণের উদ্দেশ্যে অভিজিৎ দা’র লেখাটা শেয়ার দেই নাই। আমারও মনে হইছে অভিজিৎ দা’র লেখাটায় ব্যক্তিগত আক্রমণের অংশটুকু না থাকলেও চলতো, সেটুকু বাদ দিলেও লেখাটা পরিপুর্ণই হইতো। আমি আপনার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রাইখাই আপনার প্রতিক্রিয়া জানার জন্যেই লেখাটা শেয়ার করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অভিজিৎ দা’র বিশ্বাসের ভাইরাস বইটির কিছু অংশের সাথে আমি নিজেও একমত না। Avijit Roy রিচার্ড ডকিন্স এবং স্যাম হ্যারিসের কিছু সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ- বক্তব্য, যেমন ধর্মবিশ্বাসকে এক ধরণের ভাইরাস ধারণা করে মৌলবাদীদের ভাইরাস আক্রান্ত রোগী হিসেবে উল্লেখ করতে চেয়েছেন। এই বক্তব্যগুলো পাশ্চাত্যেও বহুল সমালোচিত এবং ডকিন্স, স্যাম হ্যারিসদেরও এই নিয়ে প্রচুর সমালোচনা শুনতে হচ্ছে। তবে সেই সমালোচনার মাত্রা এবং রূপ অন্য রকম, একেবারেই ভিন্ন আঙ্গিক থেকে। কিন্তু বিলক্ষণ জানি, কোরআন হাদিসের ভিন্ন ভিন্ন আধুনিক ও মানবিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন সমস্যার সমাধান তো নয় বটেই, বরঞ্চ শাক দিয়ে মাছ ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা। তবে এই ধরণের আলোচনাও পাশ্চাত্যে জনপ্রিয়, যে যারা ইসলামের মৌলবাদী অংশকে বাতিল করে মানবিক অংশকে শক্তিশালী করতে চান, পশ্চিমে তারা ক্রমশই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন। মার্কিন ও ব্রিটিশ নীতি এখন পরিষ্কারভাবেই ইসলামকে টিকিয়ে রেখে মৌলবাদী ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। মাঝে মাঝেই বারাক ওবামা এবং ব্রিটিশ মন্ত্রীদের কথিত ‘মানবিক ইসলামের’ পক্ষে কথা বলতেও শোনা যায়। সেই দিক দিয়ে আপনার অবস্থানের সাথে বারাক ওবামাদের অবস্থানের অনেকটাই মিল খুঁজে পাওয়া যায়। যারা ইসলামের ভাল দিক প্রমোট করে খারাপ দিককে ভুল ইসলাম বলে থাকেন। কোরআন হাদিস পড়ার পরেও, মুহাম্মদের জীবনী পড়ার পরেও ইসলামকে শান্তির ধর্ম, মানবিক ধর্ম হিসেবে প্রচার করা আমার মতে এক ধরণের হঠকারীতাও বটে।

    ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান আজকের না। অনেক বছরের আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম। হয়তো ফেসবুক ব্লগ আসার অনেক আগে থেকেই। আপনার কাজের প্রতি আমার আগেও সমর্থন ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যা বিষয়ে মুক্তমনা নাস্তিকরা কেন উগ্র মোল্লাদের ব্যাখ্যাকেই গ্রহণ করেন, তার উত্তর হচ্ছে, উগ্র মোল্লারা ধর্মীয় ব্যাপারে অন্তত সততার আশ্রয় নেন। আল্লামা শফীরা যখন নারীর বিরুদ্ধে বলেন, সেগুলা কোরআন হাদিস মাইনাই বলেন। আধুনিক মুসলমানগণ যখন নারীর অধিকার সম্পর্কে ইসলামের অনেকাংশ মাইনা নিয়াও নারীর অধিকার দাবী করেন, তখন তাদের কোরআন হাদিসের অনেকটা অংশই বাতিল করতে হয়। যেইগুলা বাতিল করলে তা আর কীভাবে ইসলামিক থাকে আমি জানি না। কারণ ইসলামের মূল ভিত্তি দিনশেষে ঐ কোরআন হাদিসই। আপনি যতই নিত্য নতুন ব্যাখ্যা তৈরি করেন, লাখ লাখ শিশু কিশোর ঐ পুরনো কোরআন হাদিস পড়েই বড় হচ্ছে মাদ্রাসায়।

    1. টেরোরিজমের ভাইরাস তত্ত্ব নিয়ে
      টেরোরিজমের ভাইরাস তত্ত্ব নিয়ে আপনার অবস্থান জেনে ভালো লাগলো। বলা যায় কিঞ্চিত স্বস্তিবোধ করলাম। এবার ‘শাক দিয়ে মাছ’ ঢাকার বিষয়ে বলি। যারা টেরোরিস্ট ইসলামের চেয়ে মানবিক ইসলামকে প্রোমোট করতে চায় তাদের কাছে বিষয়টা মোটেই শাক দিয়ে মাছ ঢাকা নয়। এদের মধ্যে যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী তাদের কাছে শাক এবং মাছ একি জিনিস, অথবা তারা টেরোরিস্ট ইসলামকেই শাক মনে করে যা দিয়ে তাদের ‘মাছ’কে ঢেকে রাখা হচ্ছে। যারা মুসলমান না হয়েও টেরোরিস্ট ইসলামের বদলে মানবিক ইসলাম প্রোমোট করতে চান, তারা সংঘাতের বদলে শান্তি প্রচারের উদ্দেশ্যে এই কাজটা করেন। এখানে কোন ‘শাক দিয়ে মাছ’ ঢাকার দূরভিসন্দি নাই। যেহেতু সে মুসলমান নয়, তাই কোন এক পক্ষের ইসলামকে সহিহ ইসলাম প্রচার করার কোন দায়িত্ব তার থকার কথা না। কিন্তু শান্তির জন্যে শান্তিপ্রিয়দের ডিসকোর্সকে সাপোর্ট করেন, সন্ত্রাসীদেরটা ডিসকোর্স কে নয়।

      কোরআন হাদিসের বিষয়ে শান্তিপ্রিয়দের ব্যাখ্যা আপনি যতো দুর্বল ভাবছেন অতোটা নয়, আমার নিজের পাঠ থেকে বলছি। তারা কুরান হাদিসের মধ্য থেকেই নিজেদের ব্যাখ্যা দেন। কোন হাদিস সহিহ আর কোনটা সহিহ না, কতো সংখ্যক হাদিস সহিহ তা নিয়া ইসলামের বিভিন্ন মজহাবের বিভিন্ন অবস্থান আছে। এখন যারা মানবিক ইসলামের প্রচার করতে চান, তাদেরও এইসব বিষয়ে অবসথান আছে। আপনি সহ অনেকেই এখনকার এই তর্কে এবং এই বিষয়ে গত ঈদের সময় সামনাসামনি তর্কে কোরান হাদিসের প্রসঙ্গ টেনেছেন। এই বিষয়ে কিছু বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা আছে। কিভাবে শান্তিপ্রিয় মুসলমানরা কোরানকে ব্যাখ্যা করেন এবং বিভিন্ন সময়ে করেছেন তাদের সময়কার বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলায়, তা নিয়া ভবিষ্যতে লিখার ইচ্ছা রাখি। অবশ্য আপনি যদি আমার ইদানিংকার কিছু লেখা পড়তেন তাহলে হয়তো এই বিষয়ক কিছু তথ্য পেয়ে যেতেন। ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই, যেমন ধরেন যে ইসলামে নারীর অবস্থান নিয়ে আল্লামা শফির যেমন একটা অবস্থান আছে তার বিপরীতে অনেক মুসলমানের অবস্থান আছে। যেমন ধরেন যে, নারী নীতিকে অনৈসলামিক বলে যখন হেফাজত এবং আরো কিছু সংগঠন প্রচার করলো সেই সময়ে বাংলাদেশের কিছু আলেম উলামা (জামাত হেফাজত এদেরকে সরকারপন্থী বলে ট্যাগ দেয়) সংবাদ সম্মেলন করে নারী নীতিকে ইসলামসম্মত বলে প্রচার করেন। আবার ধরেন যে, নারী বিষয়ে আইসিসের মতো সালাফি সংগঠনের যেমন ব্যাখ্যা আছে, তেমনি ঠিক তার বিপরীত ব্যাখ্যা আছে বিখ্যাত দার্শনিক, বিজ্ঞানী ও ইসলামী আইনশাস্ত্রবীদ ইবনে রুশদের, কিংবা ধরেন যে আধুনিক মুসলিম ফেমিনিস্ট ফাতিমা মেরিনিসির। ইবনে রুশদ কিংবা ফাতিমা মেরিনিসিও কিন্তু কুরান হাদিস ব্যবহার করেই নিজেদের অবসথান প্রকাশ করেছেন। এখন সেকুলার হিসাবে এবং শান্তির জন্যে আমরা এদের মধ্যে কাকে বেশি প্রোমোট করবো সেটা কিন্তু খুবি জরুরি একটী স্বিদ্ধান্তের ব্যাপার। যেহেতু যাই করি না কেন, তা মানুষের জীবনের দায় নিয়ে করতে হবে।

  3. প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কিছুদিন
    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেও মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাঙলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করে গেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায়শই জামাতে ইসলামীকে গণতান্ত্রিক, এবং ‘ভাল’ ইসলামিক দল হিসেবে মূল্যায়ন করে থাকে। একই সাথে, বারাক ওবামাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো শুনলে মনে হয়, ইসলাম আসলে খুব ভাল, মৌলবাদী ইসলাম আসলে সহি ইসলাম নহে। এভাবে বিষবৃক্ষের গোঁড়ায় পানি দিয়ে আগাছার সাথে যুদ্ধ করার মার্কিন নীতি পরিষ্কারভাবেই ইসলামী মৌলবাদ টিকিয়ে রাখতে চায়, এবং তা ব্যবহার করতে চায়, এইটুকু বুঝতে অসুবিধা হয় না। আপনারা যারা ‘ভাল’ ইসলামের নতুন ধারণার কথা বলছেন, তারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কৌশলের কাছে পরাস্ত হচ্ছেন কিনা সেটাও ভেবে দেখার বিষয়।

    1. যে বিষয়টা পরিস্কার করা দরকার
      যে বিষয়টা পরিস্কার করা দরকার তা হলো যে বারাক ওবামা এবং আমার অবস্থান মোটেই এক জায়গায় নয়। ওবামা যতোই মানবিক ইসলামের কথা বলুক না কেন, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে তার জাতির স্বার্থে তার একটি পলিসি আছে যা মোটেই মানবিক নয়, আইসিসের উত্থানের পেছনে তিনি তার নিজের দায় এড়াতে পারবেন না। অন্যদিকে আমার এবং আমাদের অবস্থান অবশ্যই আমাদের জাতিগত স্বার্থে হতে হবে। টেরোরিজম এবং ইসলামী মৌলবাদ একটি গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের জন্যে হুমকি। আমরা দেখেছি বাংলাদেশের সেকুলারদের নয়, যুক্তরাষ্ট্র ইসলামিস্টদেরকেই সাপোর্ট দিয়েছে বেশি। আমাদের দেশ যখন মধ্যপ্রাচ্যের মতো সাম্প্রদায়িক ও রাষ্ট্রিয় অস্থিতীশলতার পথে কিছুদিন আগেই পা বাড়িয়েছিল এবং এখন আমরা একটি ‘স্বৈরতন্ত্রে’র বিনিময়ে সাময়িক শান্তি রক্ষা করেছি, তাই বাংলাদেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে অনেক বেশি ‘দায়’ নিয়ে আমাদের কাজ কাম করার সময় হয়েছে অনেক আগেই।

  4. অভিজিৎ রায় এর মত মুক্তমনা
    অভিজিৎ রায় এর মত মুক্তমনা থেকে এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমনমুলক আচরন সত্যিই ভাবতেই পারছিনা। মুক্তমনাদের খোলস পরিষ্কার হল। আমি ব্যক্তিগহভাবে পারভেজ আলমের ঐ লেখায় বিভিন্নভাবে জায়গায় যৌক্তিক আলোচনার মাধ্যমে সমালোচনা করেছি। ঐ লেখার উত্তরে এতবড় একজন মুক্তমনা তার সাঙ্গপাঙ নিয়ে মৌলবাদি ও সিপি গ্যাং এর মত আচরন প্রচন্ডভাবে হতাশ করেছে আমাদের।

    আরজআলী মাতব্বর পাঠাগারে কোন একদিন সহযোগিতা করেছিলেন তিনি, ঐটার খোটা দিয়ে অভিজিৎ রায় কতটুকু মুক্তমনা আমরা বুঝতে পেরেছি! পারভেজ আলম তার পোস্টে অভিজৎ রায়’কে যথেষ্ঠ সম্মান দেখিয়ে আলোচনা করেছে। কিন্তু তার প্রতি উত্তরে অভিজৎ নিজেকে একজন মৌলবাদি নাস্তিক হিসাবে আমাদের কাছে উপস্থাপিত হয়েছেন।

    বিদেশের মাটিতে বসে অনেক বড় বড় কথা বলা যায়। অভিজিৎ এর মত মুক্তমনা বাংলাদেশে থাকলে নাস্তিকতার চর্চা ইসলামি ব্যাংকে একাউন্ট খুলে তারপর করতে হত। আমরা যারা দেশে থেকে প্রতিদিন সাহসিকতার সাথে মৌলবাদ, ধর্মান্ধ ও ধর্ম ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে কথা বলছি, এটা উপলব্দি করার মত মুক্তমনা অভিজিত ও তার অভি গ্যাং এর নাই। ভার্চুয়ালি আনবিক বোমা মারা সহজ, কিন্ত বাস্তবে একটা কথা বলা কতটা কঠিন সেটা বুঝার মত মুক্তমনা অভিজিত রায় এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের কখনই হবেনা। অন্তত অভিজিৎ রায় ও তার মুরিদদের আচরন দেখে বুঝতে পারলাম।

    গুডবাই অভিজিত ও বিদেশি নাস্তিকগন। আপনারা এখন থেকে ইংরেজি ভাষায় নাস্তিকতার চর্চা করেন। যারা নাস্তিকতার চর্চা করেন বিদেশে যাওয়ার জন্য, তারা এসালাম এজেন্ট অভিজিত এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তার স্ট্যাটাসে সেই ইঙ্গিত আছে।

    1. আপনার আবেকটা বুঝতে পারছি।
      আপনার আবেকটা বুঝতে পারছি। তাকে সম্মান করি। তবে আমাদের ব্যক্তিগত আক্রমনের জবাবে পালটা ব্যক্তিগত আক্রমন পরিহার করা উচিৎ। আপনার ও আপনাদের সাথে গত পোস্টে যে তর্ক হয়েছিল সেইটুকুই এই পোস্টের বক্তব্য নিয়ে সঠিক বিতর্ক ছিল। তার জন্যে ধন্যবাদ।

  5. ছিঃ অভিজিৎ, ছিঃ! মুক্তমনার
    ছিঃ অভিজিৎ, ছিঃ! মুক্তমনার অন্তরালে আপনারা কতটুকু নোংরা হতে পারেন বুঝতে পারলাম। বিদেশে বসে নবির বউয়ের হিসাব করা সহজ। কিন্তু ঘোষনা দিয়ে আপনাদের দেশে আসার মত সাহস নাই। এদেশে বসে যারা নাস্তিকতার চর্চা করার মত সাহস দেখায় তারাই প্রকৃত বাঙালি নাস্তিক। আপনারা সুবিধাভোগি নাস্তিক। আরজআলী পাঠাগারের জন্য আপনি কতটাকা দিয়েছেন? হিসাবটা জানায়া দিয়েন। চাঁদা তুলে পাঠিয়ে দেব।

    এসাইলামের জন্য আপনার প্যাকেজ রেইট কত? পার্টি পাইলে আপনাকে দিব। কোন কমিশন দিতে হবে না। দেশের মুক্তমনারা এত নিচু মানসিকতার না। ভাল থাকবেন। আসিফের ম্যা ম্যা বেশ বিনোদন দিল।

  6. এখন যেটা হবে, পারভেজ আলমের
    এখন যেটা হবে, পারভেজ আলমের জন্যই অস্বস্থিকর সেটা। অনেক ছাগু এসে তার পিঠ চাপরে বাহাবা দিবে! যেহেতু অভিজিৎ রায় বাংলার ছাগু গোষ্ঠির জানের দুশমন, তার মুক্তমনা ব্লগ সাইট তাদের চক্ষুশূর্ল, যে কোন উছিলায় অভিজিৎ রায়কে চেপে ধরতে এখন পারভেজ আলমের কাধেই তারা চেপে বসবে। এখানে যে বিতর্কটা চলছে প্রথম থেকে গোটাটা আমি পড়ছি, পারভেজের প্রথম লেখাটায় কমেন্টসও করেছিলাম, অভিজিৎদার ফেবুর লেখাটা পড়েছি, অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু আমার আশংকা উপরের উল্লেখ করেছি। তাই বিরত থাকলাম। এই ক্যাচালের লাভের ফসল ঘরে তুলবে ছাগু গোষ্ঠি। আমরা যারা সেক্যুলার, মানবতাবাদী, নাস্তিক বলে নিজেদের দাবী করি, এমনিতেই সবাই বিচ্ছিন্ন, নানা রকম ইগো সমস্যায় আক্রান্ত। তার উপর এইরকম “গৃহদাহ” ক্ষতি ছাড়া লাভ কিছু নেই। তাই সবাইকে সংযত, শান্ত হওয়ার একটা অনুরোধ করছি…।

    1. কল্পনা করে ঐক্য দাঁড় করানো
      কল্পনা করে ঐক্য দাঁড় করানো যায় না। ঐক্যের জন্যে ভিন্ন মতের প্রতি সহনশিলতা থাকতেই হবে। ছাগুরা কি করতে পারে না পারে সেই বিষয়ে সচেতন আছি। আমার পিঠ আমি যাকে তাকে চাপড়াতে দেই না।

  7. @পারভেজ আলম,
    আপনি আপনার আগের

    @পারভেজ আলম,
    আপনি আপনার আগের লেখায় খুব সুকৌশলে অন্য ব্যাক্তি বা প্রুতিষ্ঠানের মতের সঙ্গে নিজের বিশ্বাস বা ব্যক্তিগত মতকে মিশ্রিত করেছেন (যেমন গোরমেজ ,ইন্দোনেশিয়ার উলামা কাউনসিল ইত্যাদী )এটার দ্বারা আপনি বাহ্যিক ভাবে বোঝাতে পেরেছেন যে এগুলো আপনার ব্যক্তিগত মত নয়,কাজেই এগুলোর দায় আপনার উপর বর্তায় না । কিন্তু যেহেতু আপনি অভিজিৎ রায়ের পাল্টা যুক্তি হিসেবে ঐ সুনির্দিষ্ট ব্যাক্তি বা প্রুতিষ্ঠানের উদ্ধতিগুলো ব্যবহার করছেন ,কাজেই এগুলোই আপনার ব্যক্তিগত মত বা আপনার ব্যক্তিগত বিশ্বাস এগুলোর প্রায় কাছাকাছি বলে ধরে নেয়াই কি যুক্তিযুক্ত নয় ?
    আপনি আপনার আগের লেখাটিতেও এবং এই লেখাটিতেও ইসলামী জঙ্গীবাদ উত্থানের পিছনে রাজনৈতিক ও সামাজিক কারন কে বড় করে দেখাতে গিয়ে কোরানের কিছু কট্টর পন্থী বাণী বা নির্দেশগুলোকে অবজ্ঞা করছেন।যারা জঙ্গীবাদে যোগ দেয় তারা বুর্জোয়া গণতন্ত্র , পুজিবাদ , ইসলামের ইতিহাস নিয়ে এত পড়াশোনা করে জঙ্গীবাদে জড়ায় না। তাদের জঙ্গীবাদে যোগ দেয়ার প্রধান কারন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বঞ্ছনা , ধর্মীয় কিছু আয়াত , আর তাদের আদর্শিক ধর্মগুরুর বয়ান। এখানে ধর্মীয় আয়াত গুলো পালন করে X ফ্যাক্টরের ভুমিকা।কাজেই এগুলোকে বাদ দিয়ে শুধু রাজনৈতিক ও সামজিক কারনকে বড় করে দেখানো আসল সত্য কে আড়াল করা ছাড়া আর কিছু নয় । সবশেষে যে কোন ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমনের নিন্দা জানাই ।

    1. আমি যা করেছি তা হলো যে
      আমি যা করেছি তা হলো যে টেরোরিস্টদের ইসলাম বিষয়ক অবস্থান ছাড়াও দুনিয়ায় বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের ইসলাম বিষয়ে টেরোরিস্টদের বিপরীত অবস্থান আছে তা উল্লেখ করেছি মাত্র। এখন তাদেরটা উল্লেখ করেছি বলে যদি আমার ‘ব্যক্তিগত বিশ্বাস’ তাদের মতো বলে মনে করেন তাহলে অভিজিৎ রায়কে লিটারালি একজন ‘সালাফি টেরোরিস্টে’র ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কাছাকাছি মানুষ বলা যায় যেহেতু তিনি টেরোরিস্টদের ইসলামকেই সহিহ ইসলাম বলে প্রচার করেন। আশা করি আপনার যুক্তির সমস্যাটা ধরতে পারছেন।

      আর ধর্মীয় আয়াত, ধর্মগুরুরু বয়ানকে আমি বাদ দিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণকে বড় দেখাচ্ছিনা। এসবকে নিয়েই সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণকে বড় করে দেখাচ্ছি। তাও ঠিক আমি দেখাচ্ছি না। বাস্তব ইতিহাস ও স্ট্যাটিসটিক্সও তাই বলে।

      1. অভিজিত রায় দৃঢ ভাবে বিশ্বাস
        অভিজিত রায় দৃঢ ভাবে বিশ্বাস করেন ধর্মীয় জঙ্গিবাদ উত্থানের পিছনে ধর্মের অবদান সবচেয়ে বেশী।
        আপনি অভিজিত রায়ের পাল্টা যুক্তি হিসেবে বলতে চাচ্ছেন যে দুনিয়ায় বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের ইসলাম বিষয়ে টেরোরিস্টদের বিপরীত অবস্থান আছে। আপনি যাদের উদাহরন দিয়েছেন তাদের ভাষ্য অনুযায়ী জঙ্গী বাদের জন্য ইসলাম ধর্ম দায়ী নয় , দায়ী রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা। আপনিও প্রকারান্তরে তাই বলতে চাচ্ছেন । আপনি হয়তো খেয়াল করেননি যে দুটোর মূল সূর প্রায় এক

        আর ধর্মীয় আয়াত, ধর্মগুরুরু বয়ানকে আমি বাদ দিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণকে বড় দেখাচ্ছিনা। এসবকে নিয়েই সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণকে বড় করে দেখাচ্ছি

        আমি আপনার দুটো লেখায় এই উক্তির সার্থকতা খুজে পাই নি

        বাস্তব ইতিহাস ও স্ট্যাটিসটিক্সও তাই বলে

        এর উদাহরণ হিসেবে আপনি মূলত অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইসায়েড টেরোরিজম ডাটবেজ আর ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো’স প্রজেক্ট অন সিকিউরিটি অন টেরোরিজের রিসার্চের কথা বলতে চাইছেন কিন্তু ইসলামী জঙ্গীবাদ নিয়ে এর বাইরেও ভিন্ন রিসার্চ এবং ভিন্ন অনুসিদ্ধান্ত রয়েছে যেমন প্রফেসর ব্রুস হফম্যান , আসাফ মোঘাদান ,স্কট আত্রানের রিসার্চ।

  8. @পারভেজ আলম,
    আমার জানামতে

    @পারভেজ আলম,

    আমার জানামতে অভিজিৎ রায় কোথাও মিমতত্ত্বকে চন্দ্র,সূর্যের ন্যায় চিরন্তন কোন কিছু বলে দাবী করেন নি,তিনি এটা নিয়ে একটা বই আর কিছু আর্টিকেল লিখেছেন।বিশ্বাসের ভাইরাস বা মিমতত্ত্ব নিয়ে আপনার আপত্তি থাকতেই পারে,এবং আপনি তা নিয়ে লিখতেই পারেন।তবে আপনার আগের পোষ্টটিতে আপনি স্পষ্টতই অভিজিৎ রায়কে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাড় করতে চেয়েছেন। আপনার আগের পোষ্টটির শিরোনাম লক্ষ করুন ,

    অভিজিৎ রায় কেন সালাফি সেকুলার হইলেই?

    সবাই জানে,অভিজিৎ রায় ধর্মান্ধতা,কুসংস্কার ও বিজ্ঞান নিয়ে লেখেন।আপনি বা মডারেট মুসলিমরা যদি ইসলামকে একটা রোমান্টিক আবহ দিয়ে বিজ্ঞানমুখী মানবিক ধর্মে পরিণত করতে পারেন,সেটা তো ভাল ব্যাপার,এখানে অভিজিৎ রায়কে কেন প্রতিপক্ষ ভাবা হচ্ছে কেন।কেন তাকে সালাফি সেকুলার ট্যাগ দিচ্ছেন?

    ওবামা থেকে শুরু করে হাসিনা সকল বুর্জোয়ারা তো এই রোমান্টিক ইসলামকে কাধে নিয়ে চলছেন।অভিজিৎ রায় কেন মডারেটদের মত ইসলাম নিয়ে রোমান্টিকতায় ভোগেন না,এই প্রশ্ন করা বালখিল্যপনা।সারাজীবন বিজ্ঞান ও ধর্মান্ধতা নিয়ে লেখালেখি করা একজনকে এখন ধর্ম বই নিয়ে রোমান্টিকতা করতে হবে বললে,সেটাকে বালখিল্যপনা ছড়া কি বলা যায়।

    লক্ষ কিন্তু একই,একটা বিজ্ঞানমুখী,আধুনিক,ধর্মান্ততা মুক্ত সমাজ গড়ে তোলা,আপনারা যদি রোমান্টিক ওয়েতে সেটা করতে পারেন তাহলে অভিজিৎ রায় কোন ছার।আভিজিৎ রায় তার মত করে চেষ্টা করছেন এবং অভিজিৎ রায়ের লেখা পড়ে কেউ টেরোরিস্ট হয় না।সুতরাং তাকে সালাফি ট্যাগ দেওয়া অবান্তর,যেটা আপনি আগের পোষ্টে করেছেন।

    1. আমি তো অভিজিৎ রায়কে প্রতিপক্ষ
      আমি তো অভিজিৎ রায়কে প্রতিপক্ষ ভাবি নাই, উনি আমকে ভেবেছেন। ওনার লেখার সমালোচনা কেনো লিখেছি এবং ‘সালাফি সেকুলার’ টার্মের ব্যবহার কেনো করেছি তা আমার এই পোস্টেই বলে দিয়েছি। ওনাকে আমার মতো ভাবার দাবি কোথাও করি নাই, ওনার লেখার কিছু অংশ নিয়ে প্রশ্ন করেছি মাত্র। সেটা করা নিশ্চয় অপরাধ বলবেন না।

  9. বিদেশে বসে নাস্তিকতার চর্চা
    বিদেশে বসে নাস্তিকতার চর্চা করাটা খুবই সহজ। খুব সহজেই কাউকে জেনারালাইজ করে ফেলা যায়, কিন্তু যেহেতু প্রগতিশীল চিন্তা ভাবনা যারা করে, তাদের সবাইকেই এক বাক্যে নাস্তিক এবং শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে যারা- সেই ধর্মান্ধদের আক্রোশের শিকার হয় দেশে থাকা ‘নাস্তিক’রা। মতাদর্শ এবং চিন্তা ভাবনার ভিন্নতা থাকতেই পারে। এটা থাকাটা বরং জ্ঞান চর্চায় উদ্বুদ্ধ করে মানুষকে, কিন্তু যেখানে ধর্মান্ধরা একট্টা ‘নাস্তিক’দের বিরুদ্ধে, সেখানে আমরাই নিজেদের পেছনে নিজেরা লেগে থেকে পরষ্পরকে আরো সমস্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছি। এ দেশে এখনো সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরী হয়নি নাস্তিকতা চর্চার ক্ষেত্রে। সব সরকারই ধর্মবাজদের তোষণে ব্যস্ত, মন্দের ভাল আওয়ামী সরকারও আলাদা নয়। বিপ্লবদা, শুভদা, রাসেল ভাইরা যখন এসব পরিস্থিতির শিকারে পরিণত হলেন, অন্যরা পালিয়ে বেড়াচ্ছিল নিজ দেশেই, তখন অনেক ‘বিশিষ্ট’ নাস্তিক ব্লগাররা দেশের বাইরে বসে হাতি-ঘোড়া শিকার করেছেন। কিন্তু পুলিশের হাতে মার খেয়েছিলো আসিফ মহিউদ্দীনরা। নিজ দেশে পরিবেশের দোহাই দিয়ে আসতে পারেন না তারা। বই লিখেন, মননশীল চিন্তা উদ্রেককারী পোষ্ট দেন ভালো কথা, কিন্তু বিদেশে বসে উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে সহব্লগারদের ক্ষতি করা এবং বালখিল্যতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ দেয়ার আগে মস্তিষ্কটাকে একটু নাড়িয়ে নিলে ভালো করবেন অভিজিৎ দা।
    পারভেজ ভাই’র পোষ্টটা পড়েছি, তিনি এমন কোন কিছু বলেননি যাতে আপনার অবস্থান টলমল করা শুরু হয়। কিন্তু জবাবে আপনি যে খেল দেখালেন, তাতে বিষয়টা নোংরামির পর্যায়ে চলে গেল। তবুও, আপনার প্রতি আস্থার জায়গাটা এখনো টলে যায়নি, আপনার চিন্তা ভাবনার গভীরতা এখনো মুগ্ধ করে আমার মত অনেককেই। সেই অবস্থানটা নষ্ট করবেন না। সমালোচনার জবাবে কৌশলী হতে হয়। বিচক্ষণতার পরিচয় দিন, নোংরামি পরিহার করুন।

  10. শওকত ভাইয়ের সাথে একমত। অভিজিত
    শওকত ভাইয়ের সাথে একমত। অভিজিত দাদার মতোন একজন লেখককে লেখালেখির ক্ষেত্রে যত্নবান হওয়া উচিৎ। ব্লগে কারো লেখা পছন্দ নাও হতে পারে আমার তাই বলে ব্লগের সুন্দর পরিবেশটা ঠিক রেখে আরেক জনের লেখার পাল্টা জবাব দেওয়া যায়। নোংরামি না করাটাই ঠিক।

  11. পারভেজ কে আমি “সিরিয়াস
    পারভেজ কে আমি “সিরিয়াস ব্লগার” বলতাম। কিন্তু এই লেখাটি পড়ে আমি হতাশ! কারন –

    পারভেজ আলম জানেন না “ভাইরাস” এর জীব বৈজ্ঞানিক বিশিষ্টতা, ভাইরাসের চরিত্র, এর কাজ করার ধরণ, এর ক্ষতির দিক এবং ভাইরাসের চিকিতসা, যদি পারভেজ এর এই বিষয় গুলো নিয়ে বেসিক ধারণা এবং পড়াশুনা থাকতো, তাহলে পারভেজ অভিজিত কে “সালাফি সেকুলার” বানাতেন না। পারভেজ যে “ভাইরাস” বিশয়টি আগা মাথা কিছুই জানেন না, এটা তাঁর লেখায় প্রমানিত হয়েছে, কিভাবে প্রমানিত হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাক্ষ্যা করা যাবে। আবারও পরামর্শ দিচ্ছি, ভাইরাস বিষয়ে একটি সাধারণ মানের মেডিক্যাল ডকুমেন্ট পড়ুন, ডকিন্স এবং অন্যান্যদের মূল বইগুল পড়ুন, তারপরে দেখুন অভিজিত রায় কে “সালাফি সেকুলার” বলা যায় কিনা। আপনি চাইলে, আমি বা আপনার আরও অন্যান্য ডাক্তার বন্ধুরা আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

    1. সারোয়ার ভাই,
      অভিজিৎ দা’র

      সারোয়ার ভাই,
      অভিজিৎ দা’র ব্যক্তিগত আক্রমণমুলক লেখায় আপনি নিশ্চয় আশাহত হন নাই! একজন মানুষের জানার ও জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। তার লেখা নিয়ে সমালোচনা হতেই পারে। তার প্রতিউত্তরে অভিজিৎ দা যেটা করেছে, আপনি কি সেটাকে সমর্থন করেন? উনি পারভেজ আলমের জন্য কি কি করেছেন, এদেশের নাস্তিকদের এসালাইমের জন্য অনেক কিছু করার ফিরিস্তি আপনার কাছে ভাল লেগেছে সরোয়ার ভাই?

      আমার কাছে ভাল লাগে নাই। অভিজিৎ রায়’র মত মানুষের কাছে এ ধরনের শিশুসুলভ আচরণ আমরা আশা করি না। মুক্তমনার সংঙ্গা হয়ত এখন অনেক ধরনের হয়ে গেছে। গণজাগরণের সময় সরকার যখন তালিকা করে নাস্তিকদের খুঁজছিল উনি নাকি অনেককে অনেক উপকার করেছেন। কারো জন্য কিছু করছেন বলে আমার জানা নাই। সে সময় কেমন একটা দুঃসময় আমরা কাটিয়েছি বলে বোঝাতে পারবনা। কিন্তু বিদেশী বাঙালী নাস্তিকদের তখন এ বিষয়ে কোন ধরনের অবদান নাই। বাংলাদেশে নাস্তিকতা চর্চায় বরং প্রবাসীদের কৌশলগত ভুলের খেসারত আমরা যারা বাংলাদেশে থাকি, তাদের দিতে হয়। এই উপলব্দিটা যাদের মধ্যে নেই তারা এক্টিভিজমের বারোটা বাজায় বলে মনে করি।

      আমার মন্তব্যটা কাউকে আক্রমণ করার জন্য করিনি। তারপরও কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখিত।

    2. আপনাকে নিয়েতো আমি আরো বেশি
      আপনাকে নিয়েতো আমি আরো বেশি হতাশ হয়েছি। ভাইরাস সম্বন্ধে জ্ঞান থাকার সাথে সিরিয়াস ব্লগার হওয়ার কি সম্পর্ক আমি বুঝতে পারছিনা। আর ভাইরাস তত্ত্বের জন্যে তো আমি ‘সালাফি’ অবিধা ব্যাবহার করি নাই, ‘সালাফিজম’ প্রোমোট অভিযোগে অভিধা দিয়েছি। আপনার প্রতি সমান রেখেই বলছি, গত কয়েকদিনের তর্কে আপনি খুবি বদ্ধ মন নিয়ে তর্ক করে যাচ্ছেন, এবং আমার বক্তব্য ও যুক্তিগুলোর ধার কাছ দিয়ে না গিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করে যাচ্ছেন। আর এখন পর্যন্ত আমার লেখার সম্বন্ধে বেশকিছু মন্তব্য ও অভিযোগ করেছেন যেগুলার একটাও কস্ট করে প্রমান করেন নাই। এরপর নতুন কোন মতামত বা অভিযোগ করার আগে আগেরগুলা প্রমান করার অনুরোধ থাকলো।

      1. দুলাল ভাই, এই বাস্তব
        দুলাল ভাই, এই বাস্তব পরিস্থিতি এবং তাদের ‘কৌশলগত ভুলে’র দিকটা নিয়ে যতো বলেন না কেনো ঐ লাইনে তারা কেউ আলোচনা করতেই আগ্রহী নন। মিমেটিক ভাইরাস বিষয়ক অধিবিদ্যক বিষয়ে আমাদের জ্ঞান কম এই হইল সব আলোচনার পরে তাদের সার স্বিদ্ধান্ত।

  12. জ্ঞানীরা মাঝে মাঝে এমন কাজ
    জ্ঞানীরা মাঝে মাঝে এমন কাজ করে যেটাতে তাকে তার অতিবাহিত হওয়া পূর্ন সময়টাই ব্যর্থ হয়ে যায়। যার উদাহরন অভিজিত রয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 3