এই লেখাডা কি ব্লগ হইতে পারে?

জানুয়ারীর পাচ সাত তারিখে ঢাকায় গেছিলাম, সেখানে আমার এক ছোটভাই যে কিনা দিগন্ত টিভিতে কাজ করে তার সাথে দেখা হল (সে আমার খুব প্রিয়, এবং মডারেট, মোটামোটি মুক্তচিন্তার)।

কথা প্রসঙ্গে যুদ্ধাপরাধ ইস্যু নিয়া সে বলছিল জাতিকে একটা বিভক্তিতে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। আমি তখন এর অর্থ বুঝিনাই। কিন্তু ২২ ফেব্রুয়ারীর ঘটনায় বুঝতে পারলাম বিভক্তি বলতে সে কি বুঝিয়েছিল। পরে তাকে একদিন জিগাইছিলাম তোমরা কি আগেই জানতা এমনভাবে রাজিব মারা যাবে আর তোমরা বিভক্তিরেখা টানবা? সে অবশ্য উত্তরে কিছু বলে নাই। তবে বুঝেছি দিগন্ত অফিসের থেকে সে বিভক্তির ব্যপারে হয়ত শুনেছে।

যাই হোক মূল কথা হচ্ছে জামাতে ইসলামকে আমরা যেভাবেই দেখিনা কেন তারা তাদের মিশন কিন্তু ভালভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে বা চেষ্টা করছে। আমার দৃঢ় বিস্বাশ রাজিব হত্যার ব্যপারে তারা অনেক আগে থেকেই জানত এবং এর মাধ্যমে সুযোগ নেয়ার অপেক্ষায় ছিল। আজ এটা দিনের আলোর মত স্পস্ট যে জাগরন মঞ্চকে আম জনতার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিরূপভাবে উপস্থাপনের জন্যই রাজিবকে হত্যা করেছে। এবং ২২ ফেব্রুয়ারীর সাধারন পাব্লিকের (যদিও পেছনের উস্কানিতে জামাত ছিল, কোন কোন জায়গায় নিজেরাই) সহিংশতাই বলে দেয় তারা তাদের প্ল্যানে কি পরিমান সফল হয়েছিল। অবশ্য তাদের প্রপাগান্ডা মোটামোটি একদিনেই হালের পানি পায়নি, যার ফলে ২৪ ফেব্রুয়ারীর হরতাল সফল হয়নি।

এরপর কোন কোন জায়গায় কাউকে বলতে শুনলাম দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
সাইদীর রায়ের পর সহিংসতা কি তা ক্লিয়ার হয়ে যায়।

অবশ্য সাইদীর রায়ের পর তারা একেবারে মুখোশ খুলে মাঠে নামাতে পাব্লিকের কাছে তাদের গ্রহনযোগ্যতা শুন্যে চলে আসে।

এরপর টীকা নিয়া গুজবও হালে পানি পায়নি। টিকার গুজবে তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারকে ইন্ডিয়ার দালাল বলে চিহ্নিত করা, তাও পাব্লিক বুইঝা গেছে।

সত্যি বলছি আমি উপরের সবগুলু ঘটনায়ই সাহস হারাইনি, একবারো যে ভাবিনি প্রজন্ম চত্তরের আন্দোলন ব্যর্থ হবে। কিন্তু চিটাগাঙে হেফাজতের কারনে আমাদের সমাবেশ যখন করতে পারিনি তখন অনেকটা হতাশ হয়েছি। তবে কি আমরা হেরে যাচ্ছি? ফেবুতে হতাশার ছাপও পরেছে।

আজ হেফাজতের মিছিল কর্মসূচী নিয়ে একটা ভয়ও কাজ করছিল। ভয় ছিল হারামজাদারা কি আজো সাধারন মানুষকে উস্কে দিবে? কিন্তু পাব্লিক আজ বুঝে গেছে সব জামাতের কারসাজি। আমি চাক্ষুস আজ একটা মসজিদ থেকে মাত্র দশ বারোজন হেফাজতি মিছিল নিয়ে বেরিয়েছে, নিরাপদ দুরত্বে ছিল জামাত শিবিরের আরো বিশ পচিশ জন নেতা কর্মী। আমার দৃঢ় বিস্বাশ হারামজাদারা আশা করেছিল ২২ তারিখের মত পাব্লিক মিছিলে যোগ দেবে, আর পেছন থেকে শালারা সহিংসতা করবে। বাট তাদের আশায় গুরে বালি।

এখন এটা একদম স্পস্ট সাধারন মানুষের কাছে জামাতের লোকেদের বিন্দু পরিমান দাম আর অবশিষ্ট নাই। জামাত এখন গিরিখাদের কিনারে দাড়িয়ে, এদের নিশ্চিনহ করতে শুধু একটা ঠেলা বা ধাক্কা যাই বলেন যথেষ্ঠ। কিন্তু ধাক্কাটা দিবে কে? হ্যা ধাক্কা দিতে হবে আবার আমাদেরকেই। সরকার এ ব্যপারে মারাত্মকভাবে উদাসীন্তার পরিচয় দিতেছে। মনে হয়না সরকার নিষিদ্ধ করবে। তবে করবে টা কে?

তাই আমার মনে হয় নাস্তিক আস্তিক বিতর্কে কান না দিয়ে আমাদের মূল দাবির দিকে দৃষ্টিপাত করাটাই জরুরী। নাস্তিক আস্তিক বিতর্ক সাধারন মানুষের কাছে এখন বেশ ক্লিয়ার হয়ে গেছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “এই লেখাডা কি ব্লগ হইতে পারে?

  1. নাস্তিক-আস্তিক বিতর্কে আমরা
    নাস্তিক-আস্তিক বিতর্কে আমরা কি কান দিচ্ছি? কান দিচ্ছে সরকার। সরকার এই হেফাজতকে পাত্তা দিয়ে নাস্তিক-আস্তিক ইস্যুকে গরম করে রেখেছে। অথচ জামায়াত নিষিদ্ধ বা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে নাস্তিক-আস্তিক কোন ইস্যুই না। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মালম্বীরা মনে প্রাণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় এবং জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চায়।

    1. ধন্যবাদ , শুনে ভাল লাগল ,
      ধন্যবাদ , শুনে ভাল লাগল , আমরা কান দিচ্ছিনা।
      কিন্তু আজ জাগরন মঞ্চ বারবার প্রমান করার চেষ্টা করছে আমরা নাস্তিক নই।
      এই ভন্ডামির মানে কি?

      ওরা কি বলতে পারেনা হ্যা আমাদের সাথে নাস্তিকও আছে, নাস্তিক হলেই কি তার দেশপ্রেম থাকার অধিকার নাই?

    2. হাম্বালীগের সামনে এখন খুব
      হাম্বালীগের সামনে এখন খুব দুঃসময়। শালার চামড়া বাচাতে এখন নাস্তিক নিধন করতে চায়। ওরা কি ভুইলা গেছে ৭২এর সংবিধান?

  2. আমরা দেশ দেশ কইরা মরি, আর
    আমরা দেশ দেশ কইরা মরি, আর রাজনৈতিক দলগুলা আছে স্বার্থ সিদ্ধির ধান্দায়। এবার যদি আওয়ামী লীগ বিচার এবং জামাত নিষিদ্ধের ব্যাপারে ধুনফুন করে তাইলে নিজের কবর নিজেই খুঁড়বে। আওয়ামী লীগ গাছেরটা আর তলারটা দুইটাই খাওয়ার ধান্দায় আছে। বেশী খাইলে বদহজম হয় ভুইলা গেছে।

  3. রাজনীতি, আর রাজনীতিবিদদের
    রাজনীতি, আর রাজনীতিবিদদের হাতে নাই ! হোক সেটা বিএনপি বা আওয়ামীলীগ । যার ফলে তারা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায়। উভয় দলের নীতি নির্ধারণ পর্যায়ে রাজনীতিবিদের বড়ই অভাব। ফলে জামায়াতের মত সন্ত্রাসবাদী দলকে নিষিদ্ধ করতে ভয় পাচ্ছে মনে হয়। কারণ আওয়ামীলীগ এর নীতি নির্ধারকগণ জনতার মাঝে থাকে না, ফলে তাদের পালস্ ও বুঝতে পারছে না…………….সরকারি দলের জনতার পালস্ বুঝার এখনই উপযুক্ত সময়। যদি বুঝতে না পারে, তাহলে তাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে পরে তা বুঝতে পারবে…………কিন্তু তখন আর কিছু করার থাকবে না…………

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 2