অভিজিৎ রায়ের সমালোচনা করেছি বাংলাদেশের স্বার্থে

ক্যাচালসহ নানাবিধ ঝুঁকি নিয়ে অভিজিৎ রায়ের লেখার সমালোচনা করার যে একটা উদ্দেশ্য ছিল তা আগের লেখায় উল্লেখ করেছি। তবে সেই উদ্দেশ্যটা লেখার সুযোগ পাই নাই, উনি আমার যে ‘উদ্দেশ্যে’র কথা বলেছেন তা খন্ডন করতেই সময় চলে গেছে। পরে লিখবো বলেছিলাম। এখন লিখছি।

২০১২ সালের অক্টোবর মাসে, অর্থাৎ আজ থেকে মোটামুটি দুই বছর আগে তৎকালিন দুনিয়ার আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর তার মাঝে বাংলাদেশের অবস্থান বিবেচনা করে সামহোয়ারইন ব্লগে ‘নয়া মহাখেলার ময়দান বাংলাদেশ! আমরা কি প্রসতুত?’ শিরনামে একটি লেখা লিখেছিলাম। লেখাটিকে খুব ভালো মানের কোন রাজনৈতিক বিশ্লেষন বলার উপায় নাই। খুব সলিড কোন থিওরি দাঁড় করানের উদ্দেশ্য নিয়ে লেখাটা লেখিও নাই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অদূর ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ কতোটুকু খারাপ হতে পারে তার একটি সম্ভাব্য কিন্তু কাল্পনিক চিত্র তুলে ধরেছিলাম লেখার শুরুতে। পাঠককে ঘাবড়ে দিয়ে আমার আলোচনাটা একটু সিরিয়াসলি বিবেচনা করতে বাধ্য করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু সেই কল্পনার কিছু অংশ যখন পরবর্তিতে বাস্তব হতে দেখেছি তখন আসলে নিজেই ঘাবড়ে গেছি। আমি লিখেছিলাম –

“২০১৩ সালের ডিসেম্বরএর নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। আওয়ামী সরকার বিরোধী সকল রাজনৈতিক সংগঠন এবং ব্যক্তিকে এই সময় কঠোর ভাবে দমন করা হয়। বিএনপি প্রায় অকার্যকর রাজনৈতিক দলে পরিণত হয় ২০১৪ সালে এসে। সরকার বিরোধী ইসলামিস্ট সংগঠনগুলো এই সময়ে শক্তিশালী হয়ে উঠতে থাকে। বৃদ্ধি পায় জঙ্গী তৎপরতা”। (নয়া মহাখেলার ময়দান বাংলাদেশ! আমরা কি প্রসতুত? পর্ব -১, ১৪ অক্টোবর ২০১২, সামহোয়ারইন ব্লগ)

নির্বাচন ডিসেম্বরে না হয়ে জানুয়ারিতে হয়েছে। কিন্তু বাকি বিষয়গুলা মিলে গেছে। আমি যেহেতু ভবিষ্যৎদ্রষ্টা হওয়ার জন্যে লেখি নাই, তাই মিলে যাওয়ায় খুশি হই নাই। আমি লিখেছিলাম বাংলাদেশ ঘিড়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষনে মানুষকে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিতে। মিলে যাওয়ায় বরং ভয় পেয়েছি। আর যেহেতু আমাদের করা শাহবাগ আন্দোলনের ঘাড়ে পারা দিয়ে আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন কায়েম করেছে তাতে নিজেকেই যথেষ্ট অসচেতন মনে হয়েছে, মানুষকে সচেতন করবো কিভাবে? লেখার সময় ভাবতেও পারি নাই, এই সিনারিও আওয়ামী লীগ বাস্তবে পরিণত করবে এবং তাও আবার আমার ঘাড়ে পারা দিয়ে। কিন্তু তাই হয়েছে।

ঐ লেখায় এরপরে বাকি যা লিখেছিলাম, সেইটুকু কখনো সত্য হতে পারে তা এখনো বিশ্বাস করি না। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জোর গলায় দাবিও করতে পারি না যে এমন কখনো ঘটবে না। যা লিখেছিলাম তার সারমর্ম হলো, ২০১৫ সাল নাগাদ সারা বাংলাদেশে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতিগত সহিংসতা এতোই বৃদ্ধি পাবে যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিদেশী সৈন্য প্রবেশ করবে। মাতব্বর হিসাবে হাজির হয়ে বাংলাদেশের স্থল ও সমুদ্রের তাবৎ সম্পদ ভাগ বাটোয়ারা করে নেবে বিভিন্ন বিদেশী শক্তি। আমি কখনোই চাই না, ২০১৫ সালে অথবা ভবিষ্যতে কোনদিন এই ঘটনা ঘটুক।

লেখাটি লেখার কয়েকদিন আগেই রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনাটি ঘটেছিল। লিখেছিলাম যে, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সংঘাত আরো বাড়বে, বাড়তেই থাকবে। তারপর সংখ্যালঘুদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলা সত্যি সত্যি প্রতিদিনকার ঘটনা হয়ে যেতে দেখলাম। শুধু বাংলাদেশই নয়, গোটা পৃথিবীই পালটে গেছে গত কয়েক বছরে। পরিবর্তনটা শুরু হয়েছিল গত দশক থেকেই, গত কয়েক বছরে সবকিছু খুবি দ্রুত ঘটে যাচ্ছে। চোখের সামনে দেখতে পেলাম শিয়া বনাম সুন্নি, হিন্দু বনাম মুসলিম, আস্তিক বনাম নাস্তিক এই ধরণের দ্বন্দ গুলো বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থা হয়ে গেলো যে এখন সবাই সবার বিরুদ্ধে নির্মুলের ফতোয়া দিচ্ছে। দ্বন্দ খারাপ জিনিস নয়, দ্বন্দের মধ্য দিয়ে সমাজ পরিবর্তন হয়, মানব সভ্যতা সামনের দিকে আগায়। দ্বন্দ ছাড়া প্রগতির কোন পথ নাই।মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে এখনো গণতান্ত্রিক সেকুলার বুর্জোয়া বিপ্লব সংগঠিত হয় নাই। এসব দেশে গণতন্ত্র ও আধুনিকতার নাম নিয়ে স্বৈরতন্ত্র ছিল। পাশ্চাত্যের শিক্ষায় শিক্ষিত শিক্ষিত সাত মাইষা (অপরিণত) বুর্জোয়া সেকুলার সমাজ সংখ্যাগরিষ্ঠ অশিক্ষিত ও অপেক্ষাকৃত মধ্যযুগিয় চিন্তা চেতনার জনগোষ্ঠিকে কখনো ধর্মের আবার কখনো জাতীয়তাবাদের নামে শাসন করে গেছেন দিনের পর দিন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে না হলেও সামাজিক প্রগতির দিক থেকে এইসব দেশের অধিকাংশের চাইতেই অনেক এগিয়ে ছিল। এখন আর এগিয়ে আছে কি না তা একটি সন্দেহের বিষয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আরব স্প্রিং এবং বাংলাদেশের শাহবাগ আন্দোলন এইসব দেশগুলোর অপেক্ষাকৃত পরিণত ও আধুনিক একটি তরুন বুর্জোয়া শ্রেণির আবির্ভাব ঘোষনা করেছিল। কিন্তু এই তরুনরা নিজেদের কোন রাজনৈতিক শক্তি দাঁড় করাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এসব বুর্জোয়া আন্দোলনের ফসল প্রায় সব জায়গাতেই ঘরে তুলেছে ভিন্ন এক বা একাধিক সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি, হয় ইসলামিস্ট অথবা স্বৈরশাসকরা।

পশ্চিমে আধুনিকতার আবির্ভাব ঘটেছিল তাদের সমাজের মধ্য থেকে তৈরি হওয়া দ্বন্দ সংঘাতের স্বাভাবিক পরিণতির মধ্যে দিয়ে। ধর্মীয় সংস্কারের নামে চার্চের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছে, সেকুলাররা দীর্ঘদিন সংগ্রাম করে, বুকের রক্ত ঢেলে রাষ্ট্রকে চার্চের প্রভাবমুক্ত করেছে, গণতান্ত্রিকরা বহু বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাজতন্ত্রকে পরাজিত করেছে। এই আধুনিক পশ্চিমারা যখন প্রাচ্যের দেশগুলো দখল করে উপনিবেশ স্থাপন করলেন, তখন সেসব দেশ থেকে সামন্তবাদের বিনাশ ঘটানো তাদের উদ্দেশ্য ছিল না, বরং সামন্ত প্রভুদের মাধ্যমে উপনিবেশের জনগণকে শাসন করা ছিল তাদের লক্ষ্য। শাসন ব্যবস্থা পাকা পোক্ত করার জন্যেই উপনিবেশিত জনগণের কিছু অংশকে তারা ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। এরাই প্রাচ্যের প্রথম আধুনিক, প্রথম সেকুলার। এদের জন্ম যেমন সাভাবিক সামাজিক সংগ্রামের পরিণতিতে হয় নাই, তেমনি এরা যখন পশ্চিমের প্রভুদের কাছ থেকে নিজের দেশ শাসন করার ক্ষমতা লাভ করেছে তখন যেধরণের রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে তা নামে ‘গণতান্ত্রিক’ ও পোষাকে ‘আধুনিক’ হইলেও স্বাভাবিক সমাজ পরিবর্তনের ফলাফল ছিল না। তারপরও এসব রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে আধুনিক হয়ে ওঠার প্রচেষ্টা সবসময়ই ছিল। মধ্যযুগ দিয়ে যে আধুনিকের সাথে লড়াই করে জেতা যাবে না তা জনগণের বুঝে উঠতে সময় লাগে নাই। তাই তারা আধুনিক হওয়ার চেষ্টা করে গেছে। বাংলাদেশের শাহবাগ আন্দোলন এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরব স্প্রিং স্বাধীন রাষ্ট্রে আধুনিক তারুণ্যের উত্থানের প্রমান। কিন্তু অতীতে আমরা যা দেখেছি, এবং গত এক দশকে যা দেখলাম, তাতে পাশ্চাত্যের আধিপত্ববাদী রাজনৈতিক শক্তিগুলো প্রাচ্যকে মধ্যযুগীয় বানিয়ে রাখতেই বেশি পছন্দ করে বলে মনে হয়। আধুনিকের চেয়ে মধ্যযুগীয়দেরকে শাসন করা অনেক বেশি সহজ। আমরা দেখেছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সৌদী আরবের মতো মধ্যযুগীয় শক্তিকে টিকিয়ে রাখতে এবং বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের জাতীয়তাবাদী সেকুলার শক্তিগুলোকে উৎখাতে কতোটা সচেষ্ট। বাংলাদেশেও আমরা দেখলাম যুক্তরাষ্ট্রের ভুমিকা শাহবাগের সেকুলার জাতীয়তাবাদীদের বিপক্ষে এবং জামাত ইসলামীর পক্ষে। আমরা দেখতে পেলাম, ঠিক যেই সময়টাতে প্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে অপেক্ষাকৃত পরিণত বুর্জোয়া মানসিকতার প্রজন্মের আবির্ভাব হয়েছে তখনি এই দেশগুলোকে বানিয়ে দেয়া হলো সীমাহীন যুদ্ধের ময়দান। বাংলাদেশে একসময় গণতন্ত্র ছিল, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের এই ধরণের ভবিষ্যতের ভয় কম। কিন্তু ২০১৩ সালে বাংলাদেশে যে সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছিল, সমাজের ভেতর থেকে সেই সংঘাতের সমাধান ও শান্তির পথ আমরা খুঁজে পাই নাই। আমরা স্বৈরতন্ত্রের দামে সাময়িক শান্তি কিনেছি। এই শান্তি উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া, সমাজের ভেতর থেকে উঠে আসা নয়। জনপ্রিয়তাহীন সেকুলার স্বৈরশাসন আর তার বিপরীতে প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে ইসলামিস্টদের আবির্ভাবের পরবর্তিতে কি হয় তা আমরা এখন লিবিয়া, মিশর, ইরাক, সিরিয়া ইত্যাদি দেশে দেখতে পাচ্ছি। বাংলাদেশে যে সেই অবস্থা হবে না, এখন আর তা সাহস করে বলতে পারি না।

এই সাম্প্রদায়িকতা, এই সন্ত্রাস, এই সম্ভাব্য ভবিষ্যত থেকে বাঁচার উপায় কি আমি নিজের মতো করে বুঝার চেষ্টা করি। আমার জ্ঞান বুদ্ধি এবং শক্তি কোনটাই খুব বেশি না। আমার তাই খুব বেশি কিছু করার উপায়ও নাই। কিন্তু সংঘাতে যখন আমাদের সবার অস্তিত্ব বিপন্ন হবে, তখন শান্তির পথ খুঁজবেন সবাই। সেই সময় শান্তির পথ খুঁজে না পাওয়া গেলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে হবে। আমি তাই মুসলিম, সেকুলার, আস্তিক, নাস্তিক নির্বিশেষে সবাইকে মনোলিথের বদলে ডাইভার্সিটির গল্প শুনাই। আমার ইস্টিশন ব্লগের গত কয়েক মাসের লেখাগুলো যারা নিয়মিত পড়েছেন তারা জানেন যে, আমি সংঘাতের পর শান্তির রাস্তা নির্মানের জন্যে পরিশ্রম করে যাচ্ছি মাত্র। আজকের এই গুড বনাম ইভিলের যেই দ্বন্দে সবাই নেমেছেন তাতে আমার এই শ্রমের মূল্য খুব বেশি নয়, কিন্তু ভবিষ্যতে যখন মানুষ শান্তির রাস্তা খুঁজবে তখন এই শ্রম কোন কাজে লাগলেও লাগতে পারে।

হেফাজতের উত্থানের সময় বাংলাদেশের অনেক নাস্তিক প্রগতিশীলরা ঘাবড়ে গেছিলেন। নাস্তিকদের উপর হামলায় অনেকে লেখা বন্ধ করে দিসিলেন। গ্রেফতারের আতঙ্কে অনেকের লেখার ভাষা পরিবর্তন হয়ে গেছিল। কিন্তু এখন উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া শান্তির সময়ে অনেকেই খুব অল্প সময়ে এক ধরণের নিরাপত্ত্বার অনুভুতি ফেরত পেয়েছেন, এবং আগের মতোই কোন দায় দায়িত্ব না নিয়ে ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্বন্ধে প্রায় অজ্ঞ একটি অবসথান নিয়ে লিখে যাচ্ছেন। আমরা যে একটি খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছি, বাংলাদেশ যে একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিড়ির উপর বসে আছে এই বিষয়টা তারা বুঝতে পারছেন না। যখন বুঝতে পারবেন, তখন হয় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন অথবা বাংলাদেশের শান্তির জন্যে বিদেশীদের হস্তক্ষেপ কামনা করবেন, এখন যেমন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পশ্চিমের প্রেসিডেন্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। প্রবল সংঘাতের এই সময়ে অভিজিৎ রায়ের মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যখন একটি প্রায় স্যুডো সায়েন্টিফিক তত্ত্ব দিয়ে জঙ্গীবাদ ব্যাখ্যা করলেন এবং টেরোরিস্টদের ইসলামকে সহিহ ইসলাম প্রচার করে শান্তির বদলে সংঘাতের ডিসকোর্সেই হাওয়া দিলেন, তখন তিনি সেটা বুঝে করছেন না কি না বুঝে, না কি তিনি বুঝে শুনে স্পেসিফিক উদ্দেশ্য নিয়েই করছেন তা জানার উদ্দেশ্যেই আসলে সমালোচনাটি করতে বাধ্য হয়েছি। পাশাপাশি নিজের কথাগুলো তুলে ধরা জরুরি মনে করেছি। আমার উদ্দেশ্য কিছুটা সফল হয়েছে বলা যায়।

যাই হউক, আমি অভিজিৎ রায়ের সমালোচনা আসলে ভয়ের চোটেই করেছিলাম। তবে সেটা আমার একার অস্তিত্বের জন্যে নয়। বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্যে ভয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “অভিজিৎ রায়ের সমালোচনা করেছি বাংলাদেশের স্বার্থে

  1. আপনার আগের রিপ্লাইটা ঠিক যতটা
    আপনার আগের রিপ্লাইটা ঠিক যতটা ভাল লেগেছে, এবারেরটা ততটা ভাল লাগলো না।
    উনি বাংলাদেশকে বিপদে ফেললেন কোথায়?
    উনি শুধু ইসলামের সমালোচনা করলেন কোথায়?
    বলবেন কি?

  2. আপনি যেভাবে আমাদের প্রজন্মের
    আপনি যেভাবে আমাদের প্রজন্মের ভবিষ্যত আশঙ্কায় চিন্তিত, অভিজিত বা প্রবাসী নাস্তিক বা মুক্তচিন্তাকারিরা ঐভাবে চিন্তা করেনা। ইউরোপ-আমেরিকায় বসে বসে বাংলাদেশটাকেও একই রকম ভাবে। কিন্তু এখানের বাস্তবতায় মুক্তচিন্তার চর্চা ও প্রকাশ ঘটানোর জন্য কৌশলগত পন্থায় এগোনো ছাড়া কোনভাবেই সম্ভব না। রাষ্ট্র যখন চলে মধ্যযুগিও কায়দায়,তখন কৌশল অবলম্বন করার বিকল্প কিছু নাই।

    আপনার বক্তব্যগুলোর সাথে একমত পোষন করছি।

    1. কৌশলের সাথেতো কারো কোনও
      কৌশলের সাথেতো কারো কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু কৌশল যদি নীতিগত অবস্থান কে পালটে দেয়, সেটা বিপদজনক। অভিজ্ঞতা বলে কৌশল আমাদের মেধাবী মানুষদের আপোষের পথে ঠেলে দেয়, তার বহু উদাহরন- অভিজ্ঞতা সাম্প্রতিক ইতিহাসে আছে। যাই হোক, এই কৌশলে যদি আমাদের মেধাবী সন্তান্ দের পা পিছলে না যায়, তাহলে, এগিয়ে চলুন। দেশ নিশ্চয়ই এগিয়ে যাবে আপনাদের দেখানো পথে।

      1. যারা নষ্ট হওয়ার তারা এমনিতেই
        যারা নষ্ট হওয়ার তারা এমনিতেই নষ্ট হবে। বিপদ আছে জেনে স্রোতের প্রতিকুলে নৌকা চালাবার পক্ষে তারা স্থুল চিন্তার প্রসার ঘটিয়ে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারবে। এতে বারোটা বাজবে দেশে বিকাশমান মুক্তচিন্তার। বিদেশে বসে মুক্তচিন্তা চর্চা করে দেশের স্বপক্ষের মানুষদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া কোন ধরনের বিজ্ঞানমনস্কতা?

        আমরা যারা দেশে থাকি, তারা বিদেশি মুক্তচিন্তাকারিদের স্বপক্ষের মনে করছিনা বিজ্ঞান মনস্ক তাত্বিক অভিজিতের ব্যক্তি আক্রমনমুলক পোস্টের পর। আমাদের সবার বক্তব্য ছিল একটাই- অভিজিতের ঐ স্ট্যাটাসটি কি সঠিক ছিল? আপনারা সবাই এড়িয়ে গেছেন। অভিজিতের স্বপক্ষে যুদ্ধে নেমে গেছেন। এটা ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। ব্যাক্তি পারভেজের ইমেজের চেয়ে অভিজিতের মুক্তমনা ভাবনা ও দর্শনের ক্ষতি হয়েছে।

        আসিফের মত ছাগলকে দিয়ে অভিজিতের ব্র্যান্ডিং করার প্রচেষ্টা খুবই হাস্যকর মনে হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে অভিজিৎ মহাশয়কে আরো অনেক উচু শ্রেনির এক্টিভিস্ট ও মুক্তবুদ্ধি চর্চাকারি মনে করতাম। সেই ভুল ভেঙ্গে গেছে। আমার মত অনেকরই। দিনশেষে হিসেব কষে দেখেন, ক্ষতিটা অভিজৎ এবং তার অন্ধ অনুসারিদেরই হয়েছে। আচরন হয়ে গেছে সিপি গ্যং এর এক্টিভিস্টদের মত।

        স্বপক্ষের শক্তিকে যারা চিনতে পারেনা তাদের দিয়ে অন্তত বৈপ্লবিক কোন পরিবর্তন সম্ভব নয়।

        1. আপনার চমৎকার মন্তব্যের জন্যে
          আপনার চমৎকার মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ। বিজ্ঞান মনস্কতা ইতিহাসের কোনও কালে কোনও দেশেই গনভোট দিয়ে সংজ্ঞায়িত হয়নি। অবশ্য আপনাদের কথা আলাদা, আপনারা যদি সিদ্ধান্ত নেন কে বিজ্ঞান মনস্ক আর কে নয়, কে তাকে ঠেকাবে বলুন। সেই হোল, প্রকৃত বিজ্ঞান মনস্ক হচ্ছেন আপনি এবং আপনি আর যাদেরকে মনে করেন। বাকি সবাই বিজ্ঞান মনস্কতার বাইরের লোক। আর বিদেশে যারা থাকে, তাদেরতো বিজ্ঞান মনস্ক হবার কোনও সুযোগই নেই। জয় আপনাদের। জয় বিজ্ঞান মনস্কতার।

  3. চমৎকার চিন্তাশীল পোষ্ট পারভেজ
    চমৎকার চিন্তাশীল পোষ্ট পারভেজ ভাই। দূর্দান্ত গতিতে লিখে যান। পেছনে তাকানোর দরকার নাই। খেয়োখেয়ির এসব বালখিল্যতা থেকে নিজে তফাৎ থাকুন।

  4. পারভেজ আলমের আলোচ্য পোষ্টটি
    পারভেজ আলমের আলোচ্য পোষ্টটি পড়ে মনেহলো হল, জংগিবাদই ধর্মের মূল সমস্যা(ধর্মের অন্য কোন সমস্যার কথা ঐ লেখায় তিনি উল্লেক করেন নি।ধর্ম নিয়ে আলোচনায় ধর্মের অন্য সমস্যাগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো এড়িয়ে যাওয়া উচিত না) এবং অধিকাংশ মডারেট মুসলিমই যেহেতু জংগিবাদ কে সহী ইসলাম বলে মনেকরে না, সুতরাং ওটা প্রকৃত ইসলাম নয়।এখন অভিজিৎ রায়ের উচিত মডারেটদের ইসলামকে সহী ইসলাম বলে মেনে নেওয়া এবং যদি তা করেন না তাহলে উনি সালাফি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 3 =