ভারতের বিদ্যুৎ বিপ্লবে প্রশ্নবিদ্ধ সুপারক্রিটিক্যাল ধ্বংস হবে আমাদের সুন্দরবন (শেষ)

(ভারতের ছত্তিশগড় ও মহারাষ্ট্র থেকে ফিরে)

ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিদ্যুৎ সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেশটি থেকে গরিবি হটাতে না পারলেও ধনিদের আরো ধনি করেছে। আর তার ফলে দেশটি আঞ্চলিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর বিদ্যুতের ধনিদের এ অভাবনীয় উন্নতির পেছনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবদান সব থেকে বেশি।

আদানি গ্রুপের এই কেন্দ্রের চোখ ধাধানো আলোর ওপারেই আছে কান্না ও ধ্বংসের করুন ইতিহাস ভারত ঘন্টা প্রতি গড়ে প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।এর মধ্যে কয়লা দিয়েই উৎপাদিত করছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৩ মেগাওয়াট যা মোট বিদ্যুতের ৬০ ভাগেরও বেশি। আর এই ৬০ ভাগ কয়লা বিদ্যুৎ দিয়ে ভারত বিশ্ব আসনে শক্তিধর দেশ হিসেবে আÍপ্রকাশ করতে চায়। কিন্তু কয়লা দিয়ে এতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে দেশটির পরিবেশের কম ক্ষতি হয়নি। কিন্তু ভারত এক্ষেত্রে যা করেছে তা হলো সুন্দরবনের মত কোন বনের পাশে তারা এসব কুকর্ম করেনি। ফলে বিতর্ক হলেও তা ধামাচাপা দিতে তারা সক্ষম হয়েয়েছে। আবার কোথাও কোথাও ধামাচাপাও দিতে পারেনি।

তবে দুখের বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) যে সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে সুন্দরবনের পাশে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কম্পানি লিমিটেড (এনটিপিসি), সেই সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি খোদ ভারতের পরিবেশের ১৪টা বাজিয়ে দিয়েছে। ভারতের ছত্তিশগড়ের সিপাত ও মহরাষ্ট্রের তিরোধা সুপারক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘুরে এরকম বহুদৃশ্যই ধরা পড়েছে।

স্থানীয় কারোর সাথে কথা বলতে দেয়া হয়নি
ছত্তিশগড় ও মহরাষ্ট্রের দুটি সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বাংলাদেশের ৩২ জন সাংবাদিক। এটা আমার নিজস্ব মত যে সুপারক্রিটিক্যাল দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন ছিলো অন্ধের হাতি দর্শনের মত।

প্রথমে ছত্তিশগড়ের অভিজ্ঞতার কথাই বলি। ২২ নভেম্বর ছত্তিশগড়ের সিপাতে এনটিপিসির নিজস্ব রেস্ট হাউজে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এর আগের রাতে সন্ধ্যায় দমদম ইয়ারপোর্ট থেকে সোজা হাউড়া রেল স্ট্রেশনে গিয়ে একটু বসার জায়গাও পায়নি সাংবাদিকেরা। আর সারারাত ট্রেন জার্নির ধকলতো ছিলো। ফলে এনটিপিসির আরামদায়ক অতিথী কক্ষে দামি খাবার আর আরামদায়ক শীতাতপ ঘরে আমরা সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বেশ খানিকটা ঘুম ও জিড়ানি দেই। এ সময় ৩২ জন সাংবাদিকের কাউকে কোথাও যেতে দেয়া হয়নি। স্থানীয় কারোর সাথে কথা বলতে দেয়া হয়নি। দুপুরে লাঞ্চের পর প্লান্ট পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হয়। প্লান্টের ওপারেশন রুমে গিয়ে কিছু ডিজিটাল কম্পিউটারের মাধ্যমে বিদ্যুতের নানান ধরনের বিষয় বোঝানো হয়। এরপর বয়লার ও অন্যান্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কোনপ্রকার ক্যামেরা ব্যবহার করা ছিলো কড়াভাবে নিষিদ্ধ। পরিদর্শন শেষে টিভি রিপোর্টারদের বিকেলে একটি বিল্ডিংয়ের ওপর কিছু সময় দেয়া হয় পুরো কেন্দ্রের সাইট ভিউ ভিডিও করার জন্য। আর আমরা ফিরে আসি আবার এনটিপিসির আরামখানায়। আমাদেরকে কোনভাবেই স্থানীয় কোন ব্যাক্তির সাথে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। যেতে দেওয়া হয়নি স্বাধীনভাবে বাইরে। কারণ ট্যুর প্লানটিই এমনভাবে করা হয়েছিলো যাতে আপনি রোবটের মত কিছু স্থান পরিদর্শন ছাড়া চোখ কানা খোলা রেখে কোথাও যেতে না পারেন। কারণ ওই রাতেই আমাদের মহারাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ট্রেন ছেড়ে যাবে। রাতের খাওয়া না খেয়েই ট্রেন ধরতে সিপাত থেকে বিলাশপুর রওনা দেওয়া হলো বাসে। রাতেই ট্রেনের ভেতর খাওয়া। সারা রাত ট্রেন জার্নি শেষে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে ২৩ নভেম্বর সকালে পৌছালো আজাদ হিন্দ এক্সপ্রেস।

২৩ নভেম্বর এর আগের ছত্তিশগড়ের স্টাইলে একইভাবে ট্যুর সিডিউল। নড়চড়ার সুযোগ নেই। আর কিছু বললেই এনটিপিসির এক শিক ভদ্রলোক হরিকিরাত সিং দিংহারা আমাদেরকে একটি রোবটিক বাক্য বলছিলেন। ‘ইয়ার, অ্যাবউট সিকিউরিটি ক্রোশ্চেন।’নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে আমরাও নিরাপদে বাড়ি ফেরার ফিকির করছিলাম।

মহারাষ্ট্রের নাগপুরে হোটেল রেডিসন ব্রুলুতে আমাদের রাখা হলো। ২৩ নভেম্বর সকাল নয়টায় আমাদের হোটেল থেকে বেরিয়ে গুন্ডিয়া জেলার তিরোধায় যাওয়ার কথা। প্রচন্ড গরম। তাপমাত্রা ৩৪/৩৪ হবে। বাসে উঠে দেখা গেলো এসি কাজ করছে না। এসি বাসে এসি কাজ না করলে কোনভাবেই সেখানে থাকা যায় না। কারণ জানালা খোলার উপায় নেই। ভলবো গাড়ি। এরকম হয় না। তারপরও হলো। সময় নিয়ে এসি সারা হলো। সময় লাগলো মিনিমাম ১ ঘন্টা। এরপর শুরু হলো নাগপুর থেকে গুন্ডিয়ার তিরোধা যাত্রা। পথ ১২০ কিলোমিটার। যেতে সময় লাগলো কম করে হলেও ৩ ঘন্টা। বাস যেনো গুরুর গাড়ির মত যাচ্ছিলো। আমার বার বার মনে হচ্ছিলো এটা ইচ্ছে করেই দেরি করা হচ্ছে।কারণ রাস্তায় তেমন কেমন যানবহন নেই। গড়ের মাঠ বলতে পারেন। একদম শূন্য।তারপর রাস্তা অনেক ভালো। লেন আলাদা। যেখানে বাজার বা লোকালয় সেখানেই ফ্লাইওভার। সে কারণে আপনি কোন জ্যামেই পড়বেন না। তবুও ১২০ কিলোমিটারের রাস্তা গেলাম মিনিমাম ৩ ঘন্টায়।

গুনিডয়ার সিপাতের এই কেন্দ্রটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদির সব থেকে আস্থাভাজন কম্পানি আদানি গ্র“পের কেন্দ্র। এখান থেকে ৬৬০ ইউনিটের করে ৫টি ইউনিটের ৩৩’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এখন আপাততো ৪টি ইউনিটে বিদ্যুতের উৎপাদন হচ্ছে ২৬৪০ মেগাওয়াট।

আদানি গ্রুপের কেন্দ্রে পৌছানোর সাথে সাথেই আমাদেরকে একটি করে এসি রুম দেয়া হলো তাদের রেস্ট হাউজে। সেখানে খানিকটা সময় কাটিয়ে আমরা দুপুরের লাঞ্চ করলাম।লাঞ্চ শেষে খানিকটা ব্রেক দিয়ে আমরা গেলাম কেন্দ্র ভিজিট করতে।

আবারো সেই পুরানো ছক। আমাদেরকে বাচ্চা পোলাপানের মত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর ক্লাস নিলেন নানা টাইপের ইঞ্জিনিয়ার। তারা বার বার বললেন, আরে ভাই দেশের উন্নতির জন্য আপনারা কেন কেন্দ্র করছে না। আমাদের মত করেন দেখবেন কোথায় চলে গেছেন। তো, ভালো। আমরা ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করলাম। জ্ঞান অর্জনের ফাকে ফাকে দেখলাম, পাশ্ববর্তী খনি থেকে কয়লা আসে। তবে সেই কয়লাবাহি ট্রেনের ওপর কোন ঢাকানা নেই। একদম খোলা। বৃষ্টিতে সেই কয়লা ধুয়ে চুয়ে চুয়ে বিভিন্ন জায়গায় চলে যাচ্ছে। আমরা তখন মনে পড়ছিলো পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের কথা, মনে পড়ছিলো বর্তমান বিদ্যুৎ সচিব যিনি এর আগে পরিবেশের ডিজি ছিলেন ড. মনোয়ার ইসলামের কথা। ইনারা সংবাদ সম্মেলনগুলোতে আমাদেরকে কতভাবেই না বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, আকরাম পয়েন্ট থেকে পশুর নদীর ভেতর দিয়ে যখন কয়লা ভর্তী জাহাজ যাবে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে তখন জাহাজ নাকি সিলগালা করা থাকবে। আমি ভারতের সুপারক্রিটিক্যাল কেন্দ্রের কয়লাপরিবাহী ট্রেন দেখে হাসলুম। আর বার বার দুই কর্মকর্তার কথা স্মরণ করলুম।

এরপর সংবাদ সম্মেলন করলো আদানি গ্র“পের কর্মকর্তারা। সেখানে আমাদের জানানো হলো যে আমরা কেন্দ্রটি দেখেছি সেটা সম্পূর্ণ চালু ছিলো কিন্তু কোন ধোয়া দেখা যায়নি। কি দারুন তাই না!!! আসলেই আমরা না কোন ধোয়া দেখেনি। বাস্তবেই খানিকটা বেকুব হয়ে গেলাম। ধোয়া নেই কেন? আমরা যে বাংলাদেশে বসে অন্ধের হাতি দেখার মত কত রিপোর্ট (আমি নিজেই এক ডজনের বেশি স্পেশাল রিপোর্ট বানিয়েছি ইন্টার ঘেটে) করলাম, বললুম ধোয়া বের হবে। মনে মনে ভাবতেছিলাম এবার থেকে লেখার সময় কিছুটা সতর্ক হতে হবে। সুন্দরবনের প্রতি আবেগ যতই থাকুক পেশাদারিত্ব নস্ট করা যাবে না।রিপোর্টে নো আবেগ। রিপোর্ট স্ট্রেট। সেটা সুন্দরবের পক্ষে বিপক্ষের ব্যাপার না।

মনে হচ্ছে এর আগে আমরা যারা এরকম সুপারক্রিটিক্যাল কেন্দ্র দেখিনি তারা না দেখেই বাংলাদেশে বসে সুপারক্রিটিক্যালের ক্রিটিক (সমালোচনা) করে কি মহা অন্যায় করেছি।পারলে তখন আমাদের সবাইকে তারা তওবা পড়িয়ে দেন। আমরা তওবা পড়ার জন্য মওলনা খুজতেছি তখন।

এসব ভাবতে ভাবতেই আমাদের মধ্যে যুগান্তরের রিপোর্টার শিপন একটি মারাÍক প্রশ্ন করে বসলেন। তার আগ শিপনের বর্ননা দেই। প্রথমে তাকে আমি ভেবেছিলাম তিনি বোধ হয় একজন শিখ। মাথায় শিখদের মত পাগড়ি। হাতে অনেকগুলো বালা। পরে জানলাম এই বাবাধনের নাম শিপন। তিনি যুগান্তরের নারী ও শিশু বিট করেন। শিপন প্রশ্ন করলেন, এই কেন্দ্রে কেন নারী শ্রমিক কাজ করে না? কেন্দ্রে কেন মাত্র ৬ জন নারী কাজ করেন?’আমি এই প্রশ্নের উত্তরে বেশ আগ্রহ পেলাম। কারণ এর সঙ্গে বিদ্যুতের সম্পর্ক খুজতেছিলাম। আমার মত মাঝারি বুদ্ধির মানুষ ভাবতেই পারেন, এই ব্যাটা তুমি কর নারী শিশু বিট। তুমি এনার্জির বোঝটা কি? কেন্দ্রে নারীরা কাজ করে কি করেন না এর সাথে পরিবেশের সম্পর্ক কি? ভাগ্যিশ আমি এরকম কোন আওয়াজ দেইনি।

আমি বসেছিলাম তিরোধা বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেড অব স্ট্রেশন সিপি শাও এর পাশে। এই ভারতীয়ই সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন। সিপি শাও তখনো বোঝেননি এই সাদামাটা প্রশ্নের ভেতর আদামবোমা লুকিয়ে আছে।

সিপি শাও ড্যাম স্মাট ভঙ্গিতে মিথ্যা কথা (মিথ্যা বলেছেন এটা পরে নেট ঘেটে বুঝেছি) বললেন, ‘আসলে এ অঞ্চলটি শহর না। এ কারণে এখানকার নারীরা বাইরে এসে কাজ করতে চায় না।’

শিপন এরপর তার থলি থেকে আদমবোমাটি বের করলেন। তিনি বললেন, আমার কাছে খবর আছে, এই কেন্দ্রে এর আগে যেসব নারীরা কাজ করেছেন তাদের ভ্রণ নস্ট হয়ে যায়।এক সমীক্ষায় ভ্রণ নস্টের এ হার ৮০ শতাংশ।’ এরকম প্রশ্নের পর সিপি শাও তব্দা খেয়ে গেলেন। তোতলাছিলেন।

বাংলাদেশ যাওয়া ৩২ সাংবাদিকদের কেউ একজন বললেন, সংবাদ সম্মেলন শেষ। আমাদের যা জানার তা জানা হয়ে গেছে।’ আমি ছিলাম সবার সামনে। মনে হলো এবার সুযোগ একটা পাওয়া গেছে। আমি কণ্ঠ একটু উপরে চড়িয়ে বললাম, এই প্রশ্নের উত্তর শুনে তবেই যাবো।’

সিপি শাও এবার কলা ঝেড়ে কেশে বললেন, আসলে এটা গ্রাম এলাকা। এ কারণে এখানকার মেয়েরা কাজ করতে চায় না এরকম পরিবেশে। অবস্থার পরিবর্তন হবে। আর এ ধরনের সমস্যা এর আগে ছিলো এখন নেই।’

সংবাদ সস্মেলন শেষ হলো। আমরা এখন বাসে উঠবো। কারণ বার বার আমাদের বলা হচ্ছিলো বাইরে যাওয়া যাবে না। কারণ নিরাপত্তার সমস্যা। যদিও আদানি গ্র“পের ভাইস প্রেসিডেন্ট আমাদের বলেছিলেন, এ এলাকায় আদানির নাম বললে, কেউ ফিরেও তাকাবে না।’ সেটা যাইহোক। আমরা বাসে উঠার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ভলবো বাসে চড়ে পাড়ি দিবো ১২০ কিলোমিটার। কিন্তু আসার সময় যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা দেখে নিশ্চিত করেই বলা যায় যে রেডিসনে যেতে যেতে আমাদের রাত দশটা না হলেও নয়টাতো বেজেই যাবে।

আমরা বাইরে এসে দাড়িয়েছি বাসে উঠবো। এমন সময় বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হলো। আর চালু করার সাথে সাথেই চিমনি দিয়ে কালো ধোয়া বের হওয়া শুরু হলো। অথচ সংবাদ সম্মেলনে আমাদের বলা হয়েছিলো যে এই চিমনি দিয়ে কোন ধোয়া বের হয় না। হি হি হি। নগদে এরকম ধরা খাওয়ার পর আদানি পাওয়ারের কর্মকর্তাদের চোখে সর্ষে ফুল দেখছিলেন। আমাদের কিন্তু মজাই লাগতেছিলো। সেসব বিষয় আরো পরে আসছি। কারণ এক বাঙালী প্রকৌশলী আমাকে আগেই জানিয়েছিলেন যে, কেন্দ্র আসলে বন্ধ ছিলো। কিন্তু কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছিলো আমাদের আগমন উপলক্ষে কিনা সেটা তিনি বলেননি।

সিপি শাও যে মিথ্যা বলেছিলো এ অঞ্চলের মেয়েরা ঘরের বাইরে কাজ করে না, তা বুঝলাম টাইম অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে। সারাদিন উদয় অস্ত পরিশ্রম করে মাত্র ৩০ রুপি আয় করেন এখানকার মানুষ। তাও কত কস্ট করে আরো দুরের শহরে গিয়ে। সেখানে যদি তারা ঘরের ভেতর কাজ পায় তাইলে কেন যাবে না-সেটা শুধু বলদরাই বুঝতে পারে না।আসুন আরেকবার হাসি।

মহরাষ্ট্রের ঠিক গুণ্ডিয়া নিয়ে ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দ্যা হিন্দু থেকে পড়েন সেখানকার নারীরা মাত্র ৩০ রুপি ইনকাম করতে গুন্ডিয়া থেকে কোথায় প্রতিদিন যায়।

আমাদের ট্যুর প্লানই এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে আমরা দৌড়ের ওপরে থাকি। স্থানীয় কোন পরিবেশকর্মী, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। এমন কী যে দুটি নদীর পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা হচ্ছে সেই নদী ও নদী সংলগ্ন কোন অঞ্চলে সাংবাদিকদের নিয়ে যাওয়া হয়নি। স্থানীয় পরিবেশের ওপর নজরদারি করার কোন সুযোগ রাখা হয়নি সফরকালে।

এইসব ক্রিটিক্যাল ফিটিক্যাল হলো বিগ করপোরেশনের ব্যাবসা
আদানি গ্রুপ পরিচালিত তিরোধা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, একটি সাব ক্রিটিক্যাল থেকে সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি এগিয়ে আছে মাত্র ২ শতাংশ। আর আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল তা থেকে এগিয়ে আছে ৩ শতাংশ। ভারতের বেসরকারিভাবে পরিচারিত এ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ আরো জানিয়েছেন,সাব ক্রিটিক্যাল কেন্দ্রে ইফিশিয়েন্সি বা দক্ষতা ৩৭ ভাগ আর সুপারক্রিটিক্যালের ৩৯ ভাগ এবং আল্ট্রা ক্রিটিক্যালের তা ৪২ ভাগ।

মাত্র ২ শতাংশ কয়লা কম লাগায় পরিবেশের ক্ষতির মাত্রা খুব বেশি কমবে না, তাহলে এমন প্রযুক্তি কেন ব্যবহার করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিরোধা বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেড অব স্ট্রেশন সিপি শাও বলেন, ‘যদি নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ না খাইয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা না হয় তাহলে যন্ত্রপাতি নস্ট হলে খুচরা যন্ত্রপাতি পাওয়া যাবে না। এ কারণে চলতি প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। তার মানে সহজ। পরিবেশের চিন্তা করে সুপার ক্রিটিক্যাল তৈরী হয়নি যদিও পরিবেশ সম্মত বলে দাবি করা হয়। আসল বিষয়টি হলো কম্পানিগুলো পুরানো প্রযুক্তি দিয়ে যা কামানোর তা কামিয়ে নিয়েছেন। এখন নতুন প্রযুক্তির নামে তারা যন্ত্র বিক্রি করবেন আরো বেশি দামে। এটা পুরানো বাজারের মধ্যে নতুন বাজার। আর এ বিষয়টি একটু কায়দা করে সিপি শাও আমাদের বললেন। তিনি বললেন, ‘সাব ক্রিটিক্যাল থেকে ২ শতাংশ কম কয়লা দিয়ে একই পরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির মাধ্যমে যা এই তিরোধা কেন্দ্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২ শতাংশ কয়লা কম লাগার কারণে কার্বন নি:সরণও কম হয়। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেই শুধু সাশ্রয়ী হয় তা নয় একইসঙ্গে পরিবেশেও কম কার্বন নি:সারণ হয়। পরিবেশের কিছু ক্ষতিতো মেনেই নিতে হবে। তবে ক্ষতির বিবেচনায় অর্থনৈতিক লাভ অনেক বেশি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কেন্দ্র বন্ধ রেখে ‘ধোয়া নাই’
সংবাদ সম্মেলনে আমাদেরকে জানানো হয়েছিলো যে কেন্দ্র চালু আছে ফুল সুইয়িংয়ে কিন্তু কোন ধোয়া নেই। আসলে আমরা দেখেও খানিকট অবাক হয়েছি। ২৭৫ মিটার উচু চিমনি দিয়ে বাতাসও বের হচ্ছিলো। যখন আমরা অপরাশেন রুমে গেলাম বাঙালী প্রকৌশলী অনিমেষ চক্রবর্তী আমাকে জানালেন যে কেন্দ্র বন্ধ আছে কিছুটা।তবে ৪ ইউনিটের কোনটি বন্ধ তা আমরা বুঝতে পারিনি। আর সেটা তারা বলেনওনি। এ কারণে গুন্ডিয়া জেলার তিরোধায় আদানি গ্র“পের ৩৩’শ মেগাওয়াট সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির বিদ্যুৎকেন্দ্রের চিমনি থেকে কোন ধুয়া দেখা যায়নি।
এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর দুইটায় (এর আগেও এই সংবাদ সম্মেলনের কথা উল্লেখ করেছি) বাংলাদেশে থেকে আগত ৩২ জন সাংবাদিকদের তিরোধা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেড অব স্ট্রেশন সিপি শাও সাংবাদিকদের জানান, এখন বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরাটাই চালু রয়েছে। কিন্তু আপনারা চিমনি দিয়ে কোন ধোয়া দেখতে পাবেন না।’ এরপর এই প্রতিবেদক সহ অন্যান্য সংবাদকর্মী বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুইচ রুম, বয়লার থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় চিমনি দিয়ে কোন ধোয়া দেখা যায়নি।

সাংবাদিক প্রতিনিধি দলটি যখন তিরোধা কেন্দ্র থেকে মহারাষ্ট্রের নাগপুরের দিকে রওনা দিবে ঠিক তার এক মিনিট আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বন্ধ থাকা ইউনিটগুলো সচল করা হয়। এসময় চিমনি থেকে বের হওয়া কালো ধোয়ায় আকাশ ঢেকে যায়। এরপর যতক্ষণ এই প্রতিনিধি দলটি সেখানে ছিলো চিমনি থেকে কালো ধোয়া বের হতে দেখা গেছে। চিমনি থেকে কালো ধোয়া বের হওয়ার কারণ সম্পর্কে আদানি গ্র“পের তিরোধা কেন্দ্রের কোন কর্মকর্তা কোন প্রশ্নের জবাব দেননি।
মনারে ডাঙ্গার রেল আর জলের জাহাজ এক বস্তু নহে
ভারতের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অধিকাংশের কয়লা আসে নিজেদের খনি থেকে। কিছু কেনা হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে। এসব কয়লা রেলের মাধ্যমে পৌছে দেয়া হয় কেন্দ্রে। আদানি গ্র“পের তিরোধা ও এনটিপিসির সিফাত উভয় কেন্দ্রের কয়লা আসে দিপিকা খনি থেকে ট্রেনে। নিজেদের খনি থেকে কয়লা আসায় বিদ্যুতের দাম থাকে কম। আবার কয়লা খনিগুলো থেকে সোজা ট্রেনে করে চলে যায় বিদ্যুৎকেন্দ্র। এসবের মধ্যে পরিবেশের ক্ষতি হলেও তারা পারতপক্ষে মানুষশূণ্য এলাকায় কেন্দ্র গড়ে তোলে।

অন্যদিকে সুন্দরবনে কয়লা নেয়া হবে জলের উপর দিয়ে জাহাজ দিয়ে। এখন ডাঙ্গার ট্রেনের কয়লা যদি মাটির উপরে পড়ে তাইলে অবশ্যই নগদে তা দূষণ হবে কিন্তু জলের ওপরে পড়লে জলের ভেতর মিশে গিয়ে দূষনের মাত্রা বাড়িয়ে দিবে। আর জল পথটি যদি সুন্দরবন হয় তাইলে এবার নিজেই চিন্তা করতে থাকুন নদী দূষণের কি প্রভাব সুন্দরবনের ওপর পড়বে।


মানুন আর না মানুন ভারতে ট্রেনের খোলা বগিতে এভাবে কয়লা পরিবহন করা হয়

পিডিবি আমাদের জানিয়েছে রামপাল কেন্দ্রের জন্য বছরে ৪৭ লক্ষ ২০ হাজার টন কয়লা বিদেশ থেকে আমাদানি করতে হবে। পশুর নদীর গভীরতা কম হওয়ায় সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্টে থাকবে কয়লা পরিবাহী মূল জাহাজ। এখান থেকে লাইটার বা ছোট ছোট জাহাজে করে পশুর নদী দিয়ে রামপাল কেন্দ্রে আসবে কয়লা। প্রতিদিন ১৩ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হবে। আর এ কেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ হলে এ পরিমান হবে ২৬ হাজার টন। এর জন্য সুন্দরবনের ভেতরে হিরণ পয়েন্ট থেকে আকরাম পয়েন্ট পর্যন্ত নদীপথে বড় জাহাজ বছরে ৫৯ দিন এবং আকরাম পয়েন্ট থেকে মংলা বন্দর পর্যন্ত প্রায় ৬৭ কিলোমিটার পথ ছোট লাইটারেজ জাহাজে করে বছরে ২৩৬ দিন হাজার হাজার টন কয়লা পরিবহন করতে হবে। জাহাজে করে এই কয়লা পরিবহনই সুন্দরবনের ওপর মারাÍক ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে সেটা সরকারের চূড়ান্তক পরিবেশের সমীক্ষাতেই বলা হয়েছে। কয়লা পরিবহনকারী জাহাজ থেকে কয়লার গুড়া, ভাঙা বা টুকরো কয়লা, তেল, ময়লা-আবর্জনা,জাহাজের দূষিত পানিসহ বিপুল পরিমাণ বর্জ্য নিঃসৃত হয়ে নদী-খাল-মাটিসহ গোটা সুন্দরবন দূষিত করে ফেলবে। জাহাজ চলাচলের শব্দ দূষণ সহ অন্যান্য ঝুকিতো রয়েছেই।

কিন্তু পিডিবি আমাদেরকে আশ্বস্ত করতে চেয়েছে যে এসব কয়লা বোঝাই জাহাজের পুরোটাই থাকবে সুরক্ষিতভাবে ঘেরা। অথচ ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার (এনটিপিসি) পরিচালিত ছত্তিশগড়ের সিপাত সুপারক্রিটিক্যাল পাওয়ার প্লান্ট ও আদানি গ্রুপ পরিচালিত মহরাষ্ট্রের তিরোধা পাওয়ার প্লান্ট ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এই কেন্দ্রের কয়লা আসে ভারতের কয়লা খনি থেকে ট্রেনে করে। মালবাহি ট্রেনের খোলা বগিতে করে কয়লা আনা হয়। উপরে কোন কিছু থাকে না। এসব কয়লা বাতাসে উড়ছে, বৃষ্টিতে ভিজে তা মিশে যাচ্ছে ট্রেন যেসব স্থান দিয়ে আসছে সেইসব স্থানে। কিন্তু এসব কেন্দ্রের আশে পাশে সুন্দরবনের মত স্পর্শকাতর কোন বন না থাকায় তা নিয়ে বিতর্ক উঠলেও সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে ভারত কর্তৃপক্ষ।

সোজা খনি থেকে যে কয়লা আসে সেই কয়লা বোঝাই ট্রেনের ওপর একটি ত্রিপল দেয় না কেউ আর জাহাজ থেকে প্রথমে ছোট জাহাজে নামানো হবে সেখানে কি করে কয়লার ওপর ঢাকনা দিবে সত্যিই জানতে ইচ্ছে করে।

পশুর নদী বনাম ওয়াইনগঙ্গা
পরিবেশবিদদের থেকে বার বার বলা হয়েছে যে কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রর কারণে পশুর নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাবে। এর ফলে নদীটি মারা যাবে। আর এ নদীর ওপর নির্ভরশীল সুন্দরবনের একটি অংশ মরুকরণ দেখা দিবে।সব কিছু ধ্বংস হবে যাবে। তখন পিডিবি ও সরকারের পক্ষ থেকে নানান ধরনের যুক্তি নাগরিকদের সামনে দিয়েছে সরকার ও পিডিবি। কিন্তু বাস্তবে কি হয় একটি সুপারক্রিটিক্যাল কেন্দ্রের ক্ষেত্রে? তা জানতে আমরা তিরোধা কেন্দ্র যে ওয়াইনগঙ্গা নদী থেকে পানি নিয়ে থাকে তার একটু খোজ খবর করি চলুন। তাহলেই বুঝবো যে আমাদের পশুর নদীর হাল হকিকত কোথায় গিয়ে দাড়াবে।

তিরোধা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি আসে ১০ কিলোমিটার দুরের ওয়াইনগঙ্গা নদী থেকে। এ নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ টেনে আনা হয় কেন্দ্রে।এ বাধের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে ফলে, স্থানীয় কৃষক শষ্য আবাদে দারুন মার খেয়েছে। ফসলে মার খেয়ে বাধ সংলগ্ন বিদারবহ এলাকায় সব থেকে বেশি কৃষক আÍহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। আগে থেকেই এ অঞ্চলটি ছিলো ভারতের চরম দরিদ্র মানুষের বাস। তারপর নদীর পানি আটকে এই বাধের পানি প্রত্যাহার মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়েছে।

কেন্দ্র সচল রাখতে আদানি গ্রুপের প্রতি ঘন্টায় প্রায় ৬ লাখ লিটার পানি দরকার। এই পানিতো আর আসমানের বৃষ্টি দিয়ে পূরণ করবে না। নদী থেকেই করবে। এ জন্য অবৈধ একটি বাধ দিয়েছে তারা।

আদানি গ্রুপের এ অবৈধ বাধ নিয়ে টাইম অব ইন্ডিয়ার রিপোর্টটি পড়তে ক্লিক করুন এখানে


জীবন ও জীবিকার এই নিশ্চয়তার দায় কি আদানি পাওয়ার নিবে?

বাংলাদেশে অবৈধ বাধ না দিলেও এ পরিমান পানি পশুর থেকে নিলে পশুর নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাবে এটা বোঝার জন্য বুয়েটের পানি বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই।

ওয়াইনগঙ্গা নদীর বাধের ফলে সারা ভারতের মধ্যে এ এলাকাতে সব থেকে বেশি কৃষক আত্মহত্যা করছেন বলেও টাইমস অব ইন্ডিয়া (গত ১১ জুলাই) ও এনডিটিভি (গত ১৮ মার্চ) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে । ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা ন্যাশনাল ক্রাইমস রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি) তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র বিদারবহ এলাকায় ২০১৩ সালে ৩ হাজার ১৪৬ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। আর পরিবেশকর্মীদের দাবি, পানির স্তর অতিমাত্রায় নিচে নেমে যাওয়ার কারণ হলো এ কেন্দ্র থেকে প্রতি ঘন্টায় ৬ লাখ লিটার পানি ওয়াইনগঙ্গা থেকে বাধের মাধ্যমে টেনে নেওয়া হচ্ছে। এ কারণে নদীর স‌্বাভাবিক গতিপ্রবাহ মাআত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিদারবহ এলাকায় টাইম অব ইণ্ডিয়াসহ অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত আত্মহত্যার সংবাদগুলো নীচের লিংকগুলো থেকে পড়ে দেখতে পারেন।
http://timesofindia.indiatimes.com/city/nagpur/Vidarbha-farmers-will-continue-to-find-suicide-more-attractive/articleshow/38161362.cms

http://www.nagpurtoday.in/fatal-fact-maharashtra-records-3146-suicides-by-farmers-in-2013-tops-list-in-country-ncrb/07041635

http://www.ndtv.com/article/india/in-maharashtra-22-farmer-suicides-in-three-weeks-report-497018

নদীতে বাধ দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র পানি আনা নাকি বিজ্ঞান সম্মত!!

হায় বিজ্ঞান তুমিও পারো। আমরা খানিকটা কৌতুহল নিয়ে জানতে চেয়েছিলাম আদানি গ্র“পের ভাইস প্রেসিডেন্ট বি ডি দে’র কাছে। তিনি আমাদেরকে অস্টম আশ্চায্যের কথা শোনালেন। এই বক্তব্য না শুনলে সত্যিই জীবনে এতো বড় জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হতাম। তিনি আমাদেরকে জানালেন, ‘ওয়াইনগঙ্গার মিস্টি পানি সাগরে গিয়ে লবন পানির সঙ্গে মিশে নস্ট হয়ে যাচ্ছিলো। আমরা বরং বাধ দিয়ে তা বিদ্যুৎ উৎপাদানে ব্যবহার করছি। বাধের কারণে পানি মাটির ভেতরে প্রবেশ করছে। এটা পরিবেশের জন্য ভালো বলেও তিনি দাবি করেন।

বাংলাদেশের পরিবেশকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের গরম পানি পশুর নদীতে ছেড়ে দেওয়া হবে। এর ফলে পশুর নদী ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু পিডিবির কর্মকর্তারা দাবি করছেন, সুপারক্রিটিক্যাল কেন্দ্র থেকে গরম পানি ছাড়া হয় না।পরিশোধীত পানিই কেবল নদীতে ছাড়া হবে। কিন্তু ভারতের গণমাধ্যম বলছে ভিন্ন কথা।দ্যা হিন্দু’র গত ৮ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গুজরাটের কুচ জেলায় আদানি গ্র“পের মুন্ডা সুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে গরম পানি সাগরে ফেলা হয়েছে।এর ফলে সাগর দুষণের স্বীকার হয়েছে। এ জন্য গুজরাট হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থে মামলাও হয়েছে।

দ্যা হিন্দুতে পড়েন আদানি গ্রুপের সুপারক্রিটিক্যাল কেন্দ্রের গরম পানি ছেড়ে সমুদ্র দূষনের খবর জানতে দ্যা হিন্দু টাইমস-এ গুতা মেরে দেখতে পারেন।

শুধু তিরোধা বিদ্যুৎকেন্দ্রেরই এ অবস্থা নয় রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি পরিচালিত সিপাত কেন্দ্রের ব্যবহারেও পরিবেশ কর্মীদের উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এনভায়রোনিক্স ট্রাস্ট এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিপাত কেন্দ্র থেকে গড়ে প্রতি বছরে ২০ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সসাইড নির্গত হচ্ছে, এ কেন্দ্র থেকে নাইট্রোজেন অক্সসাইড ২০ কিলোমিটার দুরে ছড়িয়ে পড়ছে। এ ছাড়া কেন্দ্রের জন্য প্রতি ঘন্টায় ৫ লাখ ২৯ হাজার লিটার পানি ব্যবহার করা হচ্ছে পাশ্ববর্তী লিলাগড় (খরষধমৎধয ৎরাবৎ) থেকে এ পরিমান পানি নেওয়ায় পরিবেশের ওপর তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে।
এ সংক্রান্ত গবেষণাটি পড়তে ক্লিক করুন ইন্ডিয়া ওয়াটার পোর্টালের এই লিংকে

আমার দেখা দুটি সুপার ক্রিটিক্যাল কেন্দ্রের ওপর বুঝ বিবেচনা থেকে এটা লেখা। যদিও ৩২ জন সাংবাদিকরা লিখছেন যা দেখেছেন তা থেকে। ফলে অন্য কোন প্রতিবেদকের সাথে আমার দেখার পার্থক্য থাকতেই পারে। নিজ দায়িত্বে পড়বেন। গালিও দিবেন নিজ দায়িত্বে।কারণ আমি যা বলেছি সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির বক্তব্য আছে। আছে ভারতের বিখ্যাত সব পত্রিকাগুলোর সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন।
তিরোধ কেন্দ্রের ইউনিট তিনের পরিচালক অনিমেষ মুখার্জি আমাদেরকে জানিয়েছেন, ২৭৫ মিটার একটি উচু চিমনি দিয়ে যেসব ধোয়া, ও কয়লার পার্টিকেল বের হয় তা ওই কেন্দ্র এলাকায় পড়ার কোন সম্ভাবনা নেই। এটা কম করে হলেও দশ কিলোমিটার দুর থেকে প্রভাব পড়া শুরু করবে। কারণ ওইসব বিষয়গুলো নিকটতম দুরবর্তী স্থান হওয়ার কথা ১০ কিলোমিটার।
এখন যারা কেন্দ্রের চারপাশে কোন ক্ষতি দেখতে পান নাই তাদের কি দোষ? আর একটি কেন্দ্র তৈরী হলে নিশ্চয় রাতারাতি তার প্রভাবগুলো দেখা যায় না। এটা দীর্ঘমেয়াদি একটা ব্যাপার।
শেষ একটা কথা বলি। আমি-আপনি থাকবো না। আর কত বছরই বা বাঁচবো। এটাই নিয়ম। কিন্তু সুন্দরবন থাকবে। যদি সুন্দরবন না থাক তাহলে বাংলাদেশ নামের একটি দেশ থাকবে না। এই ভূমির যে কি দশা হবে এর জন্য বুয়েটে পড়ে প্রকৌশলী হবার দরকার নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একদিন হয়তো আর উন্নত কিছু আসবে। তখন কিন্তু সুন্দরবন পাওয়া যাবে না। আর আল্লার দুনিয়াতে বিদ্যুৎকেন্দ্র করার জায়গারও অভাব নেই। অন্য কোন খানে যদি এই কেন্দ্র নিয়ে যাওয়া হয় তাইলে কি ইজ্জত কা সওয়াল হবে? যদি তা না হয় তাইলে দয়া করে এ কেন্দ্র অন্য কোনখানে সরিয়ে নিন।

ভারতে কয়লা বিদ্যুৎ বিপ্লব, বাংলাদেশে ধ্বংস হবে সুন্দরবন, পর্ব-১

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “ভারতের বিদ্যুৎ বিপ্লবে প্রশ্নবিদ্ধ সুপারক্রিটিক্যাল ধ্বংস হবে আমাদের সুন্দরবন (শেষ)

  1. ৩২ জন সাংবাদিকের মতামত কি
    ৩২ জন সাংবাদিকের মতামত কি আপনার মতই। নাকি এখানেও গরমিল আছে? আপনার দেখার অভিজ্ঞতার আগেও বাংলাদেশের অধিকাংশ জ্বালানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ সুন্দরবনে বিদ্যুৎকেন্দ্র করার বিপক্ষে মত দিয়েছেন। তারপরও সরকার অনঢ় রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র করার বিষয়ে। আপনারা জ্বালানি বিট করা সাংবাদিকরা যদি সবাই একমত পোষন করেন রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ করার বিরুদ্ধে, তাহলে সরকার হয়ত একটু চাপে পড়বে। তাই আপনাকে প্রশ্নটি আবারো করছি- আপনারা সবাই কি এ বিষয়ে একমত?

  2. আমার মত কিনা তা বুঝতে
    আমার মত কিনা তা বুঝতে পত্রিকাগুলোর ওপর নজির দন। ে বেশকিছু পত্রিকা এরকম প্রতিবেদন না করলেও মূল সুর এরকম ছিলো।
    আর এরপর ১৩টি বিদেশ ট্যুর আছে এই বিটের রিোপর্টারদের জন্য। কার দরকার এইসব ঝামেলায় জড়িয়ে বিদেশে যাওয়া ক্যান্সেল হওয়া।

    1. আর এরপর ১৩টি বিদেশ ট্যুর আছে

      আর এরপর ১৩টি বিদেশ ট্যুর আছে এই বিটের রিোপর্টারদের জন্য। কার দরকার এইসব ঝামেলায় জড়িয়ে বিদেশে যাওয়া ক্যান্সেল হওয়া।

      ঠিক বলেছেন তুহিন ভাই। দেশেরস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ যখন মূখ্য হয়ে যায় তখন এ বিষয়ে নেগেটিভ কথা বলে সরকারের বিরাগভাজন হয়ে ট্যুর মিস করার কোন মানে হয় না!

      তবে আপনার সাহসী ভুমিকার জন্য আপনাকে স্যালুট। আমরা এখনো পুরো নষ্ট হয়ে যাইনি। অবশিষ্ট যারা আছে তাদের জন্যই হয়ত আশাকরি দেশটা একসময় সকল নষ্টদের হাত থেকে রেহাই পাবে।

      আপনার তথ্যসহ এই বিষয়ে দুইটা পোস্ট পড়ার পর রামপালে যারা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে পক্ষে কথা বলবে তারা নষ্টদের দলে পড়বে। আশাকরি, দেশের চিন্তাশীল মানুষ আমাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই আত্মবিধ্বংসী সিদ্ধান্ত রুখে দেওয়ার জন্য কথা বলবে। প্রতিবাদ জানাবে।

  3. দুই নাম্বারি কত প্রকার ও কি
    দুই নাম্বারি কত প্রকার ও কি কি তা শুনে তব্দা খেয়ে গেলাম। অসাধারণ কাজ করেছেন তুহিন ভাই। আপনাদের জন্যই আমরা ভরসা পাই। সবকিছু এখনও নষ্টদের দখলে চলে যায় নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 60 = 61