‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ তত্ত্বের সমস্যা ও সংকট

যখন বিতর্ক আশা করেছিলাম তখন ক্যাচাল উপহার পেয়েছি। ক্যাচালে নামার পরে বিতর্ক উপহার পাইলাম। এই উপহারেও ক্যাচালের উপাদান কম নাই, কিন্তু তা আপাতত অপ্রধান বলে গন্য করলাম। প্রধান বিষয় হচ্ছে, অভিজিৎ রায় এবং মুহাম্মদ গোলাম সারওয়ার মিমতত্ত্ব ও ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ বিষয়ক আমার করা কিছু প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। যদিও এসবের বাইরেও আমার আরো কিছু প্রশ্ন ছিল যেসবের জবাব পাই নাই। গোলাম সারওয়ার লিখেছেন, অভিজিৎ রায়ের আমার সকল প্রশ্নের উত্তর দেয়ার দায় নাই, কারন আমার প্রশ্নগুলো অপ্রাসঙ্গিক। অপ্রাসঙ্গিক কারণ অভিজিৎ রায়ের মতো একজন বিজ্ঞান লেখকের নাকি ‘জাতীয়তাবাদী’ তত্ত্ব বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দেয়াটা দায়িত্বপূর্ণ কাজ হবে না। জাতীয়তাবাদী তত্ত্ব বলতে গোলাম সারওয়ার কি বুঝাইছেন আমি জানি না, আমি কোন জাতীয়তাবাদী তত্ত্ব বিষয়ে অভিজিৎ রায়কে কোন প্রশ্ন করি নাই। গোলাম সারওয়ার খুব সম্ভবত রাজনৈতিক প্রশ্নের কথা বুঝিয়েছেন। কিন্তু অভিজিৎ রায় যে লেখাটি লিখেছেন তা কেবলি একজন বিজ্ঞান লেখকের বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ নয়। লেখাটিতে সমাজ, ধর্ম, রাজনীতি ইত্যাদি প্রসঙ্গ আছে, টেরোরিজম সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের একটি মডেল আছে। টেরোরিজম বিষয়টাই বর্তমান দুনিয়ার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ফেনোমেনা। এখন বিজ্ঞান লেখক যদি রাজনীতি বিষয়ে লিখে থাকেন, তাহলে বিজ্ঞান লেখককে রাজনীতি বিষয়ে প্রশ্ন করা কিভাবে অপ্রাসঙ্গিক হয় আমি বুঝতে পারলাম না। যাই হউক, আপাতত যতোটুকু উত্তর পেয়েছি তার উপর ভর করেই এই বিতর্কে আমার সম্ভাব্য সর্বশেষ লেখাটি লিখছি। কোরান হাদিসের কনটেক্সচুয়াল ব্যাখ্যা বিষয়ক কিছু আলোচনাও বিতর্কের খাতিরে এসেছে, সেই বিষয়ে কিছু প্রশ্নও এসেছে। এই বিতর্কে সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়া জরুরি মনে করছি না। বিতর্ক শেষে ভিন্ন পোস্টে লেখার ইচ্ছা রাখি।

মিমতত্ত্ব বিষয়ে আগের লেখাগুলাতে আমার অবস্থান জানিয়েছি। মিমতত্ত্ব আমারো একটি আগ্রহের বিষয়, কিন্তু এই তত্ত্বে অভিজিৎ রায়ের মতো বিশ্বাস আমার নাই। কেনো নাই, তাও বলেছি। এবার আরো পরিস্কার ভাষায় বলি। ‘মিম’ ধারণাটি এখন পর্যন্ত কাল্পনিক। একে ধরা যায় না, ছোয়া যায় না, এর কোন সুস্পষ্ট সংজ্ঞায়ন হয়েছে বলেও আমার জানা নাই। বায়োলোজিকাল ইভোলুশনে জিনের ভুমিকা আমরা জানি, জিন পর্যবেক্ষনযোগ্য বাস্তব বস্তু। কিন্তু কালচারাল ইভোলুশনের ব্যাখ্যায় ‘মিম’ তেমন কিছু না, অর্থাৎ পর্যবেক্ষন যোগ্য কোন ইউনিট না। মিমতত্ত্বকে কেউ যদি সিউডো সায়েন্স বলে অভিযোগ করে তবে তা উড়িয়ে দেয়া যাবে না। আমার আগের লেখায় এসব কথা কোন রেফারেন্স ছাড়াই লিখেছি বলে গোলাম সারওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। অর্থাৎ ওনার কাছে আমার দেয়া যুক্তি এবং তথ্যের চাইতে কোন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির রেফারেন্স পছন্দনিয় হবে। ওনার জন্যে এবং ওনার মতো আর যারা আছেন তাদের জন্যে কিছু রেফারেন্স দিয়েই তাই কথা বলবো।

অভিজিৎ রায় যতোই ইম্পেরিকাল এভিডেন্সের দাবি করুন, এবং মুহাম্মদ গোলাম সারওয়ার মিমতত্ত্বকে বিজ্ঞান বলে দাবি করুন না কেনো, আমি অদ্যোবোধি ‘মিম সায়েন্স’ জাতীয় কোন টার্ম ব্যবহৃত হতে দেখিনাই। মিমেটিক্স এখনো সায়েন্স হয়ে উঠতে পারে নাই বলেই দেখি নাই। উদাহরণ স্বরূপ বিখ্যাত কগনেটিভ সায়েন্টিস্ট স্টিভেন পিংকারের উক্তি তুলে ধরা যায়। তিনি ২০০৯ সালে তার একটি হার্ভার্ড লেকচারে বলেছেন –

“ বাস্তবতা হলো, প্রাকৃতিক নির্বাচনের কায়দায় সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের বিজ্ঞান হিসাবে ‘মিমেটিক্স’ কখনোই গুরত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে নাই। ধারণাটি ৩৫ বছরের পুরনো। প্রতি পাঁচ বছর পর পর এই তত্ত্বের সর্বশেষ উন্নয়ন সম্বন্ধে খবর জানাতে নতুন প্রবন্ধ হাজির হয়, কিন্তু আমরা ‘মিমেটিক্সের বিজ্ঞান’ এখনো হাজির হতে দেখলাম না”।

মিম বিষয়টি শুধুমাত্র বিবর্তনতত্ত্বের জ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা অথবা প্রমান করা সম্ভব বলে আমার কখনো মনে হয় নাই। মূল বিষয়টি কগনেটিভ সায়েন্সের। কিন্তু সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান ছাড়াও কালচারাল ইভোলুশন ব্যাখ্যা করা সহজ হবে বলে আমার মনে হয় না। মিমতত্ত্বের প্রচারকরা অভিযোগ তুলতে পারেন যে, সমাজ বিজ্ঞানীদের বিবর্তনবাদ বিষয়ক এলেম কম থাকায় তারা কালচারাল ইভোলুশন ব্যাখ্যায় মিমতত্ত্বকে ব্যবহার করতে পারছেন না। সমস্যা হলো সমাজ বিজ্ঞানীরা ভৌত বিজ্ঞান সম্বন্ধে যতোটুকু জ্ঞান রাখেন, ভৌত বিজ্ঞানীরা বোধহয় সমাজ বিদ্যা সম্বন্ধে তারচাইতেও অনেক কম জ্ঞান রাখেন। সব মিলিয়ে মিমতত্ত্বকে এখন পর্যন্ত কেউ ‘বিজ্ঞান’ বলতে পারছে না। মিমতত্ত্বকে সরাসরি সিউডো সায়েন্স বলেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানী লুই বেনিটেস ব্রিবিয়েস্কা। তার ভাষায় –

“জিন পরিস্কার ভাবে সংজ্ঞায়িত এবং এর মলিকুলার গঠন পর্যবেক্ষনযোগ্য, অন্যদিকে মিম হলো কাল্পনিক এবং এর সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নাই। ……মিমেটিক্স একটি সিউডো সায়েন্টিফিক ডগমার চাইতে বেশি কিছু নয় যেখানে মিমকে কখনো জিন, কখনো ভাইরাস, কখনো প্যারাসাইট আবার কখনো মানুষের মস্তিস্কে বেঁচে থাকা ‘ইনফেকশাস এজেন্ট’ বলে গন্য করা হয়”।

এখানে বলে রাখা দরকার, যদিও আমি বাজি ধরে বলতে পারবো না যে মিমতত্ত্ব সিউডো সায়েন্স নয়, কিন্তু আমি লুই বেনিটেস ব্রিবিয়েস্কার সাথে পুরাপুরি একমত নই। আমি এখনো মিমতত্ত্বকে বাতিলের তালিকায় ফেলতে রাজি নই। সায়েন্স না হয়ে উঠতে পারলেও মিমতত্ত্বকে সিউডো সায়েন্স বানিয়েছেন আসলে যারা মিমতত্ত্বকে তাদের ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠিগত রাজনৈটিক টুল অথবা ডগমা হিসাবে ব্যবহার করতে গেছেন তারাই। মিমতত্ত্বের মধ্যে ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ জাতীয় ধ্যান ধারণার হাজির করায় মিমতত্ত্বকে সায়েন্স হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার পথে কোন লাভতো হয়ই নাই, বরং মিম জিনিসটার সংজ্ঞায়ন ও ব্যাখ্যা আরো জটিল হয়ে একে সিউডো সায়েন্সের পর্যায়ে নামিয়ে ফেলেছে। রিচার্ড ডকিন্স এবং তারপর থেকে যারা মিমেটিক্সের ছাতার নিচে ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ থিওরি প্রচার করেছেন, তারাই আসলে মিমতত্ত্বকে দূর্বদ্ধ এবং অপবিজ্ঞানে পরিণত করেছেন। অভিজিৎ রায়ের লেখা থেকেই এই বিষয়টা আরো পরিস্কার বুঝা যাবে। আমি ওনার টেক্সট ধরে ধরে উদাহরণ দিচ্ছি। যেমন অভিজিৎ রায় লিখেছেন –

“আমি প্রশ্ন রেখেছি – আমাদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা প্রথাগত বিশ্বাসের ‘ভাইরাসগুলোও’ কি আমাদের সময় সময় এভাবে আমাদের অজান্তেই বিপথে চালিত করে না কি? আমরা আমাদের বিশ্বাস রক্ষার জন্য প্রাণ দেই, বিধর্মীদের হত্যা করি, টুইন টাওয়ারের উপর হামলে পড়ি, সতী নারীদের পুড়িয়ে আত্মতৃপ্তি পাই, বেগানা মেয়েদের পাত্থর মারি”।

পাঠককে সতর্ক পাঠের অনুরোধ করছি। খেয়াল করুন, এই অংশটুকুতে অভিজিৎ রায় ‘মিম’ বিষয়টিকে পুরোপুরি বায়োলোজিকাল ভাইরাসের মতো করে ব্যাখ্যা করছেন। তিনি বলছেন, এই বিশ্বাসের ভাইরাসগুলো আমাদের অজান্তেই আমাদেরকে চালিত করে। অর্থাৎ, বায়োলোজিকাল ভাইরাসগুলো যেমন আমাদের অজান্তেই আমাদের শরীরে জায়গা করে নিয়ে আমাদের ইচ্ছার তোয়াক্কা না করে তার ইচ্ছা অনুযায়ি আমাদের চালানোর চেষ্টা করে, তেমনি ‘বিশ্বাসের ভাইরাসে’রও এইরকম নিজস্ব ইচ্ছাশক্তি আছে।

এবার মুহাম্মদ গোলাম সারওয়ারের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছি। যেহেতু অভিজিৎ রায় লেখাটিকে এপ্রুভ করেছেন তাই অভিজিৎ রায় গোলাম সারওয়ারের সাথে একমত ধরে নিচ্ছি।

“অর্থাৎ কুরআনের বা যেকোনো ধরমগ্রন্থের একটি হোস্ট দরকার, তার নিজেকে বৃদ্ধির জন্যে, নিজের বিস্তারের জন্যে। হোস্ট বিহীন কুরআন বা বাইবেল বুক শেলফ এর আরও তিন হাজার পুস্তকের মতই একটি নিরুপদ্রব পুস্তক। কিন্তু যখন ধর্ম গ্রন্থ একটি হোসট লাভ করে, তখন? তখন সে তার হোস্ট এর উপরে নিয়ন্ত্রন নিতে থাকে এবং এক পর্যায়ে হোস্ট তার নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে দাস হয়ে পড়েন ধর্মের, যাকে “ধর্মীয় অনুশাসন” নামে চালানো হয়ে থাকে। এই অনুশাসন মানুষ কে মুসলমান বানায়, হিন্দু বানায়, শিখ বানায় তারপর একজনকে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেয়। অর্থাৎ মানুষের স্বাভাবিক চিন্তার জায়গাটির নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয় ধর্ম”।

গোলাম সারওয়ার এইখানে মিম কিংবা ভাইরাস বলতে কি বুঝিয়েছেন তা বুঝা যাচ্ছে না। প্রথম লাইন পড়লে মনে হয় ধর্মগ্রন্থ জিনিসটিই ভাইরাস। তবে ধর্মগ্রন্থ যখন হোস্টের দেহে যায় তখন হোস্টকে নিয়ন্ত্রন করে হলো ‘ধর্মীয় অনুশাসন’। এখানে তিনি ধর্মীয় মিমকে গ্রন্থ এবং অনুশাসন আকাড়ে ব্যাখ্যা করছেন। উনি বলছেন, ধর্মীয় মিম বা ভাইরাসকে ধর্মীয় অনুশাসন নামে চালানো হয়, কে চালায় তা বুঝতে পারলাম না। ধর্মগ্রন্থ যদি নিজেই হোস্ট লাভ করে বিস্তার লাভ করতে পারে, তাইলে ধর্মীয় অনুশাসন নামে ধর্মের বানীকে চালায় কে? সে যাই হোক, উপরে উল্লেখিত অভিজিৎ রায়ের উক্তির সাথে গোলাম সারওয়ারের বক্তব্যেও ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’কে নিজস্ব ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য সম্পন্ন ভাইরাস বলে মনে হয় যা মানুষের মস্তিস্কের নিয়ন্ত্রন নিয়ে তার স্বাভাবিক চিন্তা নিয়ন্ত্রন করে। তবে অভিজিৎ রায়ের ভাষায় ধর্মীয় বিশ্বাসগুলো হলো ভাইরাস, আর গোলাম সারওয়ারের ভাষায় ধর্ম বা ধর্মীয় অনুশাসন হলো ভাইরাস। এমনিতে ধর্ম হলো অনুশাসন এবং বিশ্বাসের সমষ্টি। অভিজিৎ রায় আর গোলাম সারওয়ারের বক্তব্য তাই এইখানে কাছাকাছি হলেও এক নয়, বরং একসাথে পড়লে মিম বা বিশ্বাসের ভাইরাসের আকাড় আকৃতি বুঝার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

এবার অভিজিৎ রায়ের লেখার ভিন্ন কিছু জায়গা থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছি। জাতীয়তাবাদী মিমকেও ভাইরাস বলা যায় কি না আমার এই প্রশ্নের জবাবে অভিজিৎ রায় লিখেছেন –

“হিটলার মুসলিনীর মতো শাসককে কি আমরা অতীতে দেখিনি যারা দেশপ্রেম আর জাতীয়তাবাদকে পুঁজি করে লক্ষ লক্ষ মানুষকে সম্মোহিত করে ফেলেছিল”?

এই অংশটুকু পড়লে মনে হবে দেশপ্রেম অথবা জাতীয়তাবাদের ভাইরাসের নিজস্ব ইচ্ছাশক্তির চাইতে হিটলার অথবা মুসোলিনীর ইচ্ছাশক্তি অধিক। অথবা ধর্ম এবং বিশ্বাসের মিমের ক্ষেত্রে যেমন ভাইরাসের আপন ইচ্ছাশক্তির কথা অভিজিৎ রায় বলেছেন, দেশপ্রেম এবং জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রে তিনি তেমনটা বলছেন না। অর্থাৎ দেশপ্রেম কিংবা জাতীয়তাবাদকে ভাইরাস হয়ে উঠতে হলে তাকে হিটলার অথবা মুসোলিনীর পুঁজি হতে হবে, কিন্তু ইসলাম ধর্মকে ভাইরাস হয়ে উঠতে হলে ওসামা বিন লাদেনের পুঁজি করা লাগবে এমন কিছু তিনি কোথাও লেখেন নাই। কোরানের আয়াতের উপর তার ফোকাস থেকে ধরে নেয়া যায়, ওসামা বিন লাদেন পুঁজি করার আগে থেকেই ইসলাম ধর্ম ভাইরাস। তবে অভিজিৎ রায়ের অন্যান্য আলোচনার খাতিরে ধরে নিলাম, জাতীয়তাবাদ এবং ধর্ম বিষয়ক ভাইরাসগুলো আসলে একি রকম। যেমন তিনি লিখেছেন –

“আসলে যে কোন ধারণাই ছড়ায় একই ভাবে – মেমেটিক্সের নিয়ম মেনে মানব মস্তিষ্ককে পুঁজি করে ছড়ায় এক হোস্ট থেকে অন্য হোস্টে। আর স্বাভাবিকভাবেই কখনো কখনো কোন কোন ধারনা হয়ে উঠতে পারে ভাইরাসের মতোই বিধ্বংসী, কিংবা ক্ষতিকর”।

গোলাম সারওয়ার আমাকে ভাইরাস বিষয়ক লেখা পড়তে বলেছিলেন। তিনি বলেছেন, আমার ভাইরাস সংক্রান্ত সাধারণ এলেম না থাকার ফলে আমি অভিজিৎ রায়ের লেখা বুঝতে পারি নাই। অভিজিৎ রায় ও গোলাম সারওয়ারের যেসব উদ্ধৃতি আগে উল্লেখ করেছি তাতে পাঠক দেখেছেন যে ধর্মীয় মিমগুলোকে ভাইরাস বলার কারন হিসাবে তারা হোস্টের উপর নির্ভর করে ছড়িয়ে পরার উদাহরণ টেনেছেন। কিন্তু অভিজিৎ রায়ের সর্বশেষ উক্তি ভিন্ন কথা বলছে। এখানে অভিজিৎ রায় বলছেন ‘ধারণা’র কথা। এখানে ধারণাকে তিনি যতোদুর বুঝতে পারছি মিমের প্রতিশব্দ হিসাবে ব্যবহার করছেন। মিম তত্ত্বের সমালোচকরা অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে মিম হলো ‘ধারণা’ তথা আইডিয়ার একটি অপ্রয়োজনীয় প্রতিশব্দ। যাই হোক, অভিজিৎ রায় বলছেন, কখনো কখনো এইসব ধারণা বা মিম ভাইরাসের মতো বিদ্ধংসী কিংবা ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। অর্থাৎ ভাইরাসের মতো এক হোস্ট ঠেকে আরেক হোস্টে ছড়ায় বলে নয়, অভিজিৎ রায় একটি মিমকে ভাইরাস বলছেন যখন সেই মিমটি ক্ষেত্র বিশেষে বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে তখন। সমস্যা হলো, এখানে অভিজিৎ রায়ের কথা অনুযায়ি, ধারণা বা মিমগুলো মিমেটিক্সের নিয়ম মেনে এক হোস্ট থেকে আরেক হোস্টে ছড়ালেও সেগুলাকে ঠিক ভাইরাস বলা যাচ্ছে না। ভাইরাস বলা যাচ্ছে যখন তার মাধ্যমে ক্ষতিকর বা বিদ্ধ্বংসী কোন কিছু ঘটছে তখন। এর আগের উক্তিতে যেখানে ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’কে ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন এবং মানুষকে তার অজান্তে নিয়ন্ত্রন ক্ষমতা সম্পন্ন ভাইরাস বলে মনে হয়েছিল, অভিজিৎ রায়ের এই বক্তব্যে আর তেমন মনে হচ্ছে না। এই বক্তব্যে উলটো মনে হচ্ছে জগতের সকল ধারণাই আদতে ভাইরাস নয়, কিন্তু ভাইরাস হয়ে উঠতে পারে যখন সেসব ধারণা ব্যবহার করে সমাজের ক্ষতি সাধন হয়। দিনশেষে বিষয়টা নৈতিক অবধারণায় আটকে গেলো। অর্থাৎ, কোন ধারণাকে আমি সমাজের জন্যে ক্ষতিকর মনে করলে তাকে ভাইরাস বলে প্রচার করতে পারি, ক্ষতিকর না মনে হলে ভাইরাস না বলে বরং তার পক্ষেও প্রচার চালাতে পারি। অভিজিৎ রায় আরো বলেছেন –

“আমার চোখে যে কোন ধারণা – সেটা জাতীয়তাবাদ হোক, উগ্র দেশপ্রেম হোক, সমাজতন্ত্র এমনকি গণতন্ত্রও ভাইরাস হয়ে উঠতে পারে”।

এই বক্তব্য থেকে আসলে হোস্ট নির্ভর সভাব বিশিষ্ট ভাইরাসের আলোচনা পুরাপুরি অর্থহীন হয়ে যায়। কারন অভিজিৎ রায় একরকম স্পষ্ট করে বলছেন যে, কোন ধারণা বা মিম ইটসেলফ আসলে ভাইরাস নয়। তা ভাইরাস হয়ে উঠতে পারে। কখন তা ভাইরাস হয়ে উঠতে পারে তা আগেই বলেছেন, যখন ক্ষতিসাধন হয় তখন। এখানে আরেকটি ইন্টারেস্টিং বিষয় সামনে চলে আসে। অভিজিৎ রায়ের কথা মেনে নিলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে দেশপ্রেম এবং গণতন্ত্রকে পুঁজি করে ইরাকে হামলা চালিয়েছে, তাকেও ভাইরাস আক্রান্ত মননের বহিপ্রকাশ বলা যায়। প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরাকে হামলা না চালাতো তাহলে আইসিসের জন্মও হতো না। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের ভাইরাস ইসলামের ভাইরাস বিস্তারে সহায়তা করছে। কিন্তু অভিজিৎ রায় দেখা যাচ্ছে যে আইসিস সমস্যা সমাধানে ইরাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকেই প্রধান মানছেন। তাইলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং অভিজিৎ রায় কি একি ভাইরাসে আক্রান্ত? অভিজিৎ রায় আরো বলেছেন –

“বিশ্বাসের ভাইরাসও সেরকমই। অনেকের মধ্যেই ভাইরাসটি সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে এর প্রকাশ ঘটে। যেমন ঘটেছিল রেজওয়ানুল নাফিসের ক্ষেত্রে। জিহাদী ভাইরাসের সংক্রমণে তার মস্তিস্ক আবিষ্ট হয়েছিল আগেই, কিন্তু এর প্রকাশ ঘটে আমেরিকা এসে জিহাদী নেটোয়ার্কের সাথে সুলভ সংযোগ এবং পরবর্তীতে ফেডারেল ভবন উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার মাধ্যমে”।

নাফিসের ঘটনাটি যখন পড়েছিলাম, যতোদুর মনে পরে নাফিস ফেডারেল ভবন উড়িয়ে দিতে গিয়েছিল কোন জিহাদী নেটওয়ার্কের সাথে সংযোগের কারণে নয়, জিহাদী সেজে থাকা এফবিআইয়ের সাথে সংযোগের কারণে। যাই হউক, পাঠক খেয়াল করুন, এর আগে আমরা পড়েছি যে বিশ্বাসের ভাইরাস হোস্টের দেহে সওয়ার হয়ে হোস্টকে চালিত করে। এখানে আমরা পড়ছি যে হোস্টের দেহে সওয়ার হলেই হয় না, বাইরের প্রভাবকের দরকার হয়। বাইরের প্রভাবক ব্যতিত তা সুপ্ত অবস্থায় থাকে। এখন বাইরের প্রভাবক (যেমন জিহাদী নেটওয়ার্ক অথবা এফবিআই) ব্যতিত যদি একটি মিম ভাইরাস হয়ে উঠতে নাই পারে, তাইলে তাকে আদৌ ভাইরাস বলা কি ঠিক হয়?

আবার অভিজিৎ রায় যখন ভাইরাস প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে শুধু মিম বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে যান, তখন তার ভাইরাস সংক্রান্ত আলোচনা আরো সমস্যার তৈরি করে। যেমন অভিজিৎ রায় কৌতুক সম্বন্ধে লিখেছেন –

“একটি সার্থক কৌতুক আসলে একটি সার্থক মিমের উদাহরণ। চিন্তা করে দেখুন – একটা জোক আসলে কিছুই নয়, কেবল কতগুলো তথ্যের সমাহার। অথচ সেটাই পুনরাবৃত্তি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে আমার আপনার মস্তিষ্ক তথা হোস্টের প্রেষণার মাধ্যমে”।

একটি স্বার্থক কৌতুক একটি স্বার্থক মিমের উদাহরণ হতে পারে, আমি একমত। এখানে মিম সম্বন্ধে অভিজিৎ রায় এক ধরণের সংজ্ঞাও দিয়েছেন, তা হলো ‘কতোগুলো তথ্যের সমাহার’। কিন্তু একটি কৌতুকও কি ভাইরাস হয়ে উঠতে পারে? যে কোন তথ্যের সমহারই কি ভাইরাস হয়ে উঠতে পারে? যেহেতু উনি আগে বলেছেন যে যেকোন ধারণাই ভাইরাস হয়ে উঠতে পারে, সেই হিসাবে কৌতুকও ভাইরাস হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু একটি কৌতুক কখন সমাজের জন্যে ক্ষতিকর হতে পারে? সরাসরি কোন কৌতুক মানুষের মাথার নিয়ন্ত্রন নিয়ে তাকে খারাপ কাজ করতে বাধ্য করে এমন কোন উদাহরণ আমার জানা নাই। বাস্তবে দেখা যায় যে, ইসলামের নবী মুহাম্মদকে নিয়ে কেউ কৌতুক করলে তাতে ইসলামিস্টরা ক্ষিপ্ত হয়ে ক্ষতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে, এইক্ষেত্রে যিনি কৌতুক করেন তারও ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু, ধর্ম ও জাতীয়তাবাদের মিমকে যেভাবে ভাইরাস হিসাবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে, কৌতুককে সেভাবে যাচ্ছে না। অভিজিৎ রায় তা করেনও নাই। এখানে তিনি আমাদের মিম বলতে শুধু মিমই বুঝাচ্ছেন, ভাইরাস বুঝাচ্ছেন না। তার মানে সকল মিম বা ধারণাই ভাইরাস হয়ে উঠতে পারে বলে অভিজিৎ রায় আগে যা বলেছেন কৌতুকের ক্ষেত্রে এসে আর তা বলছেন না।

এমনিতে সকল মিমকে বা ধারণাকেই ভাইরাস বলার বড় ধরণের কিছু সমস্যা আছে। সমস্যা হলো যে, অনেক মিম বা ধারণাই মানুষের জন্যে উপকারি হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে অধিকাংশ মিম বা ধারণাই মানুষের জন্যে ক্ষতির চাইতে উপকার করে বেশি, উপকার না হলে মানুষ কোন ধারণা গ্রহণ করবে না সেই সম্ভাবনাই বেশি। আবার একটি মিম আজকে উপকারি কিন্তু আগামীকাল ক্ষতিকর হতে পারে। আবার একজনের জন্যে ভালো কিন্তু অপরের জন্যে খারাপ হতে পারে। মার্কিন যুক্ররাষ্ট্রের জন্যে যা ভালো তা আইসিসের জন্যে খারাপ, আইসিসের জন্যে যা ভালো তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যে খারাপ। আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আইসিস উভয়ের জন্যে যা ভালো তা বাংলাদেশের জন্যে খারাপ হতে পারে। উদাহরণ দেয়া যাক। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্যে জন্যে যারা যুদ্ধ করেছেন, বোমা মেরে ব্রিজ, সরকারী স্থাপনা ইত্যাদি উড়িয়ে দিয়েছেন, অপরকে হত্যা করেছেন এবং নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, অভিজিৎ রায়ের মতামত গ্রহণ করলে তারা জাতীয়তাবাদী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এইসব কাজ করেছেন। এখন আমরা বাংলাদেশীরা এই জাতীয়তাবাদী চেতনাকে ক্ষতিকর এবং ভাইরাস বলতে রাজি হবো না। তবে পাকিস্তানীরা রাজি হইতে পারে। এখানে ভালো ও মন্দের ধারণা আপেক্ষিক। জগতের সকল নৈতিক ধারণাই আপেক্ষিক। অভিজিৎ রায়ের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও শান্তির জন্যে অবিরাম যুদ্ধকে ভাইরাসের মহামারি বলছেন না, বরং তিনি এই যুদ্ধের একজন সমর্থক। কিন্তু তিনি ভাইরাসের মহামারি বলছেন ইসলামের নামে সন্ত্রাসকে, যার বিরুদ্ধে তার শক্ত অবস্থান আছে। দিনশেষে অভিজিৎ রায় এবং অন্যান্য ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ তত্ত্বের অনুসারীরা মিমেটিক্সকে তাদের নৈতিক মতাদর্শ প্রচারের হাতিয়ারে পরিণত করে এর মধ্যকার তাবৎ বিজ্ঞান হয়ে ওঠার সম্ভাবনাকে মেরে ফেলে নেহাত সিউডো সায়েন্সে পরিণত করেছেন। অভিজিৎ রায় কোন মিমকে ভাইরাস হিসাবে চিহ্নিত করবেন এবং কোন মিমকে করবেন না, সেটা যে একান্তই তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী ও নৈতিক মতাদর্শগত ব্যাপার তা অভিজিৎ রায় নিজেই লিখেছেন –

“পারভেজ সাহেব স্বীকার করুক আর নাই করুক, আমার চোখে বাংলাদেশে মুক্তচিন্তার মানুষজনের উপর ক্রমাগতভাবে ইসলামের তাগুদি সেনাদের আক্রমণ এবং আগ্রাসনের প্রকোপটা ‘বিশ্বাসের ভাইরাস আক্রান্ত মননের’ ফসল ছাড়া কিছু মনে হয়নি”।

পাঠক খেয়াল করুন, অভিজিৎ রায় তার চোখের কথা বলেছেন, অর্থাৎ বিষয়টি অভিজিৎ রায়ের পার্সেপশন। এটা বিজ্ঞান নয়। বিজ্ঞান হলে এই ভাইরাসের আকৃতি এবং গতি প্রকৃতি সম্বন্ধে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতো। তাতে বাংলাদেশের মুক্তমনাদের জীবনও বাঁচতো। তবে অভিজিৎ রায় কেবল নিজের পার্সেপশন বললে সমস্যা ছিল না। তিনি একটি বড় দাবিও করেছেন। তিনি ইসলামিস্টদের বিভিন্ন সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসের উদাহরণকে বিশ্বাসের ভাইরাসের ইম্পেরিকাল এভিডেন্স বলে দাবি করছেন। তিনি বলছেন –

“এগুলোই বিশ্বাসের ভাইরাসের ‘ইম্পেরিকাল এভিডেন্স’ যা পারভেজ খুঁজেও পাচ্ছেন না কোথাও। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য পারভেজের লাইনের মনীষী কার্লমার্কসও একসময় ধর্মকে ‘অপিয়ামের’ সাথে তুলনা করেছিলেন, বলেছিলেন ‘অপিয়াম অব ম্যাসেস’। অবশ্য সেক্ষেত্রে পারভেজকে ধর্মের মধ্যে অপিয়ামের সাজুজ্যের জন্য কোন কইফিয়ৎ চাননি, সে ‘মডেল’কে প্রশ্নবিদ্ধও করেননি”।

মিমতত্ত্বকে ইম্পেরিকাল এভিডেন্সের মাধ্যমে প্রুফ করা নিয়ে আমার একসময় আগ্রহ ছিল। বোধহয় মিমতত্ত্ব সম্বন্ধে যারা পড়েছেন, তারা সবাই এই বিষয়ে আগ্রহি। মিমতত্ত্বের ইম্পেরিকাল এভিডেন্স পাওয়া গেলে রিচার্ড ডকিন্স এবং আরো কেউ কেউ নোবেল পুরস্কারও পাইতে পারেন। দুঃখজনকভাবে তেমন কোন সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু অভিজিৎ রায় দাবি করছেন যে তিনি শুধু মিমতত্ত্বই না, বিশ্বাসের মিম যে আদতে ভাইরাস তার ইম্পেরিকাল এভিডেন্স দিচ্ছেন। তাই যদি তিনি করতেন তাইলে ডকিন্সের সাথে তিনিও নোবেল পুরস্কার পাইতেন। কিন্তু সমস্যা হলো, টেরোরিজম হচ্ছে টেরোরিজমের ইম্পেরিকাল এভিডেন্স। খুন, ধর্ষন, লুটতরাজ এগুলা হচ্ছে খুন, ধর্ষন এবং লুটতরাজের ইম্পেরিকাল এভিডেন্স। আইসিসের সন্ত্রাসের উদাহরণগুলো আইসিস যে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন তার ইম্পেরিকাল এভিডেন্স। তাদের সন্ত্রাসকে সর্বোচ্চ ‘ইসলাম একটি সন্ত্রাসী ধর্ম’ এই তত্ত্বের ইম্পেরিকাল এভিডেন্স হিসাবে কেউ কেউ দাবি করতে পারেন। কিন্তু আইসিসের সন্ত্রাস ‘বিশ্বাসের ভাইরাসে’র ইম্পেরিকাল এভিডেন্স, এই দাবি সুস্থ্য মস্তিস্কে মেনে নেয়া সম্ভব না। আর মার্ক্স প্রসঙ্গে বলি। অভিজিৎ রায় বলেছেন, মার্ক্স আমার লাইনের একজন মনীষী, তিনি হয়তো বলতে চেয়েছেন আমি মনীষী মার্ক্সের লাইনের লোক। কেনো বলেছেন, আমি জানি না। আমি কার্ল মার্ক্সকে নিয়ে বা তার উদ্ধৃতি দিয়ে সচোরাচর কিছু লেখিও না। আমি বামপন্থী হলেও মার্ক্সবাদী নই, তবে মার্ক্সের বিভিন্ন টার্ম যেগুলো সমাজবিদ্যায় মার্ক্সবাদের বাইরেও সমাজ ব্যখ্যায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে, সেগুলো ব্যবহার করে থাকি। সেই সুবাদে এতোটুকু জানি যে মার্ক্সের ধর্মকে আফিমের সাথে তুলনা আর অভিজিৎ রায়ের ভাইরাসের সাথে তুলনায় রাত দিন ফারাক আছে। মার্ক্স যে ধর্মকে আফিম বলেছেন, আর আমি যে অভিজিৎ রায়কে ‘সালাফি সেকুলার’ বলেছি তা প্রায় একি জাতীয় বিশেষন। এর সাথে সাহিত্য এবং পলেমিকের সম্পর্ক থাকতে পারে, বিজ্ঞানের নাই। অভিজিৎ রায় ধর্মকে যে ভাইরাসের সাথে তুলনা করেছেন তা কোন সাহিত্যিক উপমা নয়, তার দাবি অনুযায়ি বিজ্ঞান। অভিজিৎ রায় সম্প্রতি ইসলামের পাশাপাশি বাম ফোবিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সুবাদে আমাকে এই স্টেরিওটিপিকাল প্রশ্নটি করেছেন, এর জবাব না দিলেও চলতো, তাও দিলাম।

একজন বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তি কোন সমস্যা বুঝার ক্ষেত্রে সাধারণত একটি সহজ, সরল ও যৌক্তিক তত্ত্বকে গ্রহণ করেন, ব্যাখ্যা করা কঠিন এবং রহস্যময় কোন তত্ত্বকে নয়। বিজ্ঞানীরাও এই কাজই করেন। অভিজিৎ রায় তা ভালো মতোই জানেন। যেমন, বিবর্তনবাদ সম্বন্ধে আমাদের এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার বাকি থাকতে পারে, কিন্তু বিবর্তনবাদ যে সহজ, সরল ও যৌক্তিক কায়দায় প্রাণের বিকাশকে ব্যাখ্যা করে, ব্যাখ্যাতিত ও রহস্যময় ‘সৃষ্টিতত্ত্ব’ তা করতে পারে না। সৃষ্টিতাত্ত্বিকরা মাথার পেছন দিয়ে হাত ঘুড়িয়ে মুখে খাবার তুলতে চাইলেও বিজ্ঞানমনস্ক বিবর্তনবাদীরা তা করেন না, তারা হাত দিয়ে সোজাসুজি খাবার মুখে তুলে নেন। টেরোরিজম, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি বিষয়কে বাস্তব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণগুলোকে অগ্রাহ্য করে ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা হলো মাথার পেছন দিয়ে হাত ঘুড়িয়ে ভাত খাওয়ার মতো ব্যাপার। এটা বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তির কাজ নয়, বিজ্ঞানবাদী ধার্মিক ও নীতিবাদী নাস্তিকের কাজ হতে পারে। সবশেষে বিখ্যাত বিবর্তনতাত্ত্বিক জীববিজ্ঞানী ও জেনেটিক্স বিশারদ রিচার্ড লেওন্টিনের মিমতত্ত্ব বিষয়ক একটি উদ্ধৃতি দিয়ে এই আলোচনার ইতি টানবো। তিনি বলেছেন –

“আমরা সমাপ্তি টানতে পারি যে, যদিও ঐতিহাসিক ফেনোমেনাকে সিলেকশনিস্ট কায়দার মডেলে সাজানো যায়, কিন্তু সিলেকশনিস্ট ব্যাখ্যা কোন কাজে আসে না। ইতিহাসকে খর্ব করার জন্যে বিভ্রান্তীকর কিছু প্রতিশব্দ ছাড়া তা নতুন কিছু হাজিরও করে না”।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৩ thoughts on “‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ তত্ত্বের সমস্যা ও সংকট

  1. মিম নিয়ে আপনি যা যুক্তি
    মিম নিয়ে আপনি যা যুক্তি দিয়েছে তা হয়তো অভিজিৎ দা অস্বীকার করবে না।

    বিশ্বাসের ভাইরাস বিষয়টি হয়তো বাস্তবিক ভাইরাস না,কাল্পনিক ভাইরাস,তার কিছু আচরণ দেখে তাকে ভাইরাসের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

    বিনয় কৃষ্ণমজুমদার(যাযাবর) এর দৃষ্টিপাতে একটি লাইন আছে “কুসংস্কার থাকে মজ্জায়”। আমারও ধারনা কিছু কুসংষ্কার/বিশ্বাস মজ্জায়(এখানে মজ্জ অবশ্যই শারীরিক কোন বিষয় না) থাকে তা শতভাগ দূর করা সম্ভব কিনা আমি নিশ্চিত নাই ,তবে কাজটা খুবই কঠিন। মানুষ যখন ভয় পায়,তখন সেই ভয় সংক্রামিত হতে দেখা যায়। কুসংস্কার গুলো মানুষ বিশ্বাস করেই ছড়িয়েছে। কোন গুজব কত দ্রুত ছড়ায় তার অনেক উদাহরণ আছে।

    যখন কোন দাঙ্গা লাগে তখন সবচেয়ে গোবেচারাও সক্রিয় হয়ে মানুষ হত্যা করতে দেখা যায়। শাহবাগ মোভমেন্টের সময় একজনকে বলতে শুনেছি “আমি স্যাকুলার মানুষ হয়েও,ধর্ম অবমাননায় আমি ক্ষেপে গিয়েছি”। তিনি কেমন স্যাকুলার সেই প্রশ্নে গেলাম না। কিন্তু এই যে সহজ সরল মানুষটা হঠাৎ কোন একটি ইজমকে লুকিয়ে দীর্ঘদিন এক সাথে থাকছে এটা কিভাবে? জাতীয়তাবাদ/ধর্মীয়বাদ যখন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে তখন তার কর্মীদের মধ্যে এই যে উন্মাদনা লক্ষ করা যায়। দীর্ঘদিন এক সাথে থেকেও তা অনুমান করা যায় না। আমার ধারনা “মিম” এই সুপ্ত লুকিয়ে রাখা ইচ্ছা গুলোকেই চিহ্নিত করেছে।

    বিজ্ঞানের ব্যপারে আমার জানাশুনা কম,তাই আপনাদের তর্কে আমি চাইলেও অংশগ্রহণ করতে পারবো না। আমি আমার নিজস্ব চিন্তা দিয়ে যুক্তি দিতে পারি কেবল।

    গোলাম সারোয়ার যে লেখাটা লিখেছে,এটি আমার খুব ভাল লেগেছে কারন লেখাটি ভাইরাস নিয়ে চমৎকার আর্টিকেল। কিন্তু যে তুলনাটা হয়েছে,এখানে আমার প্রশ্ন থাকে ব্যপারটা কি উল্টা হতে পারে যে “রাজনীতিক ভাইরাস কি ধার্মীককে আক্রমন করে!”

    অনুরুধ: আলোচনাটা যেভাবেই শুরো হোক,তা যেন তাত্ত‌্বিক আলোচনাই থাকে,কোন ক্রমে যেন তা ব্যক্তিগত ভাবে কেউ না নেই।

  2. আপনার প্রথম লেখার তুলনায় পরের
    আপনার প্রথম লেখার তুলনায় পরের লেখা গুলোতে মন্তব্যের পরিমান কমে গেলো আশংকাজনক ভাবে। তাই একটি মন্তব্য পোস্ট করলাম, অন্তত সংখ্যা তো বাড়লো। অসম্ভব ভালো হয়েছে লেখাটি পারভেজ। বহুদিন এতো চমৎকার লেখা পড়িনি। যদিও, প্রথম লেখার তুলনায় এই লেখাটিও কম পঠিত হবে মনে হচ্ছে। আমার মনে হয় Conflict Resolution এর এক মোক্ষম পথ বের করার ক্ষেত্রে আপনার এই অবদানের জন্যে বরং আমরা আপনার নামটাই প্রস্তাব করতে পারি দ্বিতীয় বাঙ্গালী হিসাবে শান্তিতে নোবেল এর জন্যে ……… !

    আপনাকে ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন। আমি সবসময়েই আপনার লেখার একজন মুগ্ধ ভক্ত।

    1. আপনার প্রথম লেখার তুলনায় পরের

      আপনার প্রথম লেখার তুলনায় পরের লেখা গুলোতে মন্তব্যের পরিমান কমে গেলো আশংকাজনক ভাবে।

      এতে কি বুঝা গেল? আপনার ধারনা এতে বুঝা গেল অভিজিৎ রায়ের বিরাট জয় হয়েছে, তাইতো বলতে চাইছেন মিঃ গোলাম সারোয়ার? বাংলাদেশে এখন দুইটি ধর্মিয় সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব চলছে। সবাই উৎসব নিয়ে ব্যস্ত। তাদের কাছে এই মুহুর্তে অভিজিতের মত দাতা বিজ্ঞানমনস্ক মুক্তমনা আর পাঠাগারে জন্য চাঁদা সংগ্রহকারি পারভেজ আলমের বাতচিৎ শোনার মত সময় নাই!

      কে প্রকৃত যোদ্ধা? বিদেশে বসে থিয়োরি কপচানো ব্যাক্তি নাকি যে যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত থেকে প্রতিদিন জীবনের ঝুকি নিয়ে লড়াই করসে সে? অন্যের ধর্মগ্রন্থের উপর চায়ের কাপ রেখে ভাব ধরে ফটোসেশন করার মাধ্যমে স্বেচ্ছায় বিতর্কিত হওয়া যায়, কিন্তু যে দর্শনটি আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠা করার জন্য লড়াই করছি সেটার বারোটা বেজে যায়। ব্যক্তিগতভাবে আমি কোন বইয়ের অবমাননা করার পক্ষে নাই। এটা ধর্মিয় দৃষ্টিভঙির কারনে নয়, বই বা জ্ঞানের প্রতি আনুগত্যের কারনে। একটা দর্শনকে স্রোতের প্রতিকুলে স্টাবলিশ করতে হলে অনেক ধৈর্য্য ও কৌশল অবলম্বন করে চলতে হয়।

      মুক্তমনা হিসাবে অভিজিৎ রায়ের পতন উনার ঐ স্ট্যাটাসের পরেই হয়ে গেছে।,শ্রদ্ধার জায়গাটা নষ্ট করে ফেলছে। একজন বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষের কাজ হচ্ছে প্রচলিত ধারনার বিপক্ষে যৌক্তিকতার মাধ্যমে তার বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ও তথ্য বিশ্লেষন করা। বাংলাদেশের কোন নাস্তিক বা মুক্তমনের মানুষ ভবিষ্যতে অভিজিতের মত মানুষ থেকে সহযোগিতা নেবে না। কারন তারা জেনে গেছে, মুক্তমনের আড়ালে অভিজিতের একটা নোংরা মানসিকতা বাস করে। তার সাথে কোন বিষয়ে একমত না হলেই পুরানো সহযোগিতার হিসাব চাওয়া হবে।

      বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় আপনাদের সবাইকে দেশে এসে একইভাবে মুক্তচিন্তা ও নাস্তিক্যবাদ চর্চার আহবান জানাচ্ছি। তাহলে আমরা সাহস পাব। আমাদের কাজ আরো দ্রুত এগিয়ে যাবে। নাস্তিক্যবাদের চর্চা ছড়িয়ে যাবে।

      বিজ্ঞান আপনাদের আরো সহনশীল হওয়ার শিক্ষা দিক।

      1. প্রকৃত যোদ্ধা হচ্ছেন আপনি এবং
        প্রকৃত যোদ্ধা হচ্ছেন আপনি এবং আপনার মতো যারা দেশে বসে যুদ্ধ করছেন। প্রকৃত যোদ্ধা হচ্ছেন তিনি যিনি প্রতিদিন যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করছেন। কমেন্ট কমে যাওয়ার মানে হচ্ছে, সকলেই এই লেখকের সাথে একমত এবং অভিজিত রায়ের সাথে দ্বিমত পোষণ করছেন। অর্থাৎ গনভোটে অভিজিত রায়ের পরাজয় হয়েছে।

        1. ইজমের বাইরে আমরা যতদিন বের
          ইজমের বাইরে আমরা যতদিন বের হতে না পারব ততদিন পরিবর্তন হবেনা। তত্ত্বের প্রতিষ্ঠার চেয়ে আমরা ব্যক্তিগত সম্পর্ককে বেশি মুল্য দেই।

  3. পারভেজ, আপনার লেখার শিরোনাম
    পারভেজ, আপনার লেখার শিরোনাম এর সাথে মূল টেক্সট এর কোনও যোগাযোগ আছে? ধরুন আমি যদি প্রশ্ন করি –
    ১ – “বিশ্বাসের ভাইরাস” তত্ত্বের “সমস্যা” বা Problem টা কি? বা কোথায়?
    ২ – “বিশ্বাসের ভাইরাস” তত্ত্বের “সঙ্কট” বা Crisis টা কি? বা কোথায়?
    ৩ – সমস্যা ও সংকট কি একই জিনিস? নাকি আলাদা কিছু? আপনার লেখার ঠিক কোন স্থানে সমস্যা এবং সঙ্কট বিশয়টিকে আলাদা করে ব্যাখ্যা করা হোল বলবেন?

    নাকি নেহায়েতই একটা চটকদার শিরোনামের জন্যে “সমস্যা ও সঙ্কট” এই ধরনের শব্দ বন্ধ জুড়ে দিলেন? খারাপ না ……… কয় জন আর এভাবে প্রশ্ন করবে বলেন?

  4. অভিজিৎ দা’রে শোয়ায়া দিছেন।
    অভিজিৎ দা’রে শোয়ায়া দিছেন। আপনাদের তর্ক-বিতর্কগুলো থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতেছি। জানতে পারছি। এ ধরনের সুস্থ্য বাহাস আমাদের জানার সুযোগ করে দিচ্ছে। চলতে থাকুক আপনাদের তাত্ত্বিকযুদ্ধ।

  5. জগতের সকল নৈতিক ধারণাই

    জগতের সকল নৈতিক ধারণাই আপেক্ষিক। অভিজিৎ রায়ের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও শান্তির জন্যে অবিরাম যুদ্ধকে ভাইরাসের মহামারি বলছেন না, বরং তিনি এই যুদ্ধের একজন সমর্থক। কিন্তু তিনি ভাইরাসের মহামারি বলছেন ইসলামের নামে সন্ত্রাসকে, যার বিরুদ্ধে তার শক্ত অবস্থান আছে। দিনশেষে অভিজিৎ রায় এবং অন্যান্য ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ তত্ত্বের অনুসারীরা মিমেটিক্সকে তাদের নৈতিক মতাদর্শ প্রচারের হাতিয়ারে পরিণত করে এর মধ্যকার তাবৎ বিজ্ঞান হয়ে ওঠার সম্ভাবনাকে মেরে ফেলে নেহাত সিউডো সায়েন্সে পরিণত করেছেন। অভিজিৎ রায় কোন মিমকে ভাইরাস হিসাবে চিহ্নিত করবেন এবং কোন মিমকে করবেন না, সেটা যে একান্তই তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী ও নৈতিক মতাদর্শগত ব্যাপার তা অভিজিৎ রায় নিজেই লিখেছেন

    মূল বক্তব্যটা এইটুকুতে চলে এসেছে। পুরো বিষয়টা বস্তুবাদের মোড়ক ধরে এগুলেও এর মধ্যে ভাববাদের আছরটা ব্যাপক। অন্যান্য কাজে ব্যস্ততার দরুণ বসা হচ্ছে না। এর আরো গভীরে গেলে ভাববাদী চিন্তাপ্রক্রিয়ার সূত্রটা খুঁজে বের করা যাবে। দ্রুতই বসব।

    1. আনিস ভাইয়ের সাথে সহমত। তবে এ
      আনিস ভাইয়ের সাথে সহমত। তবে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ আছে। মিমতত্ত্বের উপর আলোচনা করতে গেলে এত অল্প কথায় শেষ করা সম্ভব না। বিশ্বাস মানেই ভাইরাস, এটা ঠিক না। বিশ্বাসের মাঝে অনেক শ্রেনি আছে। সেগুলোকে আলাদা করতে হবে। ঝামেলার মধ্যে আছি, তাই ইচ্ছে থাকলও আলোচনা করতে পারছিনা। এর মধ্যে অভিজিৎ রায়ের বইটা পুরো পড়া হয়নি। এটা পড়ে শেষ করি।

      1. বিশ্বাস মানেই ভাইরাস তা নয়।
        বিশ্বাস মানেই ভাইরাস তা নয়। বিশ্বাস = ভাইরাস, বিষয় টা এমন নয়। বলা হচ্ছে বিশ্বাস এবং ভাইরাস একই ভাবে কাজ করে। ঠিক যেমনটা বলা যায়, ডাইক্লোফেনাক আর ন্যাপ্রক্সেন একই ভাবে কাজ করে, কিন্তু ডাইক্লোফেনাক = নেপ্রক্সেন নয়।

        অভিজিত রায় বা যেকোনো মানুষ কে ভুলে যান। একটি এইচ এস সি লেভেল এর বায়লজি পুস্তক থেকে ভাইরাস এর কর্ম পদ্ধতি বা মেকানিজম অব একশন টি দেখে দিন। এবারে একান্ত নিজের মনে ভেবে দেখুন, যেকোনো বিশ্বাস মানুষের মনে ও মস্তিষ্কে কিভাবে কাজ করে। কেনও গুজরাটে একজন মুসলমান শিশু কে নিহত হতে দেখলেও একজন কিম্বা হাজার জন হিন্দু প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ দরোজা জানালা বন্ধ করে দিয়ে থাকেন ! মিলিয়ে দেখুন ……… কোনও ব্যক্তির সাথে একমত হবার দরকার নেই, নিজের কাছে যদি কোনও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা থাকে, তাহলে সেটা বিস্তারিত শেয়ার করুন।

        সকল কিছু “সাম্রাজ্যবাদের” কাঁধে না দিয়ে, একটু ব্যাখ্যা করুন যেন আম জনতা বুঝতে পারে …… (আমি বলছিনা যে আপনি সব কিছু সাম্রাজ্যবাদের কাঁধে দিয়ে দেন, আমরা অনেকেই তা করি)।

      2. “জগতের সকল নৈতিক ধারণাই
        “জগতের সকল নৈতিক ধারণাই আপেক্ষিক। অভিজিৎ রায়ের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও শান্তির জন্যে অবিরাম যুদ্ধকে ভাইরাসের মহামারি বলছেন না, বরং তিনি এই যুদ্ধের একজন সমর্থক। কিন্তু তিনি ভাইরাসের মহামারি বলছেন ইসলামের নামে সন্ত্রাসকে, যার বিরুদ্ধে তার শক্ত অবস্থান আছে। দিনশেষে অভিজিৎ রায় এবং অন্যান্য ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ তত্ত্বের অনুসারীরা মিমেটিক্সকে তাদের নৈতিক মতাদর্শ প্রচারের হাতিয়ারে পরিণত করে এর মধ্যকার তাবৎ বিজ্ঞান হয়ে ওঠার সম্ভাবনাকে মেরে ফেলে নেহাত সিউডো সায়েন্সে পরিণত করেছেন। অভিজিৎ রায় কোন মিমকে ভাইরাস হিসাবে চিহ্নিত করবেন এবং কোন মিমকে করবেন না, সেটা যে একান্তই তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী ও নৈতিক মতাদর্শগত ব্যাপার তা অভিজিৎ রায় নিজেই লিখেছেন”

        অনেক দিন এই রকমের হাস্যকর বক্তব্য পড়িনি। ভালো লাগলো পড়ে।

  6. যারা বলছেন “দ্রুতই বসব”
    যারা বলছেন “দ্রুতই বসব” ……… রিচারড ডকিন্স এর “দি সেলফিস জীন” এর উপরে একটি সমালোচনা লেখা তাদের ক্ষমতার বাইরে। ভাগ্যিস উইকিপিডিয়া এবং গুগোল ছিল …… তাই এই সমস্ত নিয়ে কিছু লেখালেখি করা যাচ্ছে। এটা দুঃখজনক, কিন্তু এটাই বাস্তবতা। কি আর করা।

  7. চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী পোষ্ট।
    চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী পোষ্ট। যুক্তিতর্কের মাধ্যমেই জ্ঞান বিকশিত হয়। যৌক্তিক আলোচনাকে তাই সব সময় সাধুবাদ জানাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1