বাংলার চে ভাষা মতিন : একজন কমিউনিস্টের চীর বিদায়


(ভাষা মতিনের একটি সাক্ষাতকার নিয়েছিলাম। সেখানে তিনি ৫২ ভাষা আন্দোলন, শেখ মুজিব, স্বাধীনতা যুদ্ধ, পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন, সিরাজ সিকদার নানান বিষয়ে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছিলেন। ইস্টিশনের পাঠকদের জন্য সাক্ষাতকারটি আবারো প্রকাশ করা হবে)

?itok=0g5Jzoqy” width=”400″ />
বিপ্লবীর কেন মৃত্যু নেই-এ প্রশ্ন আসা খুবই সাভাবিক। কারণ সমাজ পরিবর্তনের রাজনীতিতে ক্রিয়াশীল বিপ্লবীরা সাধারণ মানুষের জন্য লড়াই করেন। সাধারণ মানুষের রুটি রুজি ও সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্র নির্মাণের লড়াই যতক্ষণ শেষ না হয় ততোক্ষণ পর্যন্ত বিপ্লবীরা বার বার ভিন্ন ভিন্ন নামে জন্ম নেয় সমাজের গর্ভে। রাষ্ট্র বিপ্লবের পরও বিপ্লবীদের প্রয়োজন তবে সেটা ভিন্ন প্রেক্ষিত। তখন লড়াই থাকে বিপ্লব বাঁচিয়ে রাখার। আব্দুল মতিন সমাজ পরিবর্তনের ধারায় এরকমই একজন আজীবন বিপ্লবীর নাম।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় উপদেস্টামন্ডলীর সদস্য ছিলেন। আজ ৮ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। কমরেড আব্দুল মতিন দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত নানা জটিল অসুখ রোগে ভুগছিলেন। সর্বশেষ ১৮ আগস্ট ২০১৪ মস্তিস্কের রক্তক্ষরণজনিত কারণে অসুস্থ হলে হাসপাতালে ভর্তি হন। ১৯ আগস্ট তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আই সি ইউ তে স্থ্ানান্তর করা হয়। ২০ আগস্ট অস্ত্রপ্রচারের মাধ্যমে মস্তিস্কের জমাট বাঁধা রক্ত বের করা হয়। তখন থেকেই তিনি আই সি ইউ তে ছিলেন। গত ১ অক্টোবর থেকে তাঁর শাসকষ্ট বাড়তে থাকে এবং ক্রমাগত ভাবে স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকে। সবশেষে ৩রা অক্টোবর সকাল থেকে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়।

আব্দুল মতিন একজন চে’র বিদায়
পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির সভাপতি শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার আব্দুল মতিনকে বলেছিলেন চে পন্থি। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে চে গুয়েভারা কি কমিউনিস্ট বিপ্লবী না? তবে যারা জটিল কমিউনিস্ট তাত্বিক বিতর্কগুলো সম্পর্কে খবর রাখেন তারা জানেন, কমিউনিস্টদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ভেঙ্গে যাবার পর নানান শাখায় প্রশাখায় কমিউনিস্ট আন্দোলনের মতবাদিক স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। এসব ঘরানাগুলো একে অপরকে খারিজ করতেন। এবং নিজেকে সাচ্চা বিপ্লবী হিসেবে যুক্তি তুলে ধরতেন এবং তা প্রচার করতেন। সে মতে, চে যে ভাবে নিজের দেশ থেকে এসে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বিপ্লবী তৎপরতা করতে চেয়েছেন লেনিনবাদি ডিসকোর্স থেকে তার সমালোচনা করা হয়। এ ধরনের গেরিলা অ্যাকশানপন্থিদের চে’বাদী বলা হয়। সে অনুযায়ীই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনে আলাউদ্দিন, মতিনকে সিরাজ সিকদারকে চে’বাদী বলে সমালোচনা করেন। সেটা আর এক প্রসঙ্গ। তবে নকশালপন্থি কমিউনিস্টদের মধ্যে আবদুল মতিন ওরফে ভাষা মতিন ছিলেন অন্যতম।
দুই কুকুরের ভ্রান্ত গল্প
৭১’ স্বাধীনতার যুদ্ধের প্রাক্কলে আবদুল হকের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি বহুল আলোচিত দুই কুকুরের তত্ব দিয়ে যুদ্ধ থেকে নিজেদের বিরত রাখেন। কিন্তু আলাউদ্দিন, মতিন ও দেবেন বাসারের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি যুদ্ধে অংশ নেয়। রাজাকারও পাক বাহিনী যৌথ অভিযানে ভাষা মতিনের বাবা আব্দুল জলিলকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সেপ্টেম্বর মাসে নগরবাড়িতে হত্যা করে। তার ভাই আপন ভাই মনু পাক বাহিনীর সাথে সরাসরি যুদ্ধে নিহত হন।

তাহলে ফেসবুক সহ সোসাল মিডিয়াতে দুই কুকুরের তত্বটি ভাষা মতিনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কেন হলো? সে আলোচনা অন্য কোনদিন করবো। তবে সংক্ষেপে এটাই শুধু বলতে পারি, আওয়ামী লীগের ন্যারোটিভ থেকে মুক্তিযুদ্ধের বয়ান না হলে সেটাই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অবস্থান। সোজা কথায়, আওয়ামী লীগ বাদে মুক্তিযুদ্ধের কোন চেতনা ও যুদ্ধ হয়নি ১৯৭১ সালে। এরকম চিন্তা করা ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদী ধারণা।

ভাষার আন্দোলন দিয়ে যাত্রা শুরু
’৫২ এর ভাষা আন্দোলনের প্রাণশক্তি, যার ব্যাপক তৎপরতা যথসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নানামুখী তৎপরতা থেকে শুরু করে ছাত্রদেরকে উজ্জ্বীবিত করা, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ সহ যে সাহসী ও বিচক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাঙালি জাতিসত্ত্বার লড়াই এর সেই প্রবাদ প্রতিম পুরুষ ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন জšে§ছিলেন ১৯২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার ধুবুলিয়া গ্রামে। তাঁর পিতার নাম আব্দুল জলিল, মাতার নাম আমেনা খাতুন। ধুবুলিয়া গ্রামটি ছিলো যমুনা নদীবেষ্ঠিত। ১৯৩০ সালের দিকে প্রমত্তা যমুনার সর্বগ্রাসী ভাঙ্গনে গ্রামটি বিলীন হয়ে যায়। ফলে আব্দুল জলিল তাঁর পরিবার সহ শিশু মতিন ও অন্যান্য নাবালক সন্তানদের নিয়ে যমুনার বুকে জেগে ওঠা একটি চরের শৈলজানা নামক গ্রামে বসতভিটা গড়ে তোলেন। মধ্যম শ্রেণীর কৃষক আব্দুল জলিলের যা জমিজমা ছিলো তার সবই ছিলো চরের মধ্যে। ফলে জমি থেকে আব্দুল জলিল তেমন কিছু করতে পারতেন না। জমির ফলন ছিলো নদীর খেয়ালীপনার শিকার। বানের তোড়ে মাঠের ফসল যেতো নষ্ট হয়ে। ফলে তিনি ভাগ্যান্বেষণে হিমালয়ের পাহাড়ী গাছগাছালির শহর দার্জিলিং আসেন। এখানে ১৯৩০ এর দশকে জলা পাহাড়ের ক্যান্টনমেন্টে তিনি একটি চাকরি খুঁজে পান। তখন আব্দুল জলিল এন্ট্রাস পাস ছিলেন। তা স্বত্তেও কম মজুরীর সুপারভাইজার হিসেবে তিনি গ্যারিসনে যোগদান করেন। মাসিক বেতন মাত্র পনের রুপী। এসময় তিনি তার পরিবারের জন্য গ্যারিসনে একটি বাসা বরাদ্দ পান। ১৯৩২ সালে আব্দুল জলিল সিরাজগঞ্জের শৈলজানা গ্রাম থেকে তার তিনপুত্র ও দুই কন্যাসহ সাত সদস্যের পরিবার সাথে নিয়ে দার্জিলিং এ চলে আসেন।
শিক্ষা জীবন: ১৯৩২ সালে ছয় বছর বয়সে ভারতের দার্জিলিংয়ের মহারানী গার্লস হাইস্কুল নামক একটি বাংলা মাধ্যম স্কুলে শিশু শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার মধ্যদিয়ে আব্দুল মতিনের শিক্ষাজীবন শুরু হয়। ১৯৩৬ সালে তিনি দার্জিলিং গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং ১৯৪৩ সালে এন্ট্রাস (মাধ্যমিক) পাশ করেন। ১৯৪৩ সালে তিনি রাজশাহী গভর্নমেন্ট কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে প্রথম বর্ষে ভর্তি হন এবং ১৯৪৫ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। ১৯৪৫ সালে আব্দুল মতিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর অব আর্টস (পাশ কোর্স) বিভাগে ভর্তি হন এবং ফজলুল হক কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৭ সালে ¯œাতক পর্ব শেষ করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এম. এ প্রথম ব্যাচে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রীতিনীতির বিরুদ্ধ হওয়ার পরও বিশেষ অনুমোদনে ড. মাহমুদ হাসান নিজ ইচ্ছায় তাকে ইতিহাস বিভাগে ভর্তি করে নেন। একই বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে ভর্তি হন।

১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে অনুষ্ঠিত বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তার ভাষণে ‘উর্দু কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ উচ্চারণ করলে আব্দুল মতিন দাঁড়িয়ে তীব্রকণ্ঠে প্রতিবাদ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের নিকট তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন। ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের এক প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার সময় পুলিশ সচিবালয়ের কাছ থেকে আব্দুল মতিনকে গ্রেফতার করে এবং দুই মাসের আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে।
জেলে যাওয়ার আগে তিনি কেন্দ্রীয় সুপিরিয়র সার্ভিসের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সরকার জেলারের মাধ্যমে শর্ত সাপেক্ষে আব্দুল মতিনকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব দেয়। শর্ত হলো ভবিষ্যতে তিনি কখনো আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবেন না, এই মর্মে মুচলেকায় স্বাক্ষর দিতে হবে। আব্দুল মতিন ঘৃণাভরে সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। দু’মাস পর কারাগার থেকে মুক্তি পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আব্দুল মতিনকে তার কক্ষে ডেকে পাঠান এবং একই ধরনের একটি মুচলেকায় স্বাক্ষর করতে বলেন, মতিন তাতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল থেকে তিন বছরের জন্য বহিস্কার করেন। আব্দুল মতিন ফজলুল হক হল ছেড়ে চলে যান এবং ইকবাল হলের পাশের ব্যারাকে থাকার ব্যবস্থা করেন।

১৯৫০ সাল রাষ্ট্রভাষা দিবসের দ্বিতীয় বর্ষ পূর্তিতে ১১ই মার্চ ক্যাম্পাসে আয়োজিত ছাত্রদের এক প্রতিবাদ সমাবেশে আন্দোলনকে সংগঠিত এবং সঠিক পথে পরিচালনার জন্য আব্দুল মতিন একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করলে উপস্থিত সাধারণ ছাত্রদের সিদ্ধান্তে তাকে আহবায়ক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। এই সংগ্রাম পরিষদের অধিকাংশ সদস্য কোন রকম কর্মকা-ে না থাকলে এমনকি বারবার সভায় উপস্থিত না হলে আব্দুল মতিন এই পরিষদ পুনর্গঠন করেন এবং পুরোনদের বাদ দিয়ে নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করে ৮ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। আন্দোলনের কর্মসূচীর খরচ মেটানোর জন্য জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে ১৯৫১ সালের ৫ এপ্রিলকে পতাকা দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সাধারণ ছাত্রছাত্রী দিবসটি উদ্যাপনে তাকে সর্বত্মক সহযোগিতা প্রদান করেন এবং এই কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে তারা আশাতীত অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।

১৯৫০-১৯৫২ এই তিন বছর সময়ের মধ্যে আব্দুল মতিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্রছাত্রী ভাষা আন্দোলনের কর্মসূচীকে জনপ্রিয় ও সফল করার লক্ষ্যে সারাদেশে বিভিন্ন বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষষ্ঠানে ছুটে বেড়িয়েছেন। ২৭ জানুয়ারি ১৯৫২ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন ঢাকায় মুসলিম কাউন্সিলের এক সভায় ঘোষণা দিলেন “উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।” নাজিমউদ্দিনের এই বক্তব্যের প্রতিবাদে তার পরদিনই আব্দুল মতিন ও সহযোগি ছাত্র নেতৃবৃন্দরা এক বিশাল প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করেন।

১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি ঢাকার বার লাইব্রেরি মিলনায়তনে দেশের অবিসংবাদিত নেতা জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আহুত রাজনৈতিক কমির্ ও ছাত্রনেতৃবৃন্দের সমাবেশের আলোচনা সভায় কাজি গোলাম মাহাবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। আব্দুল মতিন পরিষদের অন্যতম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে আব্দুল মতিন ১৯৫২ সালে ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পসে শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছাত্রদের এক সমাবেশ আহ্বান করেন। উক্ত সমাবেশ থেকে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মর্যাদা দানের ঘোষণাসহ তাদের একুশ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে আব্দুল মতিন ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী এক কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
ছাত্রদের আন্দোলন কর্মসূচিকে প্রতিহত করতে সরকার ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রাক্কালে সারাদেশে ১৪৪ ধারা জারি করে। আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে সংগ্রাম কমিটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রকর্মীরা সরকারের ১৪৪ ধারা ভেঙে ২১ ফেব্রুয়ারিতে তাদের নির্ধারিত কর্মসূচি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সরকার কর্তৃক জারিকৃত ১৪৪ ধারা লঙ্ঘনের বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য ২১ ফেব্রুয়ারির ঠিক আগে ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে দেশের নেতৃস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সহ ছাত্র নেতারা শহরের নবাবপুর রোডে আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যালয়ে এক সভায় মিলিত হয়। দীর্ঘ সময়ব্যাপী অনুষ্ঠিত ওই সভায় আব্দুল মতিন এক অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেন। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন পাকিস্তান মুসলিম লীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশিম। আব্দুল মতিন সরকারের জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার পক্ষে দীর্ঘ বক্তব্য দেন এবং নানা যুক্তি হাজির করেন। সভায় উপস্থিত অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ ছিলেন নানা শঙ্কায় শঙ্কিত। ভাষার দাবি নিয়ে সরকারের মুখোমুখি দাঁড়ানোর প্রশ্নে তাদের মধ্যে দেখা দেয় অনীহা। ওই সময় তাদের কাছে মাতৃভাষার মর্যাদার চেয়ে বড় চিন্তার বিষয় ছিলো আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, আর এ জন্যেই তারা সরকারকে ঘাটাতে চান নি।

শেষ পর্যন্ত বহু পাল্টা-পাল্টি তর্ক বিতর্কের পর ১৪৪ ধারা লঙ্ঘনের বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য সভায় ভোট গ্রহণ করা হয়। উপস্থিত ১৫ জনের মধ্যে চারজন ভোট দেন ১৪৪ ধারা লঙ্ঘনের পক্ষেÑ বিপক্ষে ১১ জন। এ ধরনের সিদ্ধান্তের পর আব্দুল মতিন আবারো জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেন এবং সভার সভাপতি বিচক্ষণ রাজনীতিক আবুল হাশিমকে বোঝাতে সক্ষম হন যে আজকের সভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পত্র-পত্রিকায় কোন বিবৃতি দেয়া ঠিক হবে না বরং এটাকে দু’টি মতামত হিসেবে গ্রহণ করা উচিৎ। এখানেই আব্দুল মতিনের সাফল্য নিহিত যে, তিনি জাতীয় পর্যায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় সাধারণ ছাত্রদের মতামতকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পেরেছিলেন যা শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের সাফল্যের পথ খুলে দেয়। পরদিন একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পসে সমবেত সাধারণ ছাত্রদের উপরে মতামত দুইটির ভাগ্য নির্ধারণের ভার দেয়ার সিদ্ধান্তের মধ্যদিয়ে শেষরাতের দিকে সভার সমাপ্তি হয়।

আব্দুল মতিন এবং তার সহযোগীরা পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রচুর সাধারণ ছাত্রদের সমাবেশে সংগঠিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। সারা শহরে টান টান উত্তেজনা। আগের সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে ক্যাম্পাসে জড়ো হওয়া বিশাল ছাত্র সমাবেশের সম্মুখে আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত অর্থাৎ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করার এবং আব্দুল মতিন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার পক্ষে তাদের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। মতামত দুটি শোনার পর উপস্থিত ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে রায় দেয় এবং যে কোনো মূল্যে তা কার্যকর করার পক্ষে শ্লোগান দিতে থাকে।

আব্দুল মতিন পুরো ব্যাপারটিকে টেনে সাধারণ ছাত্রদের সামনে নিয়ে এসে তাদেরকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে সক্ষম হওয়ায় ২১ ফেব্রুয়ারি আব্দুল মতিনসহ আন্দোলনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তে দশজন করে ছাত্রদের কয়েকটি দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক আমতলা গেট থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। এসময় পুলিশ ছাত্রদের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ, কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং গুলি চালায়। সেদিন বেশ কয়েকজন শহীদ হন, তাঁদের মধ্যে আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন, আব্দুল জব্বার অন্যতম। অসংখ্য মানুষ আহত হন এবং অসংখ্য ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়।
সরকারের সকল নিষেধাজ্ঞা ও ভয়ভীতি উপক্ষো করে আব্দুল মতিন এবং সহযোগীরা পুলিশের গুলিতে নিহতদের স্মরণে এক গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের তীব্র বিরোধিতা ও আপত্তি সত্ত্বেও গায়েবানা জানাজার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আব্দুল মতিনের স্বাক্ষরিত এক প্রচারপত্র বিলি করা হয়।
২২ ফেব্রুয়ারি গায়েবানা জানাজা কর্মসূচি ঘোষণার ফলে সেক্রেটারিয়েট কর্মচারী কাজে যোগ না দিয়ে সেখান থেকে হাজারে হাজারে মিছিল করে সকাল ১০টার মধ্যে আগের দিনের গুলির ঘটনাস্থল মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গনে জানাজায় সামিল হন। শহরে ১৪৪ ধারা বলবৎ ছিলো কিন্তু কেউ তা মানছিলো না। ব্যাপক সংখ্যক মানুষ এই জানাজায় সামিল হয়েছিলো। একদিন আগে ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনের ঐতিহাসিক জমায়েতে কেবল ছিলো ছাত্র আর ২২ ফেব্রুয়ারির মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গনে নিহতদের গায়েবানা জানাজায় অধিকাংশ ছিলেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সেক্রেটারিয়েটের কর্মচারীবৃন্দ। এই যথাযথ ও সময়োচিত কর্মসূচির কারণে একদিন আগের ছাত্রদের বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন সমগ্র জনগণের বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলনে পরিণত হওয়ার পথ পেয়েছিলো। ২১ ফেব্রুয়ারি সম্ভব হয়েছিলো ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্তের কারণে আর ২২ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থান সম্ভব হয়েছিলো গায়েবানা জানাজার সিদ্ধান্তের কারণে। আর এ দুটো ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তই ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির, যার নেতা ছিলেন আব্দুল মতিন।
জানাযা শেষে পুুলিশী হামলার প্রতিবাদে ছাত্র জনতার বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি কার্জন হল পার হয়ে হাইকোর্টের মোড়ে পৌঁছলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। কিন্তু তারপরও জনতার প্রতিরোধ অব্যাহত থাকে এবং বেলা ১২টার দিকে পুরনো ঢাকা মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়ে যায়। এবং প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত জনতার এই বিক্ষোভ চলে। সেই পর্যায়ে আন্দোলন বেগবান হতে থাকে এবং বিভিন্ন ঘটনা ঘটতে থাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। ১৪৪ ধারা জারি থাকা স্বত্ত্বেও কেউ যেমন তা মানছিলো না, ভয়েও ভীত ছিল না। ধর্মঘট, বিক্ষোভ, মিছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ঘটছিলো। মূলত সমস্ত পরিস্থিতিটি এক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ছাত্রজনতার ওপর পুলিশ-ইপিআর-সেনাবাহিনী যৌথভাবে নির্বিচারে গুলি চালায়। ২২ ফেব্রুয়ারি শফিউর রহমান, আব্দুস সালাম, আবদুল আওয়াল (রিক্সা চালক) এবং অহিউল্লাহ (কিশোর) শহীদ হন। আহত হন অসংখ্য। ২২ ফেব্রুয়ারি সরকার একই সাথে ১০ জনের নামে হুলিয়া জারি করে। এঁদের মধ্যে আব্দুল মতিন ছিলেন অন্যতম। বাকীরা হলেনÑ মওলানা ভাসানী, কাজী গোলাম মাহবুব, অলি আহাদ, শামসুল হক, মোহাম্মদ তোয়াহা, খালেক নেওয়াজ খান, সৈয়দ নূরুল আলম, আজিজ আহম্মদ ও আব্দুল আউয়াল।

হুলিয়া ঘোষিত হলেও আব্দুল মতিন একটুও দমেন নি। আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে ছাত্রদের বৈঠকের মাধ্যমে সারা দেশে আন্দোলনের খবর ছড়িয়ে দেবার উদ্দেশ্যে ইশতেহার প্রকাশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

২৩ ফেব্রুয়ারি কার্ফু থাকা সত্ত্বেও সারা রাত ধরে মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গনে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। শহীদ মিনারটির নক্সা অংকন করেন মেডিকেল কলেজের ছাত্র সাঈদ হায়দার। মেডিকেল কলেজে তখন একটা নির্মাণ কাজ চলছিল। ছাত্রদের অনুরোধে ভাষা আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল দুজন কনট্রাকটার ইট, সিমেন্ট, রড ও শ্রমিক দিতে সম্মত হন। ১০/১২ জন রাজমিস্ত্রী ছাত্রদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় রাতের মধ্যে শহীদ মিনার তৈরি করে ফেলে। ২৪ ফেব্রুয়ারি যথারীতি শহীদ মিনার উদ্বোধন করা হয়। আবুল কালাম শামসুদ্দীন শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন। দৈনিক আজাদের সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীন ২২ ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ থেকে ইস্তফা দেন। এই স্মৃতিসৌধের নিচে একটি চাদর পেতে দেয়া হয়েছিল সেটাতে মানুষ টাকাপয়সা দিয়েছিল, এমনকি মহিলারা তাদের গায়ের গহনা খুুলে দিয়েছিল। শহীদ মিনার নির্মাণসহ পুরো প্রক্রিয়ায় আব্দুল মতিন সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন, নিজে ইট-বালু বহন করা সহ সাধারণের কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন। পাকিস্তানি শাষকরা শঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ওইদিনই প্রথম শহীদ মিনার গুড়িয়ে দেয়। এর কিছু দিনের মধ্যে আব্দুল মতিনসহ কয়েকজন নেতা গ্রেফতার হন।
কিন্তু গ্রেফতার নির্যাতন কোনো আন্দোলনকে পরাভুত করতে পারে না। যেমন পারেনি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকে। ভাষা আন্দোলন শেষ পর্যন্ত পরিণতির দিকে এগুতে থাকেÑ বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

জাতীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ- আমৃত্যু রাজনীতিক

আব্দুল মতিন ১৯৫২ সালে গ্রেফতার হয়ে জেলে যাওয়ার পর জেলখানায় কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের সংস্পর্শে মার্কসবাদী আদর্শ ও রাজনীতির সাথে তার পরিচয় ঘটে। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি ছাত্র ইউনিয়নে যোগদান করেন এবং সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ছাত্র ইউনিয়ন ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আব্দুল মতিন কৃষক সংগঠনে কাজ করতে চেয়েছিলেন। ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা তাঁর না থাকলেও পার্টির সিদ্ধান্তের কারণে তিনি ওই দায়িত্ব নেন। ছাত্র ইউনিয়নে এক বছর দায়িত্ব পালনের পর তিনি কৃষক সংগঠনে কাজ শুরু করেন।
আব্দুল মতিন ১৯৫৩ সালের নভেম্বর মাসে পার্টির প্রার্থীসভ্য এবং ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে পার্টির সভ্যপদ লাভ করেন। ১৯৬৬ সালে কমরেড মতিন অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সংগঠক নিযুক্ত হন। এর পর কমিউনিস্ট পার্টি মস্কো-পিকিং ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। মনি সিংহ- খোকা রায়ের নেতৃত্বে মস্কোপন্থী এবং সুখেন্দু দাস্তিদার, আব্দুল হক ও মোহাম্মদ তোয়াহার নেতৃত্বে পিকিংপন্থী ধারায় বিভক্ত হয়। আব্দুল মতিন পিকিংপন্থী ধারার সাথে সম্পর্কিত হন।
১৯৬৮ সালের অক্টোবরে পিকিংপন্থী পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়। এই পার্টির নেতৃত্বে ছিলেন আব্দুল মতিন, আলাউদ্দিন আহমেদ, দেবেন শিকদার ও আবুল বাসার। ১৯৬৯ সালে পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবেন শিকদার গ্রেফতার হবার পর আব্দুল মতিন পার্টির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৬৩ সালে ঢাকার রায়পুরায় পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সম্মেলনে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, হাতেম আলী খান সাধারণ সম্পাদক এবং আব্দুল মতিন সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে সিলেটের কুলাউড়ায় পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সম্মেলনে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, আব্দুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং আব্দুল মতিন সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এই অবস্থা ১৯৭০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ চাষী সমিতি গঠিত হয়। ঐ চাষী সমিতির সভাপতি ছিলেন আব্দুল মতিন। ১৯৮১ সালে কৃষক সংগ্রাম সমিতি, চাষী সমিতি ও কৃষক ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে পাবনা জেলার বেড়ায় কৃষক মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঐ কৃষক সমাবেশে সারাদেশ থেকে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক জনতা সমবেত হয়েছিল। ঐ মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে ৪টি কৃষক সংগঠন একীভূত হয়ে জাতীয় কৃষক সমিতি গঠিত হয়। কমরেড আব্দুল মতিন ঐ সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সভাপতি পদে ছিলেন। ১৯৬৯ সালের ৫ অক্টোবর পাবনা জেলার শাহপুরে লালটুপি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই লাল টুপি সমাবেশে তিনি অন্যতম উদ্যোক্তা ও সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছিলেন। লালটুপি সমাবেশে লক্ষাধিক কৃষক জনতা সমবেত হয়েছিল।

১৯৭১ সালে আব্দুল মতিন ও আলাউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র জনতাকে সংগঠিত করে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি দেশের অভ্যন্তরে থেকেই জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন। এ কারণে রাজাকার ও পাকবাহিনী আব্দুল মতিনের গ্রামের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর বাবা পাবনা নগরবাড়ী ঘাটে রাজাকার ও পাক-বাহিনীর হাতে নৃশংসভাবে নিহত হন। তাঁর এক ভাই গোলাম হোসেন মনু পাকসেনাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে আহত হন, পরে তাকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করে। অপর একভাই সিরাজগঞ্জ কলেজের ছাত্র আব্দুল গফ্ফার ঘটু স্বাধীনতা পরবর্তীতে রক্ষীবাহিনীর হাতে নিহত হন।

আব্দুল মতিন ১৯৭১ সালের ১৬ জুলাই পর্যন্ত পার্টির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ৭১ সালের ১৬ জুলাই পাবনার শাহপুরে পার্টি প্লেনামে চারু মজুমদারের লাইন গৃহীত হলে তিনি ভিন্নমত পোষণ করেন এবং পার্টির সাধারণ সম্পাদকের পদ ছেড়ে দেন। পার্টির সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন আমজাদ হোসেন।
১৯৭২ সালের ৪ জুন আত্রাই লড়াই খ্যাত সশস্ত্রযুদ্ধে আব্দুল মতিন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার হন এবং দীর্ঘ কারাভোগের পর ১৯৭৭ সালে মুক্তি পান। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি আবার পার্টির সাথে যুক্ত হন। ১৯৭৮ সালে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল) এবং বাংলাদেশের মার্কসবাদী লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টির ঐক্যের মধ্যদিয়ে কমিউনিস্ট লীগ (এম.এল) গঠিত হয়।
১৯৮২ সালে কমিউনিস্টলীগ (এমএল) এবং বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল) ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ ও সাম্যবাদী দল (বাদশা-মানিক) ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট লীগ গঠিত হয়।

১৯৭৯ সালে তোলা একটি ছবি

১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট লীগ ও ওয়ার্কার্স পার্টি (অমল-নজরুল) ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ গঠিত হয় এবং সর্বশেষ ১৯৯২ সালের মে ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও সাম্যবাদী দল (আলী আব্বাস) ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি গঠিত হয়। কমরেড আব্দুল মতিন ঐক্যের প্রক্রিয়ায় গঠিত পার্টি সমূহের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অথবা পলিটব্যুরোর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে ওপেন হার্ট সার্জারীর পর থেকে শারীরিক কারণে তারপক্ষে রাজনীতিতে আগের মতো সক্রিয় থাকা সম্ভব ছিলোনা। ইতোমধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক লাইন ও কর্মকান্ড নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। ২০০৯ সালে হায়দার আকবর খান রনোর নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পার্টির একাংশ বের হয়ে ওয়ার্কার্স পার্টি (পুনর্গঠিত) গঠন করলে তিনি সেখানে যোগ দেন। ইতিমধ্যে কমরেড রনো ওয়ার্কার্স পার্টি (পুনর্গঠিত) ত্যাগ করে সিপিবি- তে যোগ দিয়েছেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (পুনর্গঠিত) ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ গঠন করে। কমরেড আব্দুল মতিন এই পার্টির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টাম-লীর অন্যতম সদস্য মনোনীত হন। আমৃত্যু তিনি এই পদে আসীন ছিলেন।

আব্দুল মতিন ১৯৮৪ সালে চীন সফর করেন। ২০০০ সালে বাংলাদেশী প্রবাসীদের আমন্ত্রণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। সেখানে সাড়ে ৪ মাস অবস্থান করেন । ২০০২ সালে বাংলাদেশী প্রবাসীদের আমন্ত্রণে ইউরোপ সফর করেন।

বিগত কয়েক বছর শারীরিক ও চিন্তাগত কারণে তিনি রাজনীতিতে অতটা সক্রিয় থাকতে পারেননি। কিন্তু মনে প্রাণে তিনি কমিউনিস্ট আদর্শ ধারণ করতেন। ভাষা আন্দোলনের মধ্যদিয়ে তিনি বাঙালি জাতির মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাপের মধ্যে কাজ করতে গিয়েও তিনি বাঙালি জাতির আতœনিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে ছিলেন অবিচল। কমিউনিস্ট রাজনীতি গ্রহণ করার পর বুঝেছিলেন, কেবলমাত্র কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে শ্রমিক-কৃষক-ক্ষেতমজুর মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত মেহনতী মানুষ মুক্তি পেতে পারে। সেই দর্শন ও আদর্শে তিনি অবিচল ছিলেন আজীবন।
আব্দুল মতিনের সংক্ষিপ্ত জীবনী
জন্ম
৩ ডিসেম্বর ১৯২৬। সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালি থানার ধুবুলিয়া গ্রামে। মাতা আমেনা বেগম, পিতা আব্দুল জলিল সরকার। ১৫ ভাই-বোনের মধ্যে প্রথম। স্ত্রী গুলবদন নেসা মনিকা। দুই মেয়ে মাতিয়া বানু শুকু ও মালিহা শুভন।
শিক্ষা জীবন: ১৯৩২ সালে ছয় বছর বয়সে ভারতের দার্জিলিংয়ের মহারানী গার্লস হাইস্কুলে শিশু শ্রেণীতে ভর্তি। ১৯৩৬ সালে দার্জিলিং গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি এবং ১৯৪৩ সালে এন্ট্রাস (মাধ্যমিক) পাশ। ১৯৪৫ সালে রাজশাহী সরকারী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তির্ণ। ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস (বিএ) পরীক্ষায় উত্তির্ণ। ১৯৪৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি এবং রাজনৈতিক কারণে লেখাপড়া অসমাপ্ত।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৪৮ সালে কার্জন হলে সমাবর্তন অনৃষ্ঠানে মোহাম্মদ আলী জিন্নার উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে ‘নো নো’ বলে প্রতিবাদ। একই বছর সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য। ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক। প্রতিষ্ঠা বছর ২০০১ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদের সভাপতি। ২০০৭ সালে ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনের ৫০ বর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটির আহবায়ক ছিলেন। ……। মৃত্যুর পূর্বক্ষণ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় উপদেস্টামন্ডলীর সদস্য ছিলেন।

জেল জীবন

প্রথমবার গ্রেফতার ও জেল ১৯৪৯
দ্বিতীয়বার গ্রেফতার ও জেল ১৯৫২ – ১৯৫৩
তৃতীয়বার গ্রেফতার ও জেল ১৯৬২-১৯৬৫
চতুর্থবার গ্রেফতার ও জেল ১৯৭২-১৯৭৭
পঞ্চমবার গ্রেফতার ও জেল ১৯৮৬-

আব্দুল মতিন পুরস্কার ও স্বীকৃতি
আব্দুল মতিনকে ভাষা আন্দোলনসহ এদেশের বিভিন্ন আন্দোলনে অবদান রাখার জন্য দেশের সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাষিত অনেক প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করেছে। নি¤েœ কয়েকটি উল্লেখ করা হলো:

দৈনিক জনকণ্ঠ গুণিজন ও প্রতিভা সম্মাননা ১৯৯৮ : পুরস্কার বাবদ ১ লক্ষ টাকা এবং প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয়।
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০০০: প্রবাসী বাঙালীদের উদ্যোগে আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে ২১ ফেব্রুয়ারি
উপলক্ষে সংবর্ধনা। তিনি চার মাস সেখানে অবস্থান করেন।
একুশ পদক ২০০১।
২৮ ডিসেম্বর ২০০১ : বাংলা একাডেমি কর্তৃক ফেলোশিপ প্রদান।
২০০২ সাল: জাদুঘর কর্তৃক সম্মাননা স্মারক ২০০২ প্রদান ।
২০০২ সাল: ভাষা সৈনিক সম্মাননা পরিষদ, সিলেট কর্তৃক ৫০ বছর পুর্তি উপলক্ষে সংবর্ধনা প্রদান।
১৩ আগস্ট ২০০৪: জাতীয় প্রেসক্লাব কর্তৃক উন্নয়ন অর্থনীতি স্বর্ণপদক ২০০৪ প্রদান।
২০০৪ : শেরে বাংলা জাতীয় পুরস্কার ২০০৪
১৪ মে ২০০৫: মুক্তিযুদ্ধ গণপরিষদ কর্তৃক সম্মাননা প্রদান।
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৬: দৈনিক আমাদের সময় কর্তৃক সম্মাননা প্রদান।
২০০৮ সাল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৪৪ তম সমাবর্তন উপলক্ষে একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক ‘ডক্টর অব ল’জ’ (সম্মান সূচক ডিগ্রি প্রদান।
ভাসানী স্মৃতি পুরস্কার ২০০৮।
একুশে টিভির পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা।
ভাষা সৈনিক চারণ সাংবাদিক সফিউদ্দিন আহম্মদ স্মারক সম্মাননা ২০১০।
ঢাকার ৪০০ বছর উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা রতœ সম্মাননা ২০১০।
মানবাধিকার ও পরিবেশ সোসাইটি (মাপসাস) কর্তৃক মাপসাস শান্তি পদক ২০১০।
কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লা ২০১০ পুরস্কার।
মহাত্মা গান্ধি পিচ অ্যাওয়ার্ড ২০১০।
দৈনিক কালের কণ্ঠের আজীবন সম্মানা পুরস্কর ২০১০।
সহ অন্যান্য পুরস্কার।

প্রকাশিত গ্রন্থ :
১. গণ চীনের উৎপাদন ব্যবস্থা ও দায়িত্ব প্রথা: ১৯৮৫
২. ভাষা আন্দোলন: ইতিহাস ও তাৎপর্য: আব্দুল মতিন ও আহমদ রফিক, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী, ঢাকা ১৯৯১
৩. বাঙালী জাতির উৎস সন্ধান ও ভাষা আন্দোলন: বুক পয়েন্ট ও সমাজ চেতনা পাবলিকেশন ১৯৯৫
৪. জীবন পথের বাঁকে বাঁকে; সাহিত্যিকা: ঢাকা ২০০৪
৫. ২১ ফেব্রুয়ারি ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন প্রসঙ্গে: ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ শৈলজানা, পাবনা
৬. ভাষা আন্দোলন কি এবং তাতে কি ছিল : নন্দন প্রকাশন, ঢাকা ফেব্রুয়ারি ৮৯
৭. ভাষা ও একুশের আন্দোলন, ঢাকা ১৯৮৬।

তথ্য সহযোগিতা ও ধন্যবাদ : বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৫ thoughts on “বাংলার চে ভাষা মতিন : একজন কমিউনিস্টের চীর বিদায়

  1. আ.লীগের দলকানাদেরতো এরকমই
    আ.লীগের দলকানাদেরতো এরকমই লাগবে।
    আপনি বলুন কোন তথ্যগুলো ভুল।
    বেশি খারাপ লাগলে কি আর করা স্ক্রিপ করে দেন।

    1. আ.লীগের দলকানাদেরতো এরকমই

      আ.লীগের দলকানাদেরতো এরকমই লাগবে।

      আমি দলকানা, এটা তো আজকের নতুন নয় ভাই।
      আমি কি সেটা পরে হবে, আমি যেটা জানতে চেয়েছি সেটার উত্তর দিলেই পরিষ্কার হবে কে কানা আর কে অন্ধ।
      পোস্টের বাইরে আলোচনা করতে রাজি নই,

      আমার প্রশ্ন সুনির্দিষ্ট এবং উত্তরটাও আপনার অজানা হবার কথা নয় (যতদূর বিশ্বাস করি)
      যদি উত্তর দেওয়ার সামর্থ্য থাকে তাহলে দেবেন না হলে আপনিই স্কীপ করবেন।

      অন্য প্রসঙ্গ এনে ত্যানা প্যাচানোর দরকার কি?

      1. আপনি হক সাহেবের পার্টি যা
        আপনি হক সাহেবের পার্টি যা পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি নাম বদলে পরে বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি হয়েছিলো তার সাথে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি গুলিয়ে ফেলছেন।
        হক সাহেবেরা হলেন আলবেনিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি এনভার মতবাদিকদের (যাদের হোক্সাপন্থি বলা হয়) সাথে মিলিয়ে ফেলেছেন।
        নুর মোহাম্মদ হক সাহেবের সাথে ছিলেন না। তিনি যশোর যুদ্ধ করেছেন। যশোরে তাদের পার্টির ৭ জনকে রাজাকাররা হত্যা করে।
        দলকানা হলে আপনার সাথে কেমন কিদে কি।
        চারু মজুমদার বা সিএমপন্থিরা আলাদা। স্বয়ং সিএমমের সাথে ৭১ এর সময় কথা হয় পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় এক নেতারা সাথে। তিনি এখনো বেচে আছেন। সেটা চারু মজুমদার ধরা পড়ার পর পুলিশি জেরায়ও স্বীকার করেছেন। কলকাতা থেকে এ সংক্রান্ত দুটি বই জলার্ক বের করেছেন, সেই স্টেটমেন্টেও পাবেন।
        চারু ৭১ যুদ্ধের লাইন নেন। এ কারণে তার পার্টি ভেঙ্গে যায় শুধুমাত্রা বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে। এসব ছেলে ভোলানো কথাবার্তা বন্ধ করেন।
        আর সেই বিখ‌্যাত চিঠি নিয়ে সাপ্তাহিক বিচিত্র বহু আগেই রিপোর্ট করেছিলো। সেটা হক সাহেবের কাজ। মতিন আর হক সাহেব আলাদা হয়েছেন ৬৭ দিকে ্

        1. এ গুলো কি আমার প্রশ্নের জবাব
          এ গুলো কি আমার প্রশ্নের জবাব তুহিন ভাই?

          যাক, আর কিছু বলব না। সম্ভব না হলে উত্তর দেবেন না, কিন্তু উত্তর না দিয়ে অন্য প্রসঙ্গ টেনে আনার দরকার মনে করি না।
          হ্যাপি ব্লগিং। ভাল থাকবেন।

          সম্ভব হলে সময় করে পড়ে নেবেন।
          লিঙ্ক ঃ https://www.facebook.com/note.php?note_id=427187884820

          1. আপনিতো দিলেন আরেকটি ভেজাল
            আপনিতো দিলেন আরেকটি ভেজাল মালের ফেবু নোট। এই শরিফে কাফির বাড়ি নড়াইলে। নড়াইলের পেড়েলো ৭১ এর আগস্টে যে ৩০ জন কম্যুনিস্টকে একরাতে হত্যা করে মুজিব বাহিনী, বাকি সেখান থেকে যে কয়জন সৌভাগ্যবান পালিয়ে এসেছিলেন কাফি তাদের একজন। আরো একজন আছেন নাম বিমল বিশ্বাস। ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ২০০৯ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে নড়াইল ১ আসন থেকে দাড়িয়ে হেরেছিলেন বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে।
            সেই কাফি এখন সেইসব দিনের কথা পুরো মিথ্যা বানোয়াট বানিয়ে অনলাইনে গল্প ফাদতেছে। ভাইয়া আমিতো নড়াইলের পোলা। কাফির সব গল্পতো এলাকার মানুষ জানে। আপনিতো ভায়া ভন্ডের লিংক দিলেন যে লোক এনজিও’র ধান্ধার জন্য নব্য আ.লীগার হয়েছেন।

          2. সেই কাফি এখন সেইসব দিনের কথা

            সেই কাফি এখন সেইসব দিনের কথা পুরো মিথ্যা বানোয়াট বানিয়ে অনলাইনে গল্প ফাদতেছে। আপনিতো ভায়া ভন্ডের লিংক দিলেন যে লোক এনজিও’র ধান্ধার জন্য নব্য আ.লীগার হয়েছেন।

            ……… অর্থাৎ, যদি কোন প্রত্যক্ষদর্শী কোন ঘটনার বর্ণনা দেন তবে সেটা দেখার আগে দেখতে হবে তিনি আওয়ামীলীগ করেন কি না!
            আওয়ামীলীগার হইলেই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তার তথ্য প্রমাণ জাল হয়ে যায় আর চির সত্য হয়ে থাকে “বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ” এঁর দেওয়া তথ্য।

            আমি তো তবুও দলকানা, আল্লাহ সবাইকে তালকানা’দের হাত থেকে হেফাজত করুন।

          3. অর্থাৎ, যদি কোন

            অর্থাৎ, যদি কোন প্রত্যক্ষদর্শী কোন ঘটনার বর্ণনা দেন তবে সেটা দেখার আগে দেখতে হবে তিনি আওয়ামীলীগ করেন কি না!
            আওয়ামীলীগার হইলেই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তার তথ্য প্রমাণ জাল হয়ে যায় আর চির সত্য হয়ে থাকে “বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ” এঁর দেওয়া তথ্য।

            থ্যাংকস, ঠিক এই কথাটাই বলতে চাচ্ছিলাম, আপনি বলে দিলেন।

          4. আমি তো তবুও দলকানা, আল্লাহ

            আমি তো তবুও দলকানা, আল্লাহ সবাইকে তালকানা’দের হাত থেকে হেফাজত করুন।

            কিন্তু, রামকানা হাম্বালীগারদের মনে হয়না ইশ্বরও হেদায়েত করতে পারবেন। এদের অন্তর তালাবদ্ধ।

          5. যে কানা সে যদি না বুঝে তারে

            যে কানা সে যদি না বুঝে তারে কানা ডাকলেও কি, আর না ডাকলেও কি?

            চশমাডা ঠিক কৈরা লন ভাইজান। আপনার চোখের কোন সমস্যা নাই তো!

    2. আ.লীগের দলকানাদেরতো এরকমই

      আ.লীগের দলকানাদেরতো এরকমই লাগবে।

      কানা তো চিরদিন ভাই কানাই থাকে! অন্ধরা কি আর আলোর সন্ধান কোনদিন পায়রে ভাই!

  2. তবে সংক্ষেপে এটাই শুধু বলতে

    তবে সংক্ষেপে এটাই শুধু বলতে পারি, আওয়ামী লীগের ন্যারোটিভ থেকে মুক্তিযুদ্ধের বয়ান না হলে সেটাই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অবস্থান। সোজা কথায়, আওয়ামী লীগ বাদে মুক্তিযুদ্ধের কোন চেতনা ও যুদ্ধ হয়নি ১৯৭১ সালে।

    এ কথার পর এই পোস্টের গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। তা’ছাড়া তথ্য সহযোগিতা ও ধন্যবাদ : বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে লেখা ব্লগের গ্রহণযোগ্যতা কতখানি সেটা সহজেই অনুমেয়। তাই, পরবর্তী লেখা টুকু পড়ে সময় নষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিনি।

    আপনাকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই।

    আপনার কথিত ভাষা সৈনিকের মতে ” সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী” কে?

    চারু মজুমদারের শ্রেণী শত্রু খতমের রাজনীতির সাথে একাত্মঘোষণাকারি মাহবুব উল্লাহ, নুর মোহাম্মদ খান, নাজমুল হক নান্নু, আইয়ুব রেজা চৌধুরী, সাজাহান ফারুক, প্রমূখের নেতৃত্বে গঠিত পূর্ব বাংলা ছাত্র ইউনিয়নের সাথে পূর্ব বাংলার কমিউনিষ্ট পার্টি(এমএল)র মতিন সাহেবের কি সম্পর্ক ছিল ?

    তিনি কার মৃত্যুদিনে “শোক নয় নাজাত দিবস” পালন করে বক্তৃতা করেছিলেন।

    ১৯৭৪ সালে কার দলের “কমরেড হক” নামে খ্যাত নেতাটি ভুট্টোকে চিঠি দিয়ে অর্থ ও অস্ত্র চেয়েছিলেন? (দেখেবেন, যা তা বোঝাবেন না। ভুট্টোর জীবনীতে কিন্তু সব লেখা রয়েছে!)

    কে ১৯৭৭ এ ঢাকায় এসে জিয়ার কৃপা লাভ করে মাসিক ভাতা আর ধানমন্ডির ১৯নং রোডে বাসা নিয়েছিলেন?

    আশা করি, বিস্তারিত আলোচনা করে বাধিত করবেন।

  3. আওয়ামিলিগের সবচেয়ে বড় শত্রু
    আওয়ামিলিগের সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে বাম মতাদর্শের ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতি। এরা পরিক্ষীত বামদের জামায়াতের চেয়েও খারাপ চোখে দেখে। যার প্রতিফলন ভাষা মতিন মারা যাওয়ার পর দেখলাম।

    বাংলার চে’কে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য তুহিন ভাইকে ধন্যবাদ।

  4. ভাষা আন্দোলনের আহবায়ক হয়েও
    ভাষা আন্দোলনের আহবায়ক হয়েও কমরেড মতিন রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় শেষযাত্রা করতে পারলনা! বড়ই অদ্ভুত আমাদের রাজনীতি। আজ যদি রাস্ট্রিয় চোর আবুল হোসেন মারা যায় তাকে রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় দিয়ে বিদায় জানানো হবে। আবুলরা রাস্ট্র থেকে শুধু নিয়েছে। কমরেড মতিন সারাজীবন রাস্ট্রকে দিয়েছে। এমনকি সর্বশেষ তার দেহটাও রাস্ট্রকে এবং রাস্ট্রের মানুষকে দিয়ে গেছেন। এমন রাজনীতিবিদ খুঁজে পাওয়া যাবে?

    কমরেড মতিনের অপরাধ কি? তিনি বাম রাজনৈতিক মতাদর্শিক! তিনি আওয়ামিলিগ করেন না!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

67 − 62 =