দুই নও মুসলিমের হজ্বযাত্রা ও খৎনার তাৎপর্য

?oh=fa49eb06797b542d57597f82351f6cfb&oe=548A48E8&__gda__=1421321470_8626ba620676c8c2831074ea3d8999f5″ width=”400″ />

ছোটকালে দেখতাম এলাকায় কিছু মানুষকে প্রত্যেক বাড়িতে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হোত। সাথে থাকতেন মসজিদের প্রতাপশালী ইমাম এবং এলাকার পান্ডাগুলো। ইমামের শুভ্র বেশভুষা ও পাণ্ডাগুলোর সাথে খুবই কাচুমাচু মুখে মাথায় বেখাপ্পা টুপি দিয়ে যেসব মানুষগুলো আসতো তাদেরকে আমরা চিনতাম না। ইমাম ও পা-াদের মুখে তাদের গল্প শুনতাম। বেখাপ্পা টুপি ও ভাজওয়ালা পাঞ্জাবী গায়ে দেয়া মানুষ হলেন, হিন্দু ধর্ম থেকে মুসলিম হওয়া মানুষ। এই গল্প শোনার পর ভক্তি বেড়ে যেতো মানুষটির ওপর। মনে হোত কোথা থেকে যেনো রোসনাই আলো এসে এই সাদা মাটা বিপর্যস্ত মানুষটিকে আলোকিত করে দিয়েছে। টের পেতাম ইসলামের রোহানী শক্তির। এইসব বোঝজ্ঞানের মধ্য থাকতে থাকতে ইমাম সাহেব নও মুসলিমের জন্য সাহায্য চাইতেন। মা সাধ্যমতো সাহায্য করতেন। টিফিনের বাচানো টাকা ও মায়ের সঞ্চয় থেকে চুরি করা টাকা তুলে দিতাম নও মুসলিমের হাতে। মনে হোত, অজান্তে বেড়ে ওঠা পাপগুলো আজ বুঝি মোচন হবে। চুরি করে পাশের বাড়ির বড় দিদির গোসল করা, এলাকার ডাব, পেয়ারা, সফেদা, জাম্বুরা চুরি করে ফাকা করে দেয়া বা বাইতির দোকান থেকে বড়শি চুরির অপরাধগুলো বুঝি আজ আমার কাটাকুটো হয়ে গেলো। এই টাকা অকাতরে দান করতে পেরে আমার ভিষন শান্তি আসতো।

নও মুসলিমদের নিয়ে এলাকায় একটা হৈইচই পড়ে যেতো। মানুষ তখন জটলা করে ইসলামের কেদারনি শক্তির ব্যাপারে ব্যাপক আলোচনা করতো। আর নও মুসলিমরাও ইসলামের বিভিন্ন জটিল তত্ব নিয়ে বয়ান দিতেন। আজ এই বয়সে এসে বুঝেছি সেইসব নও মুসলিমদের ছিলো অসম্মান, ভিখেরির জীবন। দু’মুটো ভাতের জন্য, ক্ষুদার দানবকে শান্ত করার জন্য দুখের জীবন পাড়ি দিয়ে তারা মুসলমান হতেন। এর বিনিময়ে তাদের কেউ কেউ থাকার জায়গাও পেয়েছিলেন। কিন্তু আজ এতো বছর পর এসে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন ও তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু কেন নও মুসলিম হলেন? অতি দরিদ্র হিন্দু মুসলিম ব্রিটিশ পিরিয়ডে খেরেস্তান হয়েছেন দু’মুঠো ভাতের আশায়। পাহাড়ে এখনো অনেক আদীবাসী ধর্মান্তিরিত হচ্ছেন একটু সুখে থাকার আশায়, ইউরোপ-অস্ট্রেলিয়াতে পাড়ি দিয়ে জীবন পাল্টে ফেলার আশায়। কিন্তু হাজি (হজ্ব করার পর এটাতো বলাই যাবে) মেনন ভাই ও হাজি ইনু ভাইয়ের কি ভাতের অভাব? নাকি তাদের আসলে চরিত্রের সমস্যা? সেই তর্কতো আমরা করতেই পারি। তার আগে হজ্বের ফজিলত মানে হজ্ব অর্থনীতি নিয়ে একটু বয়ান আছে।

হজ্ব ফুয়েল দিচ্ছে সৌদিদের আইসিসকে সাহায্য দিতে এখন নিশ্চয় দিনের মত পরিস্কার হয়ে গেছে সিরিয়াতে বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে আইসিসকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে আমেরিকার পাশাপাশি সৌদি আরবও ভূমিকা রেখেছিলো। সেই আসিস নির্দয়ভাবে মানুষ মেরেছে। এখন আবার আইসিস নির্মূলের দোহাই দিয়ে ইরাক ও সিরিয়াতে বোমা হামলা চালাচ্ছে বিশ্ব শয়তানগুলো। কুখ্যাত আইসিসকে যে টাকা দেওয়া হয় তার একটি অংশ আসে হজ্বের টাকা থেকে। সেটা কেমন করে? প্রতি বছর হজ্ব অর্থনীতি ১০ শতাংশ করে ফুলে ফেপে উঠছে। এখন বছরে সৌদি আরবে এই ধর্ম ব্যবসা করে নিট আয় করে ১৬.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই ব্যাপক পরিমান আয় দেশটির মোট জিডিপির ৩ শতাংশ। এই আয় প্রতি বছর ১০ শতাংশ করে বাড়বে। এ বিষয়ে বিবিসির নিউজ । এ বিষয়ে সৌদি গেজেট ও আল মনিটরের নিউজ দুটিও দেখতে পারেন।

এখন হাজি মেনন ও হাজি ইনু ভাইয়ের যে টাকা খরচ হবে তার কিছু অংশ কিন্তু আইসিসের থলিতে গিয়ে জমা হবে। বিবিসি, আল মনিটর, সৌদি গেজেট ও আমাদের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী চরম বাটপার আব্দুল লতিদ বিশ্বাস জানাচ্ছেন, গড়ে একজন হাজির খরচ হয় ৫ লাখ টাকা। অবশ্য বিবিসি বলছে, এর পরিমান ৬ হাজার ডলার বা ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তবে হাজি মেনন ও হাজি ইনুর ক্ষেত্রে এ পরিমান বাড়তিই হওয়ার কথা। কারণ তাদের পারিষদ বর্গতো কম না। এসব পারিষদবর্গের খিদে মেটাতে গেলে কত ভরি ‘সোন’ সৌদি আরব থেকে আনতে হবে তা বলা মুশকিল। আর সাথেতো জমজম কুয়োর পানি আনতে হবে। সম্ভবত বাংলাদেশ বিমানের একটি কার্গো ভরেই এই পবিত্র পানিয় আনা লাগতে পারে। খৎনা নিলে হয় মুসলমান, নারীর তবে কি হয় বিধান : এটা ভুল ধারণা যে শুধু মুসলিমরাই লিঙ্গের সামনের চামড়া কেটে থাকে। এই রিতি বহু পুরানো। ইহুদিরা এই রিতি শুরু করেছে। আর খৎনা নেওয়ার সাথে কোন সায়েন্টিফিক কারণও নেই। বরং খৎনা নিলে যৌন সঙ্গমে কম আনন্দ পান একজন পুরুষ।

কিন্তু হাজি মেনন ও হাজি ইনুকে আ.লীগ খৎনা করে দিয়েছে। বুড়োকালে খৎনা নিলে কি পরিনাম হয় তার একটি দারুণ উদাহরণ পাবেন লাল সালু সিনেমাতে। যেখানে বাবা ও ছেলে খৎনা নিয়ে লুঙ্গি ধরে ঘরের দরজায় বসে থাকতে দেখা যায়। মেনন ও ইনু খৎনা নিয়ে ঘরের চৌকাঠে বসে থাকার কোন ছবি না দেখা গেলেও এক সাথে বিমানবন্দরে বসে ছবি তুলেছেন। আর ছবি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। নও মুসলিম হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। ভোটারবিহীন একটি হাস্যকর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে আ.লীগ। যে ইনু ও মেননের জামানত বাজেয়াপ্ত হয় সেই দুই নেতা এখন সরকারের মন্ত্রী। যদি এরকম একটা নির্বাচন না হোত তাহলে কি তারা আদৌ মন্ত্রী হতে পারতেন? এ কারণে আ.লীগ তাদের খৎনা করে নও মুসলিম বানানোর পর তাদেরও দায়িত্ব থাকে মুশরিকদের কিতাব মার্কস লেনিনকে বুড়িঙ্গায় ফেলে দিয়ে হজ্ব পালন করে ইসলামের রোহানি শক্তিকে জাগ্রত করা। এটা তাদের ঈমানী দায়িত্ব। একই সঙ্গে মক্কার পবিত্র নগরিতে গিয়ে তওবা করা উচিত এ কারণে যে সারা জীবন মার্কস ও লেনিনের নাম নেওয়াটা কত অন্যায় হয়েছে। আর পার্টির নামও পরিবর্তন করা উচিত। যেমন ওয়ার্কার্স পার্টির নাম হতে পারে বাংলাদেশ ইসলামী ওয়ার্কার্স পার্টি। আর জাসদের নাম হতে পারে ইসলামী জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল।

বাংলাদেশে একটাই দল আছে, নাম তার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষেপে বাল। বাল ছাড়া আর অন্য দলগুলো আদৌতে ‘বালছাল।’ দেশে ইসলামের প্রসার বাড়ানোর জন্য নিশ্চয় ইসলামের সব মোজেজা দিয়ে মুশরিক আমেরিকা ও ইউরোপিয় ইউনিয়নের কুনজর থেকে আ.লীগ ও তার সরকারকে রক্ষা করবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৫ thoughts on “দুই নও মুসলিমের হজ্বযাত্রা ও খৎনার তাৎপর্য

  1. একই সঙ্গে মক্কার
    একই সঙ্গে মক্কার পবিত্র
    নগরিতে গিয়ে তওবা করা উচিত এ
    কারণে যে সারা জীবন মার্কস ও লেনিনের নাম
    নেওয়াটা কত অন্যায় হয়েছে। আর পার্টির নামও
    পরিবর্তন করা উচিত। যেমন ওয়ার্কার্স পার্টির নাম
    হতে পারে বাংলাদেশ ইসলামী ওয়ার্কার্স
    পার্টি। আর জাসদের নাম
    হতে পারে ইসলামী জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল।

  2. লেখককে ধন্যবাদ। দারুণ
    লেখককে ধন্যবাদ। দারুণ লেগেছে।
    ইনু আর মেননের পার্টি নাম পাল্টিয়ে “ইসলামী জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল”, ”বাংলাদেশ ইসলামী ওয়ার্কার্স পার্টি”- রখার প্রস্তাবে সহমত।

  3. আমার এক স্যার একবার হজ্জে
    আমার এক স্যার একবার হজ্জে গিয়েছে শুনে আমরা খুব মর্মাহত হলাম। পরে স্যারকে ধরলাম স্যার এইটা আপনি কি করলেন? স্যার তখন হেসে জানাল,তিনি তার মাকে নিয়ে গিয়েছেন। আর এমন একটা জায়গা দেখার ইচ্ছা কি তার থাকতে পারে না? আসার সময় সৌদীর বহুত সাময়িকী নিয়ে আসেন। তোমরাওতো মুর্তি দেখতে যাও যাও না! হা হা হা…..
    দেখা যাক,ইনু,মেনন সাহেব ফিরে এসে কি বলেন।

  4. যে ইনু ও মেননের জামানত

    যে ইনু ও মেননের জামানত বাজেয়াপ্ত হয় সেই দুই নেতা এখন সরকারের মন্ত্রী। যদি এরকম একটা নির্বাচন না হোত তাহলে কি তারা আদৌ মন্ত্রী হতে পারতেন? এ কারণে আ.লীগ তাদের খৎনা করে নও মুসলিম বানানোর পর তাদেরও দায়িত্ব থাকে মুশরিকদের কিতাব মার্কস লেনিনকে বুড়িঙ্গায় ফেলে দিয়ে হজ্ব পালন করে ইসলামের রোহানি শক্তিকে জাগ্রত করা। এটা তাদের ঈমানী দায়িত্ব। একই সঙ্গে মক্কার পবিত্র নগরিতে গিয়ে তওবা করা উচিত এ কারণে যে সারা জীবন মার্কস ও লেনিনের নাম নেওয়াটা কত অন্যায় হয়েছে। আর পার্টির নামও পরিবর্তন করা উচিত। যেমন ওয়ার্কার্স পার্টির নাম হতে পারে বাংলাদেশ ইসলামী ওয়ার্কার্স পার্টি। আর জাসদের নাম হতে পারে ইসলামী জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল।

    চলছে, ওই আওয়ামী সার্কাস চলছে! বাচ্চালোক, বাজাও তালিয়া!

  5. ইনু আর মেনন’র বর্তমান অবস্থান
    ইনু আর মেনন’র বর্তমান অবস্থান যদি তারা সঠিক মনে করেন আমার কোন আপত্তি নাই। কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে হাজার হাজার তরুণের তারুণ্য নষ্ট করার দায়ে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। বাম আদর্শের নামে এতকাল ধরে ভন্ডামীর ও প্রতারণার কৈফিয়ত ঐসব নষ্ট হওয়া তারুণ্যের কাছে দিতেই হবে।

  6. হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন, আমাদের
    হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন, আমাদের প্রায়-প্রতিটি মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিকের ভেতরে একটি ক’রে মৌলবাদী বাস করে। ইনু-মেননরা হলো পঁচে যাওয়া বাম। এদের ভেতরে ভন্ড বাস করে। হজ করে আসার পর এরা আবার সমাজতন্ত্রের গুণগান গাইবে, লেনিন-মার্ক্স এর তত্ত্ব আওড়াবে। মদীনাসনদি সরকারের বহরে কিছু আবাল আছে, যাদের কারনে সরকারের অবশিষ্ট ইমেজটুকুও নষ্ট হচ্ছে।

    1. আপনার সাথে কিঞ্চিত দ্বিমত
      আপনার সাথে কিঞ্চিত দ্বিমত রয়েছে । বরং এই দুই নাসারাকে নও মুসলিম বানিয়ে শেখ হাসিনা বরং তাঁর ঘোষিত মদিনা সদনের হুকুমত কায়েমের দিকেই এগুলেন।

  7. আশা করি ভবিষ্যতে কোন চন্দ্র
    আশা করি ভবিষ্যতে কোন চন্দ্র বাবার ওয়াজে নও মুসলিম হিসেবে এদের কে উপস্থাপন করা হবে। এদের ইসলাম গ্রহণের কাহিনী স্কুলের ধর্ম বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হোক ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 6 =