বিচার

ধরা পরেছে মইত্যা চোরা। গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে নিজাম সাহেবের লাল ষাড়টিকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিলো না। সকালে মইত্যার ঘরেই পাওয়া গেছে, হাতে নাতে ধরা পরেছে সে। সালিশ বসেছে।
সালিশে প্রশ্ন করা হলো মইত্যা চোরাকে, “ তুই নিজাম সাহবের গরু চুরি করলি কেন?

– হুজুর আমিতো চুরি করিনি, গরুটিকে হাটের পাশের বনে গাস খাইতে দেখলাম রাইতের বেলায়। এইডা যে নিজাম সাবের গরু হেইডা তো আমি জানি না।
– তাই বলে তুই গরু নিজের বাড়িতে নিয়া যাইবি? মালিক খুজে বের করে যার মাল তাকে ফেরত দিবি না? তুই শালা কি মুসলমান না? অন্যের জিনিসের জিম্মাদারী কী তোর না? শালা হারামখোর?

– হুজুর, আমি তো নিজাম সাহেবের গরু চুরি করি নাই, উনার গোয়াল ঘরেই যাই নাই।
– তাতে কী হইছে? গরু তুই ফেরত দিলি না কেন?

– হুজুর, বেপর্দা মা-বইনের ইজ্জত খোয়া গেলে যদি লুইচ্চাগোর দোষ না হয়া বেপর্দা মা-বইনেরি দোষ হয়, তাইলে বেওয়ারিশ গরু হারানোর লাইগা আমি দোষী হমু কেমনে?

– কি কত্তবড় কথা? একে তো চুরি করছোস, তার উপর ধর্ম লইয়া কথা কস? উপস্থিত সবাই শুনেন, মইত্যা চোরারে শুধু গরু চুরির জন্য শাস্তি দিলে চলবো না, হেরে ধর্ম কটাক্ষ করনের লাইগাও শাস্তি দিতে হইবো। সবচাইতে ভাল হয়, জানে মারার শাস্তি দিতে পারলে।

—————–

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “বিচার

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 1