খালি সাম্রাজ্যবাদের ঘাড়ে দোষ চাপায়া মুক্তি মিলবে কি?

সালাফিদের শায়খুল ইসলাম তকিউদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়া (১২৬৩-১৩২৮) শিয়া, মোঙ্গল মুসলমান, আলাওয়িত, খ্রিষ্টান প্রমুখ সম্প্রদায় ও জনগোষ্ঠির বিরুদ্ধে ফতোয়াবাজি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের বৈধতা ঘোষনা করেছেন। এমনকি এক দুইবার নিজেও জিহাদে অংশ নিয়েছেন। এরমধ্যে একটি জিহাদ ১৩০৩ সালের এপ্রিল মাসে সংগঠিত হয়, যা ইতিহাসে শাকহাবের যুদ্ধ নামে পরিচিত হয়ে আছে। তখন রমজান মাস। ইবনে তাইমিয়া ফতোয়া দিলেন যে জিহাদীদের জন্যে রোজা রাখা বাদ্ধতামূলক নয়। যেহেতু তারা যুদ্ধ করবে, তাই রোজা রেখে শক্তিক্ষয় করার দরকার নাই। জিহাদীরা তাই রোজা না রেখেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন। দুইপক্ষের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হলেও শেষ পর্যন্ত ইবনে তাইমিয়ার পক্ষ জয় লাভ করে। এখানে যেই বিষয়টা উল্লেখ করা দরকার তা হলো, যুদ্ধটির দুই পক্ষেই ছিল মুসলমানরা। যুদ্ধটি ছিল তৎকালিন মুসলিম দুনিয়ার প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে প্রাধান্য বিস্তার কেন্দ্র করে। তাইলে একজন মুসলমান রাজার সাথে আরেকজন মুসলমান রাজার যুদ্ধটি কিভাবে ‘জিহাদ’ তথা ধর্মযুদ্ধে পরিণত হলো? ইবনে তাইমিয়ার এই ফতোয়াটা ইস্টিশন ব্লগে স্মরণ করেছিলাম গত রমজান মাসে, আইসিস যখন ‘খিলাফত’ ঘোষনা করলো সেই সময়টায়। তাদের ঘোষিত খলিফা আবু বকর আল বাগদাদী তখন ক্যামেরার সামনে হাজির হয়ে খুতবা পাঠ করলেন। খুতবাতে তিনি রমজান মাসে জিহাদের গুরুত্ব উল্লেখ করে সবাইকে বেশি বেশি জিহাদ করার তাগিদ দিলেন। তাইমিয়ার অনুসারি সালাফি জিহাদীদের যেহেতু রোজা রেখে জিহাদ করতে হবে না, তাই তখন ঠাট্টা করে লিখেছিলাম–

“রোজার মাসে জিহাদ করলে না খাইয়া থাকার কস্ট ইরাকী জিহাদী মুসলমানদের না করলেও চলবে। পাশাপাশি যৌন জিহাদের ফতোয়া প্রচার করে আইসিস গত মাসেই ইরাকের পিতা মাতাদের তাগিদ দিয়েছে জিহাদী সেনাদের হাতে তাদের মেয়েদের তুলে দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে সামিল হওয়ার। না মানলে ব্যাপক মাইর দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে খাওয়া যাবে, সেক্স করা যাবে, শত্রুও মারা যাবে। পাশাপাশি মরলে বেহেশতে যাওয়া যাবে। হলিউডের জেমস বন্ডের কপালেও এতো সুখ কোনদিন জোটে নাই”।

কিন্তু এরপর জিহাদের যে নমুনা আইসিস হাজির করলো এবং তার ফলে ইসলামকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি যে নতুন চেহারা লাভ করলো, তাতে আর ঠাট্টা মশকরা করার অবস্থা থাকলো না। দুনিয়াবি রাজনীতি, লুটপাটের খাতিরে ধর্মের যথেচ্ছ ব্যবহার মধ্যযুগে সাধারণ ঘটনা ছিল। সমস্যা হলো, মধ্যপ্রাচ্যে এবং প্রাচ্যের বহু দেশে এই একবিংশ শতকেও তা সাধারণ ঘটনা। ধর্ম আর রাজনীতিকে একপাত্রে রেখে সামন্তযুগে সামন্তপ্রভু ও ধর্মীয় নেতাদের স্বার্থ রক্ষা হতো। এখন আধুনিক সামন্তপ্রভু, ধর্মীয় নেতা, অস্ত্র ব্যবসায়ী, তেল ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসায়ী বহুজনের স্বার্থ রক্ষা হয়। দুনিয়াবী স্বার্থের যুদ্ধ ধর্মের স্পর্শে কিভাবে ধর্মযুদ্ধে পরিণত হয় তার উদাহরণ হিসাবে ইবনে তাইমিয়ার নাম নিয়ে আলোচনাটি শুরু করেছি।

তাইমিয়া মূলত মহানবীর সম্মান রক্ষার আন্দোলন করে প্রথম ফতোয়াবাজিতে বিখ্যাত হয়েছিলেন (বিস্তারিত – ইবনে তাইমিয়ার ঢিলা স্ক্রু ও সালাফিদের উত্থানের ইতিহাস)। তার ফতোয়াবাজিতে শুরুতে সিরিয়ার মামলুক প্রশাসন বিরক্ত হলেও পরবর্তিতে তারা তাইমিয়ার ফতোয়াজির মেধাকে নিজেদের কাজে লাগিয়েছেন। মামলুক সুলতানরা তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সামন্ততান্ত্রিক রাজনৈতিক যুদ্ধকে তাইমিয়ার ফতোয়াবাজির মাধ্যমে ধর্মযুদ্ধে পরিণত করতে সক্ষম হন। এখন সিরিয়া কেন্দ্র করে মার্কিন-সৌদি গং বনাম রাশিয়া-ইরান গংএর মধ্যে একধরণের অঘোষিত যুদ্ধ চলছে। ইবনে তাইমিয়ার সময়টায় সিরিয়া কেন্দ্র করে ইরানের মোঙ্গল এবং মিশরের মামলুকদের মধ্যে যুদ্ধ চলছিল। মিশরের মামলুকদের মতো ইরানের মোঙ্গলরাও ছিলেন মুসলমান। ইরান দখল করার পরে মোঙ্গল শাসকরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু মামলুকরা মোঙ্গলদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আধিপত্বের যুদ্ধকে ধর্মযুদ্ধে (জিহাদ) পরিণত করতে সক্ষম হয় ইবনে তাইমিয়ার ফতোয়ার বরাতে। ইবনে তাইমিয়া ফতোয়া দিয়েছিলেন যে, যদিও মোঙ্গল শাসকরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে কিন্তু তারা দেশ শাসন করে চেঙ্গিস খান প্রবর্তিত সেকুলার আইন অনুসারে, সুতরাং তাদের মুসলমানিত্ব বাতিল হয়ে গেছে। মুসলমানের বিরুদ্ধে তো জিহাদ করা যায় না, তাই মুসলমানিত্ব খারিজ করে জিহাদের ফতোয়া দেয়া হয়েছে। অমুসলিমের মানবাধিকার এবং মুসলমানের মুসলমানিত্ব খারিজ করার ফতোয়া দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ অথবা হত্যাকান্ডের বৈধতা দেয়ার যে প্রবনতা আমরা বর্তমান সময়কার সালাফি জিহাদীদের মধ্যে দেখি সেই প্রবনতায় ইবনে তাইমিয়ার প্রভাব অস্বিকার করার উপায় নাই, সালাফি জিহাদীরা তা অস্বিকারও করে না। বরং তাদের বই পত্র, ভাষন, প্রচার প্রচারণার বিভিন্ন মাধ্যমে ইবনে তাইমিয়া তাদের অন্যতম, কিছুক্ষেত্রে প্রধানতম রেফারেন্স। তাইমিয়ার লেখা ‘মিনহাজ আস সুন্নাহ’ থেকে উদ্ধৃতি করা হয় সবচাইতে বেশি। যেমন মিনহাজ আস সুন্নাহ থেকে জিহাদি সংগঠনগুলো একটি উদ্ধৃতি বিভিন্ন সময় ব্যবহার করেছে –

“ইসলামের একটি আইন থেকেও যে দূরে সরে গেছে, তার বিরুদ্ধে জিহাদ করা ফরজ, সে যদি শাহাদাহ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ) ঘোষনা করে থাকে তাও”।

তাইমিয়া এই ফতোয়াটি দিয়েছিলেন মোঙ্গলদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক যুদ্ধকে ধর্মযুদ্ধ হিসাবে জায়েজ করার জন্যে। কিন্তু এর ফলাফল হয়েছে সুদুরপ্রসারি। এই আধুনিক যুগেও এই ফতোয়ার উপরে নির্ভর করে কেবল সেকুলার আইন অনুসরণ করার দায়ে মুসলমানিত্ব খারিজ ঘোষনা করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সালাফি টেরোরিস্টরা যুদ্ধ ঘোষনা করেছে। ইবনে তাইমিয়ার আরেকটি ফতোয়া হলো “যদি কাফিরদের সাথে মুসলমানদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কয়েকজন ধার্মিকও অবস্থান করে এবং কাফিরদেরকে হত্যা করতে গিয়ে যদি এই মুসলমানদেরকেও হত্যা করতে হয়, তবে তাই করতে হবে”। বর্তমান জিহাদীদের নির্বিচারে মুসলমান হত্যা জায়েজ করার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ফতোয়া হলো এটি।

সহিহ ইসলাম এবং খাটি মুসলমানিত্ব বিষয়ে হাম্বলিবাদী ইবনে তাইমিয়াকে যদি কট্টর ইসলামের শায়েখ বলা হয়, তাইলে হানাফি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আবু হানিফাকে বলা যেতে পারে লিবারাল ইসলামের শায়েখ। উমাইয়া খেলাফতের আমলে অনারব মুসলমানদেরকে খাটি মুসলমান মনে করা হতো না, সেইসাথে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক গন্য করা হতো। অমুসলিমদের মতো অনারবদেরও তখন জিজিয়া কর দিতে হতো (বিস্তারিত- খলিফার কালো পতাকা ও মাওয়ালি মুসলমানের গল্প)। ইমাম হানিফা সেই সময় ফতোয়া দিলেন যে, আজকে যে তুর্কি নও মুসলিম হয়েছে, আর হিজাজে বসবাসকারী ঐতিহ্যবাহী যে আরব মুসলমান, আল্লাহর কাছে মুসলমান হিসাবে তারা দুইজনেই এক সমান। এই বক্তব্যের জন্যে উমাইয়ারা আবু হানিফাকে জেলে পাঠায়। আবু হানিফা তুর্কি জাতির একজন নও মুসলিম যিনি কেবল শাহাদাহার ঘোষনা করেছেন, তাকেও খাটি মুসলমান মানেন। অন্যদিকে নও মুসলিম হিসাবে মোঙ্গলদের কোন ছাড় দিতে তাইমিয়া শুধু অরাজি তাই নয়, তিনি তাদের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ ঘোষনা করেছেন। এই কট্টর এবং লিবারালিজমের গোড়া আছে রাজনৈতিক অবসথান ও পক্ষপাতে।

কট্টর এবং লিবারাল ইসলামের আইডোলোজিকাল দ্বন্দের এই গল্প করলাম জনপ্রিয় ব্লগার জিয়া হাসানের দুইটি লেখা পড়ে। জিয়া হাসান একজন লিবারাল চিন্তা ভাবনার বিশ্লেষক, ধর্মের দিক থেকে তিনি মুসলমান। তিনি যথেষ্ট পরিশ্রমী একজন বিশ্লেষক। কিন্তু ইরাক ও সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে তার লেখা দুটি পড়ে আমি যথেষ্ট হতাশ হয়েছি। লেখা দুটিতে তিনি রাজনীতি বিশ্লেষনে যথেষ্ট সফল হলেও ক্রিটিকাল এনালিসিসে যথেষ্ট আলসেমি করেছেন বুঝা যায়, তাই কিছু তথ্যগত ভুল এড়াতে পারেন নাই (যেমন ‘নুসাইরি নামটি কোন ইমামের নাম থেকে আসে নাই, বরং একজন ইমামের শিষ্যের নাম থেকে এসেছে)। সবচাইতে বড় সমস্যা হচ্ছে, তার লেখায় একধরণের পক্ষপাত চোখে পরার মতো, মূলত সুন্নিদের পক্ষে। যদিও জিয়া হাসান পরিস্কার ভাষায় লিখেছেন –

“পাঠক ভুল পড়বেন না। এই খানে সুন্নি ভিকটিমহুডকে হাইলাইট করা হয় নাই। এই খানে আমি দেখাইতে চাইছি, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পরে, ইরাকে মার্কিন পলিসি গুলো কিভাবে সাম্প্রদায়িক বিভাজনটাকে সৃষ্টি করছে (শিয়া সুন্নি বিরোধের মার্কিন ইতিহাস এবং আমরা যা জানিনা বা জানতেও জানিনা এবং জানতে হবে তাও জানিনা – জিয়া হাসান”)

জিয়া হাসান ভুল পড়তে মানা করেছেন। কিন্তু তার লেখা পাঠ করে আমার যেসব জায়গায় খটকা লেগেছে সেসব উল্লেখ না করে পারছিনা। আমার মনে হয় আমি সঠিক পাঠই করেছি। যদি ভুল হয় আশা করি উনি ধরিয়ে দেবেন, যদি সময় পান। উপরে উল্লেখ করা জিয়া হাসানের নোটটি ইরাক পরিস্থিতি নিয়ে লেখা, সিরিয়া নিয়ে নয়। তবে এই নোট থেকেই আমি তার আরেকটি নোটের লিংক পেয়েছি, যেটি তিনি সাজেস্ট করেছেন সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্বন্ধে তার বিশ্লেষন জানার জন্যে। সিরিয়া বিষয়ক নোটটির নাম ‘সিরিয়াতে কি হচ্ছে’। এই দুইটি নোট পড়ার পরে কিছু বৈপরিত্য চোখে পরলো। যেমন –

১। সিরিয়ার বাসার আল আসাদ নেতৃত্বাধীন শাসনকে তিনি বলছেন ‘আলাওয়িত গোত্রের নেতৃত্বে বাথ পার্টির শাসন’, অন্যদিকে ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেইনের নেতৃত্বাধীন শাসনকে তিনি বলছেন ‘বাথ পার্টির নেতৃত্বে সেকুলার শাসন’। সাদ্দামের বাথ পার্টির সেকুলারিজমকে তিনি যতোটা ফোকাস করেছেন, আসাদের বাথ পার্টির সেকুলারিজমকে তিনি ততোটাই আড়াল করেছেন।

২। সাদ্দামের শাসনামলে সুন্নি আধিপত্বকে জিয়া হাসান যতোটা খারিজ করেছেন, আসাদের শাসনে আলাওয়িত আধিপত্যকে তিনি ততোটাই ফোকাস করেছেন। সাদ্দাম ও তার অধিকাংশ সহযোগীদের সুন্নি পরিচয়ের চাইতে সেকুলার পরিচয়টাই তার কাছে প্রাধান্য পেয়েছে, অন্যদিকে বাশার আল আসাদ ও তার অধিকাংশ সহযোগীদের ধর্ম সম্প্রদায়গত আলাওয়িত পরিচয়টাকেই তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন।

৩। সাদ্দামের সেকুলারত্ব বুঝানোর জন্যে জিয়া হাসান সাদ্দামের সেনাবাহিনীতে শিয়াদের অন্তর্ভুক্তির প্রসঙ্গটি টেনেছেন কিন্তু সেনাবাহিনীর মূল নেতৃত্বে সুন্নি আধিপত্ব বিবেচনায় আনেন নাই। অন্যদিকে আসাদের সেনাবাহিনীতে সুন্নিদের বড় ধরণের অংশগ্রহণকে তিনি এড়িয়ে গেছেন, কিন্তু সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে আলাওয়িতদের আধিপত্বকে গুরুত্ব দিয়ে আসাদের শাসনের সাম্প্রদায়িক দিকটি ফোকাস করেছেন।

৪। সিরিয়ার যুদ্ধকে তিনি সংখ্যালঘু আলাওয়িত শাসকদের বিরুদ্ধে সংখ্যাগুরু সুন্নিদের যুদ্ধ হিসাবে যেভাবে দেখিয়েছেন, কিন্তু ইরাকের সংখ্যাজ্ঞরু শিয়াদের কালেক্টিভ সাম্প্রদায়িক মনস্তত্বের ক্ষেত্রে তেমন কোন ব্যাখ্যা বিশ্লেষনেই জান নাই। সিরিয়ার সংখ্যাগুরু সুন্নিদের উপর আসাদ সরকারের নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখ করলেও ইরাকের সংখ্যাগুরু শিয়াদের উপর সাদ্দাম সরকারের নির্যাতনের প্রসঙ্গটি তিনি প্রায় এড়িয়ে গেছেন বলা যায়।

প্রকৃতপক্ষে ইরাকের সুন্নি এবং সিরিয়ার আওয়ায়িতরা সংখ্যালঘু হওয়ার কারনেই সেকুলার শাসনের সমর্থক ছিলেন, অন্যদিকে ইরাকের শিয়া এবং সিরিয়ার সুন্নিরা ব্রুট মেজোরিটি হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার কেন্দ্রে না থাকতে পারায় তাদের সাম্প্রদায়িক আইডিন্টিটির বিকাশ হয়েছে। ইরাক এবং সিরিয়ায় দুই রাষ্ট্রের সুন্নিদের মনস্তত্ব ২০০৩ সালের পরে এক জায়গায় আসতে পেরেছে। এই এক জায়গায় আসতে পারাটাই আইসিসের উত্থানের পেছনকার শক্তি, যার মাধ্যমে সুন্নি আইডিন্টিটি কট্টর সালাফিবাদের দিকে ঝুকেছে, যাতে শিয়া, আলাওয়িত, খ্রিষ্টান, ইয়াজিদি, কুর্দি, সেকুলার বিভিন্ন সম্প্রদায়, মতবাদ ও জাতির মানুষদের মানবাধিকার ও মুসলমানিত্বকে খারিজ করে তাদের উপর হামলা, খুন ও লুটপাট জায়েজ করা হচ্ছে। আর এই মগের মুল্লুকে মাতবরি করার জন্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তো এক পায়ে দাঁড়িয়েকেই আছে। জিয়া হাসান সব দোষ এই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের উপর চাপাতে চাচ্ছেন। তিনি ইসলামের নামে টেরোরিজমের বিরোধী বটে, কিন্তু টেরোরিজমের আইডোলোজিকে তিনি মোকাবেলা করছেন না। ইরাকে আজকে যা হচ্ছে, তারজন্যে সবচাইতে বেশি দায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু শুধু সাম্রাজ্যবাদের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে মুক্তি মিলবে কি?

(চলবে, পরবর্তি পর্বে সমাপ্ত)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “খালি সাম্রাজ্যবাদের ঘাড়ে দোষ চাপায়া মুক্তি মিলবে কি?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

91 − = 82